ফন্ট সাইজ:
থিম:
একখণ্ড আসক্তি

১ম পর্ব

লেখক: রশনি করিম

"ভাইয়া প্লিজ তুমি যেও না। বড় বাবাকে একটু বলো না তুমি।তুমি বললে বড় বাবা ঠিকই বাসায় ফেরত আসবে।প্লিজ ভাইয়া যেও না"

কান্না জড়িত কন্ঠের অধিকারী নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে ফুপিয়ে উঠে আবার বলা শুরু করলো,

"প্রমিস,তোমার রুমে আর যাব না।তোমার পেইন্টিং গুলোতেও আর হাত দেবো না।সত্যি! শুধু তুমি যেও না,প্লিজ"

৮ বছর বয়সী মেয়েটা কান্না ভাঙ্গা গলায় কথাগুলো বলেই যাচ্ছে।নোনা জলে ভরাট ঘোলা চোখ দুটো সামনের ব্যক্তিতে আবদ্ধ।নরম তুলতুলে ছোট হাত দুটোর মধ্যে সামনের ব্যক্তির হাতের আঙ্গুলগুলো খুব শক্তভাবেই আবদ্ধ।

১৭ বছরের কিশোর ছেলেটি অনুভূতিহীন মুখে অপলোক সামনের বাচ্চা মেয়েটিকে দেখে যাচ্ছে। কান্না করে-করে চোখ মুখের সাথে নাকের ডগা ও গাল দুটোও টকটকে লাল হয় আছে মেয়েটার।কতক্ষণ ধরে কাঁদছে কে জানে? সময় বেশিক্ষণ হওয়ায় চোখের নোনা জল গুলো তাদের রাস্তা একদম নির্ধারণ করেই নামছে।

অকস্মাৎ তাদের পাশের রুমের দরজাটা খুলে এক মহিলা বেরিয়ে এলেন। মেয়েটির হাত থেকে ছেলেটির হাত এক ঝটকায় ছাড়িয়ে নিলেন তিনি।মহিলাটির এহেন কাণ্ডে বাচ্চা মেয়েটির এইটুকুন শরীরটাতে ঝাঁকুনি দিয়ে উঠলো।মহিলাটি ছেলেটিকে উদ্দেশ্য করে বললেন,

"যার জন্য আজ এত কথা শুনেছিস,তার হাতে আবদ্ধ হয়ে আছিস,লজ্জা করছে না?"

বাচ্চা মেয়েটি হেঁচকি তুলতে নিয়েই মহিলাটির দিকে দেখল,

"বড়মা,বড় বাবাকে বলোনা প্লিজ। ভাইয়াকে যেন বাইরের দেশের না পাঠায়।আর তোমরাও যেও না। বাবা-মা,চাচু-চাচী মা কারো ভালো লাগবে না তোমরা চলে গেলে"

মেয়েটির পাশে কোমল দৃষ্টিতে দেখতে লাগলেন মহিলাটি।ভঙ্গিমা দেখে মনে হলো এখনই ডুকরে কেঁদে উঠবেন।তৎক্ষণাৎ কিছু মনে পড়ায় চেহারার ভাব-ভঙ্গি পরমুহূর্তেই বদলে গেল।এখন সেই চেহারায় রাগের প্রতিচ্ছবি।তিনি গম্ভীর কণ্ঠে শুধালেন,

"তোমার বাবা তার রাগ,জেদ আর সম্পদ নিয়েই ভালো থাকবে"

কথাটি শেষ হওয়ার পর মুহুর্তেই ছেলের হাত ধরে সামনের দিকে হাটা দিলেন তিনি।

কিশোর ছেলেটি এখানে নির্বাক শ্রোতা বৈকি আর কিছুই না।মায়ের হ্যাচকা টানে টাল সামলে একবার পেছনে দেখলো সে।কান্নারত ললনাময়ী মুখটা থেকে আবার একই কথা বেরিয়ে এলো,

" প্লিজ ভাইয়া যেও না"

আবার ডুকড়ে কাঁদতে শুরু করল লাল কপোল দুটোর অধিকারী।হসপিটালের ফাকা করিরোডটা সেই কান্নার শব্দে ঝন-ঝন করে উঠলো।পশ্চিমের বড় জানালাটা থেকে ডুবন্ত সূর্যের আলোর ছটা এসে কিশোরের চোখে মুখে আছড়ে পড়ছে।যার দরুন কান্নারত ললনাময়ী মুখটা ভালো করে দেখতে পারছেনা।তারপরেও যেন চোখ পিটপিট করে পেছনে ফেলে আসা সেই মুখখানাই দেখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সামনে এগিয়ে যাওয়া কিশোরটি।

বাজখাই ফোনের রিংটোনে তড়িৎগতিতে চোখ খুলল #সাহিত্য।সিলিংটার পাশে বড় বড় চোখ বের করে দেখে আছে সে।জোরে জোরে শ্বাস নেওয়ায় শক্ত-পোক্ত পুরুষালী বুকটা বারবার ওঠানামা করছে।পুরো শরীর ঘামে ভিজে জব জব করছে তার।বুকের ভেতরের হৃদপিন্ডটা এত জোরে নড়ছে যে মনে হচ্ছে এখনই চামড়া ফেটে বেরিয়ে আসবে।

মিনিট পাঁচেক অমনি চলল সাহিত্যের হৃদপিণ্ডটা।ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান বোঝার চেষ্টা করল সে।তার রুমে আছে সে,কোনো হসপিটালে না।কিন্তু কানে যে এখনো সেই কান্নারত ললনাময়ীর ডাক ভেসে আসছে। আর তার সাথে-সাথে ফোনের বাজখাই রিংটোনটাও।

দীর্ঘশ্বাস চলাচল টা চলতি রেখেই ঘাড়টা উপরের দিকে ঘুরিয়ে বিছানার এক কোণের অবহেলায় পড়ে থাকা ফোনটার পাশে দেখল সাহিত্য।বাসায় এসে বিছানায় বসে শার্ট খুলতে নিয়েই কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছে সাহিত্যের স্মরণে নেই। পা ঝুলিয়ে বিছানায় বসেছিল,সেই অবস্থাতেই শুয়ে পড়েছে বিছানার মাঝ বরাবর।

ফোনটা হাতে নিয়ে দুই সেকেন্ড ফোনটার দিকে দেখে থাকলো সে।রিসিভ করে কানে ধরে উঠে বসলো। সাহিত্য কিছু বলার আগেই ফোনের ওপাশ থেকে এক ছেলের ঝাঁঝালো কন্ঠ শোনা গেল,

" কতক্ষণ থেকে কল দিচ্ছি! কই ছিলি তুই? বাসায় যে পৌঁছেছিস,একটাবার জানানো প্রয়োজন মনে করিস নি?"

সাহিত্য বাম হাতের দুই আঙ্গুল দিয়ে বাম ভ্রুর শেষ অংশ হালকা ডলতে লাগলো।ক্ষণস্থায়ী মাথা ব্যথা থামানোর হালকা চেষ্টা।ঘুম ভাব ধরা হাস্কি স্বরে শুধালো,

" সরি। এসে কখন ঘুমিয়ে পড়েছি বলতেই পারিনা"

সাহিত্যের দীর্ঘশ্বাস চলাচলের শব্দ শুনে ফোনের ওপাশ থেকে শুধালো,

"তুই এমন জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছিস কেন?"

কথায় একটু বিরতি দিয়ে আবার বলল,

"আবার ওই স্বপ্ন দেখেছিস?"

সাহিত্য ছোট করে উত্তর দিল,

"হুম"

"আর ইউ অলরাইট?যাব কি আমি?"

"না আমি ঠিক আছি"

শান্ত স্বরে কথাটা বলে মাথা তুলতেই রিডিং টেবিলের উপরে রাখা একটা ফাঁকা ওয়াইনের গ্লাস আর একটা রেড ওয়াইন এর বোতলের দিকে নজর গেল সাহিত্যের।অন্ধকার রুমে বড় কাচের দেয়াল ভেদ করে যতটুকু আলো আসছে রুমের প্রতিটা জিনিস দেখার জন্য সেটাই যথেষ্ট।কালচে সবুজ বোতলটাতে একটা গোল্ডেন বো বাধা।ফোনের ওপাশ থেকে ব্যতিব্যস্ত কন্ঠে আবার শুধালো,

" আমি বের হচ্ছি।তুই রেডি থাকিস,আজকে তোকে ডাক্তারের কাছে যেতেই হবে"

কাধ দিয়ে ফোনটা কানে চেপে ধরে ওপেনার দিয়ে বোতলের কর্কটা খুলতে নিয়েই শান্ত স্বরে বলল সাহিত্য,

"ভিকি চুপ যা তো। আমি ঠিক আছি, বললাম তো"

মুখে 'চ' বর্গীয় আওয়াজ করে শুধালো ভিকি,

"ঠিক থাকলে তোর ওই নাইটমেয়ারটা বার বার দেখতি না, অহি"

ফাঁকা গ্লাসটাতে জমাট বাধা রক্ত বর্ণের ন্যায় তরল ঢাললো সাহিত্য।অতঃপর ভিকির কথার উত্তর না দিয়ে হালকা মেকি হেসে উঠলো।ফোনটা হাত দিয়ে ধরে ডান হাতে অর্ধ ভরা ওয়াইন গ্লাসটা নিয়ে রুমের বড় কাচের দেয়ালের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো সাহিত্য।অধরজোড়া ফিনফিনে পাতলা কাচের গ্লাসে ছুয়ে বাইরে চোখ রেখেই ভিকিকে উদ্দেশ্য করে বলল,

"বাসায় ফেরার সময় আব্বু কল দিয়েছিল।আগামী মাসের মধ্যে হয়তো দেশে ফিরতে হবে"

"হঠাৎ দেশে ফিরতে হবে মানে?"

"জানিনা কেন"

"কি,পার্মানেন্টলি?"

"আব্বুর কথা শুনে তো ওটাই মনে হলো"

সময় নিয়ে শুধালো ভিকি,

"আচ্ছা ঠিক আছে। তুই এই কয়দিন একটু রেস্ট নে।অফিসের ফেয়ারওয়েল মিটিং এর সবকিছু আমি ঠিক করে রাখবো,টেনশন নিস না"

"হুম"

ভিকি ব্যতিব্যস্ত হয়ে বলে উঠলো,

"অহি তুই আবার ড্রিঙ্ক করছিস!"

সাহিত্য গ্লাসে আবার একটা চুমুক দিল,

"ওইভাবে না...লিসা আজকে বার্থডে পার্টিতে যেটা গিফট করেছিল ওটারই একটু খাচ্ছি।মেয়েটা এত শখ করে দিল।ফেলে তো আর দিতে পারব না"

" ফেলে দিতে পারবি না,দিস না।আমাকে দিস।তোর এই হুটহাট ওয়াইন খাওয়াতে যে তোর শরীর খারাপ হয়,তুই জানিস না?"

"মাথাটা একটু ধরেছে তো তাই খাচ্ছি"

"কিছুক্ষণ পর যে সিগারেটটাও ধরাবি আমি সেটাও জানি।তুই মানসিকভাবে যখন অস্থির থাকিস তখন কেন ওগুলো হাতে নিস?কতবার আর বলবো?ইউ ক্যান শেয়ার মি এনিথিং,অহি"

ঠোঁট বাকিয়ে হালকা হাসলো সাহিত্য,

" নিজের অস্থিরতার কারণ নিজেই মাঝে মাঝে বুঝিনা, আবার তোর মাথা বেকার খেতে যাব কেন? রাখছি এখন,পরে কথা হবে"

ভিকির উত্তর না শুনেই কল কেটে দিল সাহিত্য।

জিম করা উন্মুক্ত দেহটাতে লাগা ঘামের কণাগুলো বাহিরের কৃত্রিম আলোয় হালকা চিকচিক করছে। মেদহীন পুরুষালী কোমড়টাতে জড়িয়ে আছে একটি ডার্ক কফি কালারের লেদার বেল্ট।তার নিচে ব্ল্যাক ফরমাল প্যান্ট।সেই প্যান্টের পকেটে ফোনটা ঢুকিয়ে আবার গ্লাসে একটা চুমুক দিল সাহিত্য।

সে যখন বাসায় ফিরেছে তখন আকাশ সন্ধ্যা ছুঁই ছুঁই। আর এখন তিমির অন্ধকার নেমেছে।২৩তলা থেকে পিচঢালা প্রশস্ত লম্বা রাস্তাটা অনেক দূর পর্যন্তই দেখা যাচ্ছে। রাস্তার যানবাহনের কৃত্রিম আলোগুলো কিছুটা কম।কিন্তু আশেপাশের বড় বড় বিল্ডিং এর কৃত্রিম আলোতে তিমির রাতটাও যেন আলোয় মুখরিত হয়ে আছে।

ঘামে ভিজে থাকা ভ্রুর কাছে লেপটানো চুলগুলো ব্যাক ব্রাশ করে একটা নিঃশ্বাস ফেলল সাহিত্য। ধীর পায়ে রুমের অপর পাশে স্ট্যান্ডে দাঁড় করানো মাঝারি সাইজের পেইন্টিং ক্যানভাসের দিকে এগিয়ে গেল সে।সেটা বাইরের তিমির রাতের থেকেও বেশি কালো। পানিতে চুবানো পেইন্ট ব্রাশটা উঠিয়ে নিজের সাদা চামড়ার ন্যায় এক অয়েল পেইন্টে চুবালো সেটি। পেইন্টিং ক্যানভাস থেকে সুতোর পরিমাণ জায়গা ফাঁকা রেখে থেমে গেল সাহিত্য।নিজের জীবনে এত ছবি এঁকেছে,এত কল্পনাকে পেইন্টিং রূপ দিয়েছে, অথচ যেটা সাহিত্যের প্রায় কাল রাত্রির কারণ;সেটা সে এখনো আঁকতে পারিনি।আঁকতে কি? ক্যানভাস ছুঁয়েও দেখতে পারেনি। মুখে একটা বিষাদ তেতো ভাব এনে হাতের গ্লাসের অবশিষ্ট ওয়াইনটা ক্যানভাসের দিকে ছুড়ে মারল সাহিত্য।

নিস্তব্ধ বড় ফ্ল্যাটটাতে হঠাৎই ডোরবেলের আওয়াজ শোনা গেল। যার শব্দ দেওয়ালগুলোতে ধাক্কা লেগে সাহিত্যের রুম অব্দি আসছে। বিছানায় পড়ে থাকা শুভ্রা রঙ্গা শার্টটা নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে এলো সে।

দরজা খুলে দেখা মিলল এক কম বয়সী কানাডিয়ান ছেলের। সাহিত্য স্বাভাবিক কণ্ঠেই শুধালো,

"ইয়েস?"

"ইয়র মেইল, স্যার"

সাহিত্য ঘাড় কাত করে দরজার পাশের মেইল বক্সটা দেখল।ছেলেটার পাশে ঘুরে মেইল বাক্সটা দেখিয়ে দিয়ে বলল,

"ডিডেন্ট সি দ্যাট?"

ছেলেটি ঘাড় চুলকে মুখে হাসি নিয়ে বলল,

"ইটস ফুল,স্যার"

সাহিত্য আবার মেইল বক্সটার পাশে দেখে এক ভারি নিঃশ্বাস ছাড়লো।সামনের ছেলেটি আবার বলল,

" গুড নিউজ! ইটস ফ্রম আ নিউ পার্সোন টুডে"

গত তিন মাস থেকে একই নাম ও একই ঠিকানা থেকে আসা চিঠি দিতে-দিতে কানাডিয়ান ডাক পিয়নটারও চিঠি প্রেরকের নামটা মুখস্ত হয়ে গিয়েছে।যার কারনেই হয়তো সে সাহিত্যকে আশ্বাস দিল যে,সে যার চিঠি উপেক্ষা করছে আজ তার কাছ থেকে চিঠি আসে নি।

সাহিত্যকে একটু বিভ্রান্তই দেখালো।কারণ এই যুগে সেই ব্যক্তি ছাড়া তাকে আর কেউ চিঠি পাঠাবে না।চিঠিটা হাতে নিয়ে ছেলেটাকে বিদায় জানালো সাহিত্য। অতঃপর দরজায় দাঁড়িয়েই চিঠিটা দেখতে লাগলো।খামের উপরে প্রেরক ও প্রাপকের জায়গায় বড় বড় করে দুটো ইংরেজিতে নাম লেখা।

From:Oporicita

To:Ohiam Shaikh Shahitto

কপালে ভাঁজ ফেলেই চিঠিটা খুলে সাহিত্য পড়তে শুরু করল।

📜........................................................................

Happy Birthday, সাহিত্য ভাই!!Many many happy returns of this day! সরি,আমি বলতে পারছি না যে আপনার জন্মদিনেই এই চিঠিটা গিয়েছে কিনা।কিন্তু আমার হিসাব অনুযায়ী আপনার জন্মদিনের সন্ধ্যার দিকে এটা আপনার পাওয়ার কথা।

খুব ভালো লাগছে আপনি আমার চিঠিটা পড়ছেন।জানতাম,আমার নাম দেখেই আপনি চিঠি খুলতেন না। তাই এই চিঠিটা অন্য নামে দিয়েছি।

দাঁড়ান,দাঁড়ান!! পড়া বন্ধ করিয়েন না,প্লিজ।জরুরী কথা দেখেই তো অন্য নামে দিয়েছি,তাই না?আপনি কি জানেন,আপনার দেশে ফেরার কারণ আমি?বড় বাবা মনে হয় আপনাকে বলেছে,যে দাদীর ব্রেন ক্যান্সার ধরা পড়েছে। উনার শেষ মুহূর্তে সবাইকে একসাথে দেখতে চেয়েছে।কিন্তু আপনি চিন্তা করিয়েন না।দাদীর কিছুই হয়নি।আপনার এই ট্যালেন্টেড কল্পনা একটু ব্রেন খাটিয়েছে,সেটাই আরকি। কিন্তু এর ফলাফল কি হবে বুঝতে পারছেন? ফাইনালি আপনার সাথে আমার দেখা হবে।সেই খুশিতে আমি এখন থেকেই আপনার রুম ঠিকঠাক করা শুরু করে দিয়েছি।আর সরি,চিঠির সাথে কোনো বার্থডে গিফট দিতে পারিনি।কিন্তু আপনি একবার দেশে ফিরে আসেন,আপনি যেটা চাইবেন আমি সেটাই আপনাকে গিফট দিব।উফ্,আমার তো ভেবেই অনেক ভালো লাগছে যে আপনাকে দেওয়া এটাই আমার শেষ চিঠি!

খুব শীঘ্রই দেখা হচ্ছে আমাদের!আপনার অপেক্ষায় থাকলাম।

আপনার আদরের বোন,

অমৃতা শেখ #কল্পনা

...............................................................................📜

চিঠিটা পড়ে সাহিত্য তাচ্ছিল্যের হাসলো,

" আদরের ছোট বোন?"

বলিষ্ঠ হাতটায় মুঠ বাঁধায় পাতলা কাগজটা মুঠের ভেতরে চাপা পড়ে গেল।চোয়াল শক্ত রেখে মেইল বক্স থেকে ১৪ টা চিঠি বের করে নিয়ে এসে ড্রয়িং রুমের ডাস্টবিনে সেগুলোকে ছুড়ে মারল সাহিত্য।টেবিলের উপরে রাখা লাইটারটা দিয়ে কল্পনার শেষ চিঠিটাতে আগুন ধরিয়ে চিঠি ভর্তি ডাস্টবিনটাতে ফেলে দিল।সাথে সাথেই কাগজগুলোতে অগ্নি রেখা বাড়তে শুরু করল।সেপাশে চোখের দৃষ্টি রেখেই দাঁত চিবিয়ে বলল সাহিত্য,

"এগুলোকে যেমন পুড়িয়েছি, তোকেও পুড়িয়ে ছারখার করে দেবো"

ক্রোধিত মাটিয়া-সবুজাভাব রঙ্গা চোখের মণিতে ডাস্টবিনের সেই ১৫টি চিঠির পুড়তে থাকা অগ্নিরেখা প্রতিফলিত হচ্ছে।আগুনের তান্ডব অনুভব করা মাত্রই ফ্লাটের ফায়ার এলার্মটা বিপ বিপ করে বাজতে শুরু করল।সেই এলার্ম হয়তো ডাস্টবিনে পুড়তে থাকা আগুনকে নিভাতে পারবে।কিন্তু সেই মাটিয়া-সবুজাভাব রঙ্গা চোখের মণিতে প্রতিফলিত অগ্নিরেখা নিভানো সেই এলার্মের সাধ্যের বাইরে।

#চলবে

#সূচনা_পর্ব

গল্প:#একখণ্ড_আসক্তি

#লেখিকা_রশনি_করিম

[🚨কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।চাইলে পোস্ট বা পোস্টের লিংক শেয়ার দিতে পারেন ]

🛑নিচের কথাটি অবশ্যই পড়বেন,

প্রথমবার কোনো গঠনমূলক গল্প লেখছি।কি খিচুড়ি বানাবো জানি না😶‍🌫️।লেখালেখিতে আমার হাত বেশ কাঁচাই বলা যায়।হয়তো ততটা গুছিয়ে লিখতে পারবো না, কিন্তু চেষ্টা করব।

প্রথম পর্বেই হয়তো বুঝতে পেড়েছেন,যে এটা একটা কাজিন রিলেটেড গল্প হবে।

যেই রাইটারেরই গল্প চোখে পরতেছে সবারই দেখতেছি একটা পার্সোনাল কাজিন রিলেটেড কাপল আছে 🥴।সেটা দেখেই মনে হয় আমার হালকা চুলকানি উঠছে 🤧আমি ভাবলাম কেননা আমিও একটা রেখে দেই!💃 সমস্যা কি তাতে!কিন্তু ভাই বিশ্বাস করেন,বিদেশ থেকে দেশে ফেরার থিমটাই মনে হয় শুধু মিল আছে।😴

যাইহোক,অত কিছু এখন বলতে চাচ্ছি না।দেখা যাক কত দূর আগাতে পারি 🫠

.

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন