ফন্ট সাইজ:
থিম:
এক হৃদয় হরনীর আসক্তি

৩২তম পর্ব

লেখক: সাফা মারওয়া

#হৃদয়হরণীর_আসক্তি

#পর্বঃ৩২

লেখিকা: #সাফা_মারওয়া

আবরার: মাইর খেতে চাস সবার সামনে?

Asif: আরে না না। কিযে বলিস বন্ধু। এইসব তো খুব পার্সোনাল। সবার সামনে খাওয়া যায় না।

আসিফ এর কোথায় লিলি আর আবরার বাদে বাকিরা হেসে দেয়। আবরার বিরক্ত শ্বাস ফেলে আসে পাশে তাকায়।

॥

এক ঘন্টা পর আরোশি মিটিং শেষ করে আসে। আবরার এর পাশের চেয়ারে বসতে বসতে বলে

আরোশি: সরি এতক্ষন অপেক্ষা করানোর জন্য।

আরোশি বলতে বলতে আবরার পাশে বসলো। শেষ, আবরার শান্ত। কলিজা ঠান্ডা, মন ঠান্ডা, আশপাশ ঠান্ডা, মন টাকে ফুরফুরা মন লাগছে এখন তার কাছে। কিন্তু এর কারণ যে এই অবাধ্য নারী সে এইটা কখনোই প্রকাশ্যে মানবে না।

একটু পর লিয়া নামের মেয়ে টা আবার এসে বাকি খাবার গুলো ও দিয়ে যায়। এক'ই ভাবে এইবার ও নিহাদ ড্যাপ ড্যাপ করে তাকিয়ে থাকে যা আরোশি লক্ষ করেছে।

আরোশি: ভালো লেগেছে? (গম্ভীর সুরে)

নিহাদ কিছু বলার আগেই আবরার বলে

আবরার: হম। ওর নাকি ভালো লেগেছে মেয়ে টাকে।(খেতে খেতে)

আরোশি: আমি খাবারের কথা বলছি। (কথা গুড়িয়ে)

আবরার: ওহ

নিহাদ: এতক্ষন তো মরা মুরগি হয়ে ছিলি হটা----

আবরার: চুপচাপ খা বার বার এক কথা টানবি না।

আবরার এইটা বলে আরোশির দিকে তাকিয়ে দেখে আরোশি ও তাকিয়ে আছে ওর দিকে।

আবরার: তাকিয়ে আছো কেন? (আরোশির প্লেটে আরো খাবার দিতে দিতে)

আরোশি: আপনি ছাড়া যে আমার আর কিছু দেখতে ভালো লাগে না।

আবরার: ভালো।

নিহাদ: তোরা বিড়বিড় করা বন্ধ কর। আমরা সিঙ্গেল

আবরার: মিঙ্গেল হ। কে ধরে রাখছে?

নিহাদ: ততবার ভাগ্য তো আর তোর মত সুস্বাদু না।

আবরার: মানে?

নিহাদ কিছু বলবে তার আগেই আরোশি বলে

আরোশি: খাবার দিলেন কেন আমার প্লেটে?

আবরার: খাও খাও। ডক্টর বলেছেন বেশি বেশি খাওয়া প্রয়োজন তোমার। বাসায় তো ঠিক মত থাকো না তাই এখন পেয়েছি তোমায়। (আরো খাবার দিতে যায়)

আরোশি: আর একটু খালি দেন আমি চলে যাবো।

আবরার থেমে যায়। চামুচ রেখে বলে

আবরার: আরে তোমাকে দিতাম নাকি! আমি নিচ্ছিলাম নিজের জন্য।

আরোশি উত্তরে কিছু বলে না। লিলি এইসব দেখে মুখ বাঁকিয়ে আস্তে করে বলে

লিলি: যত্তোসব।

আরোশি: আরে Barbie ? তুমি ও দেখি চলে এসেছো পিছন পিছন মাছির মত

আনান হেসে দেয় আরোশির কথা শুনে। ওরা জানে আরোশি আগেই লক্ষ্য করেছে লিলি কে। এখন লিলি "যত্তসব" বলে আগে খোচা মারলো তাই আরোশি এই কথা বললো। আনান বলে

আনান: বাহ তুমি ওকে barbie বলে ডাকো!

আরোশি: হম। যে যেইটা তাকে তো ওইটা বলেই ডাকবো।

কথা টা কি ইঙ্গিতে বলেছে এইটা আর কেউ না বুজলে ও আবরার আর লিলি বুঝে। সাথে সাথে আবরার এর মাথায় আসে "র*ক্ষি*তা" শব্দ টা। আরোশি যে এইটা মিন করে বলেছে এইটা আবরার জানে।

আবরার: আরোশি আবার শুরু করেছিস!!! (রাগী সুরে)

আবির: কেন ডাকো এই নামে! ওর তো নাম আছেই লিলি। আমার জানা মতে আরোশি এত আজাইরা না যে অন্যজন কে এইটা সেইটা নাম দিবে। তার চেয়ে বরং তুমি আমাকে ভালোবেসে কোনো নাম দিতে পারো। ( চোখ টিপ দিয়ে)

আরোশি: ছেহ্! তোমাকে ভালোবাসি না যে নাম দিব। আর ওকে ভালবাসি কে বললো?

আবির: তো ওইনামে ডাকো কেন?

আবরার: চুপচাপ খা। এত শুনতে হবে কেন। আর আরোশি চুপ কর। থাপ্পড় খাইতে চাচ্ছিস?

নিহাদ: তুই এমন করিস কেন? তোর কথা বলতে ভালো না লাগলে চুপ করে থাক।

আবরার: কেন তোর গায়ে লাগে?

নিহাদ: আশ্চর্য বিহেভ করছিস তুই। হম লাগে। অনেক লাগে গায়ে।

আবরার: কেন কি সম্পর্ক তোর ওর সাথে?

নিহাদ: অনেক গভীর সম্পর্ক।

আবরার রেগে যায় এইটা শুনে। ইদানিং কিছু মনের মত না হলেই আবরার এর মাথা গরম হয়ে যায়। এই অবাধ্য নারীর জন্য তার সব কিছু অবাধ্য হচ্ছে। তার অবাধ্য জিনিষ ছোট থেকেই পছন্দ না কিন্তু এই "অবাধ্য"ই তাকে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরেছে। আবরার যেই কিছু বলতে যাবে তার আগেই আরোশি গলা খাঁকারি দিয়ে বলে।

আরোশি: ও বার্বির মত দেখতে তাই barbie বলি।

লিলি: হাহ্! তারমানে তুমি বলতে চাচ্ছো আমি সুন্দর।

আরোশি: হা হা হা হা omg look who is talking about beauty... তুমি সুন্দর এইজন্য barbie বলি না sweetie তুমি প্লাস্টিকের মত তাই barbie। ওরাও তো পাস্টিকের হয়।

আবরার: আরোশি এইবার কিন্তু বেশি হচ্ছে।

আরোশি: বেশি কোথায় হলো? এখনো তো বা*সর করিনি।

লিলি: আমি বাড়ি যাবো আবরার.

আবরার: তোর কি শরীল খারাপ লাগছে? কোনো সমস্যা হচ্ছে?

লিলি: সমস্যা না হলে কি বাড়ি যাওয়া যাবে না? আরোশি আমাকে হেনস্তা করছে। সবার সামনে অপমান করছে। তুই তো চুপটি করে বসে আছিস। ভয়ে বলতে পারিস না কিছু বউকে।

আবরার: আশ্চর্য ভয় পাবো কেন? আচ্ছা চল বাড়ী চল। (উঠে দাড়ায়)

নিহাদ: তোর মনে হয়না তুই এই মূহুর্ত টা নষ্ট করছিস? এত সিরিয়াস হওয়ার কি আছে? আমরা সবাই কম বেশি সমবয়সী এইখানে। একটু মজা করে এইটা সেইটা বলা কথাকে এইভাবে সিরিয়াস নেয়া বোকামি লিলি। আর আবরার যাবি মানে কি! কি সমস্যা তদের? এমন করছিস কেন? এতদিন পর সবাই একসাথে বাইরে আসছি কোথায় হাসি মুখে থাকবি তা না করে একজন আরেকজনের কথা ধরে মুখ ফুলিয়ে চলে যেতে চাচ্ছিস। কি সব বাচ্ছামো এইগুলো?

লিলি: তোর এইসব fun মনে হয়!

আনান: saif আমাদের সাথে আসছে। শুধু শুধু সিন ক্রিয়েক্ট করিস না।

লিলি: আমি থাকবো না এইখানে। আবরার তুই কি নিয়ে যাবি আমাকে?

আবরার শ্বাস ফেলে বলে

আবরার: আচ্ছা চল

আরোশি: আপনি যাবেন না।

আবরার: সবার সামনে আমাকে এমন কিছু করার জন্য উস্কাস না যেইটা করলে তোর সম্মান যাবে। (বিরক্ত কণ্ঠে)

আরোশি আর একটা কথাও বলেনি। নিচ দিকে তাকিয়ে শুধু খাবার মুখে তুলছে। আবরার লিলিকে নিয়ে চলে যায়। সবাই তাকিয়ে আছে। রিমা আর রিফা'ও চলে যায় ভাইয়ের সাথে সাথে।

Saif: কি হলো এইটা?

নিহাদ চুপ করে আরোশির ভাব ভঙ্গি দেখছে। আরোশি এক মনে খেয়ে চলেছে যেনো একটু আগে কিছুই হয়নি। এই মেয়ের গায়ে কোনো কথা লাগেনা। কোনো দাম'ই দেয় না এই মেয়ে কারো কথার। মন খারাপ হবে কি করে মন আছে কিনা সন্দেহ।

নিহাদ: আরোশি খাওয়া বন্ধ কর। চল আমার সাথে।(গম্ভীর সুরে)

আরোশি: কোথায়? (শান্ত সুরে)

নিহাদ: আনান, আসিফ তোরা বাড়ি যা। Saif ভালো থেকো ভাই। সামনে তো বিয়ে আবার দেখা হবে।

Saif: জি অবশ্যই ভাই। আসি (মুচকি হেসে বিদায় নিয়ে চলে যায়)

আনান: আচ্ছা গেলাম থাক পরে কথা হবে।

Asif: কিন্তু তুই ওকে নিয়ে কই যাবি?

আনান: আশিকগীরি বন্ধ কর। নিহাদ বুজবে কোথায় নিয়ে যাবে। চল তুই আমরা যাই। (চলে যায়)

নিহাদ: আরোশি উঠ।

আরোশি: বাড়ি যাবো না নিহাদ শিকদার।

নিহাদ: আমার পুরো নামে কবে থেকে ডাকা শুরু করেছিস! (রেগে)

আরোশি একজন ওয়েটার কে ডেকে বলে

আরোশি: excuse me বিল টা নিয়ে আসুন।

ওয়েটার যেতেই নিহাদ বলে

নিহাদ: আরোশি !

আরোশি: হম বল।

নিহাদ: তুই আবরার কে ছেড়ে দে।

এইবার আরোশি রাগী লাল চোখে নিহাদ এর দিকে তাকায়। সেই চোখের তেজ এই পুরো জায়গা কে জ্বালিয়ে দিতে পারবে। নিহাদ ও তাকিয়ে আছে রেগে। আরোশি অতি শান্ত সুরে বলে

আরোশি: যেইটা সম্ভব না সেইটা বলো কেন? (শান্ত সরে)

নিহাদ: কেন সম্ভব না? যে তোকে সম্মান পর্যন্ত করে না তার সাথে আবার কিসের সম্পর্ক!

আরোশি: আবরার একটা ভুল ধারণায় আছে।

নিহাদ: আমরা এত গুলা মানুষ বসে আছি। ও সবার সামনে কিভাবে ওর বউ কে অসম্মান করে বান্দুবি নিয়ে চলে যায়? আমরা ও তো ওর ফ্রেন্ড। আমাদের তো বললো না বা নিল না। রেসপেক্ট বলতে কিছু নেই? এত বার বলার পর ও চলে গেলো। আর কি ভুল ধারণা?

আরোশি: এইটাই যে আমি রাজনীতির ক্ষমতার লোভে মামা কে মে*রেছি। আর আবরার এর মা ওর মাথায় এমন ভাবে আমার সম্পর্কে বুঝিয়েছে যে ও অনেক কনফিউজ।

নিহাদ: আরোশি আবরার রিয়াদ কোনো বাচ্চা না যে ওর মাথায় কথা ঢুকাবে আর ও ওইটা নিয়ে বসে থাকবে।

আরোশি: তোমাকে যদি আমি বলি তুমি মামুনি আর বাবাই এর সন্তান না তুমি কি করবা?

নিহাদ: কিসের ভিতর কি বলিস?

আরোশি: শুনি, বলো কি করবা?

নিহাদ: তুই আমার চোখে অন্যরকম। ইম্পর্টেন্ট একজন তাই তোর কথা ফেলতে পারবো না। সন্দেহ করবো।

আরোশি: আর যদি সেইদিনই বা কয়দিন পর প্রমাণ পাও?

নিহাদ: বিশ্বাস করবো।

আরোশি: সেরকমই mrs. রোশনারা আবরার এর কাছে ইম্পর্টেন্ট একজন যার কথা আবরার ফেলতে পারবে না। Mrs. রোশনারা আমার ব্যাপারে আবরারকে এইটা সেইটা বলেছে আর আমি প্রমাণ দিয়েছি। ঠিক মত কোনো কিছু এক্সপ্লেইন করিনি। তাই এখন সে ওই বিশ্বাস এর উপর ডিপেন্ড করে আমায় দেখতে পারে না। বুঝেছো?

আরোশির কথা শুনে নিহাদ আর এক মুহুর্ত দাড়ায় না। সোজা বের হয়ে যায়। এই মেয়ের সাথে কথায় আর বুদ্ধিতে কখনোই পারা যাবে না। প্রত্যেক বিষয়ের লজিক আছে এর কাছে। এমনি এমনি তো আর এই অল্প বয়সে নাম কামায়নি। রাজনীতির মত একটা অন্ধকার জগতে আরেক অন্ধকার নাম "আরোশি চৌধুরী"। যে প্রকাশ্যে নেতৃত্ব করেনা। নিহাদ কে বাইরে যেতে দেখে আরোশি'ও তাড়াতাড়ি বের হয়ে নিহাদের সামনে দাঁড়ায়

নিহাদ: সামনে থেকে সর।

আরোশি: আরে কি সমস্যা? তুমি রাগ করলে আমি কোথায় যাবো

নিহাদ: ডং করবি না। সর আরোশি সর (রেগে)

আরোশি: প্লীজ (ঠোট ফুলিয়ে)

নিহাদ: একদম এই ইনোসেন্ট চেহারা বানাবি না। সর সামনে থেকে। দুনিয়ার সব তুই বুঝিস। কারো কথার কোনো দাম নেই। কারো কথা তোর গায়েই লাগে না।

আরোশি: না।

নিহাদ এইবার রেগে আরোশির হাত শক্ত করে ধরে নিজের কাছে টেনে আনে আর দাঁতে দাঁত চেপে বলে।

নিহাদ: আবরার এর প্রতি তোর এই ভালোবাসা একদিন তোকে শেষ করে দিবে আরোশি দেখিস।

আরোশি মলিন হেসে বলে

আরোশি: ভালোবাসার মত ভয়ানক অনুভতির সাথে যেহেতু নিজেকে জড়িয়েছি তাহলে এইটার তীক্ষ্মতা তো অনুভব করতেই হবে। আমি জানি আমি নিঃস্ব হবো। এমন ও হতে পারে তার আগে আমি তাকে শেষ করে দিবো।

নিহাদ তাচ্ছিল্য হেসে বলে

নিহাদ: তুই শেষ করবি তাকে? আমাকে তোর পাগল মনে হয়? আরোশি চৌধুরী আবরার রিয়াদ চৌধুরীর প্রেমে পাগল হতে পারে কিন্তু আমি না। তুই ওকে শেষ করবি এইটা জীবনও সম্ভব না। তুই ওকে হাসিল করার জন্য যা যা করেছিস তার পর'ও তোর মনে হয় আমি এইটা বিশ্বাস করবো? প্রয়োজনে তুই নিজে শেষ হয়ে যাবি তারপর'ও ওর উপর কোনো আঁচ আসতে দিবি না আমি জানি। তোর ভালবাসা, পাগলামি, আসক্ত, গভীর অনুভতি আবরার পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। বাকি সবার ক্ষেত্রে আরোশি হার্টলেস হয়ে যায়।

আরোশি: কি করবো বলো? আমার নিশ্বাসটা যে তার মাঝে। একদিকে আবরার নেই তো ওপর দিকে আরোশি নেই। এত ব্রেইন খাটিয়ে বিয়ে করেছি এমনি এমনি ছেড়ে দাওয়ার জন্য? এই আরোশি হারতে শিখেনি। হয়তো জানে মা*রতে পারবো না কিন্তু যন্ত্রনা তো দিতে পড়বো।

নিহাদ: বুলশিট

আরোশি: আচ্ছা বুঝেছি। হয়েছে এখন আমায় ছাড়ো

নিহাদ শ্বাস ফেলে আরোশি কে ছেড়ে বলে

নিহাদ: তোকে বুঝা অনেক কঠিন আরোশি। তুই অনেক চালাক, অনেক।

আরোশি: জানি। রাজু ভাইয়ের বাড়ি চলো।

নিহাদ: আমি ঐখানে যেয়ে কি করবো?

আরোশি: তুমি যাবে না। আমাকে দিয়ে আসবে।

নিহাদ: ওকে গাড়িতে উঠ।

ওরা গাড়িতে উঠে চলে যায়। আর এতক্ষন একজন একটা গাছের পিছনে দাড়িয়ে নিহাদ আর আরোশির ছবি তুলেছে।

॥

(Next morning)

আবরার: কোথায় ছিলে কাল রাতে?

রুমে ডুকেই আরোশি এমন একটা প্রশ্ন শুনে থতবত খেয়ে যায়। কাল রাতে বাড়ি ফিরেনি। কাগজ পত্রের কাজের ব্যস্ততায় রাজু ভাইয়ের বাড়িতেই থেকেছে। চাইলে বাড়ি ফেরা যেতো কিন্তু আবরার এর রেস্টুরেন্টে ওরকম করায় আর ইচ্ছা জাগেনি। আরোশির মতে মন চাইলে আসবে বাড়ি নয়তো আসবে না। কার বাপের কি? ওর ইচ্ছে হয়নি আসেনি। ব্যাস শেষ। আরোশি আবরার এর প্রশ্নে পরক্ষনেই নিজেকে সামলিয়ে বলে।

আরোশি: কেন?

আবরার: কোথায় ছিলে?

আরোশি ব্যাগ রেখে পরনের ব্লেজার আর জয়েলারি খুলতে খুলতে বলে

আরোশি: প্রেমিক এর সাথে।

আবরার এর মাথা গরম হয়ে যায় কথা টা শুনে। এমনি সারারাত বউ ছাড়া ছিল। আগে যদি জানতো তাহলে রেস্টুরেন্ট থেকে বউকে ও সাথে নিয়ে আসতো। বিয়ে করেছে কি একা ঘুমানোর জন্য? না। সারাদিন যা খুশি হোক, বউ যত ব্যাস্ত থাকুক, রাতে বউ লাগবে মানে লাগবে। আবরার আরোশি এর কাছে যেয়ে আরোশির হাত মুচড়িয়ে ধরে। আরোশির পিঠ যেয়ে আবরার এর বুকে ঠেকে।

আরোশি: ছাড়েন লাগছে।

আবরার: একজন দিয়ে হয় না? কয়জন লাগে তোর?

আরোশি: কথা বার্তা সাবধানে বলেন।

আবরার: নয়তো কি করবি?

আরোশি: বা*সর করবো

আবরার: রাতে ঠিক মত বাড়িতে না আসলে করবি কোথার থেকে?

আরোশি: আসলে আমি এমন একজনকে ভালোবাসি যে আমার দিকে ফিরে'ও তাকায় না। তাই ভাবলাম দিন শেষে কাওকে তো প্রয়োজন যার কাঁধে মাথা রাখতে পারবো। যে আমাকে ভালবাসবে, কেয়ার করবে। সে আমাকে ভালোবেসে ফেললে'ও no problem। আমি তো আর ভালোবাসি না তাই তার মন ভাঙতে আমার খারাপ ও লাগবে না।

আবরার আর একটা কথাও বলে না। ঝাড়া দিয়ে আরোশিকে সরিয়ে অফিস এ চলে যায়। এই মেয়ে জীবনও ভালো হবে না। এর ক্যারেক্টার'ই অন্যরকম। এইরকম মেয়ে হারিকেন দিয়ে ও খুঁজে পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ। আবরার এর কি গর্ব করা উচিৎ নাকি আফসোস আল্লাহ'ই জানে। আবরার যেয়েই আরোশি'ও মুখ বাঁকিয়ে শাওয়ার নিয়ে রেডি হয়ে অফিস এর জন্য বের হয়ে যায়।

_________________________________________

🪴(In office)

আবরার: এই ক্যাবিন আমার। এই ক্যাবিনে তুমি কেন নিজের ডেক্স বসিয়েছো?

আরোশি: যেন কাজ করার সময় আমার এনার্জি নিতে পারি after all কাজের সময় এনার্জি প্রয়োজন।

আবরার: মানে? (ব্রু কুঁচকে)

আরোশি আবরার এর কাছে যেয়ে আবরার এর মুখ বরাবর ডেক্স এর উপর বসে একটু ঝুঁকে বলে

আরোশি: আপনি আমার এনার্জি মন্ত্রী সাহেব।

আবরার: প্রথমত আমি রাজনীতি করি না তাই কোনো মন্ত্রী তন্ত্রী ও না। আর দ্বিতীয়ত সর সামনে থেকে। তোর ভারে আমার কাছের টেবিল ভেঙ্গে যাবে।

আরোশি: আরে আপনি রাজনীতির মন্ত্রী হতে যাবেন কেন? আপনি আমার মন্ত্রী সাহেব, আমার মনের মন্ত্রণালয়ের একান্তই মন্ত্রী। আর রইলো ভারের কথা তাহলে বলবো কোলে তো নিয়ে দেখেন। আমি কিন্তু এত ও ভারী না ( নির্লজ্জের মত হেসে)

আবরার: সরো সামনে থেকে।

আরোশি: না

আবরার: তোর মন অনেক বড় তাই সব ছেলেই তোর মনে জায়গা পায়।

আরোশি: এমন টা আমি কখন বললাম?

আবরার: নাম

আরোশি: আরোশি।

আবরার: আমি টেবিল থেকে নামতে বলেছি

আরোশি: তুমি করে বলেন।

আবরার: উফফ আরোশি। তুমি এত অবুঝ না যে বুঝতে পারছো না আমি কিসের কথা বলছি। নামো

আরোশি: ঠিক আছে। (নেমে নিজের ডেস্ক এ বসে)

॥

দুইজনই মনোযোগ দিয়ে কাজ করছিল। কিছুক্ষন পর আরোশির ফোনে একটা কল আসে। আরোশি কোনো দিকে না তাকিয়ে তাড়াহুড়া করে বের হয়ে যায়। আবরার সেদিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকে তারপর আবার নিজের কাজে মন দেয়। একটু পর আবরার কে লিলি ফোন করে।

(In call)

লিলি: হ্যালো আবরার

আবরার: হম বল

লিলি: তাড়াতাড়ি *** হসপিটাল এ আয়।

আবরার: কেন হটাৎ কি হলো? (চিন্তিত কণ্ঠে)

লিলি: আন্টি (কুমকুম বেগম) অবস্থা ভালো না। বাকি কথা পরে বলছি তুই আয় তাড়াতাড়ি।

আবরার: ওকে ওকে আসছি।

আবরার তাড়াতাড়ি বের হয়ে যায় অফিস থেকে। যত গুলো মিটিং ছিল সব মিটিং postpone করে।

🌿🌿🌿🌿🌿

(In hospital)

আবরার: এইসব হলো কি করে?

রোশনারা: আর বলিস না। সকাল থেকে শরীল খারাপ লাগছে বলছে। বললাম রেস্ট নিতে কিন্তু কথা শুনলো না। হঠাৎ পেটে ব্যথায় আর সহ্য করতে না পেরে পড়ে যায়। পরে ধরাধরি করে নিয়ে এসেছি হাসপাতালে।

জেসিয়া: কি হইয়া গেলো। কার যে নজর লাগলো আমগো এই চৌধুরী বাড়ির উপর।

তখনই ডাক্তার বেরিয়ে আসে। আবরার কাছে যেয়ে বলে

আবরার: কি হয়েছে ছোট আম্মুর?

ডাক্তার: উনার কিডনি তে প্রবলেম হয়েছে তার জন্য ছোট একটা অপারেশন করতে হবে।

(আমার এইসব এ idea নাই তাই রোগ টা যেইভাবে মাথায় আসছে দিচ্ছি। কেউ মাতব্বরি করতে আসলে উল্টা লটকায় রাখবো 🙂 just kidding)

আজমুল: তাহলে operation শুরু করেন।

ডাক্তার: হম তা তো করবো কিন্তু অনেক রক্তের প্রয়োজন যেটা আমাদের এইখানে এভেইলেবল নেই। তাই রক্ত যত তাড়াতাড়ি পারেন কালেক্ট করুন।

সাইদুল: ঠিক আছে ঠিক আছে আমরা করছি। আবরার আর আবির তোমরা কিছু করো। খোঁজ লাগাও সব জাগায়।

আবরার: ছোট আব্বু তুমি চিন্তা করো না আমি কিছু করছি।

আবির: বাবা তোমার ছেলেদের ফোন লাগাও। দেখো রক্ত কালেক্ট করতে পারো কিনা।

~এর মাঝেই হটাৎ একটা নার্স এসে জানায়

-: রক্ত ব্যাবস্থা হয়েছে আমরা operation start করেছি।

চলবে,,,,,,

(ভুল গেলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। বেশি বেশি রেসপন্স করবেন আর বলতে ভুলবেন না কেমন হচ্ছে গল্প টা। আপনাদের অল্প একটু প্রশংসা আমাকে অনেক উৎসাহ করে)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন