ফন্ট সাইজ:
থিম:
এক হৃদয় হরনীর আসক্তি

৪র্থ পর্ব

লেখক: সাফা মারওয়া

#হৃদয়হরণীর_আসক্তি

#পর্বঃ৪

লেখিকা: #সাফা_মারওয়া

রায়দা: কেন বাদ দেবো হ্যাঁ? ওর পক্ষে কথা বলিস কেন? তোরে সত্যি সত্যি আবার জাদু করে নেই তো!

আবরার: ধুর তোমরাও না মানে কি বলবো। বাবা আর ছোট আব্বু নাই বলে যা মুখে আসতেছে তাই বলতেছো নয়তো খাওয়ার টেবিলে তো কেউ একটু শব্দ করার সাহস পায় না।

এইদিকে আরোশিকে দেখলে যে কেউ বলবে হয়তো কানে শুনে না আর নয়তো ওর চেয়ে খুশ মেজাজ এ আর কেউ নেই দুনিয়ায় যার কাছে কারো কথা কানে যায় না, দিব্যি খাচ্ছে।

তখনই সাইদুল চৌধুরী আর আজমুল চৌধুরী বাসায় আসে নামাজ পড়ে।

আজমুল: বাহ আজ দেখি সবাই আগেই খেতে বসে পড়ছো।

সারা: আসসালামু আলাইকুম বড় আব্বু, ছোট আব্বু।

আজমুল, সাইদুল: ওয়ালাইকুম আসসালাম

সাইদুল: মামনি কেমন আছো? (মাথায় হাত রেখে)

সারা: আলহামদুলিল্লাহ ভালো।

আজমুল: কখন আসছো

সারা: দুপুর দিকে বড় আব্বু।

সাইদুল: আচ্ছা খাও খাও

সাইদুল: কেমন আছিস তুই। (সারার মাকে জিজ্ঞেস করে টেবিলে বসতে বসতে)

রায়দা: এইত ভাই ভালো আপনার শরীরটা কেমন।

সাইদুল: আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো।

রায়দা: সামনে তো ইলেকশন ভাই আপনি এত টেনশন নিয়েন না। সমস্যা নাই জিত আপনারই হবে। ( আজমুল চৌধুরীর উদ্দেশে বলে)

আজমুল: আরে কি যে বলিস আরোশি থাকলে আবার কিসের টেনশন।। এটা তো আমার আরেকটা মা।

রায়দা: ও আর কি বা করবে সব তো বোর্ড এর ওপরে নির্ভরশীল।

আজমুল: তোর ধারণার বাইরে কি কি করতে পারে। আচ্ছা এসব বাদ দিয়ে খা।

রিমা: আব্বু বসো এতক্ষন তো মুভি চলছিলো তুমি মিস করলে।

সাইদুল: হা হা হা মানে? 😄

রিমা: আরে বড় আম্মু আর দা---

জেসিয়া : চুপচাপ খা। তোরে কথা কইতে কইছে?

রিমা আর কিছু বলে না। সবাই খাওয়ায় মনোযোগ দিলে আরোশি এর কথায় সবাই ওর দিকে থাকায়। হটাৎ খেতে খেতে আরোশি আজমুল চৌধুরীকে প্রশ্ন করে

আরোশি: আচ্ছা বড় আব্বু আমি তোমাকে কখনো অসম্মান করছি?

আজমুল: হঠাৎ এই প্রশ্ন?

আরোশি: বলোনা করেছি কিনা?

আজমুল: না তো। এখন বল এই প্রশ্নের কারণ কি?

আরোশি: না মানে ওই আর কি তোমার বউ আর তোমার ভাইয়ের বউ এর মনে হয় এমন কিছু একটা তাই।

আজমুল সাহেব এইবার তাদের দিকে তাকিয়ে দেখে তারা হতভম্ব হয়ে আছে।

আজমুল: তোমরা ওকে এসব বলছো!

আরোশি: আরে তারা তো ভোলা ভালা তারা কি করে জানবে তুমি তোমার এই বুড়ো মাকে জিজ্ঞেস করো না।

আজমুল: মা!

জেসিয়া: কি মা? যা কইছি সব ঠিক কইছি ওগো বিয়া আমি ঠিক করছি। ওগো মাঝখানে ওই ঢুকবো কিল্লিগা। তোরা যা খুশি তাই কর খালি বিয়ার ব্যবস্থা কর আমার কথার খিলাফ জানি হইতে আমি কাউরে না দেখি।

আজমুল: এখনই কিসের বিয়া শাদি। সময় তো হাতে আছেই।

কুমকুম বেগম: এখন সারা আসছে এখনই সবকিছুর কথাবার্তা পাকাপাকি করে রাখলেই আমার কাছে মনে হয় ভালো হবে।

আরোশি: আচ্ছা আমার জান আমি ভাবতেছি আজকের থেকে আপনাকে জান বলে ডাকা বন্ধ করে দিব আপনাকে আমি আজকে থেকে মন্ত্রী সাহেব বলে ডাকবো। কি বলেন। (খেতে খেতে)

আবরার: আমার মাথা খাবি না।

আরোশি: আপনার মাথা খেয়ে কি করব? আমি তো একদিন আপনাকে পুরোটা পুরাই খাব।

জেসিয়া: ছি ছি ছি ছি লজ্জা করে না এতগুলা মানুষের সামনে এসব বলতে। আমি কইতাছি কি আমার আবরার দাদুভাইয়ের লগে লগে এই ছেরিরাও বিয়া দিয়ে দাও।

আরোশি: তো তোমার লজ্জা করে না একটা বাচ্চা ছেলে কে ডাইনির সাথে বিয়ে দেওয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছো? আবরার কে জিজ্ঞাস করছো ও এই মেয়ে কে বিয়ে করবে কি না?

কুমকুম বেগম: ও তোর মতো না যে আমাদের কথা মানবে না

আরোশি: লজ্জা করো একটা বাইরের মেয়ের জন্য কিভাবে নিজের সন্তানের সংসার ভাঙ্গার জন্য উঠে পড়ে লেগেছো। (অবাক হওয়ার ভান করে)

সারা: মা দেখো কি বলে।

আরোশি: ম্য দিক কি বুলে। (ডং করে) এইসব ঢং রাস্তায় যেয়ে দেখাস মানুষ বিনোদন পাবে। একজন পলিটিশিয়ান হিসেবে তো আমার জনগণের উপর দায়িত্ব আছে।

রোশনারা: কিরে আবরার তুই কিছু বলবি না তোর হবু বউ কে কি সব বলতাছে?

আবরার: উফফ শুরু টা করছো কি তোমরা? সমস্যা কি? বিয়ের আগেই বউ বউ করছো বিরক্ত। সারাদিন পর খেতে বসে ও শান্তি নেই। কি চাও বাড়ি ছেড়ে চলে যাই? (চিল্লিয়ে)

আবরার এর হঠাৎ এত জোরে চিল্লিয়ে উঠার কারণে আরোশি সহ বাকি সবাই কেঁপে ওঠে।

সারা: আবরার প্লীজ তুমি শান্ত হও। আসো রুমে চলো

সারার কথায় যেনো আরোশির মাথায় আগুন ধরে যায়।

আরোশি: ওই আবরার তোরে বলছে আমাকে রুমে নিয়ে চল? তুই ওর চাকর? ওরে রুমে নিয়ে যাওয়ার চিন্তা মাথা থেকে ফেলে তুই নিজের রুমে যা নয়তো তোর মাথার সব চুল আমি ছিঁড়ে ফেলবো

রোশনারা: আ-আবরার আ-আরে আমরা ত--

আবরার: ব্যাস অনেক হইসে বাসার সবাই কে একটু এই টাইমে একসাথে দেখা যায় সেই খানে ও তোমরা এমন করো। আরোশিও সারাদিন পর এসে তোমাদের খোঁচা মারা কথা শুনে মনে হয় ও এই বাসার মেয়ে না। কি এমন করছিল যে এত খোঁচা মেরে কথা বল? খাও তোমরা। খাবার টেবিলে শান্তভাবে থাকতে না পারলে আমাকে খাওয়ার জন্য ডাকবে না।

এইটা বলে আবরার নিজের রুমে চলে যায়।

সাইদুল চৌধুরী: থামলা কেনো বলো। (এইটা বলে সে ও চলে যায়)

জেসিয়া: সব এই সেরির দোষ। হাহ্ অন্যের সুখ দেখলে সহ্য হয়না। হওয়ার পর থাইকা আমগো কপালে অমাবশ্যার রাইত বানায় ফালাইছে। আরোশির লাইগা ওর মামা ও মরলো।

আজমুল চৌধুরী: আহহা মা কি শুরু করলা। ওর কি দোষ ছিল সেইদিন। আরোশি তুমি ঘরে যাও।

আরোশি: তুমি যাও আমি পড়ে যা--

আজমুল: আমি বলছি এখনই তু---

জেসিয়া: যা যা তোর চেহারা দেখতে মন চায় না।

আরোশি: বুড়ি এক পা তো কবরের ভিতর আরেক পা দিয়ে না হেঁটে বিচুটনির মত অন্যের জীবনে নারাও কেনো। দাদা কে তো খাইছো উপরে যেয়ে বাচ্ছে। এখন আমার গলায় ঝুলছো। তোমার ছেলে দুই বউ আর পাবনার মাজারের সিঁড়ি থেকে পাওয়া মেয়ে কে বলে দাও এই আরোশিও দেখবে বিয়ে কেমনে হয়।

বলে আরোশি একটা প্লেটে খাবার নিয়ে উপরে চলে যায়।

রায়দা: দেখছেন ভাই কি বললো ?

আজমুল: তোরা সব গুলা পাগল বানায় ফেলবি আমায়। গেলাম আমি।

কুমকুম: ইসস কিভাবে যে আমি এমন মেয়ে পেটে ধরলাম। আগে জানলে মেরে ফেলতাম। আমার ভাই কে ও হারাইছি ওর জন্য। বাবার বাড়ির সবার সাথে সম্পর্ক শেষ ওর জন্য। প্রতিদিন সংসার এ জামেলা ওর জন্য। আরো কত কি। আবার আজ আবরার--

রোশনারা: থাক বাদ দাও। আবরার এর বিয়ে টা ভালোয় ভালোয় হয়ে নেক তারপর ওর ব্যাবস্থা করবো

সারা: মা এখন যদি আরোশি সত্যি বিয়ে ভেঙ্গে দেয়।

কুমকুম: আরে আমার সোনা চিন্তা কিসের তোর দুই চাচী আছে না।

রোশনারা: না না হবু শাশুড়ি (হেসে)

জেসিয়া: হম তুই চিন্তা করিস না এই বাইত্তে আরোশি এর কথা সবার উপরে থাকলে ও এইবার আমার কথার খিলাফ কেউ হইতে পারবো না এমন রাস্তা করমু।

সারা: তুমি বেস্ট দাদি ( মুচকি হেসে )

রিফা: আর তুমি আমাদের বেস্ট ভাবি।

সারা: যাহ দুষ্টু।

আবির: দেখা যাক। দাদু ভুলে জেও না আরোশি কে। তোমার এমন হাজার টা রাস্তা ভাঙ্গার জন্য আরোশি এর একটা টুকা এ যতেষ্ট।

রিমা: হম তাই তামসা বাদ দিয়ে রুমে যাও। খাওয়া তো নষ্ট করলা আবরার ভাইয়ের তাও কথার শেষ নেই। গেলাম।

আবির আর রিমা আস্তে করে উঠে নিজের কাজে চলে যায়। আবরার এর মা সারা কে বলে

রোশনারা: আরে তুই কিছু মনে করিস না ওরা এমনি। তুই যা আবরার এর রাগ ভাঙ্গা দেক কি করছে।

সারা: হম।

॥

আরোশি: মন্ত্রী সাহেব?

...Knock...knock...

আরোশি: আসবো?

আবরার: coming। (রেগে)

আরোশি: এখনও রেগে আছেন?

আবরার: না। কেনো আসছিস?

আরোশি: আবারো তুই! আপনাকে খাওয়াতে। তখন তো রেগে আর খেলেন না। না খেয়ে থাকা ভালো না। নেন তাড়াতাড়ি খান।

আবরার: খাব না। যা এইখান থেকে।

আরোশি: কি হইসে হটাৎ আমি কি করলাম আমার উপর রাগছেন কেনো?

আবরার: এই এই তোর এই ইনোসেন্ট চেহারা বানাবি না আমার সামনে। ডেভিল কুইন।

আরোশি: আমার উপর কেনো রাগ আপনার। কি করেছি বলেন।

আবরার:___

আরোশি: এই বলেন না

আবরার: ___

আরোশি: মন্ত্রী সাহেব?

আবরার: ____

আরোশি: জান

আবরার: ____

আরোশি: সোনা পাখি

আবরার:____

আরোশি: কি হইসে? কিছু করেছি?

আবরার: ____

আরোশি: আপনি কথা না বললে আমার সাথে আমার নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয় বুঝেন না কেনো?

আবরার: তোরে আমি কখন আসতে বলে ছিলাম?

আরোশি: যখন বলসেন তখনই আসছি জান।

আবরার: তাহলে দেখা করিসনি কেন?

আরোশি: আমি সাওয়ার নিয়ে আপনাকে ডাকতে এসে দেখি রিফা ডাকতে আসছে তাই নিচে চলে গেছি

আবরার: তুই আমায় বোকা মনে করিস আরোশি?

চলবে,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪র্থ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন