#হৃদয়হরণীর_আসক্তি
#পর্বঃ৪৭
লেখিকা: #সাফা_মারওয়া
আরোশি: বল রবিন
রবিন: আপু ঘটনা তো ঘইটা গেছে।
আরোশি: কি হয়েছে? (কপাল কুঁচকে)
রবিন: লিলি আ*ত্মহ*ত্যা করছে। তাও আবার চৌধুরী বাড়ির ছাদের থেকে লা*ফ দিয়ে।
কথা টা শুনে আরোশি অবাকের শেষ সীমায় পৌছে যায়। চিল্লিয়ে বলে উঠে
আরোশি: WHATTT !!...
রবিন: হ। পুলিশ আইসে বাসায়। আপনি আহেন। আমি এইদিক টা দেখতাছি। আপনি যথাসম্ভব হাতে সময় নিয়ে আহেন। চাচা পার্টি অফিসে জরুরি মিটিং এ আছে। খবর পাঠাইছি পোলাপাইন দিয়া।
রবিন এর কথা শুনে আরোশি বুজলো হাতে যথারত সময় আছে। রবিন সামলাতে পারবে আরোশির অন্ধবিশ্বাস এতে। রাজনীতি জীবনে এমন একটা রবিন থাকলে আর কিছু লাগে না। ছেলে টা কিছু কিছু কাজে খুব পাকা। তার মাঝে একটা হচ্ছে ক্ষণিকের মাঝে শত্রুদের সাথে মিলে তাদের প্লান জেনে আসতে পারে এই ছেলে। আবার সহজ সরল হেসে সামনের জনের নগদ শরীল থেকে মা*থা আলাদা করে দিতে পারে। আরো অনেক আজব গুন এই ছেলের মাঝে যা আরোশি আর আজমুল সাহেবের রাজনীতি জীবনে অনেক কাজে এসেছে।
রবিন: আপু গেছে তো গেছে কড়া তালে ফাসায় রাইখা গেছে।
আরোশি: কাকে?
রবিন: আপনারে। নোট লেইখা তারপর আকাম টা করছে।
আরোশি: নোট কার কাছে?
রবিন: আমি বাড়ি আইসা দেখি নোট পুলিশের হাতে লাইগা গেছে। জিজ্ঞাসাবাদ চলতাছে। বাড়ি মানুষ দিয়ে ভরে গেছে। আমি সাইডে আইসা কথা কইতাছি
আরোশি: একটা কাজ কর মরিয়ম আছে না? ওরে বল আমি বলছি ক্যামেরা গুলো যেনো খুলে সেইগুলা ছেচে গুরাগুড়া করে ফেলে। তবে সাবধানে কেও যেন না বুঝে।
রবিন: কিসের ক্যামেরা?
আরোশি: গোলা*মের পুত তোরে যেইটা বলছি ওইটা কর বাকি টা আমি দেখতেছি।
রবিন: আইচ্ছা
আরোশি: আচ্ছা হবে গাধা।
রবিন: আরে ওই একই হইলো।
আরোশি: আচ্ছা রাখ।
ফোন রেখে আরোশি কিছুক্ষন জিম মেরে বসে ছিল। লিলির হটাৎ এমন পদক্ষেপ নেয়ার কারণ আরোশির মাথায় ঢুকছে না। আরোশি মানুষ চিনতে ভুল করে না। আরোশি যতটুকু চিনেছে লিলিকে এই লিলি এমন একটা কাজ করার মত মেয়ে না। কক্ষনো করবে না। তাহলে কি অন্য কেউ করিয়েছে? এমন নয়তো যে মে*রে ছাদ থেকে ফেলে দিয়েছে নাকি অন্য ভাবে কিছু করেছে! ছাদে'ও cctv লাগানো উচিত ছিল। কিন্তু সিঁড়ির ঐখানে ছিল তো। আরোশি তাড়াতাড়ি cctv চ্যাক করে দেখে ছাদে লিলি একা যাচ্ছে সাথে কেও নেই। তাহলে কি আসলেই আ*ত্মহ*ত্যা?
||||||||||||||||••••••••••|||||||||||||||||
☘️চৌধুরী empire
(Knock,,,,,Knock)
আবরার: came in (cold voice)
আরোশি: hi my dear hobby
আবরার তাকিয়ে দেখে আরোশি। তার কালো পরী। As always ড্রেস কালো। কালো লেডিস ব্লেজার পরে আছে। হালকা পেঁচানো চুল গুলো মাজখানে সিতু করে পিছনে আর সামনের এক পাশে এনে রাখা। ঠোঁটে ডার্ক লিপস্টিক দাওয়া। চোখে কালো সানগ্লাস। মেয়ে মানুষ থাকবে কোমল, শ্রীগ্ন, কেশবতী, লজ্জাবলি, মায়াবতী, লাজুক প্রকৃতির আর এইখানে তার বউ হচ্ছে আগুন, রসমালাই, পুরোটাই ডার্কনেস, রহস্যময়ী, অবাধ্য নারী সাথে হট। আবরার একটা ঢোক গিলে বিড়বিড় করে বলে
"মন শান্ত হ এত জোড়ে ধুক ধুক করলে শুনে ফেলবে এই অবাধ্য নারী"
আবরার এর আরোশিকে দেখে মন টা হটাৎ ভালো হয়ে যায়। কারণ আবরার এর জানা আছে তার বউ ইদানিং খুব ব্যাস্ত থাকে। রাতে এসে আবরার এর বুকে মাথা রাখতেই ঘুমিয়ে যেতো ক্লান্তিতে। তাই হটাৎ আজ বউ দেখে মন ভালো হওয়া সাভাবিক তার কাছে। আবরার আরোশির কাছে যায়। আরোশি আবরার কে কাছে আসতে দেখে জড়িয়ে ধরার জন্য হাত মেলে আবরার এর গলা জড়িয়ে ধরে। আবরার ও সুন্দর করে কোমরে হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে।
আবরার আরোশির চুলের মাঝে মুখ গুজে গ্রান নিচ্ছে। আরোশি বিষয় টা বুঝে আস্তে করে দূরে সরে যায়। আবরার বিষয় টা খেয়াল করে না। আবরার আরোশির দিকে তাকাতেই আরোশি বলে উঠে
আরোশি: ক*লঙ্ক নারীর এত কাছে শুদ্ধ পুরুষ মানায় না মন্ত্রী সাহেব। (মুচকি হেসে)
কথা টা শুনে আবরার এর মাথায় একটা বিষয় আসে। ছবি গুলোর বিষয়। আবরার গম্ভীর গলায় বলে
আবরার: হটাৎ এইখানে এলে যে?
আরোশি: ব্যাস্ত ছিলেন?
আবরার: ছিলাম কিন্তু তোমার মত এত না।
আরোশি: আসলে আমার কিছু করার নেই। কাজ কি সব সময় অল্প থাকে! আমি রাজনীতিবিদ। ব্যস্ততা আমার অক্সিজ। এইটা ছাড়া জীবন তো পানসে পানসে সোনা।
আবরার: বললে না কেন এসেছ?
আরোশি: আগে বসি। (যেয়ে সোফায় শরীল হেলিয়ে দেয়)
আবরার: শরীল কি অনেক ক্লান্ত? (আরোশির পাশে বসে)
আরোশি: না তো।
আবরার: মিথ্যুক (বিড়বিড় করে)
আরোশি: কি? (কপাল কুঁচকে)
আবরার: কিছু না।
আরোশি: আপনার ফোন বন্ধ কেন? বাসার থেকে ফোন আসেনি?
আরোশি: না কেন কিছু হয়েছে? আসলে আমি ফোন টা বাসায় ফেলে এসেছি।
আরোশি মাথা নাড়িয়ে বলে
আরোশি: প্রতিদিন অফিসে আসার আগে সব সামনে গুছিয়ে রেখে আসি যেন আপনার কষ্ট না হয়। আর আপনি তারপর'ও মনে রাখতে পারেন না?
আবরার: তো কি করবো? মনে নেই তো মনে নেই। এত কথা বলো কেন? তোমাকে আর কিছু করতে হবে না আমার। আমার কাজ আমি করবো। (কড়া গলায়)
আরোশি: রাগছেন কে--
আবরার: তো কি করবো? তোমার ফালতু ক---...... কি হলো এইটা অসভ্য?
আরোশি আবরার কে রাগতে দেখে টুপ করে ঠোঁটে চু*মু খেয়ে বসে। আবরার অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। এই মেয়ে টা অনেক জ্বালায় তাকে। প্রথমে এইসব করে তাকে পাগল বানিয়ে পরে আস্তে করে চলে যায়। আবরার কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে সোজা হয়ে বুকে হাত গুজে সামনে তাকিয়ে রইলো। এইদিকে আরোশি মিটমিট হাসছে। গলা ঝেড়ে বলে
আরোশি: আসলে আপনি রাগলে লাল হয়ে যান তখন আমি নিজেকে আটকাতে পারি না। ইচ্ছে করে খেয়ে ফেলি আপনায়
আবরার: নির্লজ্জ।
আরোশি: বলেছি না আপনার জন্য স্বেচ্ছায় নির্লজ্জের খাতায় নাম লিখতে রাজি। রক্তে মিশে যাবে নির্লজ্জ।
আবরার কথা ঘুরিয়ে বলে
আবরার: আমি আজ মাহিয়ার birthday পার্টিতে যাবো।
আরোশি মুখ কালো করে ফেলে। কিছুক্ষন চুপ থেকে জোরপূর্বক হেসে বলে
আরোশি: যাওয়া টা কি খুব জরুরি জান?
আবরার: ইনজয় করতে যাবো না। জাস্ট দেখা করবো নয়তো ওই মেয়ে মাথা খেয়ে ফেলবে কেন যাইনি এইটা নিয়ে। এমনিও বাচ্ছাসরূপ আচরণ করে। আবার শেয়ার মার্কেট এর বিষয় কথা আছে ওর বাবার সাথে। এক বারে সেরে আসবো কথা।
আরোশি: আমার না কেমন যেন লাগছে। আপনার যেতে হবে না।
আবরার: আরোশি বললাম তো সখ করে যাচ্ছি না। বাধ্যতামূলক
আরোশি: না মানে,,,,, যাবেন না প্লীজ। আমার মনে হচ্ছে ঠিক হবে না যাওয়া।
আবরার: যার মনই ঠিক নেই তার তো সব বেঠিক লাগবেই। ( দীর্ঘ শ্বাস ফেলে)
আরোশি কথা টা শুনে ব্রু কুঁচকে বলে
আরোশি: মানে! আমার মনে আপনি ছাড়া আর কোনো পুরুষ নেই।
আবরার: ওহ্ তাই? মনে না থাকলেও জীবনে আছে
আরোশি: জীবনে'ও শুধু আপনি।
আবরার: নিহাদ কি?
আরোশি: ওহ আমার ভালো বন্ধু।
আবরার: ওহ আচ্ছা! আমার বেস্ট ফ্রেন্ড এখন তোমার ভালো বন্ধু হয়ে গিয়েছে যে রাতবেরাত দেখা করতে যাও?
আরোশি: প্রথমতো আমি তাকে অনেক আগের থেকে চিনি। নিহাদ শিকদার এর বাবা আমার বাবাই লাগে। রাজনীতি করে সে, আমি'ও করি ভুলে যাবেন না। আর দ্বিতীয়তো রাতে দেখা করতে যাই কাজে। দিনে আমার হাতে সময় হলে নিহাদ এর সময় হয় না নয়তো নিহাদ এর সময় হলে আমার হয় না।
আবরার: থাক আর কথা বানাতে হবে না। দেখা হলেই নিহাদ তোমার হাত ধরে। টেনে গাড়িতে উঠায়। আবার হাগ করে আচ্ছা এইগুলা মানলাম। কিস কেন করলো?
আরোশি অবাক হয়ে আবরার এর দিকে তাকায়। কিস! অসম্ভব। আরোশি দেখে আবরার এর চোখ লাল হয়ে আছে। রাগে? আরোশি একটা ঢোক গিললো। নরম কণ্ঠে বললো
আরোশি: কি বলছেন এইসব? কে ভরছে এইসব আপনার কানে? কার এত কলিজা?
আবরার কিছু না বলে ফোন বের করে একটা ছবি দেখায়। আরোশি দেখে পিক টা ওর আর নিহাদ এর। একবার দেখা হয়েছিল। রেস্টুরেন্ট এর সামনে দাঁড়িয়ে বিদায় নেয়ার সময় তখন কেউ তুলেছে। পিক টা এমন ভাবে তুলা মনে হচ্ছে ওরা কি*স করছে। কেউ ধরতেই পারবে না যা দেখাচ্ছে এইটা ভুল। আরোশি বুঝে যায় এখন কিছু বলে লাভ নেই। যেইখানে প্রমাণ স্পষ্ট কথা বলছে সেইখানে ওর মত মেয়ের মুখের কথা আর কি পরিবর্তন করবে? শ্বাস ফেলে আবরার এর দিকে তাকিয়ে বলে
আরোশি: এই বিশ্বাস করেন আমায়?
আবরার ফোন টা সামনের টেবিলে শব্দ করে রেখে বলে
আবরার: তোর মত মেয়েকে আমি বিশ্বাসই করি না। তুই রাজনীতিতে যাওয়ার পর থেকে আমি তোকে চিনি না। আমার জীবন শেষ করে দিয়েছিস তুই। নিহাদ কে চাই তো আমায় কেন বিয়ে করেছিলি? ছেড়ে দে। বল মুখ দিয়ে শুধু ব্যবস্থা আমি করবো। (রেগে)
আরোশি: আমার উপর আপনার অনেক অভিযোগ তাই না? আসলে আমার পেশাটা এমন যে জানের কোনো নিশ্চয়তা নেই। ঢাকার বাইরে যখন বড় বড় মিটিং এ যাই তারপর ফিরে আসবো কিনা তার কোনো গ্যারান্টি নেই। যাইহোক আল্লাহ করুক একদিন পরিস্থিতি এমন হোক আমি যেনো আপনার জীবন থেকে নাই হয়ে যাই। কারণ স্বেচ্ছায় আপনাকে ছাড়া আমার পক্ষে সম্ভব না তাই পরিস্থিতি সম্ভব করে দেক। আপনি খুশি থাকেন।
আবরার এর হুশ হয় রাগের মাথায় কি কি বলেছে এতক্ষন। কিন্তু কিছু বলে না। ওই ভাবেই বসে থাকে। রাগ কমেনি। বার বার মনে পড়ছে ওই ছবির কথা। নিহাদ কে সে এত বিশ্বাস করে আর নিহাদ কি করলো! সে এই নিহাদ কে দেখে ছাড়বে। বন্ধু নামে ভন্ডামি।আসলে এই অবাধ্য নারীটা কে সে কারো সাথে সহ্য করতে পারে না। ছোট থেকেই এই মেয়েকে সে কোনো ছেলের সাথে খেলতে দিত না। বুকে জ্বলে অন্যের সাথে ওকে খুশি দেখলে। তার কথা আরোশির খুশির কারণ সে হবে আবার দুঃখের কারণ'ও সে হবে। এই অবাধ্য নারীর সব কিছুতে শুধু সে থাকবে। আবরার কে কিছু বলতে না দেখে আরোশি সুন্দর একটা হাসি দিয়ে বলে
আরোশি: টিভিতে তো আপনার নাম ছড়াছড়ি। দেখেননি এখনো?
আবরার বুজলো না। রিমোট নিয়ে টিভি অন করে অবাক হয়ে গেল। টিভিতে দেখাচ্ছে চৌধুরী empire and earth empire এখন থেকে একসাথে কাজ করবে। এই খবর যা এখন ব্রেকিং নিউজ তবে এর সাথে আরেকটা খবর আছে। তা হলো top business man award of the year নিয়ে। আর এইবার top 10 business man দের মধ্যে এই চৌধুরী empire নাম্বার ওয়ান হয়েছে। অথচ বিগত 10 বছর ধরে mr.siwoo নামের একজন পেয়ে এসেছে। আবরার বুঝে যায় এইসব আরোশি করেছে।
আবরার: এইসব কি!
আরোশি: কি আবার ? আমার বাপ চাচার পরিশ্রমের ফল। এতদিন অযোগ্য একজন পেতো এখন যোগ্য একজন পাবে।
আবরার: আরোশি তু--
আরোশি: আমি তো আপনার উপর কোনো favor করছি না। আমি just earth empire আরো broad করতে চাই nothing else (বাকা হেসে)
আবরার কথা টা শুনে দাঁতে দাঁত চেপে বলে
আবরার: এই কোম্পানি বাবা আর ছোট আব্বুর পরে আমি হ্যান্ডেল করছি। আমি আমার নিজ যোগ্যতায় দার করিয়ে এই পর্যন্ত এনেছি তাই ভুলে'ও এর দিকে চোখ তুলে তাকিও না।
আরোশি শব্দ করে হেসে বলে
আরোশি: কিন্তু আমার চোখ তো পরে গিয়েছে তাই তো জানতে পেরেছি আপনার idea কে পাচার করছে।
আবরার: what!! (অবাক হয়ে)
আরোশি: হম। বাহির থেকে কেও এসে চুরি করেনি বরং ভিতর থেকেই বাহিরে যাচ্ছে। আপনি সবাইকে কনফারেন্স রুমে ডাকেন।
আবরার আরোশির কথা মত সবাইকে জড়ো করে। পাশের চেয়ারে যেয়ে পায়ের উপর পা তুলে আয়েস করে বসে আরোশি। সকলে আসলে আবরার বলে উঠে
আবরার: আমার প্রজেক্ট এর Idea কে লিক করছে?
সকলে অস্বীকার করতে থাকে। আরোশি'ও ঐখানে বসে ছিল। আবরার আরোশির দিকে তাকিয়ে বলে
আবরার: এদের মধ্যে কেউ করেনি।
এইবার আরোশি সকলের দিকে তাকিয়ে বলে
আরোশি: আমাকে নিশ্চই সকলেই চিনো। আমি দোষী কে বের করলে কতটা ভয়ানক হবে বিষয় টা বুঝতেই পারছো? এখনও সময় আছে স্বীকার করো ছেড়ে দিব নয়তো --- ভালোয় ভালোয় স্বীকার করো
এইবার'ও সবাই অস্বীকার করতে থাকে তাই আরোশি দেরী না করে নিজের পিছন থেকে পি*স্তল বের করে সোজা নীপা নামের একটা মেয়েকে শুট করে দেয়। সবাই অবাক আর ভয় তাকিয়ে আছে আরোশির দিকে। পুরো রুম একদম শান্ত হয়ে যায়। আবরার বিধ্বস্ত হয়ে তাকিয়ে বলে
আবরার: কি করলে এইটা?
আরোশি: ওহ আপনার idea চুরি করছিল আর আপনার শত্রুদের দিচ্ছিল। আমি বলার পর'ও স্বীকার করেনি কত সাহস দেখেছেন? আমাকে এত হালকা নেওয়া ঠিক হয়নি তাই মে*রে ফেলেছি। নিজের উপর গর্ভ হচ্ছে
বলে নিজের চুলে হাত বুলিয়ে ঠিক করতে থাকে। যেনো খু*ন করার মতো এই বিষয়টা অতি সাভাবিক একটা কাজ আরোশির জন্য। হ্যাঁ, সাভাবিক'ই তো।এইসব তো ওর জন্য দুধভাত। এই অন্ধকার রাজনৈতিক জীবনে নিশিরাতে কত পাখি উড়িতেছে এমন তার হিসেব নেই। এই পেশায় টিকতে হলে খারাপ হতে হয়। ভালোর অভিনয় জানতে হয় তবেই তো জনগণকে হাতে রাখতে পারবে। যে যত অভিনয় ভালো তার তত চাহিদা।
আবরার: আমি বুঝতাম কি করতে হবে। তোমাকে কে বলেছে পন্ডিতি করতে! এখন যদি পুলিশ এসে নিয়ে যায়? (চিন্তিত কণ্ঠে)
আরোশি: ওরা তো সরকারের কু*কুর। এদের পলিটিশিয়ান রা কিনে রাখে। একজন রাজনীতিবিদ কে পুলিশের কথা বলা নিহায়াতি বোকামি ছাড়া কিছুই না। এই আরোশির জন্য এখনও কোনো জেল তৈরি হয়নি। আপনি চিন্তা করবেন না মেরেছি আমি, বুজবো'ও আমি। শত্রুকে কখনো দ্বিতীয় সুযোগ দিতে নেই। ওইটা জীবনের সব চেয়ে বড় ভুল।
"""""""""""""""""""
Raju: কি নিবি চা না কফি?
আরোশি: পানি
Raju: নে।
রাজু পানি ঢেলে আরোশির হাতে দেয়।
আরোশি: thanks
Raju: ফর্মালিটি মেইনটেইন করা কবে শিখলি? শুনলাম বাড়িতে পুলিশ এসেছে।
আরোশি: হম। বিষয় টা কাকে নিয়ে জানো?
Raju: হম জানি। কি মনে হয় নিজে করেছে নাকি অন্য কেউ করেছে?
আরোশি পানি খেয়ে গ্লাস টা সামনের টেবিলে রেখে পা তুলে আরাম করে সোফায় বসে বলে
আরোশি: সত্যি বলতে আমার মনে হয় কেউ একজন। কথা টা "করেছে" না হয়ে "করিয়েছে" ও হতে পারে।
কথা টা শুনে রাজু কিছুক্ষন আরোশির চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে তারপর মাথা নাড়িয়ে বলে
Raju: তুই বাড়ি যা আমি দেখছি।
আরোশি: আমার হাতে বর্তমান সময়টা অনেক কাজ নয়তো আমি'ই দেখতাম বিষয় টা। এত ব্যস্ততার মাঝে নতুন ঝামেলায় সামিল হতে চাচ্ছি না রাজু ভাই।
Raju: চিন্তা করিস না। আমি দেখছি বললাম তো। রিয়াদ কোথায়?
আরোশি: অফিস এ। নাম্বার 1 বিজনেসম্যাম এর আওয়ার্ড পাওয়ায় প্রেস মিডিয়া ভির জমিয়েছে কোম্পানির বাইরে।
Raju: কোথায় যাবি তুই এখন?
আরোশি: বাড়ি তে। দেখি যেয়ে কি অবস্থা। বারবার ফোন আসছে বাড়ি থেকে আর আমি এইখানে সেইখানে ঘুরে বেড়াচ্ছি।
Raju: ঘুম, খাওয়া সব তো একদম এলোমেলো করে ফেলেছিস। তোর রেস্ট এর প্রয়োজন। যেই হারে অসুস্থ হয়ে যাস কয়দিন পর পর। ভুলে গিয়েছিস ডাক্টার বলেছে তোকে বেশি চাপ না নিতে?
আরোশি কথা টা শুনে শব্দ করে হেসে বলে
আরোশি: রাজনীতি জীবনে আবার কিসের বিশ্রাম? একবারে মরে বিশ্রাম নিবো। জীবন টা অনেক রঙ্গীল। নানান রঙের মানুষ আসে তাদের রঙের মেলায় রাঙাতে। সেই রং নিজের গায়ে লাগা মানেই সর্বনাশ। দূরে থাকাই ভালো এই সব রং থেকে। একটাই তো জীবন তাই সব বিষয় নিয়ে কেচাল করে কি লাভ বলো? একটু খেলতে দাও, দেখি কার দৌড় কতটুকু।
Raju: তোর কথার গভীরতা অনেক বেশি। সহজে কেউ বুজবে না। বলবে পাগল আর যারা বুজবে তারা শেষে বলবে "বুদ্ধিমান মেয়ে" আরেক ভাষায় বলে beauty with brain ..
আরোশি কথা টা শুনে হেসে দুইপাশে মাথা নাড়িয়ে উঠে দাড়ায়। চশমা পরে নিজের ব্যাগ নিতে নিতে বলে
আরোশি: আসি।
Raiu: ঠিক আছে যা।
আরোশি বের হয়ে গাড়িতে উঠে ডাইরেক্ট একটা স্কুলের সামনে দাঁড়ায়। কিছুক্ষন অপেক্ষা করার পর একটা বাচ্চা দৌড়ে আসে। বাচ্চাটা কে দেখে আরোশি মুচকি হেসে গাড়ির থেকে বের হয়ে বাচ্চাটা কে কোলে নিয়ে গাড়িতে বসায়। নিজেও যেয়ে গাড়িতে বসে আবার গাড়ী স্টার্ট দেয়।
আরোশি: তা mimi কেমন আছো?
Mimi: ভালো তুমি?
আরোশি: খুব ভালো। বাড়ি যাবে নাকি আমার সাথে যাবে?
Mimi: আগে mimi তোমার সাথে যাবে তারপর বাড়ি।
আরোশি: ঠিক আছে।
এই ছোট মেয়েটা সভাপতি মোতালেব মিয়ার নাতি। বয়স ছয় বছর। তার ছেলে আর ছেলের বউ কার এক্সিডেন্ট'এ মারা গিয়েছে। মোতালেব মিয়ার একটা মেয়ে আছে যে এতদিন এই বাচ্চাটা কে বড় করেছে, দেখে শুনে রেখেছে। মেয়ে বিয়ে দেয়ার পর এখন সে আর তার স্ত্রী এই mimi কে নিয়ে বেঁচে আছে। এক দিক দিয়ে বলতে গেলে এই Mimi মোতালেব মিয়ার দূর্বলতা। আর সব সময়ের মতো এইবার'ও আরোশি দুর্বলতায় হাত দিয়েছে। আরোশির মতে অন্যের দুর্বলতায় আঘাত করলে সামনের জন একাই ভেঙ্গে যায় যেইটা দেখে চোখের যেই শান্তি পাওয়া যায় সেই শান্তি সামনের জনকে আঘাত করলেও পাওয়া যায় না। এত দিন সব কাজের পাশাপাশি এই মেয়ের সাথে'ও দেখা করতো আরোশি। ভাব জমানোর জন্য এইটা সেটা কিনে দিত। মেয়েটা'ও ওকে খুব পছন্দ করে এখন।
গাড়িটা নিয়ে আইসক্রিম পার্লার এর সামনে দার করায়। দুইজন গাড়ী থেকে নেমে ভিতরে যেয়ে আইসক্রিম অর্ডার করে। তারপর একটা টেবিলে বসে গল্প করতে থাকে। Mimi আরোশিকে বলতে থাকে সে সারাদিন কি কি করেছে। আর আরোশিও আইসক্রিম খাচ্ছে আর চুপচাপ শুনতে থাকে মিমির কথা। বাড়ি থেকে ফোন আসছে কিন্তু এতে যেনো আরোশির কোনো যায় আসে না। কেউ দেখলে বলবে না এই মেয়েকে নোট লিখে ফাঁসিয়ে রেখে গিয়েছে লিলি। বিষয় টা যতটা স্বাভাবিক দৃষ্টি লাগছে আসলে ততটা সাভাবিক না। ওর আর আজমুল সাহেব এর পুরো রাজনীতি ক্যারিয়ার ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। হোম মিনিস্টার এর বাড়িতে একটা মেয়ে আ*ত্মহ*ত্যা করেছে বিষয় টা নিশ্চই জনগণ আর মেডিয়া সাভাবিক ভাবে নিবে না। শত্রুদের জন্য এইটা একটা প্লাস পয়েন্ট। যেহেতু আরোশিকে জড়িয়েছে এর মাঝে তাই এইটা শত্রুদের জন্য লটারি জেতার সুযোগ বললেই চলে।
॥
॥
॥
মাহিয়া: ওহ my dear আবরার। ফাইনালি তুমি এসেছো। কখন থেকে তোমার জন্য ওয়েট করছি জানো?
খুশি হয়ে বলতে বলতে যেয়ে আবরারকে জড়িয়ে ধরে। ঠিক তখনই কেও ঐটার ছবি তুলে নেয়। আবরার মাহিয়াকে সরিয়ে দিয়ে বলে
আবরার: আমি তোমাকে পারমিসন দিয়েছি জড়িয়ে ধরার?
কথা টা শুনে মাহিয়া মন খারাপ করে ঠোট উল্টিয়ে বলে
মাহিয়া: তোমার কি মুড অফ? রেগে যাচ্ছো কেন?
আবরার উত্তর না দিয়ে আসে পাশে তাকিয়ে বলে
আবরার: তোমার বাবা কোথায়! তার সাথে আমার কিছু কথা আছে। তারপর আমি চলে যাব।
মাহিয়া: বাবা তো চলে গিয়েছে একটু আগে। তুমি আরেকটু আগে আসলে দেখা করতে পারতে। কিন্তু প্লীজ এখন আর যেও না। আজ আমার birthday অন্তপক্ষে আজ এমন করো না।
আবরার: মাহিয়া দেখো----
মাহিয়া: প্লীজ আবরার প্লীজ। আচ্ছা ব্যাস আর কিছুক্ষন থাকো তারপর চলে যেও। আমরা সবাই অনেক মজা করছি। তুমি চলে গেলে আমার মন খারাপ হবে। অন্তপক্ষে আজ আমার কথা টা শুনো (মন খারাপ করে)
আবরার বুঝে মাহিয়া তাকে এখন যেতে দিবে না যায় হয়ে যাক। তাই ছোট করে বলে
আবরার: ok
কথাটা শুনে মাহিয়া খুশি হয়ে যায়। চওড়া হেসে বলে
মাহিয়া: থ্যাংক ইউ। তুমি অনেক ভালো। দাড়াও আমি আসছি।
মাহিয়া যেতেই আবরার যেয়ে এক কোনায় বসে। মাথায় ঘুরছে বার বার আরোশির না করেছিল আসতে এই বিষয় টা। ওই অবাধ্য নারীর জন্যই চলে যেতে চাচ্ছে সে তাড়াতাড়ি। যেই কাজে এসেছে তাতো হলোই না। বাড়িতে যেয়ে বউ নিয়ে ঘুম দিবে। বউ ছাড়া এইখানে একা বসে থাকার কোনো মানেই হয় না।
তখনি মাহিয়া আবার আসে। হাতে সফ্ট ড্রিঙ্কস নিয়ে এসে আবরার এর সামনে রাখে আরেকটা নিজের হাতে নিয়ে আবরার এর পাশে বসে। আবরার একবার গ্লাস এর দিকে তাকিয়ে বলে উঠে
আবরার: আমি কিছু খাবো না।
চলবে,,,,,,
( রোশনারা, নিহাদ, রাজু, আদি, আনান, মাহিয়া, সারা, সারার বাবা, কুমকুম, সাইদুল, রায়দা আরো অনেক। এদের মধ্যে যেকোনো কেউ হতে পারে যে আরোশির সাথে টক্কর দিয়েছে। যাদের নাম উল্লেখ নেই তাদের মধ্যে'ও কেউ হতে পারে। যেহেতু রাজনীতি রিলেটেড শত্রুর অভাব নেই। তাই পিছন দিয়ে যে কেউ আঘাত করতে পারে। হয়তো এমন একজন যে আমাদের ধারণার বাইরে 🤷)