ফন্ট সাইজ:
থিম:
হৃদয় অরণ্যে তুমি

৪র্থ পর্ব

লেখক: শ্যামলী রহমান

#হৃদয়_অরণ্যে_তুমি

লেখিকা:#শ্যামলী_রহমান 
পর্ব:৪
বৃষ্টিভেজা সেই বিকেল থেকে অঁধরার মন কেমন যেন বদলে গেছে। ক্লাসে ইরফান স্যারের প্রতি চেনা অনুভূতি,নিষিদ্ধ মুগ্ধতা আরও ঘনীভূত হচ্ছে। কিন্তু ঠিক তখনই ‘রিশাদ নামক একটি বাস্তবতা তার কল্পনার আকাশে কালো মেঘের মতো ভেসে বেড়াচ্ছে।যাকে সে চায় না।তার আকাশে শুভ্র মেঘ হিসাবে একজনকে চায়।
শুক্রবার সকাল।
আজ সেই বিশেষ দিন।
নাজিম আংকেলের বাসায় যেতে হবে এই কথাটা সকাল থেকে অঁধরার মাথায় ঘুরছে বারবার।
যাবো বললেও কাজ হচ্ছে না যেতেই হবে। 
জাহানারা বেগম মেয়েকে সুন্দর শাড়ি বের করে দিয়েছেন।
— “লালটা পরে নিস না মা? রংটাও তোকে ভালো মানায়।
অঁধরা বিরক্ত মুখে বললো,
— “শাড়ি পরে যাওয়া মানে কি?আমি কি করতে যাচ্ছি? আমি বলেছি না আমি রাজি না এসব পাত্র-পক্ষ দেখাদেখির ব্যাপারে?
জাহানারা এবার একটু কড়া সুরে বললেন,
— “সব ব্যাপারে না চাই না শুনতে ভালো লাগে না। আজ একবার যা হচ্ছে দেখে আয়, না পছন্দ হলে কেউ তোকে বিয়ে দিতে বাধ্য করছে না।
অঁধরা আর কথা বাড়ায় না। ভিতরে ভিতরে একটা অজানা ক্লান্তি ভয় যেন গ্রাস করছে তাকে।
কাকে বলবে এইসব কথা?
সামিয়া আর লাভলুর কথা মনে পড়তেই রাগ বেড়ে গেলো।
মনে পড়লো কালকের কথা। 
কলেজ প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে ইরফান স্যারের আইডিতে মেসেজ দিচ্ছিলো অঁধরা। সেদিন রাতেও দিয়েছিলো কিন্তু উত্তর দেয়নি।আজ হঠাৎ সেদিনের দেওয়া সালামের উত্তর দিলো। এতে অঁধরার মুখে আচমকা হাঁসি ফুঁটে উঠলো।যে হাঁসিতো অষ্টাদশীর সবটুকু আকর্ষণ জড়িয়ে আছে।কিন্তু করিডোরের দিকে তাকাতেই ঠোঁটের কোনো লেগে থাকা সেই হাঁসি টুকু মিলিয়ে গেলো।সামনে ইরফান স্যার ক্লাস রুম থেকে বেরিয়ে আসছে। হাতের দিকে তাকালে ফোন দেখা যায় না। তাহলে রিপ্লাই কে দিচ্ছে?অন্য কেউ?নাকি ফেক আইডি?
তখনই সামিয়া আর লাভলু ওর দিকে তাকিয়ে হাঁসতে,হাঁসতে গড়াগড়ি খাচ্ছে।লাভলু কোনো মতো হাঁসি থামিয়ে অঁধরার কাছে গিয়ে বলে,
'সরি রে।আসলে ওটা ইরফান স্যারের আইডি না।আমি আর সামিয়া মিলে ফেক আইডি খুলে তোর সাথে মজা করেছি।মানে ওই আইডি আগের কিন্তু নাম চেঞ্জ করে স্যারের নাম দিয়েছি। 
ওদের দুজনের ঠাড্ডা শুনে বর্তমানে অঁধরা নিলিপ্ত।
রোদ্দুর আকাশে হঠাৎ মেঘের ছায়া দেখা দিলে যেমন দেখায়, ঠিক তেমনই অঁধরার চেহারার অবস্থা হয়েছে। 
অঁধরা কোনো কথা না বলে ব্যাগ নিয়ে কলেজ মাঠ থেকে বেরিয়ে আসে।পিছন থেকে সামিয়া আর লাভলু শত ডাকলেও শুনেনা।ওরা দুজনে পিছন,পিছন আসলেও নাগাল পায় না ততক্ষণে অঁধরা রিকশায় উঠে পড়েছে। রিকশা ছুটছে রাস্তায় অঁধরা ঘুরে তাকালো না।
সামিয়া আর লাভলুর মন খারাপ হয়ে গেলো।সামিয়া মন খারাপ করে বললো,
"মজাটা করা ঠিক হয়নি বোধহয়। 
লাভলু মত মিলালো।
-হ্যাঁ। আমারো তাই মনে হচ্ছে। 
কারো আবেগ কিংবা ইমোশন নিয়ে মজা করা উচিত নয়।
"কিন্তু এমন হবে ভাবিনি।অঁধরা রাগ হয়েছে এখন কি করবি?
-কালকে তো শুক্রবার,শনিবার কলেজ বন্ধ রবিবারে কিছু করতে হবে।এখন ফোন দিলেও ধরবে না। ওর রাগ, অভিমান সম্পর্কে জানা আছে।এতো অভিমানী ও একবার অভিমান করলে সহজে মান ভাঙানো সহজ নয়।
অঁধরা যাবার পর ওরা দুজনে মন খারাপ করে বাড়ি চলে গেলো।
এই অঁধরা তাড়াতাড়ি আয় মা।
জাহানারা বেগমের ডাকে অঁধরা ভাবনা থেকে বেরোলো।শাড়ির সাথে কোনো কিছু পরেনি শুধু চুলগুলো গুছিয়ে ক্লিপ দিয়ে মেরে ফুল দিয়েছে। বেলি ফুলের গাজরা এটা নুরুল সাহেব এনে দিয়েছেন।বাবা মেয়ের জন্য ফুল এনে দিয়েছে এই অনুভূতি দারুন। বাবা মেয়ের সম্পর্ক এমন বন্ধুত্বপূর্ণ হলে আর কি লাগে।তবে অঁধরার আজকের সাঁজে মোটেও খুশি নয়। শুধু বাবা আর মায়ের বকার জন্য যাচ্ছে। 
অচেনা এক বিশাল বাড়ির সামনে গাড়ি দাঁড় করানো হলো।নুরুল সাহেব ও জাহানারা বেগম গাড়ি থেকে নামলেন। অঁধরা বসে আছে দেখে নুরুল সাহেব মেয়ে কে ডাকলেন,
" আয় মা বসে আছিস কেন?
অনিচ্ছা সত্ত্বেও মুখ গোমরা করে বেরোলো।সামনে আব্বু আম্মুকে অনুসরণ করে বাড়ির ভেতরে গেলো।
বাড়ির ভেতরে যেতেই দেখে এখানে অনেক মানুষ। অঁধরা বুঝতে পারলো না এতো মানুষ কেন?
নিজের বাবা কে কিছু জিজ্ঞেস করবে তার আগে একজন লোক এসে নুরুল সাহেব কে জড়িয়ে ধরলেন,হেঁসে জিজ্ঞেস করলেন কেমন আছো?জাহানারা বেগমের সাথে ভাব বিনিময় হলো।তিনি নাজিম কাকু কয়বার দেখেছিলাম এজন্য চিনতে অসুবিধা হলো না
আমাকে দেখে হেঁসে এগিয়ে এলেন, জিজ্ঞেস করলেন-"কেমন আছো মা?আসতে অসুবিধা হয়নি তো?
এই রিশাদের আম্মু?রিশাদ কে ডেকে দাও তো।
এতো প্রশ্নে একটু বিরক্ত হলাম তবুও হেঁসে উত্তর দিলা,
"-না আংকেল কোনো অসুবিধা হয়নি।
উত্তর দেওয়ার মাঝে এক ভদ্রমহিলা একটি ছেলেকে নিয়ে হাজির হলেন।নাজিম আংকেল আমাকে ইঙ্গিত করে সেই ছেলেকে দেখিয়ে বললেন,
-'অঁধরা মা ও আমার ছেলো রিশাদ। 
রিশাদ পরিচয় হও ও অঁধরা তোমার নুরুল আংকেলের মেয়ে।তোমার তো চেনার কথা ছবিতে দেখেছিলেন।
ছেলেটা হেঁসে তাকিয়ে বললো,
'হ্যাঁ চিনতে পেরেছি।
পরিচয় শেষে অঁধরা জানতে পারলো আজকে নাজিম আংকেলের বড় ছেলের মেয়ের জন্মদিন সেই উপলক্ষে এতো আয়োজন।কিন্তু আব্বু আম্মু আগে বলেনি এজন্য ভীষণ রাগ হচ্ছে। হয়তো এ কারণে বলেনি আমি এতো মানুষের ভীড়ে আসতে চাই না আর অপরিচিত মানুষের আনাগোনা হলে তো আরো না।
বিরক্তির এক পর্যায়ে কেক কাঁটার পর্ব আসলো। সবাই কে ডাকা হচ্ছে কেক কাঁটার স্পেশাল জায়গায় 
এক জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিলাম তখনই নাজিম আংকেলের স্ত্রী আসলেন কিছুটা খুশি হয়ে থুঁতনি উঁচিয়ে বললেন,
— “রিশাদ তো দেশে থাকবে এবার বেশ কিছুদিন ওর জন্য ভালো একটা মেয়ে খুঁজছিলাম তোমার কথা শুনেই বললাম দেখা তো হোক।
রিশাদ ও আসলো তখনই কিছু বলেনি, শুধু মুচকি হেসেছে।
অঁধরা মাথা নিচু করে থেকেছে, কোনো জবাব দেয়নি।
একটু পর আবার নুরুল সাহেব আসলেন।অঁধরাকে জিজ্ঞেস করলেন,
— “তোর কেমন লাগলো ছেলেটা?
অঁধরা জানে, উত্তরটা সহজ নয়।
তার মুখে শুধু একটাই কথা ছিল,
— “আব্বু, ভালো মানুষ হতে পারেই কিন্তু আমার মন নয়।
নুরুল সাহেব শুনলেন। মেয়ের প্রতিত্তোরে বলবেন,
'-তোমার যা ভালো মনে হবে। 
__"থ্যাঙ্কিউ আব্বু।আমি নিজেকে জানি নিজে কি চাই তাই মানি।
নুরুল সাহেব হাঁসলেন এই ভেবে ছোট মেয়ে বড় হচ্ছে তার বড়দের মতো কথা বলছে অথচ অনেক কিছু বুঝে না।একটু কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললেন,
— “নিজেকে জানা মানে জীবনের অর্ধেক পথ পার হওয়া। বাকিটা সময় ঠিক পথ খুঁজে নিতে পারবে।
তুমি যদি পারো তাহলে ভালো। 
বিরক্তিকর এক পর্যায়ে কেক কাঁটার পর্ব আসলো। সবাই কে ডাকা হচ্ছে কেক কাঁটার স্পেশাল জায়গায়। 
জাহানারা বেগম অঁধরা ডাকছেন ওপাশে কিন্তু অঁধরা না শুনার ভান করে বাহিরের দিকে তাকিয়ে আছে। হঠাৎ আনমনে হয়ে বাহিরে দরজার দিকে কাউকে দেখে অবিশ্বাস্য চোখে তাকায় আবার ভুল দেখছে ভেবে চোখ বন্ধ করে চোখের পাতা বুলিয়ে চোখ খোলে তার পর দেখে কেউ নেই।  
অঁধরা মনে মনে বললো,
"-যেদিকে তাকাই শুধু উনাকে দেখি এ কেমন অসুখ?
যে অসুখের ঔষুধ নেই, আছে শুধু মুগ্ধতা। 
" তুমি এখানে? 
পরিচিত কন্ঠ শুনে বাম পাশে তাকালো। আবার একই মানুষ কে দেখতে পেলো।তখনের মতো কল্পনা কিংবা চোখের ভ্রম ভেবে রাগি রাগি চোখে তাকিয়ে বললো,
_" যেখানে যাই, সেখানে আপনাকে দেখতে পাই কেন?আপনি আমাকে সব সময় জ্বালান কেন?সারাদিন রাত শুধু আপনাকে নিয়ে ভাবতে,ভাবতে পাগল হয়ে গেলাম।
"হোয়াট? 
কিসব বলছো?মাথা ঠিক আছে?দিনে স্বপ্ন দেখছো নাকি?আর পাগল হয়ে গেলে পাবনা যেতে পারো।ওখানে আমার পরিচিত একজন মানুষ আছে।
হাল্কা রাগান্বিত কন্ঠে অঁধরা চমকে উঠলো।চোখের সামনে আসলেই ইরফান স্যার।এ স্বপ্ন নয় বাস্তব। কিন্তু তিনি এখানে কেন?কি করে আসলো?এতো প্রশ্ন নিজের মনে রেখে সামনে তাকিয়ে দেখে স্যারের ভাবুক দৃষ্টি হয়তো বুঝতে পারছে না আমি এসব কি বল্লাম।
এসব পরে ভাববো আগে পালাই। 
বলে অঁধরা কোনো মতো দৌঁড়ে ওর আম্মুর কাছে যায়।
ইরফান হা হয়ে তার কান্ড দেখলো।ওর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ঠোঁটের ভাঁজে আওড়ালো-"ইস্টুপিট। 
চলবে...........................?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪র্থ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন