#হৃদয়হরণীর_আসক্তি
#পর্বঃ১৫
লেখিকা: #সাফা_মারওয়া
আবরার: আসছে কখন সারা!
আবরার কে দেখে সারা উঠেই শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। হঠাৎ এমন হওয়ায় আবরার চমকে দুই কদম পিছিয়ে গেলো। ব্যাস আরোশি এর খাওয়া বন্ধ। বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে আছে আবরার এর বুকে মাথা ঠেকানো সারা এর দিকে। আলিফ আরোশি এর দিকে তাকিয়ে দেখে চোখ লাল বর্ণ ধারণ করেছে। কিছুক্ষন আগে ও তো ঠিক ছিল! এত জেলাসি! বাহ ভাবা যায়। এই হার্টলেস মেয়ে তাও করো উপর দুর্বল। Alif এইসব ভাবতে ভাবতেই দেখলো আরোশি উঠে বাইরের দিকে যাচ্ছে। কারণ জানতে সে আবার ওই আ*লিঙ্গন অবস্থায় থাকা আবরার আর সারার দিকে তাকালে বুজলো আরোশি এর উঠে যাওয়ার কারণ। আবরার ও সারাকে শক্ত হাতে জড়িয়ে ধরেছে যেনো কতই না মিস করেছে।
(কিন্তু এইটা আবরার করেছিল আরোশিকে বুঝাতে যে সে সারা কে ভালোবাসে। আবরার এর আরোশি এর সাথে এমন করার কারণ তোমরা ধীরে ধীরে জানতে পারবে)
আলিফ'ও আরোশি এর পিছনে যায়। যাওয়ার আগে আরেক বার পিছন দিকে তাকিয়ে দেখে আবরার তাদের দিকেই তাকিয়ে আছে। কিছু একটা ছিল সেই চোখে কিন্তু সেই চোখের ভাষা আলিফ বুজলো না। গাড়ির কাছে যেয়ে দেখে বাড়ির ড্রেস এ আরোশি গাড়ির ভেতরে বসে ফোন দেকছে। দেখে তো খুব নর্মাল মনে হচ্ছে যেনো কিছুক্ষন আগে কিছুই হয়নি। কি মুশকিল এদের বুঝা আলিফ একজনের চোখের ভাষা বুঝে না তো আরেক জনের মনের ভাষা। আরোশি এর কোথায় আলিফ এর ধ্যান ভাঙলো।
আরোশি: কি ব্যাপার দাড়িয়েই থাকবে না গাড়ী তেও উটবে!
আলিফ তাড়াতাড়ি গাড়িতে উঠে বসলো। 28 বছর বয়স ড্রাইভার বাহাদুর কে বললো গাড়ী স্টার্ট দিতে। মন্তব্য আলিফ এর জানা নেই জিজ্ঞেস করার সাহস ও নেই তবুও ইনিয়ে বিনিয়ে জিজ্ঞেস করে কোথায় যাচ্ছি। আরোশি ফোনে ব্যাস্ত থেকেই শান্ত সুরে বলে
আরোশি: গেলেই দেখতে পাবে।
ব্যাস আলিফ চুপ। আরোশি এর শান্ত সুর আলিফ সহ বাহাদুর ও কেপে উঠে। জানে না কেনো। কিন্তু যখনই আরোশি যেইখানে রিয়্যাক্ট করার কথা ঐখানে রিয়্যাক্ট না করে শান্ত ভাবে কথা বললে তার শান্ত সুরের মাঝে তারা ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বে আবহাওয়া শান্ত থাকার গন্ধ পায়। অনেক সময় পর নিরবতা ভেঙ্গে আলিফ নিজেই বললো।
আলিফ: sara mam কে কিছু কি করবো?
আরোশি: mam! এত সম্মান? যে যেটার যোগ্য না তাকে ওইটা দেওয়া উচিত না আলিফ
আলিফ: sorry mam.
আরোশি: যতক্ষণ ও আবরার এর বুকে আছে ততক্ষণ পর্যন্ত ও সেভ। আমার এখনও অধিকার হয়নি ওকে ওই বুক থেকে সরানোর। তাই কিছু করতে হবে না। ওরা বাবা মেয়ে অনেক চালাক চতুর গুই সাপ।
আলিফ: গুইসাপ?
আরোশি: হম। সুন্দর না নাম টা?
আলিফ: জ-জ্বী।
আরোশি: হা হা হা হা। বাহাদুর গাড়ী রাখো এইখানে। তোমরা যাও আমি পরে যাবো। আর গাড়ী নিয়ে যাও সাথে করে।
এইটা বলে আরোশি বিশাল বড় বাড়ির ভিতর ঢুকে গেল। বাড়ি টা কোনো প্রাসাদ এর চেয়ে কম না । গার্ডস দিয়ে পুরো বাড়ি ভরা। আলিফ জানালা দিয়ে দেখলো বাড়ি টা। কিছু বললো না। সে জানে এই বাড়ি কার। আর আরোশি এর সাথে সম্পর্কিত কি এই বাড়ির মানুষের এইটা ও জানে । সে বাহাদুরের সাথে গল্প করতে করতে চলে গেলো কোম্পানি তে।
একজন মঞ্চয়স্ক মহিলা বসে আছে আর তার কোলে মাথা দিয়ে শুয়ে আছে আরোশি। চোখ বন্ধ করে আছে আসার পর থেকে এইভাবে চুপ চাপ শুয়ে আছে আর তখন থেকেই সে ভদ্র মহিলা টা আরোশি এর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে তারই সামনে হাতে একটা পেপার নিয়ে বেতের চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে আছে সেই মহিলার স্বামী। গম্ভীর প্রকৃতির একজন মানুষ টা চেহারা দেখলে বুঝা যায়। আসলেই গম্ভীর? দেখা যাক
আরোশি: মামুনি তুমি কথার থেকে পেয়েছো এই আনরোমান্টিক স্বামী মহাশয়?
আরোশি বিড়বিড় করে বললো। কিন্তু এতটুকু জোরে বলেছে যে চেয়ারে বসে থাকা ব্যক্তির শুনার জন্য যথেষ্ট। মহিলা টা মুচকি হেসে বললো।
রুবি: চুপ পাজী মেয়ে। এতক্ষন চুপ থেকে এইসব ভাবছিলি?
আরোশি: আরে সব ভাবতে হয়না দেখলে ও কিছু জিনিষ বোঝা যায়।
হাসিব: কি বলতে চাচ্ছ তুমি মেয়ে।
আরোশি: আরোশি আমার নাম আরোশি চৌধুরী
হাসিব: তোমার কি মনে হয় আমি একজন পলিটিশিয়ান হয়ে পলিটিক্স দের চিনবো না! তাদের নাম জানবো না?
আরোশি: আমি মানি মন্ত্রী রা নির্লজ্জ হয়। মামুনি তোমার মন্ত্রী কেমন। আমার মন্ত্রী কিন্তু খুব রোম্যান্টিক। অবশ্য আমি ও কম না।
হাসিব: হাহ্। তোমাদের বয়সে আমি যে রোম্যান্টিক ছিলাম বলা যাবে না। আ--
আরোশি: থাক থাক। মামুনি তুমি আমায় সত্যি বলো । আমি তোমাকে এই বুড়ো থেকে বাঁচিয়ে আরেক বিয়ে দিবো তুমি এখনও অনেক সুন্দর। উফফ আমার হার্ট।
রুবি: মজা করিস? ফাজিল। এই বুড়িকে তোর কাছে সুন্দর লাগছে? (হাসতে হাসতে)
আরোশি: তার মানে তোমার একটু ও প্রসংশা করে না তোমার মন্ত্রী। তাই তুমি জানো না তুমি এখনো কত সুন্দর। কিন্তু আমি জানি আমি সুন্দর কারণ আমার মন্ত্রী সাহেব আমার খুব প্রসংশা করে। হু।
হাসিব: তোমার সাহস কত আমার থেকে আমার বউ কে আলাদা করতে চাও। আবার নজর দাও। আমার অনেক সখের আদরের বউ এইটা। আমি ও প্রশংসা করি। আমি একজন খাঁটি প্রেমিক পুরুষ।
আরোশি: বাহ্ এত জেলাস? হা হা হা আরে আরে মামুনি লজ্জায় তো লাল হয়ে যাচ্ছ! (হাসতে হাসতে)
রুবি: উফফ চুপ কর।
আরোশি: হাহ্ আমার ও প্রেমিক পুরুষ আছে। আচ্ছা! তোমাদের পণ্ডিত টা কোথায়?
রুবি: ওর ঘরে। বাড়িতে কি হইসে বললি না!
আরোশি: mr হাসিবকে জিজ্ঞেস করো। বাবাই বলো না কেনো? আর শুনো কয়দিন পর আমার প্রেমিক পুরুষের বিয়ে, চলে আসবে কিন্তু। আমি যেয়ে দেখে আসি তোমাদের পণ্ডিত কি করে।
রুবি: আরোশি কি আবরার এর বিয়ের দাওয়াত দিল? মানে কি।
হাসিব: আরে আরোশি এর বিয়ের দাওয়াত দিয়েছে।
রুবি: কিন্তু ওতো বল---
হাসিব: শুনো আমি তোমাকে কাহিনী বলি।
॥
দরজা খুলে আরোশি দেখে নিহাদ বসে বসে খুব মন দিয়ে কিছু ফাইল দেকছে। হম নিহাদ, নিহাদ আর আরোশি এর পরিচয় হয় নিহাদ এর বাবার কারণে। নিহাদ এর বাবা mr হাসিব একজন পলিটিশিয়ান।এইবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর পদবী পেয়েছেন। আগের জন কে সরিয়ে দিয়েছে আরোশি। কিন্তু নিহাদ এর এক কাছের বন্ধুর বাবাও একজন পলিটিশিয়ান। সেও দাড়িয়ে ছিল এইবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর কুরসী পাওয়ার জন্য। তাই নিহাদ কে তার বন্ধু বলেছে তার বাবা কে যেই ভাবেই হোক জিততে যেনো সাহায্য করে। কারণ নিহাদ এর ও কম বেশি নাম ডাক আছে রাজনীতিতে। সে করে না রাজনীতি তবে বিজনেস এর দুনিয়ায় রাজনীতি ও বড় ভূমিকা পালন করে। তাই বন্ধু কে কথা দিয়ে বন্ধুর বাবা কে সাহায্য করতে যেয়ে জানতে পারে বিপক্ষ দল তার বাবা নিজে। কিন্তু নিহাদ কথা দিয়ে ফেলেছে তাই বাবার বিপক্ষে যেয়ে বন্ধুর বাবাকে সাপোর্ট করে। একদিন এইটা হাসিব সাহেব জেনে নিহাদ কে অনেক বকাঝকা করে। রাগের মাথায় অনেক কথা শুনায়। তার কথা সে এই পদবী নেয়ার জন্য অনেক পরিশ্রম করেছেন এখন তার পরিশ্রম না বুঝে তার নিজের ছেলেই অন্য কে সাহায্য করা টা সে মেনে নিতে পারে না। কিন্তু নিহাদ তার কথা না বুঝে আরো রেগে পুরোপুরি বাবা কে হারানোর জন্য পিছন লাগে। কিন্তু শুরু থেকেই mr হাসিব এর পিছনে ক্ষমতার হাত ছিল আরোশির। নিহাদ এইটা জানতো না। পরে যখন জানে তখন এইটা ও জানতে পারে যার পিছনে আরোশি এর হাত আছে সে জিতবেই। তবুও নিহাদ হার মানে না I আরোশি আগের থেকে জানতো নিহাদ যে আবরার এর বন্ধু। বাবার বিপক্ষে যাওয়াতে অবশ্য আরোশি এর মাথা ব্যাথা নেই। ও জানে লাভ নেই পরে নিহাদ দের হারতেই হবে। কারণ আরোশি হারতে শিখেনি। কিন্তু এর মাঝেই আরোশি ভাবলো নিহাদ এর সাথে একবার কথা বলবে। যেই ভাবা সেই কাজ নিহাদ কে রেস্টুরেন্ট এ ডাকে।
(Flashback)
আরোশি: hi mr নিহাদ সিকদার. I am aroshi.. আরোশি চৌধুরী
নিহাদ: তো তুমি সেই আরোশি । (smirk)
আরোশি: হম। (smirk)
নিহাদ: বলো কেনো ডাকলে?
আরোশি: তুমি যা করছো টা কি ঠিক! সামনে কে আছে তাকে দেখে তারপর তলোয়ার হাতে নেওয়া উচিত।
নিহাদ: তুমি আমাকে কবে থেকে চিনো?
আরোশি: আবরার এর বন্ধু তুমি তখন থেকে চিনি।
নিহাদ: আবরার! আবরার কি হয় তোমার?
আরোশি: love of my life.
নিহাদ: oh i see। তো কি বলছিলে! আরোশি আমি খুব ভালো করে জানি আমি কি করছি। তোমার--
আরোশি: তুমি জানো না। যেই ভাবে উঠে পরে লেগেছো জিততে পারবে তো! যাইহোক শুনো নিহাদ তোমার বাবা এইটার জন্য অনেক পরিশ্রম করেছেন। তুমি তার ছেলে হয়ে তাকে যদি না বুঝো তাহলে কে বুজবে। তুমি তার ছেলে হয়ে তার বিপক্ষে। বাজে লাগে শুনতে।
নিহাদ: কান বন্ধ করে রাখো। আর পরিশ্রম কি রুদ এর বাবা করেন নি!
আরোশি: না আলীম রেদওয়ান কোনো পরিশ্রমই করেন নি। সে কেমন আমি জানি আমি রাজনীতি করি আমি দেখেছি তার চরিত্র, আচার ব্যবহার, মানুষ হিসেবে সে কেমন আমি জানি।
নিহাদ: আমি ও জানি আমার বন্ধুর বাবাকে।
এইটা শুনে আরোশি একটা অদ্ভুদ হাসি দেয় যেইটার অর্থ নিহাদ এর জানা নেই। আরোশি বুঝে নিহাদ কে এই ভাবে বলে লাভ নেই। তাই ছোট করে বলে,
আরোশি: সময় হোক আরো জানবে বন্ধুর বাবা কে। দেখা হয়ে ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আসার জন্য সময় দেয়ার জন্য। আসি, হয়তো আবার দেখা হবে।
এই বলে আরোশি চলে যায়। নিহাদ আরোশি এর চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ভাবতে থাকে কালো পোশাকে আর কথার ধরনে কে বলবে এই মেয়ে এখনও ছোট। কি তেজ। আগুন এর মত তেজী "dark Aura"। আবরার এর বাবা ভালই শিখিয়েছেন রাজনৈতিক দুনিয়ার সমন্ধে।
একদিন খবরে নিহাদ দেখে আলীম রেদওয়ান (নিহাদ এর বন্ধুর বাবা) একটা মেয়ের সাথে বাজে ভাবে একটা ভিডিও উপস্থাপন করেছে। আরো জানতে পারে মাফিয়া দের জন্য কাজ করতেন। নারী পাচার করা, ড্রাগস, আরো অনেক নেশা ধব্য পাচার করতেন । এইসব দেখে নিহাদ এর মাথা গরম। ওর বন্ধু কে ফোন করে অনেক কথা শুনায় আর সাহায্য করবে না বলে দেয়। বাবার কাছে ক্ষমা চায় । সব ঠিক হয়ে যায়। নিহাদ এর বাবা জিতেন। ওইদিন এর পর আরোশি এর সাথে নিহাদদের সম্পর্ক অনেক মজবুদ হয়। কিন্তু আজ ও কেউ জানতে পারে না ওই সত্য গুলো পাবলিক পর্যন্ত আনার পিছনে আরোশি এর হাত ছিল। তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ঐখানেই শেষ হয়ে যায়।
(flashback end)
আরোশি: আসবো?
চলবে,,,,