#মেঘবরণ_প্রেম
পর্ব - ২১ [রোমান্টিক এলার্ট]
লেখা - আসফিয়া রহমান
অনুমতি ছাড়া কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ❌
৩৭.
দিনটা ছিল অতিরিক্ত চাপের। রায়হান ক্রিয়েশনসের সাথে আরেকটা ফ্যাশন হাউজের দুটো ডিল ছিল আজ। শুভ্র যেন দম ফেলার সুযোগ পায়নি পুরো দিন। ফলস্বরূপ মাথাটা এখন হয়ে আছে আগুনের মতো গরম, চোখদুটো টনটনিয়ে ব্যথা করছে, শরীরটা ভেঙেচুরে আসছে ক্লান্তিতে।
বাসায় ফিরে ফ্রেস হয়েই সোজা ছাদে উঠল ও। একটু তাজা হাওয়া খাবার অভিলাষে। অথচ সেগুড়ে বালি! ছাদের দরজায় আসতেই থমকে গেল ছেলেটা। অনিন্দিতা দাঁড়িয়ে আছে রেলিং ঘেঁষে। মচকানো পা নিয়ে ছাদে কী করছে মেয়েটা? চার-চারটে সিঁড়ি ভেঙে উপরে উঠেছে কী করে!
শুভ্রর ক্লান্তি, মাথা-ধরার যন্ত্রণা- সবকিছু যেন এক মুহূর্তে বদলে গেল তীব্র রাগে। একে তো সারাদিনের যন্ত্রণায় ওর মাথা গরম, তার ওপর মেয়েটার এই অবিবেচক কাজ…! মুহূর্তেই মাথায় ধপ করে আগুন জ্বলে উঠেছে ওর।
“অনিন্দিতা…”
মেয়েটা চমকে ঘুরে তাকাল, “আপনি?”
শুভ্র ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলো মেয়েটার দিকে, ওর চোখ প্রথমেই গিয়ে থামল অনিন্দিতার পায়ে। সেদিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলল, “এই পা নিয়ে তুমি ছাদে উঠেছ কোন আক্কেলে, শুনি?”
অনিন্দিতা ঠোঁট কামড়ে ধরল, জবাব দিল না।
শুভ্রর চিড়বিড়িয়ে উঠলো আবার, “চারটা সিঁড়ি ভাঙার মতো অবস্থা তোমার আছে?! সবে একটু সারতে শুরু করেছে পা-টা, কোথায় প্রোপারলি রেস্ট করবে, যাতে তাড়াতাড়ি ঠিক হয়ে যায়.. কিন্তু না! তার বদলে দৌড়ে দৌড়ে উনি ছাদে এসেছেন হাওয়া খেতে।"
"বাসায় সাফোকেশন ফিল হচ্ছিলো, তাই..."
"ছাদে আসতে ইচ্ছে করছিল- আমাকে একটা কল দিলে হতো না? আমি নিয়ে আসতাম। তুমি পাকনামি করতে গেলে কেন? আন্টি কোথায়, আন্টি বারণ করে নি?"
অনিন্দিতা প্রায় না শোনার মতো করে ফিসফিসিয়ে শুধুমাত্র শেষ প্রশ্নটার উত্তর দিলো, "আম্মু বাইরে গেছে..."
মুহূর্তেই চোয়াল শক্ত হলো শুভ্রর। বাসায় কেউ নেই, সেই সুযোগে সবাইকে ফাঁকি দিয়ে ছাদে এসেছেন উনি! শুভ্র আচমকাই মেয়েটার কোমর চেপে ধরে রেলিংয়ে বসালো ওকে। অনিন্দিতা আঁতকে উঠে শুভ্রর গলা জড়িয়ে ধরলো শক্ত করে। ভয়ে মেয়েটার হৃদপিন্ডটা যেন গলায় উঠে এসেছে প্রায়!
শুভ্র অনিন্দিতাকে রেলিংয়ে বসিয়ে দুই হাতে ধরে রেখেছে শক্ত করে। পড়ে যাওয়ার কোনো সুযোগই নেই, তবু হঠাৎ এমন করায় ভয়ে কুঁকড়ে গেছে মেয়েটা। বাচ্চাদের মতো ওর দু’হাত শুভ্রর গলা জড়িয়ে ধরে আছে শক্ত করে।
“বাসায় কেউ নেই, আর এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করে তুমি উপরে চলে এলে? যদি হোঁচট খেতে? যদি—”
মেয়েটা শুভ্রর প্রসস্থ বুকের কাছে মুখ লুকিয়ে খুব আস্তে করে বলল, “আমি ভেবেছিলাম… কিছু হবে না…”
“কিছু হবে না?" শুভ্র ওর কোমরটা শক্ত করে চেপে ধরে আরও কাছে টেনে নিল, "অনিন্দিতা.. আমাকে আর রাগিও না! ইচ্ছে করছে তোমাকে এই মুহূর্তে..."
মেয়েটার ছলছল চোখে দৃষ্টি পড়তেই থেমে গেল শুভ্র। কথাটুকু শেষ করল না আর। তীব্র রাগের জায়গায় কিছু উষ্ণ, নরম, গভীর অনুভূতি এসে সহসাই ভিড় জমালো যেন। ও অনেকটা নিচু হয়ে অনিন্দিতার টলমল চোখের পানে তাকিয়ে নরম গলায় বলল,
"তোমার পা ঠিক হবার অপেক্ষায় আমাদের এনগেজমেন্টটা আটকে আছে, কিউটি পাই। এমন কোরো না.. জলদি জলদি ঠিক হয়ে যাও। আমার যে আর তর সইছে না!"
অনিন্দিতা কেঁপে উঠলো। রক্তিম গাল নিয়ে চোখদুটো নামিয়ে নিল তড়িঘড়ি। শুভ্র মেয়েটার থুতনি ধরে একটা শক্ত চুমু খেল ঠোঁটে। তারপর কানের কাছে ফিসফিসিয়ে বললো, "এই অল্প-সল্প ছোঁয়ায় যে আমার পোষাচ্ছে না, রেড চেরি! হোয়েন ইউ উইল প্রোপারলি বি মাইন?"
লজ্জায় কন্ঠরোধ হলো মেয়েটার। লাগামহীন পুরুষ কী বলে চলেছে এসব! ওর রক্তিম হয়ে ওঠা দু কান দিয়ে সমানতালে ধোঁয়া ছুটছে যেন! তড়িৎবেগে প্রসস্থ বক্ষে মুখ লুকিয়েও রেহাই মিলল না!
লাগামহীন পুরুষের নির্লজ্জ ঠোঁটজোড়া ওর খোলা চুল সরিয়ে তখন নেমে এসেছে উম্মুক্ত কাঁধে। সূক্ষ্মতর যন্ত্রণা অনুভব হতেই চোখ খিঁচে মানুষটার চুল খামচে ধরল অনিন্দিতা।
"শু-শুভ্র..."
এইমাত্র করা অগভীর ক্ষতস্থানে পরপর অনেকবার ঠোঁট ছোঁয়ালো শুভ্র। বেসামাল অনুভূতি সামলাতে না পেরে অনিন্দিতা কেমন কেঁপে কেঁপে উঠলো। ওর চিকন আঙুলগুলো মাথার চুলে আরো শক্ত করে গেঁড়ে বসতেই শুভ্রর হুঁশ ফিরল যেন। শব্দ করে শেষ আরেকটা চুমু খেয়েই সরে এলো ছেলেটা।
"সরি, কিউটি পাই! আম-আমি একটু বেশি করে ফেলেছি মেইবি। অ্যাকচুয়ালি আ'ম সো টায়ার্ড টুডে, নন্দিতা! আই নিড সামথিং রিফ্রেশিং লাইক ইউ! ঠোঁটে আরেকটা চুমু খাই, প্লিইইইজ?"
ছেলেটার গলায় স্পষ্ট আকুতি! অনিন্দিতার চোখ তখনও বন্ধ। একটু আগের আর করা পাগলামি রেশ সামলে উঠতে না উঠতেই আবারও এহেন কথায় ধড়ফড়িয়ে উঠে বড় বড় চোখ মেলে চাইল মেয়েটা।
শুভ্র তাকিয়ে আছে ক্লান্ত-ঘোরলাগা চোখে। অনিন্দিতা ফাঁকা ঢোক গিললো।
"বা-বাসায় যাবো, শ-শুভ্র..!"
শুভ্রর চোখের দৃষ্টি করুণ হলো যেন। সাথে শক্ত হলো সরু কোমর জড়িয়ে থাকা বলিষ্ঠ হাতের বাঁধন।
"জাস্ট টু মিনিটস, রেড চেরি, প্লিজ?"
অনিন্দিতা চোখ বন্ধ করে ফেলল। আর সেটাকেই সম্মতি ধরে নিয়ে শুভ্র তৎক্ষণাৎ আঁকড়ে ধরলো মেয়েটার কাঁপা কাঁপা পাতলা অধরজোড়া। মেয়েটা কেঁপে উঠে মুঠোয় আঁকড়ে ধরলো শুভ্রর টি-শার্টের খানিকটা অংশ।
কিছুক্ষণ পর শুভ্র সরে এলো। বড়বড় নিঃশ্বাস নিতে নিতে তাকালো অনিন্দিতার দিকে। মেয়েটার গালদুটো টকটকে লাল হয়েছে লাজে, ঠোঁটদুটো অধৈর্য পুরুষের তাণ্ডবে রক্তিম।
শুভ্র মুগ্ধ হলো প্রেমিকার এহেন আর্কষনীয় রূপে। লাজুক প্রেমিকাকে টুকটুকে বউ বানাবার ইচ্ছেটা হলো তীব্র থেকে তীব্রতর। অধৈর্য শুভ্রর ইচ্ছে করলো, ঠিক এই মুহূর্তে মেয়েটাকে নিজের নামের সাথে জুড়ে নিতে আজীবনের জন্য। ইচ্ছে করলো, পুরো পৃথিবীকে জানিয়ে দিতে- এই মেয়েটা ওকে ভালোবাসে, এই মেয়েটা শুভ্রর, শুধুই তাহমিদ রায়হান শুভ্রর। আর কারোর বিন্দুমাত্র অধিকার নেই তাহমিদ রায়হান শুভ্রর মেঘফুলকে ছুঁয়ে দেখার।
তীব্রতর ইচ্ছেটাকে আপাতত মাটি চাপা দিয়ে শুভ্র মেয়েটাকে রেলিং থেকে নামিয়ে কোলে তুলে নিল। তারপর ধীরে ধীরে ছাদের দরজা পেরিয়ে নামলো সিঁড়ি বেয়ে। অনিন্দিতার লজ্জার পাশাপাশি ভয় হচ্ছে ভীষণ। কেউ যদি দেখে ফেলে? দোতলায় নামতেই আন্টি অথবা আঙ্কেল কেউ যদি কেউ যদি বাসা থেকে বের হয়?
ভাবনাটা মাথায় আসা মাত্রই অনিন্দিতা চমকে উঠলো। ছটফট করে উঠলো বলিষ্ঠ বাহুডোরে।
"শুভ্র, আমাকে নামান! আমি যেতে পারব..."
শুভ্র তখন ওকে নিয়ে কেবল একটা সিঁড়ি নেমেছে, দোতলায় পৌঁছানোর আগে আরো একটা সিঁড়ি বাকি। বাধ্য হয়ে থেকে গেল ও। ভুরু কুঁচকে তাকালো মেয়েটার দিকে, "কী সমস্যা?"
অনিন্দিতা আমতা আমতা করল, "নামিয়ে দিন না! আমি হাঁটতে পারব তো..."
শুভ্র পাত্তা দিলো না ওর কথায়। বরং বাহুর বাঁধন আরেকটু শক্ত করে ধমকের সুরে বলল, "মুখ বন্ধ করে শান্ত হয়ে থাকো, খবরদার নড়বে না! এভাবে ছটফট করতে গিয়ে যদি আবার ব্যাথা পাও তুমি অনিন্দিতা.. তাহলে দেখবে আমি কি হাল করি তোমার।"
অনিন্দিতা চুপসে গেল। শুভ্র গম্ভীর গলায় আবার বলল,
"আর হ্যাঁ, কেউ দেখলে দেখবে, সবাই জানে তুমি অসুস্থ। আমি নিজের হবু বউকে কোলে নিয়েছি, এতে কার কী?"
অনিন্দিতা আর কথা বাড়াতে সাহস পেল না। সিঁটিয়ে রইলো শুভ্রর বুকের কাছে। দোতলা পার করে সিঁড়ি বেয়ে নিচতলায় চলে এলো ওরা। ফ্ল্যাটের দরজাটা ভেজানোই ছিল। শুভ্র সন্তর্পণে পা দিয়ে ধাক্কা দিয়ে দরজাটা খুলে ভেতরে ঢুকলো। ড্রয়িংরুমটা ফাঁকা। অনিন্দিতা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। যাক বাবা! আম্মু বা অর্ক কেউ ফেরেনি এখনো।
শুভ্র সোজা লিভিং রুমের সোফায় খুব সাবধানে নামিয়ে দিল ওকে। তারপর নিজেও ধপ করে বসে পড়ল অনিন্দিতার পাশে। সোফায় হেলান দিয়ে চোখ দুটো বুজে ফেলল। কপালে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে ক্লান্তির ভাঁজ। সারা দিনের ধকলটা এখন যেন জেঁকে বসেছে শরীরজুড়ে।
অনিন্দিতা এতক্ষণ জড়সড় হয়ে থাকলেও, শুভ্রর বিধ্বস্ত রূপটা দেখতেই ওর বুকের ভেতরটা কেমন যেন করে উঠল। মানুষটা সারাদিন কাজের চাপে পিষ্ট হয়ে ফিরেছে, তার ওপর ওর পাগলামি সামলাতে গিয়ে রেগে গিয়েছে আরও। ওর মায়া হলো খুব।
অনিন্দিতা আস্তে করে শুভ্রর দিকে সরে বসল। দ্বিধা কাটিয়ে কুণ্ঠিত স্বরে ডাকল, "শুভ্র...?"
শুভ্র চোখ খুলল না। বন্ধ চোখের ওপর হাত রেখে ক্লান্ত স্বরে জবাব দিল, "হু..."
"আপনার কি খুব খারাপ লাগছে? মাথা ব্যথা করছে?"
শুভ্র হাতটা সরিয়ে অনিন্দিতার দিকে তাকাল। ওর চোখে এখন আর রাগের লেশমাত্র নেই, আছে কেবল এক আকাশ ক্লান্তি আর একমুঠো আবদার। ও অনিন্দিতার হাতটা আলগোছে নিজের হাতের মুঠোয় পুরে নিয়ে ক্লান্ত গলায় বলল, "ভীষণ ব্যথা করছে, নন্দিতা। মনে হচ্ছে রগগুলো ছিঁড়ে যাবে। একটু মাথায় হাত বুলিয়ে দেবে?"
অনিন্দিতার ভেতরটা দুমড়েমুচড়ে গেল যেন। এই মানুষটা একটু আগেই কতটা দাপট দেখাচ্ছিল, আর এখন কেমন ছোট বাচ্চার মতো আবদার করছে। ও কোনো কথা না বলে শুভ্রর দিকে তাকিয়ে নিজের কোল ইশারা করলো।
শুভ্র হাসলো সামান্য। মাথাটা সন্তর্পনে এলিয়ে দিল মেয়েটার নরম কোলের ওপর। অনিন্দিতা ওর চুলের ভাঁজে একটা হাত রাখতেই অকস্মাৎ একটা ভয়ংকর কাজ করে বসলো ছেলেটা। পেটে মুখ গুঁজে মেয়েটার সরু কোমর জড়িয়ে ধরল দুহাতে। অনিন্দিতা চমকে উঠলো। চুলের ভাঁজে রাখা হাতটাও কেঁপে উঠল ওর।
"শু-শুভ্র..."
"উমম... থেমে গেলে কেন! মাথায় হাত বুলিয়ে দাও, কিউটি পাই। ভীষণ ঘুম পাচ্ছে আমার..."
অনিন্দিতা চোখ বড় করে তাকালো, "বাসায় গিয়ে ঘুমান, আপনি! আম্মু চলে আসবে যে কোনো সময়!"
"আসুক! আমি কোথাও যাচ্ছি না এখন! তুমি মাথায় হাত বুলাও..."
অনিন্দিতা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। এই নাছোড়বান্দা মানুষটার সাথে তর্কে জেতা অসম্ভব। তাছাড়া শুভ্রর চোখের ক্লান্তির ছাপ দেখে ওর বুকের ভেতরটাও কেমন ভারী হয়ে আসছিল। মানুষটা সারাদিন কাজের চাপে পিষ্ট হয়ে কেবল একটু শান্তির খোঁজে ওর কাছে এসেছে। তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার সাধ্যি অনিন্দিতার নেই।
অনিচ্ছা সত্ত্বেও ভয়ে ভয়েই ফের শুভ্রর ঘন কালো চুলে আঙুল চালাতে শুরু করল ও। খুব যত্ন করে, আলতো হাতে বিলি কেটে দিতে লাগল। অনিন্দিতার আদুরে স্পর্শে শুভ্রর শক্ত হয়ে থাকা পেশিগুলো ধীরে ধীরে শিথিল হয়ে এল যেন। পেটে গোঁজা মুখটা আরেকটু গভীর করে গুঁজে দিয়ে একটা গভীর স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল ছেলেটা। গরম নিঃশ্বাসের তোড়ে আরেকদফা কেঁপে উঠলো মেয়েটার নাজুক শরীর।
ঘড়ির কাঁটা টিকটিক করে চলছে। বিকেলের ম্লান আলো এসে পড়েছে শুভ্রর পিঠের ওপর। অনিন্দিতা মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে রইল কোলে মাথা রাখা মানুষটার দিকে। একটু আগে যে পুরুষটা ঝড়ের বেগে এসে সব তছনছ করে দিচ্ছিল, সে এখন কেমন অবুঝ শিশুর মতো আশ্রয় নিয়েছে ওর কোলে। তার সমস্ত দাপট, রাগ আর তেজ এখন অনিন্দিতার আঁচলের নিচে সুপ্ত।
মিনিট দশেকের মধ্যেই শুভ্রর শ্বাস-প্রশ্বাস ভারী শব্দ কানে এলো। কোমরের বাঁধনটা সামান্য আলগা হলেও হাতদুটো সরল না। অনিন্দিতা বুঝতে, ক্লান্ত শুভ্র তলিয়ে গেছে গভীর ঘুমে।
ওর ইচ্ছে করল, খুব সাবধানে শুভ্রর কপালে একটা চুমু খেতে। হাত বাড়িয়ে কপালের ওপর এসে পড়া অবাধ্য চুলগুলো সরিয়ে দিল ও। দ্বিধা কাটিয়ে ঝুঁকে এল একটুখানি। ঠিক তখনই—
"টিং টং..."
কলিং বেলের কর্কশ শব্দে আত্মারাম খাঁচাছাড়া হওয়ার জোগাড় অনিন্দিতার! হৃৎপিণ্ডটা যেন গলার কাছে উঠে এল এক লাফে। আম্মু চলে এসেছে! নিশ্চিত আম্মু!
এখন উপায়? শুভ্রকে ডাকবে নাকি নিজেই ওঠার চেষ্টা করবে ও? এই অবস্থায় আম্মু যদি দেখে ফেলে, তবে লজ্জায় মাটিতে মিশে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। ভয়ে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে এল মেয়েটার। ও শুভ্রর কাঁধে হাত রেখে অস্থির হয়ে ধাক্কা দিল,
"শ-শুভ্র... উঠুন! প্লিজ উঠুন... আম্মু এসেছে! শুভ্র!"
শুভ্র ঘুমের ঘোরে ভ্রু কুঁচকে বিরক্তি প্রকাশ করল শুধু, ওঠার নামও নিল না। উল্টো আরও শক্ত করে অনিন্দিতাকে জড়িয়ে ধরে বিড়বিড় করল তন্দ্রাচ্ছন্ন স্বরে, "উঁহু... ডিস্টার্ব করো না তো... ঘুমাতে দাও..."
দরজার বাইরে কলিং বেলটা আবার বেজে উঠল। এবার আরও দীর্ঘ, আরও অধৈর্য। অনিন্দিতার কান্না পেয়ে গেল ভয়ে।
To be continued...