ফন্ট সাইজ:
থিম:
এক হৃদয় হরনীর আসক্তি

৩৩তম পর্ব

লেখক: সাফা মারওয়া

#হৃদয়হরণীর_আসক্তি

#পর্বঃ৩৩

লেখিকা: #সাফা_মারওয়া

আবরার: ছোট আব্বু তুমি চিন্তা করো না আমি কিছু করছি।

আবির: বাবা তোমার ছেলেদের ফোন লাগাও। দেখো রক্ত কালেক্ট করতে পারো কিনা।

~এর মাঝেই হটাৎ একটা নার্স এসে জানায়

-: রক্ত ব্যাবস্থা হয়েছে আমরা operation start করেছি।

আর কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই নার্সটি চলে যায়। সবাই অপেক্ষা করছে অপারেশন থিয়েটারের বাহিরে।আবরার এর অনেক মন খারাপ। এক কোনায় নিচের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সে ভেবেছিল আরোশি অত তাড়াহুড়া করে হয়তো এখানে এসেছে। কিন্তু এখানে এসে দেখে আরোশি আসেনি। মায়ের সাথে কি এমন মনোমালিন্য হলো যে এইরকম একটা অবস্থায় এইখানে আসলো না দেখতে। মা তো মা'ই। মা রা তো কটু কথা বলতেই পারে। আর আরোশি তো তার ভাইকে মে*রে ফেলেছে। দোষ তো ওর। কিন্তু আবরার এর জানা নেই সেই কটু কথার তীব্রতা আর আরোশির ভিতরের হাহাকার।

আবরার এর কেমন যেনো লাগছে। মনে হচ্ছে এই আসে পাশেই তার বউ আছে। এই মেয়েটা তার আসে পাশে থাকলে সে অনুভব করতে পারে। আবরার একবার মাথা উঠিয়ে আশেপাশে দেখলো কিন্তু না আরোশির কোন অস্তিত্বই নেই। তারপর আবার মাথা নিচু করে বিড়বিড় করে বলতে লাগলো

আবরার: অনুভব তাকেই করা যায় যাকে আমরা অতি তীব্র ভালোবাসি। তার মানে কি--- না না আমি ওকে ভালোবাসি না। আমি হয়তো আবোল তাবোল ভাবছি। ওকে আমি অনুভব করবো কি করে। ওতো just impossible একটা মেয়ে। ওর ধারা সবই সম্ভব আর এখানে না আসা কি এমন বড় ব্যাপার ওর কাছে। Selfish, অবাধ্য নারী একটা।

॥

আধা ঘন্টা আগে,,,

আরোশি তাড়াতাড়ি করে হসপিটালে ঢুকে। এদিক ওদিক না তাকিয়ে রিসিপশনে জিজ্ঞেস করে সোজা ডক্টরের রুমে চলে যায়।

D: আরে আরোশি mam আপনি! কোনো দরকার ছিল?

আরোশি: দরকার ছাড়া তো আর এমন জাগায় আসবো না।

D: আহ জি জি বুঝেছি। 😅 বসুন প্লীজ।

আরোশি: বসবো না। Mrs. কুমকুম চৌধুরী কে এইখানে আনা হয়েছে। কি হয়েছে ওনার।

D: জি জি উনার একটা অপারেশন করতে হবে। কিডনি তে প্রবলেম ধরা পড়েছে যার কারণে পেটের সাইডে ব্যথা হয়েছে।

আরোশি: অপারেশন start করেছেন?

D: mam রক্তের প্রয়োজন যেইটা আমাদের এইখানে এভেইলেবল নেই। আম--

আরোশি: আমি দিবো রক্ত। উনাকে সুস্থ চাই।

D: ঠিক আছে mam। ক-কিন্তু আপনি কিছু মনে না করলে একটা কথা ask করি!

আরোশি: আপনি ঘামছেন কেনো? বলুন কি বলবেন।

D: mrs. কুমকুম আপনার কি হয়?

আরোশি: আরোশির মা উনি।

D: আরোশির মা! কিন্তু--- আরোশি তো আপনার নাম।

আরোশি: হম জানি আমি আমার নাম। চলুন রক্ত নিন

ডাক্তার আর কিছু জিগ্গেস করে না। ঘাড় তেরা উত্তর দাওয়া ব্যক্তিকে কি বা আর জিজ্ঞেস করবে।

D: জি অবশ্যই আসুন।

আরোশি রক্ত দিয়ে চলে যায় বাসায়। শরীল টা খুব দূর্বল লাগছে। দুই ব্যাগ রক্ত দিতে হয়েছে। ডাক্টার না করেছে কিন্তু আরোশি এর কথার উপর উঠতে পারেনি। কড়া গলা শুনে ভয়ে ডাক্তার ও আর কিছু বলেনি। সকলে চিনে এই আরোশি কে। কার মাথায় আক্তার বেশি ঘাড় আছে যে আরোশির কথার উপর কথা বলবে? ওপর দিকে পরিবারের সবাই এইটা জানে যে আরোশি যায়নি হসপিটাল এ কিন্তু আজমুল সাহেবের বিশ্বাস আছে আরোশি এসেছিল। এত দ্রুত রক্ত আরোশি ছাড়া কে কলেক্ট করতে পারবে। তারা চেষ্টা করার আগেই সব হয়ে গিয়েছে।

অপারেশন successfully শেষ। এখন কুমকুম বেগম অনেক টা ভালো আছে। ডক্টর বলেছেন দুইদিন পর বাড়ি নিয়ে যেতে পারবে। সাইদুল, রোশনারা বাদে বাকিরা বাড়ি চলে আসে। ওপর দিকে আবরার রেগে আছে কারণ কিছুক্ষন আগে আবরার এর ফোনে কয়েকটা ছবি এসেছে যেইখানে আরোশি আর নিহাদ খুব কাছাকাছি দাড়িয়ে ছিল। নিহাদ আরোশি কে শক্ত করে ধরে রেখেছে তা ছবি তেই বুঝা যাচ্ছে। ছবিতে কিছুক্ষন কথা বলে নিহাদ আরোশিকে নিয়ে গাড়িতে উঠে। সেইদিন রেস্টুরেন্টে পরনের পোশাক ছিল ওদের গায়ে।

॥

আবরার বাড়িতে এসে রুমে ঢুকে দেখে বেডের এক সাইডে আরোশি বসে বসে রিভ*লবার ক্লিন করছে। আরোশি আবরার এর দিকে একবার তাকিয়ে আবার নিজের কাজে মন দেয়। আবরার কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকে তারপর আরোশির সামনে যেয়ে জিজ্ঞেস করে।

আবরার: কোথায় ছিলে? (শান্ত সুরে)

আরোশি: কাজে

আবরার: কি কাজ?

আরোশি: আরোশি কাওকে কৈফিয়ত দিতে বাধ্য না।

আবরার: আমাকে ও না?

আরোশি: না।

আবরার: কার সাথে ছিলে?

আবরার ওই ছবি গুলোর জন্য রেগে আছে, কিন্তু আবরার এর বিশ্বাস আছে নিহাদ এর উপর তাই এই বিষয় নিয়ে কথা বলতে চায় না। আবার আবরার জানে আরোশি কিছু একটা লুকাচ্ছে। আরোশি কে দেখতে ও কেমন যেনো রোগা রোগা লাগছে। তাই আবরার কথা বের করার জন্য এমন প্রশ্ন করেছে যাতে এইটা শুনে রেগে হলেও আরোশি সত্য কথা বলে। কিন্তু বোকা আবরার ভুলে গিয়েছে আরোশি কখনো তার মন্ত্রী সাহেবের উপর রাগবে না। এমন প্রশ্ন শুনে এইবার আরোশি আবরার এর দিকে তাকায়।

আরোশি: মানে?

আবরার: মানে বুঝো না? কার সাথে ছিলে?

আরোশি: আমি কারো সাথে ছিলাম এমন টা মনে হওয়ার কারণ?

আবরার: কারণ তুমি ঐরকম একটা মেয়ে।

আরোশি: কি রকম? (ব্রু কুঁচকে)

আবরার: যাদের অন্য পুরু*ষের সান্নিধ্য ছাড়া চলে না।

আরোশি: মুখে লাগাম দিন। এইসব কি বলছেন আপনি?

আবরার: তুমি কি জানতে না ছোট আম্মু অসুস্থ হসপিটাল এ ভর্তি?

আরোশি: হম জানতাম কিন্তু--

আবরার: তারপর ও যাওনি কেন? কোথায় ছিলে তুমি? নিজের মাকে পর্যন্ত ইমপরটেন্ট দাওনি এমন কি কাজ করছিলে? কেমন মেয়ে তুমি? ফষ্টি*নষ্টি করছিলে? তুমি আমাকে ভালোবাসো না আরোশি। আমি আগেও বলেছি আমি শুধু মাত্র তোমার জেদ। তুমি কখনো আমার না। (চিল্লিয়ে)

এইবার আরোশি উঠে আবরার এর সামনে যেয়ে দাড়ায় আবরার এর দুই গাল দুইহাতে ধরে বলে

আরোশি: মন্ত্রী সাহেব আমি আপনার। শুধু মাত্র আপনার। এইভাবে বলবেন না প্লীজ।

আবরার: তুমি আমার না (শক্ত কণ্ঠে)

আরোশি: আমি এমনি ক্লান্ত। এত কথা বলতে ভালো লাগছে না। বলেছি তো আমি আপনার।

আবরার: আমি ও বলেছি আমার না।

আরোশি: আমি আপনার। এই পুরো আরোশি টা আপনার মন্ত্রী সাহেব।

আবরার দেখে আরোশি এর চোখে পানি টলটল করছে। আবরার এর একদম পছন্দ না এই চোখে পানি। তার অস্থির লাগে এই চোখে পানি দেখলে। কিন্তু এখন ভালোবেসে কথা বলা যাবে না নয়তো আরোশি কখনো বলবে না ও কোথায় ছিল। আবরার এর মনে হচ্ছে আরোশি বড় কিছু লুকাচ্ছে। আবরার বুঝতে পারছে আরোশি শক্তির ওভাবে কথা পর্যন্ত বলতে পারছে না ঠিক মত। তুতলাবে বলে ধীরে ধীরে বলছে। এইবার আবরার শান্ত কণ্ঠে বলে

আবরার: রিয়‍্যালি তুমি আমার? এই পুরো আরোশি টা আমার?

আরোশি: হম শুধু আপনার।

আবরার: তাহলে তো তোমার উপর আমার সব ধরনের অধিকার আছে তাই না?

আরোশি: হম।

আবরার: যা খুশি করতে পারবো, যা খুশি চাইতে পারবো, যা খুশি জিজ্ঞেস করতে পারবো তাই না?

আরোশি: হম। কিন্তু দুটো জিনিস বাদে।

আবরার: কি?

আরোশি: এক - ডিভোর্স চাইতে পারবেন না, দুই-আজ কথায় ছিলাম জিজ্ঞাস করতে পারবেন না।

আবরার এইবার রেগে আরোশির দুই বাহু শক্ত করে ধরে বলে

আবরার: তুই অনেক চালাক আরোশি। নিশ্চই নোং*রামি করে এসেছিস তাই বলতে চাচ্ছিস না

আরোশি: আবরার সাহেব আমি আপনার। শুধু আপনার অন্য কারো কোনো অধিকার নেই আমার উপর।

আবরার: আমি মানি না।

আরোশি: কি করলে আপনি বিশ্বাস করবেন? নিজেকে শে*ষ করে দিলে?

আবরার: যেইখানে সামান্য প্রশ্নের উত্তর দিতে পারো না সেইখানে নিজেকে শেষ করে ভালোবাসা প্রমাণ দাওয়া অনেক বড় বিষয়।

আরোশি: আপনি বললে আমি নিজেকে শেষ করে দিবো।

আবরার:_____

আরোশি: চুপ থাকা সম্মতির লক্ষণ।

আবরার হাল ছেড়ে দেয়। বুঝেছে যায় হয়ে যাক আরোশি বলবে না। প্রয়োজনে কথা ঘুরিয়ে অন্য কথায় নিয়ে গিয়েছে এই মেয়ে। তাই আবরার শ্বাস ফেলে আর কিছু না বলে রুম থেকে বের হয়ে যেতে লাগে। তখনই গু*লির আওয়াজ হয়। আবরার পিছনে ঘুরে দেখে র*ক্তা*ক্ত অবস্থায় আরোশি নিচে পড়ে আছে।

আবরার: আরোশিশশশ.......

আবরার স্তব্ধ হয়ে যায়। নিজের হার্টবিট টা পর্যন্ত ফিল করতে পারছে না। গু*লীর শব্দে সবাই চলে আসে। আজমুল আবরার কে দরজার সামনে নড়তে না দেখে সামনে তাকিয়ে দেখে আরোশির দেহ পরে আছে। সে দৌড়ে যেয়ে আরোশির মাথা নিজের পায়ে নেই। এখনও হালকা হালকা নিঃশ্বাস নিচ্ছে। রবিন কে ডাক দিয়ে আরোশিকে ধরে নিয়ে যায় হসপিটালে। এতক্ষন আবরার মূর্তির মত দাড়িয়ে ছিলো। সব কিছু কেমন যেনো লাগছে। মন থেকে বলছে এইটা যেন সপ্ন হয়। নয়তো সে বাঁচবে না। হঠাৎ হুশ ফিরলে দেখে আরোশি কে নিয়ে রওনা দিয়েছে আজমুল সাহেব। আবরার ও আর এক মিনিট দেরী করে না সোজা গাড়ী নিয়ে বের হয়ে যায়।

🌿🌿

হসপিটাল এ পৌঁছে শুনে আরোশি কে ICU তে নিয়ে গিয়েছে। আজমুল ছেলেকে সামনে এগিয়ে আসতে দেখে কাছে যেয়ে ঠা*স করে একটা চড় মারে। আবরার মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। আজমুল বলে

আজমুল: কি করেছো তুমি ওর সাথে? ওর এই অবস্থা হলো কি করে? কথা বলছো না কেন অপদার্থ? আমার ভুল হয়েছে সেদিন আমার তোমাদের বিয়েটা আটকানো উচিত ছিল এতে আজ আরোশির এ অবস্থা হতো না। তুমি ওকে ডিজার্ভ করো না।

আবরার: বাবা আমি বুঝতে পারিনি আমার ওই কথাতে ও এরকম কিছু একটা করবে। নিজেকে শেষ করে প্রমাণ দিতে চাইবে। আমি আগে জানলে কখনো এরকম কিছু হতে দিতাম না। আমি বুঝিনি ও এতটা পাগল। এতটা উন্মাদ। বাবা ওর কিছু হলে আমি শেষ হয়ে যাব। আমার ওকে চাই। সুস্থ চাই, একটু আগে আমার সামনে যেভাবে ছিল সেভাবে চাই। বাবা ও কিছু একটা লুকাচ্ছিল আমার থেকে আমি শুধু ওটা জানতে চেয়েছিলাম কিন্তু তার পরিণতি এরকম হবে আমার জানা ছিল না।

আবরার এর কথাগুলো শুনে বোঝা যাচ্ছে আবরার কান্না আটকানোর চেষ্টা করছে। এই প্রথম আজমুল চৌধুরী তার গম্ভীর ছেলেকে কাঁদতে দেখছে। আবরার এর যখন সাত বছর তখন থেকেই খুব সন্তশিষ্ট গম্ভীর প্রকৃতির হয়ে যায়। বাকি বাচ্চাদের মত কান্না করতো না কোনো বিষয় নিয়ে। তার কাছে কখনো কোনো আবদার'ও করেনি। তাদের বাবা ছেলের সম্পর্ক ও বাকি দশটা বাবা ছেলের মত বন্ধুত্ব সম্পর্ক না। সে কাজে ব্যস্ত থাকায় ছেলের সাথে ওভাবে কখনো বসে কথাই বলা হয়নি সেই সুবাদে আবরার এর বন্ধুত্ব সম্পর্ক তার মায়ের সাথে। সে দেখে আসছে আবরার এমন ছেলে যাকে কেটে ফেলে দিলেও কাঁদবে না। শুধু কান্না না বরং মুখ দিয়ে টু শব্দ ও করবে না। আবরার এর গম্ভীরতা এতই তীব্র যে গম্ভীর ভাব বজায় রেখে বুদ্ধি খাটিয়ে বিজনেস এর দুনিয়ায় অনেক কিছু হাসিল করেছে এই পর্যন্ত। আবরার এর গম্ভীরতাকে ভয় করে তাদের কোম্পানির প্রত্যেকটা বিজনেস পার্টনার। চৌধুরী empire এর সাথে কাজও করতে চায় আবার আবরার এর ওপর কথাও বলতে পারে না তারা। তাইতো সে নিঃসন্দেহে, টেনশন ছাড়া চৌধুরী empire পুরোটা আবরার এর হাতে দিয়ে দিয়েছে। সে যেইভাবে এই বিজনেস সম্রাজ্য তৈরি করেছে ঠিক একই ভাবে তার ছেলে এইটা ধরে রেখেছে। সেই ছেলে আজ তার সামনে দাঁড়িয়ে কান্না আটকানো চেষ্টা করছে। সে কি বলবে ছেলেকে বুঝে উঠতে পারছে না। নরম গলায় শুধু বলল

আজমুল: শান্ত হও সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। কি জানতে চেয়েছিলে তুমি ওর কাছে?

আবরার: বাবা আমি শুধু ওকে জিজ্ঞেস করেছিলাম ছোট আম্মু হসপিটালে ভর্তি এটা জানা সত্ত্বেও ও কোথায় ছিল।

আজমুল: আরোশি হসপিটালেই ছিল।

আবরার: তুমি কি করে জানলে? ( অবাক হয়ে)

আজমুল: আমার বিশ্বাস আরোশি হসপিটালে এসেছিল।

আবরার: তোমার বিশ্বাস এর উপর ভরসা করে তো আর সব কিছু না।

আজমুল: ঠিক আছে বিশ্বাস না করলে ডক্টর এর থেকে জেনে নিও।

আবরার উত্তরে কিছু না বলে যেয়ে বসলো। মাথা নিচু করে চুলগুলো দুই হাতে খামছে ধরে কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে রইলো। তারপর একদম সাভাবিক হয়ে ICU এর দরজার দিকে তাকিয়ে সোজা হয়ে বসে আর শক্ত কণ্ঠে বিড়বিড় করে বলতে লাগলো।

আবরার: তুমি এমন কেন আরোশি? কেন বুঝনা আমাকে? কেন বুঝনা আমার কথাগুলো কে? নিজের যেটা মনে করো সেটাই কেন করো? আজ তোমার কিছু হয়ে গেলে আমার কি হবে! এত অবাধ্য কেন তুমি? আমি কি একবারও বলেছিলাম তোমাকে এরকম কিছু করতে? সব চুপ থাকার পিছনে সম্মতির লক্ষণ হয় না। এভাবে চলতে থাকলে একদিন তুমি আমাকে শেষ করে দিবে। তোমার চোখের পানি, তোমার কষ্ট, তোমার ব্যথা, তোমার এই অবস্থা আমাকে মৃ*ত্যুর যন্ত্রণা দেয়। তুমি অনেক চালাক আরোশি। নিজেকে কষ্ট দিয়ে আমাকে বিষাদের যন্ত্রণা দিচ্ছ। ইচ্ছে করে করছো সব। এমন যন্ত্রণা যেইটা আমি না পারছি সহ্য করতে আর না পারছি প্রকাশ করতে। নিজের ক্ষতি না করে আমাকে শেষ করে দিলেই তো পারো। তোমাকে বোঝা কঠিন কেন? তোমার এত জেদ, এত তেজ, পরিবারের প্রতি এত ঘৃণা, তোমার এলোমেলো স্বভাব, অন্যায় করেও সেইটা ঠিক মনে করা, অন্যের খুশি ছিনিয়ে নেওয়া, খু*ন করা, বড়দের অমান্য করা, অসম্মান করা, আরো কত কি এগুলো কবে ঠিক হবে তোমার! কিভাবে ঠিক করবো আমি? এত নষ্ট কেনো তোমার চারপাশ? একবার সুস্থ হয়ে যাও আর কখনো তোমার বিরুদ্ধে যেয়ে তোমাকে জোর করে কিছু জানতে চাইবো না। আমি--

আর বলতে পারলো না। কান্না গলায় আটকে আসছে। চোখ দুইটা জ্বলে যাচ্ছে। বুকের বা পাশটা অসহনীয় যন্ত্রণা হচ্ছে। এতসবের মাঝেও উপর দিয়ে আবরার একদম সাধারন ভাবে বসে আছে যেন কিছুই হয়নি। এতক্ষন এ সকলে চলে আসছে। একই হসপিটাল হওয়ায় রোশনারা আর সাইদুল ও কুমকুম কে কেবিনে রেখে চলে এসেছে। লিলি এসে আবরার এর পাশে বসলো। আবরার নির্বাক তাকিয়ে আছে সামনের দরজার দিকে যেনো কিছুর অপেক্ষায় আছে। আজমুল বুঝেছেন ছেলে তার গম্ভীর ভাব ধারণ করেছেন। কখন তখন ব্লাস্ট করবে। রোশনারা বেগম একটু পর পর ছেলের দিকে তাকাচ্ছেন। বুঝার চেষ্টা করছেন ছেলের মাথায় কি চলছে। কিন্তু প্রতিবার ফলস্বরূপ শূন্য। ছেলে তার অতি শান্ত আর সাভাবিক হয়ে আছে। হটাৎ reyan বের হলেন। আবরার এইবার ও ঠাঁই বসে রইলো তবে এইবার দৃষ্টি তার ডক্টর reyan এর দিকে। Reyan সবার দিকে দৃষ্টি বুলিয়ে বলতে শুরু করে

Reyan: পেসেন্ট এর অবস্থা ভালো না। গুলি টা হার্টের একটু উপরে লাগায় এই যাত্রায় গু*লি কিছু করতে পারেনি তবে অনেক র*ক্ত খনন হয়েছে। তবে পেসেন্ট মানসিক ভাবে Depressed। কিছু নিয়ে হয়তো টেনশন করছিল। মাথার অতিরিক্ত চাপ পড়ার কারণে মিনি ব্রেন স্টোক করেছে। পেসেন্ট অনেক দুর্বল, শরীলে রক্ত খুবই কম আবার বয়স ও কম। পর্যাপ্ত পরিমাণ রক্ত না থাকায় রক্ত দাওয়া হচ্ছে। জ্ঞান এখনো ফিরেনি। জ্ঞান না ফেরা পর্যন্ত কিছু বলতে পারছিনা, ২৪ ঘন্টার ভেতর জ্ঞান ফিরলে আমরা কিছু বলতে পারবো নয়তো বাকিটা আল্লার ইচ্ছা।

কেউ কিছু বলার আগেই আবরার reyan এর সামনে যেয়ে দাড়ায়। তারপর অতি শান্ত সুরে বললো

আবরার: তুমি আরোশির ডক্টর। তুমি শুরু থেকেই ওর চিকিৎসা করে আসছো। ওর হেলথ কন্ডিশন সম্বন্ধে তুমি সবই জানো। বাকি ডক্টরদের থেকে তুমি ওকে ভালো বুঝবে তাই তোমার কাছে আনা হয়েছে। আমি ব্যাস ওকে সুস্থ চাই। যেভাবে হোক জ্ঞান ফিরাও।

আরোশির এইরকম একটা অবস্থায় আবরার এর এত সাভাবিক ভাবে কথা বলায় বিরক্ত হয় reyan

Reyan: আপনার উচিত আপনার বউকে টেনশন মুক্ত রাখা। আপনি কেমন হাসবেন্ড? বিষয়টা এমন তো নয় যে আপনি কিছু করেছেন যার টেনসনে পেসেন্ট ব্রেন স্টক করল!

আবরার: আমার বউ আমি মারবো, কাটবো, কাঁদাবো, আদর করবো যা খুশি তাই করবো। তুমি ডক্টর পেশেন্ট নিয়ে এসেছি সুস্থ করে দাও ব্যাস

আজমুল: আবরার এসব কি ধরনের কথাবার্তা!

reyan তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বললো "বোঝানো তাকে যায় যে বুঝে আর যে বুঝেও না বুঝার ভান করে তাকে পুরো বই খুলে দিলেও বুঝবে না"

কথাটা বলে এসে চলে গেল। আবরার সহ বাকি সকলে বুঝলো কথাটা আবরারকে ইঙ্গিত করে বললো। আবরার আবারো খুবই স্বাভাবিক হয়ে চেয়ারে বসলো। আবরার এর ভাব মতিগতি কেউই কিছু বুঝতে পারছে না। লিলি আবারো আবরার এর পাশে যেয়ে বসলো। আবরার এর হাতের উপর হাত রেখে বলল

লিলি: তুই টেনশন করিস না আমি আছি তোর পাশে । আমি সব সময় তোর সাথে আছি। নিজেকে কখনো একা মনে করবি না।

লিলি কথাগুলা কোন ইঙ্গিতে বুঝিয়েছে আবরার খেয়াল না করলেও আলিফ খেয়াল করে। ভাবতে থাকে এই মেয়ে জীবনেও শোধরাবে না। এরকম একটা পরিস্থিতিতে ওইসব কথা আসে কি করে? কিভাবে ইঙ্গিত করে বুঝিয়ে দিল আরোশির কিছু হয়ে গেলেও আবরার এর জন্য লিলি আছে। তখন আবার দেখা যাবে সারা'ও নদীতে ভেসে ভেসে চলে আসছে। আলিফ ভেবে রাখলো একবার শুধু জ্ঞান ফিরুক আরোশি mam এর সে সব বলে দিবে এই মেয়ের এসব চিপকা চিপকির কথা।

এর মাঝে আবরার লিলির হাত সরিয়ে উঠে ডক্টরের কাছে যায়। সে আর থাকতে পারছে না। আরোশির সাথে দেখা করতে হবে। অনেক বুঝিয়ে সুঝিয়ে ডক্টর তাকে পারমিশন দেয় পেশেন্টের সাথে দেখা করার জন্য। এর মাঝে অবশ্য আজমুল সাহেব অনেকবার বলেছে এ অবস্থায় এখন দেখা করার প্রয়োজন নেই। কিন্তু কে শুনে কার কথা। সে'ও বুঝে গেছে তার ছেলে দেখা করবে মানে করবেই তাই ছেলের জেদের সামনে সে হার মানে। রোশনারা বেগম এর মতে ছেলে তার দেখা করুক আর যাই করুক আবরার জেতেহু সাভাবিক, নরমাল আছে এর মানে এইটা দাড়ায় আবরার এর এখনও আরোশির প্রতি কোনো মায়া, দোয়া, ফিলিংস আসেনি। কিন্তু লিলির বিষয় টা একদম ভালো লাগে না। এর মাঝে সারা ও তার মা রায়দা চলে আসে হসপিটালে। না না, আরোশি কে দেখতে না বরং কুমকুম এর জন্য। কিন্তু এসে শুনে আরোশি ও হসপিটালে ভর্তি। সারা কুমকুম বেগম এর সাথে নিজের মাকে রেখে আবরার কাছে আসে। এসে দেখে আবরার ভিতরে গিয়েছে আরোশির সাথে দেখা করতে। সারা লিলির পাশে বসে। সারা জানে না লিলি যে আবরার কে ভালোবাসে। শুধু জানে বেস্ট ফ্রেন্ড তাই নিজের থেকেই কথা বলে। তবে লিলির বিরক্ত লাগে কারণ লিলির জানা মতে আবরার সারাকে ভালোবাসে। তাই তো বিয়ে করতে চেয়েছিল।

॥

ব্যাড এ লা*শের মত পড়ে আছে আরোশি। রক্ত দিচ্ছে শরীলে। মাথায় ও কিছু যন্ত্র লাগিয়ে রেখেছে। মুখ ঠিক মত বুঝা যাচ্ছে না অক্সিজেন লাগিয়ে রাখার কারণে। তার পাশেই বসে আছে আবরার। আরোশির দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। চোখ লাল টকটকে হয়ে আছে। এক ঘণ্টা হয়ে গিয়েছে আবরার ICU এর ভিতরে আসছে। এর মাঝে অনেক বার ডক্টর এসে বের হতে বলেছে কিন্তু আবরার কে বের করতে পারেনি। ভয়ে বেশি কিছু বলতে ও পাড়ছে না। কিছু বলতে আসলে আবরার গম্ভীর সুরে সবাই কে থ্রেট দিচ্ছে।

কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে আবরার আরোশির মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে দাঁতে দাঁত চেপে বলতে থাকে।

আবরার: একবার আরোশি ব্যাস একবার জ্ঞান ফিরুক তারপর দেক কি করি। তোর সাহস কত তুই নিজেকে গু*লি করিস। নিজেকে শেষ করে দেওয়ার কথা ভাবিস। সময় মতো তোর যদি জ্ঞান ফিরে না আসে আমি সব শেষ করে দিবো দেখিস তুই শুধু দেখিস।

(দেখবে কিভাবে আমাদের আরোশি তো আধমরা 🥴। বেশি বেশি রেসপন্স করলে সন্ধ্যায় আরেকটা পার্ট দাওয়ার চেষ্টা করবো)

চলবে,,,,,,,,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন