#হৃদয়হরণীর_আসক্তি
#পর্বঃ০৭
লেখিকা: #সাফা_মারওয়া
(Next day)
সকালে সবাই নাস্তা করতে বসে। সবাই মুখ কালো করে রেখেছে। কে জানে আজ কি হবে এই ভেবে সবার খাওয়া বন্ধ ব্যাস একজনই এক মনে খেয়ে যাচ্ছে মনে হয় কত বছর খায় না এইটা আর কেউ না আরোশি।
আরোশি কে এই ভাবে খেতে দেখে আরোশি এর মা বললো
কুমকুম বেগম: আমি বলছিলাম কি এইবার বাড়িতে একটা বিয়ে হলে মন্দ হয় না।
(ব্যাস খাওয়া বন্ধ)
আরোশি: বাবা! মা ইনডাইরেক্টলি বিয়ে বসতে বলছে। বিয়ে করে আমায় নতুন মা দিতে পারো।
সাইদুল: চুপ করো অসভ্য।
জেসিয়া: ছি নিজের মার লাইগা সতীন আনবার চায় কোন দুনিয়ায় আইলাম।
আবির: আসছো অনেক আগে কিন্তু যাওয়ার টাইম টা হচ্ছে না তাই রয়ে গেছো।
রোশনারা: আহহা আবির, দাদু হয়।
রিমা: হম এই জন্য দুষ্টামি করছে। অধিকার আছে আটকাও কেনো।
সাইদুল: এইটা দুষ্টামি?
আরোশি: তাহলে যেই সব কথা বলে তার বয়স ওগুলো বলার?
রোশনারা: তোর সাথে কেউ পারবে না। চুপ কর। আবরার এর বাবা এইবার আবরার এর বিয়ে টা দিয়ে দেন।
আবরার: আজব তোমার মেয়েকে নিয়ে আলোচনা করার জায়গায় আমায় নিয়ে কেনো।
সারা: তুমি কি আমায় বিয়ে করতে চাও না?
আবরার: আশ্চর্য করবো না কেনো। কিন্তু--
রোশনারা: তুই চুপ কর বিয়ে এইবার'ই করবি।
আরোশি: আজব, আবরার কোন বাচ্চা না যে ওর ওপর তোমাদের সিদ্ধান্ত চাপায় দিবা। ওর অধিকার আছে নিজের সিদ্ধান্ত নিজের নেওয়ার আর এটা তো পুরো একটা লাইফের বিষয়। যেকোনো রাস্তার মেয়ে কে ধরে খালি বিয়ে দিলেই হবে না।
আবরার: মুখ সামলে কথা বল। তুই রাস্তার মেয়ে। নিজেকে দেক আয়নায়।
আরোশি থুতনির নিচে হাত রেখে তার উপর মুখ দিয়ে বলে
আরোশি: কিভাবে সামলাবো মুখ? এই ভাবে?
আবরার: বেয়াদব। আর একদিন যেনো না দেখি আমার হবু বউ এর ব্যাপারে এইসব বলতে নয়তো মেরে ফেলবো। সারা আমার ফিয়ান্সে।
আরোশি: মন্ত্রী সাহেব?
আবরার:___
আরোশি: তুমি কি সারাকে ভালোবাসো?
এইটা শুনে আবরার আরোশি এর দিকে তাকায়। দুই জনের চোখাচোখি হয়। কিছুক্ষন নীরবতার পর চোখ সরিয়ে আবরার বলে
আবরার: ভালোবাসা এত সহজ না ভালো হয়তো এখনও বাসিনি কিন্তু আমার সারাকে ভালো লাগে খুব। বিয়ে করলে ওকেই করবো। ভালোবাসা একাই হবে।
আরোশি কথা টা শুনে তাচ্ছিল্য হেসে বলে
আরোশি: জান!
আবরার: কি সমস্যা আরোশি? তোর এইসব আদিক্ষেতা নামে ডাকবি না। ঘৃণা লাগে।
আরোশি: তাকান আমার দিকে। ভালোবাসা একা হওয়ার জিনিস?
আবরার: হ-হম।
আরোশি: আপনার টা ভালো লাগা কিন্তু আমার টা ভালোবাসা মন্ত্রী সাহেব।
আবরার: তোর এইটা যদি ভালোবাসা হয় তবে এই ভালবাসায়'ই তোর মৃত্যু হোক।
উত্তরে আরোশি একটা মুচকি হেসে নিজের রুমে চলে যায়। সারা তো আরোশি এর এইসব আদিক্ষেতা দেখলে সরীল জলে।
আজমুল চৌধুরী: এখন এইসব বিয়ের দরকার নেই।
জেসিয়া: দরকার আছে সামনের সপ্তায় আবরার আর সারার বিয়া ব্যাস।
সবাই এতে অনেক খুশি। আজমুল চৌধুরী মায়ের কথার উপর আর কথা বলতে চান না। তার কোনো ইচ্ছা নেই বিয়ে এখনই হোক। সামনে ইলেকশন বিরোধী দল এমনেই জামেলা করে তার চিন্তা অবশ্য এইটা না তার তো চিন্তা আরোশি কে নিয়ে। কয়টা দিক সামলাবে আরোশি? কোট কাছারি, বিরোধী দল, নাকি বিজনেস এখন আবার এই বিয়ে। যাই হয়ে যাক আরোশি এর উপর তার বিশ্বাস আছে কোনো দিকেই হারবে না এইটা নিশ্চিৎ সুদু একটু চাপ পড়বে। দেখা যাক কি হয়। তার আবার আজ অনেক কাজ। আরোশি কে সাথে নিয়ে পৌরসভা নির্বাচন এর কিছু প্রয়োজনীয় কাগজ পত্রের জন্য যেতে হবে ঐখান থেকে আবার নেত্রীও সভা মিটিং এ হাজির হবে। জামেলার শেষ নেই। এইসব ভেবে সে এক দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছারে।
॥
সময় করো জন্য থেমে থাকে না। স্রোতের টানে সময় যায়। সেইদিন ঠিক প্রমাণ হয় রিফার পছন্দ করা ছেলে ভালো না। প্রমাণ আজমুল চৌধুরী করে তাই আর কেউ কোনো কথা বলে না। কিন্তু বিয়ে থেমে থাকে না। বিয়ের সাতদিন এর যায়গায় আর বাকি দুই দিন। অনেক কাছের আত্মীয় স্বজন চলে ও আসছে। এখন বাড়ি টা দেখতে বিয়ে বাড়ি বিয়ে বাড়ি লাগে। চারো পাশ সাজানো কাজ অনেক এগিয়েছে। আরোশি এখন খুব খুব ব্যাস্ত। তাকে দেখা আর অমাবস্যায় চাঁদ দেখা সমান। একাই সবদিক সামলাচ্ছে। বিয়ের আয়োজন নিজ হাতে সব করিয়েছে আরোশি। মনে হচ্ছে আরোশি এর চেয়ে বেশি খুশি আর কেউ না। মনে হচ্ছে অনেক বছরের সাধনা পূরণ হতে যাচ্ছে। কেউ কিছু বুঝছে না। অনেকে তো মনে করছে পাগল হয়ে গেছে ভালোবাসার মানষের বিয়ের জন্য। বাড়ির সবাই আতংকে আরোশি এর হটাৎ পরিবর্তনে। ব্যাস এখন সব কিছু ভালোয় ভালো হলেই হয়।
আর আবরার তো আরোশিকে খুজে ও পায় না অবশ্য তাতে ওর কোনো যায় আসে না। সে ও বিন্দাস শপিং করছে সারাকে নিয়ে গুরতে যাচ্ছে, টাইম স্পেন করছে জড়িয়ে ধরে ভালোবাসা প্রকাশ করছে। আবরার এর কাছে সারা কে এখন একটু বেশি ভালো লাগে। মেয়ে টা আসলেই সুন্দর আর ভদ্র। একদম আবরার যেমন মেয়ে পছন্দ করে। "কিন্তু" এইযে একটা কিন্তু রয়ে যায় তার কারণ জানা নেই এর। ব্যাস হটাৎ হটাৎ অবাক হয় আরোশি এখন আর ওর কাছে আসে না। জ্বালায় না। এই মেয়ে টা জ্বালালে ও দোষ না জ্বালালে ও দোষ। সব এই অবাধ্য নারীর জন্যে ফর ফর করা অবাধ্য মনের দোষ। কি জাদু করে গেছে কে জানে। হাহ্ কি মনে করে ওই অবাধ্য নারী এই মন তার জন্য ফর ফর করলে এই মন সে রেখে দিবে! মটেও না এই অবাধ্য মন কেউ ওই অবাধ্য নারী কে দিয়ে দিবে। লাগবে না তার অবাধ্য কোনো কিছু। তার ছোট থেকেই অবাধ্য এর সাথে সম্পর্কিত কোনো কিছু পছন্দ না। আর এখন তার জীবন টাই অবাধ্য হয়ে যাচ্ছে।
আবরার এইসব ভাবতে ভাবতে ড্রইং রুমে পানি খাচ্ছিল। তখন দেখে আরোশি আর তার বাবা সহ তার বাবার রাইট হেন্ড রবিন সদর দরজা দিয়ে কথা বলতে বলতে ভিতরে ঢুকলো।
আরোশি: বড় আব্বু সম্পাদক সোহেল রানা সুবিধার না সব কিছু আলাদা ভাবে নিজের আওতায় আনতে উঠে পড়ে লাগছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী কে ফোনে কথা বলে কমিটির সভায় আরো একটা মিটিং এর ব্যাবস্থা করো। মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় এলাকায় মিছিল ছেড়ে দেওয়া উচিত আটকায় কি লাভ।
আজমুল: হম।
Robin: আপা হেগো লিডার হিসেবে মতিন যাইবো?
আরোশি: দরকার নেই। তোমার এই জায়গায় কথা বললে সমস্যা আছে। ওইটা বাদ দাও আমি বুজবো। তোমাকে যেই দায়িত্ব দিয়েছি ওই খানে জামেলা হলে শাস্তি সরুপ--
Robin: হাত ভেঙ্গে দিবো?
আরোশি: না। টুকা দিয়ে প্রমাণ রাখা যাবে না নয়তো টুকার উত্তরে টুকা দিতে আসবে। নিশি রাতে রাস্তা থেকে সরিয়ে দাও। কাক পক্ষী যেনো না বুঝে।
Robin: আচ্ছা আপা।
আজমুল: রবিন!
Robin: জ্বী চাচা বলেন।
আজমুল: অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফ নেজামী কে ফোন করে বলে দাও ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি রুহুল হাওলাদার যেনো আমার সাথে দেখা করে সাথে ছাত্র নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী ও যেনো আসে।
Robin : ঠিক আছে চাচা। (চলে যায়)
এর মাঝে আবরার এর সাথে আরোশি এর চোখাচোখি হয়। আরোশি কিছু না বলে উপরে চলে যায়। আবরার আরোশি এর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ভাবতে থাকে ওদের মাঝে বলা শেষ কথা।
সেইদিন বিয়ের কথা হওয়ার পর রাতে আরোশি আবরার এর রুমে যেয়ে দেখে আবরার বারান্দায় দাড়িয়ে আকাশ দেখছে। কালো আঁধার চাঁদহীন আকাশ।
এআরোশি: জান?
আরোশি এর ডাক শুনে আবরার তাকালো না বরং আকাশের দিকে চোখ রেখেই মুচকি হেসে বললো।
আবরার: ওহ তো কুচ্ছিত মেয়ে হাজির! দেক আরোশি চাঁদহীন এক অন্ধকার আকাশ ঠিক তোর মনের মত। তোর ভিতর যেমন মন নেই আজ আকাশে চাঁদ নেই। তোর ভিতর যেমন কালো ধুয়ায় অন্ধকার আকাশ টাও। দেক, দেক। তুই যেই খানে থাকবি, তোর সংস্পর্শে সেই খানের সব কিছু ক*লঙ্ক হয়ে যাবে। চাই সংস্পর্শে থাকা কোনো ব্যাক্তি হোক বা বস্তু। আকাশ টা তার প্রমাণ। তুই খারাপ। তুই ক*লঙ্ক নারী।
আরোশি: আপনার দেওয়া কলঙ্কে সারা অঙ্গ ঝলসে যাক আমার তবুও আপনি আমার হোন। বিশ্বাস করুন আপনার চেয়ে আর কোনো ভয়াবহ নেশা আমাকে ছুঁতে পারে নি। আমি শেষ হয়ে যাবো আপনি বিহীন। আমি আপনাকে পাওয়ার সপ্ন দেখি যেমন অন্ধ মানুষ টা সপ্ন দেখে দুটি চোখের।
আরোশির কথা শেষ হতেই আবরার এক টানে আরোশি কে নিজের কাছে নিয়ে আসে। আবরার এর ভারী নিঃশ্বাস আরোশি এর মুখে পড়ছে। আবরার আরোশি এর চুলের মু*ঠি শক্ত করে ধরে। আরোশি অনেক ব্যাথা পায় কিন্তু একটা শব্দ ও করে না চুপ করে আবরার এর চোখে চোখ রেখে তাকিয়ে থাকে।
আবরার: আমাকে এত পুরাস কেনো আরোশি চৌধুরী? আমার সহ্য হয়না বিশ্বাস কর। তুই যেইটা চাস কখনো সম্ভব না। এমন বে*হায়া হয়ে যাস না। আমার তোকে সহ্য হয় না। চরি*ত্রহীন নারী তুই। কয়*জন এর সাথে থেকে এই পর্যন্ত আসলি? ছেলেদের গা*য়ে পড়া তোর সভাবে পরিণীত হইছে। i just ha*te you so frea*king much you sl**
চলবে,,,, (সরি লেট করে দাওয়ার জন্য। পরের টা তাড়াতাড়ি দাওয়ার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। )