ফন্ট সাইজ:
থিম:
পাতাবাহার

২২তম পর্ব

লেখক: সাদিয়া আফরোজ

গল্পের নাম:#পাতাবাহার_(অনূভুতির অশ্রুমালা)

পর্ব :(২২)

লেখিকা:#সাদিয়া_আফরোজ

•

•

•

•

আযানের অপ্রস্তুত ভঙ্গিতে তাকানো দেখেই তিতির বুঝতে পারলো আযান কিছু একটা লুকাচ্ছে । তিতির কোমরে হাত দিয়ে ডিটেক্টিভ ভঙ্গিতে বললো, কোথায় গিয়েছিলেন? হাতে শপিং ব্যাগটা কিসের?

আযান তিতিরের প্রশ্নে হকচকিয়ে গেল। কোনোরকম কথা কটাতে আমতা আমতা করে বলল,, অফিসের কাগজ পত্র গাড়িতে রেখে এসেছিলাম ওই গুলোই আনতে গেছি।

তিতির ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বলল, অফিসের কাগজ পত্র শাড়ির দোকানের ব্যাগে থাকে বুঝি? সত্যি করে বলুন ঘটনা কি?

তিতিরের প্রশ্ন শুনে প্রথমে চমকালেও পরে মৃদু হাসলো আযান। তিতিরের প্রশ্ন করার ধরনে তাকে পুরাই বউ বউ লাগছে। আচ্ছা খুব বেশিটি ক্ষতি হবে! যদি সে সত্যি আমার সহধর্মিণী হয়ে এইভাবে অধিকার খাটিয়ে আমার কাছে কিছু জানতে চায়? উঁহু ক্ষতি নয়! বরং তার শাসনের আশায় রোজ রোজ ভুল করবো।আর সে কোমরে হাত গুজে চোখ পাকিয়ে ঠি এইভাবেই জিজ্ঞেস করবে। তখন আমি মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকবো।

তিতির আযানের দিকে তাকিয়ে দেখে সে দিব্যি মুচকি হাসছে। তিতির ভ্রু কুঁচকে বললো, কি ব্যাপার হাসছেন কেন?

আযান নিজেকে সামলে নিয়ে চোখ ছোট ছোট করে বললো,, পিচ্চি মেয়ে তুমি ঘুমাতে যাওনি কেন? একদম পুলিশের মত জেরা করছো দেখছি!

তিতির বিরক্ত ভঙ্গিতে বললো,, তো কি করবো চোরের মত ঘরে ঢুকলে পুলিশ তো হতেই হবে!আমি এক্ষুনি আন্টিকে বলবো আপনি চুপি চুপি বাইরে বেরিয়েছেন।

আযান মাথা চুলকাতে চুলকাতে আস্তে করে বললো,, পিচ্চি বউ একটা!

তিতির উহুম উহুম শব্দ করতেই আযান বললো,আরে বাবা,, সত্যি বলছি অফিসের কিছু কাগজ পত্র গাড়িতে ছিল ওই গুলো আনতে গেছিলাম। হঠাৎ দেখলাম শপিং ব্যাগটা গাড়িতে পড়ে আছে তাই ওটার মধ্য করে এনেছি।

তিতির সন্দিহান দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,, ঠিক আছে! ঠিক আছে ! আজকের জন্য মাফ করা গেল। সামনে থেকে এমন করলে খুন্তি থেরাপির ব্যাবস্তা করা হবে।

তিতিরের কথা শুনে চোখ বড়বড় করে তাকালো আযান।

তিতির আযানের লুকেই বুঝতে পারলো কপালে শনির দশা ঘুরছে। তাই অপেক্ষা না করে এক ছুটে আনিতা শেখের রুমে চলে গেল।

এইদিকে আযান তিতিরের কথা আর কাজে পুরাই বেকুব বনে গেল। পরক্ষনে শব্দ করে হেসে উঠে বললো, পাগলী একটা।

সময়ের স্রোত বয়ে যাচ্ছে নিজ গতিতে।তার সাথে প্রগাঢ় হচ্ছে আযানের মায়া, অনূভুতি আর ভালোবাসা। আজকাল তিতিরকে চোখে হারাচ্ছে খুব। নিজের মনের সাথে এক পশলা যুদ্ধ করে শহর ছেড়েছে সে। নতুন প্রজেক্টের কাজে গুরুত্বপূর্ণ মিটিং এটেন্ড করতেই চট্রগ্রাম যাওয়া।

এইদিকে তিতির পুরো একা হয়ে গেছে।এই তিনদিনে আযানের অনুপস্থিত হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে তিতির। আনিতা শেখের সাথে সময় কাটালেও গাড়ির শব্দ শুনতে পেলে দরজার দিকে ঠিকই তাকিয়ে থাকে। কেন জানি আযানের সাথে করা দুষ্টু মিষ্টি খুনসুটি এখন খুব মিস করে। তিতির জানে না আযানের উপর কেন অভিমান হচ্ছে। ধীরে ধীরে অভিমানের পাল্লা ক্রমশো ভারী হয়ে লাগলো।

আনিতা শেখ তিতিরকে উদাসীন হতে দেখে মোটেও বিচলিত হলো না।বরং, একটু বেশিই খুশি হলো। তিতিরের উদাস চেহারার পেছনে মুল কারন যে তার ছেলে সেটা তিনি দারুণ ভাবে বুঝতে পেরেছে। আনিতা শেখ আযানের সাথে কথা কম বলে ,কারন তিনি চায় আযান যেন তিতিরকে প্রগাঢ় ভাবে মিস করে।

এইদিকে আযানের অনুপস্থিতির সময়সীমা বেড়েছে। আরো পাঁচ ছয়দিন লাগতে পারে বলে জানিয়েছে আযান।

আজ পাঁচদিন আযান নেই। আযানের উনুপস্থিতিতে তিতির কিছুটা নিস্তব্ধ হয়ে গেছে। আর হবেই-বা-না কেন? পুরো দিন চুপচাপ থাকে ।আনিতা শেখের সাথে গল্প করলেও উনি সব কিছুই লিখে দেন তা না হলে তিতির বুঝতেই পারে না।যার দরুন সারা বেলা তিতির চুপ হয়ে থাকে। বিকাল সাড়ে চারটার দিকে ধীর পায়ে ছাদে উঠলো তিতির। সূর্যের প্রখরতা ক্রমশো কমতে লাগলো। বসন্তের ছোঁয়ায় প্রকৃতির নতুন রূপের দেখা মিলছে। ছাদের একটা পাশ নানান রঙের ফুলে ভরে উঠেছে। দোলনায় বসে একদৃষ্টিতে সেই ফুল গাছ গুলো দেখতে লাগলো তিতির।

ফুল নাকি মন ভালো করে দেয়। কিন্তু তিতিরের বেলায় উল্টো হলো। ফুল দেখতেই তিতিরের মনটা বিষাদের কালো মেঘ জমতে শুরু করল। মনে পড়ে গেল আযানের কথা, সেই দিন আযান খুব বেশি ভয় পেয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে ছিল। তিতির তপ্ত নিঃশ্বাস ফেলে দোলনায় হেলান দিয়ে বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে চোখ বুঝে গুনগুনিয়ে গান গাইতে লাগলো,,,

তোমাকে না লেখা চিঠিটা ডাকবাক্সের

এক কোণে,,

সাদা খামের না লেখা নাম

এঁকেছে তার গানে,,

সেই চিঠি যত লেখা,,,

থাকে একা একা।

সেই গানের না শোনা সুর

একা একা আঁকা।

ছুঁয়ে যায় তবু কখন এসে!!

যদি বলি সে সবি তোমারি,,

একা চিঠি একা আঁকা গান,,

মুগ্ধ দুটো চোখ সেই কখন থেকে তার প্রেয়সীকে মুগ্ধতার নিয়ে দেখতে ব্যাস্ত হয়ে আছে সেইটা তার প্রেয়সী ঘুনাক্ষরেও টের পায়নি। বরং সেই প্রেয়সী তার নিজস্ব কল্পনায় জলছবি আঁকছে আর গান গাইছে।

তিতির কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে আবার উঠে পড়লো। মন খারাপের রেশটা বাড়ছে বই কমছে না। কিন্তু তিতির জানতো না তার মনখারাপের সময় সীমা শেষ হয়েছে-বলে । অবাধ্য চুল গুলো হাতখোপা করতে করতে পেছনে ফিরলো তিতির। আযান বুকে হাত গুজে দেয়ালে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে আছে,তবে দৃষ্টি তিতিরেই সীমাবদ্ধ। তিতির পেছনে ফিরে স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল। এতটাই স্তব্ধ হয়ে গেল যে খোঁপা করা আর হয়ে ওঠেনি। অবাধ্য চুল গুলো ফের খুলে পুরো পিঠে ছড়িয়ে পড়লো। চোখ জোড়া স্থির করে তাকিয়ে আছে। বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটা আযান।

এইদিকে আযান নিচের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে আবার তিতিরের দিকে তাকালো। সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে পকেটে দুহাত গুজে ধীর পায়ে তিতিরের সামনে এসে দাড়ালো।

তিতির এখনো নিজের দৃষ্টিতে আযানকে আবদ্ধ করে রেখেছে। আযানকে একটু বেশিই এলোমেলো লাগছে। হালকা আকাশি রঙের শার্ট আর কালো প্যান্ট পরা। ফর্মাল লুকটা ভীষণ এলোমেলো,শার্টের কিছুটা অংশ টাকেইন করা আর বাকিটা খোলা, কালো রঙের টাই পরা যদিও এইটা টানা হেচড়া করার ফলে টাই মনে হচ্ছে না,মনে হচ্ছে কালো রঙের দড়ি। যে চুল গুলো সব সময় সেট করা থাকতো!তা আজ উস্কোখুস্কো হয়ে আছে। আযানকে দেখে তিতিরের মনে একটাই প্রশ্ন জাগছে,প্রচন্ড রকমের গুছানো ছেলেটা হঠাৎ করে অগোছালো হয়ে গেছে কেন? তবে অদ্ভুত ব্যাপার এই প্রচন্ড রকমের অগোছালো ছেলেটাকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে দেখছে তিতির। তিতিরের চোখে অগোছালো ছেলেটকেই আজ খুব বেশি শুভ্র লাগছে।

আযান মুচকি হেসে বলল,, কেমন আছো মুগ্ধময়ী?

তিতির এক বুক অভিমান নিয়ে অভিযোগ করে বললো,, যেমন রেখেছেন!

আযান মুচকি হেসে চোখ বুজে বললো, খুব বেশি খারাপ রেখেছি কি?

তিতির আযানের দিকে তাকিয়ে আছে। চোখ জোড়া নোনা জলে সিক্ত। কোনো কথা বলছে না। এই কল্পনার আযানকে ছুঁয়ে দেয়ার প্রবল ইচ্ছা জাগছে। সেই ইচ্ছেকে দমিয়ে রাখতে না পেরে হাত বাড়িয়ে আযানে কপোল ছুঁয়ে দিলো।

আযান অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। তিতির তাকে ছুঁয়ে দিচ্ছে ভেবেই আযান ফ্রীজড্। চোখ জোড়ায় মুগ্ধতার চাইতে অবাকতার রেশ বেশিই দেখা যাচ্ছে।

আযানের অস্তিত্ব টের পেতেই তিতিরের ভ্রম আর রইলো না । যতক্ষনে বুঝতে পারলো এইটা সত্যি সত্যি আযান ততক্ষণে ফটাফট হাত সরিয়ে দুরে গিয়ে দাঁড়ালো তিতির। নিজের উপর নিজের রাগ হচ্ছে,কেন আযানকে ছুঁয়ে দিলো?

তিতিরের ছুঁয়ে দেয়া গালে আলতো করে হাত রেখে চোখ বন্ধ অবস্থায় মৃদু হাসলো আযান। আমার মুগ্ধময়ী বুঝি আমাকে অনুভুব করতে চায়!

চলবে,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন