ফন্ট সাইজ:
থিম:
এক হৃদয় হরনীর আসক্তি

৯ম পর্ব

লেখক: সাফা মারওয়া

#হৃদয়হরণীর_আসক্তি

#পর্বঃ৯

লেখিকা: #সাফা_মারওয়া

আরোশি: মন্ত্রী সাহেব বিয়ে টা করবেন না প্লীজ।

এইটা শুনে আবরার কপাল থেকে কপাল সরিয়ে আরোশি এর গলায় মুখ ডুবায় জোরে একটা কামড় দেয়।

হটাৎ এমন হওয়াতে আরোশি ব্যাথায় কঁকিয়ে উঠে I আরোশির শব্দ করাতে আবরার কামড়ের জাগায় ছোট ছোট কয়েকটা চু*মু দেয় হটাৎ আবরার এর টকর নড়ে হুশ আওয়াজ ভুলে কি করে বসলো। তাড়াতাড়ি করে আরোশি কে দার করিতে ওর সামনে যেয়ে বলে।

আবরার: দেক আরোশি তোর জন্য আমি নিজের হুশ হারাই। কাছে আসবি না কত বার বলবো? এত বেহায়া কেনো তুই? আমার বিয়ে হবে আর তুই তারপর ও এমন করছিস।

আরোশি: এমন টা করবেন না মন্ত্রী সাহেব আমি জানি আমার জন্য আপনি কিছু ফিল করেন।

আবরার: তোর মত মেয়ের জন্য? কখনো না। আমি সারাকে ভালোবাসি। আমাকে আমার মত থাকতে দে আরোশি। আমি ভালো থাকতে চাই

আরোশি: আমার আপনার ভালোবাসা লাগবে না ঘৃণা নিয়েই থাকবো তবুও আমার হন। আপনি আমার খুব সখের পুরুষ মন্ত্রী সাহেব।

আবরার: সখের জিনিস বুঝিয়ে দেয় সখ করতে হয়না জানিস না?

এইটা শুনে আরোশি আবরার এর হাত ধরে কেঁদে দেয়। হুম চাইলেই আরোশি পারে বিয়ে ভাঙতে। কিন্তু এই মানুষ টার থেকে একটু আসার আলো চায় আরোশি I আরোশি জানে ওকে আবরার ঘৃণা করে এইটা ও জানে আবরার এর এত বড় বড় কঠিন কথার পিছনে কোনো একটা কারণ আছে। হয়তো জানে ও কারণ টা কি। কিন্তু এই মানুষ টার একটু সাহস তার চাই। এই পুরুষ টার হাব ভাব আরোশি বুঝে না।

আরোশি: একটু সাহস করেন না মন্ত্রী সাহেব আমি আছি তো কিছু হবে না আমার শরীলে এক বিন্দু রক্ত থাকা পর্যন্ত আমি আপনার হাত ধরে থাকবো আমায় একটু বিশ্বাস করেন।

আবরার: আরোশি প্লীজ আমি তোর কাছে ভিক্ষা চাই তুই আমার পিছন ছার। আমি ক্লান্ত সত্যি অনেক ক্লান্ত। আমি সারাকে বিয়ে করতে চাই তোর কাছে হাত জোর করে চাই তুই কিছু করিস না। বিয়ে তে কোনো সিনক্রিয়েট করিস না। আমি সত্যি সারাকে নিয়ে সুখে থাকতে চাই তুই আমার চেয়ে ভালো কাওকে পাবি। তুই যথেষ্ট সুন্দর, বুদ্ধিমান, আত্মবিশ্বাসী। আমি তোর আবেগ নয়তো জিদ। আমার থেকে আর কিছু কেরে নিস না। আমি সত্যি ভালোবাসি সারাকে। আমি পারবো না বিয়ে ভাঙতে আর চাই ও না তুই ভেঙ্গে দে। প্লীজ আরোশি প্লীজ। তুই চলে যা। পায়ে পড়তে বললে পায়ে ও পড়বো আমি তাও আমায় শান্তি দে আমার চাওয়া সারা মানুষ টার সাথে।

আরোশি এর হাত ধরে আবরার এইসব বলে। বুঝা যাচ্ছে আবরার কান্না করছে। কারণ টা হয়তো সারাকে হারানোর ভয়। আসলেই কি হারানোর ভয়ে কাঁদছে? আরোশিও তো পায় হারানোর ভয়। এখন সত্যি হারিয়ে ফেললো? এখন ওর কি হবে? এই মানুষ টা বুজলো না ওর আবরার এর থেকে ভালো কাওকে না বরং আবরার কেই চায়। এইবার আরোশি একদম চুপ হয়ে যায়। পাথর হয়ে যায়। কি বলবে সে তার কিছু বলার নেই এত গীরগীরানোর পর ও বুঝছে না আবরার। আরোশি নিজের আত্মসম্মান সব আবরার এর পায়ের নিচে ফেলে নির্লজ্জ হয়ে নিজের দুর্বলতা সমর্পন করে আবরার কে আঙ্গুল দিয়ে বুঝিয়ে দিল আবরার'ই তার দুর্বলতা তারপরও আবরার বুজলো না। ওর অনুভুতিকে আবেগ নয়তো জিদের নাম দিল। এইবার আরোশি এর নিজের উপর রাগ উঠে তার এই মন টা এত বোকা কেনো? এত কিছুর পর ও এই পুরুষ টাকেই চাচ্ছে। মন বলছে "আবরার এর কথা না শুনে আরোশিকে স্বার্থপর হয়ে আবরারকে হাসিল করতে । নিঃশ্বাস বলছে "আরোশি সে যদি তোমার না হয়ে ছেড়ে যায় তবে আমি ও তোমায় ছেড়ে দিবো" । কিন্তু আরোশি বলবে না তার ভালোবাসার মানুষটা তার কাছে এই প্রথম একটা জিনিস চেয়েছে তাও আবার চেয়েছে তার ভালোবাসার মানুষ সারার কাছে তাকে ছেড়ে চলে যাওয়া। আজ আরোশি এর পক্ষে কেউ নেই। আরোশি এর সিচুয়েশন তার মন, নিঃশ্বাস, ভাগ্য, চাওয়া পাওয়া, আর তার এই সখের পুরুষ টা কেউ বুঝছে না।

আরোশিকে চুপ করে থাকতে দেখে আবরার আরোশির দিকে তাকিয়ে দেখে আরোশি এক ধ্যানে তার দিকে তাকিয়ে আছে । চোখ লাল হয়ে পানি জমে আছে পলক ফেললে টুপ করে গাল বেয়ে পড়বে কিন্তু পলক ফেলছে না। ফর্সা মুখ লাল হয়ে একদম ছোট হয়ে গেছে মনে হয় কত দিন খায় না, নিজের যত্ন নেয় না, কেমন যেনো অগোছানো লাগছে। তবে কি এইগুলা তার কথার প্রভাব? আর ভাবতে পাচ্ছে না আবরার। আবারো বুকে ব্যাথা অনুভব হচ্ছে। আরোশি এর চোখে পানি দেখে? জানা নেই। হঠাৎ আরোশি বললো।

আরোশি: a-abrar সাহেব আমি যে নিঃস্ব। আমি খীদ। আমি যে নির্বাক। আমি দূরে দাড়িয়ে থাকা এক দর্শক। আমি যে শূন্যতায় বিরাজমান। জানেন আমি শূন্য হাতে বড্ড দামী কিছু চেয়েছি। ঠিক আছে। যাহ ছেড়ে দিলাম আমার জান পাখি কে। উড়ো খোলা আকাশে। আমি নাহয় দুর থেকে দেখবো আমার না হওয়া পাখিকে অন্যের আঙিনায় বসতে?

আরোশি এর কথা শুনে বোঝা যাচ্ছে আরোশি এর গলা ধরে আসছে। কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে। তারপর আরোশি একটা চমৎকার মুচকি হাসি দিয়ে আবরার এর গালে হাত রেখে বলে

আরোশি: তুমি কখনোই বুঝবে না আমার প্রণয় রাজ্যের বেধ্বংসী প্রণয়ন তোমার এই ধ্বংসীতা তোমাকে পাওয়ার কত টা তিব্র ইচ্ছে নিয়ে তোমার থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। আসি খোদা হাফেজ।

এইটা বলেই আরোশি চলে যায় তখনি ঘরের সব লাইট আবার জলে যায়। আবরার এর মনে হচ্ছে ওর গালে কিছু লেগে আছে তাই আয়নায় যেয়ে দেখে গালে হলুদ লাগানো বুঝে যে আরোশি লাগিয়ে দিছে। আবরার আর কিছু না ভেবে তার মাকে ফোন লাগায়

রোশনারা: হম বলো। কোথায় তুমি এখনও আসছো না কেনো?

আবরার: মা তুমি যেইভাবে চাচ্ছ তাই হবে। সব শেষ মা সব শেষ ছোট আম্মু আর তোমার শাশুড়ি কেউ বলে দিও আমি শেষ করে দিয়েছি সব। আমি আবারো সেই চোখে আমার নামের অস্ত্র দেখেছি। আর বাঁধা নেই তোমাদের।

রোশনারা: তোমার গলা এমন শুনাচ্ছে কেনো। তুমি কি কান্না করছো আরোশি এর জন্য?

আবরার: না। রাখি

রোশনারা: আরে সু--

আবরার ফোন কেটে রুম থেকে বের হয়ে যায়।

একটা রুমে সম্পাদক সোহেল রানাকে বেঁধে রাখা হয়েছে মুখ আর কপাল দিয়ে ছুঁয়ে ছুঁয়ে রক্ত পড়ছে। আধা বন্ধ করা চোখ দিয়ে বোঝার চেষ্টা করছে তার সামনে বসে থাকা মানুষটার পরবর্তী পদক্ষেপ সামনে বসে থাকা মানুষ টাকে সে খুব ভালো করে জানে, এটাও জানে তার কারাগারে একবার ঢোকানোর পর ছাড়া পাওয়া মুশকিল তবুও বারবার মিনতি করছে তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু এতে যেন সামনে বসে থাকা ব্যক্তির গায়ে লাগেনা। সে একটা চেয়ারে বসে আরেকটা চেয়ারের উপর পায়ের উপর পা তুলে চুইংগাম চালাচ্ছে আর গুনগুন করে গান গাচ্ছে। তার এই গম্ভীর সুরে গুনগুন করে খাওয়ার আওয়াজ যেন ওখানে উপস্থিত সকলের গায় কাটা দিয়ে উঠছে । একটু পর চুপ হয়ে যায় আর সামনে বলে থাকা সোহেল রানার দিকে তাকায়। এক তাকানো তেই সোহেল রানার জান যায় যায় অবস্থা। চোখ অসম্ভব লাল হয়ে আছে।

??: কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞাস করলে সুন্দর করে উত্তর দেওয়া চাই। (শান্ত সুরে)

সোহেল রানা: জ জ্বী

??: বয়স কত?

এই রকম একটা মুহূর্তে এই প্রশ্ন সোহেল রানা আশা করেনি তবুও উত্তর দেয়।

??: এই বয়সে তো সব ছেড়ে মসজিদের সিঁড়িতে আল্লাহ জিকির করা উচিত। অনেক মেয়ের জীবন তো নষ্ট করলি তবুও ভিতরের শয়তান মরেনি? তোর ও তো মেয়ে আছে! অন্যের রগে বিষ ঢালতে ঢালতে একসময় নিজেকেও এইখানে দাড়াতে হয় জানা নেই?

সোহেল রানা: দয়া করে মাফ করে দাও এইবারের মত। আমার মেয়ের কিছু করো না প্লীজ। আর এমনিও রাজনৈতিক এ এইটা কমন বিষয় নিজেকে ও তো একটু ফুর্তি দিতে হয়।

সোহেল রানার কথা শুনে মানুষ টা ঘর কাঁপিয়ে হেসে উঠে হাসির শব্দে সোহেল রানার কলিজা লাফাচ্ছে ভয়ে। হটাৎ ঠাস করে একটা থাপ্পর মেরে আবার ও প্রশ্ন করে।

??: যারটা খাস তার পেছনে চুরি কেন মারতে যাচ্ছিলি?

সোহেল রানা গালের ব্যাথায় কথা বলতে না পারলে ও কষ্ট করে বলে।

সোহেল রানা: ভুল হয়ে গেছে মাফ করে দাও।

??: হম। বুঝেছি, ভুল যেহেতু হয়েছে শাস্তি পাওয়া উচিত কি বলো আলিফ?

আলিফ: ঠিক বলেছেন।

সোহেল রানা: ন-না না প্লীজ এমন করো না।

??: আমাকে তো খুব ভালো করে জানিস। আমি ছাড়ার পাত্রী না তবুও !

সোহেল রানা: প্লীজ আরোশি যা বলবে তাই করবো তবুও আ--

আরোশি অকথ্য ভাষায় একটা গালি দিয়ে হুংকার দিয়ে বললো।

আরোশি: চুপ কর। তোরে আমি অনেক আগেই বলছি আমার পিছ লাগিস না শেষ হয়ে যাবি তুই তারপর ও ভালো না হয়ে এমনই রইলি এখন তোর ভয় লাগছে আমারে? শালা ****পু* তুই আমার বড় আব্বু রে মারার কথা চিন্তা করিস? এত কলিজা? আজ তোর কলিজা আমি বের করে কু** কে খাওয়াবো।

এই বলে আরোশি একটা রামধাও হাতে নেয়। এতে সোহেল রানা ভয়ে চিল্লিয়ে উঠে কিন্তু আরোশি ওইটা দিয়ে এক কো//পে সোহেল রানার শরীল থেকে হাত আলাদা করে ফেলে এতে র*ক্ত ছিটে আরোশি এর হলুদ শাড়ি নষ্ট হয়ে যায় মুখে ও ছিটে যায়। লাল চোখ সাথে রক্তে ভরা শরীর ও মুখ খুব ভয়ানক লাগছে আরোশিকে। সোহেল রানা এর ব্যাথার আর্থনাত যেন আরোশি এর কানকে শান্তি দিচ্ছে। আরোশি এর খুব পছন্দ তার শত্রুর হাহাকার, অসহায়তা, আর্থনা। সোহেল রানা কে ব্যাথায় এইভাবে চিল্লাতে দেখে কতক্ষন তাকিয়ে থেকে আলিফ কে বললো।

আরোশি: আলিফ তুমি আমার সাথে চলো আর ওদের বলে দাও আমার মন মত সোহেল রানার খাতির যত্ন করতে মারার পর রাদিম টাওয়ার এর নিচে ফেলে আসবে সারা বিশ্ব যেনো এই খবর জানে তার ব্যাবস্থা করা চাই কাল খবরের হেডলাইনে যেনো এই খবরের ছড়াছড়ি থাকে।

এইটা বলে তারা বের হয়ে যায়। আরোশি বাড়িতে যেয়ে নতুন করে শাওয়ার নিয়ে রেডি হয়ে বের হয়।

আলিফ: কোথায় যাবো?

আরোশি: ফার্ম হাউজ এ যাও।

আলিফ: আপনি কি বিয়ে টা ভেঙ্গে দিবেন না?

আলিফ এর কথা শুনে আরোশি একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে চোখ বন্ধ করে শরীরটাকে সীটে হেলিয়ে দিয়ে বললো

আরোশি: কিভাবে ভাঙবো। মানুষ টা যে আকুতি মিনতী করে একটা আবদার করেছে। আমি কি করবো কিছু বুজতে পারছি না। আমি এমন একজন যে সবকিছুতে কোন না কোন সমাধান বের করে ফেলে সেখানে আজ নিজেরই সমস্যার সমাধান পাচ্ছিনা। জানো আমার মন টা খুব বেহায়া, বেপরোয়া, বেসামাল আমি কোনো ভাবে সামাল দিতে পারছি না মন কে। আমি শেষ আলিফ আমি শেষ।

আলিফ তাকিয়ে দেখে আরোশি এর বন্ধ চোখ দিয়ে পানি পড়ছে এতে আলিফ এর খারাপ লাগে। ইসস মানুষটা কত অসহায়। সারাদিন বাঘিনীর মতো দাপটে চলা মানুষটা আজ তার সামনে অসহায়ের মত ছটফট করছে। সে এই মেয়েটার থেকে বয়সে বড় সে বুঝে এ তরুণীর ছটফট করা তৃষ্ণা । বয়সটাই এরকম। নিজেকে সামলানো যায় না। তবুও কত সুন্দর করে নিজেকে সামলাচ্ছে কি ধর্য। কিন্তু মন বুজলে ও সে এই তরুণীর মাথায় কখন কি চলে বুঝে না। নিঃসন্দেহে অনেক বুদ্ধিমান। যেইটা চাই সেটা নিজের করেই ছাড়ে এখন চাওয়া টা কোনো জিনিস হোক বা জলজ্যান্ত মানুষ। বিয়ে টা আসলেই ভাঙবে কিনা সে বুঝতেছে না। একটা প্রশ্ন মনে গুরুগুর করতেসে না পেরে জিজ্ঞেস করেই ফেললো।

আলিফ: mam! আবরার sir কি আসলেই আপনায় এত ঘৃণা করে?

আরোশি: এমন টাই হওয়ার কথা না?

আলিফ: না মানে আপনি দেখতে সুন্দর, বুদ্ধিমতী, বয়স ও বেশি না, কামাই করেন, সপ্ন পূরণ করেছেন তবুও কারণ কি এমন করার? আপনার পরিবারে অধিকাংশ মানুষই অপছন্দ করে আপনায়।

চলবে,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৯ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন