(🚫প্রাপ্তবয়স্ক ও মুক্তমনাদের জন্য উন্মুক্ত)
#বসন্তের_প্রথম_প্রেম
#লেখনীতে_আইজা
পর্ব ১৩
❌ কপি করা নিষিদ্ধ ❌
**********************
—“ উমম! সো সফট ! ”
ঘুমের মধ্যে বু কে কারো স্প র্শ পেয়ে ধরফিয়ে উঠে বসতে চাইল জাইরা , কিন্তু পারলো না । চোখ মেলে রিশানকে দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লো । রিশান এখানে কি করছে ? ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রিশানের দুই হাতের অবস্থান দেখে চোখ বড় বড় করে ফেললো । তার শার্ট কোথায় ? আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো অদূরে শার্ট আর ই না র রাখা ।
—“ এসব কি করছো তুমি? ”
রিশান নিজের কাজে অব্যাহত থেকেই হাস্কি স্বরে বললো ,
—“ আদর করছি । ”
জাইরা ক্লান্তির নিঃশ্বাস ফেলল । মিনমিন করে বললো ,
—“ রিশান ভাই আমি অনেক ক্লান্ত , এখন না প্লিজ । ”
রিশান জানে জাইরা ক্লান্ত । তাই সে আসতে ও চাইছিলো না। কিন্তু কি করার ! রিশান আকুতি ভরা কন্ঠে বললো ,
—“ প্লিজ পাখি । আমি জানি তুমি ক্লান্ত , কিন্তু আমি মরে যাচ্ছি দেখো । প্লিজ অরা । ”
জাইরা দেখলো রিশান কেমন ছটফট করছে । এই এসির ঠাণ্ডা হাওয়ার মধ্যে ও সে দরদর করে ঘামছে । জাইরা বুঝল ! নীরবে সম্মতি দিলো ।
রিশান যেন এটারই অপেক্ষায় ছিলো । সে হামলে পড়লো জাইরার ঠোঁ টে । ও ষ্ঠা ধ র শু ষে নিতে লাগলো ।
—“ জিহ্বা বের করো । ”
রিশানের কথা মতো জাইরা জি হ্বা বের করলো । রিশান সেটা চু ষ তে লাগলো । জাইরা চোখ বন্ধ করে রেখেছে । এতো কিছু হওয়ার পর ও তার ল জ্জা লাগছে । রিশান জি হ্বা ছেড়ে দিয়ে ঘোর লাগা কন্ঠে বললো ,
—“ পাখি ! ”
—“ হুম । ”
—“ আর ইউ রেডি ? ”
—“ উমম! ”
ব্যাস আর কোনো কথা হলো না । নিস্তব্ধ রুমটা নিঃশ্বাসের শব্দে ভারি হয়ে উঠলো । জাইরা ছটফট করছে ! চোখ থেকে দু ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়লো । প্রায় দেড় ঘন্টা হয়ে গেছে । রিশানের ছাড়ার নাম নেই । জাইরার নিঃশ্বাস নিতে ক ষ্ট হচ্ছে এখন ।
সে কাঁপা কাঁপা গলায় বললো ,
—“ র.রি.শান আ.র পা.রছি ন.না । ”
রিশান চরম পর্যায়ে আছে । এই সময় ছেড়ে দেয়ার প্রশ্নই আসে না ।
—“ আরেকটু!! ”
জাইরা ছাড়া পাওয়ার জন্য ছটফট করছে । রিশান নিজের কাজ অব্যাহত রেখেই জাইরার ঠোঁ টে ঠোঁ ট চেপে ধরল । হাত চলে গেল ব ক্ষ স্থ লে । যেন জাইরা'কে ঠান্ডা করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ।
জাইরার চোখ যখন একদম বুজে আসছে তখন রিশান জাইরাকে শক্ত হয়ে জড়িয়ে ধরলো । তীব্র এক ধাক্কা দিয়ে সে জাইরা'র বু কের উপর শুয়ে পড়ল । জাইরা'কে জড়িয়ে ধরে বু কে মুখ ডু বি য়ে রাখলো । জাইরা দুর্বল হাত তার মাথায় বুলিয়ে দিতে লাগলো ।
********************
—“ এই জাইরা ১০ টা বেজে গেছে আর কতো ঘুমাবি?? ”
জাইমা বেগম হাক ছেড়ে ডাকছেন আর দরজা ধাক্কাচ্ছেন । রিশানের ঘুম আলগা হয়ে গেল তাতে । জাইরা এখনো ঘুমাচ্ছে । মেয়েটা একদম বিছানার সাথে মিশে আছে । জাইরার মাথায় হাত বুলিয়ে চুমু খেয়ে উঠে পড়ল । গায়ে শার্ট জড়িয়ে দরজার দিকে এগিয়ে গেল । নয়তো মহিলা বোধহয় দরজা ভেঙেই ফেলবেন । দরজা খোলার সাথে সাথে জাইরাকে দু ঘাঁ বসাবেন তার জন্য এগিয়ে যেতেই রিশানকে দেখে মহিলা হতবাক হয়ে গেলেন । বাকরুদ্ধ তিনি তো ভুলেই গিয়েছিলেন যে জাইরা বিবাহিতা ।
—“ জাইরা ঘুমাচ্ছে ওকে উঠানোর দরকার নেই । ”
রিশান গম্ভীর মুখে বললো । সেতু বেগম বোকা হাসি দিয়ে বললেন ,
—“ আচ্ছা তুই খেতে আয় । ”
—“ না জাইরা উঠুক তারপর.....”
—“ আচ্ছা । ”
তিনি যেতে নিলে রিশান ফের ডাকলো ,
—“ ছোট মা। ”
—“ বল । ”
—“ এরপর থেকে জাইরার গায়ে হাত তুলবে না । ও এখন আমার বউ ! সো ওর শরীরে যেন ফুলের টোকা ও না লাগে । ”
সেতু বেগম আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়লেন , রিশানের ভালোবাসা দেখে । তিনি মুচকি হেসে 'আচ্ছা' বলে চলে গেলেন । রিশান দরজা আঁটকে জাইরার কাছে গেল । কপালে হাত দিয়ে বুজলো জ্বর এসেছে । সে কিছুক্ষণ জলপট্টি দিলো ।
প্রায় সাড়ে ১১ টার দিকে জাইরা পিটপিট করে চোখ খুললো । চোখ মেলে তাকাতেই রিশানের অবয়ব ভেসে উঠলো । রিশান চিন্তিত হয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে ।
—“ কি হয়েছে? ”
—“ জ্বর ! ”
—“ তোমার জ্বর এসেছে? ”
বলেই রিশানের কপালে হাত দেয়ার জন্য উঠতে চাইলো , কিন্তু ব্যথায় জর্জরিত শরীর নিয়ে একচুলও নড়তে পারলো না । উল্টো নড়তে গিয়ে চোখের কোণে পানি জমলো ।
—“ আমার না তোমার জ্বর এসেছে ! ”
রিশান ঠোঁট নাড়িয়ে শুধালো । তারই এখন কান্না পাচ্ছে! তার জন্য জাইরার এই হাল হয়েছে । সে ঠোঁট উল্টে আর কিছু না বলে জাইরাকে জড়িয়ে শুয়ে পড়ল । মাথা রাখলো জাইরার বুকে । একদম বাচ্চাদের মতো করে ! জাইরা যদিও রিশানের এহেন কাজে আরো ব্যাথা পেলো কিন্তু সেটা প্রকাশ করলো না সে । ঠোঁট চেপে চোখ বুজে গিলে নিলো । সে ও রিশানকে হালকা ভাবে জড়িয়ে ধরলো ।
—“ আই'ম সরি অরাপাখি । আমার তখন থেমে যাওয়া উচিত ছিল ! বিশ্বাস করো আমি বুঝতে পারি নি , সো সরি !! ”
—“ ইটস ওকে জান ! ”
রিশান শেষের কথা টুকুতে খেয়াল না দিয়ে বলতে লাগলো ,
—“ ইটস নট ও........”
কিছু একটা মনে পড়তেই সে জাইরা'র দিকে তাকালো । জাইরা হাসছে !
—“ কি বললে তুমি এই মাত্র? ”
—“ বললাম ইটস ওকে! ”
—“ তারপর? ”
—“ উমম তারপর তো আর কিছু বলি নি। ”
—“ প্লিজ বলো না পাখি !! ”
—“ বলেছি ইটস ওকে জান ! ”
—“ আবার বলো । ”
—“ জান!!! ”
রিশান হেসে জাইরাকে পুনরায় জড়িয়ে ধরলো । জাইরা ও হাসলো ।
—“ পাখি? ”
—“ হুঁ ! ”
—“ ভালোবাসি....”
—“ আমিও ভালোবাসি। ”
.
.
.
তারেক রহমান ও জিয়াউর রহমান তাদের স্ত্রীদের নিয়ে সাদাদ সাহেবের বাড়িতে এসেছেন । অবশ্য মেয়ে তো তাদের দেখাই তাও ফর্মালিটির জন্য এসেছেন । ইতোমধ্যে দিনক্ষণ পাকা ও করে ফেলেছেন , এক ছাদনাতলায় দুটো বিয়ে হবে একটা #রিশঅরা অন্যটা জিসান-আলিজা । হলুদ , মেহেন্দি , সংগীত সবকিছুই দুই দম্পতির একসাথে হবে বলে ঠিক করা হয়েছে ।
.
.
.
বিকাল সাড়ে পাঁচটা ,
রিশান জাইরাকে সুপ খাইয়ে দিচ্ছে । গ্রামে যাওয়ার প্ল্যান ক্যান্সেল করেছে রিশান , জাইরা অবশ্য এই অবস্থায়ই যেতে চেয়েছিল । রিশান না করে দিয়েছে । অগত্যা সে ঠোঁট ফুলিয়ে শুধু খেয়েই যাচ্ছে । রিশানের সাথে কথা পর্যন্ত বলছে না । রিশান হাজার ভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে কিন্তু লাভ হচ্ছে না ।
—“ বলেছি তো বিয়ের পরে নিয়ে যাবো কথা বলো না প্লিজ !! ”
—“.........”
—“ এই পাখি? ”
—“ অরাপাখি? কথা বলো প্লিজ । ”
নাহ !! জাইরা মুখে কুলুপ এঁটে বসে রইল । একটি কথাও তার মুখ থেকে বের হলো না ।
—“ কথা বলবি না তুই? ”
রাগে গজগজ করতে করতে বললো রিশান । তাও রেসপন্স পেলো না ।
—“ অনেক দিন বেতের বারি খাস না । তোর জন্য বানানো বেতটা পরিষ্কার করে নিয়ে আসি , এতো দিনে বোধহয় ময়লা পড়ে গেছে । ”
রিশানের বলতে দেরী কিন্তু জাইরার ভ্যা ভ্যা করে কাঁদতে দেরী হলো না ।
—“ তুমি আমাকে মারবে? ”
—“ তো কথা বলছিস না কেন? ”
জাইরা জবাব দিলো না , কেঁদেই চললো । রিশান দীর্ঘশ্বাস ফেলে তার কান্না থামাতে লাগলো ।
চলবে.......
(নোট : কিছু সমস্যার কারণে রেগুলার হতে পারছি না । এমনিতেই আমার বাংলা টাইপিং অনেক স্লো ! তাই যেটুকু সময় পাই তার মধ্যে বেশি লেখা সম্ভব না । আর হ্যাঁ কালকে গল্প আসবে না । পরশু দিন একসাথে বড় একটা পর্ব দিবো ইনশাল্লাহ । ❤️ বাই দা রাস্তা , নেক্সট পর্বে ফাইনালি সিঙ্গেল জিসান মিঙ্গেল হতে যাচ্ছে । 🐸)