#বসন্তের_প্রথম_প্রেম
#লেখনীতে_আইজা
পর্ব : ০৪
(❌কপি করা নিষিদ্ধ ❌)
কিন্তু বিপত্তিটা ঘটল মিনিট দশেকের মধ্যেই। জিসান ছাড়া জাইরা আর রিশান—দুজনেই এই ‘তরল’ অভিযানে একদম আনাড়ি। কয়েক রাউন্ড যাওয়ার পর রিশানের সেই হিমালয়সম গাম্ভীর্য যেন জানালা দিয়ে ল্যান্ডিং করে পালিয়েছে। গম্ভীর রিশান এখন সোফায় বসে আপনমনেই খিলখিল করে হাসছে, আর জাইরা টলোমলো পায়ে ড্রয়িংরুমে কাল্পনিক প্রজাপতি ধরছে। জিসান বেচারা ওদের কান্ড দেখে বুঝতে পারছে না হাসবে নাকি কাঁদবে।
“জিসান... তুই না আমার এক মিনিটের ছোট? তার মানে আমি যখন দুনিয়াতে গ্র্যান্ড এন্ট্রি নিলাম, তুই তখন জ্যামে আটকে ছিলি, তাই না? এই এক মিনিটের জ্যামের জন্যই তুই আজ এমন ভণ্ড আর বলদ হয়েছিস!”
রিশান নেশায় চুর হয়ে হেঁচকি তুলতে তুলতে কথাটি বললো। জিসান আহাম্মক হয়ে তাকিয়ে রইলো। তাকে ওভাবে চেয়ে থাকতে দেখে রিশান আবার মুখ বাঁকিয়ে বললো—
“এমন বলদের মতো তাকিয়ে আছিস কেন? তোর কি সব বোধবুদ্ধি ওই ওড়না নিয়ে নাচার সময় খুলে ড্রেনে পড়ে গেছে?”
জিসান কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল। এদিকে জাইরা এতক্ষণ সোফায় বসে একা একাই হাসলেও এবার সে টলতে টলতে রিশানের সামনে এসে দাঁড়ালো। রিশানের হাত ধরে হ্যাঁচকা টান দিয়ে বললো—
“এই রিশান ভাই! চলো না আমরা দুজনে মিলে একটা ‘রোমান্টিক ড্যান্স’ করি!”
তারপর রিশানকে একপ্রকার টেনেহিঁচড়ে ড্রয়িং রুমের মাঝখানে নিয়ে গেল। জিসানকে ইশারায় ধমক দিয়ে বললো—
“ওই জিসাইন্না! তুই আমাদের নাচ দেখবি আর তালি দিবি। একদম বাগড়া দিতে আসবি না, খবরদার!”
জিসান নাক-মুখ কুঁচকালো। ‘জিসাইন্না’! তার সুন্দর নামটার একদম দাফন সম্পন্ন করে দিয়েছে জাইরা। তবে ফ্রিতে এমন ‘লাইভ কমেডি’ দেখতে মন্দ লাগছে না তার। জাইরা বক্সে গান প্লে করলো
🎶 🎶 🎶 🎶 🎶 🎶 🎶 🎶
এসে গেছি মন বাগানে খেলবো নতুন খেলা
রূপের আগুন ছড়াই আমি একটু দূরে দাঁড়া......
এই আগুনে জ্বলে পুড়ে তবু ছুঁতে চায়
আলতো করে ছোঁয়া দিলে দুনিয়া ভুলে যায়.......
ও আমার বিলেত রাজা প্রেমেরই ডালা সাজা
কাছে আয় খেলবো আজ তোর মনেরই মাঠে প্রেমের কুত কুত কুত কুত কুত.........🎼🎶
এবার রিশান ওয়াইনের গ্লাসটা হাতে তুলে নিলো ।
🎧কি নেশা ঢাইলা দিলি গ্লাসে মাইনাসে না প্লাসে
কোমর ঘুরাই ঢুংকা দিলে পুরাই দেশি ফিল আছে (২)
🎶 🎶 🎶 (Music)🎶 🎶 🎶 🎶
জাইরা এবার এক লাফে উঠে পা দিয়ে রিশানের কোমর আঁকড়ে ধরলো । এটা দেখে জিসানের ওয়াইন নাকে উঠে গেল। বেচারা কাশতে কাশতে শেষ , তাও ওদের এইসব ডান্স দেখছে ।🐸 সে কিছু একটা মনে করে ফোনের ক্যামেরা অন করে টেবিলের উপর রাখলো করে —পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইল করার জন্য এটা হবে তার ব্রহ্মাস্ত্র!
🎶 গোলাপি চোখের যাদু আকাশে গাল আমার
রেডি বসে আছি হবো রানি তোমার.....
জাইরা এক আঙুল দিয়ে রিশানের ফেস এ স্লাইড করছে । রিশান যেনো অনুভূতির শীর্ষে ।
এবার জাইরা রিশানের কোল থেকে নেমে গেল ।
🎶আরে আয় না হ্যান্ডসাম , প্রেমের আন্থাম
আরে আয় না হ্যান্ডসাম , প্রেমের আন্থাম দেখলে বাজে মনে
তোকে নিয়ে পালাতে চাই আধার কোনো বনে ( রিশানের গলা ধরে )
🎶 🎶 🎶 🎶 🎶 🎶
ও আমার বিলেত রাজা প্রেমেরই ডালা সাজা
কাছে আয় খেলবো আজ তোর মনেরই মাঠে প্রেমের কুত কুত কুত কুত কুত.........🎼🎶
🎧কি নেশা ঢাইলা দিলি গ্লাসে মাইনাসে না প্লাসে
কোমর ঘুরাই ঢুংকা দিলে পুরাই দেশি ফিল আছে (৪)🎶🎶
ওরা দুজন নেশায় টলছে । আধো আধো চোখে একজন অন্যজনকে দেখছে । হঠাৎ রিশানের চোখ গেল জাইরার গোলাপি অধরে । অধরজুগল স্মিত কাঁপছে । রিশান ধিরে ধিরে সেদিকে মুখ এগিয়ে নিলো । কিন্তু প্রচণ্ড উত্তেজনা ও মাথা ব্যথায় আর জ্ঞানে থাকতে পারলো না মাথা ঘুরে পড়ে গেল। তার উপর জাইরা ও পড়ে গেল ।
আর জিসান? সে তো ওদের ডান্স দেখতে দেখতেই টেবিলের উপর মাথা রেখে ঘুমিয়ে গেছে।
.
.
.
পূর্বাকাশের মৃদু লালিমা ধীরে ধীরে শুভ্র আলোয় রূপান্তরিত হচ্ছে। জানালার ফাঁক দিয়ে আসা রোদের ঝিকিমিকি রোদ জাইরার চোখে পড়তেই তার জ্ঞান ফিরলো। সে অনুভব করলো সে খুব শক্ত আর উষ্ণ কিছুর ওপর শুয়ে আছে। মাথাটা যেন একশ কেজি ওজনের হাতুড়ি দিয়ে কেউ পিটাচ্ছে!
চোখ খুলতেই দেখলো রিশানের ঘুমন্ত চেহারা। কী অদ্ভুত শান্ত আর বাচ্চার মতো লাগছে মানুষটাকে! জাইরা কিছুক্ষণ সেই মুখের দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলো। সে উঠতে চাইল, কিন্তু পারলো না। রিশানের শক্ত দুই হাত তার কোমর এমনভাবে আঁকড়ে ধরে আছে যেন ছাড়লেই জাইরা মেঘের দেশে উড়ে যাবে!
জাইরা কোনোমতে নিজেকে ছাড়িয়ে উঠে দাঁড়ালো। ড্রয়িংরুমের অবস্থা দেখে তার আত্মা শুকিয়ে গেল। মনে হচ্ছে এখানে রাতে ডাইনোসরদের যুদ্ধ হয়েছে! জিসান টেবিলে নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে। জাইরা তড়িঘড়ি জিসানকে ডাকা শুরু করলো—
“ভাইয়া! এই জিসান! ওঠ নারে ভাই, সর্বনাশ হয়ে গেছে!”
“কী সমস্যা তোর? এই সাত সকালে কেন চিল্লাইতেছিস?” জিসান চোখ ডলতে ডলতে বললো।
“ওঠ নারে গাধা! দেখ তুই ঘুমাচ্ছিস কো...”
বাকিটুকু আর বলা হলো না, কলিং বেল বেজে উঠলো— ‘টিং টং!’
জিসানের ঘুম এবার রকেটের গতিতে পালালো। বড়রা ফিরে এসেছে! সে চটজলদি রিশানকে লাথি মেরে ঘুম থেকে তুললো আর জাইরাকে ইশারা করলো বোতল-গ্লাস লুকাতে। এরপর সে গিয়ে দরজা খুলতেই একটা মেয়ে সরাসরি তার বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ল!
জিসান একদম ‘স্ট্যাচু’ হয়ে গেল। তারপর নিজেকে সামলে ধাক্কা দিয়ে মেয়েটাকে সরিয়ে দিয়ে পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখলো। মেয়েটার পরনে ছোট এক চিলতে জামা। জিসান ভ্রু কুঁচকে বললো—
“তুমি কে গো মা? এই সাত সকালে এমন ‘আদগান’ জামা পরে আমাদের বাড়িতে কী করছো? আমার বাবা কি আমাদের না জানিয়ে তোমায় বিয়ে করে এনেছে? যদি করেও থাকে, আমি তোমায় মা বলে মানবো না। বের হও বাড়ি থেকে!”
“রিশান! তুমি আমার সাথে এমন বিহেভ কেন করছো? আমি কিন্তু পাপা-কে বলে দেব!” মেয়েটা ন্যাকা সুরে বললো।
জিসান বিরক্তিতে নাক কুঁচকালো।
“মা! আমি তোমার রিশান বাবাজি নই। আর আমার সাথে এমন ‘ডলাডলি’ করতে এসো না। আমার ওপর শুধু আমার হবু বউয়ের হক! বুঝলা মা?”
মেয়েটি কিছু বলার আগেই পেছন থেকে রিশানের কণ্ঠ শোনা গেল—
“সামিরা! তুমি এখানে কী করছো?”
সামিরার চোয়াল ঝুলে গেল। হুবহু এক চেহারার দুইজন মানুষ! সে জিসানের দিকে তাকিয়ে তোতলাতে লাগলো— “তু-তুমি রিশান নও?”
“তোমার কি চোখে ছানি পড়েছো নাকি? ওই যে তোমার রিশান দাঁড়িয়ে আছে।” জিসান বিরক্ত হয়ে রিশানের দিকে তাকালো।
“এই ‘গায়ে পড়া’ মেয়েটার সাথে তোর কী সম্পর্ক?”
“ভার্সিটির লেকচারারের মেয়ে।” রিশান ধমকের সুরে সামিরাকে বললো— “সামিরা, এনসার মি! তুমি এখানে কেন?”
সামিরা এবার ঠোঁট উল্টে কাঁদতে শুরু করলো— “তুমি আমার সাথে এভাবে কথা বলছো রিশু? আমি পাপাকে ছেড়ে তোমার কাছে চলে এসেছি!”
জাইরা এতক্ষণে সব গুছিয়ে এসে দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে মেয়েটার নাটক দেখছে। ‘রিশু’! কত বড় সাহস! নামটাকে তো গুলিয়ে একদম শরবত বানিয়ে ফেলেছে । রিশানের মেজাজ এবার চড়মে।
“সব ছেড়ে আমার কাছে এসেছো মানে? আমি কি তোমার কেউ লাগি?” রিশান গর্জে উঠলো।
“রিশু, আই লাভ ইউ! আমি জানি তুমিও আমায় ভালোবাসো। তাই আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই!”
রিশান, জিসান আর জাইরা—তিনজনই একসাথে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল। রিশান করুণ চোখে জাইরা জিসানের দিকে তাকালো, যেন বাঁচানোর আকুতি জানাচ্ছে। ওরা চোখ বন্ধ করে আশ্বাস দিলো ।
জাইরা এসে খপ করে রিশানের হাত ধরে ওর কাঁধে মাথা রেখে সামিরার দিকে ত্যাড়াব্যাঁকা চোখে তাকালো। সামিরা তো রাগে আর বিস্ময়ে একদম স্ট্যাচু! রিশান প্রথমে একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেলেও মুহূর্তেই পরিস্থিতি নিজের আয়ত্তে নিয়ে নিল। সে ঠিক করেছে—এই গাম্ভীর্যের মুখোশ আর কতদিন? সবাই তো তাকে এমনিতেই ‘ইন্ট্রোভার্ট’ বলে অপবাদ দেয়। আজ থেকে বরং জাইরার এই ‘গেম’-এ সে হবে ক্যাপ্টেন!
রিশান এক ঝটকায় নিজের হাত দিয়ে জাইরার কোমর জড়িয়ে ধরল। জাইরা মনে মনে বিষম খেলেও বাইরে ‘বউ’ সেজে রইল। রিশান অন্য হাত দিয়ে জাইরার সেই কালকের নাচের পর উস্কোখুস্কো হয়ে থাকা অগোছালো চুলগুলো কানের পিছে খুব যত্নে গুজে দিয়ে একদম মায়া মাখানো ফিসফিসানি গলায় বলল—
“সরি জান! আসলে কাল রাতে তোমার উপর যে ধকল গেছে। আমি সামিরাকে বিদায় দিচ্ছি, তুমি বরং রুমে ফ্রেশ হয়ে rest নাও তো লক্ষ্মীটি!”
রিশানের এই ‘জান’ ডাক আর ডলাডলি দেখে জাইরার কলিজা গলার কাছে চলে এল। সে মনে মনে ভাবল, ‘এই লম্বুটা তো দেখি আমার চেয়েও দশ কাঠি উপরে! এ তো দেখি পুরাই প্রো-প্লেয়ার!’
সামিরা এবার চিৎকার করে উঠল—
“রিশান! তুমি ওকে জান বলছো? আর ওর চুল... ওর কাপড় এমন অগোছালো কেন? তোমরা কি... তোমরা কি সত্যিই...?”
জাইরা এবার একটা শয়তানি হাসি দিল। সে রিশানের টি-শার্টের কলারটা একটু ঠিক করে দেওয়ার ভান করে সামিরার দিকে তাকিয়ে তেরছা গলায় বলল—
“আরে মা সামিরা! তুমি কি অন্ধ? এই যে আমার চুলের এই অবস্থা, আর রিশানের এই ঘাম—এগুলো কি এমনি এমনি? আমরা তো কাল রাতেই আমাদের ‘বাসর রাত’ গ্র্যান্ডলি সেলিব্রেট করেছি! এখন তো শুধু আমাদের ফিউচার বেবির নাম রাখা বাকি। তুমি কি নাম রাখতে সাহায্য করতে চাও?”
জিসান এবার সাইড থেকে ফোড়ন কাটল—
“ঠিক বলেছিস জাইরা! এই মেয়েটা তো দেখি একদম ‘ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট’ না পাঠিয়েই ডিরেক্ট inbox এ ঢুকে পড়ছে। মা! তুমি বরং বাড়ির রাস্তা ধরো। আমার ভাই-ভাবি এখন আবার একটু কোয়ালিটি টাইম কাটাবে!”
সামিরা এবার কান্নাভেজা স্বরে রিশানের দিকে তাকাল—
“রিশান! ও কি সত্যি বলছে? তোমরা কি বিয়ে করে ফেলেছো?”
রিশান এবার জাইরাকে নিজের আরও কাছে টেনে নিয়ে ওর নাকের সাথে নিজের নাক ঠেকিয়ে একটা হালকা ফ্লার্টিং লুক দিল। তারপর সামিরাকে উদ্দেশ্য করে বলল—
“সামিরা! জাইরা যা বলছে সবই সত্যি। আমরা এখন ম্যারিড কাপল। আর এই যে কাল রাতে জাইরা আমার যে অবস্থা করেছে... উফ! ও তো খুব রাগী বউ। তাই দয়া করে এখান থেকে যাও, নইলে ও কিন্তু তোমার ওই আদগান জামা ছিঁড়ে ময়দার বস্তা বানিয়ে ফেলবে!”
বাসর রাত আর বিয়ের কথা শোনার সাথে সাথে সামিরার মনে হলো ওর মাথায় দশ তলা বাড়ি ভেঙে পড়েছে। রিশানের উস্কোখুস্কো চুল আর জাইরার এই কনফিডেন্স দেখে ওর আর কোনো সন্দেহ রইল না।
“ওহ মাই গড! রিশান ইউ চিটার! বাসর রাতের জন্য শেষ পর্যন্ত এই ডাইনিটাকে পেলে?” বলে চিৎকার করতে করতে সামিরা সদর দরজা দিয়ে এক দৌড়ে বেরিয়ে গেল।
সামিরা চোখের আড়াল হতেই জাইরা ঝট করে রিশানের হাত ছেড়ে দিয়ে তিন হাত দূরে সরে দাঁড়াল। জাইরা হাপাতে হাপাতে বলল—
“রিশান ভাই! তুমি তো দেখি পুরাই ভণ্ড হয়ে গেছো! জান-টান বলে তো আমার হার্টবিটই বন্ধ করে দিচ্ছিলে!”
রিশান এবার আর গম্ভীর হলো না। সে বাঁকা হাসি দিয়ে জাইরার দিকে এক পা এগিয়ে এসে বলল—
“ভণ্ডামি তো কেবল শুরু জাইরা! তুই তো নিজেই বাসর রাতের অফার দিলি। তো অফার যখন দিয়েছিস, তখন একটু অ্যাক্টিং না করলে কি মানায়? তবে তোর চুলের এই ‘পাখির বাসা’ লুকটা বাসর রাতের গল্পের সাথে একদম perfect ছিল!”
জিসান তখনো মেঝেতে গড়াগড়ি খাচ্ছে আর হাসছে—
“ওরে বাপরে! তোদের এই ‘পারফরম্যান্স’ দেখে তো আমারই মনে হচ্ছিল তোরা সত্যিই বাসর করে ফেলেছিস! বাসর রাতের কথা শুনে সামিরার মুখটা যা হয়েছিল না... মনে হচ্ছিল ও এখনই পরপারে চলে যাবে!”
জাইরা লজ্জা আর বিরক্তি নিয়ে জিসানকে একটা লাথি মারল। রিশান এবার জাইরার দিকে তাকিয়ে চোখ মারল—যা দেখে জাইরা পুরাই থতমত খেয়ে গেল। সে বুঝতে পারল, এই গম্ভীর গরু নিজের গুরু গম্ভীর ক্যারেক্টার ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে । রিশানের চোখেমুখে এখন জাইরাকে জ্বালানোর এক পৈশাচিক আনন্দ খেলা করছে!
ঠিক তখনই কলিং বেলটা আবার বেজে উঠল। এবার কিন্তু রিয়েল ডেঞ্জার! বড়রা ফিরে এসেছেন। জিসান এক লাফে উঠে বলল—
“সর্বনাশ! এবার কিন্তু বাসর রাত না, আমাদের একদম কবরের রাত শুরু হবে যদি বড়রা এই ড্রয়িংরুমের অবস্থা দেখে! তাড়াতাড়ি সব পরিষ্কার কর!”
তিনজন মিলে হন্তদন্ত হয়ে ওড়না, বোতল আর নুডলসের বাটি সরাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। রিশান নুডলসের বাটিটা সরাতে সরাতে আড়চোখে জাইরাকে দেখে ভাবল— ‘জাইরাকে জ্বালাতে ভালোই লাগে , এটাকে অভ্যাসে পরিণত করলে খারাপ হয় না ! ’
চলবে...?
#bangla_story #funny #uponnash