ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রণয়বেলায় তোমার আগমন

৩য় পর্ব

লেখক: জেরিন আক্তার

#প্রণয়বেলায়_তোমার_আগমন (০৩)

#জেরিন_আক্তার

অধরা রুদ্রর থেকে জিনিসগুলো নিয়ে বিছানায় রাখলো। রুদ্রকে যতটা খারাপ, গুরুগম্ভীর ভেবেছিলো অতটাও খারাপ মনে হচ্ছে না। অধরা রুদ্রর দিকে তাকিয়ে বলল,

“বসুন!”

“না বসবো না। তোর না একটু পরে পরীক্ষা, পড়তে বস তাহলে। আমি যাই।”

অধরা মাথা নাড়ালো। রুদ্র দরজার দিকে পা বাড়াতেই অধরা হাত উঠিয়ে কিছু একটা বলার জন্য প্রস্তুত হলো। রুদ্র অমনি ঘাড় ঘুরিয়ে অধরার দিকে তাকালো। বলল,

“কিছু বলবি?”

অধরা ইতস্তত কণ্ঠে বলল,

“থ্যাংক ইউ।”

রুদ্র হালকা হেসে বলল,

“ওয়েলকাম।”

রুদ্র রুম থেকে বের হয়ে এলো। যেতে যেতে নিজে কি কারণে খুশি হলো বলতে পারলো না। অধরা রুদ্রর দেওয়া চকলেটগুলো খেতে খেতে পড়তে বসলো। পড়াশোনা শেষ করে উঠে শাওয়ার নিয়ে এলো। পরে আর সময় পাবে না। চুলগুলো ব্রাশ করে চলে গেলো ছাদে। ছাদে তখন কেউ ছিলো না। অধরা একটা কোণে গিয়ে দাড়ালো। কিছুক্ষন একধ্যানে দূরে তাকিয়ে কিছু একটা ভাবলো—সেদিন বিয়ে থেকে পালিয়ে আসার পরে সবাই মিলে যে রুদ্রকে আসতে বাধ্য করেছে এটা আর ওর অজানা নয়। ও এউ ভাবলো রুদ্র তাহলে সবার কথাতেই এসেছে। নিজে থেকে আসেনি। আর সেখানে ভালোবাসা! যদি রুদ্রর একটু টান থাকতো তাহলে কারোর বলাতে আসতো না। নিজে নিজেই আসতো।

অধরার মনটা খারাপ হয়ে গেলো। মুখটাও অজানা কারণে গুটিয়ে নিলো। ভাবলো রুদ্র হয়তো ওকে নিয়ে ভাবেইনি। আবার এউ ভাবলো রুদ্র হয়তো পড়াশোনা নিয়ে ব্যাস্ত ছিলো তাই হয়তো ভাবার সময়ই পায়নি।

অধরা কথাগুলো ভেবে রুমে চলে এলো। পরীক্ষার সময়ও হয়ে আসছে। তাই কলেজ ড্রেস বের করে রেডি হয়ে বের হলো। রুদ্র নিচেই বসেছিলো। অধরা নিচে নেমে রুদ্রকে দেখে এরপরে, হাই তুলে ওর মাকে ডাকলো। অনিমা ভিতরের রুম থেকে বের হলেন। অধরা বলল,

“আম্মু গেলাম।”

তিনি অধরার কাছে আসতে আসতে বললেন,

“এই খেয়ে যাবি না?”

“না আম্মু দেরি হয়ে যাবে।”

“কোনো দেরি হবে না। এখানে এসে বস!”

“না আম্মু পরে। এখন যাই।”

অধরা চলে যাবে ঠিক তখন রুদ্র উঠে দাড়িয়ে কড়া কণ্ঠে ডেকে উঠল,

“এই এদিকে আয়!”

অধরা কপাল কুচকে এগিয়ে এলো। রুদ্র আদেশ করে বলল,

“টেবিলে বস!”

“না এখন খেতে গেলে দেরি হয়ে যাবে।”

রুদ্র আগের ন্যায় বলল,

“তোকে বসতে বলেছি।”

অধরা ফোঁস করে শ্বাস ছেড়ে খাবার টেবিলে এসে বসলো। আবার রুদ্রর দিকেও তাকালো। রুদ্র ওর মেঝো আম্মুকে বলল,

“মেঝো আম্মু ওকে খেতে দাও। দেখি ও কেমন করে চলে যায়।”

অধরা গোল গোল চোখে তাকিয়ে রইলো। এই প্রথম ওর মায়ের পরে কেউ ওর উপর হুকুম করে বসলো। একবার রেগে গেলো আবার নিশ্চুপ হয়ে গেলো। অতঃপর খাওয়া করেই উঠল।

ও বাড়িতে থেকে বের হয়ে পরীক্ষার হল পর্যন্ত শুধু রুদ্রর কথাই ভেবে গেলো। একদিন ধরে এসে ওর উপরে কেমন জোর দেখাচ্ছে।

বিকেলের দিকে রুদ্র ছাদে বসেছিলো। আদ্রও এসে বসে ওর সাথে। টুকটাক কথা হতে হতে রুদ্র ভাবুক গলায় আদ্রকে বলল,

“আদ্র তোকে একটা কথা জিজ্ঞাসা করবো। সঠিক উত্তর দিবি।”

“হ্যা বলো!”

রুদ্র নিরেট কণ্ঠে বলল,

“অধরা কাউকে ভালোবাসে নাকি?”

আদ্র অবলীলায় বলল,

“না। ও কাউকে ভালোবাসে না। আর না কাউকে ভালোবাসতে পারবে।”

রুদ্র কপাল কুচকালো।

“কেনো পারবে না?”

“ও তো তোমা!”

আদ্র কিছু একটা বলতে গিয়ে থেমে গেলো। কথা ঘুরিয়ে বলল,

“এসেছো, অধরাকে সামনে থেকে দেখো। এরপরে একাই বুঝতে পারবে।”

রুদ্র ছোট্ট করে উত্তর দিলো,

“হুম।”

এর পরপরই আদ্র বলল,

“একটা কথা কি, না বলে থাকতে পারলাম না। অধরা না খুব চাপা স্বভাবের। একটা জিনিসের জন্য মরে যাবে তবুও বলবে না ওই জিনিসটা আমার লাগবে। তবে মনের দিক থেকে ওর মতো মানুষ হয়না।”

রুদ্র মুচকি হেসে গভীর শ্বাস ছেড়ে মনে মনে বলল—যাক রাস্তাটা ক্লিয়ারই আছে।

____________

প্রায় সন্ধ্যা,,, অধরার এখনও ফেরার নাম নেই। পরীক্ষা শেষ চারটায়। বের হতে নাহয় বিশমিনিট। আর বাড়িতে আসতে বিশমিনিট। এরপরেও আরও পঁচিশ মিনিট পেরিয়ে গিয়েছে। তাহলে এতো দেরি হচ্ছে কেনো? রুদ্রও ওর আসার অপেক্ষায় ড্রইং রুমে বসে ছিলো।

আরমান নেওয়াজ আর আরিফ নেওয়াজ অফিসে থেকে ফিরে বাড়িতে ঢুকলেন। অনিমা এগিয়ে গিয়ে আরিফ নেওয়াজকে বললেন,

“শুনছেন, অধরা এখনও বাড়ি ফিরেনি। একটু এগিয়ে যেয়ে দেখুন তো।”

রুদ্র মনে মনে বলল—আমাকে বললে কি হতো! আমিই গিয়ে নিয়ে আসতাম।

অধরা ফিরেনি শুনে আরিফ নেওয়াজের মুখে চিন্তার ছাপ। জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললেন,

“এখনও আসেনি?”

“না।”

“ঠিক আছে দেখছি।”

আরিফ নেওয়াজ চলে গেলেন। ড্রাইভারকে গাড়ি নিয়ে আসতে বলে গেট অব্দি যেতেই দেখলেন অধরা এসেছে। আরিফ নেওয়াজ ড্রাইভারকে চলে যেতে বললেন। অধরা এগিয়ে এসে চোখ দুটো ছোট ছোট করে বলল,

“আব্বু, সরি। আজকে দেরি করে ফেলেছি। আসলে ওই জুঁই, রাইমা ওদের সাথে হেটে আসতে গিয়ে দেরি হয়ে গিয়েছে।”

আরিফ নেওয়াজ মলিন হেসে বললেন,

“এবার ভিতরে চলো। সন্ধ্যা হচ্ছে।”

অধরা বাড়িতে ঢুকতেই অনিমা জিজ্ঞাসা করলেন,

“এতো দেরি হলো কেনো?”

অধরার এখন এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ইচ্ছে করছে না। অনেক ক্লান্ত। তাই এককথায় বলল,

“জানিনা।”

অনিমা কিছু বলবে ঠিক তখন তাকে থামিয়ে দিলেন আরিফ নেওয়াজ। মেয়ের উপরে বকাঝকা তো দূরে থাক কোনো উঁচু গলায় কথাও তার যেনো সহ্য হয়না। তবে যখন বাড়িতে থাকেন না তখন তো অনিমাকে আটকাতে পারেন না। তাই যতক্ষণ বাড়িতে থাকেন মেয়েকে কোনো বকাঝকা করতে দেন না। আর অনিমা মেয়েকে একটু শাসনের উপরেই রাখেন।

অধরা গেলো সিঁড়ির দিকে। আবার আপনাআপনিই ড্রইং রুমটায় নজর বুলালো রুদ্রকে দেখতে। কিন্তু ও ছিলো না। গভীর শ্বাস ছেড়ে উপরে এলো। এরপরে নিজের রুমে ঢুকতে গিয়ে আবার কি মনে করে রুদ্রর রুমের সামনে এসে উঁকি দিলো। রুদ্র আর ওর রুমটা পাশাপাশিই। রুদ্র আদ্রর রুম থেকে নিজের রুমেই ফিরছিলো। অধরাকে পেছনে থেকে ডেকে বলল,

“কিরে তু্ই ওদিকে কোথায় যাচ্ছিস?”

অধরা ছিটকে উঠে পেছন ফিরলো। আমতা আমতা করে বলল,

“ওই আসলে এদিকে সোহার রুমে যাচ্ছিলাম।”

“ওহ। তো পরীক্ষা কেমন দিলি?”

“ভালো।”

“ওহ। তাহলে রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নে।”

অধরা চলে এলো নিজের ঘরে। কলেজ ড্রেসটা চেঞ্জ করে ফ্রেশ হয়ে নিলো। কালকে পরীক্ষা নেই তাই একটু হালকা হালকা লাগছে। আজকে আর এই বই-টই খুলেও দেখবে না। এই সময় রুমে এলো সোহা। ও এসে অধরার মুখটা শুকনো দেখে বলল,

“আজকেও ওই রাকিব ডিসটার্ব করেছে তাইনা? তাই দেরি হলো আসতে?”

অধরা তপ্ত শ্বাস ছেড়ে বলল,

“হুমম। ধুর ভালো লাগে না প্রতিদিন। কাউকে বলতেও পারছি না।”

সোহা অধরার হাতে হাত রেখে বলল,

“মেঝো আব্বুকে বলে দাও!”

“না বলা যাবে না। আব্বু ওকে মেরেই ফেলবে।”

“কিন্তু ও যে প্রতিদিন তোমাকে ডিসটার্ব করে।”

অধরা আবারও তপ্ত শ্বাস ছেড়ে বলল,

“থাক বাদ দে।”

“আজকে বাদ দিলাম। কিন্তু এরপরে যদি ডিসটার্ব করে আমি নিজেই বলে দিবো।”

“ঠিক আছে বলিস। আর কালকে তোর পরীক্ষা আছে?”

“না। তোমার আছে?”

“না। ”

সোহা খুশি হয়ে বলল,

“তাহলে তো ভালোই হলো। চলো কালকে কোথাও ঘুরতে যাই।”

“কোথায় যাবি?”

“পার্কে যাবে?”

“ঠিক আছে।”

“কি পড়ে যাবে?”

অধরা “চ” সূচক শব্দ করে বলল,

“এখন এগুলো ভাবতে ভালো লাগছে না। পরে ঠিক করবো। আর শোন এই কথা যেনো আদ্র ভাইয়ের কানে না যায়। তোর তো আবার আদ্র ভাইকে না বললে রাতের ঘুম হয়না। যদি ভাইয়ার কানে খবর যায় তাহলে তোর খবর আছে।”

সোহা মেয়েলি হেসে বলল,

“আরে না বলবো না।”

সোহা অধরার সাথে কথা বলে চলে এলো। সামনে দেখা হলো আদ্রর সাথে। আদ্রকে দেখেই বলল,

“ভাইয়া কালকে ফ্রি আছো?”

“না কেনো?”

“ভাবছিলাম কালকে ঘুরতে যাবো!”

আদ্র ওর থেকে কথা বের করতে হেসে বলল,

“ওহ, ভালোই তো। কোথায় যাবি বলিস তোদের ফুচকা খাওয়ার টাকা নাহয় আমিই দিবো।”

সোহা অনায়াসেই বলে উঠল,

“বড় আব্বুদের অফিসে যাওয়ার পথে যে একটা পার্ক আছে না, সেখানেই যাবো।”

আদ্র ভ্র উঠিয়ে বলল,

“ভালোই। কালকে যাওয়ার আগে দেখা করে যাস। আর টাকা নিয়ে যাস।”

“ঠিক আছে।”

সোহা চলে যেতেই আদ্র বিড়বিড় করে বলল—আসিস! এক টাকাও দিবো না। কোথায় যাবি এটা জানার দরকার ছিলো তাই পাম দিলাম। আর এই আদ্র ফুচকা খেতে টাকা দিবে? অসম্ভব!

___________

অধরা রাতের খাবার খেয়ে রুমে এসে একটু বিশ্রাম নিয়ে আবারও ড্রইং রুমে এলো। রুকাইয়া আর অনিমা রান্নাঘরে কাজ করছিলো। অধরা পড়ালেখা বাদ দিয়ে এখন আরাম করে বসে টিভি দেখবে। এই পড়ালেখা করতে করতে টিভি দেখারই সময় হয়না। ও একেকসময় ভাবে পড়ালেখা ছাড়া যদি জীবন হতো কতই না ভালো হতো। ছোট থেকে বাবার কথামতো সব ক্লাসে টপার হয়ে এসেছে। সেই স্থানটাকে ধরে রাখতেই এতো কষ্ট। নাহলে এই পড়ালেখা ও করতো না।

ভাবতে ভাবতে সোহাও এসে বসলো। দুজনে একটা ভুতুড়ে সিনেমা দেখতে শুরু করলো। অধরা ভূতে বিশ্বাস করে না। তবে সোহা খুব ভয় পায়। সোহা অধরাকে জাপটে ধরে দেখছে। রুদ্র সিঁড়ির উপরে থেকে অধরাকে দেখছে। অধরার ভাবভঙ্গি দেখে বুকে হাত গুজে মুচকি হাসছে। মিনিট পাঁচেক পরে ও নামলো। ওদের সামনে থেকে রিমোটটা নিয়ে টিভি বন্ধ করলো। অধরা কিছু বলার আগেই রুদ্র বলল,

“তোদের দুটোর পড়ালেখা নেই? পরীক্ষা না চলছে তাহলে টিভি দেখছিস কেনো?”

অধরা বলল,

“কালকে আমাদের পরীক্ষা নেই। তাই টিভি দেখছি।”

রুদ্র পকেটে হাত গুজে বলল,

“কোথাও কি পড়তে যাস?”

উত্তরে অধরা বলল,

“হুমম। কোচিং করি।”

রুদ্র গম্ভীর কণ্ঠে বলল,

“কালকে থেকে কোচিং বাদ। সকাল-বিকেল আমার কাছে পড়বি। দুটোকেই বললাম।”

রান্নাঘর থেকে অনিমা বললেন,

“রুদ্র এবার একটা ভালো কথা বলেছিস। বাহিরে পড়তে যেতে হবে না। তু্ইই পড়াস।”

অধরা তার মায়ের দিকে তাকিয়ে বলতে গেলো,

“কিন্তু আম্মু..!”

অনিমা মেয়ের উদ্দেশ্যে কড়া গলায় বললেন,

“কিসের আম্মু! রুদ্রর কাছেই পড়বি।”

অধরা খুব কষ্টে মুখ থেকে শব্দ বের করলো,

“ঠিক আছে। পড়বো।”

অনিমা আর রুকাইয়া চলে গেলেন। রুদ্র সোফায় বসলো। অধরা আর সোহা ওদের মতো টিভি দেখছে। রুদ্র হুট্ করে সোহাকে ডেকে বলল,

“এই এখানে আয়!”

সোহা উঠে রুদ্রর পাশে এসে দাড়ালো। রুদ্র বলল,

“মাথাটা খুব ধরেছে একটু টিপে দে তো!”

সোহা রুদ্রর মাথায় হাত দিয়ে টিপে দিতে শুরু করলো। কিন্তু রুদ্রর কোনো আরাম লাগছে না। তাই বলল,

“না হচ্ছে না। এই অধরা তু্ই আয় তো!”

অধরা চোখ ছোটছোট করে বলল,

“আমি?”

“হুমম।”

অধরা উঠে এলো। সোহা গিয়ে নিজের জায়গায় বসলো। রুদ্র গা এলিয়ে দিলো। অধরা রুদ্রর পেছনে এসে দাড়ালো। রুদ্রর দিকে তাকিয়ে রইলো। খুব কাছে থেকে দেখছে। বুকের ভিতরে কেমন ধুকবুক ধুকবুক করছে। মাথায় হাত দিতেও ইতস্তত লাগছে। অতঃপর আলতো করে রুদ্রর মাথায় হাত রাখলো। রুদ্র এবার কিছু বলল না। ভালোই লাগছে ওর। দেখতে দেখতে আধঘন্টা পার হয়ে গেলো। অধরার হাত ব্যাথা করছে। বলতেও পারছে না, সইতেও পারছে না। রুদ্র চোখ বন্ধ করে আছে। সোহা তো টিভিই দেখছে। আরও মিনিট পাঁচেক গেলো এভাবেই। রুদ্র ঘুমিয়ে গিয়েছে কিনা দেখতে অধরা রুদ্রর কানে সুড়সুড়ি দিলো। রুদ্র চোখের পাতা খুলে বলল,

“ঘুমাইনি।”

অধরা হাসার চেষ্টা করে বলল,

“না মানে দেখছিলাম আর কি ঘুমিয়ে গিয়েছেন কি না।”

“তোর ঘুম পাচ্ছে?”

“না।”

রুদ্র পুনরায় চোখ বন্ধ করে বলল,

“যা এখন।”

“যাবো?”

“হুমম।”

অধরা তৎক্ষণাৎ সোহাকে টান দিয়ে নিয়ে চলে গেলো। সিঁড়ি দিয়ে যেতে যেতে রুদ্রর দিকেও তাকালো। রুদ্রও ঘাড় ঘুরিয়ে সেদিকে তাকালো। চোখে-চোখ পড়তেই অধরা দৃষ্টি নিচের দিকে নিয়ে চলে গেলো। যা দেখে রুদ্র অগোচরে হাসলো। ওদের যাওয়ার পরেই আদ্র নামলো। ও রুদ্রকে হাসতে দেখে জিজ্ঞাসা করলো,

“ভাইয়া একা একা হাসছো যে?”

রুদ্র বসতে ইশারা করে বলল,

“বলছি বস!”

আদ্র বসলো। রুদ্র বলল,

“একটা গান আছে না—

আমি সামনে-পিছে না ভাবিয়া

একি করিলাম!

নিজের পায়ে নিজেই আমি

কুড়াল মারিলাম।”

আদ্র কপাল কুঁচকে বলল,

“মানে?”

রুদ্র হেসেই বলল,

“আমি অধরাকে না দেখে বিয়ে করতে চাইনি। বাবার কাছে একমাসের সময় নিয়ে এসেছি। ভেবেছি ঘুরবো-ফিরবো চলে যাবো। তবে এসে অধরাকে দেখার পরে মনে হচ্ছে নিজের পায়ে নিজেই আমি কুড়াল মেরেছি। এখন কি অধরা ভালোবাসবে আমায়? মনে তো হয়না!”

আদ্র খুশি হয়ে বলল,

“এতে আবার কুড়াল মারার কি আছে। তুমি চেষ্টা করে যাও। ভালোবাসবেই। ও যে রাগী-জেদি এই নিয়ে একটু চেষ্টা বেশিই করতে হবে। ওর পছন্দের জিনিসগুলো ওর সামনে বারবার করতে হবে। আর আমি তোমার পাশে আছি।”

রুদ্র আয়েসি ভঙ্গিতে বসে বলল,

“আছিস তো ভালো। কিন্তু ওকে পটাবো কি করে? ওর কি পছন্দ, ও কি খেতে পছন্দ করে কিচ্ছু তো জানি না।”

আদ্র কনফিডেন্টস নিয়ে বলল,

“আমি জানি। তোমার কোনো চিন্তা নেই। আর শুনলাম কালকে নাকি দুজনে ঘুরতে যাবে। যাওয়ার প্ল্যানটা সিক্রেট রেখেছে।”

এই কথা শুনতেই রুদ্রর মুখে এক ঝিলিক বাকা হাসি ফুটে উঠল। বলল,

“ওরা ওদের প্ল্যানটা সিক্রেট রাখুক। আর আমারটা আমি সিক্রেট রাখবো।”

চলবে....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন