#বসন্তের_প্রথম_প্রেম
#লেখনীতে_আইজা
#অন্তিম_পর্ব
❌ কপি করা নিষিদ্ধ ❌
*
*
—“ আলিত বাই ! আলিত বাই ! ”
আরিশ ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো । ছোট্ট সাজাল দৌড়ে আসছে আর চিৎকার করে আরিশ'কে ডাকছে । আরিশ হেঁসে এগিয়ে যেতেই দেখলো সাজালের একটু সামনেই একটা কাঁটা যুক্ত লাঠি পড়ে আছে । আঁতকে উঠলো সে ।
উদ্বিগ্ন হয়ে এগিয়ে যেতে যেতে বলল ,
—“ সাজাল ওখানেই দাঁড়া । সাজাল ! ”
কিন্তু চঞ্চল সাজাল কী আর তার কথা শোনে ? তার যেন একমাত্র লক্ষ্যই হচ্ছে আরিশের কাছে পৌঁছানো । আরিশ জোরে এক দৌড় দিলো । সাজাল'কে এক থাবা দিয়ে বুকে নিয়ে এসে স্বস্তির নিশ্বাস ছাড়ল । সাজাল অবুঝের মতো তার দিকে তাকিয়ে আছে । যেন সে বোঝার চেষ্টা করছে যে এখানে কি ঘটেছে ।
আরিশ পাগলের মতো তার সাড়া মুখে চুমু খেতে খেতে বললো ,
—“ কেন আমার কথা শুনিস না ? ওই কাঁটায় যদি পা পড়তো ! ”
—“ সলি আলিত বাই ! ”
আরিশ কিছু না বলে সাজাল'কে জড়িয়ে ধরলো । দূর থেকে জিসান-আলিজা এদের কান্ড দেখছে । জিসান হেসে উঁচু গলায় রিশানকে বললো ,
—“ রিশান তোর ছেলে একেবারে তোর কার্বন কপি হয়েছে রে । ”
রিশান হেসে বললো ,
—“ আর তোর মেয়ে তোর কার্বন কপি হয়েছে । ”
সবাই উচ্চ স্বরে হেসে উঠলো । আরিশ সাজাল'কে কোলে নিয়ে এগিয়ে এলো । এসে জিসানের উদ্দেশ্যে বললো ,
—“ ছোট আব্বু তোমার মেয়েকে ভালো হতে বলো , নয়তো কিন্তু ও আমার হাতে মরবে ! ”
জিসান জেনেও না জানার ভান করে বললো ,
—“ কেন কী করেছে ও ? ”
আরিশ কোন মতে রাগ চেপে চিবিয়ে চিবিয়ে বললো ,
—“ এইমাত্র কাঁটায় পা দিতে যাচ্ছিল । এতো বললাম যে ওইখানে দাঁড়া , না সে দাঁড়াবে না । যদি কাঁটায় পা পড়তো ? তাহলে তো সারাজীবন আমাকে পঙ্গু বউ বহন করতে হতো । ”
জিসান ঠোঁট চেপে হেসে বললো ,
—“ আমি কখন বললাম আমার মেয়েকে তোর সাথে বিয়ে দিবো ? ”
আরিশ গা ছাড়া ভাব নিয়ে বললো ,
—“ তোমাকে কে দিতে বলেছে । আমি নিজেই ওকে আমার করে নিতে পারবো । ”
জিসান সাজালের দিকে তাকিয়ে বললো ,
—“ সাজাল তোর সাথে যাবে না । কি ঠিক বলেছি না সাজাল? ”
আরিশ সাজাল' এর দিকে তাকালো । সে সাথে সাথে মাথা নেড়ে বললো ,
—“ না ! আমি আলিত বাই কেই বিয়ে কলবো । ”
বলেই ফিক করে হেসে আরিশের গলা জড়িয়ে ধরলো । জিসান হতভম্ব হয়ে গেলো । আরিশ ব্যঙ্গ করে সাজাল'কে নিয়ে চলে গেল । জিসানের অবস্থা দেখে আলিজা ফিক করে হেসে দিল ।
জিসান তাকে হাসতে দেখে বললো ,
—" চাশমিস রুমে চলো । এই মেয়ে আমার কথা শোনে না , আরেকটা পয়দা করতে হবে । চলো ! "
আলিজা দুম করে একটা কিল বসিয়ে দিলো । জিসান ঠোঁট উল্টে বললো ,
—“ চাশমিস তুমি এমন করতে পারো না । ”
আলিজা ভাব নিয়ে বললো
—“ আমি সব পারি । ”
জিসান বাঁকা হেসে আলিজা'কে পাঁজাকোলা তুলে রুমের দিকে যেতে যেতে বলল ,
—“ আমিও সব পারি । ”
—“ ছাড়েন । অসভ্য লোক । ”
—“ উহু ছাড়ব না । ”
বলেই রুমের দরজা লক করে দিলো । আলিজা'কে বিছানায় শুইয়ে ঠোঁটে ঠোঁট মিলিয়ে দিলো ।
*
*
*
—“ অরাপাখি ? ”
—“ হুঁ! ”
—“ চোখের পলকে দশটি বছর কেটে গেল তাই না ? ”
—“ হ্যাঁ ! আমার তো মনে হয় এই কদিন আগেই আরিশ জন্মালো । অথচ দেখো সেই ছেলেটার ১১ বছর হতে চললো । ”
—“ ছেলে তো বড়ো হয়ে গেলো । এবার তো একটা মেয়ে দরকার ! ”
জাইরা লজ্জায় রিশানের বুকে মুখ লুকালো । রিশান শব্দ করে হেসে বললো ,
—“ এই ১৪ বছরেও তোমার লজ্জা ভাঙতে পারলাম না আমি । সমস্যা নেই আজকে আবার চেষ্টা করা যাক ! ”
রিশান জাইরা'কে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে তার বুকে মুখ গুঁজে দিল ।
ধরনীর বুক থেকে নরম আলো বিলীন হয়ে আসছে । রোদ পড়ে গেছে । এমন সময় রহমান কুঞ্জের সামনে এসে থামল দুটি কার ! দরজা খুলে বেরিয়ে এলো রহমান বংশের দুই বৃদ্ধ দম্পতি ।
তাদের দেখেই আরিশ সাজাল দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরলো । সাজাল প্রফুল্ল কন্ঠে বললো ,
—“ দাদুন এটোককণে টোমলা এতেছো । কতো মিত কলেছি তোমাদেল । ”
তারেক রহমান সাজাল'কে কোলে নিয়ে বললেন ,
—“ অ্যাডভান্স হ্যাপি বার্থডে সাজু ! ”
—“ ত্যানকিউ! (Thank you🙂)”
আরিশ গম্ভীর কণ্ঠে বললো ,
—“ সাজাল'কে পেয়ে তো সবাই আমাকে ভুলেই গেছে । আমি বরং চলে যাই । ”
জিয়াউর রহমান হেসে উঠলো । হাসতে হাসতেই বললো ,
—“ আরে নানুভাই তুমি কই যাও ! তোমার দাদা ভুলে গেলেও নানা কিন্তু ভোলেনি তোমাকে । ”
আরিশের মুখে হাসি ফুটে উঠল । সে গিয়ে নানাকে জড়িয়ে ধরলো ।
*
*
*
আরেকটা মিষ্টি দিনের শুরু । রহমান কুঞ্জে যেন খুশির ফোয়াড়া পড়েছে । আজকে সাজালের জন্মদিন । সকাল সকাল সব তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে । কিছুক্ষণের মধ্যেই সবকিছুর আ্যরেজমেন্ট হয়ে গেল । সাজাল কেক কাটার সময় জিসান চাইলো সে সাজালের সাথে ছুরি ধরবে কিন্তু সেখানে বাঁধল বিপত্তি । সাজাল কিছুতেই আরিশ'কে ছাড়া কেক কাটবে না । ভ্যা ভ্যা করে কেঁদে দিলো সে । বাধ্য হয়ে জিসান সরে গেল । সাজাল আরিশ'কে নিয়ে সুন্দর ভাবে কেক কাটলো । ছোট্ট হাতে আরিশ'কে খাইয়ে দিচ্ছে আর ফোকলা দাঁত বের করে হাসছে । সবাই তাদের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে । এমন সময় ক্লিক ! ব্যাস ফ্রেমে বন্দী হয়ে গেল মুহুর্তটা ।
সবাই অবাক চোখে সামনে তাকাতেই দেখলো সাদাদ সাহেব ক্যামেরা হাতে দাঁড়িয়ে আছে । সে এগিয়ে এসে বললো ,
—“ বার্থডে গার্লের নানুকে ছাড়াই পার্টি শুরু হয়ে গেছে ! ভেরি ব্যাড!! ”
—“ বার্থডে গার্লের সবথেকে কাছের মানুষ তো আছে , তাতেই হবে ! ”
গম্ভীর কণ্ঠে উত্তর দিলো আরিশ । সাদাদ সাহেব উচ্চ স্বরে হেসে উঠলেন ।
—“ কে সবচেয়ে কাছের মানুষ ? ”
রিশান ঠোঁট চেপে জিজ্ঞেস করল । আরিশ ঘাড় বাঁকিয়ে তার দিকে তাকিয়ে বললো ,
—“ সাজাল'কেই জিজ্ঞেস করো ! ”
রিশান কিছু বলার আগেই সাজাল আরিশের কোমর জড়িয়ে ধরে বলে উঠলো ,
—“ আলিত বাই ! ”
আরিশ ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে সাজালের গাল টেনে বললো ,
—“ That's my girl ! ”
এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকা রিশান সবার অগোচরে জাইরার কোমর আঁকড়ে ধরে বললো ,
—“ আমার ছেলে বলে কথা !! ”
জাইরা কোমরের হাত সরানোর চেষ্টায় ব্যস্ত । রিশান কোমর আরো শক্ত করে চেপে ধরে নিজের দিকে টেনে নিয়ে বললো ,
—“ লাভ নেই । কোমর আমি ছাড়ছি না । ”
জাইরা ঠোঁট উল্টে বললো ,
—“ অসভ্য লোক ! ”
রিশান হেসে জাইরা'র কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিসিয়ে বললো ,
—“ ভালোবাসি ! বড্ডো ভালোবাসি তোমায় অরাপাখি । আগামীর প্রতিটা বসন্তে আমাদের ভালোবাসা নতুন করে প্রাণ পাক ! তুমি শুধু আমার হয়েই থেকে যেও , সারাজীবন । ”
জাইরা মুচকি হেসে তার কাঁধে মাথা রেখে একই টোনে বললো ,
—“ আমিও ভালোবাসি তোমায় ! ”
~সমাপ্ত~
( অবশেষে রিশঅরার যাত্রার ইতি ঘটলো । পুরো গল্পটা আপনাদের কেমন লেগেছে একটু গঠনমূলক মন্তব্যের মাধ্যমে জানাবেন প্লিজ । যারা সাইলেন্ট রিডার আছেন তাদের কাছেও আমার একি অনুরোধ । ধন্যবাদ সবাইকে ! 🕊️✨ )