ফন্ট সাইজ:
থিম:
সিন্ধুপুষ্পের অনুরাগ

২১তম পর্ব

লেখক: মুশফিকা রহমান মৈথি

#সিন্ধুপুষ্পের_অনুরাগ

#১৯তম_পর্ব (বর্ধিতাংশ)

কথাটা বলার সময় অয়ন চাইলো প্রাপ্তির দিকে। ঠিক তখনই তাদের চোখাচোখি হল। অয়ন চোখ সরালো না। এমন মনে হলো কথাটা যেন অয়ন তাকেই উদ্দেশ্য করেই বলছে। অয়নের উত্তর গোলটেবিলকে শান্ত করতে পারলো না। নীলু আপুর মুখে চাপা উত্তেজনা। পছন্দের পুরুষ সিঙ্গেল বিষয়টা অবশ্যই উত্তেজনার কারণ। সে যে সেখানে “তাতা থৈথৈ” গানে নাচছে না এটাই বরং অস্বাভাবিক। নীলা নিজের উত্তেজনাকে চেপে রাখতে পারলো না, প্রশ্ন করেই ফেললো,

“আপনি ঠিক কেমন মেয়ের প্রেমে পড়তে চান অয়ন ভাই”

অয়ন প্রাপ্তির থেকে দৃষ্টি সরালো না। সে প্রাপ্তির দিকে তাকিয়েই বললো,

“ভাবি নি, তবে এমন কেউ যার কাছে হাটু ভাঙ্গতে, মাথা নত করতে দ্বিধা হবে না। আমার আমিকে উজার করে দিতে সংকোচ হবে না”

অয়নের নির্নিমেষ দৃষ্টিতে প্রাপ্তির অস্বস্তি লাগছে। লোকটার দৃষ্টিটা কেমন যেন। একেবারে মনে হচ্ছে তাকে ফুটো করে দেবে এই দৃষ্টি। এর মধ্যেই সেজোফুপু তাকে ডাকলেন,

“প্রাপ্তি এদিকে আয়, বড় আপা তোকে ডাকে”

প্রাপ্তি দেরি না করে উঠে চলে গেলো। তবে মনে হলো অয়ন তাকে তখনও দেখছে। গাঢ়, স্থির নয়নে। লোকটার মতলব কি!

****

অনেক খুঁজে পার্টি হলের এক পাশে পাওয়া গেলো বড় ফুফুকে। বড়ফুফুর কাছে যেতেই তিনি একটা চাবি ধরিয়ে বললেন,

“দ্রুত যা তো হোটেলের সাত তালায়”

“কেন?”

প্রাপ্তির পালটা প্রশ্ন। বড় ফুফু একটু মুখ খিঁচালেন। এই হয়েছে এ প্রজন্মের এক সমস্যা। কিছু বললেই আগে বলবে, “কেন?” “কি জন্য?”। এতো প্রশ্নের হ্যাপা মোটেই সহ্য হয় না মনোয়ারা বেগমের। তিনি ঝাঁঝালো স্বরে বললেন,

“তোকে যেতে বলেছি যাবি”

“যেয়ে করবো কি? সাত তালার ঘরের বিছানায় নিশ্চয়ই গদানোর জন্য আমাকে পাঠাচ্ছো না”

“ভাষা কি তোর? গদানো কি হ্যা গদানো কি? দিনকে দিনকে একেবারে উচ্ছন্নে যাচ্ছো? বড় ভার্সিটিতে পড়ার এই নমুনা?”

“তুমি কি জ্ঞান দিতে ডেকেছো ফুপি?”

“থাপড়া মারবো কিন্তু?”

প্রাপ্তি কঠিন চোখে ফুপুর দিকে তাকিয়ে রইলো। এই মহিলার সাথে কথা বলা এই এক হ্যাপা। শুধু মারতে চায়। ছেলে ঘর ছাড়ার পরও আক্কেল হয় নি। প্রাপ্তি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো। বড় ফুপু সাথে সাথেই বললেন,

“এমন লম্বা শ্বাস ছাড়লি কেন?”

“এখন শ্বাস ছাড়াও অপরাধ? বলি বুড়ো হবার সাথে সাথে মাথার তারগুলোকি সব ছিড়ে গেছে? এই আমি গেলাম”

বলেই যেতে ধরলে বড় ফুপু হাত টেনে বললো,

“শোন, এই চাবি টা নে। সাত তালার এই রুমটা ওদের বাসর ঘর। তুই আর তোর বোনেরা যা বাসরঘর সাজিয়ে দিয়ে আয়”

“তুমি নীলু আপুকে না বলে আমাকে বলছো কেন?”

“কেন তুমি কি প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা নাকি? যে তোমাকে বলা যাবে না। বেশি কথা বলিস না”

“শিলা আপু ওর শ্বশুরবাড়ি যাবে না?”

“আকদ হলে শ্বশুরবাড়ি যাবে কেন? বেশি বকিস না। তোর মেজফুপু বলেছে হোটেলে বাসর করবে। বাসায় নতুন জামাইকে ঘর ছাড়ার মত ঘর নেই”

এটা সত্য শিলা আপার আকদ হচ্ছে। কিন্তু আকদেও তার কোনো ইচ্ছে অপূর্ণ রাখা হয় নি। শিলা আপার বর বিদেশে থাকেন। তিনি আগামী সপ্তাহেই কানাডা ফেরত যাচ্ছেন। এবার শিলা আপাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে না। শিলা আপা যাবে এক বছর পর। তখনই তাদের বৌভাত হবে ধুমধাম করে। শিলা আপার বিয়েটা প্রথমে খুব স্বাভাবিক এবং ঘরোয়াভাবেই হবার কথা ছিলো। কিন্তু আপত্তি করলেন শিলা আপা। পাঁপিয়ার কাছ থেকে শোনা তিনি নাকি দীর্ঘ দু দিন খাওয়া এবং গোসল করেন নি। যাকে বলে একেবারে নাওয়া-খাওয়া বন্ধ। এতে মেজোফুপুর আহ্লাদ বাড়লো। তাই তিনি আকদটাই বিয়ের মতো করে করছেন। বিশাল হোটেলের পার্টি হল বুক করেছেন। সাত তালায় আবার একটি হানিমুন স্যুইট। প্রাপ্তি বড় ফুফুর কাছ থেকে চাবি খানা নিয়ে হাজির হলো ওই জটলার মধ্যে। তার সব বোনেরা এবং বরপক্ষের সবকয়টা হনু সেখানেই বসে আছে। প্রাপ্তি নীলার উদ্দেশ্যে বললো,

“নীলু আপা, উঠো।“

বেশ ভালো একটা জমজমাট আড্ডার মধ্যে প্রাপ্তির ডাক ছন্দপতন ঘটালো। নীলা একটু বিরক্তি নিয়ে বললো,

“কি হয়েছে?”

“সাত তালায় যেতে হবে। বাসর ঘর সাজাতে”

বাসর ঘর—তরুণ তরুণীর মধ্যে এক উত্তেজনাময় শব্দ। জটলার প্রতিটা বান্দার চোখ চকচক করে উঠলো। শিলার আপার ছোট ননদ বলে উঠলেন,

“বাসর ঘর। এই আমরাও আসি”

আদিল ভাই এদের মধ্যে সবচেয়ে বড়। তিনি তার গাম্ভীর্য রক্ষা করে বললো,

“আমরা যেয়ে কি করবো?”

“করার তো অনেক কিছুই আছে। তোমরা কি করতে চাও সেটা বলো”

আদিল চোখ কুচকে শুধালো,

“কি করার প্লান তোদের?”

প্রাপ্তি প্লানটা শুনতেই চোখ কুঁচকে বললো,

“এমন কিছু ভুলেও করবেন না। আমি সোজা যেয়ে বড়ফুপুকে বলে দিব। দুজন মানুষের মধ্যে একটা প্রাইভেসির ব্যপার আছে”

নীলা প্রাপ্তিকে বললো,

“তোকে নিয়ে আর পারলাম না রে প্রাপ্তি। সবকিছুতে তোর বেশি বেশি। একটা মোবাইলের রেকর্ডিং ই তো। আমরা তো আর ক্যামেরা লাগাচ্ছি না”

“কিন্তু এটা অন্যায় নীলু আপা। তুমি দিনকে দিন দেখছি বিবেকবুদ্ধি লাটে উঠাচ্ছো”

প্রাপ্তির কথায় নীলুর মুখখানা অপমানে রক্তিম হয়ে গেলো। অন্যসময় এতোটা অপমানবোধ হত না। কিন্তু অয়নের সামনে এমন অপমান সহ্য হলো না। ফলে ঝাঁঝালো স্বরে বললো,

“তুই তো বিবেকধারী, গলে গলে পড়ে তোর বিবেক”

“এজন্যই মানুষ বলে পড়াশোনা করতে। পড়াশোনা না করলে এমন মাথায় কুবুদ্ধিই ঘুরে”

নীলা ক্ষেপে আরোও দু কথা শুনালে গেলো। কিন্তু বা হাত ঢোকালো আদিল। বললো,

“প্রাপ্তি ইজ রাইট। ওদের এটা একটা ইম্পোর্টেন্ট রাত। এই রাতে তাদের প্রাইভেসি ম্যাটারস। মজার একটা লাইন থাকা প্রয়োজন”

অয়ন আদিলের দিকে চাইলো। তার চোখের ধার খানিকটা তীক্ষ্ণ হলো। সে উঠে দাঁড়িয়ে বললো,

“মজার লাইনটা খুব আপেক্ষিক আদিল ভাই। এটা ম্যান টু ম্যান ভ্যারি করে। আমরা সামান্য মজা করছি। এতোটা বুদ্ধি সবারই আছে কোথায় কতটা বেসামাল হতে হয়। আমরা শুধু ওদের কথা শুনবো। কথাবার্তার পর তারা কি করে সেটা আমরা সবাই জানি”

প্রাপ্তি কড়াচোখে চাইলো অয়নের দিকে। অয়ন যে অসভ্য সেটা আবারো প্রমাণ দিল সে। সবগুলো অশৈল্য মস্তিষ্কের মধ্যে প্রাপ্তির সুশীলতা ঠিকলো না। ওরা সত্যি সত্যি একটা বাটন ফোন রেখে দিলো বাসর ঘরে। বাসর ঘর সাজানোর পর আদিল, অয়ন এবং আরোও তিনচারজন সিগারেট টানার বাহানায় বাহিরে গেলো। হোটেলের স্মোকিং জোনে জ্বলন্ত বেনসন আঙ্গুলের ফাঁকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে অয়ন। আদিল সিগারেটে আগুণ ধরাতেই সে বললো,

“বুড়ো বয়সে কচি মেয়ের প্রেমে পড়লেন নাকি আদিল ভাই?”

অয়নের প্রশ্নে আদিল একটু হকচকিয়ে গেলো। ধরা খেয়ে গেছে এমন মুখ হয়ে গেলো যেন তার। লাজুক স্বরে বললো,

“কি বলছো?”

“যা দেখছি। খুব বেয়াইনের কথায় হ্যা তে হ্যা মিলাচ্ছিলেন যে”

আদিল এবার মৃদু হাসলো। হালকা গলায় বললো,

“বোঝা যাচ্ছে নাকি?”

“আপনি প্রাপ্তির প্রেমে ট্রেমে পড়লেন নাকি?”

আদিল মৃদু গলায় লাজুক স্বরে বললো,

“প্রেম না ঠিক। তবে ভালো লেগেছে”

“বয়সের তো ফারাক আছে”

“বেশি কোথায়? মাত্র তো কয়েক বছর। এখন এসব চলে”

অয়নের দৃষ্টি সূঁচালো হলো। গম্ভীর স্বরে বললো,

“তাহলে এবার প্লান কি?”

আদিল লাজুক বরের মত বললো,

“আপাতত কিছু ভাবি নি। দেখি প্রথমে একটু কথাবার্তা বলি। আত্মীয়তা তো আছেই। বাসা থেকেও বলাতে সমস্যা হবে না”

“বুঝতেছি না, বুইড়া বয়সে আপনার ভীমরতী হইছে নাকি রঙ লাগায় মাথা খারাপ হয়ে গেছে”

“কেন বলোতো?”

আদিলের চোখে মুখে হানা দিল রাজ্যের বিস্ময়। কৌতুহলে ভ্রু কুঁচকে এল। অয়ন নির্লিপ্ত ভাব নিয়ে সিগারেটে সুখটান দিলো। তারপর বললো,

“না আসলে বুইড়া বয়সে মাদারীখেলা দেখানোর শখ হইছে কি না!”

“খারাপ কিসে মেয়েটা?”

“খারাপ ই খারাপ। ডেঞ্জারাম। টিপিক্যাল রিনাখান। আপনি যাকে ভাবছেন হেনা সে আসলে রিনা। ওকে বিয়ে করলে প্রতিদিন দমকল বাহিনীকে ফোন করতে হবে। প্রস্তুত থাকলে করুন যা করার”

আদিলের মুখখানা ছোট হয়ে গেলো। অয়ন এক দৃষ্টিতে থাই গ্লাসের দিকে তাকিয়ে রইলো। তার মুখ গম্ভীর। সিগারেটের ধোঁয়াটা একেবারেই ভালো লাগছে না। কেমন গলায় বিঁধছে।

***

প্রাপ্তি একটা বিষয় নিয়ে চিন্তিত। বাসর ঘর সাজাতে যেয়ে সে একটা জায়গায় শিলার বরের নাম লিখতে যেয়ে লিখলো,

“নির্ঝর শিকদার”

প্রায় সাথে সাথে নীলা বলে উঠলো,

“নির্ঝর চৌধুরী হবে। এখনো ভাইয়ার নাম জানিস না?”

তখন থেকেই কথাটা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। অয়ন তো শিকদার। তাহলে তার চাচাতো ভাই চৌধুরী কেন। কথা ভাবতে ভাবতেই লবি দিয়ে হাটছিলো। অমনি কোথা থেকে অয়ন এসে ওর পথ রোধ করলো। প্রাপ্তি চোখ তুলে চাইলো। অয়নের পরণে আজ পুরাই ফর্মাল পোশাক ছিল। কোট, প্যান্ট, টাই। এখন সব এলোমেলো। টাইটা একটু ঢিলে করা। শার্টের হাতাটা গুটানো। কোটটা হাতে ঝুলছে। প্রাপ্তি পাশ কাটাতে চাইলে অয়ন আবার পথ রোধ করলো। প্রাপ্তি এবার চোখ গরম করে বললো,

“কি চাই?”

“যদি বলি তোমাকে?”

প্রাপ্তি চোখ পাঁকালো। অয়ন হাসলো সদাচরিত সেই ফিঁচেল হাসি। তারপর স্বর খাঁদে এনে বললো,

“তুমি বেশ চালাক মেয়ে। আমি তোমাকে ভিন্ন ভেবেছিলাম। কিন্তু তোমার আর বাকিদের মধ্যে কোনো তফাৎ নেই। সত্যি করে বলতো আজ এতো সাজের ঘনঘটা কেন? কলেজে তো চুলে শ্যাম্পুও দিতে না। পোশাকের ছিরি হতো বিতিকিচ্ছির। আজ এতো সাজগোঁজ কেন? ছেলে পটাতে?”

প্রাপ্তির কান ঝা ঝা করছে। নাকের পাটা ফুলিয়ে বললো,

“কি বলতে চান আপনি?”

অয়ন পেছনে ঘুরে আদিলের দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে বললো,

“তোমার টার্গেট আদিল ভাই ছিলো তাই না? হলুদের দিন তাকে দেখার পর থেকে এমন পরিকল্পনা করেছো। ঘাসফড়িং এর পালক লাগিয়ে ঘাসফড়িং সেজে আদিল ভাইয়ের সামনে ঘুরবে আর সে লাল ফেলবে। আফটার অল, বড়লোকের ছেলে পটানোর এর থেকে ভালো উপায় কি ছিলো!”

অয়নের কথাটা শেষ হবার আগেই সজোরে তার গালে একটা চড় বসিয়ে দিলো প্রাপ্তি। চড়টা এতোই জোরে ছিলো যে তার হাত জ্বলছে। কিন্তু সেটার পরোয়া না করে সে কঠিন স্বরে বললো,

“অসভ্য, জানোয়ার। আর কখনো এমন কথা বললে আপনার মুখ ভেঙ্গে দিবো আমি”

বলেই হনহন করে হাটা দিল সে। লবিতে পিন পতন নীরবতা। বরপক্ষের ছেলে-পুলেরাও সাক্ষী অয়নের চড়ের। অয়ন চোয়ালে হাত দিয়ে ধীর স্বরে বললো,

“আউচ”

এরপর কিছু হয় নি এমন একখানা ভাব করে আদিলের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। উদাস, মলিন স্বরে বললো,

“দেখলেন তো ভাই, বলেছিলাম না মেয়েটার মাথায় প্রবলেম। আপনি তাকে পছন্দ করেন বলতেই আমাকে থাপ্পড় মারলো। আর বললো মুখ ভেঙ্গে দিবে”

আদিল বেচারা, ভ্যাবাচেকা খেয়ে আছে। তার মাথা কাজ করছে না। সে কিছুটা বিব্রত স্বরে বললো,

“তুমি বলতে গেলে কেন?”

“আমি আন্দাজ করেছিলাম এমন কিছু হবে। আপনি মানি ব্যক্তি আপনাকে এভাবে অপমান করলে আমার খারাপ লাগতো না? আমি কি করে আপনাকে থাপ্পড় খেতে দেই”

“আই এম সরি, আমার জন্য তোমাকে এভাবে থাপ্পড় খেতে হয়েছে। আমার নিজেরই খারাপ লাগছে”

“ইটস ওকে আদিল ভাই। ভাইদের মধ্যে চলে। চিল”

আদিল তাও অপরাধীর মতো মুখ কাঁচুমাচু করে ফেললো। তারপর খুব হতাশ স্বরে বললো,

“থ্যাংকিউ অয়ন। আমাকে বাঁচিয়ে দিলে। এই মেয়ে সত্যি ড্যাঞ্জারাস”

“ইউ আর ওয়েলকাম”

বলেই বাঁকা হাসলো অয়ন। গালটা একটু হালকা করে ঘষতে ঘষতে বিড়বিড় করে বললো,

“তেলাপোকার হাতে জোর আছে”………………

চলবে,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন