#হৃদয়হরণীর_আসক্তি
#পর্বঃ৫১
লেখিকা: #সাফা_মারওয়া
ম্যাসেজ টা পড়ে ভিডিও দেখার সাহস হয়নি আবরার এর। ম্যাসেজ পড়ার পর থেকে আবরার এর হাত কাপছে সাথে বুকও। কি করবে কিছু বুজতে পারছে না। তবে এইটা বুজতে পারছে ছোট একটা ভুল করলেই সব শেষ। বাবার সম্মান, নিজের সম্মান, আত্মবিশ্বাস, রিমা তো ম*রেই যাবে আর রিফা তো নিজেকে কষ্ট দিবে। এমন ও হতে পারে ওরা লিলির মত পদক্ষেপ নিবে। তখন তার মা বাবা? পরিবার? সব শেষ হয়ে যাবে। পুরো চৌধুরী বাড়ি কালো ছায়া হয়ে যাবে। বাবা হার্ট অ্যাটাক'ও করতে পারে আর সাইদুল সাহেব? আবরার দেখেছে সে আরোশির থেকে রিমাকে বেশি আদর করে তাহলে ছোট আব্বুও ক্ষতি হবে। না সে কোনো ভুল করে সকলের হাসি কেরে নিতে পারে না। তখন সে নিজে'ও ভালো থাকবেনা।
আজ সে কিসব বললো আরোশিকে। না জেনে কত কথা শুনালো। কিভাবে মাফ চাবে? তার নজরে তার বলা সব সত্য ছিল কিন্তু লিলিকে মেরেছে এইটা ভুল। আবারো ভুল বুজলো তার অবাধ্য নারীকে। কথা টা ভেবেই আবরার এর চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পরলো। ছেলেদের নাকি কাদতে নেই। ভিতরে কান্না গুলো দলা পাকাচ্ছে না কাদলে বের করবে কি করে?
এর মাঝেই ডক্টর reyan বের হলো। সবাই ছুটে গেলো তার কাছে।
Reyan: আমি জানি না বার বার আমিই কেন ওর treatment করি। প্রতিবার ঠিক করি আমি আরোশির treatment করবো না কিন্তু......। শুকরিয়া করুন যে brain stroke টা minor ছিল mejor নয়। একটু কি যন্ত নেয়া যায়না ওর? অনেক র*ক্ত পরেছে শরীল থেকে। হাতের কারণে এমন হয়েছে। যাইহোক আমি বলেছিলাম খেয়াল রাখতে এই বয়সে এত চাপ মাথায় সমস্যা হবে। যতটুকু বুজলাম আরোশি ইদানিং একদম নিজের খেয়াল রাখেনি। অনেক বেশি কোনো কিছু নিয়ে টেনশন এ ছিল আর ঠিক মত খায়নি। tension free রাখা যায়না ওকে? কিন্তু অনেকের কাছে তো নিজের জেদটাই বড় সম্পর্কের চেয়ে।
আবরার বেশ বুঝতে পারলো কথা টা ওকে mean করে বলেছে।
আবরার: দেখা করা যাবে?
Reyan: আগে কেবিনে শিফ্ট করুক তারপর।
কিছুক্ষন পর আরোশিকে ক্যাবিনে দিলে আবরার আবার বলে দেখা করবে। তখন reyan বলে
Reyan: হম যাও তবে এইবার যেনো mejor brain stroke না করে।
আবরার কিছু বললো না। সোজা ভিতরে ডুকে গেল। যেয়ে দেখে আরোশির মুখে অক্সিজেন লাগিয়ে রাখা। রক্ত দিচ্ছে শরীলে। আকাশী রঙের হসপিটালের ড্রেস পরা। এই প্রথম বউয়ের গায়ে অন্য রঙের ড্রেস দেখলো। ছোট বেলায় পড়তো কিন্তু বুজ হওয়ার পর থেকে কালোর মাঝেই থাকে সর্বদা। তার মোটেও ভালো লাগলো না তার অবাধ্য নারীর শরীলে এই ড্রেস। ইচ্ছে করছে এখনই বাসায় নিয়ে যেয়ে তারপর ইচ্ছে মত মাফ চেতে তারপর কালো রঙ পরিয়ে আগের আরোশি বানাতে।
আবরার কাছে যেয়ে আরোশির বেডের দুইপাশে হাত ভর দিয়ে মুখোমুখি ঝুঁকে পাগলের মত সারা মুখে ঠোঁট ছুঁয়ে দেয়। বার বার, কয়েকবার একই জায়গায় অধর ছুঁয়ে দিচ্ছে। তারপর আরোশির হাত ধরে তাতে নিজের কপাল ঠেকায়। এতে টপ করে আবরার এর চোখের পানি হাতে পড়লো। আবরার বিড়বিড় করে বললো
আবরার: sorry বউ। আমি অনেক অনেক sorry... আজ আমার জন্য এইসব কিছু হয়েছে। তুই উঠ, চোখ খুল, কথা বল আমার সাথে, তাকা আমার দিকে তোর ওই ধবংসিত চোখ দিয়ে। তোর ওই চোখ দিয়ে তাকিয়ে ধ্বংস করে দে আমায়। আমি শেষ হয়ে যাবো তোর কিছু হলে, সত্যি শেষ হয়ে যাবো।
তখনি আবরার এর মনে হলো আরোশি নড়ছে। তাড়াতাড়ি চোখ মুছে তাকায়। দেখে আরোশি তাকানোর চেষ্টা করছে। আবরার ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে থাকে। আরোশি যখন পুরোপুরি তাকায় তখন পুরো রুম'এ চোখ বুলিয়ে দেখে এইটা হসপিটাল কেবিন। পাশে তাকিয়ে দেখে আবরার বসে আছে হাত ধরে। আরোশি নিজের হাতটা আস্তে করে ছাড়িয়ে নিয়ে মাথায় হাত দেয়।
আবরার: খারাপ লাগছে?
আরোশি:____
আরোশি উত্তর না দিলে আবরার আবারো জিজ্ঞেস করে
আবরার: ডক্টর ডাকবো ?
আরোশি: ____
আবরার: বলো আমায়।
আরোশি কিছু না বলে আসে পাশে তাকিয়ে কিছু খুঁজতে থাকে তা দেখে আবরার বলে
আবরার: কিছু খুজছো? কি হয়েছে বলো।
আরোশি:_____
আবরার: এই মেয়ে?
আরোশি:_____
আবরার: কথা বলো আমার সাথে।
আরোশি:____
এইবার আবরার অস্থির হয়ে যায়। এই মেয়ে কি বোবা হয়ে গিয়েছে? এখন কি সে বোবা বউয়ের স্বামী? দাম দিচ্ছে না তার বউ তাকে। বিষয় টা মোটেও পছন্দ হচ্ছে না তার।
আবরার: আরোশি শুনছো না?
আরোশি:____
আবরার: damnit..
বিড়বিড় করে বলে আবরার দরজার কাছে যেয়ে বাহিরে বসে থাকা সবাইকে বলে
আবরার: আরোশির জ্ঞান ফিরেছে
সাইদুল সাহেব সহ সবাই রুম এ আসে। আরোশি এখনও কথা বলছেনা। আবরার এক সাইডে দাড়িয়ে শুধু তাকিয়ে আছে আরোশির দিকে বরং সবাই তাকিয়ে আছে ওর দিকে। তখন reyan আসে রুমে। আরোশির কাছে যেয়ে র*ক্তের ব্যাগ খুলে স্লাইন লাগিয়ে দিল। তারপর BP মেপে দেখলো। আরোশি হাতে লাগানো কেনোরার দিকে তাকিয়ে আছে হটাৎ হাতের স্লাইন দেখিয়ে গম্ভীর সুরে বলে উঠলো
আরোশি: এইটা কি খুব জরুরি?
Reyan: হম। তুমি দুর্বল।
আরোশি এইবার reyan এর দিকে তাকালো। Reyan ও তাকায়।
আরোশি: দুর্বল না আমি। (গম্ভীর সুরে)
Reyan: আমি ওই দুর্বল এর কথা বল---
আরোশি: হম হম ভালো। (বিরক্ত হয়ে)
Reyan কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে বলে উঠে
Reyan: তুমি কি কোনো বিষয় রেগে আছো আমার উপর?
আরোশি: তোমার উপর কোন অধিকারে রাগবো? আজব।
Reyan: দিলাম অধিকার
বলে আর দাড়ায় না। সোজা চলে যায় রুম থেকে। দাঁড়ালেই আরোশি কিছু বলবে এই অধিকার দেয়ার বিষয়, সে জানে।
আরোশি তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ reyan এর যাওয়ার দিকে। ওপর দিকে আবরার রাগে হাত মুট্টি করে। এই মেয়ে তার সাথে কথা বলেনি অথচ reyan এর সাথে বললো আবার Reyan আরোশির সাথে এই ভাবে কথা বলাটা তাঁর একদম পছন্দ হয়নি। সে খুব ভালো করে জানে reyan আরোশি কে পছন্দ করে। Reyan এর চোখের ভাষা আবরার দেখেছে। Reyan কে সুজুগ পেলেই তার বউয়ের দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকতে দেখেছে অনেকবার।
আজমুল সাহেব আরোশির কাছে এগিয়ে আসে। মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে দেয়।
আজমুল: খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যাও।
আরোশি: high command এর ওখান থেকে ফোন এসেছিল?
আজমুল: হম। আমি দেখবো তুমি চিন্তা করো না।
আরোশি চুপ থেকে আবার বলে
আরোশি: পার্টি অফিসে তুমি যেও না।
আজমুল: কেন?
সাইদুল: এই অবস্থায় অন্তঃপক্ষে এইসব বাদ দাও। এত টেনশন----
আরোশি কিছু একটা ভাবলো এর মাঝেই সাইদুল সাহেব যা একটু বলতে পারলো কিন্তু শেষ করার আগেই---। আরোশি আবার বলা শুরু করে যেনো সাইদুল সাহেবের কথা শুনা তো দুর সে যেন অদৃশ্য।
আরোশি: আমি নিজে যেতে চাই। আমি দেখবো ব্যাপারটা , ব্যাস তুমি যেও না। প্রাইম মিনিস্টারের সাথে দেখা করো বড় আব্বু আর লিলির বিষয় টা দেখো। পোস্ট মর্টেম এর রিপোর্ট এসেছে?
রোশনারা: হম। সুই*সাইড কেস। লা*শ জীবিত থাকা অবস্থায় ডিপেশন এ ছিল কোনো বিষয় নিয়ে।
আরোশি: shi*t.. বড় আব্বু
আজমুল যেনো বুঝে গেলো কি বলবে আরোশি তাই সে বললো
আজমুল: হম ব্যবস্থা করছি আমি।
আরোশি: ছোট থেকে ছোট বিষয়'ও যেন তল্লাশি হয়।
আজমুল: হম ঠিক আছে।
আরোশি: আমি যে হসপিটালে এইটা যেন কোনো ভাবে লিক না হয়। কেও যেন না জানে। আমি ঝামেলা চাইনা। যাদের বলার আমি নিজে জানিয়ে দিবো।
আজমুল: নিহাদ আসছে। আমার কাজ আছে বাড়িতে দেখা হচ্ছে। মাথায় প্রেসার নিয়ো না। তোমার খুব রেস্ট এর প্রয়োজন
বলে সে চলে গেলেন। সাইদুল দেখছিল আরোশি আর আজমুল সাহেব কে। কথা বলার আগেই কিভাবে বুঝে যায় অথচ সে -- দীর্ঘশ্বাস ফেলে সাইদুল সাহেব কাছে এসে আরোশির মাথায় হাত রাখতে যায় কিন্তু আরোশি মাথা সরিয়ে ফেলে। না তাকিয়ে বলে।
আরোশি: ছুঁবেন না। কে জানে মাথায় হাত রেখে যদি মৃ*ত্যুর দোয়া করেন!
বলতে বলতে হাতের কেনোরা এক টানে খুলে ফেলে আরোশি। এইটা দেখে কুমকুম বেগম বলে
কুমকুম: তোর মাথা খারাপ? এইভাবে কেও এইটা খুলে? দেখতো এখন রক্ত বের হচ্ছে।
আরোশি সেই অংশে তুলা ধরে কুমকুম বেগম এর দিকে তাকায়। কুমকুম নিজেও অবাক হয় নিজের কথায়। সে তো আরোশিকে পছন্দ করে না তাহলে কি ভাবে বললো এইটা। তার কি চিন্তা হচ্ছে? কুমকুম এর কথা শুনে রোশনারা বেগম মুখ বাকায়। নিজের মেয়ের পিছনে লেগে থাকে সারাক্ষণ আর এখন দরদ উথলে পড়ছে। যত্তসব
আরোশি: রিমার মা আপনাকে এত ভাবতে হবে না। বয়স হয়েছে বেশি ভাবলে মাথায় প্রেসার পড়বে। তখন ম*রে গেলে আবার সমস্যা। এখনও যে অনেক চাল চালা বাকি আপনার।
মুখের উপর এইভাবে অপমান করায় বিষয়টা সবার গায়ে লাগে। সাইদুল সাহেব মলিন মুখে বলে
সাইদুল: মা তুই এই কথাটা বলতে পারলি!
আরোশি সাইদুল এর দিকে তাকিয়ে দেখে তার চোখে পানি কিন্তু আরোশির যেনো তাতে কোনো যায় আসে না। আবরার এর দিকে তাকিয়ে দেখে এখনো ওর দিকেই তাকিয়ে আছে। আরোশি চোখ সরিয়ে আবার সাইদুল সাহেব এর দিকে তাকিয়ে বলে
আরোশি: মা! মা ডাকছেন আমায়? এইসব বলবেন না। আমি কিন্তু খু*নি, ভয়ানক খু*নি। জান নিতে হাত কাপবে না। আপনি চোখের সামনে থেকে সরুণ ঘৃণা লাগে আমার।
আবরার: আহহা আরোশি কি বলছো এইসব?
আরোশি: কেন তুমি কানে শুনো না?
এই প্রথম আরোশি আবরার কে তুমি করে বললো। আবরার অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। কি বলবে ভাষা পাচ্ছে না। তখন কথা শুনিয়েছিল বলে এমন করছে এই মেয়ে? কিন্তু আগেও তো কত কথা শুনাতো কখনো এমন করেনি। উল্টো নিজেই আবার তাঁর কাছে আসতো। আজ হঠাৎ এত পরিবর্তন?
তখন reyan আবার আসে। সবার দিকে তাকিয়ে পরিস্থিতি বুঝার চেষ্টা করে কিন্তু বেশি কিছু বুঝতে পারে না। শুধু দেখে আবরার অবাক হয়ে আরোশির দিকে তাকিয়ে আছে আর সাইদুল সাহেব এর চোখে পানি। আরোশি চুপচাপ বসে আছে। রোশনারা আর কুমকুম এক সাইডে দাড়িয়ে আছে। Reyan সবার উদ্দেশ্যে বলে
Reyan: আপনারা একটু বাইরে যান আমি আরোশির সাথে কিছু কথা বলবো।
এক এক করে সবাই বাইরে গেলেও আবরার দাড়িয়ে থাকে। সে যাবে না এই ছেলের সাথে তার বউ কে রেখে। আরোশি চুপচাপ তাকিয়ে আছে আবরার এর দিকে যে নিজেও ওর চোখের দিকে তাকিয়ে আছে।
Reyan: কি হলো তুমি শুনতে পাওনি?
আবরার: আমি যাবো না (দাঁতে দাঁত চেপে)
Reyan: কারণ? আমি বললাম তো আরোশির সাথে দরকারি কথা বলবো। বের হাও রুম থেকে।
আবরার: তোমার সাহস কত আমায় বের করো।
Reyan: আরে আজব তুমি কি চাও? সিনক্রিয়েট করতে?
আবরার: আরোশি বলো
আরোশি: কি
আবরার: ওকে বলো আমি যাবো না।
আরোশি: কিন্তু কেন যাবা না?
আরোশি: আমার বউ রেখে আমি যাবো না কোথাও ব্যাস (কড়া গলায়)
আরোশি: ভালোবাসেন?
আবরার আরোশির দিকে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষন তারপর বলে
আবরার: না
আরোশি আর কিছু না বলে চোখ ফিরিয়ে নেয়। Reyan আবার বলে
Reyan: আবরার ত্যারামো করবে না। নয়তো আমি স্টাফ ডেকে তোমায় বের করতে বাধ্য হবো
আবরার এর কথা টা যেন ইগো তে লাগলো। রেগে কিছু না বলেই চলে গেল রুম থেকে। আবরার যেতেই আরোশি রেগে লাল হয়ে reyan এর দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলে
আরোশি: তুমি কোন সাহসে আমার স্বামীর সাথে এই ভাবে কথা বলো? আমি তার অপমান সহ্য করবো না একদম।
Reyan: এই ভাবে লাল হয়ে তাকিও না পরে আমার icu তে ভর্তি হতে হবে। তোমাদের দেখে মনে হচ্ছে তোমাদের মাঝে কোনো মিল নেই। না মানে সম্পর্কটা ক---
আরোশি: it's our personal matter Don't you dare to interfere..
Reyan: আমি তো শুধু আচরণ এর কারণে----
আরোশি: none of your business... যেটা বলতে চাও বলো
Reyan: কেনোরা কেন খুলেছো?
আরোশি: আমার ইচ্ছে।
Reyan কথা টা শুনে দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে। তারপর আরোশি কে বুঝানোর মত করে বলে।
Reyan: দেখো আমি জানি কাল বা পরশু থেকে তুমি আবার কাজ করতে শুরু করবে তাও আবার এই অসুস্থ শরীল নিয়ে যেটা তোমার জন্য অনেক ক্ষতিকর। তোমার care তোমাকেই করতে হবে আরোশি। তোমার কিছু হলে কারো কোনো যায় আসবে না বরং লাভ হবে। তোমার মৃ*ত্যু অনেকের কাছে লটারির টিকিটের সমান। আর সেটা তুমি জানো তাই যদি নিজে মরে অন্যের লাভ না করতে চাও তাহলে নিজের care করো at least এক মাস bed rest এ থাকো।
আরোশি: তাহলে আমার কাজ গুলো কে করবে? আরোশিকে বসে বসে খাওয়ানোর জন্য কেও বসে রয়নি।
Reyan: তুমি চাইলেই ব্যবস্থা করতে পারবে
আরোশি: না আমি পারবো না। (গম্ভীর গলায়)
Reyan: আরোশি রানী পাগলামি করে না প্লীজ
Reyan কে এইভাবে বলতে দেখে আরোশি কড়া নজরে তাকিয়ে বলে
আরোশি: এই ভাবে কথা বলবে না আমার সাথে। এই সুরে শুধু একজন মানুষকেই কথা বলার অধিকার দিয়েছি আমি
Reyan: আমি চাই তুমি সুস্থ থাকো
আরোশি: বাহ, আমার ভালো চাওয়ার কেউ আছে ভাবতেই অবাক লাগে। (বাকা হেসে)
Reyan: ভালোবাসি তাই ভালো চাই।
আরোশি reyan এর দিকে তাকায়। অবাক হয়ে বলে
আরোশি: কিহহ! I'm a married woman D.reyan ... কেউ শুনলে বলবে আমি আপনায় প্রেমের জালে ফাসিয়েছি। আমি স্বার্থপর। নিজের নাম খারাপ হোক কখনোই চাইনা।
Reyan: সব কিছু সবার জানতে নেই আমার এই বিষয় টা নাহয় দেয়াল আর আয়না জানুক। আজ সাহস করে এক মায়াবতী পরীকেও জানিয়ে দিলাম যে পরীকে আমি নিরস্বার্থ ভাবে ভালোবাসি। দূরে থাকতে চাই কিন্তু ঘুরে ফিরে তোমার ট্রিটমেন্ট আমারই করতে হয়। কষ্ট হয়, অনেক কষ্ট হয়। তুমি কাছে থাকলেও আমি তোমায় ধরে রাখতে পারি না এই বিষয় টা আমার হৃদয় পুরায়। আমার চাওয়াটা অবৈধ তাই দুরত্ব রাখার চেষ্টা করি কিন্তু এইযে তুমি আবার দেখা দিলে এতে মায়ার পাল্লা ভারী হয়। তখন নিজেকে সামলাতে আমি হিমশিম খাই। তুমি আমার না হও কিন্তু আমি চাই তুমি জানো এই পৃথিবীতে reyan নামের একজন তোমায় অসম্ভব ভালবাসে। চাইলেই সব পাওয়া যায় না। তুমি আমার অনেক সখের নারী যাকে পাওয়ার ভাগ্য আমার নেই। যাকে পাওয়ার সাহস দেখানোর মত সাহসও আমার নেই। কেউ খুব করে চেয়ে পায়না আর কেউ সেইটা পেয়ে দাম'ই দেয়না।
কথা গুলো বলেই reyan রুম থেকে বের হয়ে যায়। আরোশি স্পষ্ট দেখেছে reyan চোখের পানি আটকানোর চেষ্টা করছিল তাই চোখ লাল হয়ে গিয়েছে। ওহ স্তব্ধ হয়ে বসে রইলো। ভাবে নি ওকে কেউ এইভাবে চায় বা ভালোবাসবে। কেউ আরোশির মত বর্নাকে নিজের জীবন এ চায়? এত বোকা কেউ হয়? ওহ তো সব এলোমেলো করে ফেলে তাহলে ওকে কেন চায় এই ছেলে? নিজের ভালো তো পাগলও বুঝে।
চলবে,,,,
(Sorry for late,,, আমি গল্প না লিখে অন্যের গল্প পড়ায় এত মনোযোগ হয়ে গিয়েছিলাম যে আমি ভুলেই গিয়েছি তোমরা অপেক্ষা করছো। আমি একবার গল্পের ভিতর ঢুকে গেলে আর কোনো জগতের খেয়াল থাকে না। By the way এই গল্পের একটা কথা তোমাদের জানিয়ে দেই। ভাবলাম অন্য কোনো জায়গা থেকে শুনার আগে আমার থেকেই শুনো। এখন যেই হারে অন্যের উপর কপির অপবাদ দেয়। তোমাদের সাথে ভুল বুঝাবুঝি হোক আমি চাইনা। এই গল্পটা আমি আগে আরেক জায়গায় লিখেছি। সেইখানে আমার অনেক পাঠক রা বুদ্ধি দেয় এইটা fb তে দাওয়ার জন্য তাই এইখানেও দাওয়া but এইখানে আরো গুছিয়ে দিচ্ছি আমি। আরো সুন্দর করে ম্যাচিউর ভাবে দিচ্ছি যেইগুলো সেইখানে ঐভাবে দাওয়া হয়নি)