ফন্ট সাইজ:
থিম:
সিন্ধুপুষ্পের অনুরাগ

৮ম পর্ব

লেখক: মুশফিকা রহমান মৈথি

#সিন্ধুপুষ্পের_অনুরাগ

#৮ম_পর্ব

“এখন আমার সামনে হাটু গেড়ে বসে হাত জোর করে বলতে হবে “প্রাপ্তি প্লিজ হেল্প মি, তুমি ছাড়া আমি অপারগ। প্লিজ, প্লিজ। আমি কখনো আর তোমাকে উত্যক্ত করবো না”

অয়নের দৃষ্টি সূঁচালো হলো। চোয়াল শক্ত হলো। তার দৃষ্টিতে রাগ স্পষ্ট। অথচ প্রাপ্তি নির্বিকার। সে গালে হাত দিয়ে তাকিয়ে রয়েছে অয়নের চোখের দিকে। নির্লিপ্ত তার ভাবভঙ্গি। অনেকগুলো চোখ তাদের দেখছে। সেই চোখে অসীম আগ্রহ এবং কৌতুহল। প্রাপ্তি ভার্সিটিতে ভর্তি হবার পর থেকেই সে অজান্তেই জনপ্রিয় হয়েছে। হয়তো ব্যাপারটি নেগেটিভ পাবলিসিটি। কিন্তু নেগেটিভ পাবলিসিটিও পাবলিসিটি। তাই অয়নকে তার সাথে কথা বলতে দেখা, না চাইতেও একটা আলোচনার বিষয়। অয়ন বিষয়টা বুঝতে পারলো। তাই নিজেকে সামলালো, ভার্সিটিতে তার একটা আলাদাই ইমেজ রয়েছে। সেই ইমেজটা নষ্ট হয়ে যাবে এক লহমায়। সবসময় হাসি ঠাট্টা করা, মিষ্টিভাষী সিনিয়র ভাইয়ের প্রতিমূর্তির সাথে রাগী, রগচটা অয়নের ভাবমূর্তিটা ঠিক যায় না। তিন বছর সে খুব চমৎকার ভাবেই নিজের একটি মেকি চিত্র অংকন করে রেখেছে। নিজেকে সামলে হালকা স্বরে বললো,

“তুমি এটাই চাও? মাথা ঠিক আছে?”

“চুল কাঁটার পর থেকে আমার মাথা রকেটের গতিতে চলছে। আপনার মতো ফাজিল হলে, এতোসময়ে আপনার কল্লা কেঁটে ফেলতাম। আপনার ইগো আইফেল টাওয়ার হলে, আমার ইগো বুর্জ খলিফা”

“যদি আমি তোমার কথা না শুনি”

“দূরে যায়ে মরেন, আমার অনেক কাজ আছে”

বলেই সে তার ল্যাপটপের কি-বোর্ডে আঙ্গুল বসালো। চশমাটা নাকের উপর একটু ভালো করে ঠেলে কাজে মনোযোগী হলো। ঠিক তখনই অয়নের আকুল স্বর কানে এলো,

“প্রাপ্তি প্লিজ হেল্প মি, তুমি ছাড়া আমি অপারগ। প্লিজ, প্লিজ, প্লিজ। আমি কখনো আর তোমাকে উত্যক্ত করবো না, আমাকে ক্ষমা করে দেও”

প্রাপ্তি কিছুক্ষণ স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো অয়নের দিকে। সে হাটু গেড়ে বসেছে। হাতজোড় করা। মুখ শক্ত, কথাগুলো মোটেই সে মন থেকে বলছে না। প্রাপ্তির বাঁকা হাসি প্রশস্ত হলো। গাল ফুলিয়ে একটা নিঃশ্বাস ফেলে বললো,

“যদিও আমার অন্তরের জ্বালা কমে নি, তবুও এটলিস্ট শান্তি শান্তি লাগছে। ইগোস্টিক মানুষের ইগোর দেওয়ালে আঘাত হানলে আমার পৈশাচিক আনন্দ হয়”

বলেই উঠে দাঁড়ালো প্রাপ্তি। মাটিতে হাটু গেড়ে বসে থাকা অয়নের দিকে একটু ঝুকে বললো,

“নেক্সট টাইম আমার পেছনে লাগার সময় আজকের দিনটার কথা যেন মনে থাকে, সিনিয়র ভাইয়া”

অয়ন তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে প্রাপ্তির দিকে। কঠিন স্বরে বললো,

“আই হেইট ইউ”

“আই কোনসা লাভ ইউ? উঠুন, সেমিনার শুরু হবে”

অয়ন উঠে দাঁড়িয়ে জিন্স ঝাড়তে ঝাড়তে বললো,

“তুমি রেডি হয়ে আসো”

“আমি রেডি ই”

অয়ন চোখ পাঁকালো। দাঁতে দাঁত পিষে বললো,

“তুমি এভাবে উপস্থাপন করবে?”

“তো এখন কি আপনার জন্য আমি এখানে শাড়ির দোকান খুলবো? নাকি আপনি ঢাকাই জামদানী কিনে দিবেন? আমার কাছে কোনো শাড়ি নেই”

“স্টিল, একটু প্রেজেন্টেবল তো হবা?”

“আমি প্রেজেন্টেবলই আছি”

“আহহ”

“চেঁচাচ্ছেন কেন?”

“তোমাকে আছাড় দিতে মন চায় আমার”

“আপনার এতো ডিমান্ড কেন? অদ্ভুত”

অয়ন চুল টেনে ধরলো। এই মেয়েকে বোঝানো তার কর্ম নয়। দাঁতে দাঁত পিষে বললো,

“ইউ আর ইম্পোসিবল”

এর মধ্যে রাইসা আমতা আমতা করে বললো,

“আমার কাছে শাড়ি আছে, আমি প্রাপ্তিকে রেডি করে আনছি”

এতোটা সময় সে চুপ করে দেখেছে শুধু এই দুজনের যুদ্ধ। আর না পেরে বলেই বসলো। প্রাপ্তি তার দিকে তাকাতেই সে পাপ্তির বাহু নিজের হাতের ফাঁকে নিলো। অয়নকে বললো,

“ভাইয়া, আমাদের বিশ মিনিট টাইম দিন”

****

শেষবারের মতো সবকিছু দেখে নিল অয়ন। তার চিন্তা একেবারেই কমছে না। প্রাপ্তি স্টেজে কথা বলতে পারবে তো? যদিও বেশিরভাগ লাইন অয়নকেই বলতে হবে, তবুও ভয় কাটছে না। প্রাপ্তিকে দেখে মনে তো হয় না সে কখনো স্টেজে উঠেছে। গতবার এমন একটি মেয়ের সাথে উপস্থাপনার দায়িত্ব পেয়েছিলো অয়ন। মেয়েটা শেষ সময়ে সব উল্টোপাল্টা করে ফেলেছে। মানুষ দেখে ঘাবড়ে গিয়েছিলো। কিছু তো বলতে পারেই নি, উপর থেকে আতংকে স্টেজেই শাড়িতে পা পিছলে পড়ে গিয়েছিলো। অয়ন এমন কিছু চায় না। এর থেকে একা করলেই তো হত। কিন্তু ডিপার্টমেন্ট থেকে বলা হয়েছে দুজন উপস্থাপক অনিবার্য। শিহাব নিজের ক্যামেরা ঠিক করতে করতে বললো,

“কি রে? তোর পার্টনার কই”

“আরেকবার ঐ মাইয়্যাকে আমার পার্টনার বললে, একেবারে তোকে খাজার গেটে বেঁধে বিঁচুটি পাতা ঘষে দিব”

শিহাব বুঝলো অয়নের মেজাজ অন্তত খারাপ। অবশ্য এটার আরেকটি কারণ আছে। আজ অনুষ্ঠানে তার বাবা আরিফুল শিকদারও উপস্থিত থাকবে। হয়তো একারণেই সে এতোটা চিন্তিত। বন্ধুরা কথা বাড়ালো না। তাদের চোখ অডিটোরিয়ামের দরজার দিকে। এর মধ্যেই দরজা খুলে প্রবেশ করলো প্রাপ্তি। নুহাশ, শিহাব এবং পলাশের মুখ হা হয়ে গেলো। হুট করেই মনে হলো তারা কোনো সিনেমার দৃশ্যে পৌছে গেছে। দরজা নিয়ে যে প্রবেশ করছে সে কোনো সিনেমার নায়িকা। নুহাশ হতভম্ব স্বরে শিহাবকে শুধালো,

“প্রাপ্তি কি প্লাস্টিক সার্জারি করে আসবো?”

“রোকেয়া হলে কি এখন প্লাস্টিক সার্জারিও হয়?”

“যুগ আগায় গেছে, অনেক কিছুই হতে পারে”

নুহাশের কথায় সায় দিলো বাকি দুজন। প্রাপ্তিকে সত্যি চেনা যাচ্ছে না। দলামচা, না ইস্ত্রী করা, কটকটে রঙ্গের জামা পরা মেয়েটিকে এমন পরিপাটি রুপেও কখনো দেখতে পারবে, সে তো কস্মিনকালেও ভাবে নি। ক্রিম কালারের জমিনের উপর লাল কারুকাজের একটি সুতি শাড়ি পরেছে প্রাপ্তি। ছিপছিপে গড়ণের মেয়েটাকে শাড়িতে বেশ মানিয়েছে। প্রাপ্তির গায়ের রঙ্গে ক্রিম কালারটা মিশে গিয়েছে। চুলগুলো স্ট্রেট করে দিয়েছে রাইসা। শুষ্ক ঠোঁটে হালকা বাদামী লিপস্টিক। মোটা চশমার জন্য বোঝা যাচ্ছে না, সে কি কাজল দিয়েছে কি না। একেবারে হালকা সাজে তাকে শুধুই সুন্দর নয়, কেমন কাব্যিক লাগছে। অনেকটা বর্ষায় ভেজা স্নিগ্ধ সিন্ধুপুষ্প। অয়ন স্টেজের উপর ছিলো। তার সামনে ক্রিপ্ট। প্রাক্টিস করতে করতেই থেমে গেলো। স্থির নয়নে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো প্রাপ্তির দিকে। প্রাপ্তি তার পাশে দাঁড়িয়ে বললো,

“শুরু করেন”

অয়ন তখনও তার দিকেই তাকিয়ে রইলো। নির্বাক দৃষ্টি। প্রাপ্তি তার স্থির চাহনী দেখে তুড়ি বাজিয়ে বললো,

“প্রাক্টিস করবেন না”

“তোমার স্ক্রিপ্ট কথায়?”

“আমার মাথায়”

প্রাপ্তি এই প্রথম সবাইকে চমকে দিলো। মেয়েটাকে তারা যেমন ভেবেছিলো প্রাপ্তি মোটেই তেমন নয়। তার মধ্যে কোনো জড়তা নেই। বরং অনুষ্ঠান শুরু হবার পর উপস্থাপনার সময় একটা মুহূর্তের জন্য তাকে আত্মবিশ্বাসহীন কিংবা অপ্রস্তুত লাগে নি। স্বতঃস্ফূর্তভাবেই সে উপস্থাপনা করেছে। পলাশ ছবি তুলছিলো। একটা ছবি তুলে সে নুহাশকে দেখালো। নুহাশ হাসতে হাসতে বললো,

“আমাদের জনদরদী প্রেমিকা বাবাজি তেলাপোকায় হারিয়ে গেছে”

ছবিটায় অয়ন প্রাপ্তির দিকে তাকিয়ে রয়েছে। তার দৃষ্টি কোমল, ঘোরলাগা।

*****

সেমিনার শেষ হলে অয়ন প্রাপ্তির সাথে কথা বলতে চাইলো। কিন্তু তার পূর্বে প্রাপ্তি তার শাড়ির কুঁচি ধরে দৌড় দিলো। সে একপ্রকার দৌড়ে অডিটোরিয়াম থেকে বেরিয়ে গেলো। অয়ন তার দিকে চেয়ে রইলো। শাড়ি পরে কোনো মেয়ে এমন দৌড় দিতে প্রথম দেখলো। মনে হচ্ছে সে অলিম্পিকের গোল্ড মেডেলের জন্য ছুটছে। অয়ন দীর্ঘশ্বাস ফেললো। মনে মনে বললো,

“ওয়ান্স এ তেলাপোকা, অলওয়েজ এ তেলাপোকা”

*****

অনুষ্ঠান খুবই সুন্দর ভাবে শেষ হলো। ডিপার্টমেন্টের অনেক প্রাক্তন ছাত্ররা এসেছে। তারা এখন খুব বড় বড় ফার্মে চাকরি করে। কেউ কেউ ইঞ্জিনিয়ারিং ছেড়ে সরকারি চাকরি করছে। শাখাওয়াত অয়নকে ডাকায় অয়ন সেখানে গেলো। যতজন প্রাক্তন এসেছেন সবাই সেখানে জড়ো হয়ে আছেন। সবাই বেশ প্রশংসা করলো তার এই আয়োজনের। একমধ্যেই শাখাওয়াত হোসেন বললো,

“বুঝতে হবে, আরিফের ছেলে। কি রে আরিফ, ছেলেকে এপ্রিশিয়েট কর”

অয়নের মুখ থমথমে হয়ে গেলো। চোখ তুলে তাকালো সে। সেখানে সবার সাথে আরিফুল শিকদারও দাঁড়িয়ে আছেন। পঞ্চান্ন বছরের একটি উচু-লম্বা, শুভ্র একটি মানুষ। পুরু গোঁফের জন্য উপরের ঠোঁটটা দেখা যাচ্ছে না। ক্ষুরধার দৃষ্টি। বয়স হয়ে গেলেও শরীরের মধ্যে এখনো বার্ধ্যক্যের কোনো অস্তিস্ত্ব নেই। পকেটে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। তার ভাবভঙ্গিতেই আভিজাত্যের একটি প্রলেশ আছে। গুরুগম্ভীর তার বচনভঙ্গি। খুব কথা বলতে ভালোবাসেন না, সেটা বোঝা যায় তার চাহনীতেই। বন্ধুর এমন কথায় তিনি খুব একটা প্রসন্ন হলেন বলে মনে হল না। তবুও গম্ভীর স্বরে বললেন,

“ভালো কাজ করেছো”

ব্যাস এইটুকুই। অয়ন হতাশ চোখে বাবার দিকে চাইলো। আরিফুল আর কিছুই বললো না। অয়ন শাখাওয়াতকে বললো,

“স্যার, আমাদের আরোও অনেক সেগমেন্ট রয়েছে। আমি সেগুলো দেখে আসছি”

“ওকে, যাও”

অয়ন আর অপেক্ষা করলো না। একপ্রকার ছুটেই বেরিয়ে গেলো অডিটোরিয়াম থেকে বেরিয়ে গেলো। যাবার সময় শুনতে পেলো আরিফুল শিকদারের কণ্ঠ,

“আবরারকে দেখতে পাচ্ছি না। ও কিছুতেই পার্টিসিপেট করছে না?”

*****

তিন নাম্বার বিল্ডিং এর এককোনায় দাঁড়িয়ে আছে অয়ন। সাথে কোনো বন্ধুরা নেই। হাতের ফাঁকে জ্বলছে একটা বেনসন। অয়ন সিগারেটটা টানছে না। সে তাকিয়ে আছে গ্রিলের ফাঁকে। বিল্ডিং এর পেছনে বিশাল মাঠ। এটা ভার্সিটির পেছনের জায়গা। সেখানে গোল করে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে আছে ছেলেমেয়েরা। গিটারের টুং টাং শব্দ আর মিশ্র কিছু গলা কানে আসছে। বিষন্ন চোখে অয়ন সেই গোল করে বসে থাকা ছেলেমেয়েদের দিকে তাকিয়ে রইলো। বিকালের সূর্যটা পশ্চিমে ঢলে পড়েছে। আজ বহুদিন পর কেমন যেন একা লাগছে নিজেকে। মনে হচ্ছে এই কোলাহল, জনমানবের মধ্যেও তার কেউ নেই। এই অনুভূতিটা সচারচর হয় না অয়নের। সর্বদা সে বন্ধুদের সাথে ব্যস্ত থাকে, কেউ না কেউ তার সাথে কথা বলার থাকেই, অপরিচিত কেউ, কিংবা পরিচিত। কারোর না কারোর সাথে তার কথা হয়-ই। তাই এই একলা অনুভূতিটা তার ঠিক অনুভব হয় না। আজ হচ্ছে। প্রায় চার সপ্তাহ পর দেখে হয়েছে আরিফুল শিকদারের সাথে আজ। অথচ লোকটি নিষ্পৃহ। আরিফুল সরকার বরাবরই নিষ্পৃহ। অন্তত অয়নের বেলায়। অয়ন তার চোখে বরাবরই অযোগ্য। হয়তো অয়ন কখনো যোগ্যতা পরিক্ষা করতে চায়ও নি। না, চাই নি বলতে ভুল হবে। সে বহুবার চেয়েছে। কিন্তু বাবার সেই এক্সপেক্টেশন সে কখনো পূরণ করতেই পারে নি। আবরারের মত হতে পারে নি। দীর্ঘশ্বাস ফেললো অয়ন। আঙ্গুলের ফাঁকে জ্বলতে থাকা সিগারেটটা ফেলে দিলো অয়ন। তারপর করিডোরে হাটতে শুরু করলো। ঠিক তখনই মৃদু চিৎকার শুনতে পেলো,

“কেউ আছেন? দরজাটা খুলুন প্লিজ”

কণ্ঠটা লেডিস বাথরুম থেকে আসছে। বিল্ডিং ফাঁকা। শুক্রবার বিধায় খুব একটা মানুষ নেই। এই মুহূর্তে লেডিস বাথরুম থেকে মেয়েলি স্বর শুনে একটু খটকা লাগলো অয়নের। সে বাথরুমের দিকে গেলো। বাথরুমের ভেতরে যেতেই দেখলো কেউ ভেতর থেকে দরজা ধাক্কাচ্ছে। বাথরুমের দরজাটা বাহির থেকে আটকানো। ছিটকিনির হ্যান্ডেলটাও ভাঙ্গা। অয়ন কৌতুহলী স্বরে শুধালো,

“কে তুমি?”

“আমি প্রাপ্তি মজুমদার, ফার্স্ট ইয়ার………

চলবে

মুশফিকা রহমান মৈথি

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৮ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন