ফন্ট সাইজ:
থিম:
এক হৃদয় হরনীর আসক্তি

২৭তম পর্ব

লেখক: সাফা মারওয়া

#হৃদয়হরণীর_আসক্তি

#পর্বঃ২৭

লেখিকা: #সাফা_মারওয়া

আরোশি: চাকরি করতে আসছো বাচ্চা?

লিলি অপমান হলো কিন্তু হাল না ছেড়ে আরোশি এর নিকট গিয়ে বললো।

লিলি: এই বাচ্চা একদিন তোমার থেকে তোমার আবরার রিয়াদ কে কেরে নিবে।

আরোশি: হা হা হা হা হা

হটাৎ আরোশির ঘর কাঁপানো হাসির মানে বুজলো না লিলি কিন্তু হাসির দরণ টা কেমন যেনো লাগছে লিলির কাছে। নিজেকে সামলিয়ে বললো।

লিলি: হাসছো কেন? আমি কি joke বলেছি?

আরোশি: তুমি নিজেহ তো joke। দেখলেহ হাসি পায়। আর আমার আবরার বলছো আবার কেরে ও নিতে চাচ্ছ! আচ্ছা আমার আবরার রিয়াদ যেহেতু বলেছ তাহলে তোমাকে একটা কথা বলে দেই।

আরোশি উঠে দাঁড়িয়ে লিলির কাছে দাঁড়ায়। মুখোমুখি হয়ে বলে

আরোশি: এত সোজা? এত যুদ্ধ করে হাসিল করেছি ছেড়ে দাওয়ার জন্য? আমার জিনিস কিভাবে আমার করে রাখতে হয় তা এই আরোশি চৌধুরী জানে। Mine means mine,,,, Understand barbie girl ?

লিলি: আবরার কোনো জিনিস না বে*য়া*দব মেয়ে। (রেগে)

আরোশি: তুই বলার কে? র*ক্ষি*তা?

লিলি: আরোশি মুখ সামলে কথা বলো নয়তো ভালো হবে না।

লিলি রেগে চিল্লিয়ে বলে। রাগে হাত পা কাপছে লিলির। আরোশি সেইটা দেখে হালকা হেসে লিলির চারপাশ ঘুরতে ঘুরতে গেয়ে উঠে

আরোশি: দেখি এক রূপবতী নারী। তার নাম দিলাম আধারী। কারণ সে আলো দেখেনি বহুদিন তার স্বপ্ন সে এভাবে হয়ে যাবে বিলীন।

লিলি ঠাই দাড়িয়ে আরোশির কাণ্ড দেখছে। বুজতে পারছে না হটাৎ গান গাওয়ার কারণ। আরোশি আবারো লিলির সামনে দাড়িয়ে বলে

আরোশি: এই আধারীর মানে জানো তো বার্বি গার্ল?

লিলি এইবার বুজতে পারে। নিজেকে আর সামলাতে না পেরে রেগে আরোশি কে থাপ্পড় মারতে গেলে আরোশি লিলির হাত ধরে ফেলে আর পিছন দিয়ে চুলের মুটি ধরে। ঠিক তখনই আবরার ক্যাবিনে ডুকে। আসলে চৌধুরী empire আর earth empire (আরোশির কোম্পানির নাম) একসাথে কাজ করছে তাই একই কোম্পানি তে দুইজন। আবরার লিলি আর আরোশি কে এইভাবে দেখে স্তব্ধ হয়ে যায়। লিলি আবরার কে দেখে কেঁদে দেয় আর বলতে থাকে

লিলি: আবরার দেক আমাকে মে*রে ফেলবে আরোশি।

আরোশি বিরক্তি নিয়ে লিলিকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দেয়। লিলি নিচে পড়ে যায়। আবরার দৌড়ে লিলি কে ধরে। আরোশি টেবিলের উপর উঠে বসে পা ঝুলিয়ে ঝুলিয়ে ওদের কান্ড দেখছে।

আবরার: কি হয়েছে! ও তোকে মারছিল কেন?

লিলি: আবরার

আবরার: বল আমায় কি হয়েছে?

লিলি: তুই কি আমায় বিশ্বাস করবি?

আবরার: অবশ্যই করবো তুই বল।

লিলি: আমি তোর সাথে যাবো তাই ভাবলাম তোকে আর কষ্ট করে বাড়িতে যেতে হবে না আমাকে নিতে, আমিই অফিস এ আসি। এসে শুনি তুই মিটিং এ। তাই ভাবলাম আরোশির সাথে দেখা করি। আমি আর কাকেই বা চিনি এই অফিস এ। কিন্তু--- (কান্না করে)

আবরার: কান্না করিস না। বল আমায়।

লিলি: আমি আরোশির সাথে দেখা করতে আসলে আরোশি আমায় বলে আমি এইখানে কি করছি। যখন বলেছি আবরার এর সাথে দেখা করতে এসেছি তখন আমায় বলে কেন তুই কি আবরার এর--- ( কান্না করে দেয়)

আবরার: বল থামকি কেনো?

লিলি: নোং*রা শব্দ বের হচ্ছে না মুখ দিয়ে।

আরোশি: হায়রে মিথ্যুক কোথাকার তুই নিজেই তো নোং*রা। নোং*রা শব্দ বললে কিছু হবে না। বল বল

আবরার: আরোশি এইসব কি অস*ভ্যতা? বে*য়াদব মেয়ে। লিলি বল আমি এর বিচার করবো। বল তুই।

লিলি: আমি নাকি তোর র*ক্ষি*তা

আবরার: কিহ্ !! (অবাক হয়ে)

আবরার এর রাগে শরীল কাঁপছে। আগে পড়ে না ভেবে রাগের মাথায় উঠে আরোশির কাছে যেয়ে ঠাস করে দুটো চ*র মারে তাও আবার এক গালেই। চরে*র তীব্রতায় আরোশি ছিটকে নিচে পড়ে টেবিলের সাথে লেগে হাতে অনেক জোরে বারি খায়। ঘটনা টা এত দ্রুত হয় যে আরোশি বাদগম্য হারিয়ে ফেলে কি প্রক্রিয়া করবে বুঝতে পারছে না। আবরার এখনও রাগে কাঁপছে।

আবরার: ছি আরোশি ছি আমার অনেক অনেক ঘৃণা লাগছে এইটা ভেবে তুই আমার স্ত্রী। এত নিচু তুই? তুই একটা মেয়ে হয়ে আরেকটা নির্দোষ মেয়ে কে এইসব বলিস কি করে? তোর মুখে বাঁধে না? ও কি জন্য এসেছে বলার পর ও ওই শব্দ টা তুই ওর ক্ষেত্রে ব্যাবহার করলি কি করে? আরে র*ক্ষি*তা লিলি না বরং তুই। এই রাজনীতিতে তুই এত উপরে উঠে এত attitude নিয়ে চলিস কি করে? নিশ্চই আরেকজনের র*ক্ষি*তা হয়ে। নিজের পরিচয় অন্যকে কেনো দিচ্ছিস বল? (চিল্লিয়ে)

আরোশি পুরো চুপ হয়ে যায়। কোনো কথা বের হয় না মুখ দিয়ে। কি বলছে তার মন্ত্রী সাহেব তাকে? র*ক্ষি*তা! কিন্তু তার কি দোষ? সে তো লিলি কে র*ক্ষি*তা এই জন্য বলেছিল কারণ লিলি জেনে শুনে একজন বিবাহিত পুরুষ কে নিজের করে চাচ্ছে। কত খারাপ। নিজের করে চাওয়ার এই নজর টাকে সমাজ তো এই নামই দিবে। আরোশির চোখে পানি টলটল করছে। তাকে কাদাতে এই ছেলে টা খুব ভালোবাসে হয়তো। এই আরোশি সবার সামনে কত কঠোর কিন্তু প্রিয় মানুষ টার একটু কটু কথা সে সহ্য করতে পারে না। আচ্ছা এইটা কি আসলেই একটু কটু কথা ছিল! তার প্রিয় বলতে এই মানুষ টাই। আর কেউ না। সবাই কে শেষ করে দিতে পারবে আরোশি এই মানুষ টার জন্য। প্রয়োজনে হাসতে হাসতে নিজেকে ও শেষ করে দিবে। এই মানুষ ট তার দুর্বলতা। সবাই জানে কিন্তু কেউ আঘাত করতে পারেনি আজ পর্যন্ত। করতে চাইনি আঘাত বিষয় টা এমন না। করতে চেয়েছে কিন্তু বিজনেস হোক বা রাজনীতি হোক সব শত্রু আরোশি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। আবরার পর্যন্ত আসতে দেয়নি আরোশি। আর আবরার এর ও যথেষ্ট পাওয়ার আছে বিজনেস এ। এত সহজ নাকি আঘাত করা? কিন্তু আবরার আরোশিকে কখনো বুঝে না। কি মনে করে আরোশি কে! কে জানে।

আবরার: আমি ছেড়ে দিবো তোকে দেখিস তুই। তোর মত মেয়ে আমার চাইনা। লিলি চল তো ওর মুখ দেখতেও ইচ্ছে করছে না। আর তুই নেক্সট টাইম আমার আর লিলির সম্পর্কে এইসব বললে তোর জাগায় লিলি কে বসাবো। ফা*জিল মেয়ে। বাজারের মে*য়ে হয়ে গেছিস তুই। হায়া নেই ল*জ্জা নেই। যাকে তাকে যা মন চায় বলিস। দিন দিন pro***t*te হয়ে যাচ্ছিস।

লিলি in mind: আমি তো ওর জাগায় বসবোই। হাহ্ (বাকা হেসে)

হটাৎ আবরার এর চোখ পড়ে আরোশি এর চোখে। এতক্ষন আরোশি নিচ দিকে তাকিয়ে ছিল কিন্তু এখন আবরার এর দিকে চোখ তুলে তাকায়। এইবার আবরার এর হুশ ফিরলো। এতক্ষন রাগে কি সব বলছিল মনে আসতে লাগলো। আবরার দেখে আরোশির চোখে পানি টলটল করছে যেকোনো সময় পরে যাবে। ওই পানি পড়লে আবরার আর নিজেকে সামলাতে পারবে না আবরার জানে। সে আরোশির চোখের পানি সহ্য করতে পারে না। কিন্তু প্রতিবার যে সে নিজেই কারণ হয় এই চোখের পানির। এই চোখের পানি তার বুকে যেই ব্যাথা দেয় সেই ব্যাথায় নির্ঘাত একদিন সে মা*রা যাবে। আরোশির থেকে চোখ সরিয়ে ফেলে আবরার। তারপর লিলিকে নিয়ে বের হয়ে যায়। আরোশি কিছুক্ষন চুপ করে চোঁখ বন্ধ করে বসে রইলো। মাথা টা ঘুরছে। এক না খাওয়ায় আবার কাল রাতে দেরী করে বাড়ি ফেরায় পর্যাত্ত পরিমাণ ঘুম হয়নি, আবার এখন দুইটা থা*প্পড় সাথে কথা তো আছেই। কেমন যেনো গা গুলিয়ে আসছে। দাঁড়িয়েছে ঠিকই কিন্তু বাথরুম এ দূর্বলে দৌড়ে যেতে পারলো না আরোশি। কিছু না খাওয়াতে শুধু পানি পড়ছে বমিতে। কিছুক্ষন 'ওয়াক থু' করে আরোশি বড্ড ক্লান্ত। চেয়ারে বসে ফোনে আলিফকে আসতে বললো।

॥

আবরার মাত্র লিলি কে নিয়ে বাসায় এসে সোফায় বসেছে। বার বার আরোশির কান্না মাখা মুখ টা ভেসে উঠছিল চোখে। মরিয়ম শরবত এনে লিলি আর ওকে দেয়। লিলি গল্প করছে আর সবাই কে ওর আনা এইটা সেইটা দেখাচ্ছে। আবরার চুপ করে বসে আছে ঠিক তখনই সদর দরজা দিয়ে আলিফ আরোশি কে ধরে ডুকে। আরোশির চোখ বন্ধ। অনেক খারাপ আরোশির শরীল। ঠিক করে হাঁটতে পর্যন্ত পারছিল না। আবরার আরোশির এই অবস্থা দেখে কেপে উঠে। একটু আগে ও না ভালো রেখে আসলো! কী হলো হটাৎ? আবরার উঠে যায় ওদের কাছে। সবাই তাকিয়ে আছে এইদিকে।

আবরার: কি হয়েছে ওর। (অস্থির হয়ে)

আলিফ: কই কিছুই তো হয়নি। mam তো নাচতেসে।

আবরার: কিহঃ? পাগল হয়ে গিয়েছ?

আলিফ: আপনি তো দেখতেই পারছেন mam এর শরীল ভালো না তারপর ও জিজ্ঞাস করার মানে কি?

এই বলে আরোশিকে নিয়ে যেতে লাগল। কিন্তু আবরার তার আগেই কোলে তুলে নিলো আরোশিকে।

আলিফ: আরে sir কি করছেন?

আবরার: নাচতেসি। যাও ডক্টর কে কল করো ইডিয়েট।

আলিফ: জি স্যার।

আবরার রুমে নিয়ে আরোশি কে শুয়ে দেয়। পাশে বসে কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকে তারপর আরোশির হাত টা ধরে কপালে একটা চুমু খায়।

আবরার: আজ কি বেশি বলে ফেলেছি? তুমি এমন করো কেন? কেন এইসব বলো আরেকজন কে? সামনের মানুষ টা যে কষ্ট পায় তুমি বুঝো না? আরেক জনকে কষ্ট দাওয়া তোমার প্যাসন হয়ে গিয়েছে? লিলি আমাদের গেস্ট, আসছে আমাদের বাসায় তাকে কি এইসব বলা ঠিক? কিন্তু তোমায় বুঝানো কার স্বার্থ। তুমি যেমন ওই শব্দটা নিজের ক্ষেত্রে শুনে কষ্ট পেয়েছো লিলি ও পেয়েছে। ওর দোষ কি ছিল! আমার সাথে ঘুরতে যাওয়ার জন্য দেখা করতে যাওয়া নাকি তখন তোমার কেবিনে যাওয়া?

এইসব বলে আবরার একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে। তখন দরজায় নক করে কেউ। আবরার তাকিয়ে দেখে একজন ইয়াং ছেলে ডক্টর। আবরার এর মেজাজ খারাপ হয়ে যায় । ডক্টর এর কি অভাব যে আলিফ ইয়াং একজন ডক্টর নিয়ে আসছে! তার বউ কে দেখতে আসছে হাহ্। কিন্তু মুখে কিছু বললো না আবরার। আরোশির ট্রিটমেন্ট প্রয়োজন এখন তাই চুপচাপ সরে দাড়ায়।

Reyan: hi i am D. reyan (হাত বাড়িয়ে দেয়)

আবরার: nice to meet you। আমি আবরার রিয়াদ চৌধুরী (হাত মিলিয়ে)

Reyan: একটু বাইরে যান প্লীজ।

আবরার: আপনি treatment করুন আমি তো ডিস্টার্ব করছি না। (Cold voice)

Reyan: আমার প্রবলেম হচ্ছে প্লীজ।

একটু হেসে reyan কথা টা বলে। নিহাদ ও চলে আসে খবর শুনে। এতক্ষন রুমের দরজার সামনে ছিল reyan এর এই কথা শুনে আবরারকে টেনে নিয়ে যায় বাহিরে। আবরার যাওয়ার পর reyan কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকে আরোশির দিকে তারপর কাছে যেয়ে treatment করা শুরু করে।

রুমের বাহিরে,,,,,

আবরার: আরে আজব আমায় আনলি কেন? আমি আমার বউয়ের কাছে থাকবো। ও আমাকে বলার কে?

নিহাদ: তুই রাগছিস কেন? ও সামান্য ডক্টর যে আরোশি কে ট্রিটমেন্ট করতে এসেছে।

আবরার: তাহলে আমাকেই আমার রুম থেকে বের করলো কেন? রুম আমার, সব আমার, বউ আমার।

নিহাদ: এত জলিস কেন? কষ্ট দেয়ার সময় মনে থাকে না আমার ব- না মানে তোর বউ। বল কি করেছিস ওর সাথে? ওর এই অবস্থা হলো কি করে? এত প্রেসার দেস কেন ওকে?

আবরার: তাকে প্রেসার দিতে হয় না। সে নিজেই প্রেসার কাধে নিয়ে বসে থাকে। অবাধ্য নারী।

নিহাদ: তোর।

আবরার: জানি।

॥

নিহাদ: কি হয়েছে আরোশির? কয়েক দিন পর পর শুধু অসুস্থ হয়ে যায়।

Reyan: উনি খাওয়া দাওয়া করে না ঠিক মত। আমার মনে হয় সম্ভবত 2/1 দিন না খেয়ে থাকার কারণে এমন সমস্যা দেখা গিয়েছে। এক খায়নি দুই মাথায় প্রেসার নিয়েছে অনেক। দেখুন ওর বয়স টা খুব কম এই বয়সে মাথায় এত প্রেসার নিলে ব্রেইন স্ট্রোক করবে। খেয়াল রাখবেন। আসি।

নিহাদ: দুই দিন খায়নি! কিন্তু কেন?

Rayen: উনার হাসব্যান্ড কেই জিজ্ঞেস করেন। মারলে বউ থাকবে না। গালে তো আঙুল এর চিহ্ন বসিয়ে দিয়েছে। (বিড়বিড় করে)

এইটা বলতে যেয়ে Reyan এর গলা টা গম্ভীর শোনা গেলো। বিড়বিড় করে বললে ও নিহাদ তার অনেক টা কাছে দাড়িয়ে থাকার কারণে শুনতে পায়। নিহাদ কিছুক্ষন তাকিয়ে রইল reyan এর দিকে তারপর কিছু একটা বুঝে বাকা হেসে আবরারকে বললো

নিহাদ: আবরার আমি গেলাম। আরোশির খেয়াল রাখিস। বকিস না। আসুন D.reyan আপনায় এগিয়ে দেই। থাক আবরার।

আবরার: হম।

নিহাদ চলে গেলে আবরার এর মনে পড়ে সেইদিন আরোশির দাওয়া মেসেজ এর কথা। এইটা তো তার মাথা থেকে বেরই হয়ে গিয়েছিল। সে ভুলে গিয়েছিল তার অবাধ্য নারী কত টা জিদ্দি আর অবাধ্য। আবরার রুমে যেয়ে আরোশির কাছে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে যেয়ে খেয়াল করে আরোশির গাল ফুলে পাঁচ আঙুলের দাগ বসে গিয়েছে। লাল টকটকে হয়ে ফেটে গিয়েছে এমন লাগছে। কেউ মুখের দিকে তাকালে গালে আগে চোখ যাবে এমন অবস্থা। আবরার এর খারাপ লাগে। বুকের বা পাশে আবারো অসহনীয় ব্যাথা অনুভব করছে। আসলে আবরার তখন ওর আর লিলির সুন্দর সম্পর্কের ওই নাম শুনে নিজেকে সামলাতে পারেনি। রাগে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে যা মুখে আসছে বলেছে। মাইর টা যে এত জোরে লাগবে আবরার বুঝে সারতে পারেনি।

আবরার: sorry সুখেসিনী। আমি বুঝতে পারিনি আমার ঐরকম রিয়‍্যাক্ট এইরকম পরিস্থিতি দাড়া করাবে।

আর কিছু বলল না আবরার। গলা ধরে আসছে। আবরার নিজের বুকে হাত বুলিয়ে চোখ বন্ধ করে নিজের কপাল আরোশির গালের সাথে লাগিয়ে রাখলো। টপ টপ করে আবরার এর চোখের পানি পড়ছে আরোশির গালে। ইনজেকশন এর কারণে হুশ নেই থাকলে হয়তো জেগে যেত আরোশি। অনেকক্ষণ পর আবরার উঠে চোখ মুছে ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে এসে শুয়ে পড়ে আরোশির সাথে। বউ উঠলে এক সাথে খাবে। দরকার পড়লে আজ বউ কেউ বাইরে নিয়ে যাবে। আরোশির সাথে শুলেও ওকে নিজের বুকে নেয়না বরং উল্টো নিজে আরোশির গলায় মুখ ডুবিয়ে জড়িয়ে ধরে ঘুমায়।

_________________

হটাৎ ঘুম ভেংগে গেলে পাশে তাকিয়ে দেখে আরোশি নেই। গেলো কোথায় তার বউ এই অসুস্থ শরীল নিয়ে। তাড়াতাড়ি উঠে বাইরে খুঁজতে যায়। বাইরে বাগান এর দিকে সাজানো হয়েছে পার্টির জন্য। আবরার কে দেখে রোশনারা বলে

রোশনারা: ঘুরছিস কেন? যা তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নিচে আয়।

আবরার: আগে বউ খুঁজে নেই।

চলবে,,,,,,,

(বেশি বেশি কমেন্ট করো সবাই 🖤)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৭তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন