#প্রণয়বেলায়_তোমার_আগমন (০৪)
#জেরিন_আক্তার
সকাল সকাল অধরার ঘুম ভাঙলো সোহার ডাকে। রুমের দরজা ধাক্কাচ্ছে। সোহার এই দরজা ধাক্কানোর শব্দে ওর ঘুমটা ফুড়ুৎ করে উড়ে গেলো। বিরক্তি নিয়ে উঠে বিছানায় থেকে নেমে দরজা খুলে দিলো। আর বলল,
“সকাল সকাল গরুর মতো চিল্লাচিল্লি করছিস কেনো?”
“আপু, রাতে ভাইয়া বলল না যে আমাদের পড়াবে। ভাইয়াই ডেকেছে। বই খাতা নিয়ে তার রুমে যেতে বলেছে।”
অধরা রুমে ফিরে এসে বলল,
“ধুর আজকের দিনটা বন্ধ পেয়েছি তাও আবার পড়তে হবে। পড়বো না।”
“পড়বে না?”
“না।”
সোহা অধরাকে রাজি করাতে পারলো না। পরিশেষে নিজেই পড়তে চলে গেলো। অধরা ফ্রেশ হয়ে এসে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো। ও রুদ্রর কাছে পড়বেই না। ওদিকে রুদ্র আজ জোর করলো না। ওরও মুড নেই পড়ানোর। তখন না ভেবেই বলে দিয়েছিলো পড়াবে। আর তার মধ্যে অধরাও আসেনি। পড়ানোর কোনো ইচ্ছেই জাগছে না।
অধরা ড্রইং রুমে এসে পা রাখতেই আরিফ নেওয়াজ ডাকলেন। অধরা তার কাছে গিয়ে বসলো। বাবা-মেয়ে কথা বলতে শুরু করলো। বলতে গেলে গল্পই করছে।
এমন সময় এলেন আরমান নেওয়াজ। তিনি অধরার পাশে বসে বললেন,
“তুমি একটু তোমার আম্মু আর বড় আম্মুকে পাঠিয়ে দাও, বলো যে জরুরি কথা আছে।”
অধরা উঠে চলে গেলো। অতঃপর ওর মাকে আর বড় আম্মুকে বলল নিচে যেতে, কথা বলবে। রুকাইয়া আর অনিমা নিচে এলেন।
অধরা চলে গেলো রুদ্রর রুমের দিকে দেখতে যে সোহাকে কেমন পড়াচ্ছে। দরজার সামনে এসে দেখলো সোহা ভালোই পড়ছে। রুদ্র অধরার উপস্থিতি বুঝতে পেরে ঘাড় ঘুরিয়ে বলল,
“এদিকে আয়!”
অধরা এগিয়ে গেলো। রুদ্র সোহাকে বলল,
“আজকের মতো এইপর্যন্তই আবার সন্ধ্যায়, যা।”
“ঠিক আছে।”
সোহা চলে গেলো। অধরা দরজার কাছে দুইহাত পেছনে দিয়ে দাড়িয়ে আছে। রুদ্র বলল,
“এখানে আয়!”
অধরা এগিয়ে গেলো। রুদ্র গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
“শুনলাম আজকে ঘুরতে যাবি?”
“আপনাকে কে বলল?”
“সোহা।”
“হুম। ঘুরতে যাবো ভেবেছি।”
অধরা মনে মনে সোহাকে বকলো- শয়তান কোথাকার। এরপরে আর কিচ্ছু বলবো না।
একটা কথাও পেটের মধ্যে রাখতে পারে না। শুধু এই রুম থেকে বের হতে পারলে হয়। তোর খবর আছে।
রুদ্র জিজ্ঞাসা করলো,
“সাথে কে যাবে?”
অধরা কাঁধ ঝাড়া দিয়ে বলল,
“সাথে আবার কে যাবে? আমরা দুজনই যাবো।”
রুদ্রর থেকে কোনো কথা আসার আগেই অধরা বলল,
“আচ্ছা ভাইয়া, আজকে আমাদের সাথে ঘুরতে যাবেন? একটা পার্কে যাবো। আপনাকেও ঘুরে ঘুরে দেখাবো।”
রুদ্র কিছু একটা ভাবলো। এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাচ্ছে না। সাথে সাথে উত্তর দিলো,
“ঠিক আছে। কখন যাবি?”
রুদ্রর সম্মতিতে অধরার মুখটা ছোট হয়ে গেলো। ভেবেছিলো রুদ্রকে বললে হয়তো যেতে চাইবে না। কিন্তু যাওয়ার জন্য রাজি হয়ে গিয়েছে। আর তাছাড়া অধরার তেমন কোনো সমস্যা নেই। ও বলল,
“বিকেল তিনটায় যাবো।”
“আর আজকে পড়তে এলি না কেনো?”
অধরা হাসার চেষ্টা করে বলল,
“সন্ধ্যা থেকে আসবো।”
“ওকে।”
“এখন আসি?”
“যা।”
অধরা চলে এলো। রুদ্র একটু খুশিই হলো। ওকেই চেষ্টা করতে হবে। চেষ্টা ছাড়া হবে না। এখন রুদ্রর একটা কাজই বেশি জরুরি সেটা হলো মনখোলাসা করে ওর সাথে মিশতে হবে। তাহলেই ওর মনে ভালোবাসা তৈরী করা সম্ভব হবে। রুদ্রর মাথায় একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে,
ও কি পারবে এই রাগী-জেদি মেয়েটার মনে ভালোবাসা তৈরী করতে? হুমম ওকে এই একমাসে পারতেই হবে।
……………..
বিকেলের দিকে অধরা আর সোহা ম্যাচিং থ্রি-পিস পড়লো। মেরুন রঙের জর্জেট থ্রি-পিস। এর আগে দুজনেই ঘুরে ঘুরে অনিমার থেকে যাওয়ার অনুমতি নিয়েছে। ওদের যেতে দিতে চায়নি। যখন শুনেছে যে রুদ্রও সাথে যাবে। তখন আর না করেনি।
অধরা আর সোহা রেডি হয়ে নিচে এলো। রুদ্র প্রথমে অধরাকেই দেখলো। থ্রি-পিস পড়েছে। আর কোমর পর্যন্ত চুলগুলো বিনুনি করা। চোখে কাজল আর হালকা লিপস্টিক। ও এই অবস্থাতে যাবে ভেবেই রুদ্রর মাথা গরম হয়ে গেলো। আগে কিভাবে গিয়েছে না গিয়েছে সেটা ওর ব্যাপার ছিলো। তখন রুদ্র ছিলো না। এখন তো রুদ্র আছে। রুদ্র চায় ও ব্যাতিত অধরার সৌন্দর্য কেউ দেখতে পারবে না। অতঃপর বলল,
“তোরা রেডি?”
সোহা উত্তর দিলো, “হুমম। ”
রুদ্র একটু রেগে গিয়েই বলল,
“তোরা এই ড্রেস পড়ে যাবি? তোদের বোরখা নেই? ”
সোহা বলল,
“আমার আছে।”
রুদ্র ভ্রু কুঁচকে অধরাকে বলল,
“তোর বোরখা আছে?”
“না।”
“কেনো?”
অধরা স্পষ্ট কণ্ঠে বলল,
“বোরখা পড়ি না তাই নেই। ”
রুদ্র ধমক দিয়ে বলল,
“চুপ! বোরখা নেই মানে কি? মেয়ে মানুষ বাহিরে গেলে বোরখা পড়ে যেতে হয় সেটুকু সেন্স নেই? ”
অধরা ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে রইলো। ও তো শতবার বাহিরে গিয়েছে। কই বোরখার কথাতো কেউ বলেনি। আর এই লোক দুইদিন ধরে এসে ওকে কত হুকুম করছে। আবার বলছে বোরখা পড়তে।
এর মাঝে এলেন অনিমা। সে তো মেয়েকে শাসনেই রাখেন তার উপরে আবার রুদ্র একটু পথটা ক্লিয়ার করেই দিচ্ছে। তিনি এসে সামনে দাঁড়াতেই রুদ্র তাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে কাঠ কাঠ গলায় বলল,
“আজকে এভাবেই চল। এরপরে দেখবো তোরা বোরখা ছাড়া কিভাবে যাস।”
কথাটা বলেই রুদ্র সদর দরজার দিকে চলে গেলো। অধরা রেগে গিয়ে বলেই দিলো,
“পারলে বোরখা কিনে দিও তখন পড়বো। নিজে কিনে পড়তে পারবো না।”
অনিমা মেয়েকে বললেন,
“রেগে যাচ্ছিস কেনো? ভালো কথাই তো বলেছে।”
এই কথা শুনে অধরা সোহাকে নিয়ে গট গট করে বেরিয়ে গেলো। রুদ্র গাড়ির কাছে এসে দাড়িয়ে আছে। ওরা দুজনও এলো। রুদ্র গাড়িতে উঠল। অধরা যেই ব্যাকসিটের দরজা খুলতে যাবে ঠিক তখন রুদ্র বলল,
“অধরা সামনে আয়!”
অধরা কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেলো। সোহা মিনমিন করে বলল,
“আপু তুমি সামনে গেলে আমি কি পেছনে একাই বসবো?”
অধরা বিড়বিড় করে বলল,
“না, ভাইয়ার কোলে গিয়ে বস।”
সোহা অধরার কাঁধে চাপর মারলো। অধরা গাড়িতে উঠে বসলো।
ওরা একটা পার্কে এলো। খুব একটা লোক হয়না বলে এখানেই ওরা ঘুরতে আসে। কোনো কোলাহল নেই। বিশাল একটা মাঠ। কয়েকটা কাপল এসে বসে আছে, আবার কত বন্ধুরা মিলে আড্ডা দিচ্ছে। ওরা দুই বোন আগে আগে যাচ্ছে। রুদ্র পেছন পেছন। অধরা আর সোহা একটা জায়গায় দাড়িয়ে ফুচকা খাওয়া শুরু করলো। রুদ্রকে খেতে বলল কিন্তু ও খেলো না। খাওয়া শেষ করে অধরা সাইডব্যাগ থেকে যেই টাকা বের করবে ঠিক তখনই রুদ্র দুই কদম এগিয়ে এসে বলল,
“আমি দিচ্ছি।”
অধরা না করলো না। ভালোই হলো টাকা বেচে গেলো। ও পিছিয়ে এলো। রুদ্র টাকা দিলো। ওরা আবার হাঁটা শুরু করলো। সোহা পেছনে ছিলো। অধরা রুদ্রর সাথে যাচ্ছিলো। আর আশেপাশের প্রকৃতি দেখাচ্ছিল। রুদ্র অধরার স্নিগ্ধ মুখশ্রীর পানে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষন। একেকসময় ও নরম, একেকসময় রাগী, আবার একেক সময় মায়াবী,আবার একেকসময় বোঝদার।
রুদ্রকে একধ্যানে তাকিয়ে থাকতে দেখে অধরা ওর মুখের সামনে হাত নাড়ালো। আর বলল,
“কি হলো কি? ধ্যানে পড়ে গেলেন নাকি?”
রুদ্র মাথা নাড়ালো।
“না কিছুনা চল!”
একটু পরে অধরা ওর ফোনটা বের করে সোহাকে দিয়ে বলল ছবি তুলে দিতে। সোহা ফোনটা নিয়ে ছবি তুলে দিতে লাগলো। দুজনে আবার একসাথে সেলফিও নিলো। রুদ্র পাশে দাড়িয়ে অধরাকে দেখে যাচ্ছিলো। একটা সময় অধরা অন্য দিকে তাকিয়ে দাড়িয়েছিলো। যা রুদ্রর কাছে অসম্ভব ভালো লেগেছিলো। ও নিজের ফোনটা বের করে অধরার অগোচরে একটা ছবি তুললো। ছবিটা এতই ভালো লেগেছে যার জন্য সেই ছবিটা সাথে সাথে হোম ওয়ালপেপার দিয়ে রাখলো।
এরপরে রুদ্র এগিয়ে গেলো। হুট্ করে একটা ছেলে অধরার ক্লাসমেট জয় পাশ থেকে অধরাকে বলল,
“কিরে, তোর পাশের টা কে?”
অধরা কিছু বলার আগেই জয় বলল,
“বাব্বাহ, প্রেম করিস দেখি। রাকিব এমনেই দেবদাস তারপর তো আরও দেবদাস হয়ে যাবে।”
অধরা রুদ্রর দিকে তাকিয়ে শুকনো ঢোক গিলে জয়কে ঝাড়ি মেরে বলল,
“কিসব বলছিস? উনি আমার বড় ভাই।”
জয় সঙ্গে সঙ্গে কানে হাত দিয়ে বলল,
“সরি রে বুঝতে পারিনি। ভাইয়া সরি।”
রুদ্র তৎক্ষণাৎ অধরাকে জিজ্ঞাসা করলো,
“রাকিব টা কে রে?”
অধরা আমতা আমতা করে বলল,
“কো কোন রাকিব?”
রুদ্র তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,
“ওই ছেলে যে বলে গেলো।”
অধরা মলিন হেসে কথা ঘুরিয়ে বলল,
“আসলে ওরা এমন করেই মজা করে। রাকিব ও আমাদের কলেজের। ওরা ওকে নিয়েই মজা করে।”
রুদ্রর বিশ্বাস হলো না। অধরাও হাঁটা দিলো সোহার দিকে। রুদ্রর মেজাজ চরম খারাপ হয়ে উঠল। যে পর্যন্ত এর কোনো সঠিক উত্তর না পাচ্ছে সে পর্যন্ত ওর শান্তি হচ্ছে না। না না, এতো উত্তেজিত হওয়া যাবে না। ওকে ঠান্ডা মাথায় বের করতে হবে রাকিব কে?
অধরা আর ঘুরতে চাইলো না। এই রাকিবের কথা শুনে মেজাজ খারাপ হয়ে গিয়েছে। রুদ্রকে বলল এখন চলে যাবে। রুদ্র ওদের নিয়ে পুনরায় গাড়ির কাছে ফিরে এলো।
সেই থেকে অধরা বেশি কথা বলছে না। এবার সোহার সাথে ব্যাক সিটে বসেছে। রুদ্র থেকে থেকে লুকিং গ্লাসে অধরাকে দেখছে। অধরা সেটা খেয়াল না করলেও সোহা খেয়াল করেছে।
ওরা ভালোই ভালোই ফিরে এলো বাড়িতে। অধরা আর সোহা যে যার যার মতো চলে গেলো। রুদ্র ড্রইং রুমে বসে রইলো। সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে কিছু একটা ভাবতে লাগলো। কিচেনে থেকে রুকাইয়া বললেন কফি খাবে নাকি? রুদ্র না করলো। এখন কিছু খাবে না।
রুদ্রর এই মুহূর্তে চট করে মনে পড়লো অধরার কথাটা। তখন রেগে গিয়ে বলেছিলো বোরখা নিজে কিনে পড়বে না। ওকেই কিনে দিতে বলেছিলো। রুদ্র উঠে গাড়ির চাবিটা নিয়ে বের হয়ে গেলো। অধরার জন্য বোরখা কিনতে। কল দিয়ে আদ্রকেও বের হতে বলল। ও মিনিট পাঁচেক পরেই এলো। তবে আদ্রকে বলেনি যে অধরার জন্য বোরখা কিনতে যাবে।
রুদ্র একটা শপিং মলে এলো। বোরখার কর্নারে গিয়ে কিছুক্ষন দাড়িয়ে রইলো। অনেক বোরখার কালেকশন। এখানে থেকে কোনটা নিবে? আর অধরাই বা কোনটা পড়তে কমফোর্টেবল করবে।
আদ্র শেষমেষ জিজ্ঞাসা করলো,
“ভাইয়া কার জন্য বোরখা কিনবে?”
“অধরার জন্য।”
“কিহ? ও তো বোরখা পড়ে না।”
রুদ্র গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলল,
“আগে পড়েনি সেটা বাদ। এখন থেকে পড়বে।”
আদ্র চোখ ছোট-ছোট করে বিড়বিড় করে বলল,
“আসলেই পড়বে ও?”
রুদ্র কিছু একটা ভেবে বলল,
“এই অধরার নাম্বার আছে? দে তো কল দিয়ে জিজ্ঞাসা করি কোনটা পছন্দ।”
আদ্র অধরার নাম্বারটা দিলো। রুদ্র কল দিতে গিয়েও দিলো না। ফোনটা পকেটে ভরে নিজেই দেখে দেখে বোরখা নিলো। একের পর এক নিতেই থাকলো। আদ্র বড় ভাইয়ের কান্ড দেখে বলল,
“এই তুমি কি পুরো দোকানই নিবে? ও এতগুলো পড়ে শেষ করবে কেমন করে?”
“দিনে, রাতে, ঘুরতে-ফিরতে, উঠতে-বসতে যেখানে যাবে সব জায়গায়ই বোরখা পড়বে।”
আদ্র হতবাক ভাইয়ের কথা শুনে। শেষে এসে বিল গিয়ে ঠেকলো ৪৩ হাজারে। রুদ্র বিল দিয়ে বোরখাগুলোর ব্যাগ নিয়ে গাড়ির কাছে এলো। অনেকগুলো ব্যাগ হওয়ায় আদ্র বলল,
“এগুলো বস্তায় ভরে নিয়ে গেলে মন্দ হবে না।”
রুদ্র ঘাড় ঘুরিয়ে বলল,
“কিহ! বস্তা?”
“হুমম। থাকো আমি ব্যবস্থা করছি।”
আদ্র চলে গেলো। রুদ্র আদ্রর কথা শুনে আরও অবাক। এক ভাইয়ে বোরখা কিনলো, আরেক ভাইয়ে সেগুলো বস্তায় করে নিবে।
রাত তখন, আটটা। আরমান নেওয়াজ ড্রইং রুমে বসে ফোন স্ক্রল করছেন। পাশে আরিফ নেওয়াজও ফোন স্ক্রল করছেন। এর কয়েককদম দূরে রুকাইয়া বসে বসে সুই-সুতো দিয়ে রুমালে ডিজাইন তুলছেন। অবসর সময়ে তিনি টুকিটাকি এমন কাজ করেন। অধরা নিচে নামলো। নিশ্চুপ পায়ে এসে আরিফ নেওয়াজের পাশে দাড়ালো। আরিফ নেওয়াজ মাথা তুলে মোলায়েম কণ্ঠে বললেন,
“আম্মু!”
“আব্বু কফি খাবে? কফি আনি?”
আরিফ নেওয়াজ হেসে বললেন,
“ঠিক আছে।”
অধরা খুশি হয়ে চলে গেলো কিচেনে। রুকাইয়া হাতের কাজ ফেলে উঠে দাড়িয়ে অধরার উদ্দেশ্যে বললেন,
“আমি আসবো!”
“না বড় আম্মু। আমি পারবো।”
অধরা সচরাচর কিচেনে ঢুকে না। শুধু তার বাবার জন্য কফি বানাতেই ঢুকে। আর দ্বিতীয়ত কোনো কাজেই কিচেনে ঢুকে না।
অধরা কফি বানিয়ে নিয়ে এলো। এরই মাঝে বাড়িতে ঢুকলো রুদ্র, আদ্র। সবার নজর ওদের দুজনের দিকেই। আর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো আদ্রর কাছে একটা বস্তা। সবাই অবাক আবার কৌতূহল যে ওই বস্তার ভিতরে কি আছে। অধরা এগিয়ে গিয়ে আদ্রকে বলল,
“এই ভাইয়া এটায় কি এনেছো?”
আদ্র হেসে বলল,
“ভাইয়া এনেছে।”
আরিফ নেওয়াজ বললেন,
“কি এটার মধ্যে?”
রুদ্র বস্তার মুখ খুলে একটা একটা বোরখার প্যাকেট বের করলো। অধরার দিকে এগিয়ে দিলো। অধরা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো। অতঃপর হাতে নিলো। রুদ্র ওর হাতের উপরেই বোরখার পিরামিড সাজালো। শেষ হচ্ছে না।
অধরা বলল,
“এগুলো কিসের?”
উত্তরে রুদ্র বলল,
“এগুলো বোরখা। তোর জন্য।”
এই শুনে আরমান নেওয়াজ, রুকাইয়া আর আরিফ নেওয়াজ হতবাক। হা হয়ে তাকিয়ে রইলেন। অধরা বিষম খেয়ে উঠল। রুকাইয়া এসে বললেন,
“রুদ্র এতগুলো বোরখা কেনো?”
রুদ্র অবলীলায় বলে উঠল,
“অধরার বোরখা নেই। তাই ওর জন্য এনেছি।”
আরিফ নেওয়াজ বললেন,
“তাই এতগুলো?”
রুদ্র বলল,
“আমি তো আর ওর পছন্দ জানি না। তাই যেটা ভালো লেগেছে সেটাই নিয়ে এসেছি।”
আরিফ নেওয়াজ অবাক কণ্ঠে বললেন,
“কয়টা বোরখা এখানে?”
পাশ থেকে আদ্র ফট করে বলল,
“মেঝো আব্বু আঠারোটার মতো হবে। সাথে আবার ম্যাচিং স্কার্ফ ওড়না।”
অধরা মনে মনে বলল–বাব্বাহ আমার কথা আবার উনার কানেও গিয়েছিলো তখন। তাই বলে এতগুলো বোরখা। দশটা হলেও ভালো ছিলো কিন্তু এতগুলো ও পড়বে কখন?
অধরাকে ভাবলেশ হয়ে থাকতে দেখে আদ্র ওকে একটু ধাক্কা দিলো। অধরা ঘোর থেকে বেরিয়ে এলো। আদ্র বলল,
“কিরে কোথায় হারালি। এগুলো গুছিয়ে উপরে যা।”
রুকাইয়া হেসে বললেন,
“এরা সবকটা ঝোকে চলে। মাথায় যা আসে তাই করে। এর থেকে অধরাকে সাথে নিয়ে গেলেই তো হতো। ওর নিজের পছন্দ মতো আনতে পারতো।”
অধরা সে কথায় পাত্তা না দিয়ে রুদ্রকে বলল,
“ভাইয়া, এখানে থেকে সোহাকে দিবোনি?”
রুদ্র মাথা নাড়িয়ে হেসে বলল,
“ঠিক আছে দিস।”
আরিফ নেওয়াজ পুনরায় বসলেন। আরমান নেওয়াজ তখনও হতবাক হয়ে দাড়িয়ে রয়েছেন। তিনি ছেলের দিকে তাকিয়ে বললেন,
“রুদ্র উপরে এসো তো একটু। কথা আছে।”
রুদ্র ওর বাবার দিকে তাকিয়ে বলল,
“সিরিয়াস কিছু?”
“হুমম, এসো!”
চলবে....