ফন্ট সাইজ:
থিম:
এক হৃদয় হরনীর আসক্তি

১৬তম পর্ব

লেখক: সাফা মারওয়া

#হৃদয়হরণীর_আসক্তি

#পর্বঃ১৬

লেখিকা: #সাফা_মারওয়া

আরোশি: আসবো?

নিহাদ: আরে ডাইনি যে কি খবর।

আরোশি: কি করছিলি পিসাস?

নিহাদ: তোমার অপেক্ষা জান। (flirty tone)

আরোশি: ছেহ! by the way ব্যাস্ত মনে হচ্ছে!

নিহাদ: আরে আর বলিস না কাল important একটা মিটিং আছে ঐটার প্রিপারেশন নিচ্ছি।

আরোশি: ওহ।

নিহাদ: তুই হটাৎ এই খানে?

আরোশি: বাসায় ভালো লাগছিল না তাই আসলাম।

এইভাবে ওরা কিছুক্ষন কথা বলে। আট টার দিকে আরোশি সবার থেকে বিদায় নিয়ে আলিফ কে ফোন করে গাড়ী আনিয়ে কোম্পানি তে যায়। কিছু ফাইল চেক করার কথা ছিল আজ কিন্তু আরোশি আফিসে যায়নি তাই এখন চেক করেই এসে পড়বে। অফিস ছুটি হয়ে গেছে আরো এক ঘন্টা আগে। আরোশি ফাইল দেখতে দেখতে রাত দেড়টা কখন বেজে গিয়েছে খেয়ালই করেনি। সব ঘুছিয়ে বাসার দিকে রওনা দেয়।

বাসায় এসে দেখে সব ঘম। আরোশি নিজের রুম এ যেয়ে ফ্রেশ হয়ে আবরার এর রুম এ ঢুকে। দরজা খোলাই ছিল। আবরার কখনো দরজা আটকায় না। আরোশি যেয়ে দেখে আবরার ঘুমিয়ে আছে। আস্তে আস্তে দরজা বন্ধ করে আবরার এর বেডের কাছে বসে। কিছু ক্ষন তাকিয়ে থেকে এক আঙ্গুল দিয়ে আবরার এর কপাল থেকে নিচ দিকে নামতে গিয়ে নাক পর্যন্ত আসতেই খপ করে আবরার আরোশি এর হাত চেপে ধরলো। হঠাৎ এমন হওয়ায় আরোশি চমকে যায়। আবরার তাকিয়ে দেখে আরোশি।

আবরার: কি করছিস? (ঘুম ঘুম কণ্ঠে)

আরোশি: আ-আমি তো আপনায় দেখতে এসেছি।

আবরার: ছুঁয়ে ছুঁয়ে? নির্লজ্জ। আর কোথায় চিলি এত সময়।

আরোশি: কেনো? আপনি আমায় মিস করেছেন?

আবরার: তোকে? আমার দিন খারাপ করার জন্য?

আরোশি এইটা শুনে একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে তারপর আবরার এর গালে হাত বুলিয়ে বলে

আরোশি: খেয়েছেন?

আবরার আরোশি এর হাত ঝাড়ি দিয়ে সরিয়ে দেয়।

আবরার: হাত সরা। আর খাবো না কেনো? আমার হবু বউ চলে আসছে এখন না খেয়ে থেকে কি টেনশন করবো! বের হ আমার রুম থেকে।

(আবরার এর রাগ হচ্ছে কারণ আজ বিকেলে আবরার আর সারার বিয়ের ডেট ফিক্স করেছে। দুইদিন পর'ই বিয়ে। আবরার এর মতে আজ আরোশি বাড়ি থাকলে হয়তো বিয়ের ডেট এত তাড়াতাড়ি ফেলতো না)

আরোশি: হবো তো।

আবরার: এখনই যা।

আরোশি: আমি খাইনি এখনও।

আবরার: তো আমার কি যা এইখান থেকে। রাতের বেলা একটা ছেলের রুমে আসতে লজ্জা লাগে না? ও তুই তো আবার নির্লজ্জ।

আরোশি: আপনি এমন করেন কেন মন্ত্রী সাহেব? জানেন আজ আপনার প্রশংসা করে করে আমার মুখ শেষ। কত বড় গলায় বলেছি আপনি রোম্যান্টিক আর এইখানে আপনি!

আবরার: কাকে বলেছিস?

আরোশি: আমার মামুনি আর বাবাই কে।

আবরার: এরা আবার কারা!

আরোশি: পরে জানতে পারবেন। আসি, good night sweetheart I

আবরার কে কিছু না বলতে দিয়ে বের হয়ে যায় আরোশি। নিজের রুম এ ঢুকার সময় সাথে আরেকজন ডুকে। আরোশি ঘুরে তাকিয়ে দেখে সারা।

আরোশি: কি হইছে?

সারা: আবরার এর রুমে কেন গিয়েছ?

আরোশি: আমার ইচ্ছা। তোর বাপের কি।

সারা: মুখ সামলে কথা বলো। আমার সাথে আবরার এর বিয়ে ঠিক হয়েছে।

আরোশি: হয়েছে সোনা but হয়নি এখনো।

সারা: হবে। দুইদিন পর বিয়ের ডেট।

আরোশি: দুইদিন পর? এত তাড়াতাড়ি বিয়ে করতে হবে আমার? (বিড়বিড় করে)

সারা: কি বিড়বিড় করছো?

আরোশি: কিছু না। দুইদিন পর যখন আবরার তোমার হবে তখন এমন অধিকার খাটিও।

সারা: হবে। হতেই হবে।

আরোশি: ধুর শালী। যা তো। দূরে যেয়ে মর। বের হ আমার রুম থেকে

সারা: একটা অস*ভ্য বে*য়াদব আশা করে আবরার কে পাবার ভাবা যায়! (তাচ্ছিল্য করে)

আরোশি: হম সেটাই। কিরে অ*সভ্য কিভাবে করিস আশা?

উল্টো অপমান হওয়ায় সারা রেগে বলে

সারা: তোকে তো।

এইটা বলে আরোশি কে একটা চর মারতে গেলে আরোশি সারার চুল ধরে নিচে আরোশির পায়ের সামনে বসিয়ে দেয়।

আরোশি: তোর যোগ্যতা এইখানে বুঝেছিস! তুই কি মনে করিস তুই কি কি করিস আমার কানে আসে না? তুই কেন আবরার কে বিয়ে করতে চাচ্ছিস আমি জানি না? লোভী ম*হিলা

সারা: ক-কি জানিস?

আরোশি: সময় হোক তোকে জানাবো কি জানি। যা এখন আমার রুম থেকে।

এই বলে আরোশি সারা কে ধাক্কা দিয়ে রুম থেকে বের করে দেয়।

॥

পরের দিন সকালে সবাই নাস্তা করতে বসেছে শুধু আরোশি এখনও আসেনি। আবরার ও একটু আগে এসে সারার পাশে বসলো

তখন'ই কলিং বেল বাজলো। মরিয়ম যেয়ে দরজা খুলে। সবাই দেখে সেইখানে আরোশি এর নানার বাড়ির মানুষ এসেছে। তারা বিয়ের উপলক্ষে এসেছেI আরোশি এর মা তো কান্না করে দেয় তাদের দেখে। এত বছর পর তারা এসেছে। দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল কিন্তু আসবে যে এইটা কেও আশা করেনি। কারণ তাদের সাথে সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায় যখন জানা জানি হয় আরোশি রাজনৈতিক ক্ষমতার জন্য তার মামা কে মে*রে ফেলেছে। কিন্তু আজ হটাৎ তারা আসলো কি মনে করে এইটা কারো মাথায় আসছে না। তখন আবরার খেয়াল করে তাদের সাথে একটা ছেলে ও আছে। ভালো করে তাকিয়ে দেখে এইটা তো ওই ছেলে যাকে আরোশি এর সাথে রেস্টুরেন্ট এ হাত ধরে বসে থাকার পিক দেখেছিল। সবার সাথে দেখা সাক্ষাৎ করে। কতক্ষন কান্না কাটি মেলোড্রামা হলো। তারপর সকলে ভাবলো একসাথে নাস্তা করবে। তারা যেহেতু সকালে এসেছে। তারা ফ্রেশ হয়ে আসলে সকলে খেতে বসে। তখন হটাৎ আরোশি এর নানি বলে।

-: কিরে আমার নাতি কই?

চলবে,,,,,

( Sorry for late 🥲.. খুমা কুরি দিন 🥹)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন