ফন্ট সাইজ:
থিম:
মেঘবরণ প্রেম

১৮তম পর্ব

লেখক: আসফিয়া রহমান

#মেঘবরণ_প্রেম

পর্ব - ১৮

লেখা - আসফিয়া রহমান

অনুমতি ছাড়া কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ❌

৩২.

"তোমার আদরের ছেলে যে দিন দিন চূড়ান্ত নির্লজ্জ হয়ে যাচ্ছে, সে খবর রাখো?"

"শুভ্র আবার কী করল?"

"কী করেনি সেটা জিজ্ঞেস করো! ইরার আংটি বদল শেষ হতেই আমার কাছে এসেছিলো তক্ষুনি নিজের এনগেজমেন্ট করবে বলে! সে কি জেদ...!"

"হ্যাঁ? কী বলছ? শুভ্র এমন করেছে?"

"জ্বী, আদর দিয়ে ছেলেকে মাথায় তোলার ফল এসব।"

সোনালী বেগম কী বলবেন ভেবে পেলেন না। হঠাৎ করে শুভ্রর এত উতলা হওয়ার কারণ খুঁজে পেলেন না তিনি। কয়েক মুহূর্ত চুপ করে থেকে বললেন, "রাবেয়া আপার সাথে তো কথা হয়েছেই, ওনাদের দিক থেকে যেহেতু কোনো আপত্তি নেই, তাহলে আর দেরী করার দরকার কী?"

সোনালী বেগমের কথাটা শেষ হবার আগেই আজিজ সাহেব ভ্রু কুঁচকে তাকালেন স্ত্রীর দিকে।

"তা বলে আজই?" তাঁর গলায় বিস্ময়ের ভাঁজ।

"না, আজ কেন! আয়োজনের একটা ব্যাপার আছে না?"

"শুভ্রর সাথে কথা বল তুমি। তারপর রাবেয়া ভাবির সাথে কথা বলে একটা ডেট ফিক্স করা যাবে..."

৩৩.

"তোরা তলে তলে এতদূর এগিয়েছিস অথচ আমরা দুজন বিন্দুমাত্র টের পেলাম না! কি সাংঘাতিক!"

"আমি তো এখনো বিশ্বাসই করতে পারছি না - অনু আর ভাইয়া... একসাথে! ওহ্ মাই গড!"

অনিন্দিতা ঠোঁট কামড়ে মাথা নিচু করল। মিনমিন করে বলল, "এই... তোরা চুপ করবি!"

ইরা কপাল কুঁচকে তাকালো, "তুই চুপ করে থাক! আমার ভোলাভালা ভাইটাকে তলে তলে পটিয়ে হবু ভাবি হয়ে বসে আছিস, এদিকে আমি কিছুই বুঝলাম না এতোদিন?"

অনিন্দিতা চোখ কপালে তুলে তাকালো, "তোর ভাই ভোলাভালা?"

ইরা বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে সাথে সাথেই বলল,

"অবশ্যই! আমার ভাই পৃথিবীর সবচেয়ে সরল মানুষগুলোর একজন।"

প্রীতি মাথা নেড়ে যোগ করল,

"হ্যাঁ, মানতেই হবে। শুভ্র ভাইয়া কিন্তু আসলেই অনেক ভদ্র, দায়িত্ববান!"

অনিন্দিতা হাঁ করে তাকালো, "ভদ্র? তাহলে আমাকে একা পেলেই—"

অনিন্দিতা কথা শেষ না করার আগেই ইরা চোখ বড় বড় করে তাকালো, "একাই পেলেই...?

"একাই পেলেই কী, অনু??"

অনিন্দিতার মুখ লাল হয়ে গেল মুহূর্তেই। হঠাৎ করেই খেয়াল হলো মুখ ফসকে কী বলতে কী বেরিয়ে গেছে।

"না… মানে… আমি সেরকম কিছু—"

"না না, বল— আমারও জানা দরকার... তোকে একা পেলেই আমার ভোলাভালা ভাইটা কী করে?"

নিজের মাথা নিজেই দেয়ালে ঠুকতে ইচ্ছে করল অনিন্দিতার। এই দুজনের সামনে মুখ ফসকানো মানে ও শেষ আজকে!

ও তোতলাতে তোতলাতে বলল, "ক-কি-কিছুই না! কি-কিছুই করে না! মানে… ত-তেমন কিছু না…"

প্রীতি ভ্রু তুলে তাকাল,

"হুঁ? তেমন কিছু না? মানে কিছু একটা করে?"

অনিন্দিতা চোখ বন্ধ করে ঢোঁক গিলল।

মানসপটে দৃশ্যগুলো ঘুরে ফিরে এলো একের পর এক— সেদিন ইরাদের বাসায় অকস্মাৎ দেয়ালে ঠেসে ধরা থেকে ছাদের ভয়ানক লজ্জার মুহূর্তগুলো; সেই আকস্মিক, দাবিদার চুমুগুলো।

ইরা অনিন্দিতার মুখ দেখে হঠাৎই হো হো করে হেসে উঠল, "বাপ রে! কি লজ্জা... তোর এই রক্তিম মুখটাই তো সব বলে দিচ্ছে!"

প্রীতি হাত ভাঁজ করে বলল,

"হুঁ... আমার মনে হয়, ভদ্র ভাইয়া কেবল পাবলিকলি ভদ্র। প্রাইভেটলি… উহুম…"

ইরা যোগ করল,

"প্রাইভেটলি অতিরিক্ত রোমান্টিক!"

অনিন্দিতা চোখ-মুখ ঢেকে ফেলল দুহাতে।

"তোরা কি আমাকে মেরে ফেলবি আজকে?"

ইরা দুষ্টু হাসলো, "ঠিক আছে… তুই যেহেতু মুখে বলছিস না… তা হলে—" বলতে বলতে মোবাইলটা বের করল ও।

অনিন্দিতার চোখ বড় বড় করে তাকালো তৎক্ষণাৎ।

"ইরা… তুই কী করছিস??"

ইরা ফোনের স্ক্রিনে ট্যাপ করতে করতে খুব স্বাভাবিক গলায় বলল, "ভাইয়াকে ফোন করছি। দেখি, একটু জিজ্ঞেস করি— হবু বউকে একা পেলেই সে ঠিক কী করে!"

অনিন্দিতা লাফিয়ে উঠলো প্রায়,

"কি! না না না— ইরা, থাম! তুই ফোন দিবি না!"

ইরা ওকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে ইতিমধ্যে স্ক্রিনে কল বাটনে চাপ দিয়েছে, "সরি, মাই ডিয়ার হবু ভাবি…" বলেই বাংলা সিনেমার ভিলেনের মতো হো হো করে হাসলো।

ফোনের স্পিকার থেকে ট্রিং… ট্রিং… শব্দ ভেসে উঠতেই অনিন্দিতার গলা শুকিয়ে গেল।

"ইরা, কেটে দে! কেটে দে না— প্লিজ!"

ইরা ঠোঁটের কোণে অতি-দুষ্টু হাসি টেনে বলল,

"ধৈর্য ধরো অনু! তোমার ভোলাভালা প্রেমিককে শুধু একটা ছোট্ট প্রশ্নই তো করবো… এমন করছ কেন!"

অনিন্দিতা তড়াক করে এগিয়ে ফোনটা ছিনিয়ে নিতে গেল, কিন্তু, কিন্তু, কিন্তু... কলটা রিসিভ হলো ঠিক সেই মুহূর্তেই। স্পিকারে শুভ্রর শান্ত গলা ভেসে এল,

— বল, ইরা...

অনিন্দিতা জমে গেল মুহূর্তেই। মনে হলো তৎক্ষণাৎ থেমে গেছে পৃথিবীর ঘূর্ণন, সাথে থেমে গেছে ওর শ্বাস-প্রশ্বাস। ইরা গলা খাঁকারি দিয়ে দুষ্টু গলায় বলল,

— ভাইয়া, একটা জরুরি প্রশ্ন ছিল...

শুভ্র জিজ্ঞাসু গলায় বলল,

— কী প্রশ্ন? তাড়াতাড়ি বল, পাঁচ মিনিট পরে মিটিং আছে আমার।

পাশ থেকে অনিন্দিতা অস্থির, চাপা গলায় ডাকলো,

"ইরা! কল কাট এক্ষুনি..."

ইরা নির্বিকার। মুখ খুলে কিছু একটা বলতে যাবার আগেই অনিন্দিতা প্রায় কেঁদে ফেলবে এমন মুখে ইরাকে ধাক্কা দিল, ফিসফিস করে বলল, "কল কাট, ইরা...!"

ইরা হাসি আটকে গম্ভীর গলায় ডাকল,

— ভাইয়া?

— হুঁ, বল?

ইরা গলা পরিষ্কার করল,

— আমার বান্ধবীকে একটু একা পেলেই নাকি তুমি..."

"ইরা!!"

অনিন্দিতা লাফ দিয়ে ইরার মুখ চেপে ধরল।

এতক্ষণ বহু কষ্টে হাসি আটকে বসে থাকা প্রীতির হাতে চলে গেল ফোনটা। অনিন্দিতার চেপে ধরা হাতের ফাঁক দিয়ে ইরার চাপা গলা বেরিয়ে এলো,

— ...তুমি তেমন কিছু না, তবে একটু কিছু করো। এটা কি ঠিক?"

অনিন্দিতা চোখ খিঁচে বন্ধ করে ফেলল তৎক্ষণাৎ। শেষ! সব শেষ! মান-সম্মান কিচ্ছু টেকানো গেল না শেষ পর্যন্ত!

ফোনের ওপাশে দুই সেকেন্ড নীরবতা। তারপর—

শুভ্রের গলা খানিকটা খসখসে, গম্ভীর হয়ে ভেসে এলো,

— অনিন্দিতা?

অনিন্দিতা চমকে উঠে চোখ খুলল। ইরার মুখ চেপে রাখা হাতটা খসে পড়ল আপনাআপনি। শুভ্র আগের চেয়েও গম্ভীর গলায় বলল,

— আমি মিটিং শেষে কল করছি তোমায়। ফোন কাছে রাখবে, দ্বিতীয়বার যেন কল করতে না হয়।

ঠাস করে কেটে গেল কলটা। ইরা-প্রীতি মুখ চাওয়াচাওয়ি করল। এটা কী হলো?

পরপর ওরা তাকালো অনিন্দিতার থমথমে হয়ে আসা মুখের দিকে। মজা করতে গিয়ে যে পরিস্থিতি এভাবে বিগড়ে যাবে সেটা তো ভাবিনি ওরা! কী হবে এখন?

আচমকাই ব্যাগটা কাঁধে চেপে ফাঁকা ক্লাস রুমটা থেকে হনহনিয়ে বেরিয়ে গেল অনিন্দিতা। ইরা-প্রীতি পুনরায় মুখ চাওয়াচাওয়ি করে ছুট লাগালো পেছন পেছন। এরা প্রেমিক-প্রেমিকা দুটোই দেখি নিজেদের ব্যাপারে ভয়ানক সিরিয়াস!

অনিন্দিতা তখন ক্লাসরুম থেকে বেরিয়ে করিডোর ধরে হাঁটছে সিঁড়ির দিকে। নিস্তব্ধ দুপুর, গুটিকয়েক মানুষের উপস্থিতিতে বিল্ডিংটাকে ফাঁকাই বলা চলে। জনমানবহীন করিডোরে হাঁটার শব্দটাও যেন প্রতিধ্বনি হচ্ছে জোরে জোরে।

ইরা হাঁপাতে হাঁপাতে বলল,

"অনু! দাঁড়া! এইভাবে দৌড়াচ্ছিস কেন! ভাইয়া তোকে খেয়ে ফেলবে নাকি!"

প্রীতিও পিছন থেকে ডাক দিল,

"অনু, পড়ে যাবি তুই, দৌড়াস না, দাঁড়া!

অনিন্দিতা শুনলো না। তড়তড়িয়ে নামল সিঁড়ি বেয়ে। কানে অনবরত বাজছে শুভ্রর বলা বাক্যগুলো—

“আমি মিটিং শেষে কল করছি… ফোন কাছে রাখবে… দ্বিতীয়বার যেন কল করতে না হয়।”

নিচতলায় পৌঁছাতে আর মাত্র দুটো সিঁড়ি বাকি, হঠাৎ করে পা হড়কে ধপাস করে পড়ে গেল অনিন্দিতা।

"আহ্!"

"অনু...!"

মিনিটের ব্যবধানে পেছন থেকে দৌড়ে এসেছে ওরা দুজন।

"ওহ্ মাই গড! ব্লিডিং হচ্ছে তো! হাঁটু ছিলে গেছে মনে হচ্ছে..."

দাঁতে দাঁত চেপে সাদা পাজামার হাঁটুর দিকে লাল হয়ে আসা অংশটা দেখল অনিন্দিতা। প্রীতি তড়াক করে বসে পড়ল ওর পাশে, "অনেকখানি ছড়ে গেছে মনে হচ্ছে, ফার্স্ট এইড লাগবে, হেলথ সেন্টারে যেতে হবে, ওঠ..."

বলতে বলতে উঠে দাঁড়ালো প্রীতি। হাত বাড়িয়ে দিল অনিন্দিতার দিকে। অনিন্দিতা ওর বাড়ানো হাতে হাত রেখে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতেই...

“আহ্—” বলে সাথে সাথেই আবার বসে পড়ল সিঁড়ির ধাপে। ইরা এগিয়ে এসে তৎক্ষণাৎ ধরে ফেলল ওকে। উদ্বিগ্ন মুখে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, "কী হলো? ব্যথা কী বেশি?"

অনিন্দিতা মাথা নাড়ল, ব্যথায় চোখে পানি এসে গেছে প্রায়। ভাঙা গলায় বলল, "দাঁড়াতে পারছি না..."

ইরা সঙ্গে সঙ্গে অনিন্দিতার হাত শক্ত করে ধরল।

"আচ্ছা, আচ্ছা… দাঁড়াতে হবে না। কিছুক্ষণ বসে থাক।"

প্রীতি ইতোমধ্যে ব্যাগ থেকে পানির বোতল বের করেছে। ক্যাপ খুলে ক্ষতের জায়গাটা পরিষ্কার করতে নিচু হলো ও। কিন্তু অনিন্দিতা দু’হাতে সিঁড়ির ধাপ চেপে ধরে ফিসফিস করে বলল, "না… লাগবে না প্রীতি… ব্যথা করবে…"

"একটু ব্যথা তো করবেই!" প্রীতি নরম গলায় বলল, "কিন্তু রক্ত থামাতে হলে পরিষ্কার করতে হবে তো। একটু ধৈর্য ধর, অনু।"

পাজামাটা ধীরে ধীরে উপরে তুলল প্রীতি। দেখা গেল ক্ষত বেশ অনেকটাই। প্রীতি চিন্তিত মুখে বলল,

"হেলথ সেন্টারে যেতে পারলে ভালো হতো। ড্রেসিং না করালে ইনফেকশনের চান্স থাকবে। কিন্তু তুই তো দাঁড়াতেই পারছিস না।"

অনিন্দিতা ঠোঁট কামড়ে মাথা নিচু করে রাখল। হাঁটুতে তীব্র জ্বালা, শরীরটা কেঁপে উঠছে— কিন্তু ওর মাথায় ঘুরছে আরেকটা ভয়ংকর চিন্তা— শুভ্র কল করবে। যেকোনো সময়।

ইরা অনিন্দিতার কাঁধে হাত রাখল, "আরো অন্যকোথাও ব্যথা পেয়েছিস? কাঁপছিস কেন তুই?"

অনিন্দিতা ওর দিকে তাকিয়ে কিছু একটা বলতে চাইলো, কিন্তু বলল না শেষ পর্যন্ত।

ইরা ভ্রু কুঁচকে তাকালো,

"অনু?"

অনিন্দিতা খুব আস্তে করে বলল,

"পা-টা জ্বলছে… আর… আমি কলটাও ধরতে চাই না..."

"কল? ভাইয়া কল দিয়েছে নাকি?"

অনিন্দিতা মাথা নাড়ল,

"দেবে… যেকোনো সময়…"

প্রীতি এবার এক সেকেন্ড থেমে তাকালো ওর মুখের দিকে, "তুই এইজন্য ভয় পাচ্ছিস?"

অনিন্দিতার মুখ লাল হয়ে গেল, ব্যথার চেয়ে বেশি লজ্জায়, "ও রাগ করবে… খুব…"

ইরা ফোঁস করে একটা নিঃশ্বাস ছাড়ল, কিছু বললো না। ঠিক তখনই অনিন্দিতার ব্যাগের ভেতর ফোনটা কেঁপে উঠল সশব্দে। তিনজনের মাথা একই সাথে ঘুরে গেল মেঝেতে পড়ে থাকা অনিন্দিতার ব্যাগটার দিকে।

ইরা ধীরে বলল,

"রিসিভ করবি? নাকি আমি ধরবো?"

অনিন্দিতা চোখ বন্ধ করল, শ্বাস আটকে গেল ওর।

"আমি… আমি পারছি না…"

প্রীতি ফোনটা বের করে ইরার হাতে দিল। গলা খাঁকরি দিয়ে ফোনটা রিসিভ করল ইরা।

— হ্যালো, ভাইয়া?

শুভ্র ভুরু কুঁচকে ফোনটা কান থেকে নামিয়ে ডায়ালকৃত নাম্বারটা চেক করল। অনিন্দিতাকে কল করতে গিয়ে ইরাকে দিয়ে ফেলেছে নাকি?

না! অনিন্দিতাই তো!

তাহলে? নিজে ফোন রিসিভ না করে ইরাকে দিয়ে রিসিভ করিয়েছে কেন মেয়েটা?

শুভ্র শান্ত গলায় প্রশ্ন করল,

— ফোন তোর কাছে কেন? অনিন্দিতা কোথায়?

ইরা আমতা আমতা করল,

— ইয়ে ভাইয়া... অনু আছে, কিন্তু...

— ফোনটা ওকে দে।

ইরা অসহায় মুখে ফোনটা বাড়িয়ে দিল অনিন্দিতার দিকে।

— হ.. হ্যালো...!

— কোথায় তুমি?

— ইউনিভার্সিটিতেই আছি।

— এখনো কেন? ক্লাস শেষ হয়নি?

— হ-হয়েছে, আরো আগেই হয়েছে। আমরা.. আহ্...

কথা বলতে বলতে বেখেয়ালে পা নাড়াতে গিয়ে হঠাৎই ব্যথায় ককিয়ে উঠলো অনিন্দিতা। ইরা-প্রীতির সাথে সাথে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠলো ফোনের ওপারে থাকা শুভ্রও।

— কী হলো, নন্দিতা? আর ইউ ওকে?

অনিন্দিতা চোখ-মুখ কুঁচকে থেমে থেমে উত্তর দিল,

— ন.. না! পায়ে ব-ব্যথা...

শুভ্রের নিঃশ্বাসের বদলটা যেন স্পষ্ট টের পাওয়া গেল ফোনের এপাশ থেকেও। এক সেকেন্ডের জন্য পুরো লাইনটা নীরব হয়ে রইল।

— ব্যথা? কোথায় ব্যথা পেয়েছো? হাঁটতে পারছো?

শুভ্রের গলা আর শান্ত নেই; দম আটকে থাকা তীব্রতা স্পষ্ট সেখানে।

অনিন্দিতা দুই হাতে হাঁটু জড়িয়ে ধরল শক্ত করে।

— হা-হাঁটুতে… সি-সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে… পড়ে গেছি… দাঁড়াতে পারছি না…

ইরা প্রীতির দিকে তাকিয়ে ছোট্ট করে বলল, “শেষ!”

প্রীতি মাথা নাড়ল গম্ভীর মুখে।

ফোনের ওপার থেকে শুভ্রের গলা আরও নিচু, আরও ধারালো হয়ে এসেছে ততক্ষণে,

— ইরা ছাড়া আর কে আছে তোমার সাথে?

ইরা পাশ থেকে দ্রুত উত্তর দিল,

— আমি আর প্রীতি আছি ভাইয়া। অনু অনেক বাজেভাবে পড়ে গেছে... হেলথ সেন্টারে যেতে চাইছিলাম কিন্তু ও উঠতে পারছে না...

অনিন্দিতা অমনি চোখ রাঙিয়ে তাকালো ইরার দিকে। শুভ্র ছোট্ট করে একটা দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলল— রাগটা সামলে নেওয়ার চেষ্টা, কিন্তু না-পারা অবস্থাটা যেন স্পষ্ট।

— অনিন্দিতা, ওঠার দরকার নেই। নড়বেও না। বুঝেছো?

যেভাবে আছো ওভাবেই বসে থাকো চুপচাপ, আমি আসছি।

অনিন্দিতা চমকে উঠল।

— ন-না… আসতে হবে না… আমি… আমি ঠিক আছি…

শুভ্র সঙ্গে সঙ্গে কেটে দিল ওর কথা।

— ঠিক নেই, অনিন্দিতা। মিথ্যে বলার চেষ্টা করো না আমার সাথে। যেখানে আছো ঠিক ওখানেই থাকবে, এক পাও নড়বে না, খবরদার।

To be continued...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৮তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন