ফন্ট সাইজ:
থিম:
এক হৃদয় হরনীর আসক্তি

৪৮তম পর্ব

লেখক: সাফা মারওয়া

#হৃদয়হরণীর_আসক্তি

#পর্বঃ৪৮

লেখিকা: #সাফা_মারওয়া

তখনি মাহিয়া আবার আসে। হাতে সফ্ট ড্রিঙ্কস নিয়ে এসে আবরার এর সামনে রাখে আরেকটা নিজের হাতে নিয়ে আবরার এর পাশে বসে। আবরার একবার গ্লাস এর দিকে তাকিয়ে বলে উঠে

আবরার: আমি কিছু খাবো না।

মাহিয়া: oh come on আবরার। আজ আমার বার্থডে। প্লীজ বার্থডে গার্ল টার জন্য খাও

আবরার কথা টা শুনে বিরক্ত হয়ে বলে

আবরার: তোমার বার্থডে, আমার না। তো তোমার কথা কেন শুনবো!

মাহিয়া গাল ফুলিয়ে বলে

মাহিয়া: আচ্ছা এইটা তুমি আমার সাথে খেলে আমি তোমায় এখনই যেতে দিব।

কথা টা শুনে আবরার সাথে সাথে গ্লাস টা নিয়ে খেতে থাকে। এক চুমুক দিয়ে ব্রু কুঁচকে গ্লাসের দিকে তাকিয়ে বলে

আবরার: এইটার ফ্লেবার এমন কেন?

মাহিয়া: এইটা নতুন এসেছে এই ক্লাবে।

আবরার আর কিছু বলে না। খেয়ে নেয় পুরোটা। যেই দাড়াতে যাবে তখনি মাথা টা ঘুরে উঠে। আবার বসে পড়ে আবরার। দুই হাতে মাথা চেপে ধরে। কেমন যেন লাগছে, চারপাশ ঘুরছে, শরীল অবস হয়ে আসছে, কথা বলতে পারছে না। মনে হচ্ছে গলায় কিছু আটকে আছে। পুরো বডিতে যন্ত্রনা হচ্ছে। আবরার বুঝে যায় মাহিয়া কিছু মিলিয়ে দিয়েছে ড্রিঙ্কস টায়। মাথা টা টেবিলে হেলিয়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলে আবরার। অস্পষ্ট গোঙানি সুরে বলে

আবরার: ক,,,কি মিসিয়েছো? প্লীজ এমন ক,,, করো না। আরোশি কে ফোন দাও।

মাহিয়া নিজের কাজে সফল হতে দেখে হেসে বলে

মাহিয়া: এত সহজে তো ছাড়বো না তোমায় baby। ওই আরোশির থেকে কত কষ্টে তোমায় একা পেয়েছি জানো! তাছাড়া ওর নজর সব সময় তোমার উপর থাকে। শুনেছি অনেক ব্যস্ত এখন। এইবার তো ব্যাস্ততার জন্য কিছু করতে'ও পারবে না। আজ এমন কিছু করবো যে তুমি এইখানে আসার জন্য সারা জীবন আফসোস করবে। জানো আরোশির সাথে আমার কি শত্রুতা! ওহ আমাকে একবার তোমার কোম্পানিতে অপমান করেছিল। আমি ভুলিনি। এত এত স্টাফ বিজনেসম্যান দের মাঝে ওহ কোন সাহসে আমাকে অপমান করে! এত সাহস হয় কি করে?

কথা গুলো বলতে বলতে একটা ওয়েটার সহ আবরার কে ধরে একটা রুমে নিয়ে যায় মাহিয়া। আবরার বুঝতে পারছে সব। শুনতেও পারছে কিন্তু কিছু করতে পারছে না। হাত বাড়িয়ে ধাক্কা যে দিবে সেই শক্তি টুকুও যেনো পাচ্ছে না। মাহিয়া দেয়ালের সাথে আবরার কে দার করিয়ে গালে, কপালে, চোখে নিজের অধর ছুয়াতে থাকে সাথে হাত দিয়ে আবরার এর শার্টের বোতাম খুলতে শুরু করে। আবরার এইবার অনেক কষ্ট করে শরীলের সর্বশক্তি প্রয়োগ করে মাহিয়াকে ধাক্কা দেয়। মাহিয়া ছিটকে যেয়ে পরে। মাথায় বারি লেগে জিম ধরে যায় একদম। আবরার চোখ মেলে তাকাতে পারছে না। নিভু নিভু চোখে হাতড়াতে হাতড়াতে দরজা পর্যন্ত যাওয়ার চেষ্টা করে। সে তো নড়তেই পারছে না। শরীল গরম হয়ে আসছে। বার বার পা ভেঙ্গে আসছে। চোখ লাল হয়ে গিয়েছে। মাহিয়া রেগে উঠে আবরার এর কাছে যেয়ে ধাক্কা দিয়ে ব্যাড এ ফেলে আবরার এর উপর উঠে পড়ে। আবরার গুঙিয়ে বলে

আবরার: এ,, এমন করো না।

মাহিয়া কথা কে তোয়াক্কা না করে আবরার এর গলায় কিস করছে। এইবার আবরার এর শরীল পুরো ছেড়ে দিয়েছে। তবুও নিজের সবটুকু শক্তি দিয়ে উঠার চেষ্টা করে আর অস্পষ্ট স্বরে বলে

আবরার: ম-মেরে ফ-ফেলবো আমি ত-তোকে

মাহিয়া: তাই নাকি জান? যে নিজের হুশে নেই সে কি বা মারবে!

বলে আবরার এর শরীলে হাত বুলাতে ব্যাস্ত হয়ে পড়ে। আবরার চোখ বন্ধ অবস্থায় নিজের হাত হাতড়িয়ে সাইড টেবিলের ওপর রাখা হুইস্কির একটা বোতল নিয়ে সজোরে মাহিয়ার মাথায় বাড়ি মারে। মাহিয়া ব্যথায় চিৎকার দিয়ে "আহহ" করে মাথা চেপে ধরে আবরার এর উপর থেকে উঠে যায়। র*ক্ত আসছে মাহিয়ার মাথা থেকে। মাথা ব্যাথায় টনটন করছে। সব ঘোলা লাগছে মাহিয়ার কাছে। এই সুযোগে আবরার তাড়াতাড়ি উঠে নিচে পরা মাহিয়ার ফোন হাতে নেয়। তাকাতে পারছে না আবরার তবুও টিপটিপ চোখে মুখস্ত করা নম্বর ফোনে উঠিয়ে কল লাগায়। ওপর পাশ থেকে রিং হচ্ছে। কিছুক্ষন পর কল রিসিভ হতেই বলে

আবরার: r-rid *** বারে আসো। আ-আমায় নিয়ে যাও এ-এইখান থেকে।

Rid: sir আপনার গলার আওয়াজ এমন শুনা যাচ্ছে কেন কি হয়েছে! আপনি চিন্তা করবেন না আমি বাইরেই আছি। আসছি।

আবরার আর কিছু বলতে পারলো না। মাহিয়া আবারো এসে ফোন নিয়ে নিলো আর একটা ইনজেকশন আবরার এর গায়ে পুশ করার জন্য হোস্তদস্তি করতে শুরু করলো। আবরার এর শরীল এইবার নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে। শরীল আর চলছে না। কি এমন মিশিয়েছে যে ওহ এমন ফিল করছে তা বুঝতে পারছে না। এক মাত্র সে জানে তার কেমন লাগছে। দম নিতে কষ্ট হচ্ছে, শ্বাস আটকে আসছে, চোখ মরিচের মত জ্বলছে। আবরার কে ঢুলতে দেখে মাহিয়া তাড়াতাড়ি আবার ব্যাড এ শুইয়ে দেয়। এইবার আর আবরার এর হুশ নেই। মাহিয়া আবার আবরার এর উপরে উঠে বসে। ঠিক তখন দরজায় কেও জোরে জোরে knock করতে থাকে।

।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।

আরোশি বাড়িতে এসে দেখে এখনও পুলিশ আছে।বাড়ির বাইরে 50 টার মত গাড়ী। 20 টার মত মিডিয়ার গাড়ী। সাংবাদিক ভরা চারপাশে। আরোশি কে গাড়ির থেকে নামতে দেখে তারা ভির জমায় সামনে। কিন্তু পুলিশ আর গার্ডদের জন্য পারছে না। তবুও এইটা সেইটা প্রশ্ন করে যাচ্ছে। চারপাশের নানা শব্দে আরোশির মাথা ধরে গিয়েছে। একেকটা প্রশ্নকে মনে হচ্ছে হাতুড়ি দিয়ে বারি দিচ্ছে মাথার ভিতর। আরোশি দাড়িয়ে যায়। ঠোঁটে আঙ্গুল দিয়ে সকলকে ইশারায় চুপ করতে বলে। সব চুপ। একটু আগের কোলাহল সেকেন্ডে স্তব্ধ হয়ে গেলো। আরোশি একজনের হাত থেকে একটা মাইক নিয়ে গম্ভীর গলায় শুধু বললো

আরোশি: আমাকে যারা চিনে তারা জানে আমি কি। যারা চিনে না তারা দোষারোপ করবে এইটা সাভাবিক। আপনারা শান্ত থাকুন আর মনোযোগ দিয়ে কথা শুনুন, আশা করি উত্তর পাবেন। রাজনীতিতে আমার চেয়ে বড় বড় পদের মানুষরা অপরাধ করে দেশ ছেড়ে চলে যায় আবার অনেকের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেলে শেষ পরিণতি হয় মৃ*ত্যু। তার কারণ আপনার জানেন। যাইহোক, আমি কিছু করিনি তাই আমি আমার বাড়ির সীমানায় দাড়িয়ে আছি। অফিসার রা তল্লাশি করছে, বডি পোস্টমর্টেম এর জন্য পাঠিয়েছে। যেইটা জন্য এত হৈচৈ সেইটা অফিসার নিজে এসে আপনাদের জানিয়ে দিবে ততক্ষণ শান্ত থাকুন নয়তো সঠিক উত্তর শুনার আগেই আমার বাড়ির সীমানা ছাড়তে হবে।

ঠান্ডা মাথায় আরোশির দাওয়া থ্রেট কারোর'ই বুঝতে অসুবিধা হয়না। আরোশি কতটা ভয়ানক সবাই কম বেশি জানে। তারা এই রহস্যময় মেয়েটার ব্যাপারে কোনকিছু পত্রিকায় বা টিভিতে টেলিগ্রাফ করতেও হাজার বার ভাবে। নয়তো তার জীবন কই নিয়ে দাড়া করাবে এইটা ভাবতেও তাদের শরীলে কাটা দিয়ে দেয়। সকলে শান্ত হয়ে গেলো। আর একটা প্রশ্ন করার সাহস পেলো না। এখন অপেক্ষা করবে অফিসারের।

আরোশি ভিতরে চলে গেলো। যেয়ে দেখে আজমুল সাহেব সোফায় বসে পুলিশ অফিসারের সাথে কথা বলছে। তার পিছনে রবিন দাড়িয়ে আছে। আরোশি আসে পাশে চোঁখ বুলিয়ে দেখে রোশনারা বেগম খাবার টেবিলে বসে মাথায় হাত রেখে কান্না করছে। পাশে জেসিয়া আর কুমকুম বেগম বসে আছে। কুমকুম বেগম এর চোখে'ও পানি। আরোশি কে আসতে দেখে তারা রেগে তাকিয়ে থাকে। আরোশি একটা বড় করে শ্বাস ফেলে বির বির করতে করতে যেয়ে আজমুল সাহেব এর পাশে বসে

আরোশি: নিজের মেয়ের খবর নাই পরের মেয়ের জন্য চোখে পানি। হাহ্ যত্তসব তামসা দেখতে হয়। ইচ্ছে করে-- এহেম এহেম

আরোশি: এখনও এত কোলাহল কেন বাড়িতে? (গম্ভীর গলায়)

রবিন ঝুঁকে কিছু একটা বলে আরোশির কানে। যা শুনে আরোশি সামনে বসা দুইজন অফিসার এর দিকে তাকায়। তাদের মাঝে একজন নড়ে চড়ে বসে। কোনরকম হেসে বললো।

পুলিশ: ম্যাম বিষয়টা হোম মিনিস্টার এর বাড়িতে ঘটেছে কতটা ক্রিটিকাল জানেন'ই তো। যে সুই*সাইড করেছে সে আবার আপনার মত একজন মানুষের নাম লিখে গিয়েছে। তো বুঝতেই পারছেন বিষয়টা কোন মোড়ে যায়।

আরোশি কথা টা শুনে কোনো প্রতিক্রিয়া না করে জোর গলায় ডেকে উঠে

আরোশি: মরিয়ম।

রান্না ঘরের পাশে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সব দেখছিল মরিয়ম। ডাক শুনে দৌড়ে এসে বলে

মরিয়ম: জ্বী আপু

আরোশি: আরে বাহ তুই দেখি আপু বলতে পারলি। সাব্বাস অপ্সরা। (হেসে)

ব্যাস। সামান্য একটু প্রশংসায় মরিয়ম খুশিতে গতগত হয়ে যায়। তার জন্য এইটা সামান্য না কারণ প্রশংসা টা করেছে তার পছন্দের প্রাণপ্রিয় আরোশি আপু। আজমুল সাহেব বাদে সকলে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। এইরকম একটা দরকারি কথা চলছে আর আরোশি আছে নিজের তালে। অফিসার দইজন একে অপরের দিকে তাকায়।

আরোশি: মরিয়ম বাড়িতে মানুষ এসেছে। চা নাস্তার ব্যবস্থা কর।

মরিয়ম এর কিছু বলার টাইম নেই। এক দৌড়ে রান্না ঘরে চলে গেলো। রোশনারা চুপ করে আছে শুধু আবরার এর জন্য। ছেলে একবার আসুক। সে এই মেয়ে কে মাইর খাওয়াবে। সে জানে কিভাবে তার ছেলের কান ভরতে হয়। আর কুমকুম বেগম আছে তার স্বামীর অপেক্ষায়। সাইদুল সাহেব কাজের সুবাদে নরসিংদী গিয়েছে। ফিরলেই এই মেয়ে কে তেজ্য করে দিতে বলবে। বাইরে মানুষ মারতো এখন বাড়ির মানুষ'ও মারা শুরু করেছে। খু*নি মেয়ে চাইনা তাদের। সমাজ কি বলবে? খু*নির বাবা, মা! এইটা শুনার আগে মরণ ও ভালো।

আজমুল সাহেব আরোশির হাতের উপর হাত রেখে কিছু বলতে যায় কিন্তু হকচকিত তাড়াতাড়ি হাত সরিয়ে ফেলে। আকস্মিক হয়ে তাকিয়ে বলে

আজমুল: তোমার এত জ্বর এলো কি করে? শরীল তো পুড়ে যাচ্ছে।

আরোশি: আরে ব্যাপার না। (নিশ্চিন্ত হয়ে)

আজমুল: অনেক আগের থেকেই এমন হচ্ছে। তোমাকে বলেছি ডক্টর দেখাতে। কাল ডক্টর আমি বাড়িতে ডাকবো।

এর মাঝেই মরিয়ম নাস্তা নিয়ে আসে। টেবিলে নাস্তা রেখে রোশনারা আর কুমকুম বেগম যেইখানে বসে আছে ঐখানে যেয়ে দাড়ায়। সে জানে আরোশিপু আসছে এখন এই পুলিশ একাই পালাবে। কিন্তু আবরার ভাই কোথায় এইটা মরিয়ম এর মাথায় ঢুকছে না।

সামনে বসে থাকা একজন পুলিশ অফিসার টেবিল থেকে চা উঠিয়ে খাচ্ছে আর আরোশির দিকে তাকিয়ে আছে। আরোশি আড়চোখে তার কাজ দেখলো। তার এইরুপ কাজের কারণ বুঝে চোখ সরিয়ে বাকা হাসলো আরোশি। ওহ জানে এই অফিসার বিরোধী দলের গোলাম। ওকে হাতে নাতে পেয়ে মনে করেছে সর্গ পেয়েছে। অবশ্য মনে করারই কথা। আরোশির কু*কীর্তি আজ পর্যন্ত কাকপক্ষীও টের পায়নি। আর আজ----

আরোশি আর না ভেবে নিজেও টেবিল থেকে একটা বিস্কুট নিয়ে পুরোটা মুখে পুরে নিল। আজমুল সাহেব নির্বাক বসে আছে। এতক্ষন তার যা বলার বলেছে। লিলি যাকে ফাঁসিয়ে গিয়েছে তার'ও তো বয়ান লাগবে। তাই এইবার নাহয় আরোশি বলুক আর সে চুপ থাকুক। শেষ টা কি হবে দেখা যাক। সেই অফিসার টা চায়ের কাপ রেখে বলে উঠে

-: এইবার তো আপনি ফেঁসে গিয়েছেন। কি করে এই প্রমাণ কে মিথ্যা বানাবেন মিসেস আরোশি চৌধুরী?

ঠিক তখন নিহাদ'ও আসে। এসেই আরোশির পাশে বসে। অফিসারের বলা কথা টা সে চৌধুরী বাড়িতে ঢুকার সাথে সাথে শুনেছে। আরোশি একবার নিহাদ এর দিকে তাকালো তারপর আবার ওই অফিসারের দিকে তাকিয়ে শান্ত সুরে বললো

আরোশি: মিস্টার আতিফ, তাইনা? হম অফিসার আতিফ। সুন্দর নাম, ঠিক আপনার মতো মানুষের সাথে মানায়। যাইহোক কি জন্য আসা হলো এইখানে?

-: আপনি জানেন না?

আরোশি: জানলে জিজ্ঞেস করে কেউ?

অফিসার টা খুত হেসে বললো

-: অভিনয় অস্কার পাওয়ার মতো। আপনি যে খু*ন করেছেন আপনার স্বামীর কাছের বন্ধুকে তা নিয়ে কি বলবেন?

আরোশি তাচ্ছিল্য হেসে বলে

আরোশি: ইন্টারভিউ নিচ্ছেন নাকি? হা হা হা। হাহ্? কি বললেন? আমি মেরেছি? তবে ছাদ থেকে কে পড়লো?

-: দেখুন আমাদের সময় নষ্ট করবেন না mrs. আরোশি চৌধুরী

আরোশি: তাহলে আপনারা আসতে পারেন

কথা টা শুনে অফিসার হেসে বলতে লাগে

-: বাইরে যারা ক্যামেরা নিয়ে অপেক্ষা করছে। তাদের আরেক ভাষায় কি বলে জানেন? শুকু*নের চোখ আর হাদ্রুতি মাথা। আমরা যা ভাবছি তাদের যেয়ে কি তাই বলবো? না মানে আপনি তো জানেন হেডলাইন দেওয়ায় কিন্তু তারা উস্তার। পরিস্থিতি কই দাঁড়াবে বুজতে পারছেন? রাজনীতি কাপানো আরোশি রমণীকে জেলে মানাবে না।

আরোশি তার ইনডাইরেক্ট বলা কথা গুলো শুনে হেসে দেয়। খুব ভালো ভাবে বুঝতে পারছে অফিসার আতিফ ওকে বিব্রত করার চেষ্টা করছে, ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। আরোশি চৌধুরীকে থ্রেট দেয় কথা টা ভেবে নিহাদ ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো। এই অফিসারের কথা শুনে পাশে বসে থাকা আরেক অফিসারের শরীল দিয়ে ঘাম ছেড়ে দিয়েছে। সে জানে এই আরোশি কি। খুব ভালো করে না জানলে'ও অনেক গভীর ভাবে শুনেছে আরোশির বিষয়। রাজনীতিতে খুব পরিচিত মুখ এইটা। এই মেয়ে এই বয়সে রাজনীতিতে যেই নাম কামিয়েছে, যেই ভাবে নিজের ব্রেইন ব্যবহার করে, যেইভাবে নিজের লক্ষ্য ঠিক রাখে এতেই বুঝা যায় ক্ষমতা কোথায় গিয়ে ঠেকেছে। নিজের বড় আব্বুর মাধ্যমে যার বেশিরভাগ উঠা বসা Chief minister, Prime Minister, President দের সাথে। প্রকাশ্যে নেতৃত্ব করে না এই মেয়ে। পুরো রাজনীতি মহল জানে আরোশির হাত যার মাথার উপর আছে তার বিরোধী দল কখনোই জিত হাসিল করতে পারবে না। বড় বড় পদবীদের পর্যন্ত সুজুগ হয়না দেখা করার আর সেই মানুষ কে আতিফ সাহেব থ্রেট দিচ্ছে, বিব্রত করার চেষ্টা করছে। ভাবা যায়? আরোশি কে শান্ত দেখে আতিফ এর পাশে থাকা অফিসারের যেনো আরো বেশি উত্তেজিত লাগছে। কিভাবে নিজে শান্ত থেকে সামনের জনকে শ্বাসরুদ্ধকর উত্তেজিত করা যায় এইটা তো এই মেয়ের থেকে শিখা উচিত। সে তো আরোশিকে দেখলে ভাবে এই নারীটার স্বামী কত ভাগ্যবান এত বুদ্ধিমান আর চতুর বউ পেয়েছে।

আজমুল সাহেব এইবার বলে উঠে

আজমুল: অনেক চিন্তা আপনার দেখা যায়! যাক ভালো লাগলো। অভিনয় কিন্তু ওহ একা অস্কার পাওয়ার যোগ্য না আপনি'ও যোগ্য অফিসার আতিফ। আসলে পলিটিশিয়ান তো তাই আরকি আসে পাশের খবর রাখতে হয়। কে কোন পাশ দিয়ে কান পেতে বসে আছে বলা তো যায় না।

আতিফ সাহেব বুঝতে পারে তারা জানে সে বিরোধী দলের সাথে মিলে আছে। আরিফ শব্দ করে গলা পরিষ্কার করে। না দমে গেলে চলবে না। নয়তো এরা তাকে পিষে ফেলবে। এইখান থেকে বের হওয়ার সাথে সাথেই বিরোধী দলের বড় সাহেবকে ফোন করতে হবে। নয়তো তাকে গুম করতে সময় নিবে না এরা।

আরোশি: তা আতিফ সাহেব আপনি যে বললেন আমি মেরেছি, আমি কি ফোন দিয়ে বলি যে "হ্যালো লিলি আমি আরোশি বলছি। আমার স্বামীর কাছের বন্ধু আপনি ছাদ থেকে লাফ দিন"

আরোশি হাত কে ফোনের মত করে কানে দিয়ে কথা টা বলে। কথাটা বলার ভঙ্গিকা দেখে নিহাদ হেসে দেয়। অফিসার নিহাদের দিকে একবার তাকিয়ে তার পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা তাদের'ই একজন কে কিছু একটা ইশারা করে হাত পাতে। লোকটা হাতে একটা কাগজ দেয়। অফিসার কাগজ টা নিয়ে আরোশির দিকে বাড়িয়ে দেয়। আরোশি কাগজ টা খুলে দেখে তাতে লেখা

"চৌধুরী ফ্যামিলি,,,,

তোমরা আমায় অনেক ভালবেসেছো। আমার বাবা মা নেই। আমি ছোট থাকতেই তারা না ফেরার দেশে চলে যায়। তোমাদের সাথে দেখা হওয়ার আগে আমার জানা ছিল না পরিবার থাকলে জীবন কেমন হয়। তোমরা আমায় বাবা মায়ের স্নেহ করেছো। আমি কখনও ভুলবো না। আমি অনেক কৃতজ্ঞ। আর আমার প্রিয় আব্রু, তুই তো আমার এমন একজন যাকে আমি কি বলে সম্বোধন করবো জানা নেই। আমাকে তুই অনেক সাপোর্ট করেছিস। সব কিছুতেই আমায় উৎসাহিত করতি। আমার তোর সান্নিধ্যে থাকতে খুব ভালো লাগতো। তবে এইটা আস্তে আস্তে ভালোবাসার রূপ নিবে আমি ভাবিনি। আমি তোকে খুব চাইতাম। কিন্তু এক ভাগ্যবতী তোকে পেয়ে গেল। ওর অনেক ভাগ্য তোর মত কাওকে পেয়েছে। জানিস আরোশি অনেক খারাপ। তোর অনপুস্থিতিতে আমার গা*য়ে হাত তুলে। আমায় মারতে চায়। বাজে কথা বলে। **** বলে আমায়। আজ তো সহ্যের সীমা অতিক্রম করে ফেলেছে। আমি আর সহ্য করতে পারিনি আবরার। নিজেকে আর পারলাম না তদের মাঝে রাখতে। তোকে বলার চেষ্টা করেছি কিন্তু আমায় বলেছে তোর পরিবারের ক্ষতি করবে যদি তোকে কিছু বলি। যখন বলেছি ওইটা তো আরোশি তোমার'ও পরিবার তখন ওহ আমায় বলে 'আমার তাতে কোনো যায় আসে না'। আমাকে মাফ করে দিস। তোকে ভালোবাসা যদি অন্যায় হয়ে থাকে তাহলে এই ভালবাসায় আমি মরতে'ও রাজি।

ইতি,

লিলি

আরোশি পুরোটা পড়ে তাচ্ছিল্য করে বিড়বিড় করে বলে

আরোশি: আব্রু?! হাহ্ ডং

আরোশি চিঠিটা নিহাদ এর হাতে দেয়। নিহাদও পড়তে থাকে। আর আরোশি অফিসার আতিফ এর দিকে তাকায় যে কিনা জয়ের হাসি দিয়ে তাকিয়ে আছে। আরোশি তা দেখে মুচকি হাসে। তারা আরোশির হাসির কারণ বুঝলো না। ঠিক তখন আতিফ সাহেবের ফোনে ফোন আসে। দেখে হাই কমান্ড থেকে ফোন এসেছে। সে তাড়াতাড়ি রিসিভ করে সালাম দাওয়ার আগেই ওপর পাশ থেকে তীক্ষ্ম গলায় বলে উঠে

-: এখনই বের হও আরোশি চৌধুরীর বাড়ি থেকে। অনেক সাহস হয়ে গিয়েছে? কার উপর অপবাদ দাও বুঝো? ম*রার পাখ গজিয়েছে? ভুলে যেও না তুমি সামান্য একজন পুলিশ অফিসার। সরকারের কর্মকর্তা। হোম মিনিস্টার আজমুল চৌধুরীর ছেলের বউয়ের উপর অপবাদ দাও? এত কলিজা কোথার থেকে পেয়েছো! তার ভাতিজি তার কাছে কি তুমি জানো না?

আতিফ: কিন্তু স্যার---

-: আমি মেয়ে এনে যদি তোমার নামে বাজে কথা লিখে কেস দেই তাহলে বিষয়টা ভালো হবে? লিখলেই সব প্রমাণ হয় না। মজবুত প্রমাণ জোগাড় করে তারপর আরোশির সামনে দাড়াও নয়তো ওহ তোমাকে ছিঁ*ড়ে খাবে। মাফ চাও আর তাড়াতাড়ি বিদায় হও ঐখান থেকে। আমি ঝামেলা চাইনা।

আতিফ সাহেব ফোন রেখে আরোশির দিকে তাকায়। আরোশি এইবার সোজা হয়ে বসে। হাসি মুখে তাকিয়ে বলে

আরোশি: আমি শুনেছি আপনার একটা মেয়ে আছে।

ব্যাস হয়ে গেল। আবারো দুর্বলতা। এই মেয়ের মাঝে মায়া দয়া বলতে কিছুই নেই। সব সময় সামনের জনের চরম দুর্বলতায় আঘাত করে। অথচ নিজের দুর্বলতায় একটা ফুলের আঁচ ও আসতে দেয় না। স্বার্থপর, নিজের স্বার্থে সব করতে পারে।

আরোশি: শুনলাম বিয়েও ঠিক হয়েছে। নিশ্চই চাইবেন না বিয়ে ভাঙুক? ক"লঙ্গ বাবার মেয়ে নিবে না বলে কিংবা বিষয় টা উল্টিয়ে দাওয়া যায়। যেমন ক"লঙ্ক আপনায় না বানিয়ে আপনার মেয়ে কে--- । বুঝতেই পারছেন কতটা কঠিন রাস্তায় পা ফেলেছেন। আমি চাইনা আপনার করা ভুল আপনার পরিবার বহন করুক যে ভুল করে তারই শাস্তি পাওয়া উচিত আমি বিশ্বাস করি।

কথাটা পরিবারে চলে গিয়েছে। এই পলিটিশিয়ান রা সব সময় সামনের জনের দুর্বলতা টেনে এনে আহত করে। এইবার আতিফ সাহেব সহ ঘামতে শুরু করেছে। আরোশির বলা "যে ভুল করে তারই শাস্তি পাওয়া উচিত" কথাটা মানে সে বুঝতে পেরেছে। আরোশি ইনডাইরেক্টলি বুঝিয়ে দিলো ওহ তাকে ছাড়বে না। তার এখন মনে হচ্ছে ঐভাবে সাহস করে জোর গলায় কথা গুলা বলা ঠিক হয়নি। তাকে ঘামতে দেখে নিহাদ মুচকি হেসে একটা টিস্যু এগিয়ে দেয়। তারপর সোজা হয়ে গম্ভীর গলায় বলে

নিহাদ: মানুষের সামর্থ্য অনুযায়ী আগানো উচিত।বিষয়টা যেইটাই হোক না কেন। আতিফ সাহেব আপনি ভুলে যাবেন না আপনি একজন পুলিশ অফিসার। সরকারেক কর্মকর্তা আরেক ভাষায় বলতে গেলে সরকারের চামচা। সরকার'ও কিন্তু আমাদেরই।

নিহাদের গলা শুনে আতিফ সাহেবের জান যায় যায় অবস্থা। সে নিহাদ কে চিনে। কিন্তু চিনে শুধু একজন বিজনেসম্যান হিসেবে। তার বাবা রাজনীতি করে সেই সুবাদে নাহয় আরোশি চিনে।কিন্তু আরোশির সাথে নিহাদের এত ভালো সম্পর্ক এইটা তার জানা ছিল না। কিভাবে মজবুত দেয়াল হয়ে এসেছে এই নিহাদ আরোশির জন্য।

আরোশি: বাইরে অনেক প্রেস মিডিয়া আছে তাদের আপনার দর্শন করুন। কি বলতে হবে তাতো জানেন। পরিস্থিতি যেনো হাতের বাইরে না যায় আতিফ সাহেব নয়তো কাল হেডলাইনে আপনার নাম থাকবে।

আতিফ একটা ঢোঁক গিলে। আজ কথায় একটু গোলমাল হলে কাল হেডলাইন এ তার মৃ*ত্যুর খবর থাকবে এইটাই বুঝালো আরোশি। এর মাঝেই নিহাদ বলে উঠে

নিহাদ: আপনার হাসি অনেক সুন্দর আতিফ সাহেব।

চলবে,,,,,,,,,,,,

(বেশি বেশি রেসপন্স করবে আর বলতে ভুলবে না কেমন হয়েছে। আমি চেষ্টা করবো লেখাতে ভুল যেনো না হয় তবুও হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবে প্লীজ🖤)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪৮তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন