গল্পের নাম: #পাতাবাহার_(অনূভুতির অশ্রুমালা)
পর্ব :(১৪)
লেখিকা:#সাদিয়া_আফরোজ
•
•
•
মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আযান।আযানের বিশ্বাস হচ্ছে না এইটা তিতির। নীল শাড়ি,নীল চুড়ি,কানে ঝুমকা, ঠোঁটে লাল টুকটুকে লিপস্টিক ,চোখে গাড় করে কাজল আর কোমর সমান চুল গুলো উন্মুক্ত করে দেয়াতে তিতিরকে মুগ্ধময়ী লাগছে। আযানের ইচ্ছে করছে তিতিরকে সামনে বসিয়ে রাখতে। কল্পনার চাইতেও বেশি সুন্দর লাগছে যার দরুন আযান হা করে তাকিয়ে আছে।
এইদিকে আযানের তাকানোতে তিতির প্রথমে স্বভাবিক থাকলেও পরে তা আর হয়ে উঠেনি। তিতির লজ্জায় লাল হয়ে যাচ্ছে, লজ্জা নিবারণের জন্য মেঝেতে দৃষ্টি আবদ্ধ করলো।
আনিতা শেখ ছেলের দিকে তাকিয়ে মুখ টিপে হেসে ধাক্কা দিলো।
মায়ের ধাক্কায় আযান যেন বাস্তবে ফিরে এলো। মায়ের দিকে তাকাতেই আনিতা শেখ ইশারায় বললো,লাজ শরমের মাথা খেয়েছিস? মেয়েটার নজর লাগবে তো। মায়ের সামনে এমন করে তাকিয়ে থাকতে লজ্জা করলো না?
তিতির আনিতা শেখের দিকে তাকিয়ে আছে কিন্তু কিছুই বুঝলো না।
মায়ের ইশারায় আযান বেশ লজ্জা পেলো। তাই মাথা চুলকাতে চুলকাতে বললো,, ইয়ে মানে মা তোমরা বসো আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।
আনিতা শেখ জোর পূর্বক হাসার চেষ্টা করে ইশারায় বললো,, তাড়াতাড়ি যা।
আযান দু কদম এগুতেই মনে পড়লো ফুল গুলোর কথা। প্যাকেট থেকে ফুল গুলো বের করে সোজা মায়ের পেছনে দাঁড়ালো।
তিতির ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে। আযান কি করতে চাইছে তা আনিতা শেখ নিজেও বুঝতে পারছে না।
আযান দুই রঙের দুটো ফুল নিয়ে মায়ের খোঁপায় গুঁজে দিয়ে বললো, এইবার পারফেক্ট হয়েছে।
আযানের এমন কাজে তিতির অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।কারন মা ছেলের এমন সম্পর্ক আজ কাল খুব কম দেখতে পাওয়া যায়।
এই দিকে আনিতা শেখ ছেলের এহেন কাজে প্রথমে অবাক হলেও পরে খুব বেশ খুশি হয়। খুশিতে দুচোখ ভরে উঠলো।
আযান মায়ের সামনে দাঁড়িয়ে মুচকি হেসে বলল, কাঁদলে সত্যি কেজি মেপে বিক্রি করে দেবো। চোখ মুছে ফেলো কাজল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কিন্তু।
আযানের কথা শুনে তিতির মুখ টিপে হাসছে।
আনিতা শেখ ছেলের এমন কথা হেসে উঠে আযানের বাহুতে দুটো থাপ্পড় মেরে দেয়। এতে আযান শব্দ করে হেসে উঠে বললো,ব্যাথ্যা লাগে তো। তুমি বরং আমার ভাগের মার গুলো তোমার পিচ্চি পরীকে দাও।
আযানের কথা শুনে তিতির চোখ ছোট ছোট করে তাকালো।
আযান বাঁকা হেসে আনিতা শেখকে উদ্দেশ্য করে বলল,মা কেউ রেগে যাচ্ছে তার রাগ কমাতে এই দুটো ফুল তার কানের পেছনে গুঁজে দাও। আমি দিতে গেলেতো আমার আবার দাঁত খুলে ফেলবে।
আনিতা শেখ ফুল গুলো হাতে নিয়ে আযানের পিঠে চাপড় মেরে ইশারায় বললো, এইবার বেশি হচ্ছে,কেন মেয়েটাকে জ্বালাচ্ছিস!
আযান মুচকি হেসে দোতলার উদ্দেশ্যে পা বাড়ালো।
তিতির মুখ ফুলিয়ে আযানের দিকে তাকিয়ে ভেংচি কাটলো।
তিতির ভেংচি কাটার দৃশ্য আযানের দৃষ্টি এড়ালো না। আযান মুচকি হেসে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেল।
আনিতা শেখ আযান আর তিতিরের এমন দুষ্টুমিষ্টি ঝগড়া দেখে হাসছে। তার কাছে এর চেয়ে সুন্দর দৃশ্য আর একটিও নেই।
তিতির মুখ ফুলিয়ে আনিতা শেখের দিকে তাকিয়ে বলল, দেখলে তোমার বাঁদর ছেলে কি বলেছে? আমি আর কথাই বলবো না তোমায় পাজি ছেলের সাথে হুহ!
আনিতা শেখ মুচকি হেসে তিতিরের কানের পেছনে ফুল দুটো গুঁজে দিয়ে তিতিরের কপালে চুমু খেলো।
তিতিরের রাগ যেন মূহূর্তেই হাওয়া হয়ে গেল।
আনিতা শেখ ডায়েরী নিয়ে কিছু লিখে তিতিরের দিকে ঘুরালো।
তিতির তাকিয়ে দেখে ডায়েরীতে লেখা, মাশাআল্লাহ আমার মেয়েটাকে অসম্ভব সুন্দর লাগছে। পুরাই মায়াবতী মুগ্বময়ী যার থেকে দৃষ্টি ফেরানো সম্ভব।
তিতির লেখাটা পড়ে মুচকি হেসে বললো, মায়াবতী মুগ্বময়ী লাগছে কারন মমতাময়ী মা তাকে সাজিয়েছে।
আনিতা শেখ তিতিরের কথায় মুচকি হাসলো।
আনিতা শেখের কাছে তিতিরকে আল্লাহর দেওয়ার একটা রহমত মনে হয়। মেয়েটা কেমন জানি খুব বেশি আপন হয়ে গেছে। যাকে এক মূহুর্ত চোখের আড়াল করতে ইচ্ছে করে না।
এই দিকে আযান একদম তৈরি হয়ে নিচে নেমে এলো। তিতির আযানের দিকে তাকিয়ে দেখে আযান আকাশি রঙের শার্ট, নীল রঙের ব্লেজার আর প্যান্ট পরেছে সাথে কালো সু, চুল গুলো সব সময়ের মত কপাল ছুঁই ছুঁই করছে। আযানকে একদম মিস্টার পারফেক্ট লাগছে। তিতিরের কাছে মনে হচ্ছে হ্যান্ডসাম শব্দটার পর আরো কিছু শব্দ প্রয়োজন আছে আযানের জন্য।
আযান তিতিরের দিকে তাকিয়ে দেখে তিতির তার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।আযানের চোখে চোখ পড়তেই তিতির বেশ লজ্জা পেলো। তিতির নিজেই নিজেকে বকছে,কেন যে নির্লজ্জের মত তাকিয়ে ছিলাম! তিতির নিজেকেই দোষ দিচ্ছে।
আযান মুচকি হাসতেই তিতির বেশ লজ্জা পেলো ।তা বুঝতে বাকি নেই আযানের।
আনিতা শেখ ছেলেকে দেখে বড় করে নিঃশ্বাস ফেলল। ছেলেটা তার বড় হয়ে গেছে সাথে বড় বড় দায়িত্ব পালন করতেও শিখে গেছে।
আযান ঘড়ি ঠিক করতে করতে বললো, ওকে গার্লস, লেটর্স গো!
আযানের কথা শুনে আনিতা শেখ চোখ গরম করে তাকালো। তিতির মুখে হাত দিয়ে হাসছে।
আযান মায়ের চোখ রাঙানি দেখে বলল, বাপরে! সরি সরি আর হবে না। এখন চলো তাড়াতাড়ি,,!
আযান ড্রাইভিং সিটে বসলো। আনিতা শেখ ইশারা করে বললো তিতিরকে ফ্রন্ট সিটে বসাতে। আযান মায়ের ইশারায় খুশিতে আত্মহারা কিন্তু সেই খুশি বেশিক্ষণ টিকলো না। তিতির আযানের খুশিতে এক বাকেট পানি ঢেলে পেছনের সিটে বসে পড়লো। আনিতা শেখ ছেলের দিকে তাকিয়ে চুল ঠিক করতে করতে ভাব নিয়ে তিতিরের পাশে বসলো।
আযান দুঃখে ভরা নিঃশ্বাস ফেলে গাড়ি ড্রাইভ করায় মনযোগ দেয়।কিন্তু কিছুক্ষণ পর পর লুকিং গ্লাস দিয়ে ঠিকই তিতিরের দিকে তাকিয়ে দেখছে। এর মধ্যে দু'বার আনিতা শেখের কাছে ধরা খেয়ে গেছে। প্রায় আধ ঘন্টা পর গাড়ি থামলো একটা কনভেনশন হলের সামনে। আযান গাড়ি থেকে নেমে মায়ের পাশের দরজাটা খুলে দিল। আনিতা শেখ নেমে দাড়াতেই একটা ছেলে এসে আনিতা শেখের পা ধরে সালাম করলো।
আনিতা শেখ প্রথমে ছেলেটার চেহারা না দেখলেও পরে দেখা হেসে উঠে ছেলেটার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো। আনিতা শেখ ছেলেটাকে চেনে,আযানের ছোট বেলার বন্ধু রাইয়ান। তিতির গাড়ি থেকে নেমে আনিতা শেখের পাশে দাড়ায়। রাইয়ান মুচকি হেসে বললো, You must be Titir?
তিতির অবাক হলো, ছেলেটা তাকে চেনে কি ভাবে?পরে ভাবলো নিশ্চয়ই আযান বলেছে।
তিতির মুচকি হেসে বলল, জ্বি।
রাইয়ান হাঁসি বজায় রেখে বলল, Nice to meet you. এই সপ্তাহ পুরোটাই আপনার গল্প শুনেছি এখন আলাপ হয়ে ভালো লাগলো।
তিতির চোখ ছোট ছোট করে আযানের দিকে তাকালো।
আযান মাথা চুলকাতে চুলকাতে বললো, রাইয়ান কথা কম বলে ভেতরে যেতে দে।
আনিতা শেখ ছেলের আচরণ দেখে মুচকি হাসলো। বুঝতে বাকি নেই ছেলে তার পুরোই গেছে।
আযানের কথায় রাইয়ান তাড়াতাড়ি করে বললো, ইয়ে মানে, আন্টি ভেতরে আসুন প্লিজ। তিতির ভা,,
রাইয়ানকে কিছু বলতে না দিয়ে আযান মৃদু চিৎকার দিয়ে বললো, রাইয়ান গাড়ি কোথায় পার্ক করবো!
রাইয়ান মুখে হাত দিয়ে তাড়াতাড়ি হলের ভেতরে চলে গেল।
তিতির ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে। দুই বন্ধু মিলে কোনো ঘোল পাকাচ্ছে ঠিকই কিন্তু সেটা কি তা তিতিরের মাথায় ঢুকছে না।
আনিতা শেখ মাথায় হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ছেলে গুলো কি করছে কিছুই বুঝতে পারছে না।
আযান তিতির আর আনিতা শেখকে নিয়ে হলের ভেতরে প্রবেশ করলো।
চলবে,,
(ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। ব্যাস্ততার কারনে রি-চেক দেওয়া হয়নি।)