#জমিদার_মহল
#পর্বসংখ্যা–৩৫
#শ্যামলী_রহমান
তীব্র গরমে জন জীবন অতিষ্ঠ।বৃষ্টির দেখা নেই প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলো।মাঠ,ঘাট ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে।এবারের ফসল ভালো ফলবে না বলে প্রজারা জানিয়েছেন।পর,পর কয়েক বছর ধরে এমন ফসল ফলছে না।এমতাবস্থায় ইমতিয়াজ প্রজাদের ভরসা দেন।আর কিছুদিন যাক বৃষ্টি না হলে তখন কৃষকদের মাথায় উঠবে।তাদের কথা ভেবে জমিদার চিন্তিত।প্রজাদের কথা ভাবা তারই দায়িত্ব।এই তীব্র গরমের দুপুরে ইমতিয়াজ আর ওয়াসিফ গ্রামে বেরিয়েছিলো।ইমতিয়াজ ধীর পায়ে হাঁটছে।ওয়াসিফ লক্ষ্য করলো সে চিন্তিত।পাশাপাশি হয়ে শুধলো,
“ভাইজান কি নিয়ে চিন্তিত?
হুমমম।ওহ হ্যাঁ আমি?
ওয়াসিফের প্রশ্ন তার বোধগম্য হতে সময় লাগলো।অন্য মনস্কের ফলে এমন হলো।ইমতিয়াজ পাঞ্জাবির পকেট থেকে হাত বাহির করে পিঠের দিকে রাখলো।বলল,
“আব্বাজানের মতো কি আমি জমিদারি পরিচালনা করতে পারছি?প্রজাদের সন্তুষ্টি করতে পারছি?
ওয়াসিফ হাঁসলো।কাঁধে হাত রেখে বলল,
“চাচাজানের থেকে বেশি ভালো জমিদার হয়েছো তুমি।প্রজাদের সন্তুষ্টি কয়জন জমিদার বা দেখে?পাশের কয়েক রাজ্য আমি পরিদর্শন করেছি,শুনেছি।তোমার এবং চাচাজানের সুনাম তারা ভিন্ন রাজ্য থেকেও করে।এর পরেও তোমার এমন ভাবনা আসে কি করে?
কিন......
“আসসালামু আলাইকুম জমিদার মশাই।কেমন আছেন?
হঠাৎ কন্ঠে দুজনে পিছনে তাকালো।ওয়াসিফ ঠিক চিনতো পারলো না কিন্তু ইমতিয়াজ ঠিকই চিনলো।
“ওয়া আলাইকুমুস সালাম।আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।তুমি ভালে আছো?চাচাজান,চাচিজান কেমন আছেন?
কিশোরী কন্যার অঁধর জুড়ে হাঁসি।
“আব্বা,আম্মা ভালো আছেন।আপনি আমাদের বাড়ি যাইবেন না?আব্বা আপনারে যাইতে কইছিলো যে।
“কোনো একদিন বিপদে পড়লে আবার যাবো।
“বিপদে না পড়লে যাবেন না?কিন্তু থাক আপনার মতো ভালো মানুষের বিপদ না আসুক।আমি জমিদার মহলে যাবো।সেবা'র গেছিলাম খুব ভালো লেগেছিলো।
ইমতিয়াজ হেঁসে ফেললো।কিশোরী কন্যার আনন্দে জ্বলজ্বল করা দুটো চোখ তাকে সন্তুষ্টি দিলো।বলল,
“জমিদার আর প্রজাদের সম্পর্কই হলো বিপদের মিত্র।তোমার মন চাইলে চাচিজান কে নিয়ে আবারো মহলে যাইও।আজ আসি তবে।
ইমতিয়াজ ওয়াসিফ এগিয়ে চললো।সামনে তাদের ঘোড়া বেঁধে রাখা আছে।ওয়াসিফ প্রশ্ন করলো,
“কে এই কন্যা?
“এক ঝড়ের রাত্রে আশ্রয় নিয়েছিলাম তাদের ঘরে।
জমিদার মহলে প্রবেশ করে অন্দরমহল দেখার তীব্র ইচ্ছে ছিলো সে কন্যার।সে ইচ্ছে পূরণ করেছিলাম বিপদে সাহায্যের জন্য।যখন মহলে গেছিলো তুই ছিলিনা হয়তো।এজন্য দেখিসনি।
ওয়াসিফ শুনলো।আর কোনো প্রশ্ন করার প্রয়োজন বোধ করলো না।ইমতিয়াজ আবারো নিজেই বলে উঠলো,
“তারা সামান্যতে কত খুশি তাই না?আর অন্যরা শতগুণ পেয়েও সন্তুষ্টি হয় না।
ওয়াসিফের পা থেমে গেলো।তাকালো ইমতিয়াজের দিকে।এই কথায় কেবল তার নিজ পিতা আর ভ্রাতার কথাই সর্ব প্রথম মনে পড়লো।ইমতিয়াজ ওয়াসিফের চোখে অনুতপ্ততা দেখতে পেলো।
“আমি একজন কে বলিনি সবার হিসাবে বলেছি।আগেও কিন্তু বলেছি নিজেকে কখনো দোষারোপ করবি না ওয়াসিফ।
ওয়াসিফ ইমতিয়াজের ভাবনা মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য হাঁসলো।যেতে যেতে বলল,
“যার মন অল্পতে সন্তুষ্টি হবে।সে কখনো অন্যের অর্থ সম্পদের লোভ করবে না,নিজের যতটুকু আছে,ততটুকু নিয়ে সন্তুষ্টি থাকবে।মোট কথা ‘সন্তুষ্টি অর্থ সম্পদে নয়,মনের প্রয়োজন।’
দুজনে ঘোড়ার পিঠে চড়ে বসলো।লাগাম টেনে ধরতেই ঘোড়া টগবগিয়ে চললো।আসার পথে মালিনীর সঙ্গেও দেখা করে এনেছে।জমিদার মহলে বড় হলেও কুড়ে ঘরে মানিয়ে নিয়েছে সে।ইমতিয়াজ মালিনীর হাঁসি মাখা মুখখানা দেখে বড় সন্তুষ্টি হয়েছে।ওয়াসিফ কে বলল,
“মালিনী মুবিন কে ভালোবেসে ভুল করেনি।নিজের সমস্ত দিয়ে ভালো রাখার চেষ্টা করছে।দূরে থাকলেও খোঁজ নিতে রোজই মানুষ পাঠাতাম সেখানে।
“হুম তা অবশ্য ঠিক।আমাদের অবুঝ মালিনী কিভাবে যেন হঠাৎ বড় হয়ে গেলো।কন্যা থেকে কারো বেগম হলো।
দুজনে নানান কথার মধ্যেই অনাকাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির আগমন হলো।ঝমঝম করে বৃষ্টি নামলো।মুহূর্তের মধ্যে দুজনে ভিঁজে গেলো।ওয়াসিফ নেমে কোথাও দাঁড়াতে বললেও শুনলো না।ইমতিয়াজ ইশারায় চলতে বললো।আকাশের দিকে উচ্ছাসিত নজরে চেয়ে বলল,
“এই বৃষ্টিকে আমি আলিঙ্গন করতে চাই।কারণ এই বৃষ্টিই আমার প্রজাদের মুখে হাঁসি ফোঁটাবে,তাদের ভালো রাখতে সাহায্য করবে।
_______
ভিঁজে একাকার হয়ে মহলে ফিরলো দুজনে।তনিমা সেই থেকে অপেক্ষা করছে।সিংহদ্বারে দুজনকে আসতে দেখেই দৌঁড়ে গেলো মেহেরনাজের কাছে।
“ভাবি বেগম ভাইজান আসছেন।
মেহেরনাজ সালেহা বেগমের পা মচকে গেছে তাই তেল মালিশ করছেন।তনিমার কথায় তাকালো
বলল,
“তুমি তোয়ালে নিয়ে গিয়ে দেও।তোমার ভাইজান খোঁজ করলেও বলিও আমি এখানে আছি।
তনিমা আবারো ছুঁটলো।শারমিন বেগম পিছন থেকে বলে উঠলো,
“এখনো দৌঁড় ঝাপ গেলো না?কন্যা আর নেই কারো বেগম হয়েছিস।
তনিমার কান পর্যন্ত সে কথা পৌঁছালেও শুনলো না।অন্দরমহলের দ্বারে আসতেই তোয়ালে নিয়ে গিয়ে দুজনের হাতে দিলো।ইমতিয়াজ জিজ্ঞেস করার আগেই সে বলল,
“ভাবি বেগম বড় আম্মার কক্ষে আছেন।
ইমতিয়াজ কক্ষের দিকে গেলো।ওয়াসিফ তনিমাকে নিয়ে চললো।যেতে যেতে তনিমা শুধালো,
“ভিঁজেছেন কেন?অসুস্থ হলে তখন?
“তুমি পতী সেবা করবে।
ওয়াসিফ ঠোঁট চেপে হেঁসো উত্তর দিলো।তনিমা খেয়াল করলো।সেও প্রতিত্তোরে বলল,
“আপনার জন্য সেবার হাত তৈরিই আছে।আপনি চাইলে আমি খেদমত করতেও রাজি আছি।
“বাহ!ভালোবাসা আজকাল দ্বিগুণ হচ্ছে দেখছি।
তনিমা ওয়াসিফের হাত থেকে কাপড়টা নিয়ে বলল,
“আপনি আস্ত মানুষটাই ভালোবাসার।তাহলে ভালোবাসা দ্বিগুণ হওয়া কি দোষের?
ওয়াসিফ প্রতিত্তোর করলো না।কক্ষের প্রবেশ করলো।শারমিন বেগম পিছন থেকে তনিমা কে ডাকলো।সে ছুটলো তার আম্মাজানের ডাকে।
ইমতিয়ার আলমারি হতে কাপড় বাহির করে পরে নিলো।তাড়াহুড়ো করে হাঁটতে গেলে পা লেগে খঞ্জর টা মেঝেতে পড়ে গেলো।বিরক্তি নিয়ে তুললো।তখনই মেহেরনাজ আসলো।বলল,
“আপনি ভিঁজে এসেছেন শুনলাম। হঠাৎ বৃষ্টির পানি শরীরে লাগলে অসুখ বাঁধাবেন তা কি ভুলে গেলেন?
“অসুখ সারিয়ে তোলার জন্য জমিদার ইমতিয়াজ নওয়াজ খান এর একমাত্র বেগম আছে।সে থাকতে চিন্তা কিসে?
মেহেরনাজ এগিয়ে গেলো।ইমতিয়াজের চুলে পানি এখনো রয়েছে।শুকনো শাড়ির আঁচল দিয়ে মাথা মুছে দিতে লাগলো।খানিক আগে করা প্রশ্নের প্রতিত্তোরে বলল,
“জমিদার মশাই অসুখ বাঁধালে তার বেগম জান কষ্ট পাবে।সে চায় তার জমিদার মশাই সব সময় সুস্থ থাকুক,ভালো থাকুক।
“আর আমি চাই সে আমার থাকুক,সব সময় ভালোবাসুক।
”আমি তো আপনারই।ভালো আপনাকে আর কাকে বাসবো?
“ভয় হয়,মেহেরনাজ তোমায় যদি হারিয়ে ফেলি?
যদি কখনো তোমায় আর দেখতে না পাই?তোমার থেকে দূরে সরে যাই?
মেহেরনাজের বুক ধুক করে উঠলো।ভয়ে শিউরে উঠলো গাঁ।ইমতিয়াজের মুখে হাত দিলো।বলল,
“আমি থাকতে কিছু হতে দিবো না তা।আল্লাহ ব্যতীত কেউ পারবে না আপনাকে কেড়ে নিতে।
ইমতিয়াজ হাতের পিঠে চুম্বন আঁকলো।দুহাতে মেহেরনাজের কোমর জড়িয়ে,লালাটে লালাট রাখলো।বলল,
“তুমি আমার শক্তি মেহেরনাজ,
তুমি বিনা আমি অসহায়।
মেহেরনাজ বাঁধন ছেড়ে সামান্য দূরে আসলো।চিন্তিত মুখে বলল,
“আপনার সঙ্গে আমার কিছু কথা ছিলো।
“কি কথা?
“.......…..
________
মধ্য রাত্রে ঘুমিয়ে পড়েছে পুরো মহল।নিঃস্তব্ধ মহলে কারো বিচরন চলছে সেই প্রথম প্রহরে হতে।সে কেবল সুযোগের অপেক্ষায় আছে।মেহেরনাজ আজ সালেহা বেগম এর কক্ষে আছেন।পায়ের ব্যথা বেড়েছে।তাই মেহেরনাজ নিজেই থাকতে গিয়েছে।ইমতিয়াজ তার কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েছে। দরজা আজ খোলাই আছে যদি মেহেরনাজ আসে।
মহলের নিঃশব্দে বিচরণ করা দুটো পা সাবধানতার সঙ্গে এগুচ্ছে।ধীরে ধীরে সর্তক দৃষ্টিতে হাঁটছে।এক সময় গিয়ে দাঁড়ালো ইমতিয়াজের কক্ষের সামনে।
দরজা ধীরে নিঃশব্দে খুললো।অন্ধকার কক্ষে জানালার ফাঁক গলে হাল্কা জোছনার এসেছে।পালঙ্কে ইমতিয়াজ শুয়ে আছে তা স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে।সে ব্যক্তি দরজা পেরিয়ে আসলো।হাতের খঞ্জর খানা খোসল ছেড়ে ডানহাতে শক্ত করে ধরলো।সামনে শুয়ে থাকা ইমতিয়াজের উপর শরীরের সমস্ত জোর দিয়ে আঘাত করলো। খঞ্জর বাহির করলো কিন্তু কোনো রক্ত নেই দেখে সে অবাক হলো।তখনই কক্ষে হ্যারিকেনের আলো জ্বলে উঠলো।
“আমি এখানে।
আলো এবং পরিচিত কন্ঠে শুনে সে চমকে পিছনে তাকালো।হাতের খঞ্জর টা ভয়ে হাত থেকে পড়ে গেলো।দরজার সামনে ইমতিয়াজ এবং মেহেরনাজ দাঁড়িয়ে আছে।আরেক পাশে ওয়াসিফ আর সালেহা বেগম ও আছেন।ইমতিয়াজ ধীরে এগিয়ে গেলো। মাথা পর্যন্ত শাল দিয়ে আবৃত মানুষটার শরীর থেকে শালটা টেনে নিলো।বেরিয়ে আসলো পরিচিত মুখ।মেহেরনাজ আর ইমতিয়াজ অবাক না হলেও অবাক হলো ওয়াসিফ।ইমতিয়াজ সামনে দাঁড়িয়ে থাকা শিহাব কে প্রশ্ন করলো,
“কেন মারতে এসেছিলি আমায়?কি ক্ষতি করেছি আমি?তুই ও কি জমিদারি চাস?
শিহাবের হিংসাত্মক দুটো চোখ জ্বলে উঠলো।পুরনো ক্ষত জেগে উঠলো। গর্জে উঠে বলল,
“হ্যাঁ,হ্যাঁ চাই।এই জমিদারি আমার চাই।এই মহল এবং রাজ্য জুড়ে আমি রাজত্ব করতে চাই।এই জমিদারি আমার দাদাজানের।অংশ হিসাবে কেন সাইফুদ্দিন নওয়াজ খান এবং তুমিই কেন পাবে?আমি কোন নয়?মদকদ্রব্য পান করা,বাঈজী গৃহে যাওয়া তুমি জমিদার হতে পারলে আমি কেন নয়?কিসে কম আমি?
সপাতে একটা চড় পড়লো শিহাবের গালে।সে হিংস্র হয়ে খঞ্জর টা বুকে বসাতে তুললো।তখনই ওয়াসিফ গিয়ে খঞ্জর খানা কেড়ে নিলো।মুচড়ে ধরলো হাত।দাঁত পিষে বলল,
“অতি সাহস দেখিও না হাত ভেঙে দিবো।ভাইজান কে মারতে চেয়ে তুমি নিজের মরণ ডেকে এনেছো।
শিহাব ছাড়ানোর জন্য চেষ্টা করলো কিন্তু পারলো না। তার হিংস্র গর্জনে মহলের সকলে উঠে পড়লো।দাস দাসি ও জড় হলো সেখানে।ইমতিয়াজ মেহেরজানের দিকে তাকালো।
“তুমি ভুল বলোনি।আমার ধ্বংস আমার আপন চেয়েছে,আমার শত্রু তারাই হয়েছে।মহলে থেকে আমার বিরুদ্ধে আমাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছে।
অথচ আমি শত্রু খুঁজেছি বাহিরে।
“আরো সত্য আছে।আগে সেসব জানুন।
মেহেরনাজের কথায় সকলে আগ্রহী নজরে তাকালো তারই পানে।সালেহা বেগম অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।তনিমা স্তব্ধ।একটু আগেই এসেছে।সে কেবল তার আম্মাজান কে বলছে,
“ভাইজান এসব কেন করেছে?তুমি জানতে পারোনি?
“তিনিই তো সাহস যুগিয়েছেন।পনেরো বছর ধরে পুষে রাখা হিংস্রতা প্রকাশ করেছেন আড়ালে পুত্রের কাছে।
সকলে আরেক দফা আশ্চর্যিত হলো।
তনিমা ফ্যালফ্যাল চোখে তাকালো।মেহেরজান তার নিকটে এসে দাঁড়ালো।আরো বলল,
“কি চাচিজান ঠিক বলছি তো?
শারমিন বেগম ভয়ে ঘেমে উঠেছে।বুক কাঁপছে প্রচন্ড।আমতা আমতা করে বলে উঠলো,
“তুমি এসব কি বলছো?ভাবিজান দেখুন আমাকে দোষারোপ করছে কেন?
সালেহা বেগম ক্ষিপ্ত হয়ে চড় বসালে শারমিনের গালে।পড়ে যেতে নিয়েও পড়লো না।শুধু কিছুটা পিছিয়ে গেলো।অবাক চোখে তাকালো সামনের পানে।চর্তুরতার সঙ্গে সবটা খেয়াল করলো।বুঝতে পারলো পালাবার আর কোনো পথ নেই।নজরে পড়লো পাশেই রাখা একটা খঞ্জর পড়ে আছে।সকলে যখন শিহাব কে প্রশ্ন করতে মনোযোগ দিয়েছে।সেই সুযোগে শারমিন ছোট্ট খঞ্জর টা ছুড়ে মারলো মেহেরজানের উদ্দেশ্য।তক্ষনাৎ এক আত্ননাৎ এ সকলে ভড়কে গেলো।হুড়মুড়িয়ে মেঝেতে ঢলে পড়া মানুষটির কাছে গেলো।পেট থেকে তার গলগলিয়ে রক্তের বন্যা বইতে শুরু করলো।সবকিছু মুহূর্তে স্তব্ধ হয়ে থমকে গেলো।
সময়ের অপেক্ষায় কে কার ক্ষতি করবে,তার ফল নিজেরই দিতে হবে।
চলবে........................?