#হৃদয়হরণীর_আসক্তি
#পর্বঃ৩
লেখিকা: #সাফা_মারওয়া
রিফা: ভাবিববববব। (দৌড়ে এসে)
রায়দা: আস্তে আস্তে। পরে যাবি।
সারা: কেমন আছো?। (জড়িয়ে ধরে।)
রিফা: ভালো। তোমাকে পেয়ে আরো ভালো। তুমি?
সারা: আমি ও ভালো আছি।
রিফা: হবু বরের সাথে দেখা করেছো?
সারা: না। করবো (লজ্জা পেয়ে)
রিফা: ওহ হোহহহ একদম লাল হয়ে যাচ্ছ দেখি।
॥
In call...
আরোশি: কই আপনি?
আবরার: বাসায়।
আরোশি: কেনো? ওই মেয়ে কে দেখতে গেছেন?
আবরার: কোন মেয়ে?
আরোশি: ওই বুড়ি যার সাথে আপনার বিয়ে ঠিক করছে।
আবরার: সম্মান কর দাদু হয়।
আরোশি: সম্মান গেছে মুড়ি খাইতে। আমার জিনিস অন্য কাওকে দিতে চায় আর আমি তাকে করবো সম্মান? জীবনও না ।
আবরার: কেনো ফোন করছিস?
আরোশি: আমি আপনার অফিসে এসে দেখি আপনি নেই।
আবরার: তুই? তুই অফিসে কি করিস?
আরোশি: আপনার সাথে দেখা করতে আসছি।
আবরার: আমি অফিসে না।
আরোশি: বাসায় কেনো গেছেন!
আবরার: ভালো লাগছিলো না তাই
আরোশি: এখন?
আবরার: বাসায় আয়।
আরোশি: না আমার কাজ আছে একটু পর আসবো।
আবরার: আমি আস্তে বলছি এখনই (রেগে)
আরোশি: আচ্ছা। আপনি বলছেন আমি না এসে পারি। আসছি জান।
এই বলে কল কেটে দেয়।
আবরার ফোন রেখে খাটের সাথে হেলান দিয়ে বলে
আবরার: ভালো হয়েছে ফোন দিয়েছে এখন বাসায় না এসে যাবে কই নয়তো ওই সারা একটু পর এসে আমার মাথা খাবে। একটার পিছ ছাড়তে চাইলে আরেকটা কে হাজির করতে হয় কি কপাল।
time skip,,,,,
সারা: আসতে পারি ?
আবরার এর দরজার সামনে দাড়িয়ে বলে সারা। ফোনের থেকে চোখ উঠিয়ে আবরার সারা কে বলে।
আবরার: হম আসো।
রুমে ডুকতে ডুকতে সারা বলে
সারা: কেমন আছো এখন?
আবরার: এইতো ভালো তোমার কি খবর? বসো।
সারা: হম আমি ও ভালো।
এই বলে আবরার এর পাশে বসে। কিন্তু আবরার নিজের ফোনে ব্যাস্ত হয়ে যায়। এতে সারার রাগ লাগে ফোনের মধ্যে মাঝে মাঝে এত সুন্দর করে কথা বলে মনে হয় এই পুরুষ টা ওর প্রেমে পাগল আবার মাঝে মাঝে এত অবহেলা করে যেনো দুইটা চোখের আগে দেখতে পরে না । উফফ এমন কেন। একবার শুধ বউ হয়ে আসি তারপর আঁচলে বেঁধে রাখবো। এইসব ভেবে মুচকি হাসলো
আবরার: হাসছো কেনো?
সারা: ভাবছি এই রুম টা রুমের মানুষ টা একদিন আমার ও হবে। আমি কত সপ্ন দেখেছি তোমার সাথে আমার সব সপ্ন পূরণ করবো।
আবরার: দেখা যাক।
সারা: মানে?
আবরার: কিছু না। খাওয়া দাওয়া করছো?
সারা: না। চলো একসাথে করবো।
Knock___knock
আবরার: coming
রিফা: খেতে ডাকে। তোমাদের প্রেমের গল্প শেষ হলে খেতে আসো। (মুচকি হেসে)
আবরার:বেশি পাখনা হয়ে গেছিস বেয়াদব।😡
Rifa: আরে রাগের কি আছে ঠিক এ তো বললাম। ooooooh তোমরা কি অন্য কিছু করছিলে আর আমি আসাতে ডিস্টার্ব হলে?
সারাতো লজ্জায় লাল সবুজের পতাকা হয়ে গিয়েছে। এইটা যেনো আবরার এর রাগের আগুনে ঘি দাওয়ার মত। এই মেয়ে কেনো লজ্জা পাবে? যার লজ্জা পাওয়ার কথা সে তো নিলজ্জের মত কাজ কাম করে। ওইটা আরেক অসভ্য।
আবরার: মা কে বলবো তুই এইসব কি বলছিস ফাজিল?
সারা: আহহা রেগো না চলো।
সারা এই রকম ভাবে অধিকার নিয়ে কথা বলাটা আবরার একদম পছন্দ করে না। বরং এই মেয়ে টাকেই পছন্দ করে না। সব হইছে ওই অবাধ্য গুন্ডি মেয়েটার জন্য। মাফিয়া একটা। ফাজিল। ওকে ও পছন্দ না। ছেহ, দিন দিন এই মন তাও অবাধ্য হয়ে যাচ্ছে। সব কেনো ওর অপছন্দের হতে হবে। অসহ্য ।
॥
সিঁড়ির কাছে এসে দেখে সবাই তাদের জন্য অপেক্ষা করছে খাবার টেবিলে। তাদের মাঝে আরোশি ও আছে। নেবি কালো কালারের একটা সালোয়ার কামিজ পরে আছে মাথার চুল ছাড়া চুল থেকে অল্প পানি পড়ে জামার পিছন সাইড একটু ভিজে গেছে। চুপচাপ সবার সাথে বসে ফোনে কি যেনো করছে । এই মেয়ে কে সে বলেছে সেই কখন আসতে আর এই মেয়ে সুন্দর সেজেগুজে বসে আছে। কেন তার ঘরে আসলে কি সে তাড়িয়ে দিতো? নাহ একদম না। কিন্তু ঐযে এই মেয়ের তো কাজই তার কথা অমান্য করা। এইজন্যই তো অবাধ্য বলে। অবাধ্য নারী হাহ্।
এইসব বিড়বিড় করতে করতে আবরার আরোশির পাশে বসে আর আবরার এর পাশে বসে সারা। আবরার কে বসতে দেখে আরোশি ফোন রেখে পানি ঢালতে থাকে তার আর আবরার এর গ্লাসে। ঠিক তখনি রোশনারা বেগম বলে
-: তোমার করতে হবে না এখন ওর বউ আসছে।
আরোশি: আমি তো এখনও বিয়ে করি নাই। কি সাহেব কি বলে এইসব আপনি পরকীয়া করছেন? (কান্না কান্না ভাব করে)
এইটা শুনে আবরার আরোশির দিকে শক্ত চোখে তাকায় বিড়বিড় করে
~~অসভ্য অসভ্য
তখনি আবরার এর দাদি বলে
জেসিয়া চৌধুরী: চুপ করো ফাজিল কি বলো এইসব। আমি আবরার এর সাথে সারা এর বিয়ে ঠিক করেছি তুমি নিজেকে কেনো টানছো এইসবের মাঝে?
আরোশি: এই বয়সে এত রাগ ভালো না বুড়ি। তেজ কমাও। আর আমার সাথে তো ভুলেও এই সাহস দেখাতে এসো না। আমার তেজের আগুনে তুমি সহ তোমার সঙ্গীরা পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। আর আমি নিজেকে এইসব এর মাঝে টানছি না বরং তুমি আমার জান নিয়ে টানছো। নিজে তো মরবা সাথে আমাকে ও মারতে চাও?
আবরার: আহহা এইসব কি কথা। দাদু হয় সম্মান করো।
জেসিয়া চৌধুরী: জানেই তো না সম্মান কি। আবার করবে হাহ্। (তাচ্ছিল্যের সুরে)
কুমকুম বেগম: আমি এখনও ভাবি কিভাবে আমি এমন একটা মেয়ে কে জন্ম দিলাম যে জানে না সম্মান করতে হয় কিভাবে। বাবা মার কথা কে গুরুত্ব দেয় না নিজের মন-মানসিকতা যা বলে তাই করে নিজের বড় আব্বু কে পর্যন্ত সম্মান করে না।
রোশনারা বেগম: কথার তো কোন সাইজ নাই মুখে যা আসে তাই বলে। এই বয়সে গেছে গুন্ডাগিরি করতে। (তাচ্ছিল্য সুরে)
জেসয়া চৌধুরী: এই ছেড়ি কদিন পর বিয়া দিমু পরের বাড়ি যাবিগা এখন এইসব রাজনীতিতে গুন্ডাগিরি ছাইড়া দে। মাইয়া মানুষ এই সব করা ভালা না। মাইয়া মানুষের মন থাকবো ফুলের মত নরম কথা কইলেই মনে জায়গা মত গেইথা লাগবো তোর মন'ই তো নাই গাদবো কোন জায়গায় হাহ্।
রোশনারা বেগম: লজ্জা থাকলে এত কথা শোনার পরেও আমার ছেলের পিছন পড়ে থাকতো না। জানেও যার পিছে পড়ে থাকে সে পাত্তা দেয় না তারপরও পেছনে ঘুরে মৌমাছির মত।
রায়দা: এইজন্য বলছি এসব ছাইড়া বিয়াটা তাড়াতাড়ি দিয়া দাও নয়তো এই মেয়ে বোস করবে। জাদুটুনি একটা।
আবরার এইবার বিরক্ত হয়ে বলে
আবরার: আহা ফুপি খাও তো বাদ দাও ওসব কথা।
রায়দা: কেন বাদ দেবো হ্যাঁ? ওর পক্ষে কথা বলিস কেন? তোরে সত্যি সত্যি আবার জাদু করে নেই তো!
আবরার: ধুর তোমরাও না মানে কি বলবো। বাবা আর ছোট আব্বু নাই বলে যা মুখে আসতেছে তাই বলতেছো নয়তো খাওয়ার টেবিলে তো কেউ একটু শব্দ করার সাহস পায় না।
এইদিকে আরোশিকে দেখলে যে কেউ বলবে হয়তো কানে শুনে না আর নয়তো ওর চেয়ে খুশ মেজাজ এ আর কেউ নেই দুনিয়ায় যার কাছে কারো কথা কানে যায় না, দিব্যি খাচ্ছে।
চলবে,,,,,