#জমিদার_মহল
#পর্বসংখ্যা–৩০
#শ্যামলী_রহমান
প্রবাহমান জীবনে নদীর সচ্ছ জলের ন্যায় সময় ফুরিয়ে যায়।আবারো সময় আসে তবে নতুন করে।পুরোনো কোনোকিছুই থাকে না,থাকে কেবল স্মৃতি।মানুষ বলো আর বৃক্ষ সবই একদিন ভূপৃষ্ঠ হতে মুচ্ছা যায়।স্মৃতির আড়ালে লুকায়িত দুঃখ,হৃদয়ের অন্তরালে ভূমিষ্ট ভালোবাসা,দুটোই বুকের মধ্যে লালন করা হয়।একটি কষ্ট দেয়,আরেকটি সুখে সাথে আনন্দ ও দেয়।তবুও সব ভালোবাসা কি আর আনন্দ ছড়াতে সফল হয়?কিছু ভালোবাসা তো পাহাড়সম বিভেদের দেওয়ালে আটকা পড়ে যায়।বিভেদের দেওয়াল ভেঙে যে যেতে পারবে,ভালোবাসার জয় তারই হবে।
স্মৃতি বুকে নিয়ে সময় কেটেছে।হেমন্তের শীতল হওয়ায় ছুঁয়ে দিচ্ছে মহল।কৃষকের ফসল ঘরে আনার তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে।সচ্ছ আকাশে সচ্ছ তুলোর মতো মেঘ উড়ে যাচ্ছে।জানালা দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে মেহেরনাজ সে-সবই দেখছে।তার পিছনে দাঁড়িয়ে আর কেউ একজন যে তাকেই দেখতে তা সে খেয়াল করেনি।একমনে তাকিয়ে আছে আকাশ পানে।ইমতিয়াজ আরেকটু নিকটে গেলো।মেহেরনাজের পিঠ ঠেকলো ইমতিয়াজের বুকে।মেহেরনাজ আচমকায় চমকে উঠলো কিছুটা।শীতল হাতের স্পর্শ পেতেই বুঝতে পারলো কে সে।ইমতিয়াজ এমনভাবে জড়িয়ে রেখেছে যার কারণে একটু নড়তে পারছে না,ঘুরতে পারছে না।মেহেরনাজের নড়াচড়া দেখে ইমতিয়াজ তার কাঁধে থুতনি ভর রেখে গালে গাল স্পর্শ করলে।মেহেরনাজ চোখ বন্ধ করলো।ছাড়া কন্ঠে কিছু বলতে নিতেই ইমতিয়াজ ঠোঁট ছোঁয়ালো কাঁধের একপাশে।মেহেরনাজের কথা সেখানেই থেমে গেলো।ইমতিয়াজ এবার মেহেরনাজ কে ছেড়ে সামনাসামনি দাঁড় করালো।লজ্জা মিশ্রিত মুখশ্রী দেখে শব্দ করে হেঁসে উঠলো।বলল,
“লজ্জা রাঙা মুখশ্রীতে মন্দ লাগছে না।এজন্য কি আমার নিত্যদিন লজ্জা দেওয়া উচিত?
মেহেরনাজ কপালে ভাঁজ ফেলে তাকালো।লজ্জা রাঙা মুখশ্রী মুহূর্তে পরিবর্তন করে বলল,
“আপনাকেও হাঁসিতে মন্দ লাগছে না।এজন্য কি আমারো আপনাকে প্রতিদিন কাতুকুতু দেওয়া উচিত?
ইমতিয়াজ বাঁকা চোখে তাকালো।হয়তো এই কথার প্রসঙ্গে এই কথা প্রসঙ্গ বুঝলো না তাই।মেহেরনাজ তার ভাবনা দেখে বলল,
“ভাবনার সাগরে বুদ না হয়ে হাতমুখ ধুয়ে খেতে আসুন।আপনার জন্য সেই কখন থেকে অপেক্ষা করছি।ইমতিয়াজ মাথা নাড়ালো।মেহেরনাজের পিছু পিছু বেরিয়ে গেলো।তখনই ওয়াসিফের সঙ্গে দেখা হলো।
“পশ্চিমের আরুণীপুর গ্রামে এক কৃষক কন্যার নিকাহ কাল।সেখানে কিছু অর্থ প্রদান করবো বলে এসেছি।তুই গিয়ে দিয়ে আসবি।নিমন্ত্রণ ও আছে বটে।কাল বরং তুই আর আমি মিলে যাবো না হয়।
ওয়াসিফ সম্মতি জানালো।অন্যপাশে যেতে নিলে ইমতিয়াজের ডাকে আবার থেমে গেলো।
“কিছু বলবে?
ইমতিয়াজ এগিয়ে গেলো।হুট করে ওয়াসিম কে জড়িয়ে ধরলো।ওয়াসিফ কিছুটা চমকে উঠলো হঠাৎ এমন করায়।ইমতিয়াজ কাঁধে হাত রেখে শান্তনা আর আফসোসের ন্যায় বলল,
“তুই আমার জীবনে শ্রেষ্ঠ মিত্র/ভ্রাতা সবই ওয়াসিফ।তুই না থাকলে আমার জীবন,সংগ্রাম কোনোকিছুই এতো সহজ হতো না।আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া আমার জীবন কিছু মূল্যবান মানুষ কে পাঠানোর জন্য।সেই মূল্যবান মানুষ গুলোর মধ্যে তুই ও একজন।যাকে আমি আমার মৃত্যুর দ্বার কান্দেও পাশে পেয়েছি।এ জীবনে আমার আর কিছুই চাওয়া,পাওয়া নেই।তোরা সকলে আমার জীবনে শ্রেষ্ঠ পাওয়া।
ওয়াসিফ ইমতিয়াজের কথায় বাঁধন শক্ত করলো।তার চোখ জল চিকচিক করছে।নিজ ভ্রাতার চেয়ে ইমতিয়াজ কে বোধহয় বেশি ভালোবাসে।মানুষ তখনই র*ক্তের সম্পর্কের চেয়ে অন্য কে বেশি ভালোবাসে,যখন সে নিজের জন্য অন্য কারো চোখে ভালোবাসা দেখতে পায়,বুঝতে পারে।
“ছোট বেলা থেকে তুমি আমার জীবন বাঁচিয়েছো কয়েকবার,আম্মাজান বকা দিলে তুমি সামলিয়েছো,খেলতে গিয়ে ব্যথা পেলে তুমিই ঔষুধ লাগিয়েছো।ভ্রাতা হিসাবে এতটুকু ভালোবাসা তোমার পাওনাই।
ইমতিয়াজ ছেড়ে দিলো।জল চিকচিক করা চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,
“আমাকে মাফ করে দিস।চাচাজান আর ভাইজান কে শাস্তি দিতে হতোই।ছাড় পাওয়ার কোনো রাস্তা রাখেনি।
ওয়াসিফ এবার বুঝতে পারলো ইমতিয়াজের এমন বলার কারণ।
“পাপের শাস্তি পাওয়াই উচিত।তুমি কেন মাফ চাচ্ছো?তারা আমার পিতা আর ভ্রাতা হলেও তাদের আমি নিজেও ছাড় দিতাম না।যারা হত্যার কোনো নিকৃষ্ট কাজ করতে পারে তাদের পিতা,ভ্রাতা ভাবলেও ঘৃণা লাগে।কেন জন্মালাম বলো তাদের ঘরে?নিজেকে ঘৃণা লাগে।তোমার সামনে দাঁড়ালে লজ্জা লাগে।
“আপনাকে বেগম সাহেবা ডাকছেন জমিদার মশাই।ইমতিয়াজ দাসিকে আসছি বলে পাঠিয়ে দিলো।ওয়াসিফ কে হাঁসি মুখে বলল,
“নিজেকে কখনো ঘৃণা করবি না ওয়াসিফ।জীবনের শেষ পর্যন্ত তোর এই ভাইজান সঙ্গে রবে,সমস্ত বিপদে মিত্র হয়ে পাশে থাকবে।আমার সঙ্গে ও শুধু তুই থাকিস।তোর মতো কেউ একজন আমার ভীষণ প্রয়োজন।তুই ছাড়া কেউ হতে পারবে না প্রিয়জন।
ওয়াসিফ নিজেও মাথা নাড়িয়ে হাঁসলো।বুকের ভেতর ব্যথা চেপে রাখলো।মুখে ঘৃণা করে বললেও তা কি সম্ভব?কিন্তু ভালোবাসা গুলোও আর নেই।
ইমতিয়াজের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ভাবলো,
“জীবনে কিছু গেলে তা ফিরে আসে।আল্লাহ হয়তো তার জন্যই আগে হতেই তোমার সঙ্গে রক্তের সাথে আত্মার ও সম্পর্ক করিয়ে দিয়েছে।”
মুবিন কিছুদিন হলো কাজে আসছে না।মালিনী এদিক সেদিক তাকিয়ে রোজ অপেক্ষা করে কবে তার মালি আসবে।অপেক্ষার প্রহর পেরিয়ে মালি আর আসে না। এক দুই করে পুরো পাঁচদিন হলো আসছে না।খারাপ কিছু হলো কিবা এ শঙ্কায় ও মালিনীর রাত্রি কাঁটে।প্রহরীদের জিজ্ঞেস করেও জানতে পারেনি।বার বার জিজ্ঞেস করা কিংবা খোঁজ নিতে বলায় যদি সন্দেহ করে ইমতিয়াজ কে বলে দেয় এই ভয়ে আর জিজ্ঞেস করেনি।বিকেল হতেই বাগানে এসে বসে আছে।সঙ্গে তনিমাও আছে।দুজনে গল্পে মজেছে।তনিমা কথায় কথায় প্রশ্ন করলো,
“তোর আর মালির ভালোবাসা যদি ভাইজান মেনে না নেয়?কি করবি তখন?
মালিনী বুকের বা পাশে চিনচিন ব্যথা অনুভব করলো।মনে হলো কথাটা যদি সত্যি হয়?
“ভালোবাসার জন্য লড়াই করবো।
“লড়াইয়ে সবাই জয়ী হয় না মালিনী।
“পরাজয় মানবো না।যদি মালি আমার সঙ্গে থাকে,পৃথিবীর কেউ-ই আলাদা করতে পারবে না।সে সঙ্গে থাকলে পাহাড় সম বাঁধাও অতিক্রম করতে দ্বিধা বোধ করবো না।”
“যদি সে পাশে না থাকে?
তনিমার শেষ কথাটা মালিনীর বুকে তীরের ন্যায় বিধঁলো।এক আকাশ হাহাকার দিকশূন্য পথের ন্যায় কন্ঠে উত্তর এলো,
“তবে ভালোবাসা নামক বস্তুর বিসর্জন হবে।
সাথে বিসর্জন হবে আমার বিশ্বাস।”
একটু থেমে আবারো বলল,
“এতটুকু বিশ্বাস আমার আছে।মালির চোখে আমার জন্য যে ভালোবাসা দেখেছি তা কখনো মিথ্যা হবে না।
“আমিও চাই তুই তোর মালি পেয়ে যা।ভয় শুধু ইমতিয়াজ ভাইজান কে নিয়ে পাই।সঙ্গে ওয়াসিফ ভাইজান ও আছে।
মালিনী তনিমার পানে তাকালো।মুঁচকি হেঁসে বলল,
“তুমি ভাগ্যবতী।ওয়াসিফ ভাইজান কে পেতে তোমার কোনো বাঁধা থাকবে না।ভাইজানের প্রিয় পাত্র সে।বোনের জন্য নিশ্চয়ই তার চেয়ে ভালো কেউ হবে না।
তনিমা ও হাঁসলো।আসলেই তার ভাগ্য ভালো।কেউ না জানলেও ওয়াসিফের উপর ভরসা আছে।তাকে না মানার কেনো কারণ নেই।সুপাত্র বটে,মানুষটা ভালো,ব্যবহার, কথা সবকিছুই সুন্দর।এক কথায় অসাধারণ ব্যক্তিত্বে মানুষ।
“তুমি কি দেখে ভাইজানের প্রেমে পড়েছিলে?
“ব্যক্তিত্ব দেখে।যার ব্যক্তিত্ব সুন্দর তার সবকিছুই সুন্দর।একজন ব্যক্তিত্ববান পুরুষ সব সময় নারীর ইচ্ছের,সম্মানের মর্যাদা রাখে,ভালোবেসে এক নারীরে আসক্ত থাকে।তাকে ভালো রাখার জন্য সবকিছু করতে পারে।
মালিনী মুগ্ধ হলো তনিমার কথায়।কিছু বলবে তার আগেই থেমে গেলো।যখন দেখলো তনিমার পিছনে ওয়াসিম দাঁড়িয়ে আছে।মালিনী কিছুটা ভয় পেলো।মনে মনে ভাবলো,আমার কথা শোনেনি তো?
তনিমা তার ভয়ার্ত চেহারা দেখে চোখের ইশারায় জামনে চাইলো,‘কি হয়েছে?
মালিনি ইশারায় পিছনে তাকাতে বললো।তনিমা ঘুরে তাকালো।দেখলো ওয়াসিফ কিছুটা দূরত্বে তাদের দিকে তাকিয়ে আছে।এবার ধীরে ধীরে তাদের সামনে এগিয়ে এলো।মালিনী দুজন কে রেখে মাথা নিচু করে চলে গেলো।তনিমা দাঁড়াতে বললেও শুনলো না।ওয়াসিফ তনিমার সামনাসামনি হলো।
“প্রেম,ভালোবাসার সজ্ঞা ভালো বুঝো দেখছি।তা সংসার বুঝো?
“বুঝবো না কেন?আম্মা,বড় আম্মাদের দেখছি।
তনিমার মিনমিনে কন্ঠে ওয়াসিফ হাঁসলো।তনিমার মুখের সামনে মাথা হেলে আবারো বলল,
“তাহলে কি এবার নিকাহ'র প্রস্তাব রাখবো?”
তনিমা ওয়াসিফের দিকে তাকিয়ে আবার দৃষ্টি নিচু করলো।লজ্জায় মুখ লুকালো যেন।
“কি হলো বলো?”
তনিমা লজ্জায় সে স্থান প্রস্থান করলো।দৌঁড়ে যাওয়ার আগে শুধু বলল,
“জানিনা।
ওয়াসিফের ঠোঁটের হাঁসি গাঢ় হলো।তনিমার পথের দিকে তাকিয়ে হাঁসি আরে বাড়লো।তাদের দূর থেকে কেউ একজন পর্যবেক্ষণ করলো।ঠোঁটের কোনে তার ও হাঁসি ফুটে উঠলো।
_____
সালেহা বেগম মাত্র রসুই ঘর থেকে কক্ষে আসলেন।হামিদা মন মানসিকতা ভালো নেই।তাকে রসুই ঘরে প্রবেশ করতে নিষেধ করছে সালেহা।একবার বিশ্বাস ভঙ্গ তা আর সহজে ফিরে আসে না।শারমিন বেগম কাজে সাহায্য করে সাথে দাসিরা তো থাকেই।সবে তিনি পালঙ্কে বসছে তখনই ইমতিয়াজের ডাক শুনতে পেলো।
“আম্মাজান আসবো?
“হ্যাঁ আয়।
সালেহা বেগম এর অনুমতি পেতেই ইমতিয়াজ কক্ষে প্রবেশ করলো।সঙ্গে মেহেরনাজ ও আছে।ইমতিয়াজ তাকে ডেকে আনলো কিন্তু কারণ কি তা জানায়নি।একসাথে বলবে বললো।সালেহা বেগমের দুপাশে দুজন বসলো।ইমতিয়াজ কিছু কথা বলার পর বলল,
“আম্মা তোমার সঙ্গে কিছু কথা আছে।
“কি কথা?
“পাশের রাজ্যের জমিদার শাহবাজ খান মালিনীর জন্য নিকাহ প্রস্তাব পাঠিয়েছে।তার একমাত্র পুত্র শাহাদত খান এর জন্য মালিনী কে চেয়েছেন।আমি এখনো উত্তর জানাইনি।তোমার থেকে জানতে এসেছি।জমিদার পুত্রের বিষয়ে খোঁজ ও নিয়েছি বেশ ভালোর সুনাম আছে।
“ভালো হলে তো রাজি না হওয়ার কারণ নেই।তবে আগে তনিমার নিকাহ দেওয়া প্রয়োজন।সে মহলের বড় কন্যা।
“আমি সেটাও ভেবেছি।তনিমার জন্য সুপাত্র তৈরি আছে।
মেহরনাজ নিশ্চুপ,মুখে কথা নেই কোনো।সালেহা আগ্রহ নিয়ে জানতে চাইলো,
“কে?
“ওয়াসিফের সঙ্গে তনিনার নিকাহ হবে।চাচিজানের সঙ্গে বসবো।ওয়াসিফ তনিমা রাজি এমনিতেই আছে।দুজনের মনের প্রণয় আগেই ঘটেছে।
তুমি বললে শাহবাজ খানের সঙ্গে কথা বলি।তনিমা,মালিনীর নিকাহ একসঙ্গে আয়োজন করি।
সালেহা বেগম সম্মতি দিলো।মালিনীর মতামত ও নিতে বললো।মেহেরনাজ মালিনীর নিকাহ'র কথা শোনা মাত্র চমকে গেছে। স্তব্ধ হয়ে এখনো আছে।মুখ থেকে কথা বেরোচ্ছে না।ইমতিয়াজ তো আগে বলেনি এই বিষয়ে।কি হবে মালিনী এই কথা শুনলে?হুট করে ইমতিয়াজ মালির সঙ্গে ভালোবাসার কথা শুনলে যদি রেগে যায়?জমিদার পুত্র রেখে কেউ-ই সামান্য মালির সঙ্গে নিকাহ দিতে রাজি হবে এ জানা কথাই।
“মেহেরনাজ এসো?
মেহেরনাজ হকচকিয়ে গেলো।ইমতিয়াজ ততক্ষণে বেরিয়ে গেলো।হয়তো এখন মালিনীর কক্ষেই যাবে।পরবর্তী কি হবে এই ভেবে মেহেরনাজ কিছুট ভয় ও পেলো।পরমুহূর্তেই নিজের ভেতর সাহস আনলো।মালি মানুষ হিসাবে মন্দ নয়।তা আগেই টের পেয়েছে সে।যেদিন ওয়াসিফ,তনিমা আর মালিনী কে বাঁচিয়েছে।সখীর ভালোবাসায় সখী হিসাবে সাহায্য করা অন্যায় নয়।এই ভেবে মেহেরনাজ ও বেরিয়ে গেলো।তনিমা কক্ষের বাহির হতে সবকিছুই শুনলো।ইমতিয়াজ বেরোনোর সময় আড়াল হয়েছিলো।ওয়াসিফ কে সত্যি নিজের করে পাবে ভেবেই আনন্দিত হলো।কিন্তু যখনই মালিনীর কথা মনে পড়লো।মুখখানা আঁধারে নিমজ্জিত হলো।কি হবে তা ভেবে কুল কিনারা পেলো না।ছুঁটলো ওয়াসিফের কক্ষের দিকে।একটা ঝড় হতে চলেছে।সেই ঝড়ে সম্পর্কে মুর্ছা যেতে পারে।
চলবে....................?