#হৃদয়হরণীর_আসক্তি
#পর্বঃ২৩
লেখিকা: #সাফা_মারওয়া
তখনই আবরার গম্ভীর মুখে রুমে ঢুকলো। সোজা ওয়াশরুম এ চলে গেলো ফ্রেশ হয়ে রুমে এসে একবার তার খাটে বসে থাকা সদ্য বিয়ে করা বউয়ের দিকে তাকালো। তার বউ! ভাবা যায়? শেষ মেশ বিয়ে টা হয়েই গেলো। একটা নিঃশ্বাস ফেলে মেয়েটার সামনে যেয়ে উল্টো হয়ে খাটের দুইপাশে হাত ভর দিয়ে বসলো। নিচ দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষন চুপ থেকে বললো।
আবরার: কেন করলি এমন আরোশি?
এইটা শুনে আরোশি মুখের উপর থেকে গুমটা সরিয়ে আবরার এর পানে তাকালো। ছেলে টা গম্ভীর মুখে বসে আছে। উহম তার জামাই টা গম্ভীর মুখে বসে আছে। আরোশি ভাবনাহীন হয়ে বলে
আরোশি: অনেক গরম এসি বাড়িয়ে দাওতো।
আবরার: আমি তোকে কিছু জিজ্ঞাস করেছি। খামখেয়ালী কেন করছিস।
আরোশি: কি জিজ্ঞেস করলেন?
আবরার: এমন টা কেনো করলি। আমি তোকে বলিনি বিয়ে তে জামেলা না করতে! (চিল্লিয়ে)
হঠাৎ আবরার চিল্লিয়ে উঠায় আরোশি কেপে উঠে কিন্তু বুঝতে না দিয়ে নরমাল ভাবেই কথা বলে।
আরোশি: আরে আজ আমার চেচানোর কথা। সেই খানে আপনি চেচালে বিষয় টা ছি মার্কা হয়ে যাবে বাইরের মানুষের জন্য।
আবরার: আরোশি.... (চিল্লিয়ে)
আরোশি: আহহা আমি জানি আমার নাম। চলুন নামাজ পরে আমরা একে অপরের সঙ্গে সারাজীবন থাকার, বোঝার দোয়া করি।
আবরার: তোকে আমার সহ্য হয়না আর আমি সারাজীবন একসাথে থাকার দোয়া করবো? আমি তো দোয়া করবো তুই যেনো ম*রে যাস আর আমি সারার কাছে যেতে পারি।
আরোশি: ফিজিকাল ভাবে ওর যা আছে আমার তাই আছে তাহলে এত সারা সারা করার কারণ?
আবরার: ছি।
এইটা বলে আবরার খাটে শুয়ে পড়ে। এই মেয়ের সাথে কথায় পারা মুশকিল। নির্লজ্জ একটা। আরোশি কিছুক্ষন বসে থেকে ফ্রেশ হতে যায়। আবরার এর ওয়াশরুম এ এই প্রথম আশা আরোশির। অনেক বড় ওয়াশরুম। আসলে আবরার এর রুমের ডিজাইন টাই অন্যরকম। এই বাসায় আর একটা রুম'ও এইরকম না।
আবরার নিজের পছন্দ করে করা সব। ওয়াশরুম এ ঢুকতেই দুইপাশে একদম উপর থেকে নিচ পর্যন্ত কাবার্ড। ড্রেসআপ সহ আবরার এর টাই, ঘড়ি যাবতীয় জিনিস যা প্রয়োজন সব রাখার ব্যবস্থা আছে। সাইডে একটা বড় আয়না দাড়া করে রাখা আছে। ভিতর সাইডে ঢুকলে দেখতে পায় বড় কাঁচ লাগানো তার ওপর সাইডে গোছল এর ব্যাবস্থা সহ বাদবাকি জিনিষ। আরোশি ভাবে কাল নিজের রুমের জিনিস এইখানে শিফ্ট করবে আজ আবরার এর শার্ট পড়বে। একটা কালো শার্ট হাতে নিয়ে নাকের সামনে ধরতেই একটা মিষ্টি গ্রান নাকে লাগে। তার মন্ত্রী সাহেবের শরীলের গ্রান। আরোশি ভাবে কাপড় কিভাবে ক্লিন করে যে শরীলের গ্রান রয়ে যায়। পরে আবার ভাবে পড়তে পড়তে গ্রান টা বসে যায়। তাই থেকে যাওয়া সাভাবিক। তার শরীলের গ্রান ও কি এমন মিষ্টি? পরনে জামা নাকের সামনে নিয়ে আরোশি দেখে শুধু পারফিউম এর স্মেল আসছে। আর কিছু না ভেবে ফ্রেশ হতে যায়। আরোশি বের হয়ে দেখে আবরার শুয়ে শুয়ে ফোনে কিছু একটা করছে। আরোশি কাছে যেয়ে ফিসফিস করে বলে
আরোশি: ঘুমাবেন না।
না তাকিয়েই উত্তর দেয় আবরার "হম। সর সামনে থেকে"
আরোশি: প্রথম রাতে বউকে কিছু দিতে হয় আপনি দিলেন না আমায়?
আবরার: তোকে আমি বউ মানি না।
আরোশি: ওইটা আপনার বিষয়। আমি----
আবরার আরোশি কে খেয়াল করে কথার মাজ পথেই থামিয়ে বলে
আবরার: এই দাড়া তুই আমার সার্ট কেন পড়েছিস?
আরোশি: আমার জামা নাই এইখানে তাই আমার স্বামীর টা পড়েছি।
আবরার: খোল
আরোশি: কেন বা*সর করবেন?
এইটা শুনে আবরার একটা থা*প্পর দিল আরোশি এর বাহুতে। জোরে না দিলে ও ঘটনা এমন ঘটবে আরোশি এর জানা ছিল না। আরোশি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে আবরার এর দিকে। অবাক এইজন্য না যে আবরার মেরেছে বরং এই জন্য যে সামান্য সার্ট এর জন্য মেরেছে।
আরোশি: আপনি সামান্য সার্ট এর জন্য মারলেন আমায়?
আবরার: না। আমার সাথে বেয়াদবি করার জন্য। ঐসব কি ধরনের কথা অসভ্য। আমি তোর সমান? নাকি তোর সাথে ফ্রি মাইনডের? আমি তোকে বলেছি বউ হিসেবে মানি না তোকে। কানে যায় না? তুই কি মনে করেছিস আমি ভুলে গেছি তুই কিভাবে বিয়ে করেছিস আমায়। ছি। আমার ভাবতে ঘৃণা লাগে তোর মত মেয়ের সাথে আমার বিয়ে হয়েছে। এত নিচু তুই।
আরোশি: তো জনাব বউ কে মারা উচু মানসিকতা?
আবরার: বউ না তুই আমার। মানি না বিয়ে। ডি*ভোর্স আমি তোকে দিবোই।
আরোশি: ঠিক আছে ভাইয়া। আপনা টাইম আয়েগা নাংগা হি আয়াহে বউ লেকে জায়েগা।
আবরার: কিহ?
আরোশি: বুকে নিয়ে শুবেন কি না?
আবরার: জীবনও না।
আরোশি: ভালো করে বলছি মানেন।
আবরার: কি করবি না মানলে? মারবি? মার।
আরোশি: yes or no?
আবরার: f**king No .... did you understand?
আরোশি: ok
আরোশি এইটা বলে বারান্দায় চলে যায়। আবরার ও শুয়ে পড়ে। অনেকক্ষন পর ও আরোশি আসে না এইবার আবরার এর টেনশন হতে থাকে। বিরক্ত লাগে আবরার এর কাছে নিজেকে। কে জানে পাগল মেয়ে কি করছে। আরে আজব ওই অবাধ্য নারীর জন্য ওর কেন টেনশন? ঘুম ও আসছে না। এতক্ষন ধরে করছে কি আরোশি বারান্দায় মাথায় শুধু এইটা ঘুরছে। না পেরে আবরার উঠে বসলো।
আবরার: গেলো কথায়?
আরোশি: আমি এইখানে।
আবরার তাকিয়ে দেখে আরোশি বারান্দার কাঁচের দরজার সাথে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে আছে। হাতে একটা উইসকির বতল।
আরোশি: বুকে নিয়ে শুবেন কি না?
আবরার: না।
আরোশি ওই হুইস্কি এর বতল থেকে দুই ঢোক খেয়ে সেইটা নিজের চারপাশ ঘিরে ঢাললো। আবরার শুধু তাকিয়ে আছে। বুঝতে পারছে না আরোশি করছে কি। তারপর আরোশি লাইটার দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে দিল। সাথে সাথে আরোশি এর চারপাশ ধা ধা করে আগুন জ্বলে উঠলো। এইবার আবরার এর টকর নড়ে। তাড়াতাড়ি উঠে বেডশিট হাতে নিয়ে আরোশি এর কাছে গেলো। ওইটা দিয়ে আরোশি কে ঢাকতে ঢাকতে বললো
আবরার: তুই কি পাগল? কি করছিস?
আরোশি: নিজের চিতায় জ্বলছি।
আবরার: চল আমার সাথে।
আরোশি: না।
আবরার: আরে কি না!
আরোশি: আগে বলেন বুকে নিয়ে ঘুমাবেন?
আবরার: আরোশি এর বাচ্চা। (রেগে)
আরোশি: হয় নাই হবে। বলেন বুকে নিয়ে ঘুমাবেন?
আবরার:_____
আরোশি: আমার সাথে মরতে চান?
আবরার: চল না। বের হ।
আরোশি: আগে আমার উত্তর দিন।
আবরার: আয় না প্লীজ
আরোশি:___
আবরার: ঠ-ঠিক আছে।
আরোশি: প্রমিজ!
আবরার: প্রমিজ।
আরোশি: পিংকি প্রমিজ!
আবরার: আরোশি,,,, অবাধ্য, ফাজিল, অপদার্থ চল আমার সাথে।
আরোশি: ঠিক আছে ঠিক আছে এত প্রশংসা করতে হবে না। আপনি আগে ওয়াশরুম থেকে পানি নিয়ে আসেন।
আবরার: তুই ---
আরোশি: আরে যান আপনি। আমার চিন্তা করতে হবে না এত তাড়াতাড়ি আপনার পিছন ছাড়বো না।
আবরার অনেক কষ্টে আগুন থেকে বের হয়ে ওয়াশরুম খুলতে গেলে বুঝে লক করা। আবরার বুঝে যায় এইটা আরোশি এর কাজ তাই রেগে আরোশির দিকে তাকায়। আরোশি হেসে বলে দেয় চাবি কোথায়। তারপর পানি দিয়ে অগুল নিভিয়ে দেয় আবরার। আরোশিকে টান দিয়ে শক্ত জড়িয়ে ধরে। আরোশি বুঝতে পারে আবরার এর হার্টবিট পরিমানের চেয়ে অনেক বেশি বেড়ে গিয়েছে। আরোশি বুঝতে পারলো না কারণ। ওর জন্য? না না। সে তো ঘৃণার পাত্রী আবরার এর কাছে। আরোশি ও জড়িয়ে ধরে।
আরোশি: ভয় পেয়েছেন নাকি?
আবরার: এমন পাগলামি কেনো করিস আরোশি? কিছু যদি হয়ে যেত এখন?
আরোশি: আপনার জন্যই তো ভালো। সারাকে বিয়ে করতেন।
আবরার এইটা শুনে আরোশি কে নিজের থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
আবরার: যা ইচ্ছা কর, আমি আর কিছু বলবো না অবাধ্য নারী।
আবরার যেয়ে শুয়ে পড়ে। আরোশি ও যেয়ে আবরার এর বুকে মাথা রেখে শুয়ে পড়ে।
আবরার: বুকে জায়গা পেলেও মনে জায়গা পাবি না।
আরোশি: চাই না। শুধু একটু বুকে মাথা রাখবো আর কিছু চাই না। আমার শান্তি আমি পেয়ে গিয়েছি।
আবরার: আমার টা শেষ করে।
___________________________________
সকালে,,,,,,
রোশনারা: আমার শরীল জ্বলছে রাগে। যাকে দেখতে পারি না তাকেই ছেলের বউ করলাম,
আজমুল: যা হয়ে গেছে তা বার বার কেন টানছো?
রোশনারা: আপনার জন্য তো ভালো ছেলের বউ আরোশি হয়েছে। পুরা কপাল তো আমার। আমার ছেলের জীবন টা শেষ। তখন ফোন ধরা টাই আমার ভুল হয়েছে।
চলো জেনে আসি কিভাবে কি হলো।
তখন আনান এর কথা উল্টো হয়ে ঠিক মুভির মত বাজী পাল্টিয়ে ছিল। সকলে যখন বিয়ে দেখতে ব্যাস্ত। নিয়ম মোতাবেক কাজী সারা কে কবুল বলতে বললে সারা বলার আগেই রোশনারা দৌড়ে এসে বলে।
Flashback....
রোশনারা: দাড়াও এই বিয়ে হবে না।
জেসিয়া: কি বলছিস পাগল হয়ে গেছিস?
আজমুল: কিছু কি হয়েছে!
রোশনারা: হম। আমি বলেছি এই বিয়ে হবে না মানে হবে না।
আবরার: কেনো মা কি হয়েছে?
রোশনারা: আমি তোকে বিয়ে করতে বলেছিলাম আমি আবার তোকে বলছি তুই সারাকে বিয়ে করিস না
সারা: মামী কি বলছো এইসব? পাগল হয়ে গেলে?
রোশনারা: আবরার বাবা আমি যদি তোকে বলি আরেক মেয়ে কে বিয়ে করতে তুই করবি না বাবা?
আবরার: মা এইটা কি তোমার কাছে খেলা? বিয়ে কোনো ছেলেখেলা না।
রোশনারা: তুই না আমাকে সব চেয়ে বেশি ভালবাসিস। আমার জন্য এইটুকু করবি না?
হম। আবরার তার মা কে সব চাইতে বেশি ভালোবাসে। বাবা বেশিরভাগ ব্যস্ত থাকার কারণে বাবার সাথে সময় ওরকম উপভোগ করতে পারেননি । ছোট থেকে মায়ের সাথে ছিল যত গল্প করা যত আবদার করা। তাই মা কোন ভুল করলে সে জিনিসটা ভুল লাগেনা আবরার এর কাছে। যেভাবে বলে সেভাবেই করে। মনে করে তার মা তার জন্য ভালোটাই করবে। তাই এবারও রাজি হয়ে যায়।
আবরার: কোন মেয়ে?
রোশনারা: আরোশি কে।
আবরার: কিহ্হঃ। (অবাক হয়ে)
ঠিক তখনই বাইরে থেকে বন্দুকেক শব্দ আসতে থাকে। না না কাও কে মারছে না। বিয়ে তে ব্যান্ড বাজে আর আরোশি এর বিয়েতে ঢল এর বলতে বন্দুক আকাশের দিকে মেরে বাজাচ্ছে। আফটার অল আরোশি এর বিয়ে বলে কথা।
আরোশি: hi everyone😎
সবাই তাকিয়ে দেখে আরোশি দাঁড়িয়ে আছে দরজার সামনে। পুরো বউ সেজে এসেছে কিন্তু কালো রঙে নিজেকে রাঙ্গিয়ে। পরনে কালো লেহেঙ্গা, black eyeshadow, dark lipstick. চুল ছেড়ে সুন্দর করে সেট করা। অসম্ভব সুন্দর লাগছে আরোশি কে। সবাই তাকিয়ে কাহিনী বুঝার চেষ্টা করছে। আরোশি যেয়ে আবরার এর পাশে দাড়ায়।
আবরার: কি হচ্ছে আমায় কেউ বলবা?
আরোশি: রিলাক্স জান। বড় আম্মু বলো কেন ফোন দিয়ে ডাকলে আমায়? (বাকা হেসে)
রোশনারা: বিয়ে হবে কিন্তু আরোশিএর সাথে আবরার এর।
রাজেদ: আরে আপা আপনি এইসব কি বলছেন! আমার মেয়ের কি হবে?
রোশনারা: দেখেন ভাই বুঝার চেষ্টা করেন আমি ফেঁসে গিয়েছি বলেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
আবরার: কি হয়েছে আমায় বলো। কে কি করেছে যে তুমি এমন সিদ্ধান্ত নিলে?
আরোশি: আরে জান বিয়ে একবার হোক তারপর না হয়---
আবরার: চুপ। তোকে জিজ্ঞাস করেছি? মা বলো কি হয়েছে?
রোশনারা: আমার কাছে কিছুক্ষন আগে একটা ফোন এসেছিল। তোর ফুপি কে পাওয়া যাচ্ছে না। কিডন্যাপ করেছে কেউ। রিফা ও নেই। কিডন্যাপার ফোনে বলেছে তারা যেইভাবে বলে সেই ভাবে না শুনলে ওদের মেরে ফেলবে। শর্ত দিয়েছে আরোশি এর সাথে তোর বিয়ে। বাবা বিয়ে টা কর তুই তো জানিস রিফার কিছু হলে আমার কি হবে। আমার মেয়ে টা। একটা মাত্র বোন তোদের। আর তোর ফুপি ও তো আছে। (কান্না করে)
আজমুল সহ সবাই চুপ করে দাঁড়িয়ে শুনছে। কেউ টু শব্দ করছে না। আরোশি নির্বাক শ্রোতা তখন। হাতের নখ দেখছে আবার আঁচল ঠিক করছে। সারার বাবা বুঝে গিয়েছে আরোশি এর চাল এইসব। সে রেগে তখনই বের হয়ে যায় বাড়ি থেকে। এখন এইখানে থেকে লাভ নেই। সব আরোশির কন্ট্রোল এ চলে গিয়েছে। সে জানে আরোশি এর সাথে ব্রেইন এর খেলায় কেউ পারবে না। আজমুল ও বুঝেছে আরোশি করেছে এই সব কিছু। রোশনারা বিয়েতে বেশি লাফিয়েছে তাই তাকে দিয়েই বিয়ে ভাঙ্গাচ্ছে এই মেয়ে। ভাবা যায়? কি সাংঘাতিক বুদ্ধি। আজমুল সাহেব খুশি যেইটা তে আরোশি খুশি। আবরার তার মায়ের চোখে পানি দেখে রেগে আরোশি এর দিকে তাকায়।
আরোশি: আরে আমার দিকে তাকিয়ে লাভ কি আমি কি করেছি? আমাকে ফোন দিয়ে বলা হয়েছে আসতে আমি এসেছি।
আবরার: সাজগুজ করে? আমাকে পাগল মনে হয়?
আরোশি: হ্যাঁ। বাড়িতে একটা বিয়ে আজব সাজবো না!
আবরার: আমি ভালো করে জানি তুই---
আরোশি: আহহা শাশুড়ি মা দেরী হচ্ছে তো।
রোশনারা: আবরার। বাবা প্লীজ। একবার আমার কথা টা রাখ।
আরোশি: এই ভাবেই তো ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করো তাই না?
আবরার: মা সারার কি হবে?
তখন তারা সবাই সারার দিকে তাকিয়ে দেখে সারা জ্ঞান হারিয়ে পরে আছে। আবরার ভাবছে পড়লো কখন ময়দা সুন্দরী বালিকা? ছেহ। সামনে দেখতে দেখতে সে পিছনের কথা ভুলেই গিয়েছিল। এতই ভালবাসে যে আবরার অন্য কারো হবে এইটা শুনে একদম বেহশ হয়ে গিয়েছে?
আসলে সারা ভয় পাচ্ছে একবার আবরার এর অধিকার আরোশি পেয়ে গেলে তাকে আরোশি শেষ করতে দুই মিনিট ও নিবে না। একদম জা*নে মারবে। কারণ একবার আরোশি এর বয়স যখন 7 তখন আবরার এর বয়স 16। তখন আবরার সব সময় আরোশি এর সাথে থাকতো, ওর খেয়াল রাখতো, আদর করতো, দোষ করলে শাস্তি দেয়া, অভিমান করলে অভিমান ভাঙানো। সব আবরার করতো। মাঝে মাঝে তো আবরার পাগলামি করতো ছোট আরোশি এর সাথেই আজ সে ঘুমোবে। যাবে না কোথাও। বাসার সবাই ভাইয়ের বোনের প্রতি ভালোবাসার চোখে দেখতো। কারণ আবরার কে তো বলে রেখেছে সারা তার বউ হবে বড় হয়ে। কিন্তু আবরার কখনো ঐসব মাথায় নিত না। কিন্তু একদিন আরোশি আবরার এর হাতে খাবে বলে বায়না ধরেছে বলে আবরার রেগে আরোশি কে অনেক জোরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিল যে আরোশি এর হাত টেবিলের সাথে বাড়ি খেয়ে কেটে গিয়েছিল। সেদিন প্রথম আবরার এত রুড হয়েছিল আরোশি এর প্রতি। সেইদিন আরোশি কান্না করে জ্বর বাদিয়ে ফেলেছিল। আরোশি ভাবছিল শুধু একটু আবরার এর হাতে খেতে চেয়েছে বলে আবরার এমন কেন করলো। বলে দিত তাকে যে সে খাওয়াতে পারবে না। সে বুঝে না সে এমন করলে আরোশি এর কষ্ট হয়। সেইদিন এর পর থেকে আবরার পরিবর্তন হতে থাকে। সারার সাথে থাকে। আরোশি এর সাথে কথা বলতো না আর বললে ঝাড়ি দিয়ে বলতো। দূরে দূরে থাকতো। আরোশিকে ও কাছে আসতে দিত না। নিজের সাথে ঘুমাতে দিত না। এইভাবে চলতে থাকে। আরোশি এর যখন 14 বছর তখন জানতে পারে তার আবরার সাথে সারার বিয়ে ঠিক করা। স্কুল শেষ করে আরোশি সাথে সাথে আবরার এর ক্যাম্পাসে যায় কিন্তু অপমান হয়ে বাড়ি ফিরে।
তখন বাসায় এসে আরোশি সারাকে বলে আবরার শুধু আরোশি এর। যেইদিন আরোশি তার ভালোবাসা হাসিল করবে সেইদিন সারাকে ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে দিবে। কিন্তু সারা আরোশি এর কথা কে দাম না দিয়ে এইসব কিছু আবরারকে বলে দেয়। এই নিয়ে আরেক দফা আবরার আরোশিকে কথা শুনায়, যখনি আরোশি কাছে থাকতো সারা ইচ্ছে করে আবরার এর সাথে চিপকে থাকতো, জড়িয়ে ধরতো, হাতে, কপালে কিস করতো, ঘুরতে যেত, শপিং করতো। আবরার ও কিছু বলতো না আসলে বলতো না বললে ভুল। আবরার নিজে ও ফেঁসে গিয়েছিল।
সেইদিন আবরার ইচ্ছা করে আরোশি কে ধাক্কা দিয়ে ব্যাথা দিতে চায়নি। আবরার রেগে ছিল খুব। আবরার সেদিন তার মাকে যেয়ে বলেছিল সে বড় হয়ে সারাকে না বরং আরোশি কে বিয়ে করবে, তার আরোশি কে চাই মানে চাই। কিন্তু রোশনারা রেগে আবরারকে বলে আবরার যদি আরোশি এর সাথে সম্পর্ক করতে চায় তাহলে এমন একটা সময় আসবে আবরার নিজে আফসোস করবে কেন রোশনারা এর কথা সেদিন সে শুনলো না তারপর ও আবরার রাগ দেখিয়ে বলে সে আফসোস করতে রাজি তবুও আরোশি কে চাই। রোশনারা তখন বলে ছেলের কান পড়া দিয়ে বলে যদি সারাকে বিয়ে না করে তাহলে সে তার মায়ের ম*রা মুখ দেখবে। সে জানে তার ছেলের মনে ছোটর থেকেই তার জন্য একটা সফট কর্নার আছে। কখনো মায়ের কথা ফেলে না। সে কান্না করে ছেলে কে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে। আবরার সেইদিন ঐখানে আটকে যায় আর কোনো রাস্তা থাকে না। তাই রেগে আরোশি কে ধাক্কা দেয় এই ভেবে এই মেয়েটার জন্য তার এত অসহ্য লাগে, এই মেয়ে টা তার দুর্বলতা। এই মেয়ে টাকে দেখলেই তার পাগল পাগল লাগে নিজেকে। আজ আবরারকে পাগল বানিয়ে না পাওয়ার অসুখে শেষ করে দিচ্ছে এই মেয়ে। তাই আরোশি এর থেকে দূরে থাকে। আরোশি এর কথা ভুলতে সারার সাথে মিশে তবুও রাতে আরোশি এর জন্য মন টা ছটপট করতো। আরোশির খারাপ লাগতো আবরার এর এমন অবহেলায়, সারাকে এত সময় দাওয়ায় কিন্তু আরোশি নিজের সময়ের অপেক্ষায় ছিল। এখন সময় আরোশি এর হাতে তাই সারা ভয়ে বেহশ।
Back to story,,,,,
আরোশি: আরে ও তো মরে গিয়েছে!
আরোশি এর এমন কথা শুনে আবরার আরোশি এর দিকে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো যার অর্থ এমন সময় এমন কথা আসে কিভাবে? আরোশি আবরারকে এইভাবে তাকাতে দেখে মেকি হাসি দিয়ে মুখ ফিরিয়ে নেয়। আবরার একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে সারা কে উঠাতে গেলে রোশনারা বলে।
রোশনারা: আমি দেখবো ওকে। তুই বিয়ে কর। রিফাকে দেখতে চাই আমি যত দ্রুত সম্ভব।
এইটা শুনে আরোশি বাকা হাসে। যাক দুর্বলতা ধরেছে। আসলে শত্রু হোক আর বন্ধু দুর্বলতা জেনে রাখলে একটা না একটা সময় কাজে লাগেই। আফটার অল পলিটিশিয়ান বলে কথা
আরোশি: চলুন বিয়ে টা সেরে ফেলি।
চলবে,,,,,,,
( যেহেতু নতুন শুরু হয়েছে তাই আমার তোমাদের কাছে request আমার উপর বিশ্বাস রেখে একটু ধৈর্য ধরে পরো। আর যাদের প্রশ্ন কেন আরোশি আত্মসম্মান এর কথা ভাবে না আর অপমান হয়েও আবরার এর পিছন পড়ে থাকে। আসলে এইখানে আরোশি'ই নায়িকা আবার সেই ভিলেন। এখন ও যদি আত্মসম্মান টা উপরে রেখে হার মেনে নেয় তাহলেই হেরে গেলো। ভালোবাসায় কোনো আত্মসম্মানবোধ নেই। এত বছর সহ্য করেছে এখন এসে হার মেনে নেয়ার জন্য? এইখানে নায়িকা শুধু জানে জিততে। তাই প্রয়োজনে সকলের চোখে অপছন্দ হবে তবুও নিজের টার্গেট মিস করবে না)
The photo edit by one of my reader Sadia Akhter Asha thank you dear 🖤