ফন্ট সাইজ:
থিম:
নিষিদ্ধ নীল চিঠি

১০ম পর্ব

লেখক: Sayma Noor
#নিষিদ্ধ_নীল_চিঠি 
#পর্ব_১০ 
#সায়মা_নূর 
ছোটবেলার দিনগুলো যেন অন্য এক পৃথিবী—সাধারণ কিন্তু অদ্ভুত রকমের সুন্দর। তখন সুখ মানে ছিল খুব ছোট ছোট জিনিস আর সেই ছোট জিনিসগুলোই আজ মনে হয় সবচেয়ে বড়।বিকেল হলেই এক দৌড়ে খেলতে ছুটাছুটি করা ছিল তখন প্রতিদিনের কাজ জীবনের একটা অংশ ।ধুলোমাখা মাঠ, কাঁচা রাস্তা, পুকুরপাড় সবই ছিল খেলার জায়গা ছিল রঙ্গিন শৈশব। কেউ ডাকত চল ফুটবল খেলি!”আরেকজন বলত না না, আজ বউচি!”তর্ক হতো, রাগ হতো, আবার মুহূর্তেই সব ভুলে গিয়ে একসাথে খেলায় মেতে উঠা।
খেলাগুলোও ছিল কত সহজ—লাঠি দিয়ে ক্রিকেট, পুরোনো বল দিয়ে ফুটবল, কিংবা “জামাই-বউ” সংসার খেলা। ঐ সব ছিল শৈশবের একটা অংশ।মীর নূরনেহার সে সবের বাহিরে ছিলো না, একসঙ্গে বড় হয়েছে খেলাধুলা হয়েছে,তবে ছোট বেলায় সে সব কয়জন মনে ধরে বসে থাকে!যেমনটা নূরনেহার বসে আছে।
গ্রামের বিকেলের এক কোণে বড় বটগাছটার নিচে বসেছে ছোট ছোট বাচ্চাদের “সংসার খেলা” জোড়ায় জোড়ায় জামাই বউ সাজানো হতো। তাদের কাছে এটা শুধু খেলা নয়—এ যেন একেবারে সত্যিকারের জীবন!মাটির উপর কলাপাতা বিছিয়ে,এবং চার পাশে রশি বেঁধে কলা পাতার বেড়া দিয়ে ছোট্ট ঘর বানানো হয়েছে।
 কলাপাতার উপরে আবার শুকনো পাতা দিয়ে বানানো হয়েছে বিছানা আর ভাঙা মাটির হাঁড়ি-পাতিলেই চলছে রান্নাবান্না।ম রা কলা গাছ, কলা গাছের পাতা,উপরের খোল দিয়ে নানান রকম বিস্কিট, কেক, চানাচুর সহ অনেক নাম না জানা জিনিস তৈরি হয়। তাছাড়া আশেপাশের ঝোপঝাড় থেকে ছোট ফুল,ফল গাছের পাতা,দিয়েও নানান রকম জিনিস তৈরি করা হয়। এই খেলায় একদল থাকতো দোকানদার, তাদের দোকানেই এই সমস্ত জিনিস সাজানো হতো, কাঁঠাল পাতা থাকতো টাকা,এই খেলায় বর সাজা ছেলেরা কাঁঠাল পাতা কুড়িয়ে লুঙ্গির কাছা ভরে, সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো ওই দোকান থেকেই কিনে আনতো।সামাজিক প্রথা অনুযায়ী জামাইরা ব‌উ দের থেকে বয়সে অনেক বড় হয়, তখন সেই দিক বিবেচনা করেই খেলার মধ্যে জুটি তৈরি হতো কারণ বাচ্চারা পরিবেশ, পরিবার ,পরিস্থিতি থেকে দেখেই শিখে_ সেই খেলায় ছোট নূরনেহার “বউ” আর মীর “জামাই” জুটি হয়।নূরনেহার খুব গম্ভীর হয়ে বলে।
নূরনেহার: হুনছুইন, আজ‌ই কিন্তু বাজার তনে মাছ আনবাইন। মীর মাথা চুলকায়, তারপর একটা লাঠি হাতে নিয়ে বলে
মীর: ঠিক আছে, আমি এখনি বাজারে যাইতাছি।সে দৌড়ে একটু দূরে গিয়ে আগে থেকেই করিয়ে রাখা কাঁঠাল পাতা দিয়ে সাজানো দোকান থেকে অনেক বাজার করে ফিরে আসে! 
মীর : এই লও, মাছ আর আনাইছ(সবজি) আনছি নূরনেহার খুশি হয়ে বলে।
নূরনেহার : ওহ, আজ তো অনেক কিছু এনেছো!”তারপর শুরু হয় রান্না।একটু মাটি, একটু পানি আর শুকনো পাতা মিশিয়ে নূরনেহার বলে।
নূরনেহার : দেহুন, ভাত রাইন্ধা লাইছিপাশে বসা ফাতেমা বলে
ফাতেমা : আমারেও ইট্টু দেছ না নূরনেহার হেসে বলে
নূরনেহা : তুই তো ঐ বাড়ির খালা, তরে দিতাম কে এদিকে মীর আবার ক্লান্ত সেজে বসে
মীর : হারাদিন বহুত কাম ক‌ইরা হয়রান আমি সবাই হেসে ওঠে।নূরনেহার বলে 
নূরনেহার : এহনো তো হাইঞ্জা হ‌ইলো না ,এহনি হয়রান হ‌ইয়া গেছুন।হাসি-ঠাট্টা, নকল ঝগড়া, আবার মিল—সব মিলিয়ে জমে ওঠে তাদের ছোট্ট সংসার।কখনো বউ রাগ করে,“আমি আর রান্দার পারতাম না!”জামাই তখন তাকে মানানোর চেষ্টা করে। আইচ্ছা আইচ্ছা  আমি কাইল থেইকা বেশি কাম  করুম!”সূর্য ডুবে গেলে যখন সবাইকে বাড়ি ফিরতে হয়। তখনও তাদের খেলা যেন শেষ হয় না।ছোট নূরনেহার বলে
নূরনেহার : কাইল আবারো জামাই ব‌উ খেলুম, ঠিক আছে? মীর আর সবাই একসাথে বলে।
মীর :“হ্যাঁ, কাইল আবার!”এইভাবেই গ্রামের ছোট্ট বাচ্চাদের খেলার মধ্যে লুকিয়ে থাকে বড়দের জীবনের গল্প—একটু মজা, একটু শেখা, আর অনেকটা ভালোবাসা। সেই খেলায় নেই কোনো দামী খেলনা, নেই কোনো নিয়ম-কানুন। তবুও তাদের কল্পনার জগতে গড়ে ওঠে এক সুন্দর সংসার—ভালোবাসা, হাসি আর ছোট ছোট স্বপ্নে ভরা।‍তখন অনেকেই দুষ্টুমির ছলে নূরনেহারকে "ও মীরের বৌ" বলে ডাকতোসে সময়ের সংসার সংসার খেলার মাধ্যমেই  নূরনেহারের এই পরিণতি।
গ্রামের বাচ্চারা ৭_৮ বছর বয়সে স্কুলে যাওয়া শুরু করতো, তবে সবার বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে আগ্রহ না থাকলেও আরশাদ আলী ছেলে মীর কে স্কুলে যেতেই হতো। মীরের বয়ঃসন্ধি পার হ‌ওয়ার পরেও সে বাড়ির ছেলে মেয়েদের সাথে নানান ধরনের খেলাধুলা করেছে। 
নূরনেহার যখন ১১ তে উপযুক্ত  হয়ে উঠলো, তখন কল্পনার জগতে গড়ে ওঠার সংসারটাকে নূরনেহারের নিষ্পাপ অবুঝ হৃদয়ে বাস্তব রূপ দিয়ে বসে। সেখান থেকেই সৃষ্টি মীরের প্রতি তার  বয়ঃসন্ধি কালের প্রথম আবেগের ঝড়।
মীরের  পি ই সি বোর্ড পরীক্ষার আগে, যখন টাইফয়েড জ্বরে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকে। তখন সে প্রথম অনুভব করে নূরনেহারের তার প্রতি অন্য আকর্ষণ অন্য আচরণ। কারন সেই সময়টা নূরনেহার সন্ধ্যা পর্যন্ত তার কাছেই থেকেছে।তবে মীর এতো একটা গুরুত্ব দেয় না। মীর অসুস্থতায় পড়ালেখা বন্ধ করে দেয়। খেলাধুলা বন্ধ করে দেয় মীর এবং নিজে নিজের জীবন গুছাতে ব্যস্ত হয়ে পরে। সে কখনোই নূরনেহার কে প্রশ্রয় দেয়নি।
যা একটু আধটু প্রশ্রয় দিয়েছে তার দাদি রাজিয়া বেগম বেশিরভাগ সময় নাত বৌ বলে ডেকেছে রাজিয়া বেগমের অবশ্য এর পেছনে একটা স্বার্থ ছিল। নূরহেহারের বাবা মালেকের মাত্র দুইটা মেয়ে, পৈতৃক ভিটা ছাড়াও অনেক সম্পত্তি পেয়েছে মালেক আলী।
 মীর যদি নূরনেহার কে বিয়ে করতো তাহলে অর্ধেক জমিন, সম্পত্তি তাদের বাড়িতে আসতো,সেই লোভে রাজিয়া বেগম নূরনেহারকে ভালোই প্রশ্রয় দিয়েছিল। মীর তার দাদির এইসব বিষয়ে প্রথম থেকেই বিরক্ত ছিলো। 
বারবার দাদি কে সাবধান করেছে কিন্তু রাজিয়া  বেগম তা শোনেনি। সে তার মন মর্জি মতো চেষ্টা করেছে মীরকে নূরনেহারকে এক করতে।গ্রামবাসী আত্মীয়-স্বজন তখন মনে করেই নিয়েছিল যে সত্যি সত্যি নূরনেহার হবে মীরের বউ।
 মজার ছলে অনেকেই নূরনেহারকে মীরের ব‌উ বলেই ডেকেছে। ভালোবেসে মানুষ পাগল হয় সত্যি,তবে কেউ কারো জন্য একদিনে পাগল হয় না। পাগলামি করার জন্য কিছু কিছু প্রশ্রয়েরও দরকার পড়ে।
নূরনেহারের বেলাতেও তাই হয়েছে।এই সব কিছুই ছোট মায়ার সামনে আনতে চায়না মীরের পরিবার।তাই রাজিয়া বেগম পাড়ার মহিলারা ব‌উরা তাদের বাড়িতে আসলে মায়ার সাথে এত একটা কথা বলতে দেয়না। মায়া কে সবসময় চোখে চোখে রাখে।
মায়ার প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে মীরের বুক কাঁপে, যদিও সেইসব ছিলো ছোটবেলার ছেলেমানুষী খেলাধুলা। কিন্তু মীর চায় না। তার অবুঝ বউ এখন এগুলো জানুক তাকে প্রশ্ন করুক। কিংবা তার ছোট মনে কোনো গারো দাগ কাটুক। একবার মায়া বড় হক। তাদের দুই চারটা স্বামী-স্ত্রীর মত একটা স্বাভাবিক সংসার হোক। 
মায়া পরিস্থিতি বুঝতে শিখুক তারপরে এসব জানলেও চলবে কিন্তু এখন না। মায়া আবার কিছু বলবে তার আগেই। রাজিয়া বেগম জোরে দরজাটা করা না রে। 
রাজিয়া : কি লো  নাত বৌ, ঈদের দিনে এমনে ঘরে ব‌ইয়া থাকলে চলবো,নাওয়া লাগতো না? বাইর হইয়া যাও নাইয়া আ‌ইয়ো(আসো)। জলদি দুয়ার খোলো। রাজিয়া বেগমের হাক ডাক শুনে মায়া দ্রুত দরজার খুলে দিল।
রাজিয়া : বেলা কতো হ‌ইলো খেয়াল আছে নাত বৌ, যাও যাও নাইয়া খাইয়া তৈরি হ‌ও মীর তোমারে আ‌ইজ তোমার নানা হোরবাইত(নানা শশুর বাড়ি) লইয়া যাইবো বুঝছো তুমি না যাইবার চাইছিলা।
বেস একটুই যথেষ্ট ছিল এই মুহূর্তে মায়ার মন অন্যদিকে ঘুরানোর জন্য। বেড়াতে যাওয়ার কথা শুনে, সে একটু আগের ঘটনাগুলো ভুলে বসলো। দাদির কথায় আর দাঁড়ালো না। মূহুর্তে দৌড় লাগালো পুকুর ঘাটে। মায়া ঘর ছাড়তেই রাজিয়া বেগম মীরের দিকে তাকায়। মীরের লাল চোখে গম্ভীর মুখে তাকিয়ে আছে তার দিকে।যা দেখে রাজিয়া বেগম শুকনো ঢোক গিলে বলে।
রাজিয়া : চোখ দিয়া আমারে গিলতাছস ক্যা আমি কি এহন এডি করছি নাহি?মীর দাঁত চিবিয়ে চিবিয়ে বলে
মীর : এহন করছ নাই বুড়ি তয় যা যা সর্বনাশ করবা তা তো আগেই করছোস আমার জীবনের শান্তি নষ্ট হ‌ইতাছে।
রাজিয়া : আইজ একটা ঈদের দিন ভাই রাগ করিছ না।
মীর : বু ( দাদি) আমি তোমারে সতর্ক ক‌ইরা দিতাছি আমার বউ যদি এইসব কান্ড হুইন্না অসন্তুস(অসন্তুষ্ট)হয় তাইলে আমি কিন্তু বাড়ি ছাইড়া আবার জামুগা আর এইবার গেলে আর ফিরুম না।
রাজিয়া : আরে না না ওয় জানাবো না কিছু হেইসব আমি দেহুম তুই বাড়ি ছাড়ার কতা কবিনা আর।
মীর : আচ্ছা ক‌ইলাম না তয় নানিগর বিড়িত যাওয়ার কতা ক‌ইলা যে ?
রাজিয়া : নাত ব‌উ এর মন ঘুরাইবার লাইগা ক‌ইছি। নাইলে আরো এ‌ইডা ঐইডা জিগাইতো তোরে।মীর বুঝতে পারল তার দদি দরজার ওপাশ থেকে ঘরের ভেতরের তাদের কথোপকথন শুনছিল।
 মীর : চু ত মা রা নি বুড়ি তুমি আড়ি পাইতা আমাগোর কথা হুনতাছিলা। তোমার এই ছিনাইল্লা সভাব যাইতো না?
রাজিয়া :আরে ধুর আমি কি কানে হুনি নাকি ঠিক ঠাক,এডি তো আন্দাজ করছি।
মীর : আমার আর আমার বউর কথা কানে না হুনলেই ভালা। তুমি হেডি হজম করবার পারতা না।
তাদের কথার মাঝেই মায়া গোসল সেরে চলে আসে। মাথার ভেজা চুলগুলো গামছা পেঁচিয়ে বড় খোঁপা বাধা, শাড়ির কুচি উঠায় নি কোনো রকম পেঁচিয়ে রেখেছে। ব্লাউজের পিছনের ফিতা খোলা , হাঁটার তালে তালে পায়ের নূপুর ঝনঝন শব্দ তুলছে। মীর একভাবে তাকিয়ে দেখছে তার সদ্য গোসল করা বউকে আপাতস্তক। রাজিয়া বেগম কপাল কুঁচকে তাকিয়ে আছে মায়ার দিকে।
 রাজিয়া : কিলো নাত বৌ ঘুঙুর পাইলি ক‌ইনতনে (কোথায় পেলে) আগে তো দেহি নাই?
রাজিয়ার কথায় মীরের ঘোর কেটে যায়।মায়া কিছু বলার আগেই মীর বলে।
মীর : ক‌ই পাইবো মানে কি আমি কি ফহীড় (ফকির)নাকি আমার টাহা নাই। বউরে আমি নূপুর গড়াইয়া দিছি বউ হাঁটবো আর ঝনঝন শব্দ তুলবো। রাজিয়া বেগম ভেংচি কেটে বলে
রাজিয়া : উহু মনে তো দেহি রং কম না।
মীর : নাতি যে তোমারি, দাদায় ম রলো  চাইর বৈশাখ গেছে,আর আগে তো তুমি ,লাল কাপড় পিন্দা (পরে) পায়ে আলতা আর চোহে কাজল দিয়া দাদারে আশেপাশে ঘুরঘুর করছো  দিনেদুফুরে দরজার খিল দিছো, বুড়ি বেডি হ‌ইয়াও তো রং কম আছিলো না আর আমার বউ তো ছোডো মানুষ। 
রাজিয়া : ও মাইয়া মাইয়া গো ছিঃ ছিঃ ছিঃ আও আও আও মুহে দেহি কিছুই বাজে না
মীর : সত্যি কতা মুহে বাজবো কেন তুমি করো নাই এডি?
রাজিয়া : হা রা মে জা দা শালার নাতি আমি খিল দিছি রে না তোর দাদায় দিছে?
মীর : তুমি তো সাইজা ঘুরঘুর করছো বেশর‌ইম্মা(বেশরম) বুড়ি আমার দাদা রে ফাসাইছো তা কি বুঝি নাই।
রাজিয়া : ছিঃ ছিঃ ছিঃ তোর দাদায় আছিল এক লুচ্চা বেডা তার তু‌ই হেই বুইড়ার তনেও বেশি লুচ্চা হ‌ইছোস,কতায় কতায় অযোগ্য বউ লইয়াই দুয়ার খিল লাগাছ।
মীর : হ তোমার নাতিই তো আমি দুয়ার তো তোমার তনেই খিল লাগান শিখছি লুচ্চা বুড়ি।
রাজিয়া : ও মাইয়া মাইয়া গো মাইয়া,ও বৌ গো বৌ হুনো তোমার পুতে এডি কি কয়। রাজিয়া বেগম আর কথায় পারে না, মুখে আচল গুঁজে মন্জু খাতুনকে ডাকতে ডাকতে ছুটে যায় দরজার বাহিরে মীর তা দেখে হু হু করে হেসে ওঠে। মায়া অবাক হয়ে এত সময় দুজনের কথা শুনছিল। 
মায়া : আন্নে তো দেহি মেলা কাইজ্জাখুরবেডা আছুইন !হঠাৎ মায়ার কথায় মাীর একটু অপস্তুত হয়ে যায়। অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকায় মায়ার দিকে।
মেয়েটি আশ্চর্য হয়ে তাকিয়ে আছে তার দিকে। মীরের মনে পড়ে যায়। তখন কার মায়ার ভয়ংকর রূপের কথা। যায় সাথে এখকার মায়ার কোন মিল নেই। মীর একটু সময় চুপ থেকে ভুরু কুঁচকে বলে।
মীর : আমি কাইজ্জাখুর বেডা ?
মায়া : হ অনেক। মীর এগিয়ে গিয়ে মায়ার শাড়িটা কোমর থেকে একটানে খুলে দেয়। মায়া তাতেই তেতে উঠল। 
মায়া : আরে আরে কি করলাই এইডা? আমি কতো কষ্ট পিনছিলাম (পরেছি) মীর মায়ার কোমর দুহাতে চেপে ধরে বলে।
মীর : কাইজ্জা লাগার কারন বাইর করলাম বউ। এবার করো কাইজ্জা।কথাটি বলেই মায়ার কোমরে একটা জোরে চিমটি কাটে মীর।
মায়া : আহ্ দুক্কু লাগে কিন্তু!
 মীর : লাগার লাইগা দিছি!
মায়া : আন্নে একটা বদ বেডা আছুইন
মীর : তুমি একটা মিষ্টি বউ আছো
মায়া :  উহ্ কাইজ্জাখুর বেডা!
 মীর : চাঁন্দের টুকরা বউ 
মায়া : ছুড়ুইন এহন আমার মেলা খিদা ধরছে
মীর : আমারো খুব খিদা ধরছে বউ তোমারে চুমানের খিদা। বিসমিল্লাহ বলেই মীর মায়ার ঠোঁটে ঠোঁট রাখে, প্রথমে ছোট্ট ছোট্ট চুমু খায় তারপর এক দীর্ঘ গাঢ় চুমু বসায়। তাল সামলাতে না পেরে মায়া মীর কে জড়িয়ে ধরে। মীর চুমু খেতে খেতেই ঠোঁট এলিয়ে হাসে মায়া কে জ্বালাতে ঠোঁটে ছোট্ট কামড় বসায়
মীর :উহহহহহহু! 
মীর :হা হা হা😄!
দুপুরে খাওয়া-দাওয়া সেরে মীর মায়া আর মা-দাদী সহ ভ্যানে চরে"কোয়াইঘাট" তার নানার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। আরশাদ আলী আসেনি সাথে সে বাড়িতে থাকবে। মায়া প্রথম বার একা নানা শশুর বাড়ী গেলে কেমন দেখায়। তাই মীর মা-দাদী কে সঙ্গে নিয়েছে। "কোযাইঘাট" যেতে আবার সুরমা নদ পার হতে হয় নৌকা দিয়ে।
 মায়া খুব উচ্ছ্বসিত নৌকায় উঠবে শুনেই। মীর তা বুঝতে পারছে বেশ।ঈদের সময় নদীর ঘাটে মানুষের ভীড় থাকে ভালো।মায়া অপেক্ষা করতে করতে বিরক্ত হয়ে গেছে। রাজিয়া বেগম সঙ্গে আনা কাপড়ের ব্যাগের উপর বসে আছে।মন্জু খাতুন দুইপা ভাঁজ করে হাওয়ায় বসেছে মায়ার সাথে কিছু নাই। সে হাওয়ায় বসতে পারে না পা বেথা করে। নৌকা ঐ পার থেকে আসলেই এবার তার চড়ে বসবে। এতক্ষণ অপেক্ষা করা মায়া এবার ধৈর্য হারালো।
মায়া : আর কতক্ষণ দরাই থাহুম।পা ধ‌ইড়া(ব্যাথা হইয়া) যাইতাছে আমার যাওন লাগতো না লন বাড়িত যাইগা।
মীর : আর একটু অপেক্ষা করো বউজান এবার নাও আইলে আমার উঠুম!
মায়া : না না না আমি আর খার‌ইবার(দাঁড়াতে) পারতাম না।
মীর : আচ্ছা তয় আমার কোলে আও!
মায়া : এহন এইনো সবাই সামনে ছিঃ! 
মীর : তাইলে আমার কান্দে উঢো।
মায়া : কি ক‌ইন এডি!
মীর : তয় কি ক‌ইতাম।
মায়া গাল ফুলিয়ে চুপ হয়ে গেলো মীর দেখলো নীল রঙের শাড়ি পরা মাথায় ঘোমটা তোলা মায়ার গোল মুখখানি ফুলে আরো গোল হয়ে আছে, ঠোঁটে লাল লিপস্টিক , চোখে কাজল,  ব্রো জোড়া আজকে একটু বেশি গারো লাগছে। মনে হয় আই ব্রো লাগিয়েছে।
 মীরের ইচ্ছা করছে ফোলা ফোলা গাল দুটো টিপে কামড় বসাতে।বউ যে একটু অভিমান করেছে তা দেখে মীরের হাসি পাচ্ছে খুব।মীর এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখে বসার মতো কিছু না পেয়ে রাজিয়া বেগমের কাছে যায়।মন্জু খাতুনের ছেলে-বউয়ের দিকে কোন খেয়াল নাই। সে বাপের বাড়ি যাওয়া নিয়ে খুব খুশি রাজিয়া বেগম তাকে সহজে যেতে দেয় না।
 হঠাৎ করে আজ নিজে থেকেই যেতে চাইল ,তাও আবার ঈদের দিন মন্জু খাতুনের আনন্দের শেষ নেই। বিয়ের পরে কখনো ঈদ করা হয়নি বাপের বাড়ি।তাই সে এদিক ওদিক তাকিয়ে নিজের গ্রামের লোকজন খোঁজ। আর একজন পেয়েও গেছে, তাদের গ্রামের এক বয়স্ক বুড়ি মহিলা,সম্পর্কে তার জেঠি( চাচি) লাগে, মেয়ের বাড়ি থেকে ফিরছে মহিলা,তার সাথেই একটু দূরে বসে গল্পে মজেছে মন্জু খাতুন।কিন্তু রাজিয়া বেগম এতো সময় নাতি- নাত বৌ এর দিকেই তাকিয়ে ছিল।
 এবং সে সবটা না শুনলেও এটা বুঝতে পেরেছে যে মাযার দাঁড়াতে কষ্ট হচ্ছে।মীর তার সামনে আসতেই রাজিয়া বেগম বলে।
রাজিয়া :এইনো আইয়া লাভ নাই আমি ব্যাগ দিতাম না। এইডায় আমি ব‌ইছি।মীর অবাক হলো মায়া আর তার দাদীর মধ্যকার দূরত্বের মাপ কমপক্ষে ১৫ হাতের বেশি হবে। মীর আশ্চর্য হয়ে বলে
মীর : চু ত মা রা নি বুড়ি এতো দূর থাইকা আমগোর কতা সব শুইনা নিছো এই তোমার লগে ঐ দুইডা কি মাইনষের কান না হাতির হুনি
রাজিয়া : বেজাতের বাচ্চা মুখ সামলাইয়া কথা ক আমার কান ঠিক আছে তোর মা গি র গলা ফাডা বাঁশের মতোন ।
মীর : আমার বউর গলা কোকিলের মতো, তোমার গলাই ফাডা বাঁশ,এহন ওডো ঝোলা দেও।
রাজিয়া : না দিতাম না খবরদার ধরবি না এইডায় আমি ব‌ইছি দেহছ না আমি দিতাম না।
মীর :বুড়ি মাইনষের সামনে তামাশা না ক‌‌ইরা ওডো জলদি। কথাটি বলেই মীর তার দাদিকে টেনে তুলে। 
রাজিয়া : হায় হায় হায় কি বেজাত জন্মদিছে  আমার পুঁতে,বড়,বুড়া মানে না!মীর দাদিকে ব্যাগ থেকে সরিয়ে,ব্যাগ হাতে নিয়ে দাদিকে উদ্দেশ্য করে বলে।
মীর : ছিঃ ছিঃ বু তোমার মুহের মতো  পু ট কি তেও তো ধার কম না দেহি ব্যাগডা আগুন গরম হ‌ইয়া গেলে,এতো আগুন ক‌ই থাইকা আসে হুনি ! রাজিয়া বেগম এবার ক্ষেপে গেল, চিৎকার করে ছেলের বউকে ডাকতে ডাকতে বলল।
রাজিয়া :ঐ খবিশ ও ছিনালের ঘরের ছিনাল হোন তোর পুঁতে কি কয় এডি।বেজাত কুজাত জন্ম দিছস একটা মন্জু খাতুন পাত্তা দেয় না শাশুড়ির কথা। মীর ততক্ষণে ব্যাগ খুলে ভেতর থেকে একটা গামছা বের করে নিয়ে, পুনরায় ব্যাগটি জায়গা মতো রেখে দাদীর হাত ধরে টেনে বসিয়ে দিয়ে বলে।
মীর : মুহে লাগাম টানো বুড়ি, বাড়িত যা কও কও রাস্তাঘাটে আমার আম্মারে কিছু কইলে ধাক্কা দিয়ে গাঙ্গে ফালাইয়া দিমু,পরে ভাসতে ভাসতে বুড়া বেজাতের কাছে যাইবার। রাজিয়া বেগম ব্যাগের উপর বসে হা করে তাকিয়ে দেখে মীরের দিকে যে এখন বড় বড় তাজা ঘাসের ওপর গামছা ভাজ করে পেতে দিয়ে মায়ার জন্য বসার জায়গা তৈরি করছে। মায়া ঝটপট পেতে দেওয়া গামছার এক কোনায় বসে পড়ে। মীর পাশেই দাঁড়িয়েছিল মায়ার হাত বাড়িয়ে মীরের কোমরের অংশের শার্ট টেনে ইশারা করে গামছার বাকি অংশটুকুতে বসার জন্য। 
মায়া : হুনুইন না( শোনেন না)অনেক জায়গা আছে,আন্নেও ব‌ইবার পারবাইন,বহুন। মীর পেছনে তাকায় মায়ের দিকে, সে এখন অন্য পাশে ঘুরে বসে গল্পে ব্যস্ত। মীর এবার তাকায় তার দাদীর দিকে, যে কিনা ভুরু কুঁচকে চোখ ছোট ছোট করে তার দিকেই তাকিয়ে আছে। 
মীর দাদীর মুখের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট কামড়ে হাসে, চোখ মারে। রাজিয়া বেগম রেগে গিয়ে, সামনে পড়ে থাকা ছোট্ট মাটির টুকরো ছুড়ে মারে মীরের দিকে। মীর সেটা ক্যাচ ধরে নেয় মায়া তখনও তার শার্টের কোনা ধরে টানছিল। মীর সময় নষ্ট করে না মুহূর্তেই তার বউর গা-ঘেঁসে নদীর পাড়ে বসে পরলো।
মীর : যানো বউ বিড়ির চেয়েও আমার ইদানিং মারাত্মক নতুন নেশা হ‌ইছে একটা।
মায়া : তা আবার কি?
মীর : তোমার ফোলা ফোলা গালে কামড় দেওয়ার নেশা দিতাম নাকি একটা কামুড়।মায়ার সঙ্গে সঙ্গে দুহাত দিয়ে দুগাল চেপে ধরে বলে।
 মায়া : ও মাইয়া মাইয়া গো কি সবনাইসা কতা !মীর গা কাঁপিয়ে হাসে, মায়ার কান্ড দেখে।বিকেলের নরম সূর্য ধীরে ধীরে নদীর জলে গলে যাচ্ছে,হালকা বাতাস এসে পানির বুকে তুলছে মৃদু ঢেউ।চারপাশে এক অদ্ভুত শান্তি মায়ার অনুভূতি বোঝা যাচ্ছে না তবে। মীরের মনে হয় সময় থেমে আছে অচেনা এক প্রশান্তি ছড়িয়ে যাচ্ছে নিঃশব্দে। রাজিয়া বেগম তাদের দিকে তাকিয়েই বলে।
রাজিয়া :খবিশের ঘরের খবিশ,বেজাতের বংশধর তো বেজাত‌ই হ‌ইবো, দাদার কিছু বাদ দেয় নাই শ য় তা ন ছেড়া।কথাটি বলেই হাসে রাজিযা বেগম,তবে পরমুহুর্তে তার কপালে চিন্তার ভাঁজ পরে। মায়ার এখনো অযোগ্য এটা ভেবে। তার নাতি যে এই মেয়ের উপর ভালোই মজে আছে। উপযুক্ত না হলে কেমনে কি হবে।
চলবে........
কেমন হয়েছে বলবেন সবাই, আর বানান ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১০ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন