#হৃদয়হরণীর_আসক্তি
#পর্বঃ৮
লেখিকা: #সাফা_মারওয়া
আবরার: আমাকে এত পুরাস কেনো আরোশি চৌধুরী? আমার সহ্য হয়না বিশ্বাস কর। তুই যেইটা চাস কখনো সম্ভব না। এমন বেহায়া হয়ে যাস না। আমার তোকে সহ্য হয় না। চরি*ত্রহীন নারী তুই। কয়জন এর সাথে থেকে এই পর্যন্ত আসলি? ছেলেদের গায়ে পড়া তোর সভাবে পরিণীত হইছে। i just ha*te you so freaking much you sl**
আরোশি:___
আরোশি বুঝে আবরার রেগে গিয়েছে কিন্তু রাগার কারণটা আরোশি এর মাথায় আসছে না। তাই চুপ করে থাকে।
আবরার ফোনে একটা ছেলের সাথে আরোশি রেস্টুরেন্ট এ বসে হাত ধরে আছে একটা পিক দেখিয়ে বলে
আবরার: এইটা কে? কয়জন কে হাতে রাখিস? রাজনীতির জন্য? আমার মত ওদের পিছনে ও পরে থাকিস তাইনা? তোর মত মেয়েদের আমি খুব ভালো করে চিনি। ক*ল*ঙ্ক নারী।
এইটা দেখার পর আরোশি বুঝে আবরার এর রাগার কারণ। কিন্তু আবরার এর কি আমি যেইখানে যাই, যা ইচ্ছা করি? তাহলে কি আবরার জেলাস? না না এইটা ব্যাস আমাকে অপমান করার জন্য হয়তো। এইসব ভেবে আরোশি বলে
আরোশি: সব কিছুর প্রকাশ হয় না মন্ত্রী সাহেব, কিছু বার্তা চোখের গভীরে থাকে।
ছেলেটার নাম রফিক আজাদ। প্রশ্ন গুলা না হয় আপনার বাবা কে জিজ্ঞাস করিয়েন।
আবরার: প্রয়োজন নেই। আমি কেনো একটা চরি*ত্রহীন স্বার্থ*পর মেয়ের কথা মুখে আনবো।
এইবলে আরোশিকে ধাক্কা দিয়ে নিজের থেকে সরিয়ে দেয় যার কারণে আরোশি এর হাত কাঁচের জারে বাড়ি খেয়ে জার ভেঙ্গে যায় আর হাতে ও ব্যাথা পায় যেইটা আবরার খেয়াল করে না।
আবরার: দেখলি তোর সংস্পর্শে থাকা সব ধ্বংস হয়ে যায়।
আরোশি হাতের ব্যাথা কে তুয়াক্কা না করে একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে মুচকি হাসি মুখে লাগিয়ে বললো।
আরোশি: জানেন মানুষ বলে "এক তরফা ভালোবাসা" সুন্দর। কিন্তু আমার মতে "এক তরফা ভালোবাসা" অদ্ভুত যেই শব্দের ব্যাক্ষা হয় না। এইটা খুব অদ্ভুত খুব। এইটা সুন্দর হতেই পারে না। এইটার যে যন্ত্রণা তা প্রকাশ করা যায় না আবরার সাহেব। যারা বলে সুন্দর আমার মতে তারা জানেই না "এক তরফা ভালোবাসা" কতটা ভয়ানক। পাবো না জেনেও ভালোবাসা দুইজন একে অপর এর ভালোবাসার বিচ্ছেদ এর চেয়ে ও যন্ত্রনা বেশি। আমার টাও হয়তো এক তরফা । আমি আপনার মুগ্ধতায় আহত। আমি হিতের বিপরীত ব্যাখ্যায় ও আমার "জান" এর মুগ্ধতা প্রকাশ করতে জানি। আপনাকে নিজের করে পাওয়ার জন্য সেচ্ছায় হারাতে রাজি অজানা পথে।
আবরার: বেশ ভাল ছন্দ বলিস। এই ভাবে ফাসাস ছেলেদের? বাহ হা হা হা তুই জানিসই না ভালোবাসা কি জানলে-- থাক বাদ দেই। আমি ব্যাস তোর জেদ। সারার থেকে আমায় ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য। তুই শুধু জানিস অন্যের জিনিস ছিনিয়ে নিতে। যে ভাবে ছোট আম্মুর থেকে তার ভাই কে ছিনিয়ে নিয়েছিস। তার পরিবার নিয়েছিস, আমার বাবা কে নিজের তরফ নিয়েছিস। এখন আমার ভালোবাসা কে আমার থেকে দূর করে আমাকেই আমার থেকে ছিনিয়ে নিতে চাস?তুই একটা জ/ল্লাদ ধ্বং/সিতা তোর কাজই ধ্বং/স করা।
আবরার আরোশি এর দিকে তাকিয়ে দেখে আরোশি এর চোখে পানি ঝল ঝল করছে কিন্তু সে গোলাপী অধর এ হাসি। আরোশিকে এই রকম দেখে আবরার এর ভিতর টা ধুক করে উঠে। আরোশি আবরার এর একদম কাছে যেয়ে ফিসফিস করে বলে
আরোশি: তুমি শুধু আমার হয়ে যাও সপ্নকুমার। আমি তারায় তারাই রটিয়ে দিবো তুমি আমার। যেই সময় এর প্রহর গুনে তোমার অপেক্ষা করেছি সেই সময় কেও পূর্ণ অধিকার নিয়ে বলবো তুমি নামক পুরোটাই এখন আমার। শুধু তোমার।
এইটা বলার সাথে সাথেই আরোশি এর চোখ থেকে এক ফোটা পানি গড়িয়ে পরে আরোশি সাথে সাথে চলে যায় আবরার এর রুম থেকে। আবরার তাকিয়ে থাকে আরোশি এর যাওয়ার দিকে আর ভাবে ও হটাৎ কেনো এতো রিয়্যাক্ট করছে। ওকি জেলাস। না না জেলাস হবে কেনো সারার সাথে কয়দিন পর ওর বিয়ে তারপর তো সারা ওর সব তাহলে এমন করলো কেনো। শেষ যেইদিন আরোশি এর চোখে পানি দেখেছিল সেটাও ওর জন্যই সেদিন ক্যাম্পাসে অপমানের কারণে। আবার আজও ওর জন্যই আরোশির চোখে পানি আসলো এসব ভাবতেই আরোশি এর চোখের চিকচিক করা পানি সহ চেহারা আবরার এর চোখের সামনে ভেসে উঠে আর বুকের বা পাশে চিনচিন ব্যথা শুরু হয়। ব্যাস তারপর তাদের মাঝে আর কথা হয়নি এখন পর্যন্ত।
বিয়ের কাজ খুব সুন্দর ভাবেই শেষ হচ্ছে। আরোশি নিজের লোক দিয়ে একা হাতে এক এক করে সব করাচ্ছে কাউকে কোনো কিছুর দায়িত্ব দিচ্ছে না। বিয়ের জন্য দেশের বাইরের অনেক বড় বড় ওয়েডিং প্লেনার, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, ফটোগ্রাফার দের ডাকা হয়েছে। সব কিছু সাদা কালার করা হয়েছে। যেদিক তাকায় সেদিকে শুধু সাদা আর সাদা। যেন কোন সাদার রাজ্যে চলে আসছে। ড্রেসিং সেন্স হিসেবে সকলকে বলা হয়েছে সদাই পড়তে। আবরার আর সারার ড্রেস ও সাদা। সারার ধারণা নিজের বিয়েতে আরোশি এর পছন্দের সবকিছ বিরক্ত লাগলেও সন্দর হচ্ছে বলে চুপ থাকে। হলুদের ফাংশন করা হয় ফার্ম হাউসে যেখানে পৌঁছাতে আধা ঘন্টার মত সময় লাগবে। কিন্তু ওখানে সবকিছু একদম হলুদ খুব সুন্দর করে ডেকোরেশন করা চোখ কারা সুন্দর।
এখন বিকাল, সন্ধ্যায় হলুদ সবাই রেডি হচ্ছে একটু পর বের হবে বলে কুমকুম বেগম এসে জানিয়েছেন তাড়াতাড়ি করতে সারা সহ সব মেয়ে কাজিন রা পার্লারে গাইট হিসাবে ছেলে কাজিন রাহাদ কে পাঠিয়েছে তারা ওখান থেকে ডাইরেক্ট যাবে বাড়ি আসবে না। কয়েকজন কাজিন বাড়িতে বসেই রেডি হচ্ছে। আগেই একদল চলে গিয়েছে। বাড়িতে আছে খুব অল্প হাতে গুনা মানুষ। বাড়ির মানুষের মধ্যে আছে কুমকুম বেগম, আজমুল চৌধুরী, আবরার।
আবরার নিজের রুমে রেডি হচ্ছে। কেনো জানি তার সব কিছু বিরক্ত লাগছে, অস্থির লাগছে, কিছু একটা অপূর্ণ। তৃপ্তি লাভ হচ্ছে না। এমন না ও সারাকে বিয়ে করতে চায় না, চায় সে বিয়ে করতে। সারাকে খুব মনে ধরেছে তার কিন্তু বিয়ের জন্য তার কোনো অনুভুতি হচ্ছে না কিছু অনুভব করতে গেলেই শূন্য শূন্য লাগে, অস্থির লাগে।
আবরার এর ধারণা বিয়েতে তার রাজি ভাব টা কম ছিল বলে হয়তো এমন লাগছে হয়তো তার আরো সময় প্রয়োজন ছিল। এইসব ভাবছে তখনই রুমের সব লাইট অফ হয়ে যায় শুধু ছোট একটা হালকা আলোর ডিম বাদে। এত টা খুব কম এত বুঝা যায় না। আবরার কিছু বোঝে না হটাৎ কি হলো সুইচ এর কাছে যাওয়ার আগেই এক জোড়া হাত তাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলো সে প্রথমে না বুজলে ও পরে একটা মেয়েলি সুবাস নাকে লাগতেই বুঝে এইটা আরোশি, এই ছুঁয়া যে তার খুব পরিচিত এই সুবাস যে তাকে মাতাল করে উন্নাত করে তুলে। বেসামাল হয়ে কঠিন একটা ভুল করতে ইচ্ছে করে। কিন্তু না সে কিছু করবে না এই কিশোরীর মত সে কিশোর না। সে একজন প্রাপ্ত বয়সী পুরুষ যার কাছে আরোশি নিহায়াতি একটা বাচ্চা মেয়ে। লম্বায় তো ঠিক তার ঠোঁট সমান আরোশি এর কপাল তবুও তার নজরে আরোশি ছোট। প্রফেশন যাইহোক। আবরার জানে সে একটু আরোশি এর অনুভুতির সাথে সায় দিলেই বাকি টা আরোশি দেখে নিবে বয়সটা কিছুই না প্রমাণ দিবে আরোশি। যেইভাবেই হোক আবরারকে হাসিল করবে কিন্তু আবরার করবে না এমন। তার জন্য তো মেয়ের অভাব না যে এই মেয়ের চোখে হারাতে হবে। কিন্তু আষ্টর্য ভাবে এখন আর বুকের বা পাশে শূন্য অনুভব করছেনা অশান্ত ভিতর টা কেমন যেনো শান্ত হয়ে গেলো আবরার চোখ বন্ধ করে ফেলে। পিছন থেকে আরোশি আরো শক্ত হাতে জড়িয়ে ধরে ফিসফিস করে বললো
আরোশি: ভালোবাসি আমার শুদ্ধ পুরুষ।
আবরার:___
আরোশি: জান!
আবরার:___
আরোশি: মন্ত্রী সাহেব!
আবরার:___
আরোশি: জান আমি আপনায় খুব মিস করেছি এতদিন। আসলে কাজের চাপে আসতে পারিনি বিষয় টা এমন না। কারণ সব ব্যাস্ততার উপরে আপনি। সত্য বলতে আমিই ধুরে ছিলাম যাতে এই কদিন বিরক্ত না হয়ে একটু আরোশি বিহীন শান্তি পান। কথা বলেন জান। আপনি কথা না বললে আমার অস্থির লাগে পাখি।
আবরার: দেখি সর। উফফ এমন চিপকাস কেনো?
এইটা বলে আবরার পিছনে তাকিয়ে দেখে আরোশি একটা কাঁচা হলুদ কালার শাড়ি পরেছে। শাড়ি টা খুব সিম্পল শাড়ির মধ্যে ছোট ছোট স্টোন বসানো । পুরো শাড়ি টা ছোট ডিমলাইট এর আলোয় চিকচিক করছে। চুল ছেড়ে সামনের চুল গুলো পিছনে ক্লিপ দিয়ে আটকানো ছোট ছোট চুল সামনে এসে আছে। মুখে হালকা মেকআপ। হাত নাড়ানোতে বুঝা গেলো চুরি পরেছে, কানে দুল জুয়েলারির মধ্যে এত টুকুই ব্যাস আর কিছু না । খুব কাছে দাঁড়ানোতে বুঝা যাচ্ছে চোখে গারো কাজল দেওয়া, হালকা লিপস্টিক। পাগল করা সুন্দর লাগছে আরোশিকে আবরার কাছে। মনে হয় কোনো হলুদ পরী তার রুমে চলে আসছে। একটু ছুঁয়ে দিতে ইচ্ছে করছে তার এই হুলুদ পরী কে।
মন বলছে " এই রূপবতী মেয়েটা শুধু একান্তই তোমার আবরার চৌধুরী" । আরোশিও আবরার এর দিকে তাকিয়ে আছে। তার সপ্ন কুমার কে অসম্ভব সুন্দর লাগছে। ধারালো সুন্দর। ফর্সা গায়ে সাদা পাঞ্জাবি, পায়জামা হাতে কালো ঘড়ি, চুল গুলোতে জেল দাওয়া না তাই এলোমেলো হয়ে কপালে পরে আছে, গলায় কালো একটা ওড়নার মত শাল জড়ানো। খুব মোহনীয় লাগছে। আরোশিও সুন্দর তবে আবরার এর মত এত ফর্সা না। আবরার এর তুলনায় আরোশি অনেক টাই চাপা গায়ের রঙ। আরোশি কে এই ভাবে হা করে তাকিয়ে থাকতে দেখে আবরার কয়েক বার চোখের পলক ফেলে অন্য দিকে তাকিয়ে আবার আরোশি এর দিকে তাকায়।
আবরার: কি হইসে এই ভাবে হা করে আছিস কেনো।
আরোশি: দেকছি।
আবরার: কি?
আরোশি: আমার মন্ত্রী সাহেব কে।
আবরার: এইখানে আসছিস কাকে জিজ্ঞাস করে?
আরোশি: আরোশি এর জিজ্ঞাস করতে হয়না
আবরার: অন্য দিকে তাকা আমার uneasy ফিল হয়।
আরোশি: আমার তাকানো তে?
আবরার: হয়তো।
আরোশি আবরার এর হাত ধরে টেনে নিয়ে ব্যাডে বসিয়ে আবরার এর কোলে বসে। আবরার অবাক হয়ে বলে
আবরার: কি করছিস
আরোশি: আমাকে মারতে চান
আবরার: মানে।
আরোশি: আপনার থেকে যে চোখ সরছে না। আমার মন টা যে বড্ড নির্লজ্জ হতে চাচ্ছে। কি করবো?
আবরার: আ-আরোশি I (stuttering)
আরোশি: হুশ। আপনি বিয়ে টা কইরেন না মন্ত্রী সাহেব আমি আপনায় খুব ভালোবাসি খুব।
আরোশি এইসব বলতে যেয়ে চোখে পানি চিক চিক করছে সেইটা আবরার এর চোখ এড়ায়নি। আবরার এর নিজেকে সামলানোর বিষয় টা আরোশি এর ক্ষেত্রেই দেখা যায় অন্য কারো সামনে এমন ফিল করে না। কাছে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা জাগে না সারার ক্ষেত্রে ও না। কেনো জানি এই মায়াজাল সুন্দরী মেয়েটা কাছে আসলে সে দুর্বল হয়ে যায় যেমন এখন আরোশি এর মুখে এইসব মন মাতানো কথা শুনে আবরার আর নিজেকে সামলাতে পারে না এমনেই তো রূপের পাহাড় নিয়ে তার সামনে আসছে এখন আবার এইসব কথা।
কিছু না ভেবে আরোশির ঠোঁ//ট দুটো আবরার নিজের দখলে নিয়ে নেয়। প্রথম এ ছোট ছোট কি//স করলে ও একটু পর deeply k!ss করছে যেন অনেক দিনের ইচ্ছা আজ পূরণ হলো। আরোশি প্রথম অবাক হলে ও পরে নিজেকে সামলিয়ে কি*স ব্যাক করে। দুজন এর নিঃশ্বাস ভা//রী হতে থাকে। Abrar এর হাত আরোশি এর সারা শরী//লে ছুঁ//য়াতে আরোশি কেপে উঠে এতে আবরার আরোশিকে আরো একটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরে নিজের বুকের সাথে। আরোশি শুনতে পাচ্ছে আবরার এর হার্টবিট। এইবার আরোশিকে ছেড়ে কপাল এর সাথে কপাল লাগিয়ে দুজনই নিশ্বাস নিতে থাকে। হঠাৎ আবরার বলে উঠে
আবরার: তুই আমার মায়াবতী। (চোখ বন্ধ অবস্থায় জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিয়ে)
আরোশি: জ-জ্বী?
আবরার: আমায় এত পুরাস না সোনা। বিশ্বাস কর সুহাসিনী আমি শেষ হয়ে যাবো।
আবরার এর এই কথা শুনে আরোশি আবরার এর দিকে তাকায়। দেখে আবরার একদম ঘেমে একাকার। এসির মধ্যে ও আবরার এর কপাল বেয়ে ঘাম পড়ছে। আরোশি নিজের শাড়ির আঁচল দিয়ে আবরার এর কপাল আর গলা টা মুছে দেয় হালকা করে যদিও জর্জেট শাড়ি তবু ও। মুছে কপালে একটা চুমু খেয়ে আবার আবরার এর কপাল এর সাথে নিজের কপাল ঠেকায়। আবরার চোখ বন্ধ করে আছে।
আরোশি: মন্ত্রী সাহেব বিয়ে টা করবেন না প্লীজ।
( তোমাদের কি মনে হয় বিয়ে টা হবে?)
চলবে,,,