ফন্ট সাইজ:
থিম:
এক হৃদয় হরনীর আসক্তি

২৪তম পর্ব

লেখক: সাফা মারওয়া

#হৃদয়হরণীর_আসক্তি

#পর্বঃ২৪

লেখিকা: #সাফা_মারওয়া

রোশনারা: আমি দেখবো ওকে। তুই বিয়ে কর। রিফাকে দেখতে চাই আমি যত দ্রুত সম্ভব।

এইটা শুনে আরোশি বাকা হাসে। যাক দুর্বলতা ধরেছে। আসলে শত্রু হোক আর বন্ধু দুর্বলতা জেনে রাখলে একটা না একটা সময় কাজে লাগেই। আফটার অল পলিটিশিয়ান বলে কথা

আরোশি: চলুন বিয়ে টা সেরে ফেলি।

কুমকুম: আর কত নিচে নামবি?

আরোশি: চিন্তা করো না ওতো নিচে নামবো না যত নিচে তুমি।

সাইদুল: দোষ করে বড় বড় কথা বলা বন্ধ করো। দোষ টা এইখানে তোমার ভুলে যেও না।

আরোশি: everything fair in love and war

জেসিয়া: ছি, এইদিন দেহার ছিল। আমার কত সপ্ন ছিল ওগো বিয়া দিমু কিন্তু এই সেরি।

আরোশি: বুড়ি বয়সে আরেক জন এর জীবনেও সপ্ন সাজাতে হবে কেন তোমার?

আবরার এর বাবা সবার উদ্দেশ্যে বলে

আজমুল: বিয়ে শুরু করো অযথা সময় নষ্ট না করে। এইখানে অনেক মানুষ অপেক্ষা করছে। একটা সম্মান আছে ইনক্রিয়ের করো না।

সাইদুল: ভাই যা করার আরোশি করেছে। নতুন করে সিনক্রিয়েট আর কি হবে।

আবরার আর কিছু না বলে নিজের চিয়ারে যেয়ে বসে আর কাজী কে বিয়ে পড়াতে বলে। আরোশি ও মুচকি হেসে যেয়ে বসে আবরার এর পাশে। বিয়ের বৈঠক আগের টাই কিন্তু এইবার মানুষ টা চেঞ্জ।

বিয়ে হয়ে গেলে আরোশি আবরার কে সামনে নিয়ে দাড়িয়ে মাইক হাতে নেয়। তারপর হাসি মুখে বলে

আরোশি: অ্যাটেনশন প্লীজ এভরিওয়ান। Hello dear guests &.. my beloved press and Media এখন যেইটা বলবো সেইটা খুব clear নোট করুন । যেটা কালকে সকল খবরের কাগজের front page এ থাকবে। আর প্রতি টা চ্যানেলে প্রচারিত হবে। আমি আরোশি চৌধুরী now officially mr. আবরার রিয়াদ চৌধুরী এর wife mrs. আরোশি চৌধুরী । এই আবরার রিয়াদ চৌধুরী কেবল আর কেবল আরোশি এর। যে বা যারা আমার মন্ত্রী সাহেবের দিকে চোখ তুলে থাকাবে তাদের চোখ আমি তুলে ফেলবো। সবাই এইটা মাথায় রাখবে যে এই আবরার রিয়াদ আরোশির ভালোবাসা।আরোশির স্বামী, আরোশির জীবন, আরোশির কলিজা, আরোশির সব। যে আমার কলিজায় হাত দিবে তার কলিজা আমি বের করে ফেলবো।

বিদায় দেওয়ার মত কিছুই নেই যেহেতু ওরা একই বাড়ির সন্তান। আরোশিকে আবরার এর রুমে রেখে আসা হয়। কিন্তু সকলের অগোচরে দূরে দাঁড়িয়ে থাকা লিলি মনে মনে একটা পন করে রাখলো।

লিলি: আমি ও তাহলে আবরার কে হাসিল করবো। ও পারলে আমি ও পারবো। আবরার তো আর ওকে ভালোবাসে না। আমি ওর মনে নিজের জন্য ভালোবাসা সৃষ্টি করবো। এমন পরিস্থিতিতে বিয়ে তো শুধু একটা শব্দ মাত্র।

কিন্তু লিলি এইটা বুজলো না আরোশি হাসিল করেছে অবিবাহিত আবরার রিয়াদ চৌধুরী কে আর লিলি হাসিল করতে চাচ্ছে বিবাহিল আরোশি চৌধুরীর স্বামী কে। আরোশি এর পুরুষ। যে একটু আগে বলেছে "যে আমার কলিজায় হাত দিবে তার কলিজা আমি বের করে ফেলবো"।

বিয়ে হয়ে গেলে নিহাদ আস্তে করে ঐখান থেকে সরে যায়। সোজা যায় একটা ভবন এর সামনে। বিরাট বড় গেটের সাইডে বোর্ড এ লেখা "সিকদার ভবন" ভিতরে ঢুকেই সোজা নির্দিষ্ট রুমে চলে যায়। লাল লাইটের আলোয় দেখা যাচ্ছে সামনের বিছানায় দুইজন নারী অজ্ঞান অবস্থায় শুয়ে আছে। দেখলে যে কেউ বলবে ঘুমাচ্ছে। নিহাদ একটা বাকা হেসে একটা গার্ড কে ডেকে বলে

নিহাদ: আমার কাজ শেষ। ওদের আর কাজ নেই। চৌধুরী বাড়িতে রেখে আসো।

( তোমরা নিশ্চয়ই বুঝে গিয়েছ এরা কারা! Nihad এর মাধ্যমে এদের কিডন্যাপ করেই তো নিজের টার্গেট পূরণ করলো আমাদের পলিটিশিয়ান আরোশি চৌধুরী)

Flashback end......

সকালে ঘুন থেকে উঠে দেখে আবরার আরোশি এর বুকে মাথা রেখে তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে। মুখ ফুলিয়ে ঘুমায় যার জন্য একদম ছোট বাচ্চার মত লাগছে আবরার কে দেখতে। কেউ বলবে না এই ছেলে টা জাগ্রত অবস্থায় আরোশি কে ঝারির উপর রাখে? না। বরং মার ও দেয়। হাহ্, রাগ যেন নাকের আগায় থাকে সব সময়। না উঠতে হবে। আবার আবরার কে ডাকতে হবে। আজ অনেক কাজ আরোশির। চৌধুরী empire এর সাথে বিজনেস ডিল আছে। আবরার অবশ্য জানে।

আবার advocate এর সাথে কিছু কাজ আছে নেত্রীও বিষয়। দুইদিন পর নির্বাচন। কিন্তু আপত্তি ঘটলো উঠতে যেয়ে। আবরার এত শক্ত করে ধরে রেখেছে যে আরোশি নড়তে পর্যন্ত পারছে না। আরোশি আবরার এর চুলে হাত বুলাতে বুলাতে মুখের দিকে তাকিয়ে ভাবতে থাকে সেদিন এর কথা যেদিন রোশনারা বলেছিল আবরার সারাকে বিয়ে না করলে রোশনারা বেগম এর মরা মুখ দেখবে। আরোশি জানে আবরার সারাকে স্বেচ্ছায় পছন্দ করে না বরং রোশনারা জোর করেছে। কিন্তু আরোশি আজ ও জানে না সেইদিন আবরার আরোশি কে চাইতে গিয়েছিল নিজের মায়ের কাছে সাথে এইটা ও জানে না আবরার এর ধাক্কায় টেবিলের সাথে বাড়ি খাওয়ার পর আবরার রাতে এসে নিজের হাতে মলম লাগিয়ে দিয়েছিল আরোশির হাতে। তারপর থেকে প্রাই প্রতিরাতেই যেতো আরোশিকে দেখতে। নিজের মনের ছটপট সহ্য করতে না পেরে আরোশি ঘুমালে তারপর যেতো ওর রুমে। কিন্তু আবরার সেইদিন থেকে যাওয়া বন্ধ করে যেদিন জানা গিয়েছে আরোশি এর মামা মজুম সিকদার কে আরোশি নিজ হাতে খু*ন করেছে সামান্য রাজনৈতিক এর জন্য। রোশনারা বেগম সেদিন আবরার কে বলে "দেখেছিস আরোশি কত খারাপ। বলেছিলাম না?" সেদিন আবরার এর কাছে বলার কিছুই থাকে না। আর ভাবতে পারলো না তার আগেই আরোশি নিজেকে আবিষ্কার করলো নিচে ফ্লোরে।

আরোশি: ahhhhhh আল্লাহ্ গো উফফ আমার কোমর। আমাকে ধাক্কা দিলেন কেন আপনি?

আবরার: আব আ-- আসলে

আরোশি: ahhh বাবারে ( কোমর ধরে অভিনয় করে কান্না করে)

আসলে আবরার আরোশিকে নিচে ফেলে দিতে চায়নি। হঠাৎ আবরার ঘুম ভেংগে গেলে দেখে আরোশি এর বুকে সে শুয়ে আছে আর আরোশি তার দিকে তাকিয়ে আছে। আরোশিকে সরাতে গিয়ে ধাক্কা দেয় কিন্তু ধাক্কা টা যে এত জোড়ে লাগবে আর আচমকা এমন হওয়ায় যে আরোশি তাল সামলাতে না পেরে পরে যাবে আবরার বুঝে সারতে পারেনি। ব্যাথায় আরোশি এর চোখে পানি এসে গেছে। আবরার কে শুনিয়ে শুনিয়ে জোড়ে কান্না করে দেয় আরোশি। ওকে কান্না করতে দেখে আবরার তাড়াতাড়ি আরোশির কাছে যায়। এই মেয়ের চোখের পানি তার বুকে ব্যাথা অনুভব করায় তাড়াতাড়ি থামাতে হবে এই মেয়েকে। এইসব ভেবে আরোশির সামনে যেয়ে ওকে কোলে নিয়ে খাটে বসায় কিন্তু কান্না! কিভাবে থামবে?

আবরার: আরোশি! সরি সরি। চুপ চুপ কাদবি না প্লীজ চুপ আর দিবো না ধাক্কা।

আরোশি: আহহহ (কান্না করে)

আবরার: থাম না সরি। হইসে তো। আমি বুঝিনি তুই এত ব্যাথা পাবি।

আরোশি: তুমি আমায় ব্যাথা দিয়েছ। ahh আমার কোমর।

কোমর ধরে কথা টা বলে আরোশি। আবরার এইবার উত্তেজিত হয়ে বলে

আবরার: সোনা আমার কাঁদে না। তুই না ভালো মেয়ে। প্লীজ পাখি কাঁদিস না।

আরোশি: আগে বলো তুমি করে বলবা এখন থেকে।

বিয়ের আগে আরোশি বলেছিল আবরার কে বিয়ের পর তুমি করে বলাবে তাই সুযোগ হয়ে ছাড়া না করে কাজে লাগায়। আবরার কিছু না ভেবেই বাচ্চাদের যেইভাবে সান্তনা দেয় সেইভাবে বলে

আবরার: বলবো তুমি করেই বলবো। কাঁদে না আমার টগর। চুপ চুপ ব্যাস কিছু হয়নি। সবাই পচা বলবে কাঁদলে। কাঁদে না প্লীজ।

বলে আরোশিকে জড়িয়ে ধরে। আবরার ব্যাস এইটা সেইটা বলে চুপ করাতে চাচ্ছে আরোশি কে। কিন্তু আরোশি এর চোখের পানি ঝর্নার কাজ করছে। আবরার এর কলিজায় লাগছে আরোশি এর চোখের পানি। আরোশি আড়চোখে একবার তাকালো আবরার এর দিকে। সুজুগ টা হাত ছাড়া করতে চায় না তাই বললো।

আরোশি: তুমি কি চাও আমি কান্না থামাই?

আবরার: হমম আমার স্ট্রবেরি। আর হবে না এমন কাঁদিস,,,,,, মানে কেঁদো না।

আরোশি: ঠিক আছে তাহলে কিস করো।

চোখ মুছে আবার তাকায় আবরার এর দিকে। আরোশি এর আবদার শুনে আবরার কোমরে হাত দিয়ে আরোশি এর দিকে তাকিয়ে আছে। আরোশি ও ইনোসেন্ট চেহারা বানিয়ে তাকিয়ে রইলো। আরোশি কে একটা কিউটের ডিব্বা লাগছে আবরার এর কাছে। আবরার গভীর দৃষ্টিতে তাকালো। আরোশি এত ফর্সা না হলেও যতেষ্ট। নাক লাল হয়ে গিয়েছে কান্নার কারণে। চোখ এইটুকুতেই ফুলিয়ে ফেলেছে। গোলাপি ঠোঁট দুটো বাচ্চাদের মত উল্টিয়ে রেখেছে যেনো আবরার " না" বললেই আবার কান্না জুড়ে দিবে। চুল হালকা এলোমেলো। কালো সার্ট এর এক পাশের হাতা কাধ থেকে পড়ে গিয়ে ফর্সা কাধ আর ছোট কাপড়ের ফিতা দেখা যাচ্ছে। আবরার বেশ বুঝতে পারছে আরোশি সুজুগ নিচ্ছে । তার বউ টা নির্লজ্জ। না না, তার অবাধ্য নারী। শুধু আর শুধু তার। অধিকারের সাথে এখন এই নারী তার।

আরোশি: কি হলো দাও।

আবরার: কি!

আরোশি: কিস। ummm (ঠোঁট টাকে উচু করে)

আবরার: খেয়ে ফেলবো একদম এমন চেহারা বানাবি,,,,, মানে বানাবে না।

আরোশি: তুমি দিবে কি না ?

আবরার:_____

আরোশি তাকিয়ে দেখে আবরার একই ভাবে দাড়িয়ে গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে কিন্তু এইবার নিজের ঠোঁট কামড়ে ধরে আছে। আরোশি ইচ্ছে করে বাচ্চাদের মত আবরার এর টি-সার্ট এর এক কণা ধরে টেনে বলে।

আরোশি: মন্ত্রী সাহেব!

আবরার: hmm? (Deep voice)

আরোশি: ki§ me I

আবরার: why? (আরোশির দিকে ঝুঁকে)

আরোশি: morning kiss,,,, কান্না করবো না আর তাহলে।

আবরার: সত্যি?

আবরার আরেকটু ঝুঁকে আরোশি এর দুইপাশে খাটে হাত ভর করে দাড়ায়। আবরার কে এত কাছে আসতে দেখেআরোশি ঢোক গিলে বলে

আরোশি: হ-হম।

আবরার কিছু না বলে আস্তে আস্তে আরোশির কানের লতিতে ঠোঁট ছুঁয়ায়। এতে আরোশি কেপে উঠে কিন্তু চুপ করে বসে থাকে। হঠাৎ কি মনে করে আবরার অনেক জোরে আরোশির ঘাড়ে কামড় দেয়। আরোশি "আহহ" করে উঠলে ও না ছেড়ে ওইভাবেই থাকে কতক্ষন তারপর আস্তে আস্তে ছেড়ে পিছন দিয়ে আরোশির চুল মুট করে ধরে ঘাড় আরেকটু কাত করে কামড় এর জাগায় ছোট ছোট কয়েকটা চু*মু খায় তারপর আর কোনদিক না তাকিয়ে সোজা ওয়াশরুম এ চলে যায়। আরোশি আবরার এর দাওয়া সকাল সকাল আদরে কিছুক্ষন অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো। তারপর আয়নার সামনে যেয়ে ঘারে দেখে কামড় এর জায়গা একদম লাল হয়ে দাঁত বসে গিয়েছে।

আরোশি: রাক্ষস স্বামী হাহ্।

॥

বিয়ের পর প্রথম সকাল। আরোশি এর অনুভুতি কি সেইটা এই মেয়ে শুধু নিজেই জানে কিন্তু বাকি সবার মাঝে কোনো পরিবর্তন নেই। প্রতিদিনের মত আজ ও সব এক। আরোশি ফ্রেশ হয়ে নিচে এসে দেখে আবরার সোফায় বসে আছে আর বাকিরা খাবার টেবিলে। আরোশি কে সিঁড়ি দিয়ে নামতে দেখে আবরার উঠে নাস্তা করতে বসলো সবার সাথে। আরোশি ও এসে আবরার এর পাশের চেয়ারে বসলো। সবাই যে যার মত কেউ তাকিয়ে আছে তো কেউ নাস্তা করছে। আরোশি আবরার এর একটু কাছে গিয়ে ফিসফিস করে বললো

আরোশি: আমার জন্য অপেক্ষা করছিলেন নাকি?

আবরার: ফিসফিস করে কথা বলবে না।

আরোশি: কেন কেন?

আবরার: দূরে যাও। তারপর বলো যেইভাবে ইচ্ছে।

আরোশি: এইবার বলেন। (একটু দূরে যেয়ে)

আবরার: কি বলবো?

আরোশি: আমার জন্য অপেক্ষা করছিলেন নাকি?

আবরার: হম। বাবা তোকে ছাড়া আমায় বসতে দিচ্ছিল না টেবিলে।

আরোশি: আহহা আবারো তুই করে বলছেন?

আবরার: আরে সময় লাগবে তো একটু চেঞ্জ হতে।

আরোশি এইবার আজমুল সাহেব এর দিকে তাকিয়ে বলে

আরোশি: বড় আব্বু তুমি আবরারকে আমি বিহীন টেবিলে বসতে নিষেধ করেছো?

আজমুল: হম। বউ নিয়ে খেতে বসলে মহব্বত বাড়বে।

আরোশি: মহব্বত লাগবে না। তুমি আর নিষেধ করো না আমি ছাড়া খাওয়ার টেবিলে বসতে।

আজমুল: ঠিক আছে। আজ না advocate এর সাথে দেখা করার কথা।

আরোশি: হম। যাবো।

আজমুল: দুইদিন পর ইলেকশন। দলকে নিশ্চিহ্ন করে বলে দাও ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি রুহুল আমিনই হন।

আরোশি: ঠিক আছে।

আজমুল: আমি উঠলাম। (চলে গেলো)

সাইদুল: আমি ও উঠি আর আবরার আজ আমি মেইন অফিস এ আসতে পড়বো না তোমার দেখতে হবে সব। কিছু কাজ আছে।

আবরার: জ্বী ছোট আব্বু।

জেসিয়া: দাদুভাই তোমার মা সেই সকাল থেকে কান্না করতেছে। সারা ও এখনও অসুস্থ অবস্থায় শুয়ে আছে।

আবরার: আমি কি করবো। আমার তোমাদের সবার উপর রাগ থাকা উচিত যে তোমরা আমার অপছন্দ একটা মেয়েকে আমার কপালে ঝুলিয়ে দিয়েছ।

আরোশি: অপছন্দ না জান ঘৃণা।

আরোশি এর কথা শুনে আবরার পাশে তাকিয়ে দেখে আরোশি নিচ দিকে তাকিয়ে এক মনে খেয়ে যাচ্ছে।

আবরার: সারার কি হয়েছে?

কুমকুম: কি আর হবে। মেয়ে টা তোকে খুব ভালোবাসতো। এইভাবে যে সব কিছু এলোমেলো হয়ে যাবে ভাবতে পারিনি। আমার পেটের মেয়ে এমন জগন্য কিছু করবে ভাবা মুশকিল।

আরোশি খাওয়া শেষ করে উঠতে উঠতে বলে

আরোশি: জান আমার খাওয়া শেষ আপনি আসেন আমি গেলাম অফিস এ মিটিং এ দেখা হবে। (চলে যায়)

কুমকুম: ছি, কিভাবে যে জ*ন্ম দিলাম। জ*ন্মের সময় মে*রে ফেলা---

আবরার: আহহা ছোট আম্মু। কি বলো এইসব? আরোশি শুধু মেয়ে না বরং এখন এই বাড়ির বউ'ও। আর কখনো এইসব বলবে না আমার পছন্দ না। আর আমি যাওয়ার আগে একবার সারাকে দেখে যাবোনি।

আবরার এইটা বলে উঠে উপরে চলে গেলো। সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। নিজে বললে কিছু না কিন্তু অন্য জন বললে জলে উঠে।

(In meeting room)

সবাই মিটিং এ বসে আছেন। সবাই বলতে আবরার, আরোশি, কিছু কলিক আর চার জন বিজনেস ইনভেস্টর। যাদের মধ্যে একজন এখন প্রেজেন্টেশন দিচ্ছেন। নাম আমির আসহাব। আরোশি আবরার এর পাশে বসে আছে। একটু পর পর আবরার এর দিকে তাকাচ্ছে। যে সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে প্রেজেন্টেশন দেখতে ব্যাস্ত। আরোশি এর বার বার তাকানোর কারণ হচ্ছে আমির আসহাব এর বিজনেস আইডিয়া একদম পছন্দ হচ্ছে না আরোশি এর। তার আইডিয়া মোতাবেক কাজ করলে বিজনেস এর অনেক বড় ক্ষতি হবে। তার প্রেজেন্টেশন শেষ হলে আরোশি গম্ভীর সুরে বলে।

আরোশি: আইডিয়া বদলাতে হবে।

আমির আসহাব: আমি জানতে পারি কেন?

আরোশি তার দিকে পূর্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো

আরোশি: আপনার এই ফালতু আইডিয়া মোতাবেক কাজ করলে বিজনেস এর অনেক বড় ক্ষতি হবে।

আমির আসহাব: আপনি আমার আইডিয়া কে ফালতু বলতে পারেন না mrs. চৌধুরী ( অপমানবোধ হয়ে)

আরোশি: আমার মুখ আছে বলতে পারবো না কেন?

আবরার: কি সমস্যা তোমার? আমার কোম্পানি আমি ডিল করবো কি করবো না এইটা আমার ব্যাপার। তুমি কেনো কথা বলছো?

আরোশি: ভুল কি বলেছি? কোম্পানি আপনার হলেও আমি এই মিটিং এ ঘাস কাটতে আসিনি নিশ্চই। কারণেই উপস্থিত আমি এইখানে।

আবরার: তোমার কাছে ভুল না হলে'ও আমার কাছে ভুল। পছন্দ না হলে তুমি ক্যান্সেল করতে পারো। Mr. আমির আসহাব আমি রাজি। আপনার সাথে ডিল করবো।

আরোশি: কিন্তু মন্ত্রী সাহে---

আমির আসহাব: ধন্যবাদ mr. চৌধুরী

আরোশি ধারালো ছু*রির নজরে তাকালো আমির আসহাব দিকে। যে এখন খুশি তে আতখান।

আরোশি চোখ সরিয়ে আবরার এর দিকে তাকালো। সবাই কে বিদায় দিয়ে আবরার নিজের ক্যাবিনে চলে যাচ্ছে। আরোশিও পিছন পিছন গেলো। কেবিনে ডুকে দরজা বন্ধ করে আবরারকে নিজের দিকে ঘুড়িয়ে বলে।

আরোশি: আপনি এমন কেন করলেন? আপনি জানেন না এতে আপনার কত লস হবে?

আবরার: আমার ইচ্ছে। তোমার কি?

চলবে,,,,,,

(কভার ফটো এডিটিং করতে অলসতা লাগে তাই আগের টাতেই add করে দিয়েছি আসক্তি শব্দ। তোমরা ভালো ভালো কমেন্ট করো আর কেমন লাগছে গল্পটা বলতে ভুলবে না 🖤)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন