ফন্ট সাইজ:
থিম:
জমিদার মহল

২৫তম পর্ব

লেখক: শ্যামলী রহমান

#জমিদার_মহল

#পর্বসংখ্যা–২৫

#শ্যামলী_রহমান

ইমতিয়াজের অভিষেক হয়েছে।আজ থেকে জমিদার সে।এ দায়িত্ব এমনিতেও পেতো,তবে সাইফুদ্দিন নওয়াজ খানের মৃত্যুর জন্য আগেই গ্রহণ করতে হলো।রাজ্যের প্রায় সকল প্রজা অভিষেক এ এসেছিলো।নতুন জমিদার হিসাবে জমিদার পুত্র কে পেলেও তাদের দুঃখ বড় জমিদার কে নিয়েই।মৃত্যুর পর যেন তার সুনাম বাড়লো।কথায় আছে 'মত্যুর পর শত্রুও আফসোস/সুনাম করে' এমনই হলো।সবকিছু স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে।মহলের বিষাদ কবে দূর হবে এ কেবল আল্লাহ জানে।ইমতিয়াজ দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে বাঁধা পড়লো প্রজাদের সুখ দুঃখের ভারে।ওয়াসিফ তার সঙ্গ দিবে এমনই কথা হয়েছে।জমশেদ আমিরাত সাহ্ এর কাজগুলো দেখবে।জাভেদই এই দায়িত্ব দিয়েছে পুত্র কে।হামিদা সালেহার সঙ্গে আর থাকে না তেমন।মালিনী কে তনিমা আর মেহেরনাজ বুঝিয়ে অনেকটা শান্ত করেছে।মেহেরনাজ নিজেও অশান্ত।ইমতিয়াজ দায়িত্ব নিয়ে প্রজাদের সঙ্গে কথা বলে মাত্র কক্ষে ফিরলো।মেহরনাজ অপেক্ষায় আছে তা ভাবলো।কিন্তু কক্ষে এসে মেহেরনাজ কে দেখতে পেলো না।এক দাসিকে দিয়ে ডাক পাঠালো।কোথায় আছে আসতে বলতে শিগগিরই।দাসী চলে গেলো হুমুক মানতে।সে পালঙ্কে বসে পড়লো।হাতের তলোয়ার খানা পাশেই রাখলো।দীর্ঘ শ্বাস ছাড়লো।জীবনে দুঃখবোধ কতদিন বা রাখবে ধরে?তার উপরে যে পুরো রাজ্যের ভার পড়েছে।

“এসে পড়েছেন?

কক্ষে প্রবেশ করেছে মেহেরনাজ।ইমতিয়াজ তার দিকে তাকালো।দৃষ্টি স্থির করে রইলো।এমনভাবে তাকানো দেখে শুধালো,

“এভাবে তাকাচ্ছেন কেন?

“ হাতের ক্ষতে ঔষুধ লাগিয়েছো?

মেহেরনাজ আমতা আমতা করলো।বলল,

“ হ্যাঁ,না।এখনই লাগাবো।

ইমতিয়াজ এখনো তাকিয়ে আছে।মেহেরনাজের মুখখানা ভয় পাওয়ার মতো হয়ে গেছে।কাল মধ্য রাতে যখন চিৎকার শুনে সকলে পৌঁছালো।গিয়ে দেখলো মেহেরনাজ নিচে পড়ে আছে।হাত দিয়ে ঝরঝর করে র*ক্ত পড়ছে।দেখে মনে হয়েছে এটা খঞ্জরের আঘাত।কিন্তু কে আঘাত করেছে তা ধরতে পারেনি।ওয়াসিফ দৌঁড়ে পিছু নিলেও ধরতে পারেনি।মহলের পাশে একটা পাকড় গাছ আছে তা সেটা বেয়ে নিচে নেমে পালিয়ে গেছে।মুখখানা ও দেখা যায়নি।তবে এতটুকু বোঝা গেছে বাহিরের কেউ এই গাছ বেয়ে মধ্য রাতে মহলে প্রবেশ করেছে।ইমতিয়াজ রেগে গিয়েছিল প্রহরীদের উপর।কেন তাদের এমন হেলাফেলা পাহারা?তাই আজকে থেকে মহলের পিছনে দ্বিগুণ পাহারা বসালো।

মেহেরনাজ তাড়াতাড়ি করে ঔষুধ লাগাতে নিলে ইমতিয়াজ বাঁধা দিলো।পালঙ্ক থেকে উঠে গিয়ে নিজ হাতে ওষুধ লাগিয়ে দিলো ক্ষত স্থানে।অনেকটা গভীরভাবে লেগেছে।মেহেরজান ধরতে গেলে লোকটি বুঝতে পেরে পিছনে ঘুরে আঘাত করেছে।মুখে অবধি শাল জড়ানো ছিলো একহাতে।

মেহেরনাজ সুযোগ পায়নি তার মুখ দেখতে।ব্যথায় চিৎকার দিয়ে বসে পড়েছিলো।ততক্ষণে সে পালিয়ে গিয়েছিলো।

“মানুষটির মুখ দেখতে না পাও।তার পোশাক,হাত-পা কিংবা চোখ দেখতে পাওনি?চেনা লেগেছে?বা কোথাও দেখেছো মনে হয়েছে?

মেহেরনাজ মাথা নাড়ালো।দেখতে পায়নি তা বুঝালো।ইমতিয়াজ উঠে পড়লো।বলল,

“আমি কিছু কাজে বেরোচ্ছি তুমি সাবধানে থেকো।

“আপনি একা যাবেন?

ইমতিয়াজ দরজার কাছে গিয়ে থামলো।মেহেরনাজের ভয় পাওয়া দৃষ্টি বুঝতে পেরে কিছুটা হাঁসলো।প্রতিত্তোরে বলল,

“ওয়াসিফ কে নিয়ে যাবো সাথে মাহমুদ ও যাবে সম্ভবত।

“সাবধানে যাবেন।তাড়াতাড়ি ফিরবেন।

ইমতিয়াজ চলে গিয়েছে।মেহেরনাজ বেরিয়ে গেলো সালেহা বেগমের কক্ষে।গিয়ে দেখলো তিনি শুয়ে আছেন।জানালা দিয়ে বাহিরে তাকিয়ে আছে একদৃষ্টিতে।চোখের কার্ণিশ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে।সেদিকে উনার নজর নেই।স্বামীর শোক কেঁটে ওঠা বড় কঠিন।জীবনে সবচেয়ে বেশি কেবল সে এক ব্যক্তিই সব সময় কাছে,পাশে থেকেছে।ভালোবেসেছে,মহলে সম্মানের সহিত এনেছিলো।

সবকিছু ভুলে যাওয়া কি এতোই সহজ?

মেহেরনাজ ধীর পায়ে পালঙ্কে উনার পাশে বসলো।কারো উপস্থিতি টের পেয়ে তুনি তাকালেন।মেহেরনাজ কে দেখে চোখের জল মুছে উঠে পড়লো।মিথ্যে হেঁসে মেহেরনাজ কে শুধালো,

“তোমার ব্যথা কমেছে?দেখি ক্ষত কেমন হয়েছে।

মেহেরনাজ হাত এগিয়ে দিলো।উনার দিকে তাকিয়ে বলল,

“আম্মা একজন নারী হয়ে আপনার কষ্ট আমি বুঝতে পারি।মা আপনি সন্তানের ভরসা হয়ে সাহস দেন।দোয়া করি আব্বাজান বেহেশত বাসী হোক।

আমিও আব্বাজান কে হারিয়েছি,আমার আম্মাজান হারিয়েছে আপনার মতোই সঙ্গী।শোক এবং সঙ্গী কোনোটাই ভুলা যায় না কিন্তু চাঁপা দিয়ে রাখতে হয়।মানুষের সামনে দুঃখ নিয়েও হাঁসতে হয়।মালিনী এবং আপনার পুত্রের কথা ভাবেন।তাদের সামনে শক্ত হয়ে দাঁড়ান।মহল এবং আপনার পুত্রের শত্রুর বেড়েছে।মহলে বাহিরের মানুষের আগমন ঘটছে কিন্তু আমরা ধরতে পারছি না।আমাকে আপনাকে অন্দরমহল দেখে রাখতে হবে।

সালেহা সবকিছু শুনলো।শব্দ করে কেঁদে ফেললো।

মেহেরনাজের অন্য হাতটা ধরে বলল,

“তোমায় কত কঠিন কথা শুনেছি,ভুল বুঝেছি,নানান ভাবে তাচ্ছিল্য করেছি।তুমি আমায় মাফ করিও।আমি না পারি আমার ইমতিয়াজের শক্তি তুমি হইয়ো।শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করতে তুমি পাশে থেকো।সাহস যুগিয়ে এগিয়ে যেও।

যেনে রেখো,

“যুদ্ধের ময়দানে স্ত্রী'র সাহস যোগানো কিন্তু একজন যোদ্ধার শক্তি হয়ে দাঁড়ায়।সরাসরি পাশে না থাকলেও কথায় শক্তি যোগায়।

মেহেরনাজ মাথা নাড়িয়ে প্রতিশ্রুতি দিলো।সালেহা বেগম কে উঠিয়ে তেল মালিশ করে দিলো।চুল গুলো কেমন উষ্কখুষ্ক হয়ে ছিলো।দাসিকে বলে খাবারের থালা এনে খাইয়ে দিলো।সালেহা বেগম চুপচাপ খেলো আর দেখলো মেহেরনাজের যত্ন।যাকে অবজ্ঞা করেছিলো প্রথমদিন হতে,সেই এখন সবকিছু সামলাচ্ছে।পুত্র কে সাহস যোগাচ্ছে,মালিনী কে শান্তনা দিচ্ছে,আমাকে বুঝাচ্ছে।ভেতরে শোক রেখেও অল্প বয়সে কত বুঝদার তৈরি হয়েছে।

মালিনি আজ চারদিন পর মহলের বাহিরে এসেছে।

বাগানের দিকে যায়নি পুষ্কিনির সান বাঁধানো ঘাটে বসে আছে।পাশে তনিমাও আছে।সে কত কথা বলছে কিন্তু মালিনীর সেদিকে মন নেই।তনিমা এবার চুপ হয়ে গেলো।মালিনী কে উঠিয়ে বাগানের দিকে নিয়ে গেলো।সেখানে মালির দেখা মিললো।সে কাজ করছিলো।দুজনকে দেখে থেমে গেলো।

মালিনীর বিষাদ মুখখানা নজরে আসলো।মালিনী এক পলক তাকালো।তনিমা বলল,

“মালি ভাইজান আপনার মালিনী মন খারাপ।ফুল এনে দিনতো,মন ভালো করার চেষ্টা করুন তো।

আপনার মালিনী বলাতে মুবিন কিছুটা ভড়কে গেলো।বুঝতে না পারলো না কেন এমন বললো?

তবে কি মনের অন্তরালে থাকা অনুভূতি টের পেলো?নাকি মালিনী বলে দিয়েছে?

“ভয় পাওয়ার কিছু নেই।আমি এমনি বলেছি।আপনি মালিনীর পছন্দের ফুল এনে দিন তো।

মতুন গাছে একটা ফল ও হয়েছে দেখলাম সেটাও এনে দিন।

মুবিন কথা মতো ফল,ফুল আনতে গেলো।মালিনী বলল,

“ভাইজান আসছে দেখতে পেলে সমস্যা আছে।চলো তাড়াতাড়ি।তনিমাও তাকালো।দেখতে পেলো ইমতিয়াজ আর ওয়াসিফ আসছে।দুজনে তড়িঘড়ি করে চলে গেলো।মুবিন তখনই আসলো কিন্তু ওরা দুজনে কিছুটা দূর চলে গেছে।পিছু ডাকতে গিয়েও ডাকলো না।কারণ ডানপাশে ইমতিয়াজ আর ওয়াসিফ কে দেখতে পেলো।ফল আর ফুল গুলোর দিকে তাকিয়ে রইলো।কিছু একটা ভেবে মনে মনে বলে উঠলো,

“জমিদার চোখের জল,

হৃদয়ে তলোয়ারের আঘাতের ন্যায় ব্যথা অনুভব করায় কেন?”

তার মোহে কি আমিও আটকা পড়লাম?দূরে থাকতে থাকতে কি হৃদয়ে তার জন্য কিছু অনুভব করলাম?না এই অসম্ভবের প্রতি কোনো টান অনুভব করবো না।জমিদার কন্যা কে নিয়ে স্বপ্ন দেখাও বারণ,সেখানে এমন কিছু ভাবাও তো পাপ।

ইমতিয়াজ মহলে ফিরে সোজা জমশেদের কক্ষে গেলো।

“চাচাজান আছেন?

ভেতর থেকে অনুমতি আসতে সে ভেতরে প্রবেশ করলো।হামিদা বেগম ও সেখানে ছিলো।তাকে দেখে বসতে বললো।ইমতিয়াজ বসলো না।

“আপনার সঙ্গে কিছু কথা বলতে আসলাম।

জমশেদ শুনতে আগ্রহী হলো।

“বলো কি বলবে?ভাইজানের অনুপস্থিতিতে আমি তোমার ভরসা হতে চাই ইমতিয়াজ।চাচাজান ও কিন্তু তোমায় ভালোবাসে।হয়তো তোমার আব্বাজানের মতো বাসতে পারবো না কিন্তু যেন রেখো চেষ্টার ত্রুটি রাখবো না।

“জানি চাচাজান।আপনাকে ভরসা করি।যে কথা বলতে এসেছি সেটা বলি?

আব্বাজানের দক্ষিণের জমি গুলোর দলিল কোথায় আছে জানেন?একজন বললো আব্বাজান নাকি ওগুলো বিক্রি করেছে।কিন্তু আব্বাজান তো আমায় কিছু বলেনি।আজ হঠাৎ জমির মালিকানা নিয়ে পাশের রাজ্যের এক বনিক উপস্থিত হয়েছে গ্রামে।

জমশেদ অবাক হলো।সত্যিই অবাক কিনা তা বোঝা মুসকিল।বিস্ময় নিয়ে বলল,

“কি বলছো?ভাইজান তো আমাকেও বলেনি।দলিল এসব তো আমার কাছে নেই বা বলেনি।

ওহ হ্যাঁ তবে একবার বলেছিলো প্রজাদের জন্য কিছু জমি বিক্রি করেছিলো।

“কিন্তু মহলে তো অর্থের অভাব কখনো পড়েছিলো বলে তো জানতাম না?

“সেসব তো আমি জানিনা ইমতিয়াজ।ভাইজান কি করেছে সত্যিই জানিনা।তুমি বরং আমাকে নিয়ে সেই বনিকের কাছে চলো।আমি কথা বলি।

ইমতিয়াজ সায় জানিয়ে কক্ষে থেকে বেরিয়ে পড়লো।জমশেদ শুধু কুটিল হাঁসলো।হামিদ ভ্রু কুঁচকে তাকালো।

“কি হলো আপনার?

“না কিছু না।

জমশেদ বেরিয়ে গেলো।হামিদা তাকিয়ে রইলো।বুঝলো না কিছুই।

_____

মেহেরনাজ ইমতিয়াজ কে খেতে দিয়েছে।দাসীরা পানি বাহিরে দাঁড়িয়ে আছে।কিছু লাগবে নাকি শুনছে।ইমতিয়াজ তাদের যেতে বলতেই সকলে চলে গেলো।মেহেরনাজ ইমতিয়াজের পাশে বসে তার খাওয়া দেখছে।

“আর কিছু দেবো?

“না।তুমিও খেয়ে নাও।

“মহলের নিয়ম স্বামী খেলে তার পর খাওয়া।সেই নিয়ম না-হয় ভঙ্গ না করি।মহলের দায়িত্বশীল বেগম হই।

“বাহ!বেশ তো।জমিদার বেগম এমন হওয়া চাই-তো।এমন নিয়ম না মানলেও চলবে আমার প্রতি আরেকটু দায়িত্বশীল হলে ভালো হবে।

মেহেরনাজ হেঁসে ফেললো।ইমতিয়াজ একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো।বেগমের হাঁসি বরাবরের ন্যায় হৃদয় কাড়লো।

হঠাৎ কিছু পড়ার শব্দে দুজনের দৃষ্টি ভঙ্গ হলো।চকিত নজরে আশে পাশে তাকালো।ইমতিয়াজ খাবারের থালা রেখে উঠলো না।মেহেরনাজ উঠে গেলো।খানিক বাদে আবারো আসলো।ইমতিয়াজের ততক্ষণে খাওয়া শেষ।হাত ধুয়ে মেহেরনাজ কে শুধালো,

“কি পড়লো?

“বিড়াল আর তার ছানারা বাহিরে ছুটে বেড়াচ্ছে।

যে বিড়াল কে একদিন বলছিলেন, 'কক্ষে আমার বেগম শান্তিতে ঘুমাতে দেয় না আর বাহিরে বিড়ালের বেগম।

ইমতিয়াজ মেহেরনাজের হাঁসি মুখের দিকে তাকালো।কপালে ভাজ পড়লো।কিছু একটা ভাবতেই আবারো শুধালো,

“তুমি জানলে কি করে?

“দেওয়ালের কান আছে জানেন তো?

“বুঝেছি।অবিশ্বাস থেকে পিছু নিয়েছিলে তাই তো?

“হ্যাঁ।কিন্তু সেই অবিশ্বাস এখম বিশ্বাসে পরিনত হয়েছে।

“এই বিশ্বাস কতদিন পর্যন্ত থাকবে?

“মৃত্যুর আগে পর্যন্ত।আপনি শুধু বিশ্বাসের মর্যাদা রাখবেন আর আমার পাশে থাকবেন।এতটুকু চাওয়া।পাওয়া হিসাবে আপনি তো আছেনই।

“ভাইজান আছো?

দুজনে দরজার দিকে তাকালো।কন্ঠ ওয়াসিফের চিনতে অসুবিধা হলো না।

“হ্যাঁ আয়।

“তোমার সঙ্গে কিছু কথা আছে একটু বাহিরে আসো।ইমতিয়াজ মেহেরনাজ কে অপেক্ষা করতে বলে চলে গেলো।মেহেরনাজ জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়ালো।কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে কক্ষ বরাবর এসে কাঙ্ক্ষিত জায়গা থেকে সেদিন রাতে পাওয়া জিনিসটি বাহির করলো।একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো।

চলবে.................?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন