#হৃদয়হরণীর_আসক্তি
#পর্বঃ৫
লেখিকা: #সাফা_মারওয়া
আরোশি: আমি সাওয়ার নিয়ে আপনাকে ডাকতে এসে দেখি রিফা ডাকতে আসছে তাই নিচে চলে গেছি
আবরার: তুই আমায় বোকা মনে করিস আরোশি?
আরোশি: না তো।
আবরার: তুই ইচ্ছা করে এমন করিস আমার সাথে। ফাজিল।
আরোশি: আর করবো না প্রমিজ। এইবার খাবার টা খান প্লীজ।
আবরার: তুই নিয়ে জাবি এইসব। জ্বালাস কেন এত আমায়।
আরোশি: বলছিলাম যে, না মানে আ-আমি খাওয়ায় দিলে খ-খাবেন?
আবরার: তোর হাতে তো বি*ষ ও খাব না। প্রয়োজনে নিজের হাতে নিয়ে খাব।
আরোশি একটু কষ্ট পায় কিন্তু কিছু বলে না একটা মন ভুলানো হাসি দিয়ে খাবার টা আবরার এর হাতে দেয় I আবরার খাচ্ছে আর আরোশির কাছে আরোশির নামেই নালিশ দিচ্ছে। বাচ্চাদের মত অভিযোগ করছে তা দেখে আরোশি চুপচাপ মুচকি মুচকি হাসছে আর মন দিয়ে শুনছে তার সখের পুরুষ এর অভিযোগ। এই মানুষ টা যে তার খুব পছন্দের। এই মানুষ টা তার প্রণয় রাজ্যের প্রণয়ন যার চাহনিতে আরোশি মনে ঝর উঠে যায়। বড্ড ভালোবাসে এই পুরুষ টাকে। একান্ত নিজের করে চায়। এই মানুষটাকে একটু চোখের আড়াল করলেই নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয় অথচ মানুষ'টা তাকে একটু'ও পছন্দ করেন না। তবু ও এই মানুষ টার একটু খুশির জন্য সে নিজেকে উজাড় করে দিবে।
আবরার: তুই আমায় বড্ড জ্বালাস আরোশি। একটা কথা'ও শুনতে চাস না। সময় মতো হাজির হতে দেখি না। এমন কেনো তুই। ফা*জিল। অনেক অবাধ্য তুই। আমার এমন মেয়ে পছন্দ না। তোর জন্য আমার সব কিছু অবাধ্য হয়ে যাচ্ছে। অ*সভ্য মেয়ে দূরে থাকবি আমার থেকে। জ্বালাবি না।
আরোশি তো এক ধেনে আবরার কে দেখছে যে ওর কথা আরোশির কানে যাচ্ছে না আর না খেয়াল করছে। খেয়াল করলে হয়তো বুঝতো আবরার এর বলা এই লাইন টা ~ " তোর জন্য আমার সব কিছু অবাধ্য হয়ে যাচ্ছে"।
হটাৎ আরোশি আনমনে বলে ফেলে।
আবরার: আপনার মনে আছে আমি যেদিন আপনাকে প্রথম ভালোবাসার কথা বলি আপনি কিভাবে আমাকে না করে দিয়েছিলেন। ইসস মন্ত্রী সাহেব আপনার ঘৃণা কত সুন্দর না জানি আপনার ভালোবাসা আরো কত সুন্দর। আপনি যেইদিন আমাকে ভালোবাসি বলবেন সেইদিন আমি খুশি তে হার্ট এ্যাটাক করবো নিশ্চিৎ।
হম প্রথম আরোশি যেইদিন স্কুল থেকে ডাইরেক্ট আবরার এর ক্যাম্পাসে যেয়ে আবরার এর কাছে নিজের দুর্বলতা সমর্পন করে। ভালোবাসার কথা বলে তখন ভরা ক্যাম্পাসের মাঠে আবরার আরোশিকে অনেক অপমান করে বুঝায় আরোশি আবরার এর যোগ্য না কারণ আরোশি এখনো অনেক ছোট আর আবরার যেমন মেয়ে পছন্দ করে আরোশি তেমন না। ওকে আবরার বোনের চোখে দেখে আর এইটা আবরার এর কাছে আরোশি এর ব্যাস একটা মোহ আর নয়তো সম্পত্তির জন্য আর সুন্দর্যের জন্য ওর প্রতি ইন্টারেস্ট কে ভালোবাসার নাম দিচ্ছে আরোশি। সেইদিন খুব কান্না করে তারপরই এমন কঠিন হয়ে যায় আরোশি। তাকে ভাঙ্গা মুশকিল হয়ে যায়। এক গম্ভীর নারী। কিন্তু আজও আরোশি আবরার এর কাছে নিজের ভালোবাসা বুঝাতে ব্যার্থ।
Back to story.......
আবরার: এমন দিন কখনো আসবে না যেইদিন আমি তোর মত কাওকে বলবো ভালোবাসার কথা। যে তার মামাকে মেরে ফেলতে হাত কাপে না সামান্য রাজনৈতিক পাওয়ারের লোভে। আমার প্রতি দোয়ায় তোর মৃত্যু কামনা।
আরোশি: মন্ত্রী সাহেব আপনি জানেন না সেদিন কি হয়েছিল তাই ভুলভাল বলবেন না। আর ভালোবাসা টা না হয় সময় মত দেখা যাবে।
আবরার: কিছু কিছু জিনিষ না স্বপ্নে মানায় বাস্তবে না আরোশি I
আরোশি: সপ্ন কিভাবে পূরণ করতে হয় তা অনেক আগে প্রমাণ দাওয়া হয়েছে। আরেকবার প্রমাণ দিবো আপনায় হাসিল করে। বর্তমান আপনি আমার খুব পছন্দের সপ্ন
আবরার: কিন্তু তুই আমার দুঃসপ্ন।
আরোশি: আপনার ধারণার বাইরে শুনে কত খুশি হলাম। ফ্যাক্ট না দুঃসপ্ন আর ভালো স্বপ্ন ফ্যাক্ট হলো আমার শুদ্ধ পুরুষের স্বপ্নে আমি আরোশি আসি এইটাই অনেক। আর আমরা ভালো সপ্ন কিন্তু সহজে মনে রাখি না কিন্তু খারাপ সপ্ন মনে না রাখতে চাইলে ও থাকে। নিশ্চই বুঝতে পারছেন কি বলতে চাচ্ছি।
Knock____knock
আবরার: আসো।
সারা: তমি এইখানে কি করছো?
আরোশি: same question I
সারা : আমার বরের ঘর যখন খুশি আসবো
আরোশি: প্রমাণ কি তোর বরের ঘর এইটা?
সারা : এই আবরার তুমি কিছু বলো.
আবরার: জান ওর সাথে মুখ করো না নোংরা মেয়ে একটা।
সারা: ঠিক বলছো। তোমার রাগ কমছে জান?
আরোশি: জান জান করবি না খাচড়া মহিলা। তুই ভেজাল এর বংশে জন্ম। তোর গুষ্টিই তো ভুল। তুই ঠিক ভুলের কি জানিস।
সারা: কিহ্। তোর সাহস হয় কিভাবে আমাকে এইটা বলার
আবরার: ঝগড়া করতে মন চাইলে ওই দিকে দরজা যাও দুইজন। (রেগে)
সারা: জান তুমি আমাকে বের করে দিচ্ছ এই মেয়েটার জন্য? (ডং করে)
আবরার বিরক্তের শ্বাস ফেলে বলে
আবরার: Awww জান আমি তোমায় কেনো বের করবো আমি তো ওর কথা বলছি।
আরোশি: not awww it's ewwww.
আবরার: যাবি তুই?
আরোশি: ওকে।
আরোশি ভাবনাহীন ভাবে বলে উঠে চলে যেতে চেয়ে কি মনে করে যেনো আবরার এর দিকে তাকায়। আবরার আরোশি কে যেতে দেখে মনে মনে বলে
আবরার in mind: নাহহহ আমাকে এই পাগলের সাথে রেখে যাবি না অবাধ্য নারী। ইসস কই যাবো আমি এইটা কে নিয়ে। একটু ও আমায় বুঝে না। ফাজিল যেতে বললেই যেতে হবে? খালি যা আর কথা নেই অসভ্য।
আরোশি কতক্ষন আবরার এর চোখের দিকে তাকিয়ে থেকে হঠাৎ বলে।
আরোশি: আমার কেনো মনে হচ্ছে আপনি চাচ্ছেন না আমি যাই
আবরার: ক-কই না তো।
সারা: আবরার যেতে বললো শুনো নি।
সারা এর কথা শুনে সাথে সাথে আরোশি আবার আবরার এর কাছে বসে পড়ে কিন্তু এইবার কম্ফর্টার এর ভিতর ঢুকে বসে আবরার এর সাথে গা গেছে।
আবরার: আবার কি হলো। আর এমন চিপকে আছিস কেনো। সরে বোস।
আরোশি: ওহ তার মানে আপনি চাচ্ছেন আমি আপনার কাছে বসে থাকি?
আবরার: ফাজিল। যা ভাগ।
আরোশি: এই অপ*দার্থ সারা পারা গেলে আমি ও যাবো
আবরার এইটা শুনে এইটা বড় নিঃশ্বাস ফেলে। যাক বুচ্ছে। এইবার ভাগায় নেই এই না হওয়া বউ কে। ছিঃ একটু ও মানায় নি বউ নামে। কোনো ফিল আসে না। দূর। সিঙ্গেল জীবনে বউ এর কথা ভাবলেই ভালোবাসা পাবে আর তার সারাকে দেখলে সহ্য হয়না। এইটার সীমানার থেকে বাইরে থাকতে মন চায়।
সারা সেখান থেকে কান্না করতে করতে চলে যায় I সারা যাওয়ার পর আরোশিও চলে যায়। আর আবরার শান্তির ঘুম দেয়।
॥
হঠাৎ নিচের থেকে অনেক শব্দের কারণে আবরার এর ঘুম ভেঙ্গে যায়। ঘড়িতে তাকিয়ে দেখে সন্ধ্যা ছয়টা পঞ্চাশ বাজে এই সন্ধার সময় কিসের চিল্লাচিল্লি আবার ওই মেয়ে কান্না করে কিছু বলে নাই তো। নাকি ওই অবাধ্য নারী কিছু করছে । উফফ তার জীবনেই সব সমস্যা। নিচে যেয়ে দেখে আরোশিও মাত্র আসলো নিজের রুম থেকে
আবরার: কি হইসে?
আরোশি: আমি জানি না
কুমকুম বেগম: কোথায় গেছে খোঁজ খবর নেই। পুলিশ জানাও কেউ।
জেসিয়া চৌধুরী: পুলিশ লাগবো না এই সেরি রে জিগা আমগো মাইয়া কই। (আরোশি কে দেখিয়ে)
এইটা শুনে আরোশি নিজে ও অবাক। ও তো নিজেই চিল্লা চিল্লি শুনে আসলো।
রোশনারা বেগম: মানে
জেসিয়া: এই সেরিরে আমি শেষ দেখছি রিফার রুমের ভিতর ঢুকতে। শয়*তান মাইয়া আমার নাতির মাথা খাইছে।
আরোশি: বুড়ি? আমার একটা নাম আছে আরোশি, আরোশি চৌধুরী । রাস্তার মেয়েদের সেরি বলে। তুমি সবাইকে নিজের মতো মনে করো কেনো?
জেসিয়া: কি কইলি তুই। তোর এত বলো সাহস আমাকে রাস্তার--
আরোশি: চুপ করো, রসায় রসায় কথা বলবা না। রিফার রুমে গিয়েছি একটা কারণে। ভিতর থেকে কথার আওয়াজ আসছিল তাই যেয়ে দেখি তোমার নাতি বলোফেরেন এর সাথে কথা বলছে।
আসলে আরোশি তখন শুনে ফেলেছিল রিফার একটা ছেলের সাথে দেখা করতে যাওয়ার কথা আর ছেলে টা যে সুবিধার না এইটা ও বুঝে ছিল। কিন্তু কিছু বলে নি শুধু রুমে যেয়ে রিফাকে বলেছে না যেতে নয়তো ভালো হবে না। কিন্তু আরোশি জানতো ওর কথা রিফা শুনবে না তাই ও লোক পাঠিয়ে রাখছে সুরক্ষার জন্য আর অপেক্ষায় ছিল বাসায় কি ঘটে দেখার জন্য, মজা নেওয়ার জন্য। আসলে রাজনৈতিক জীবনে এখন বিজনেস ঢুকলে কি হবে সবই পানসে, তিতা। মজা নেই। তাই এইটা একটা বিনোদন ওর জন্য যেইটা খুব করে উপভোগ করছে।
আবরার: বলোফেরেন কি?
আরোশি: বয়ফ্রেন্ড।😑
সারা: মিথ্যা কথা রিফা এমন মেয়ে না। তুই সবার সামনে রিফাকে খারাপ বানানোর জন্য এমন করছিস। তুই কিছু একটা--
আরোশি: বাবা মা শিক্ষা দেই নি বড়রা কথা বললে মাঝে বাচ্চাদের কথা বলা নিষেধ?
সারার আরোশি এর অপমান সহ্য হলো না কিন্তু কিছু বললে আবার অপমান হতে হবে এর চেয়ে ভালো চুপ থাকা। তার ধারণা অন্য মেয়ের জন্য সে কেনো অপনাম হবে।
এতক্ষনে আবরার , আরোশি দুইজনি বুঝে গেছে কাহিনী কি ঘটছে।
রোশনারা বেগম: কোথায় পাঠিয়ে দিছিস রিফা কে? বল। সারা ঠিক বলছে রিফা এমন মেয়ে না। ভালোয় ভালোয় বল
আবরার: আজব, তোমার মেয়ে যেহেতু এতই ভালো তবে ওকে কেনো জিজ্ঞাস করছো। পুলিশ খবর দাও। খুঁজে বের করে এনে দিয়ে যাবে।
আরোশি তো আবরার এর দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। আরোশি এর পক্ষ নিচ্ছে ওর জান? আরোশি কে এই ভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে আবরার বলে
আবরার: what?
আরোশি: জান আমার প্রেমে পড়েন নিত আবার? আমি কিন্তু বিয়ের পর প্রেম করবো এখন টার্গেট বিয়ে করে আ*দর খাওয়া। আপনার আদরের ওভাবে আমি শুখিয়ে যাচ্ছি আপনি বুঝেন না।
আবরার: মুখে লাগাম টান নিলজ্য।
জেসিয়া: ছি ছি একটু সরম নাই।
রোশনারা: বেয়াদব মেয়ে বল কই আমার রিফা
আরোশি: তোমার রিফা আমার তো আর না যে আমি জানবো।
রোশনারা: বলবি। (চিল্লিয়ে)
আরোশি: আজব আমি কি জানি। আমাকে না জিজ্ঞাস করে খোঁজ লাগাও কার সাথে ভাগছে---
কথা টা বলতে দেরী রোশনারা বেগম এর চর মারতে দেরী হয় নি। সব চুপ এতক্ষন হৈচৈ ড্রইং রুম একদম শান্ত। সবার নজর আরোশির দিকে। সারা এর খুশি দেখে কে সবার সামনে আরোশি থা*প্পড় খেলো।
রোশনারা: বল কি করেছিস তুই ওর সাথে।
চলবে.......