ফন্ট সাইজ:
থিম:
বসন্তের প্রথম প্রেম

১৩তম পর্ব

লেখক: আইজা রহমান

(🚫রোমান্টিক গল্প যাদের পছন্দ নয় তাঁরা স্কিপ করবেন ।)

#বসন্তের_প্রথম_প্রেম

#লেখনীতে_আইজা

পর্ব ১২

(❌ কপি করা নিষিদ্ধ❌)

—“ জিসানের জন্য আলিজা'কে আনলে কেমন হয় সেতু? ”

তারেক রহমানের কথায় ভ্রু কুঁচকে তাকালেন সেতু বেগম আলিজা ! তার ভাইয়ের মেয়ে ? জিসানের জন্য ?

—“ জিসানের মতো বাদড় ছেলেকে বিয়ে করতে রাজি হবে আলিজা ? ”

—“ কথা বলে দেখতে তো পারি । ”

—“ আচ্ছা দেখো । ”

.

.

—“‌ আলিজা'কে আমার ছোট ছেলের জন্য নিতে চাই , যদি তোমার আপত্তি না থাকে ! ”

তারেক রহমানের কথায় ভীষণ অবাক হলেন সাদাদ সাহেব । মূলত তাকে তারেক রহমান একটা ক্যাফেতে আসতে বলেছিল , জরুরী কথা আছে নাকি । সেই সুবাদেই এসেছেন তিনি । এসে বসতে না বসতেই এমন কথায় অবাক হলেন বটে । কিন্তু সেটা গিলে নিলেন ।

—“ ওর পড়াশোনা ? ”

—“ আমরা ২০২৬ সালে আছি , এখন পড়াশোনা নিয়ে আলাপ করা অহেতুক কথা ছাড়া কিছু নয় । ”

—“ তা ঠিক কিন্তু আলিজা রাজি না হলে আমি এগোতে পারবো না । ”

—“ এর মানে তুমি রাজি? ”

—“ হ্যাঁ । জিসান ভালো ছেলে , একটু বাদড় টাইপ but এতে আমার problem নেই । ”

—“ Ok আলিজার সাথে কথা বলে আমাকে জানিও । ”

—“ কিন্তু এতো তাড়াহুড়ো কেন? ”

—“ আর বলো না । রিশানের সাথে তার ও বিয়ে হওয়া চাই নাহলে নাকি অনশন করবে , যে ছেলে করতে ও পারে । ”

সাদাদ সাহেব হেসে ফেললেন । কফিতে চুমুক দিতে দিতে বললেন ,

—“ আচ্ছা আজকে গিয়েই কথা বলবো । ”

—“ এখন উঠি । বিয়ের অনেক তোরজোর করতে হবে । অনেক ঝামেলা Tension এ আছি অনেক । ”

—“ বেশি টেনশন নিয়েন না । সব ভালোয় ভালোয় হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ । ”

—“ ইনশাল্লাহ ! ”

.

.

.

আলিজা জাইরা এক ক্লাসেই পড়ে তবে আলিজা বেশ শান্তশিষ্ট । সারাদিন বইয়ে মগ্ন থাকে ‌। এইযে এখনো সে বই নিয়ে পড়ে আছে । হঠাৎ দরজা খোলার আওয়াজে সে ঘুরে তাকালো । বাবা এসেছে ! চশমাটা ঠিক করে নিল হাতের সাহায্যে ।

—“ কি করছিস মা ? ”

—“ এইতো বাবা পড়ছিলাম একটু । ”

সাদাদ সাহেব মুচকি হেসে আলিজার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললেন ,

—“ আচ্ছা মা , তোর কি কোনো পছন্দ আছে ? ”

—“ পছন্দ মানে? বুঝলাম না ঠিক ! ”

—“ মানে তোর পছন্দের কেউ আছে কি? ভালোবাসিস কাউকে? ”

—“ না বাবা , কিন্তু কেন বলো তো ! ”

—“ তোর আঙ্কেল বললো জিসানের জন্য তোকে নিতে চায় । ”

—“ জিসান ভাইয়া । ”

—“ হ্যাঁ কোনো সমস্যা আছে কি? ”

—“ না বাবা তবে পড়াশোনা ? ”

—“ সমস্যা নেই তো । ওখানে বসে পড়াশোনা করবি । ”

—“ ওহ! ”

—“ তাহলে তুই রাজি? ”

—“ তোমরা যাতে খুশি আমি সেটাই করব । ”

মিষ্টি হাসি উপহার দিলো আলিজা । সাদাদ সাহেবের বুকে প্রশান্তির স্রোত বয়ে গেল ‌। মেয়েকে যথেষ্ট শাসণে বড়ো করেছেন তিনি । আবার খুব ভালো ও বাসেন । জিসানকে মেয়ে জামাই করতে পারলে সে খুশিই হবেন ‌। বোনকে ওই পরিবারে বিয়ে দিয়েছিলেন কিনা ! কখনো শশুর বাড়ী সম্পর্কে খারাপ কিছু শোনেনি বোনের মুখে । তারা নাকি তাকে খুব ভালোবাসে । সাদাদ সাহেবের ও তাই মনে হয় , বিয়ের পর থেকে সে বোনকে সব সময়ই হাসিখুশি দেখেছেন । সেই পরিবারে মেয়ে দিতে তিনি দ্বিমত করবেন ? কখনোই না বরং নিশ্চিন্ত হতে পারবেন মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে ।

.

.

.

—“ আমরা কালকে গ্রামে যাচ্ছি । ”

—“ গ্রামে কেন? ”

—“ হানিমুনে যাবো । তোমার বউমার যেতে চেয়েছে । ”

তারেক রহমান পানি থেকে নিচ্ছিলেন । এমন কথা শুনে তিনি বেষম খেলেন । গলা খাঁকারি দিয়ে বললেন ,

—“ কিছু দিনের মধ্যে অনুষ্ঠান , তারপরে যেও । ”

—“ উহু ! বউ কালকে যেতে চেয়েছে মানে কালকেই যাবো । ”

দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন তারেক রহমান । তিনি তো ভুলেই গিয়েছিলেন , এই ছেলে কারো কথা শোনার মতো ছেলে নয় । জিয়াউর রহমান তাদের পাশেই বসে ছিলেন ‌। রিশান যে কারো কথা শোনে না সেটা সে জানেন , তাই ঘাটালেন না । তবে একটা জিনিস খুব ভালো লাগলো , ছেলেটা জাইরাকে নিয়ে কতটা পজেসিভ । তারেক রহমানের ডাকে সে আকাশকুসুম ভাবনা থেকে বেড়িয়ে এলেন ।

—“ হ্যাঁ ভাইয়া বলো । ”

—“ আলিজা'কে জিসানের জন্য আনতে চাচ্ছি , সকালেই সাদাদকে বলেছি । ”

—“ কেন ছেলে যদি অনশন করে সেই ভয়ে ? ”

মাঝখান থেকে ফোড়ন কাটল রিশান । তারেক রহমান রেগে তাকালেন । সেটা রিশানের উপর বেশি একটা প্রভাব ফেললো না , সে হাসতে হাসতে হেলে দুলে চলে গেল ।

—“ সাদাদ রাজি হয়েছে? ”

—“ হ্যাঁ । কিন্তু বলেছে আলিজা যদি রাজি না হয় তাহলে হবে না ‌ ”

—“ ওহ দেখো কি হয় । ”

তাদের কথার মাঝেই তারেক রহমানের ফোন বেজে উঠল । সাদাদ সাহেব কল করেছেন । তিনি রিসিভ করে কানে ধরলেন ,

—“ আসসালামু আলাইকুম ভাইয়া ।”

—“ ওয়ালাইকুমুস সালাম । বলো ! ”

—“ জ্বী আমাদের কোনো সমস্যা নেই । দিনক্ষণ পাকা করলেই হয় । ”

—“ আলহামদুলিল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ । কালকে আসি আমরা ? ”

—“ আচ্ছা ভাইয়া । ”

টুট!টুট!

—“ কি হয়েছে ভাইয়া? ”

—“ আলিজা রাজি হয়ে গেছে । ”

জিয়াউর রহমানের মুখে হাসি ফুটে উঠলো । হাসি মুখেই বললো ,

—“ আলহামদুলিল্লাহ! জাইমা মিষ্টি নিয়ে আসো তো । ”

ডাক ছেড়ে ডাকলেন তিনি । জাইমা বেগম দ্রুত পায়ে মিষ্টি নিয়ে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এলেন ।

—“‌কি হয়েছে? এতো খুশি যে আপনারা? কোনো সুসংবাদ নাকি? ”

—“ জিসানের জন্য পাত্রী পেয়েছি । ”

বাড়ির সবাই এলো মিষ্টি মুখ করলো জিসান ছাড়া । সকলেই খুশি । পাত্রী হিসেবে আলিজা'কে পেয়ে তো আরো খুশি । জিসান একটু ঘুমিয়েছিল , এতো চেঁচামেচিতে তার ঘুমের দফারফা হয়ে গেছে । সে চোখ কচলাতে কচলাতে নিচে নেমে অবাক ! সবাই একজন আরেকজনকে মিষ্টি খাওয়াচ্ছে । সে সিঙ্গেল থাকার যন্ত্রণায় ধুঁকে মরছে আর তার বাড়ির মানুষগুলো নেচেকুদে মিষ্টি গিলছে । মির-জাফর সবগুলা !! হাত পা ছুড়ে কাঁদতে ইচ্ছে করলো তার ।

—“ কি হয়েছে তোমাদের??”

—“ আরে বর জ্বী এসে গেছে । কনগ্রাচুলেশন ভাইয়া ! ”

—“ মানে বুঝলাম না ! ”

—“ উমম বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে । নটি বয়!! ”

জাইরা জিসানের কাঁদে হালকা ধাক্কা দিয়ে বললো । জিসান হ্যাবলার মতো তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ জাইরার কথাটা বোধগম্য হতেই সে একরকম চিৎকার দিয়ে উঠলো ,

—“ কিহহহহহহহহহ!!! ”

—“ কনগ্রাচুলেশন!!! ”

সবাই একসাথে বলে উঠল । জিসানের পুরো দুনিয়া ঘুরছে । সে কি খুশিতে পাগল হয়ে গেল নাকি ? আল্লাহ এতো খুশি ! তার চারপাশ ঘোলাটে হয়ে আসছে । ধপ করে সে নিচে পড়ে গেল ।

—“ আবার অজ্ঞান....? ”

সবাই একসাথে চিৎকার করে উঠল । রিশান হতাশার শ্বাস ফেলে বলল ,

—“ বেচারি আলিজার কপাল পুড়ল রে ! ”

.

.

.

জিসান চোখ খুলে নিজেকে হসপিটালের বেডে আবিষ্কার করলো । কেবিনে শুধু রিশান । জিসান অবুঝের মতো জিজ্ঞেস করলো ,

—“ আমি হসপিটালে কেন? ”

—“ ভ্রমণ করাতে নিয়ে এসেছি , কর ভ্রমণ! ”

তেতে উঠল রিশান । তিন তিন বার অজ্ঞান হওয়ার পর তাকে হসপিটালে আনা হয়েছে এখন বলে আমি এখানে কেন ? মানে কুচ ভি !!!

—“ বাসায় যাবি কখন? পার্টি করবো জীবনে প্রথম বিয়ে বলে কথা......”

সেই মুহূর্তে কেবিনে প্রবেশ করলেন ডক্টর । ভড়কে গেলেন তিনি । এ কেমন পেশেন্ট ?? তিনি নিজেকে সামলে রিশানকে বললেন ,

—“ অতিরিক্ত খুশিতে উনি অজ্ঞান হয়ে গেছেন চিন্তার কোন কারন নেই । ”

—“ আচ্ছা থ্যাংকস ডক্টর ! ”

—“ মাই প্লেজার ! ”

ডক্টর চলে গেলেন । জিসান উশখুশ করছে । শেষমেষ না পেরে বললো ,

—“ আচ্ছা পাত্রী কে রে? ”

—“ আলিজা ! ”

—“ ওই চাসমিসটা? ছোট বেলায় চশমা পড়ে বই নিয়ে ঘুরতো সারাক্ষণ । ”

—“ এখনো ঘোরে । ”

—“ আমার সাথে যায় এমন কাউকে পেল না ? ”

বড্ডো দুঃখ প্রকাশ করলো সে । রিশান বিরক্ত হলো ।

—“ আলিজা যথেষ্ট ভালো মেয়ে । দেখতেও ভালোই তো প্রবলেম কোথায়? ”

—“ কোথাও না । বিয়ে হোক তারপর আমার বউ আমি নিজে গড়ে নিবো । ”

—“ As your wish ! ”

.

.

.

সারারাত জিসানের বিয়ের খুশিতে পার্টি করে ভোরে ভোরে ঘুমিয়েছে তাঁরা তিনজন । জিসান আজ অনেক খুশি । ফাইনালি তার সিঙ্গেল জীবনের ইতি ঘটবে । সেই খুশিতে সে মটকা মেরে ঘুমোচ্ছে । আর জাইরা সারারাত সজাগ থাকায় তারপর দিনে রিশানের ' উহুম উহুম 🙂 ' সহ্য করে অনেক ক্লান্ত । তাই সে ও ঘুমিয়ে গেছে । কিন্তু রিশান !! সে তো ছটফট করছে । তার এই মুহূর্তে জাইরাকে দরকার খুব করে দরকার । শরীরের নিষিদ্ধ পার্ট গুলো ছটফট করছে । নাহ এই মুহূর্তে জাইরাকে লাগবেই লাগবে । সে কিছু না ভেবে জাইরার রুমের দিকে রওনা হলো । ভাগ্য ভালো থাকায় দরজা ও খোলা পেলো । ঝটপট রুমে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিল ।

জাইরা বেঘোরে ঘুমাচ্ছে । হাত পা ছড়িয়ে কোমর বাঁকিয়ে শুয়ে আছে মেয়েটা । এভাবে কোনো পুরুষ দেখলে সে সিডিউস হতে বাধ্য । রিশান ও তার ব্যতিক্রম নয় । ঠোঁট কামড়ে এগিয়ে গেল সে । কামুক দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল জাইরার দিকে । তারপর......

(তারপর আর কমু না ।🐸 )

চলবে.......

(নেক্সট পর্বে কিছুমিছু থাকবে । 🙈🙈)

#dark_romantic #uponnash #aizas_tales #bangla_story #Aiza #for_you

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন