#হৃদয়হরণীর_আসক্তি
#পর্বঃ২৬
লেখিকা: #সাফা_মারওয়া
সকালে আরোশি নিচে এসে শুনে আবরার না খেয়েই চলে গিয়েছে বাবার সাথে কিছু কাজে। আজ কম বেশি আবরার এরও অনেক কাজ। আরোশি এর পরনে কালো থ্রীপিস, চুল স্টাইল করে ডিলডিলে ভাবে বেনি করা, হালকা মেকআপ, নিজেকে শেষ বার আয়নায় দেখে না খেয়েই আরোশিও তাড়াতাড়ি বের হয়ে গেলো সাথে বাসার থেকে নাস্তা নিয়ে গেলো।
আবরার, আজমুল, রবিন, নিহাদ এর বাবা (হাসিব সাহেব) , নিহাদ, আরো অনেক জন যার যার কাজে ব্যাস্ত। আনান ও asif সহ আরো কিছু বন্ধু এসেছে। দেখা সাক্ষাৎ করে কথা বার্তা বলছে। হাতে হাতে কাগজ পত্রের কাজ করছে। চারপাশ নানান শব্দ। কথা, চিল্লাচিল্লি, কাগজ পত্রের শব্দ আরো নানান শব্দ। আরোশি এসেছে শুনেই সব ঠান্ডা হয়ে গেলো। আসলে আরোশির এইখানে তেমন কোনো কাজ নেই। আরোশির কাজ নেত্রীও সভায়। এইখানে তো সে একটা বড় বাচ্চা কে খাওয়াতে এসেছে। ইউসুফ দৌড়ে এসে আরোশি কে জানালো
ইউসুফ: আপু এইখানে আসলেন যে? কোনো কাজ থাকলে আমায় বলতেন।
আরোশি: না। আমি যেই কাজে আসছি আমার নিজের করতে হবে সেইটা। বাকিরা কোথায়!
ইউসুফ: ভিতরে। আসেন।
আরোশি: ওইদিকে কি অবস্থা?
ইউসুফ : নির্বাচন এর সকল রূপ আমাদের কন্ট্রোলে।
আরোশি: good (বাকা হেসে)
ইউসুফ: আপু পার্টি অফিসে যেতে হবে আপনার
আরোশি: হম জানি। ইউসুফ শুনো নির্বাচনের কিছুদিন পর কমিশনার সাফির জাগায় অন্য কাওকে পরিচালিত করবে এইটা চাই।
ইউসুফ: হয়ে যাবে। কিন্তু কাকে করবো?
আরোশি: পড়ে বলবো। রাজু ভাই আসছে সিঙ্গাপুর থেকে?
ইউসুফ: হম আজ সকালেই আসছে। এসেই আবার বের হয়ে গিয়েছে। এখন নেত্রীও সভায়।
আরোশি: আচ্ছা যাও।
আরোশি ভিতরে ঢুকতেই আজমুল দেখে বলে
আজমুল: আরে আরোশি এইখানে?
আরোশি: একটা ইমপরটেন্ট কাজ ছিল করে চলে যাবো।
নিহাদ: কিছু হয়েছে নাকি?
আরোশি: না তেমন কিছু না।
হাসিব: খাবার এনেছ নাকি কারো জন্য?
আরোশি: হম।
আরোশি আবরার এর দিকে তাকিয়ে দেখে আবরার উঠে একটা রুমে যাচ্ছে। আরোশি ও যায়। সবাই বুঝে আরোশি বউয়ের কর্তব্য পালনে ব্যস্ত। তারা নিজেদের কাজে ব্যাস্ত হয়।
॥
আবরার: কি চাই?
আরোশি: আপনায়।
আবরার: কাছে এসে বসলে কেনো?
আরোশি: আরে এইখানে একটাই তো সোফা আর ঐখানে অফিস টেবিল আর চেয়ার। ঐখানে তো আর খাওয়াবো না।
সোফায় আবরার এর পাশে বসে সামনের ছোট টেবিল টায় খাবার গুলো নামাতে নামাতে বললো আরোশি।
আবরার তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে আরোশি এর আনা নাস্তা। আসলে কাজের চাপে সকালে নাস্তা টা খেতে পারেনি। এসে খুদা লেগেছিল কিন্তু ব্যাস্ততায় খাওয়া হয়ে উঠেনি। খাবার দেখে খুদা গুলো জেগে উঠে। আরোশি খাবার সাজিয়ে দিয়ে বললো
আরোশি: নিন খান। একদম খাবার ফেলে দাওয়ার চেষ্টা করবেন না। আপনার খুদা লেগেছে মুখ দেখেই বুঝেছি।
আবরার: তুমি খেয়েছো!
আরোশি উত্তর দেওয়ার আগেই আরোশি এর ফোন বেজে উঠে। আরোশি ফোনে কথা বলতে ব্যাস্ত হয় যায়।
একটা ফোন কাটতে না কাটতেই আরেকটা আসছে। আবরার বুঝে যায় আজ আরোশি অনেক বেশি ব্যাস্ত। একবার এইখান থেকে গেলে আজ আর আরোশিকে পাওয়া মুস্কিল। আবরার আস্তে আস্তে খাচ্ছে। আরোশি এর কথা শেষ হলে যে খাওয়ার কথা বলবে তাও পারছেনা। কোথাই শেষ হচ্ছে না। এর মাঝে আরোশি একবার ও আবরারকে বলেনি তাড়াতাড়ি খাও। উল্টো বলেছে "আস্তে আস্তে সবগুলো খান। খুদা নিয়ে কাজ করতে নেই"। প্রতিউত্তর শুনার প্রয়োজন মনে করলো না আবার ব্যাস্ত হলো ফোনের কথায়। কারো সাথে রেগে তো করো সাথে উচ্চ গলায়। আবরার ভাবে এই রূপ আরোশি তার উপর কখনো দেখায়নি। এমনি দুষ্টামি করে জোরে কথা বলে মাঝে মাঝে। কি তেজ, এই তেজী মেয়েটা তার বউ, তার একান্তই ব্যাক্তিগত সম্পদ, তার অবাধ্য নারী, তার পাগল প্রেমিকা। তার সুখেসিনী, তার তেজোত্তি, তার কেসিরি, তার অর্ধাঙ্গিন্নি, তার বুকের পাঁজরের হাড় দিয়ে তৈরি, তার স্ত্রী। ভাবা যায়!
আরোশি: কি ভাবছেন না খেয়ে? আমাকে কি দেখেন?
আবরার: খাওয়া শেষ। আর খাবো না। তুমি খেলে না?
আরোশি: ঠিক আছে আর খেতে হবে না। নিন এখন জলদি করে একটা চুমু দিন।
আবরার: তুমি খেলে না?
আরোশি: চুমু দিন।
আবরার: আরোশি চৌধুরী.... আমি কিছু জিজ্ঞাস করেছি!
আরোশি: আমিও কিছু দিতে বলছি।
আবরার আরোশির দুইগাল ধরে টেনে নিজের কাছে এনে বললো
আবরার: নি*র্লজ্জপানা করবে না একদম। খেতে ফেলবো।
আরোশি: কিস কিস (ঠোট ফুলিয়ে)
আবরার: আমি কিন্তু বলেছি মুখ এমন না করতে। খেয়ে ফেলবো।
আরোশি: আরে দিন না। কাজ আছে যেতে হবে।
আবরার: বাসায় কখন আসবা?
আরোশি: রাত হবে।
আবরার: কত রাত?
আরোশি: জানি না ঠিক। তবে দেড়টা দুইটা বাজবে।
আবরার কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকে আরোশির দিকে তারপর আরোশির কপালে দীর্ঘ চু*মু খায়। আবেগে আরোশি চোখ বন্ধ করে আছে। তারপর আরোশির গালে টুপ টুপ করে কয়েকটা চু*মু খায়। তারপর ঘাড় কাত করে গলায় মুখ ডুবায়। সেইখানে su€k করতে থাকে। ক্ষণিকের মধ্যেই আরোশি এর গলার এক সাইড পুরোটা জাগায় জাগায় লাল হয়ে গেল। আর আরেক সাইডে তো আছেই আগের কাম*ড়ের দাগ। আরোশি বার বার আবরার এর স্পর্শে কেঁপে উঠছে। আরোশি এর এই কাপাকাপি আবরারকে পাগল করে দিচ্ছে। কিন্তু সে নিজেকে সামলে আরোশির কানের লতিতে চু*মু খেতে খেতে ফিসফিস করে বললো।
আবরার: তাড়াতাড়ি চলে এসো।
॥
আরোশি নেত্রীও সভার কাজ শেষ করে। রাজু ভাইয়ের সাথে দেখা করে চলে গেলো বোর্ড মিটিং এ। যেইটা শেষ হলো একটু আগে। এখন বাজে সাতটা। এখন আবার যাবে অফিস এ সেইখান থেকে কিছু ফাইল চেক করে সোজা যাবে ব্যাংকক। একটু পরেই ফ্লাইট। কাজ শেষ করে সাথে সাথে চলে আসবে।
~~~~~~
এখন বাখে নয়টা,
আবরার নিচের থেকে খাওয়া দাওয়া করে। সবার সাথে গল্প করে নিজের রুমে আসলো একটু আগে। গল্প করেছে বললে ভুল। আবরার কে আগে থেকেই ফ্যামিলি আড্ডায় পাওয়া যায় না। আজ আড্ডায় থাকার দুটো কারণ এক আজমুল জিতেছেন সেই উছিলায় একটা পার্টি দিবেন পরশু। সেই বিষয় নিয়ে ছেলে সহ বাকিদের সাথে পরামর্শ করলেন। আর আরেকটা কারণ রুমে আরোশি নেই তাই রুমে ভালো লাগে না।
আবরার আরোশিকে ফোন লাগায় কিন্তু নম্বর বন্ধ বলছে। আবরার বুজলো না কারণ। আলিফ কে ফোন লাগালেও একই অবস্থা। তাই ফোন রেখে চুপচাপ শুয়ে থাকে। কিন্তু মন। ওইটা তো চুপ হওয়ার নামই নিচ্ছে না। এরকম ছটপট করতে করতে একটা সময় আবরার ঘুমিয়ে যায়। রাত সাড়ে তিনটায় এসে পৌঁছায় আরোশি। রুমে যেয়ে ফ্রেশ হতে যায় আগে। ফ্রেশ হয়ে এসে আবরার কে কিছুক্ষন দেখে আর মনে মনে বলে
আরোশি: ছেলের উচিত মেয়ের দিকে হা করে তাকিয়ে থাকা। অথচ আমি উল্টো আপনার দিকে হা করে তাকিয়ে থাকি।
এইটা বলে আরোশি মুচকি হাসলো। আজ আবরার এর বুকে ঘুমাতে পারবে ভেবে আরো খুশি হয়ে যায়। আরোশি আবরার এর বুকে ঘুমাতে চায়। কিন্তু এই মানুষটার বুকে তার তো জায়গা হয়েই না উল্টো তার বুকে আর গলায় মানুষ টা নিজের জায়গা খুঁজে। আরোশি আবরার এর বুকে মাথা দিয়ে শুয়ে পড়লো। আহ কি শান্তি।
_________________________________
সকালে আবরার ঘুম থেকে উঠে দেখে আরোশি নেই পাশে। বেশি কিছু না ভেবে ওয়াশরুম এ যায় ফ্রেশ হয়ে নিচে এসে দেখে সবাই নাস্তা করতে বসলো মাত্র I আবরারও যেয়ে বসলো আরোশির পাশে। একটু পর লিলি এসে আবরার এর পাশে বসলো। আবরার তাকিয়ে একটা মুচকি হাসলো শুধু। তারপর লিলি আর আবরার কথা বলতে শুরু করলো। কথায় কথায় লিলি হাসতে হাসতে বার বার আবরার এর উপর পড়ছে। কিন্তু এই সব কিছু তীক্ষ্ম নজরে একজন পর্যবেক্ষণ করছে। কে আবার ? আমাদের আরোশি।
লিলি: আজ কি তুই ফ্রী আছিস?
আবরার: কেনো?
লিলি: শপিং এ যাবো।
আবরার: umm যাওয়া যায়। কাজ নেই বেশি। ঠিক আছে।
লিলি: সত্যি। ঠিক আছে তাহলে আজ আমরা অনেক ঘুরবো।
আজমুল: আরোশি কে'ও নিয়ে যাও।
আবরার: আরে ও কেন যাবে আমি আমার ফ্রেন্ড এর সাথে সময় কাটাতে চাই। এত দিন পর আসছে।
আরোশি: বড় আব্বু আমি যেতে চাই না। আমি অন্যের মত এত আজাইরা না। আমার কাজ আছে।
আরোশি যাকে লাগিয়ে কথা টা বলেছে তার ঠিক লেগে যায় কথা টা।
আজমুল: রিফার জন্য ছেলে দেখা হয়েছে আমার। একজন কে আমার মনে ধরেছে।
আরোশি: তাহলে তুমি বিয়ে করে ফেলো। (হেসে)
আজমুল: পাজী মেয়ে মাইর খাবি।
রিফা: আমি বিয়ে করবো না এখন।
আরোশি: তাহলে নেশা খোড়ের সাথে ফুর্তি করবা?
রোশনারা: মুখ সামলে কথা বল আরোশি।
আরোশি: এই নিয়ম নাহয় তোমার শাশুড়ির থেকে শুরু করা যাক।
জেসিয়া: আমি তোরে কিছু কইছি সেরি? আর ওয় তুই এহনি মাইয়া বিদায় দিবার পাগল কেন হইছিস? মাইয়া কি ভাইগা জায়গা?
আরোশি: ভেগে যেতে কতখন?
জেসিয়া: তুই হইলো আসল শয়তান।
আরোশি: সবাই কে নিজের মতো ভাবা উচিত না বুড়ি।
কুমকুম: আরোশি বেশি ব----
আজমুল: এত কথা না। বিয়ে হবে মানে হবে। (বলে চলে গেলো)
কুমকুম: সব আরোশি তোর জন্য হচ্ছে। তুই ম*র আমরা বাঁচি।
আরোশি: ঠিক আছে।
বলে আরোশিও চলে গেলো। সবাই আরোশি এর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে অবাক হয়ে। যেই মেয়ে কথা মাটিতে ফেলে না সে এই কথা তে তক্কো না করেই চলে গেলো! আবরার এর বিষয় টা কেমন যেনো লাগছে। মনে হচ্ছে আরোশি কিছু করবে নিজের সাথে। যদি আরোশি এর বলা "ঠিক আছে" কথা টা তার ভাবনার রূপ নেয় তাহলে আবরার শেষ। সে ভালোবাসে না কিন্তু বউ তো। যতই হোক বিয়ে তো হয়েছে। ভালো না বাসলেও বউ চাই। এইটা ছাড়া যাবে না। সে মারবে আবার সেই আদর করবে কিন্তু ছাড়া--
আবরার: না না কখনো না। কিসের আবার ছাড়া। কিন্তু ভালোবাসি না। হাহ্। (বিড়বিড় করে)
লিলি: কি বিড়বিড় করছিস!
আবরার: কিছু না তুই বিকেলে রেডি থাকিস আমি এসে নিয়ে যাবো।
লিলি: ঠিক আছে। (মুচকি হেসে)
॥
অফিসে,,,,
আরোশি: তুমি যাও মিটিং এর ব্যাবস্থা করো আমি আসছি।
আলিফ: জ্বী mam। (চলে যায়)
আরোশি চোখ বন্ধ করে চেয়ারে হেলান দিয়ে রইলো । এখন পর্যন্ত কিছু খায়নি আরোশি। আবরার কে ওই মেসেজ দেওয়ার পর খাবার মুখে তুলেনি আরোশি। কথা রেখেছে। খাবে না মানে খাবে না। কিন্তু এখন শরীল টা অনেক খারাপ লাগছে আরোশি এর মাথা ঘুরাচ্ছে, গা গুলিয়ে আসছে, কেমন যেনো লাগছে, তখনই কেউ আরোশির ক্যাবিনে ডুকে। আরোশি চোখ না খুলেই বলে।
আরোশি: knock করে আসতে হয়। জানা নেই?
লিলি: তাই?
এইবার আরোশি তাকিয়ে দেখে লিলি দাড়িয়ে আছে পরনে baby pink কালার ড্রেস। আরোশি লিলির দিকে কিছুক্ষন বিরক্তি নিয়ে তাকিয়ে রইল। তারপর শান্ত সুরে বললো
আরোশি: চাকরি করতে আসছো বাচ্চা?
লিলি অপমান হলো কিন্তু হাল না ছেড়ে আরোশি এর নিকট গিয়ে বললো।
চলবে,,,,,