#হৃদয়হরণীর_আসক্তি
#পর্বঃ৫০
লেখিকা: #সাফা_মারওয়া
রিমা: বাবা কান্না করো না তুমি কান্না করলে আমার একদম ভালো লাগে না। তুমি বেস্ট বাবা
সাইদুল: নারে মা আমি ব্যার্থ বাবা। আমি পারিনি একজন ভালো বাবা হতে। আমার আরোশি ইন্ট্রোভার্ট ছোট থেকেই। সহজে কথা বলতো না। শুধু আবরার এর কাছে নিজেকে উজাড় করে দিত। আমি ওকে ছোট থেকেই তুচ্ছ করতাম। আবরার এর সাথে থাকতো। সারাদিন আবরার'ই আদর করতো, খাইয়ে দিত, ঘুম পারাতো। একটু বড় হওয়ার পর একদিন রাতে আমায় এসে বলে ওহ নাকি আবরারকে ভালোবাসে বিয়ে করতে চায়। সেইদিন আমি এইটা ভাবিনি যে এই প্রথম আমার ছোট পরী কিছু আবদার করলো বরং আমি ভেবেছি সারার কি হবে? আবরার ও তো সারাকে ভালোবাসে। আমি বিষয়টা তোর মাকে বলি তখন তোর মা যেয়ে ভাবিকে (আবরার এর মা) বলে তারপর ভাবি কি করেছে বা কি হয়েছে আমি জানি না তবে সেইদিন এর পর থেকে আবরার পরিবর্তন হতে থাকে। সেইদিন আবরার আরোশিকে ধাক্কা দিলো সাথে কথা শুনালো, তুচ্ছ করা শুরু করলো তখন যেনো আরো চুপ হয়ে গেলো আরোশি।হয়তো ভাবি আবরারকে বলে দিয়েছে যে আরোশি কি চায়। তাই হয়তো আবরার এমন করে এখন। তবে আমি আরোশি থেকে কখনো জানতে চাইনি, মাথায় হাত বুলিয়ে বলিনি কি হয়েছে বাবা কে বলো। তারপর থেকে আরোশি কে ভাইজান এর সাথে দেখতাম। সারাদিন ভাইজানের সাথে থাকতো। ক্লাস শেষ করে এসেই ভাইজান এর সাথে কোথাও চলে যেতো। তারপর কয়েক বছর পর সামনে আসলো আরোশি রাজনীতি করবে। সেইদিন ভাইজান বাদে আমি সহ বাড়ির প্রতিটা মানুষ কথা শুনাই। কিন্তু লাভ কি হলো? সেই রাজনীতি ধরলোই। রাজনীতি ওর জন্য নে*শা হয়ে গিয়েছিল। আস্তে আস্তে ওর পড়াশোনা থেকে মন উঠে গেলো। আমি আজ'ও বুঝতে পারিনি মেয়েটাকে। নিজের ভালোবাসা নিজে হাসিল করলো। বাবা হয়ে কোনো দাম দেইনি মেয়ের চাওয়া পাওয়া কে। কিভাবে মাফ চাবো আমি? করবে না ওহ মাফ। কঠিন হয়ে যাবে ওহ আমার উপর। মাফ করার মতো মেয়ে আরোশি না।
বলে চোখের জল ফেলতে লাগলো সাইদুল সাহেব। রিমা বাবাকে এইভাবে কাদতে দেখে এইবার খানিকটা রেগে বললো
রিমা: সব ওর জন্য হয়েছে। আজ আরোশির জন্য বাবা তুমি কাদছো। ওহ কারো ভালো চায়না। সবাই কে কষ্ট দেয়, কাঁদিয়ে ছাড়ে। আমার ওকে একদম পছন্দ না।
সাইদুল সাহেব এইবার চোখ মুছে রিমার দিকে তাকায়। কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে বলে
সাইদুল: আফসোস তুমি এখনো বুঝনি তোমার বাবার কষ্ট টা কোথায়। এখনও ওকে দোষ দিচ্ছ। বুজবে, একদিন তোমরা সবাই বুজবে।
বলে সে উঠে চলে গেলেন নিজের রুমে। কুমকুম বেগম এখনও দাড়িয়ে আছেন। বুঝতে পারছেন না তার ভুল টা কি। সে যা করছে আরোশির সাথে তা ভুল? তার ভাইকে মে*রে ফেলেছে এই মেয়ে। তারা প্রমাণ'ও পেয়েছে। তাহলে? আবার লিলিকে'ও বাঁচতে দিলো না। লিলির মত মেয়েও ওর হাত থেকে রেহাই পেলো না। সে ছাড়বে না এই মেয়ে কে। তাদের বাড়ির সবাই মাফ করলেও সে করবে না। তার একটা মাত্র ভাই ছিল। কত আদর করতো তাকে। তার জান ছিল তার ভাই। আজ হয়তো আরোশির বাবাকে দুইটা দুঃখের কথা শুনিয়ে নরম করেছে কিন্তু সে নরম হবে না। সে পাশে তাকিয়ে দেখে রোশনারা আর জেসিয়া বসে আছে। তাদের মুখ দেখে বুঝলো না কুমকুম বেগম যে তাদের মাথায় কি চলছে। হঠাৎ কুমকুম বলে উঠে
কুমকুম: আপা যেভাবে হোক আরোশির সাথে আবরার এর ডিভোর্সের ব্যবস্থা করুন।
রোশনারা: এটা আবার বলতে হয়। তাতো অবশ্যই করবো। কালই আমি উকিলের সাথে কথা বলবো এ বিষয়ে।
জেসিয়া: তোমরা যত সহজ ভাবতেছো এটা তত সহজ না। তোমাগো কি মনে হয় আরোশি এত সহজে ছাড়া দিব রিয়াদ রে?
রোশনারা: ওইটা আমি বুঝবো। আমি খুব ভালো করেই জানি আমার কি করতে হবে। কিভাবে দুজনকে আলাদা করতে হবে।
জেসিয়া: যা খুশি করো গা। আমার শরীরটা ভালো না মরিয়ম রে কও তেল গরম করে আমার ঘরে আনতে।
__________________
In phone,,,,,,,,
আরোশি: কোনো প্রবলেম হয়েছে?
-: আপু মামার জ্ঞান ফিরেছে
আরোশি কথাটা শুনে উত্তেজিত হয়ে বলে
আরোশি: সত্যি? কি অবস্থা? এখন কেমন আছে?
-: জি আপু ভালো আছে। ডাক্তার ইনজেকশন দিয়েছে। এখন ঘুম। একটু পর উঠে যাবে।
আরোশি: সব মনে পড়েছে? কিছু বলেনি?
-: ডক্টর বলছে সব মনে করতে একটু সময় লাগবে। এমনি সব ভালো আছে আপনার আসতে হবে আপু।
আরোশি: আমি কালই আসার চেষ্টা করবো। আমি ফোনে ডক্টর এর সাথে কথা বলবো।
-: ঠিক আছে
আরোশি: মামার ভালোমতো খেয়াল রাখিস।
-: এটা বলতে হবে না আপু আপনি কোন চিন্তা করবেন না।
আরোশি: ওকে bye
ফোন রেখে আরোশি নিহাদকে ফোন লাগায়। ফোন ধরতেই উপর পাশ থেকে বলে উঠে
নিহাদ: আরোশি রানী
আরোশি: নিহাদ মামার জ্ঞান ফিরেছে।
নিহাদ: woaaahhh finally
আরোশি: কি কন্ডিশন এখনো ঠিকমতো জানিনা। ডক্টরের সাথে কথা বলতে হবে।
নিহাদ: তো যাচ্ছো কবে ওখানে?
আরোশি: দরকার তো কালই যাওয়া কিন্তু হাতে প্রচুর কাজ, প্রচুর। আমার মাথা কাজ করছে না। দেখি কি করা যায়
নিহাদ: সুন্দরী বালিকা তোমার মুখে এটা মানায় না। You are a strong girl
আরোশি: women
নিহাদ: ohh yeah a beautiful strong women,,, আচ্ছা আগে এইটা বল আমি আসার পর কি হয়েছিল!
আরোশি একবার নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘ শ্বাস ফেলে একে একে সব বললো। সব শুনে নিহাদ বলে
নিহাদ: তোর ফ্যামিলি just disgusting
আরোশি শব্দ করে হেসে বলে
আরোশি: আমার ফ্যামিলি? হা হা হা আমার কোন ফ্যামিলি নেই। পরিবার শব্দের মানে অনেক বড় একটা বিষয়। তবে জামাই আছে একটা যে চাইলে আমার একটা ছোট্ট পরিবার হবে যেখানে থাকবো আমি, আমার বর আর ইয়ানা
নিহাদ: ইয়ানা আবার কে ?
আরোশি: আবরার রিয়াদ চৌধুরী আর আরোশি চৌধুরীর মেয়ের নাম হবে ইয়ানা চৌধুরী।
নিহাদ: আর ছেলে হলে?
আরোশি: না না। মেয়ে চাই, আমার মত সাহসী, ভিতুহীন মেয়ে চাই।
নিহাদ কথা টা শুনে হেসে দেয়। রসিকতা করে বলে
নিহাদ: তুই প্রথম মেয়ে যে নিজের ভালোবাসার মানুষটার ছোট ভার্সন চাসনা। You're different and unique
আরোশি: আমার মন্ত্রী সাহেব এক পিস। তার মত কেউ হতে পারেনা আর আমার চাইও না।
নিহাদ: তোমার মন্ত্রী সাহেব যে কি করবে তোমার সাথে কে জানে। এরা সবাই স্বার্থপর
আরোশি: জানি। থাক না কিছু জিনিষ স্বার্থপর। আমি নাহয় নিঃস্বার্থে ভালবাসলাম। আমার মন অবুঝ। আমি বুঝদার হয়েও এই মনের কাছে আমাকে সর্বদাই পরাজিত হতে হয়।
নিহাদ: এই প্রেম তোকে ভেঙ্গে না দেয় আবার। কিছু জিনিস দূর থেকে দেখতে সুন্দর আরোশি। ধরে অনুভব করতে নেই নয়তো মৃ*ত্যু নিশ্চিত যেমন ভালোবাসা।
আরোশি: যদি এমনই হয় তবে আমার পরিবর্তন ভয়ানক ঘটবে।
নিহাদ: নারী সর্বদাই রহস্যময়। জানিনা তোমার মাথায় কি চলছে তবে এতটুকু বুঝতে পারছি সামনে দারুন কিছু ঘটবে শুধু এতোটুকুই বলবো তোমার চোখে যেন পানি না আসে।
আরোশি: হা হা হা রাখো পরে কথা হবে।
নিহাদ: ok নিজের যত্ন নিস
ফোন কেটে পাশে বারান্দার কাচের রেলিং এ রেখে দিলো আরোশি। কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো নিজের র*ক্ত পড়া হাতের দিকে তারপর এক টানে কাঁচের টুকরোটা বের করে ফেললো। এতে র*ক্ত বক বক করে আরো পড়তে থাকে। ঠিক তখন টুং করে ফোনে শব্দ হয়। আরোশি র*ক্তমাখা হাতে ফোন নিয়ে অপরিচিত নাম্বার থেকে আসা মেসেজ বাটনে ক্লিক করে যা দেখলো তা দেখার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিল না। বেশ কিছু পিক এসেছে আবরার আর মাহিয়ার। একটা ভিডিও এসেছে যেখানে দেখা যাচ্ছে আবরার দেয়ালের সাথে হেলান দিয়া আর মাহিয়া আবরার এর সারামুখে ঠোট ছুয়াচ্ছে। আর একটা ছবিতে দেখা যাচ্ছে মাহিয়া আবরার এর ওপরে উঠে আছে। ছবি গুলোর নিচে একটা ম্যাসেজ এসেছে-
'খুব তো আবরার আবরার করো। দেখো তোমার স্বামী কি সব করে বেড়ায়'
আরোশি কিছুক্ষন প্রত্যেক টা ছবি জুম করে করে দেখলো। তারপর আবার সুন্দর করে ফোন টা আগের জায়গায় রেখে দিলো। রেলিং এর দুইপাশে হাতের ভর দিয়ে চোখ বন্ধ করলো। কিছুক্ষন পর চোখ খুলে জোরে জোরে হাসতে লাগলো। হাসির শব্দ মনে হচ্ছে দেয়ালে বারি খেয়ে ফিরে আসছে। র*ক্তে রাঙ্গা হাত, কালো রঙের ড্রেস, ছাড়া চুল, বারান্দা জুড়ে রক্তের ফোটা তার মাঝে দাড়িয়ে আছে এক সুন্দর নারী। যদি পরিস্থিতি জেনে কেও এই মেয়েকে এইরূপে দেখে তাহলে সে নিঃসন্দেহে বলবে ভয়ানক লাগছে এই রহস্যময় নারীকে। নিশ্চই পাগল। হঠাৎ আরোশি গান ধরলো।
আরোশি: Sanson ki mala pe simrun main pee ka naam.
Apne man ki main jaanun aur pee ke man ki Raam.
Sanson ki mala pe simrun main pee ka naam.
Yehi meri bandagi hai yehi meri pooja
Sanson ki mala pe simrun main pee ka n---
আবরার: আরোশি
হটাৎ আবরার এর ডাকে গান গাওয়া বন্ধ করে ঘুরে তার দিকে তাকায়। আবরার দেখে আরোশি একদম শান্ত হয়ে তাকিয়ে আছে। সে ভেবেছে আরোশি হয়তো কান্না করছে কিন্তু না এই মেয়ে তো শক্ত পাথর।
আরোশি: কিছু বলবেন?
আবরার যেয়ে আরোশির হাত ধরে নিজের কাছে টেনে এনে। দেখে এখনও হাত ব্যান্ডেজ করেনি আরোশি। টপটপ করে র"ক্ত পড়ে বারান্দায় ভরে আছে । আরোশির শরীলও হালকা কাপছে। ড্রাগস এর কারণে আবরার এর মাথা কাজ করছে না। আবারও ভুলে যায় কেন এসেছে আর কি বলতে এসেছে। আবরার আরোশির হাতে র"ক্ত দেখে তাড়াতাড়ি দৌড়ে ঘরে যেয়ে first aid box এনে ব্যান্ডেজ করে দেয়। আরোশি শুধু আবরার এর মুখের দিকে তাকিয়ে আছে।
আবরার: দেখো না র"ক্ত পড়ছে? ইসস কি অবস্থা
বলে আরোশির দিকে তাকায়। দেখে আরোশি তার দিকেই তাকিয়ে আছে। গভীর ভাবে তাকিয়ে আছে। হটাৎ আরোশি বলে উঠে
আরোশি: আমি লিলি কে মারিনি।
ঠিক তখনই আবরার এর আবার মনে পড়ে যায় লিলির কথা। ড্রা"গ এর কারণে সব মনে পড়ছে আবার ভুলে যাচ্ছে। আরোশির কথা শুনে এখন তার মাথায় শুধু লিলির কথায় ঘুরছে। নিজের কথা ঘুরছে, কিছুক্ষণ আগে ক্লাবে ঐ বন্ধ দরজার ভেতরে নিজের সাথে ঘটা ঘটনা গুলো করছে। ডিপ্রেস্ট হয়ে যাচ্ছে আবরার। নিজের উপর রাগ লাগছে সে কেন এই অবাধ্য নারীর কথা শুনলো না। হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে নিজের উপর ওঠা রাগ এখন আরোশির ওপর উঠাবে। উসিলা হিসেবে কাজে লাগায় লিলির বিষয়টাকে।
আবরার: তুমি আর কত মানুষ কে কাঁদাবে আরোশি? কত মানুষ কে কষ্ট দিবে? আমি ভাবতেও পারিনি তুমি এমন একটা কাজ করবে। তুমি জানতে না আমি লিলিকে নিজের বোনের মতো দেখতাম? আমি তো ওকে বলেছি চলে যেতে। ওহ চলেও যাচ্ছিল তাহলে কি দরকার ছিল ওর সাথে এমন করার? কেন করলে?
আরোশি আবার সামনে ঘুরে দাড়ায় যেনো কিছুই শুনেনি। রেলিং এ হাত দিয়ে চাঁদের দিকে তাকিয়ে আছে।
আবরার: আমি কিছু বলেছি তোমায়।
আরোশি:____
আবরার আরোশির সামনে এসে ওর বাহু ধরে নিজের দিকে ঘুরিয়ে বলে
আবরার: কি বলেছি শুনতে পাওনি?
আরোশি কিছু না বলে চুপচাপ তাকিয়ে আছে আবরার এর চোখের দিকে। আবরার রেগে বলে
আবরার: মুক্তি চাই আমার
আরোশি কথাটা শুনে মুচকি হেসে বলে
আরোশি: আপনি আমার বেঁচে থাকার কারণ। আপনাকে মুক্তি দিলে তো এই আরোশির কোনো অস্তিত্বই থাকবে না।
আবরার: তুমি স্বার্থপর। তুমি নিজেকে ছাড়া অন্যকাউকে নিয়ে কেন ভাবতে পারো না?
আরোশি:_____
আবরার: কেন মারলে লিলিকে?
আরোশি:____
আবরার: ওহ বুঝেছি। আমার বন্ধু বলে? আমায় ভালোবাসতো বলে? জড়িয়ে ধরতো বলে?
আরোশি:____
আবরার: কি হলো বলো?
আরোশি: ____
আবরার এইবার তাচ্ছিল্য হেসে বলে
আবরার: তোমার ভালোবাসাটাই ভালোবাসা অন্যকারো টা কিছুই না। তাই না? কেউ আমার দিকে তাকালে তার চোখ তুলে দাও। কেউ কটু কথা বললে বা ভুল করে আমায় স্পর্শ করলে শাস্তি স্বরুপ তাকে জানে মেরে ফেলো। এখন লিলি আমায় ভালোবাসে বলে তুমি ওকে ও মে*রে ফেলেছো
আরোশি: ____
আবরার: তুমি যে আমায় দিনরাত তিলে তিলে মারছো সেই শাস্তি তুমি কিভাবে দিবে?
আরোশি চুপচাপ শুনে যাচ্ছে। কিছুই বলছে না।
আবরার: এতোসব করে তুমি কি প্রমাণ করতে চাও? তুমি আমায় খুব ভালোবাসো? আরে ভালোবাসা কি সেটা তো তুমি জানোই না। তুমি না ভালোবাসতে জানো আর না ভালোবাসার মানে বুঝো। ভালোবাসা মানে হাতের মুঠোয় বন্দী করে রাখা না, ভালোবাসা মানে খোলা আকাশে ছেড়ে দাওয়া যেটা তুমি কখনও বুঝোনা। কারণ তুমি আমায় ভালবাসো না infact তুমি কাউকেই ভালবাসতে পারো না নিজেকে ছাড়া। তুমি আমার ভালবাসাও আমার থেকে কেড়ে নিয়েছো। আমি বলেছিলাম বিয়েতে ঝামেলা করো না। আমি সারাকে চাই কিন্তু তুমি তাই করলে যেইটা তোমার ইচ্ছে হলো। তুমি স্বার্থপর সবসময় নিজের কথা ভাবো। মুক্তি চাই আমি আরোশি মুক্তি চাই।
কথা গুলো চিল্লিয়ে বলে আবরার আরোশি কে ছেড়ে রুম থেকে বের হয়ে চলে যায়। আরোশি বিড়বিড় করে বলে
আরোশি: আমার পাখির অনেক সখ মুক্তির তাইনা? Wait and see
বলে চোখ বন্ধ করে বড় করে শ্বাস ফেলে। শরীল ঝিমঝিম করছে। অতিরিক্ত র*ক্ত পড়ায় এখন শরীল নিস্তেজ হয়ে পড়ছে। আরোশি রেলিং ধরে নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করে। মাথার ভিতর কেমন যেনো লাগছে। সব কিছু কিভাবে সামলাবে এই টেনশনে নাকি আজ এত কিছু হলো এইজন্যে বুজতে পারছে না। হঠাৎ আরোশি মাথা চেপে ধরে ঠাস করে পড়ে যায়। কারো জানা নেই ওর অজ্ঞান হওয়ার খবর। ভাগ্য ক্রমে মরিয়ম আসে ওর সাথে দেখা করতে। মরিয়ম আবরার কে খুব ভয় পায় তাই আবরার থাকা অবস্থায় আসার সাহস হয়নি কিন্তু যখন দেখলো আবরার বের হয়ে যাচ্ছে সেও আসে আরোশির হাতের অবস্থা জানতে। এসে ওকে রুমে না পেয়ে বারান্দায় দেখে আরোশি নিচে পড়ে আছে। সাথে সাথে একটা চিৎকার দেয়। চিৎকারের শব্দে আবরার থেমে যায়। মাত্র বাইরে যাওয়ার জন্য দরজা খুলতে যাচ্ছিল। দৌড়ে উপরে যায় সাথে বাড়ির সবাই ও যায়। আজমুল সাহেব এর মাত্র চোখ টা লেগেছে। মরিয়মের চিৎকার শুনে ঘুম উড়ে যায়। রুম থেকে বের হয়ে দেখে আবরার এর রুমের দিকে সবাই যাচ্ছে সে ও যায়। দেখে আরোশি অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে। ধরার আগেই আবরার কোলে নিয়ে গাড়ী বের করতে বলে।
<<<<<<<<<<<<
হসপিটাল এর করিডোরে বসে আছে আজমুল আর সাইদুল। রোশনারা আর কুমকুমও এসেছেন। এই প্রথম আরোশির জন্য তারা এসেছে। বিষয় টা অবাক করার। কিন্তু কিছু বললেন না আজমুল সাহেব। আবরার মাথা নিচু করে এক কোনায় দেয়াল ঘেষে দাড়িয়ে আছে। একটু আগে তার ফোনে sms এসেছে সেই অচেনা নাম্বার থেকে যেইখানে স্পষ্ট লেখা ছিল
"কেমন লাগলো বেস্ট ফ্রেন্ডকে হারিয়ে? আসলে দোষ টা যার না তাকে দিয়েছো তুমি। মেরেছি তো আমি কিন্তু বেচারা আরোশি। জানো দোষ না করেও দোষী হওয়ার ব্যাপারটা দারুণ। লিলি আরোশির জন্য মরেনি বরং ওর একটা প্রাইভেট ভিডিও আমার কাছে যেটা ওকে দিয়ে ব্লাকমেইল করেছিলাম। বলেছিলাম আরোশি কে ফাঁসিয়ে নিজের জা*ন নিতে। বোকা মেয়ে তাই করেছে। ভালো হয়েছে মরেছে। ইসস বেচারি আরোশি কে পেসেন্ট হয়ে হসপিটাল পর্যন্ত যেতে হলো। বিষয় টা ভালো লাগছে আমার। জানতে ইচ্ছে করছে আমি কে? আমি হলাম ঝড়। তোমার আর আরোশির জীবনের ঝড়। আরো অনেক খেলা বাকি mr. আবরার রিয়াদ চৌধুরী| আরোশি কে বলার চেষ্টা বা যদি চালাকি করার চেষ্টা করো তবে তোমার বোনের বিডিও সহ রিমা আর লিলির বিডিও ছেড়ে দিব ইন্টারনেটে। হোম মিনিস্টার আর নম্বর ওয়ান বিজনেসম্যান এর বাড়ির মেয়েরা বে**** বলতে মুখ বাদবে না মানুষদের। সম্মান খোয়াতে না চাইলে আমি যেমন টা বলবো ঠিক তেমন টা করবে। ভুলেও চালাকি না"
ম্যাসেজ টা পড়ে ভিডিও দেখার সাহস হয়নি আবরার এর। ম্যাসেজ পড়ার পর থেকে আবরার এর হাত কাপছে সাথে বুকও। কি করবে কিছু বুজতে পারছে না।
চলবে,,,,,
( কে হতে পারে এইটা বলো? বেশি বেশি রেসপন্স করো 🖤)