#কবুলের_আড়ালে_চুক্তি
১১
#𝐀𝐧𝐯𝐞𝐬𝐡𝐚_𝐍𝐢𝐡𝐚𝐫𝐢𝐤𝐚
আমি কাঁপা অথচ দৃঢ় কণ্ঠে বললাম,
“আপনার সামর্থ্য থাকতে পারে দু'জন স্ত্রী রাখার, কিন্তু আমার সামর্থ্য নেই নিজের স্বামীকে অন্য কারও বিছানায় দেখার। আমি মুক্তি চাই মানে, আমি এই সম্পর্ক থেকে মুক্তি চাই।”
আমার কণ্ঠ কাঁপছিল, কিন্তু ভেতরে জমে থাকা অপমান আর যন্ত্র'ণাগুলো সেই কাঁপুনির আড়াল ভেঙে বেরিয়ে আসছিল।
উনি আমার কথার পর কিছুক্ষণ নিশ্চুপ হয়ে রইলেন। তারপর ঠান্ডা, নির্লিপ্ত গলায় বললেন,
“এটা কখনোই সম্ভব না। তুমি যদি এই বাড়িতে থাকতে না চাও, তাহলে তোমাদের বাড়িতে গিয়ে তোমার ফ্যামিলির সঙ্গে থাকতে পারো। আমি ওখানে তোমার সব খরচ পাঠিয়ে দেব।”
উনার কথাটা শুনে আমার বুকের ভেতরটা মো'চড় দিয়ে উঠল।
একটা তাচ্ছিল্যের হাসি আপনা'আপনি ঠোঁটে ফুটে উঠল। সেই হাসিতে কষ্ট ছিল, ভা'ঙন ছিল, আর ছিল পৃথিবীর প্রতি এক গভীর অভিমান। আমি ধীরে ধীরে বললাম,
“আমার ফ্যামিলি? কোথায় আমার ফ্যামিলি? আমি তো আমার কোনো ফ্যামিলিকেই খুঁজে পাচ্ছি না। আপনি যাদের আমার পরিবার বলছেন, তারা কি আদৌ আমার পরিবার? কোনো পরিবার কি নিজের সন্তানের সঙ্গে এমন করতে পারে?”
আমার গলাটা বারবার ধরে আসছিল। মনে হচ্ছিল প্রতিটা শব্দ বুকের গভীর ক্ষত ছিঁড়ে বের হচ্ছে। উনি আমাকে বোঝানোর সুরে বললেন,
“তুমি ভুল বুঝছো, হাওয়া। পরিস্থিতি এমন ছিল। আর তোমাকে তো ফেলে দেয়'নি। আমার হাতে তুলে দিয়েছে। হ্যাঁ, আমি হয়তো তোমাকে কখনো ভালোবাসতে পারব না, কিন্তু অবহেলাও করব না। তোমার সব অধিকার তুমি পাবে।”
আমি আর নিজেকে সামলাতে পারলাম না। জমে থাকা ক্ষোভ, অপমান আর অবহেলা একসাথে বি'স্ফো'রিত হলো। আমি রাগ মেশানো কষ্টে বললাম,
“কিসের অধিকার? কার অধিকার? আমি কারও সেকেন্ড অপশন হয়ে বাঁচতে পারব না! আর কিসের পরিবারকে ভুল বুঝব? তাদের পছন্দ'মতোই তো বিয়ে করেছিলাম। অথচ সেই মানুষগুলোই আমাকে একটা অনিশ্চিত, অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিল। নিজের স্বার্থের জন্য আমার জীবনটা ন'ষ্ট করে দিল!”
উনি আরও কিছু বলতে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা কনিকা আপুর কণ্ঠ ভেসে এলো,
“হাওয়া! বড়দের সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হয় জানিস না? মায়ানের সঙ্গে উঁচু গলায় কথা বলছিস কেন?”
আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম। উনি মুহূর্তেই আমার কাছ থেকে সরে গিয়ে আপুর কাছে চলে গেলেন। কণ্ঠে সঙ্গে সঙ্গে উদ্বেগ নেমে এলো,
“তুমি কষ্ট করে এখানে আসতে গেলে কেন? আমাকে ডাকতে পারতে। তোমার এখন রেস্ট নেওয়া প্রয়োজন।”
সেই মুহূর্তে আমার বুকের ভেতরটা হু হু করে উঠল। একটু আগেও যে মানুষটা আমার কান্না, আমার ভাঙা জীবন, আমার অপমান নিয়ে নির্বিকার ছিল। সেই মানুষটাই এখন অন্য একজনের সামান্য কষ্টেও এত ব্যস্ত, এত চিন্তিত। কনিকা আপু নিচু স্বরে বলল,
“অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছিলাম তোমার জন্য। তুমি রুমে আসছিলে না দেখে বের হলাম। এদিকে কথার শব্দ শুনে চলে এলাম।”
উনি একবার আমার দিকে তাকালেন। সেই দৃষ্টিতে না ছিল অনুতাপ, না ছিল অপরাধ'বোধ। শুধু ক্লান্ত এক নির্লিপ্ততা। তারপর শান্ত গলায় বললেন,
“গেস্ট'রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে খাবার খেয়ে রেস্ট নাও। বাকি কথা কাল বলব।”
আমি কোনো জবাব দিলাম না। শুধু নিঃশব্দে তাকিয়ে রইলাম তাদের দু’জনের দিকে। কী অদ্ভুত! যারা আমার জীবনটা তছনছ করে দিয়েছে, তাদের মুখে বিন্দুমাত্র অনুতাপ নেই। না কোনো অপরাধ'বোধ, না কোনো লজ্জা। বরং তারা দু’জন পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে, একটা পূর্ণ সংসারের মতো। আর আমি যেন সেই সংসারের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা এক অনাহুত মানুষ।
সেই মুহূর্তে মনে হচ্ছিল, মানুষ আসলেই বহুরূপী। নিজের স্বার্থের জন্য মানুষ প্রতিটা মুহূর্তে রং বদলাতে পারে। হাসতে হাসতে কারও জীবন ধ্বংস করে দিতে পারে। মানুষ চেনা অসম্ভব! সত্যিই মানুষ চেনা অসম্ভব রকমের অসম্ভব।
আমি শুধু ভাবছিলাম, কি দরকার ছিল তাদের নিজেদের অপূর্ণতা পূরণ করার জন্য আমার জীবনটাকে বলি দেওয়ার? অন্য কোথাও আমার বিয়ে হলে হয়তো খুব সুখী হতাম না। কিন্তু অন্তত নিজের স্বামীকে অন্য নারীর বুকে মাথা রেখে থাকতে তো দেখতে হতো না।
অন্তত প্রতিটা রাতে নিজেকে অবাঞ্ছিত মনে করে কাঁদতে হতো না। তাদের পূর্ণতার জন্য আমার সমস্ত স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে গেল। আমার সমস্ত বিশ্বাস ভেঙে গুঁড়িয়ে গেল। এসব ভাবতেই বুকের ভেতরটা বন্ধ হয়ে আসছিল। নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল, আমার ভেতরের সব আলো নিভে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। কেন জানি মনে হচ্ছিল
"আমার সমাপ্তিটা হয়তো এখানেই। আমার মৃ'ত্যুটা হয়তো খুব অল্প বয়সেই হবে!"
আমার এলোমেলো, আকাশ'ছোঁয়া ভাবনার মাঝেই উনি কনিকা আপুকে নিয়ে ধীরে ধীরে রুম থেকে বেরিয়ে গেলেন। আমি আবার ফ্লোরে বসে পড়লাম। মুখে কাপড় চেপে ধরে নিঃশব্দে চিৎকার করে কাঁদতে লাগলাম। সেই কান্নার শব্দ কেউ শুনতে পায়নি। কিন্তু আমার মনে হচ্ছিল, পুরো পৃথিবী যেন আমার ভাঙার শব্দ শুনছে। সেই মুহূর্তে খুব করে বাবার কাছে যেতে ইচ্ছে করছিল।
খুব জানতে ইচ্ছে করছিল আমি কি উনার নিজের সন্তান ছিলাম না বলেই এত সহজে আমাকে টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দিলেন? উনি কি পারতেন আপুদের এমন একটা জীবনে ঠেলে দিতে? তাহলে আমার বেলায় কেন পারলেন? আমাকে ধ্বংস করার আগে কি একবারও উনার বুকটা কাঁপেনি? একটুও কি মায়া হয়নি আমার জন্য? মানুষ তো জা'নোয়ার পুষলেও তার প্রতি মায়া জন্মায়, তাহলে কি আমি জা'নোয়ারের চেয়েও নগন্য ?
আমার আর গেস্টরুমে যাওয়া হলো না। কখন যে স্টোররুমের ঠান্ডা ফ্লোরে বসে বসেই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম, নিজেও বুঝতে পারিনি। সকালটা যেন আজ অন্যসব সকালের চেয়ে ভয়ংকর বেশি নিষ্ঠুর ছিল। ঘুটঘুটে অন্ধকার রুমটায় কোনো আলোর উষ্ণতা ছিল না। বরং মনে হচ্ছিল, চারপাশের এই জমাট বাঁধা অন্ধকার ধীরে ধীরে আমার জীবনটাকেও গ্রাস করে নিচ্ছে। যেন এই পৃথিবীতে আমার জন্য আর কোনো আলো অবশিষ্ট নেই।
ফজরের আজানের পর আর চোখে ঘুম আসেনি। সারারাত কান্না করতে করতে চোখ দুটো ফুলে ভারী হয়ে গেছে। মাথাটা অসহ্য রকম ব্যথা করছে। মনে হচ্ছিল মাথার ভেতর কেউ হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করছে বারবার। তবুও পড়ে থাকার উপায় নেই। এই বাড়িতে কারও দুঃখ কাজ থামিয়ে রাখার কারণ হয় না। এখানে কান্নারও সময় বেঁধে দেওয়া। ধীরে ধীরে উঠে বসতেই বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল। গতরাতের দৃশ্যগুলো একে একে চোখের সামনে ভেসে উঠতে লাগল।
উনার বুকের ভেতর মাথা গুঁজে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে থাকা আপু… আর সেই মানুষটা যার বুকে মাথা রেখে আমি ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছিলাম। তিনি দু’হাতে আগলে রেখেছিলেন অন্য কাউকে। সেই মানুষটা আর আমার নয়, হয়তো কোনোদিন ছিলও না। ভাবতেই বুকের ভেতরটা এমনভাবে ফেটে যেতে লাগল, যেন কেউ ধারালো কিছু দিয়ে ধীরে ধীরে হৃদয়টা চিরে দিচ্ছে।
দরজার বাইরে থালা-বাসনের শব্দ ভেসে আসছে। কারও হাঁটার আওয়াজ। নিচতলা থেকে চাপা হাসি। সবকিছু এত স্বাভাবিক মনে হচ্ছিল পুরো পৃথিবী ঠিকঠাক চলছে, শুধু আমার জীবনটাই কোথাও থেমে গেছে। শুধু আমার পৃথিবীটাই ধ্বংস হয়ে গেছে।
দাঁড়ানোর চেষ্টা করতেই মাথাটা ঝিমঝিম করে উঠল। দেয়ালে হাত রেখে কোনোভাবে নিজেকে সামলালাম। কোনো মতে নিজেকে টেনে হিঁচড়ে গেস্ট রুমে গেলাম। চোখে মুখে পানির ছিটা দিতেই আয়নায় নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে বুক কেঁপে উঠল। এটা কি আমি? এলোমেলো চুল, কান্নায় ফুলে থাকা চোখ, শুকিয়ে যাওয়া ঠোঁট, বিবর্ণ মুখ মনে হচ্ছিল কয়েকটা রাতেই আমি বহু বছরের ক্লান্তি বয়ে বেড়াতে শুরু করেছি।
কাঁপা হাতে ওড়নাটা ঠিক করে অজু করে নিলাম। তারপর জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজে দাঁড়িয়ে গেলাম। সিজদায় মাথা রাখতেই বুকের ভেতর জমে থাকা সমস্ত কষ্ট হুহু করে বেরিয়ে আসতে চাইল। চোখের জল থামানো গেল না। জায়নামাজ ভিজে উঠল নীরব কান্নায়। মনে হচ্ছিল, পৃথিবীর কাউকে না পারলেও অন্তত আল্লাহর কাছে নিজের ভাঙাচোরা হৃদয়টা খুলে বলা যায়। আমি ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে শুধু একটা কথাই বলছিলাম,
“হে আল্লাহ! আমি আর পারছি না…”
নিচে নামতেই রান্নাঘর থেকে তেলের ছ্যাঁকা আর মসলার গন্ধ ভেসে এলো। শাশুড়ি মা ব্যস্ত গলায় কাজের নির্দেশ দিচ্ছেন। দাদি শাশুড়ির কণ্ঠে আনন্দের উচ্ছ্বাস। কারণ এই বাড়িতে নতুন প্রাণ আসছে।
একটা নতুন জীবন, যে জীবনটার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। তবুও এই বাড়ির প্রতিটা দেয়াল, প্রতিটা শব্দ, প্রতিটা মানুষের চোখ যেন আমাকে বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছিল, আমি ব্যর্থ। আমি অপ্রয়োজনীয়। আমি শুধু কারও প্রয়োজন মেটানোর জন্য আনা একটা মানুষ ছিলাম।
আমি নিঃশব্দে এক কোণে দাঁড়িয়ে রইলাম। কেউ আমার দিকে ভালো করে তাকালও না। যেন আমি এই বাড়ির কেউ নই। শুধু প্রয়োজন ফুরিয়ে যাওয়া একটা ছায়া। হঠাৎ জানালার বাইরে চোখ গেল। সকালের আকাশটা অদ্ভুত রকম মেঘলা। মনে হচ্ছিল প্রকৃতিও আজ কাঁদতে চায়! কিন্তু পারছে না। ঠিক আমার মতো।
শাশুড়ি মা আমায় ডাক দিয়ে কিচেনে নিলেন সাহায্য করার জন্য। আমি চুপচাপ কাজ করতে লাগলাম। হাত চলছে ঠিকই, কিন্তু মনটা যেন কোথাও পড়ে আছে। সবার জন্য ব্রেকফাস্ট তৈরি করে ডাইনিং টেবিলে সাজিয়ে দিলাম। মিনিটখানেক পর সিঁড়ি দিয়ে নামার শব্দ পেলাম। মাথা তুলে তাকাতেই দেখলাম, আপু আর উনি একসাথে নিচে নামছেন। দু’জনকে পাশাপাশি দেখে বুকের ভেতরটা হঠাৎ করেই কেঁপে উঠল। মনে হলো কেউ যেন শ্বাসরোধ করে ধরেছে। আমি দ্রুত চোখ সরিয়ে কিচেনে ঢুকে গেলাম।
সবাই টেবিলে বসে খাচ্ছে। এমন সময় শাশুড়ি মা আমাকে দিয়ে ডাইনিং টেবিলে পরোটা পাঠালেন। আমি চুপচাপ পরোটা দিয়ে ফিরে আসছিলাম, ঠিক তখনই শ্বশুর মশাই প্রশ্ন করলেন,
“নতুন বুয়া নিয়েছ নাকি? আগের জন কোথায়?”
কথাটা শুনে আমার পা থেমে গেল। মুহূর্তেই বুকের ভেতরটা ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। উনি আমাকে চিনতে পারেননি। কাজের মেয়ে ভেবেছেন। হয়তো সত্যিই আমি এই বাড়িতে সেই পরিচয়টারও যোগ্য নই। দাদি শাশুড়ি দ্রুত বললেন,
"আগের জন অসুস্থ, তাই আসতে পারেনি।”
শ্বশুর মশাই আর কিছু বললেন না। আমি নিঃশব্দে চোখের কোণ বেয়ে নেমে আসা জলটা মুছে আবার কিচেনে চলে গেলাম। কিন্তু ভেতরে ভেতরে শরীরটা আর সইতে পারছিল না। হঠাৎ করেই মাথাটা প্রচণ্ড ঘুরতে শুরু করল। মনে হচ্ছিল পুরো পৃথিবী দুলছে। চোখের সামনে সব ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। আমি ঠিকমতো দাঁড়াতেও পারছিলাম না। ভয়ে, অসহায়ত্বে কোনো উপায় না পেয়ে পিছন থেকে দু’হাতে শক্ত করে শাশুড়ি মাকে আঁকড়ে ধরলাম। আমি ধরতেই উনি অবাক হয়ে পিছনে ঘুরে তাকাতে চাইলেন। কিন্তু উনি ঘুরতেই আমার হাতটা ছুটে গেল। পরমুহূর্তেই "ধপাস!"
আমি ফ্লোরে লুটিয়ে পড়লাম। তারপর সব অন্ধকার। মনে হচ্ছিল আমি একটা অতল গহ্বরে তলিয়ে যাচ্ছি। যেখানে কোনো শব্দ নেই, কোনো আলো নেই, কোনো মানুষ নেই।
জ্ঞান ফিরল অনেক পরে। চোখ খুলতেই দেখলাম কাকি শাশুড়ি আর কনিকা আপু আমার পাশে বসে আছেন। মাথাটা এখনো ভারী হয়ে আছে। পুরো শরীর অবশ লাগছে। কনিকা আপু নিচু স্বরে বললেন,
“হাসপাতালে যাওয়ার জন্য রেডি হও।”
কথাটা বলেই উনি উঠে চলে গেলেন। আমি ফ্যালফ্যাল করে ছাদের দিকে তাকিয়ে রইলাম। টানা দুইদিন ঠিকমতো কিছু না খেয়ে থাকার কারণে শরীরটা একেবারে ভেঙে পড়েছে। উঠে বসতেও কষ্ট হচ্ছিল।এই দুইদিনে হয়তো পানি খেতেও ভুলে গিয়েছিলাম। কাকি শাশুড়ি আমার দিকে তাকিয়ে বললেন,
“খাবার না খেয়ে নিজের কী অবস্থা করেছ দেখেছ? এখন উঠে রেডি হয়ে নাও। বড় ভাবি আর কনিকা তোমার সঙ্গে হাসপাতালে যাবে।”
আমি দুর্বল গলায় বললাম,
“আমার তো এখন জ্ঞান ফিরে এসেছে… তাহলে হাসপাতালে যাব কেন?”
কাকি শাশুড়ি বিরক্ত গলায় বললেন,
“হাসপাতালে মানুষ শুধু মরতে গেলেই যায় না, অসুস্থ হলেও যায়। তুমিও অসুস্থ, তাই যাবে।”
কথাটা বলেই উনি বেরিয়ে গেলেন। আমি স্থির হয়ে বিছানায় পড়ে রইলাম। মাথার ভেতর হাজারটা প্রশ্ন ঘুরছিল। আমার আবার কী হয়েছে? কেন সবাই এমন অদ্ভুত আচরণ করছে? নাকি, নাকি আমার জীবনে আরও বড় কোনো ঝড় অপেক্ষা করছে..?
---------চলবে~~~----------