#পর্ব_২
গল্প:#একখণ্ড_আসক্তি
#লেখিকা_রশনি_করিম
[ 🚨কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।চাইলে পোস্ট বা পোস্টের লিংক শেয়ার করতে পারেন ]
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
রোল নাম্বারটা কাঁপা হাতে ল্যাপটপের কি-বোর্ডে চেপে 'ইন্টার' লেখাটা ক্লিক করতেই স্ক্রিনে লোডিং লেখা চলে এলো।লোডিং লেখাটার পাশে যে তিনটি ফোঁটা দেখা যাচ্ছে সেদিকেই নজর কল্পনার।ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল তো সেই কতক্ষণ আগে থেকেই দুই পাটি দাঁতের মাঝে পিষছে। লোডিং লেখাটা চলে যাওয়ার সাথে সাথেই সেই আঙ্গুলটি হালকা ছাড়া পেল।চিৎকার দিয়ে উঠল কল্পনা। তার চিৎকারে কেঁপে উঠল অন্ত আর অনু।লতিফা শেখ ও হেনা শেখ রান্নাঘর থেকে এক কথায় দৌড়েই এলেন।কল্পনাকে উদ্দেশ্য করে দুজনেই বলে উঠলেন,
"কি হলো?হয়েছে?"
কল্পনা এসে হেনা শেখকে জড়িয়ে ধরল,
"হ্যাঁ মা,হয়েছে!"
হেনা শেখ ও লতিফা শেখ একসঙ্গে আলহামদুলিল্লাহ বলে উঠলেন।অনু এসে পেছন থেকে কল্পনাকে জড়িয়ে ধরে শুধালো,
"কংগ্রাটস আপু!"
অন্ত হাসি মুখে বাইকের চাবি নিয়ে বাইরে যেতে নিয়েই বলল,
"আমি মিষ্টি নিয়ে আসি"
শেখ পরিবারের দুই শেখ আহমেদের কেউই বাসায় নেই।বাড়ির দুই পুরুষই তাদের চাকরি জীবনে ব্যস্ত। হেনা শেখ কল্পনাকে বললেন,
"তোর বাবা আর চাচুকে কল দিয়ে জানা"
কল্পনা ফোন হাতে নিয়ে ফাহাদ শেখকে কল
করলো,
"আসসালামু আলাইকুম বাবা"
"ওয়ালাইকুম আসসালাম মা"
"বাবা আমার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজাল্ট এসেছে"
ফোনের ওপাশ থেকে হাসির শব্দ শোনা গেল,
"হ্যাঁ মা,দেখেছি আমি।কংগ্রাচুলেশন্স, এন্ড থ্যাঙ্ক ইউ"
হেসে উঠল কল্পনা,
"থ্যাঙ্ক ইউ এন্ড মোস্ট ওয়েলকাম"
"আচ্ছা মা আমি এখন অনেক ব্যস্ত।পরে কথা হবে"
কল্পনা আচ্ছা বলে ফোন রাখতেই অনু কল্পনাকে আরেকটা ফোন ধরিয়ে দিল।ফোন হাতে নিয়েই কল্পনা লম্বা একটা সালাম দিলো।ফোনের ওপাশ থেকে রঞ্জক শেখ সালাম নিয়ে শুধালেন,
"কংগ্রাটস মা"
কল্পনা ভাব নিয়ে বলল,
"থ্যাঙ্ক ইউ,থ্যাঙ্ক ইউ"
"তোমার বাবার স্বপ্নটা তাহলে পূরণ করলেই অবশেষে"
"আলহামদুলিল্লাহ চাচু।এখন রাখছি।আপুকেও আবার কল দিতে হবে"
কথা শেষ করে কল্পনা ফোন কান থেকে না সরাতেই অন্ত তার মুখে একটা মিষ্টি ঢুকিয়ে দিল,
"কংগ্রাটস কল্পনা!"
কল্পনা থ্যাঙ্ক ইউ বলছে ঠিকই,কিন্তু মুখ ভর্তি মিষ্টির কারণে সেটা বোঝা যাচ্ছে না।ভাই-বোনদের কান্ড দেখে হেনা শেখ আর লতিফা শেখ হাসতে লাগলেন।কল্পনা একে একে সবাইকে মিষ্টি খাইয়ে দিয়ে মিষ্টির বক্স হাতে নিয়ে দাদীর রুমের দিকে দৌড়ে গেল।রুমে ঢুকেই লাফিয়ে উঠলো কল্পনা,
"দাদী!!"
মহুয়া বেগমকে কথা বলার সুযোগ না দিয়েই একটা বড় মিষ্টি তার মুখে ঢুকিয়ে দিল।কাঁধ দুলিয়ে ভাব নিয়ে বলল সে,
"চান্স হয়ে গিয়েছে"
মিষ্টি চাবানো মুখে হাসি নিয়ে নাতনির মাথায় হাত বুলাতে লাগলেন মহুয়া বেগম।অতঃপর মিষ্টান্ন গিলে শুধালেন,
"আলহামদুলিল্লাহ।এর থেকে বেশি খুশির খবর আর কি হতে পারে!"
কল্পনা মহুয়া বেগমের সামনে বসে কোমল সুরে শুধালো,
"হতে পারে দাদি।আর কিছুদিন পর বড় বাবারা আসছে।তখন এর থেকেও বেশি খুশির দিন হবে"
মহুয়া বেগমের মুখের ভঙ্গিমা বদলে গেল,
"তোর বড় বাবা যেদিন আসবে,প্রথম দিন খুশির দিন না,তা'ন্ডবের দিন হবে"
মহুয়া বেগমের বড় বড় চোখ দেখে কল্পনা হেসে উঠল। নিজের উপর গর্ব করে বললেন মহুয়া বেগম,
" বলতে গেলে তুই আমারই নাতনি।তোর বড় বাবাকে বাড়িতে এনেই ছাড়লি"
"আমার একার পক্ষে আবার সেটা সম্ভব হয়েছে নাকি?তুমি তো কেন্দ্রবিন্দু।তোমার ক্যা'ন্সারের কথা না বললে বড় বাবা কখনোই আসতো না"
মহুয়া বেগম একটু মনম'রা হয়ে বললেন,
"কিন্তু বাড়ির সবাইকে মি'থ্যা বলে আমার কেমন যেন লাগছে"
"ওহো দাদী,তুমি অত টেনশন নিও না তো।সবকিছু প্ল্যান অনুযায়ী ঠিক হয়ে এলে আমি সবাইকে বুঝিয়ে বলে দেব।ততদিন পর্যন্ত এটা আমাদের ছোট্ট সিক্রেট"
মহুয়া বেগম হালকা হেসে উঠলেন,
"আচ্ছা ঠিক আছে।তোর,আমার আর মুহিত ডাক্তারের ছোট্ট সিক্রেট"
কল্পনা ডানে বামে মাথা নাড়িয়ে বলল,
"উহু।তোমার,আমার, মুহিত আঙ্কেল আর সাহিত্য ভাইয়ের সিক্রেট"
চকিত হলেন মহুয়া বেগম,
"তুই সাহিত্যকেও বলেছিস?"
"হ্যাঁ।উনি না জানলে তো আমার প্ল্যান কোনো কাজেই আসবে না"
কোমল কণ্ঠ শুধালেন মহুয়া বেগম,
"সাহিত্য কি একটা চিঠিরও উত্তর দেয়নি?"
কল্পনা চিবুক গলায় নামিয়ে ডানে বামে মাথা নাড়ালো।পর মুহুর্তেই মাথা তুলে মুখে কৃত্রিম হাসি ফুটিয়ে বললো,
"হতে পারে পড়ার সময় পায়নি বা ব্যস্ততার কারণে উত্তর দিতে পারেনি। একবার আসুক বাড়িতে,অনেক বকা দেবো।শেখ পরিবারের বড় ছেলে হয়েছে তো কি হয়েছে?আমার কাছে তার অনেক বকা পাওনা আছে"
শেষের কথাগুলো কল্পনা হালকা ক্ষোভ নিয়েই বলল।
সেটা বুঝতে পেরে মহুয়া বেগম হেসে উঠলেন।
"এই রে!আপুকে তো কল করতে ভুলেই গিয়েছি"
আর কোনো কথা না বাড়িয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ল কল্পনা।চঞ্চল নাতনিটা যাওয়ার পরপরই মহুয়া বেগমের হাসিটাও যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেল।এইটুকু একটা মেয়েকেও দাদীর সামনে মুখে নকল হাসি ধরে রাখতে হয়।পরিস্থিতি কাকে কোন দিকে নিয়ে যায় বোঝাই যায় না।
শহরের অন্যান্য বড় যৌথ পরিবারের মতো শেখ পরিবারও এক সম্ভ্রান্ত যৌথ পরিবার।ছোটখাটো এক দোতলা জমিদার বাড়ির জমিদার সাহেবের একমাত্র ছেলে ছিলেন এহনাফ শেখ আহমেদ।তিনি হলেন কল্পনার দাদু।পিতা জমিদার হলেও,ইহকাল ত্যাগ করা এহনাফ শেখ একজন সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন।এহনাফ শেখ আহমেদের তিন ছেলে।তোফায়েল শেখ আহমেদ, ফাহাদ শেখ আহমেদ ও রঞ্জক শেখ আহমেদ।
বড় ছেলে তোফায়েল শেখ আহমেদ,যিনি একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার।তার অর্ধাঙ্গিনী আমেনা শেখ। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে।ছেলে অহিয়াম শেখ সাহিত্য,বয়স ২৮ বছর।মেয়ে আদিবা শেখ সামিয়া,এবছর ক্লাস নাইনে।
মেঝো ছেলে ফাহাদ শেখ আহমেদ,একজন সফল ব্যবসায়ী।বাংলাদেশের F.S. গ্রুপ এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সি.ই.ও.(কাল্পনিক)।তার অর্ধাঙ্গিনী হেনা শেখ।তাদের দুই মেয়ে।বড় মেয়ে ইফনাত শেখ সুবা,বয়স ২৯ বছর। বিয়ের পর বর্তমানে স্বামী ও ৫ বছরের ছেলের সাথে সুইজারল্যান্ডে আছে।ছোট মেয়ে অমৃতা শেখ কল্পনা, বয়স ১৮ বছর।মাত্রই তো পড়লেন,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছে।
ছোট ছেলে রঞ্জক শেখ আহমেদ,রসায়ন বিষয়ে এক বেসরকারি কলেজের লেকচারার।তার অর্ধাঙ্গিনী লতিফা শেখ।তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে।ছেলে মাহাদি শেখ অন্ত,অনার্স থার্ড ইয়ারে পড়ছে।মেয়ে সুফিয়া শেখ অনু,এবছর একাদশ শ্রেণীতে।
এতগুলো সদস্যের একটি পরিবার,যাদের খুনসুটিতে পুরো শেখ বাড়ি মেতে ওঠার কথা ছিল।অথচ এত বড় পরিবার হওয়া সত্ত্বেও যেন বড় ধরনের এক দৃশ্যমান ফাটল।যে ফাটল জোড় লাগাতেই মনে হয় কল্পনা দিনরাত এক করে ফেলছে।শুধু সবার মুখে একটা অকৃত্রিম হাসি দেখার জন্য।
"এই কল্পনা,কি ভাবছিস?"
প্রীতির কনুইয়ের টোকায় কল্পনার ঘোর কাটলো।কি যে আনমনে সে চিন্তা করছিল কে জানে?আবার বলে উঠলো প্রীতি,"
"কী রে?ভার্সিটিতে ওঠার দ্বিতীয় দিনেই মাথা ঘুরছে তোর?"
কল্পনা ঠোঁটে হালকা হাসি নিয়ে বলল,
"আরে না রে।এমনি একটু চিন্তা করছিলাম"
প্রীতি আবার কল্পনাকে কনুই দিয়ে ঘুতা দিল,
"কাকে নিয়ে?তোর সাহিত্য ভাই?"
প্রীতির দুষ্টু মাখা কথায় কল্পনা চোখ-মুখ কুঁচকে প্রীতির দিকে ঘুরলো,
"একদম না।আর বারবার আমার সাহিত্য ভাই,আমার সাহিত্য ভাই করিস কেন?"
"তোর সাথে পরিচিত হবার পর থেকে তোর মুখে কোনো ছেলের নাম শুনলেই শুধু সেই বিখ্যাত সাহিত্য ভাই।তোর সাহিত্য ভাই ওদিকে তোকে পাত্তাই দেয় না,আর তুই গত চার মাসের মধ্যে তিন মাস ধরেই কোনো আশা ছাড়াই শুধু চিঠি পাঠিয়েই যাচ্ছিস।আচ্ছা একটা কথা বলতো,তোর নাকি সাহিত্য ভাইয়ার সাথে ঠিকমতো যোগাযোগ নেই,তো ওনার এক্সজ্যাক্ট ঠিকানাটা পেলি কই?"
কল্পনা কাধ উচু করে ভাব নিয়ে বলল,
"ওটা খোজা আবার আমার জন্য কোনো ব্যাপার হলো?"
প্রীতি কল্পনার মুখের সামনে হাত দিয়ে মাছি তাড়াবার মতো হাত নাড়িয়ে বলল,
"অত ভাব নিস না।আমি জানি তুই কত স্ট্রাগল করেছিস"
কল্পনার কৃত্রিম ভাব ফুস করে উড়ে গেল।এই মেয়েটার সামনে কল্পনা একটু ভাবও নিতে পারেন।এই কয় মাসে কল্পনাকে ভালো করেই চিনে গিয়েছে প্রীতি। কল্পনা মন মরা মুখের পাশে না দেখেই প্রীতি আবার বলল,
"বলবি কি পেলি টা কোথায়?"
লম্বা শ্বাস নিয়ে কল্পনা তার স্ট্রাগলের কাহিনী বলতে শুরু করল,
"আমার স্কুলের এক সিনিয়র আপুর সাথে আমার ফেসবুকে অ্যাড আছে।উনি বিয়ের পর কানাডায় চলে গিয়েছেন।একদিন হুট করে উনার এক পোস্টে আমার চোখ আটকে যায়।আমার অতি পুরনো পরিচিত এক চেহারার মিল পাই সেই পোস্টে।সেই আপু সাহিত্য ভাইয়ের কেমন যেন ফ্রেন্ড হয়।সেখান থেকেই সাহিত্য ভাইয়ের খোঁজ পাই।এই ১১ টা বছরে সাহিত্য ভাই কানাডায় যে নিজের নামে ধূম পাড়িয়েছে সেটা বুঝতে আর আমার বাকি থাকে না।অনেক ঘেটে-ঘুটে ওনার আসল এড্রেসটা পেয়েছি"
কল্পনার অ্যাডভেঞ্চারের কাহিনী শুনে প্রীতির ঠোঁট জোড়া কিঞ্চিত ফাক হয়ে গেল,
"ভাই রে ভাই!এত পরিশ্রম তো আমি আমার হবু বরের জন্যেও করবো না"
"করিস না তুই।কিন্তু আমি আমার সাহিত্য ভাইকে ফেরত আনার জন্য করতে রাজি আছি"
"হায়রে!সাহিত্য ভাইয়ের প্রতি এত টান?আচ্ছা তুই ভাইয়াকে সাহিত্য ভাই কেন ডাকিস?"
কল্পনা তার সামনের কার্টেইন ব্যাঙ কাটের এক পাশের চুলগুলো কানের পিছনে গুঁজে দিয়ে লাজুক স্বরে বলল,
"আমি শুনেছি ভাইয়া থেকে ভাই ডাক নাকি বেশি আদুরে হয়"
ঠোঁট বিকৃত করে বলল প্রীতি,
"কোথায় শুনেছিস?ফেসবুকে?"
কল্পনা উপর নিচ মাথা দোলালো,
" হ্যাঁ"
"হায় রে!ডাক তুই তোর সাহিত্য ভাই"
সময় নিয়ে প্রীতি শান্ত স্বরে আবার শুধালো,
"ভাইয়া যে তোকে একটা চিঠিরও উত্তর দেয়নি,তোর খা'রাপ লাগে না?"
কল্পনার মুখের ভঙ্গিমা হালকা বদলে গেলেও মুখের হাসিটা ধরে রেখেই বলল,
"একটু খা'রাপ তো লাগে।কিন্তু এত কিছু হওয়ার পর আমার সাথে যোগাযোগ না করতে চাওয়াটা স্বাভাবিক"
কল্পনার মন খা'রাপ দেখে প্রীতি কথা পাল্টে দিল,
"ভাইয়া যদি জানতে পারে তুই ওনাকে স্ট'ক করিস, তাহলে কি হবে বলতো?"
প্রীতির কথা শুনে ভালোই ভড়কালো কল্পনা,
"আ-আমি একদম ওনাকে স্ট'ক করি না।আমি তো শুধু ওনার ফেসবুক,ইন্সটা,টুইটার ও থ্রেডে প্রতিদিন তিনবার করে ঘুরে আসি"
চোখ উল্টালো প্রীতি,
"কল্পনাআআ, ওটাকেই স্ট'ক করা বলে"
কথা ঘুরিয়ে নিল কল্পনা,
"বাজে বকিস না তো!চল তাড়াতাড়ি,ক্লাস শুরু হয়ে যাবে"
প্রীতির এক হাত ধরে হেচকা টান দিল কল্পনা। আর প্রীতি ওদিকে হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাচ্ছে।
কল্পনার সাথে প্রীতির পরিচয় হয়েছে এডমিশনের শুরুর দিকে।দুজনেরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চান্স হয়।এবং কাকতালীয়ভাবে দুজনেই বোটানি ডিপার্টমেন্টে ভর্তি হয়।পথ সব সময় তাদেরকে একই দিকে নিয়ে যাওয়ায় বন্ধুত্বতা তাদের গভীর হতে থাকে।
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
শেখ বাড়ির ড্রয়িং রুমে বসে কল্পনার গুনো গান গেয়ে যাচ্ছেন ফাহাদ শেখ ও রঞ্জক শেখ।তাদের পাশেই সোফায় বসা কল্পনা,অন্ত আর অনু।রান্নাঘরে হেনা শেখ আর লতিফা শেখ রাতের খাবারের পর রান্নাঘরের টুকটাক কাজ করছেন।গল্পের মাঝেই ফাহাদ শেখ বলে উঠলেন,
"তো কল্পনা,আমার ব্যস্ততার কারণে একটু দেরি হয়ে গিয়েছে।কিন্তু আমি আমার ওয়াদা ফেলবো না।আমি তোমাকে বলেছিলাম তুমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেলে তুমি তোমার জন্য যেটা চাইবে আমি সেটাই দিব তোমাকে।বলো কি নিবে?"
এতক্ষণ থেকে মুখ খুলে হাসলেও কল্পনা এখন হাসিটা একটু কমিয়ে দিল।তার বুকটা বর্তমানে ধুকপুক করছে।তার কথায় ফাহাদ শেখ কেমন রিঅ্যাক্ট করবেন তার জানা নেই।কাঁপা গলা নিয়ে বলল সে,
"আমি যেটা চাইবো সেটাই দিবে?"
আবার হাসি মুখে শুধালেন ফাহাদ শেখ,
"হ্যাঁ হ্যাঁ,বলো কি লাগবে তোমার?"
এক শুকনো ঢোক গিললো কল্পনা,
"বেশি কিছু না....কয়েকদিন পর বড় বাবারা আসছে। তারা আসলে তাদের সাথে একটু স্বাভাবিকভাবে
কথা........"
"কল্পনা!!"
কল্পনা তার কথাটাও শেষ করেনি,তার আগেই ফাহাদ শেখ হুং'কার দিয়ে উঠলেন।
বাবার এমন হুং'কারে কল্পনা তড়িৎ গতিতে দাড় হয়ে চিবুক গলায় নামালো।বাবার রা'গ উঠলে কল্পনার চোখের পাতা অব্দিও নড়া বন্ধ হয়ে যায়।ভাসুরের গলা শুনে লতিফা শেখ রান্নাঘরের দরজায় এসে দাঁড়ালেন আর হেনা শেখ এখনো শক্ত হাতে বাসন মাজছেন।হাতে তসবি গুনতে থাকা মহুয়া বেগম রুম থেকেই ছেলের রা'গী গলা শুনে ভারী নিঃশ্বাস ছাড়লেন।
ফাহাদ শেখ আবার গর্জে উঠলেন,
"আমি বলেছি তোমার কি লাগবে বলো।অন্যের কথা কেন তুলছো এখানে?কিছু না লাগলে বলে দাও। অযথা কথা বলে আমার সময় নষ্ট করো না"
ফাহাদ শেখ উঠে জোর পায়ে তার রুমের দিকে চলে গেলেন।বড় ভাইয়ের এমন হুং'কার শুনেও রঞ্জক শেখ ভড়কালেন না।ভারি শ্বাস ফেললেন তিনি।বাবার যাওয়ার পাশে দেখে থাকা কল্পনার কাছে এসে তার মাথায় হাত রেখে বললেন,
"চিন্তা করিস না মা।তোর ওই ইচ্ছা না হয় আমি পূরণ করব"
কল্পনা হালকা মাথা তুলে রঞ্জক শেখের দিকে দেখে কাঁদো কাঁদো গলায় বলল,
"তুমি তো সবসময়ই কথা বলো।বাবা একবার কথা বললে কি এমন হয়ে যাবে?"
"তুই তো এখনই দেখলি কি হতে পারে।যেটা হবে না ওটা নিয়ে বাড়াবাড়ি করিস না"
কথা শেষে আবার এক ভারী নিঃশ্বাস ফেলে নিজের রুমের দিকে চলে গেলেন রঞ্জক শেখ।
মাথা নিচু করে বিড়বিড় করে আওড়াতে লাগল কল্পনা,
"যেটা সম্ভব নয় সেটা এই কল্পনা সম্ভব করেই দেখাবে"
#চলবে