ফন্ট সাইজ:
থিম:
বসন্তের প্রথম প্রেম

১৪তম পর্ব

লেখক: আইজা রহমান

(🚫প্রাপ্তবয়স্ক ও মুক্তমনাদের জন্য উন্মুক্ত)

#বসন্তের_প্রথম_প্রেম

#লেখনীতে_আইজা

পর্ব ১৩

❌ কপি করা নিষিদ্ধ ❌

**********************

—“ উমম! সো সফট ! ”

ঘুমের মধ্যে বু কে কারো স্প র্শ পেয়ে ধরফিয়ে উঠে বসতে চাইল জাইরা , কিন্তু পারলো না । চোখ মেলে রিশানকে দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লো । রিশান এখানে কি করছে ? ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রিশানের দুই হাতের অবস্থান দেখে চোখ বড় বড় করে ফেললো । তার শার্ট কোথায় ? আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো অদূরে শার্ট আর ই না র রাখা ।

—“ এসব কি করছো তুমি? ”

রিশান নিজের কাজে অব্যাহত থেকেই হাস্কি স্বরে বললো ,

—“ আদর করছি । ”

জাইরা ক্লান্তির নিঃশ্বাস ফেলল ‌। মিনমিন করে বললো ,

—“ রিশান ভাই আমি অনেক ক্লান্ত , এখন না প্লিজ । ”

রিশান জানে জাইরা ক্লান্ত । তাই সে আসতে ও চাইছিলো না। কিন্তু কি করার ! রিশান আকুতি ভরা কন্ঠে বললো ,

—“ প্লিজ পাখি । আমি জানি তুমি ক্লান্ত , কিন্তু আমি মরে যাচ্ছি দেখো । প্লিজ অরা । ”

জাইরা দেখলো রিশান কেমন ছটফট করছে । এই এসির ঠাণ্ডা হাওয়ার মধ্যে ও সে দরদর করে ঘামছে । জাইরা বুঝল ! নীরবে সম্মতি দিলো ।

রিশান যেন এটারই অপেক্ষায় ছিলো । সে হামলে পড়লো জাইরার ঠোঁ টে । ও ষ্ঠা ধ র শু ষে নিতে লাগলো ।

—“ জিহ্বা বের করো । ”

রিশানের কথা মতো জাইরা জি হ্বা বের করলো । রিশান সেটা চু ষ তে লাগলো । জাইরা চোখ বন্ধ করে রেখেছে । এতো কিছু হওয়ার পর ও তার ল জ্জা লাগছে । রিশান জি হ্বা ছেড়ে দিয়ে ঘোর লাগা কন্ঠে বললো ,

—“ পাখি ! ”

—“ হুম । ”

—“ আর ইউ রেডি ? ”

—“ উমম! ”

ব্যাস আর কোনো কথা হলো না । নিস্তব্ধ রুমটা নিঃশ্বাসের শব্দে ভারি হয়ে উঠলো । জাইরা ছটফট করছে ! চোখ থেকে দু ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়লো । প্রায় দেড় ঘন্টা হয়ে গেছে । রিশানের ছাড়ার নাম নেই । জাইরার নিঃশ্বাস নিতে ক ষ্ট হচ্ছে এখন ।

সে কাঁপা কাঁপা গলায় বললো ,

—“ র.রি.শান আ.র পা.রছি ন.না । ”

রিশান চরম পর্যায়ে আছে । এই সময় ছেড়ে দেয়ার প্রশ্নই আসে না ।

—“ আরেকটু!! ”

জাইরা ছাড়া পাওয়ার জন্য ছটফট করছে । রিশান নিজের কাজ অব্যাহত রেখেই জাইরার ঠোঁ টে ঠোঁ ট চেপে ধরল । হাত চলে গেল ব ক্ষ স্থ লে । যেন জাইরা'কে ঠান্ডা করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ।

জাইরার চোখ যখন একদম বুজে আসছে তখন রিশান জাইরাকে শক্ত হয়ে জড়িয়ে ধরলো । তীব্র এক ধাক্কা দিয়ে সে জাইরা'র বু কের উপর শুয়ে পড়ল । জাইরা'কে জড়িয়ে ধরে বু কে মুখ ডু বি য়ে রাখলো । জাইরা দুর্বল হাত তার মাথায় বুলিয়ে দিতে লাগলো ।

********************

—“ এই জাইরা ১০ টা বেজে গেছে আর কতো ঘুমাবি?? ”

জাইমা বেগম হাক ছেড়ে ডাকছেন আর দরজা ধাক্কাচ্ছেন । রিশানের ঘুম আলগা হয়ে গেল তাতে । জাইরা এখনো ঘুমাচ্ছে । মেয়েটা একদম বিছানার সাথে মিশে আছে । জাইরার মাথায় হাত বুলিয়ে চুমু খেয়ে উঠে পড়ল । গায়ে শার্ট জড়িয়ে দরজার দিকে এগিয়ে গেল । নয়তো মহিলা বোধহয় দরজা ভেঙেই ফেলবেন । দরজা খোলার সাথে সাথে জাইরাকে দু ঘাঁ বসাবেন তার জন্য এগিয়ে যেতেই রিশানকে দেখে মহিলা হতবাক হয়ে গেলেন । বাকরুদ্ধ তিনি তো ভুলেই গিয়েছিলেন যে জাইরা বিবাহিতা ।

—“ জাইরা ঘুমাচ্ছে ওকে উঠানোর দরকার নেই । ”

রিশান গম্ভীর মুখে বললো । সেতু বেগম বোকা হাসি দিয়ে বললেন ,

—“ আচ্ছা তুই খেতে আয় । ”

—“ না জাইরা উঠুক তারপর.....”

—“ আচ্ছা । ”

তিনি যেতে নিলে রিশান ফের ডাকলো ,

—“ ছোট মা। ”

—“ বল । ”

—“ এরপর থেকে জাইরার গায়ে হাত তুলবে না । ও এখন আমার বউ ! সো ওর শরীরে যেন ফুলের টোকা ও না লাগে । ”

সেতু বেগম আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়লেন , রিশানের ভালোবাসা দেখে । তিনি মুচকি হেসে 'আচ্ছা' বলে চলে গেলেন । রিশান দরজা আঁটকে জাইরার কাছে গেল । কপালে হাত দিয়ে বুজলো জ্বর এসেছে । সে কিছুক্ষণ জলপট্টি দিলো ।

প্রায় সাড়ে ১১ টার দিকে জাইরা পিটপিট করে চোখ খুললো । চোখ মেলে তাকাতেই রিশানের অবয়ব ভেসে উঠলো । রিশান চিন্তিত হয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে ।

—“ কি হয়েছে? ”

—“ জ্বর ! ”

—“ তোমার জ্বর এসেছে? ”

বলেই রিশানের কপালে হাত দেয়ার জন্য উঠতে চাইলো , কিন্তু ব্যথায় জর্জরিত শরীর নিয়ে একচুলও নড়তে পারলো না । উল্টো নড়তে গিয়ে চোখের কোণে পানি জমলো ।

—“ আমার না তোমার জ্বর এসেছে ! ”

রিশান ঠোঁট নাড়িয়ে শুধালো । তারই এখন কান্না পাচ্ছে! তার জন্য জাইরার এই হাল হয়েছে । সে ঠোঁট উল্টে আর কিছু না বলে জাইরাকে জড়িয়ে শুয়ে পড়ল । মাথা রাখলো জাইরার বুকে । একদম বাচ্চাদের মতো করে ! জাইরা যদিও রিশানের এহেন কাজে আরো ব্যাথা পেলো কিন্তু সেটা প্রকাশ করলো না সে ‌। ঠোঁট চেপে চোখ বুজে গিলে নিলো । সে ও রিশানকে হালকা ভাবে জড়িয়ে ধরলো ।

—“ আই'ম সরি অরাপাখি ‌। আমার তখন থেমে যাওয়া উচিত ছিল ! বিশ্বাস করো আমি বুঝতে পারি নি , সো সরি !! ”

—“ ইটস ওকে জান ! ”

রিশান শেষের কথা টুকুতে খেয়াল না দিয়ে বলতে লাগলো ,

—“ ইটস নট ও........”

কিছু একটা মনে পড়তেই সে জাইরা'র দিকে তাকালো । জাইরা হাসছে !

—“ কি বললে তুমি এই মাত্র? ”

—“ বললাম ইটস ওকে! ”

—“ তারপর? ”

—“ উমম তারপর তো আর কিছু বলি নি। ”

—“ প্লিজ বলো না পাখি !! ”

—“ বলেছি ইটস ওকে জান ! ”

—“ আবার বলো । ”

—“ জান!!! ”

রিশান হেসে জাইরাকে পুনরায় জড়িয়ে ধরলো । জাইরা ও হাসলো ।

—“ পাখি? ”

—“ হুঁ ! ”

—“ ভালোবাসি....”

—“ আমিও ভালোবাসি। ”

.

.

.

তারেক রহমান ও জিয়াউর রহমান তাদের স্ত্রীদের নিয়ে সাদাদ সাহেবের বাড়িতে এসেছেন । অবশ্য মেয়ে তো তাদের দেখাই তাও ফর্মালিটির জন্য এসেছেন । ইতোমধ্যে দিনক্ষণ পাকা ও করে ফেলেছেন , এক ছাদনাতলায় দুটো বিয়ে হবে একটা #রিশঅরা অন্যটা জিসান-আলিজা । হলুদ , মেহেন্দি , সংগীত সবকিছুই দুই দম্পতির একসাথে হবে বলে ঠিক করা হয়েছে ।

.

.

.

বিকাল সাড়ে পাঁচটা ,

রিশান জাইরাকে সুপ খাইয়ে দিচ্ছে । গ্রামে যাওয়ার প্ল্যান ক্যান্সেল করেছে রিশান , জাইরা অবশ্য এই অবস্থায়ই যেতে চেয়েছিল । রিশান না করে দিয়েছে । অগত্যা সে ঠোঁট ফুলিয়ে শুধু খেয়েই যাচ্ছে । রিশানের সাথে কথা পর্যন্ত বলছে না । রিশান হাজার ভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে কিন্তু লাভ হচ্ছে না ।

—“ বলেছি তো বিয়ের পরে নিয়ে যাবো কথা বলো না প্লিজ !! ”

—“.........”

—“ এই পাখি? ”

—“ অরাপাখি? কথা বলো প্লিজ । ”

নাহ !! জাইরা মুখে কুলুপ এঁটে বসে রইল । একটি কথাও তার মুখ থেকে বের হলো না ।

—“ কথা বলবি না তুই? ”

রাগে গজগজ করতে করতে বললো রিশান । তাও রেসপন্স পেলো না ।

—“ অনেক দিন বেতের বারি খাস না । তোর জন্য বানানো বেতটা পরিষ্কার করে নিয়ে আসি , এতো দিনে বোধহয় ময়লা পড়ে গেছে । ”

রিশানের বলতে দেরী কিন্তু জাইরার ভ্যা ভ্যা করে কাঁদতে দেরী হলো না ।

—“ তুমি আমাকে মারবে? ”

—“ তো কথা বলছিস না কেন? ”

জাইরা জবাব দিলো না , কেঁদেই চললো । রিশান দীর্ঘশ্বাস ফেলে তার কান্না থামাতে লাগলো ।

চলবে.......

(নোট : কিছু সমস্যার কারণে রেগুলার হতে পারছি না । এমনিতেই আমার বাংলা টাইপিং অনেক স্লো ! তাই যেটুকু সময় পাই তার মধ্যে বেশি লেখা সম্ভব না । আর হ্যাঁ কালকে গল্প আসবে না । পরশু দিন একসাথে বড় একটা পর্ব দিবো ইনশাল্লাহ । ❤️ বাই দা রাস্তা , নেক্সট পর্বে ফাইনালি সিঙ্গেল জিসান মিঙ্গেল হতে যাচ্ছে । 🐸)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন