#মাঝরাতের_রোদ্দুর
#পর্ব ৮
#নওরিন কবির তিশা
সকাল থেকেই নাহিয়ান মঞ্জিলে ব্যস্ততার আমেজ। একে একে আসতে শুরু করেছে ইমতিয়াজ চৌধুরীর ক্লায়েন্ট, বন্ধু-বান্ধব, পরিচিতজনরা। নওরিফা খানমও কম ব্যস্ত নন। তাঁর পুরনো বান্ধবীরা আসবে যে আজ!
এদিকে শিশির তখনো ঘুমে নিমগ্ন।
নওরিফা খানম এসে দরজায় টোকা দিলেন।
একবার... দুইবার... তিনবার...
শিশিরের ঘুম হালকা হলো। ঘুমচোখে শুনতে পেলেন নওরিফার আওয়াজ:
— "কিরে! আজকেও কি দেরি করে উঠবি?"
শিশির এক ঝটকায় উঠে দরজা খুলে বলল,
— "আন্টি, আসলে খেয়াল ছিল না। কাল রাতে ঘুমাতে দেরি হয়ে গেছে তো..."
নওরিফা খানম কপালে হাত দিয়ে বললেন,
— "ব্যাপার না। তোকে তো প্রতিদিনই বলি! কিন্তু আমি যা বলেছিলাম, তা করেছিস?"
শিশির চোখ কচলে বলল,
— "কি বলেছিলে?"
— "আহা নুয়া! ভুলে গেলি? আমি তোকে বলেছিলাম আনায়াকে বলবি যেন আসে। যদিও আমি ওকে বলেছি, তার বাবা-মার কাছ থেকেও অনুমতি নিয়েছি... তবুও তোর একবার বলা উচিত ছিল, না? তোদের নিয়ে কই যাই! একদিকে নাহিয়ান— একদিন আগে এসে সব প্ল্যান নষ্ট করল। আর তুই?"
শিশির লজ্জা পেয়ে বলল,
— "সরি, আন্টি! আমি একদম ভুলে গিয়েছিলাম। দাঁড়াও, এখনই বলছি।"
নওরিফা খানম চলে গেলেন। শিশির স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ফোন করল আনায়াকে। সৌভাগ্যবশত, আনায়া বলল,
— "টেনশন করিস না! আমি রেডি আছি, এখনই বের হব।"
ফোন রেখে শিশিরও ছুটে গেল ওয়াশরুমে। তাকেও তো রেডি হতে হবে!
---
অন্যদিকে…
ইয়ালিনা সকাল থেকেই ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে। একটার পর একটা ড্রেস তুলে দেখছে আর ছুঁড়ে ফেলছে।
"উফফ! একটাও পছন্দ হচ্ছে না!"
শেষমেশ একটা ব্ল্যাক লং ফ্রক তুলে নিল। নিজের মনে বলল,
"নাহিয়ান ভাইয়ার ফেভারিট কালার তো ব্ল্যাক… আজ ও নিশ্চিত কিছু একটা ব্ল্যাক পরবে। আর আমি? আমি কেন তার সাথে ম্যাচ করব না?"
ড্রেসের সাথে চিকন ডায়মন্ড নেকলেস পরে সে নিজেকে আয়নায় দেখল। কালই দুইজন বিউটিশিয়ানকে হায়ার করেছে— আজকে তাকে সাজিয়ে দেবে। সাজানো শেষে আয়নায় তাকিয়ে এক ঠাণ্ডা হাসি দিল ইয়ালিনা। নিজের মনেই বলল,
"ওয়েট, শিশির শাহ, ইয়ালিনা চৌধুরী ইজ কামিং… আজকে দেখব সবাই কেমন তোমার প্রশংসা করে😏
---
এদিকে…
শিশির আজ পারপেল কালারের একটা গাউন পরেছে। সামান্য গর্জিয়াস, কিন্তু ভীষণ ক্লাসি। কাল রাতে নাহিয়ানের রুম থেকে উপহার নিয়ে আসার পর প্যাকেট খুলে দেখেছিল। বড় প্যাকেটটাতেই ছিল এই গাউন।
গাউনটা একদম তার পছন্দমতো— হেভি গর্জিয়াস নয়, বরং নরম, স্নিগ্ধ এক সৌন্দর্য।
সাথে একটা চিকন নেকলেস পরে নিল। তার ফর্সা গলায় সেটা চিকচিক করছিল। শিশিরের সাজ সাদামাটা— হালকা ফাউন্ডেশন, চিকন আইলাইনার, ঠোঁটে মেরুন লিপস্টিক। ব্যস, আর কিছু নয়।
---
নিচে ড্রয়িংরুমে বন্ধু-পরিজনদের সঙ্গে গল্প করছিল নাহিয়ান। হঠাৎ তার চোখ আটকে গেল সিঁড়ির দিকে।
ধীরে ধীরে নামছে একটা মেয়ের অবয়ব। পার্পেল কালারের গাউনে যেন কোন রূপকথার রাজকন্যা।
নাহিয়ানের চোখ আটকে গেল।
ঠিক তখনই পাশে জোরে একটা ধাক্কা। ফিরে তাকাতেই দেখে সাজিদ দাঁড়িয়ে মুচকি হেসে।
নাহিয়ান ভ্রু কুঁচকে বলল,
— "হোয়াটস প্রবলেম??? তোর কারনে কি একটু শান্তি করে নিজের বউটাকে দেখতেও পারবোনা?"
সাজিদ ঠোঁট টিপে বলল,
— "উমম… এসেছে আমার বউবাদী জামাই রে! এত শখ? যা, সামনে গিয়ে বল ‘তুমি আমার বউ’ — দেখি না কেমন অবস্থা করে তোর !"
নাহিয়ান কিছু বলার আগেই পাশে রিদিত হেসে উঠল,
— "হায় হায়! শেষ পর্যন্ত আমাদের গম্ভীর সিআইডি অফিসার নাহিয়ান চৌধুরীও বউয়ের কাছে টাইট হবে! ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে!"
সাজিদ আর রিদিত— নাহিয়ানের বেস্ট ফ্রেন্ড। তবে সাজিদের একটা বাড়তি পরিচয়ও আছে— সে শিশিরের মামাতো ভাই।
তাদের এই ইয়ার্কি শুনে নাহিয়ান হেসে বলল,
— "শুধু টাইট? দরকার হলে ওর হাতে মরতেও রাজি আছি!"....
---
চলবে…
(নোট:কেমন হয়েছে আজকের পর্ব?? পাশে থাকবেন ইনশাআল্লাহ এরপর থেকে আপনাদের জন্য রোমান্টিক, মিস্ট্রিরিয়াস ও থ্রিলিং পার্ট গুলো আসতে চলেছে 😊😊❤️)