#প্রণয়বেলায়_তোমার_আগমন (০৮)
#জেরিন_আক্তার
ইফতি রুদ্র আর অধরাকে কিছু বলার সুযোগ দিলো না। বলল,
“সরি, ভাবি না আপু। আসলে ভুল করে বলে ফেললাম। অধরা আপু কিছু মনে করবেন না।”
অধরা হালকা হাসলো। রুদ্র বলল,
“তু্ই বস।”
ইফতি ফোনটা বের আশেপাশে তাকিয়ে বলল,
“তোরা কথা বল। আমি একটু ফোনে কথা বলে আসছি।”
“যা।”
রুদ্র বসে পড়লো অধরার দিকে তাকিয়ে বলল,
“তো কি খাবি অর্ডার কর!”
অধরা অনীহা জানালো।
“আপনার যা ভালো লাগে তাই অর্ডার করুন।”
“আমি কি অর্ডার করবো। তু্ইই কর!”
অধরা মেনু কার্ড দেখছিলো। রুদ্র বলল,
“আচ্ছা অধরা তোকে একটা কথা বলবো?”
“বলুন।”
“আচ্ছা তু্ই আমাকে মিস করেছিস এতোগুলো বছর। মানে আমি যে এতগুলো বছর আসিনি তোর আমার কথা মনে পড়েনি? মিস করিসনি?”
অধরা এই একটা সুযোগ পেলো রুদ্রকে কথা শোনানোর। এতগুলো বছরের রাগ আজ ঝাড়বে। অধরা মুখ ভেঙচি দিয়ে বলল,
“মিস করবো কেনো? আপনি তো আমার দোষ দিয়েই বাড়িতে আসেননি।”
রুদ্র হেয়ালি করে বলল,
“আরে তোকে তখন দেখেছিলাম না তাই তোর দোষ দিয়েছিলাম। এখন তো অন্য ব্যাপার হয়ে গিয়েছে।”
অধরা দৃঢ় দৃষ্টিতে তাকালো,
“কি ব্যাপার হয়ে গিয়েছে?”
“ও তু্ই বুঝবি না। কি খাবি অর্ডার কর!”
“বলবেন না?”
“পরে বলবো। এখন কিছু খেয়ে নেই। দে মেনু কার্ড দে।”
এদিকে আদ্র সোহাকে নিয়ে ঢুকলো আরেকটা রেস্টুরেন্টে। সোহা বসে জিজ্ঞাসা করলো,
“ভাইয়া ওরা কি আমাদের রেখে চলে গেলো?”
আদ্র বলল,
“রুদ্র গিয়েছে অধরাকে নিয়ে আলাদা করে সময় কাটাতে। ওদের ঘুরাফিরা শেষ হলে ওরা আবার নিয়ে যাবে চিন্তা করিস না। আর কিছু খেলে অর্ডার কর!”
সোহা খুশি হয়ে বলল,
“করবো?”
“কর! তবে বেশি কিছু অর্ডার করলে পিটাবো ধরে।”
সোহা ঠোঁট উল্টিয়ে বলল,
“অমন করো কেনো? আজই তো!”
“ঠিক আছে।”
আদ্র ওয়েটারকে ডেকে সোহাকে বলল কি খাবে অর্ডার করতে। সোহা যা যা খাবে তা ওয়েটারকে বলল। ওয়েটার চলে যেতেই আদ্র ফোনটা বের করে কারো সাথে চ্যাট করায় ব্যাস্ত হয়ে পড়লো। সোহা গলা উঁচিয়ে জিজ্ঞাসা করলো,
“কারো সাথে চ্যাট করছো?”
“হুম।”
“কে?”
আদ্র গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
“আছে একজন।”
সোহা আর আগ্রহ নিয়ে বলল,
“মেয়ে না ছেলে?”
আদ্র কিছু একটা ভাবলো এরপরে বলল,
“মেয়ে।”
সোহার মুখটা ফ্যাকাসে হয়ে গেলো। অতঃপর আর কোনো প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলো না। চুপচাপ বসে রইলো। কি জন্য চুপচাপ রইলো আদ্র টের পেলো। তবে গা ছাড়া ভাব নিয়ে বসে রইলো। ওয়েটার এসে খাবার দিয়ে গেলো। সোহা তখনও চুপচাপ। আদ্র জিজ্ঞাসা করলো,
“কিরে খা!”
“খাবো না।”
“কেনো?”
“খিদে নেই। ভালো লাগছে না।”
“তাহলে অর্ডার করলি কেনো?”
“খাচ্ছি।”
রাত ১০ টা ১৫…
রুদ্র অধরাকে নিয়ে রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে গাড়িতে উঠল। অধরা এবার নিজে থেকেই রুদ্রর পাশে বসল। এখন ওরা আদ্র আর সোহার কাছে যাবে। তাও আধঘন্টার মতো লাগবে। আর বাড়িতে ফিরতেও ওদের ভালোই রাত হবে। রুদ্র ওর মাকে আর অধরার মাকে জানিয়ে দিলো রাত হবে ফিরতে।
রুদ্র একহাতে স্টিয়ারিং ও ওপর হাতে ফোন নিয়ে কল দিলো আদ্রকে।
“হ্যালো ভাইয়া, তোমাদের আসতে কতক্ষন লাগবে?”
“এই আসছি। আরেকটু ওয়েট কর।”
“ঠিক আছে।। একটু তাড়াতাড়ি আসো, নাহলে আবার ফিরতে দেরি হবে।”
“হুম।”
রুদ্র ফোনটা ডেস্কে রাখতেই অধরা বলল,
“ওদের সাথে নিয়ে এলে কি এমন মহাভারত অশুদ্ধ হতো!”
রুদ্র শ্বাস ছেড়ে বলল,
“আমার দরকার তোকে নিয়ে ঘোরা, ওদের কেনো সাথে নিয়ে আসবো।”
“ইফতিকে নিয়ে এলেন যে?”
“ওটা আমার বন্ধু।”
“হুঁহ, ভাইবোনদের নিয়ে যেতে অসুবিধা। আর বন্ধুকে সাথে নেওয়া সেটা কিছু না।”
রুদ্র ধমক দিয়ে বলল,
“এই চুপ করবি! সবসময় বেশি বেশি কথা বলতে হবে! আমার সামনে থাকলে চুপ করে থাকবি।”
অধরা রেগে গিয়ে অন্যদিক ফিরে তাকিয়ে রইলো। বেশ, ও যখন এতো কথা বলে তাহলে এরপরে থেকে আর কথাই বলবে না। চুপচাপই থাকবে।
অধরা সিটে হেলান দিয়ে রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে ঘুম এসে পড়লো। রুদ্র খেয়াল করলো অধরা ঘুমিয়ে গিয়েছে। ও আদ্রদের কাছে আসা পর্যন্ত অধরাকে দেখতে দেখতেই ড্রাইভ করলো। আদ্র আর সোহা রাস্তার পাশে দাড়িয়ে ছিলো। রুদ্র গাড়ি নিয়ে এসে ওদের উঠতে বলল। সোহা আগে গাড়িতে উঠল এরপরে আদ্র। আদ্র অধরাকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখে ডেকে বলল,
“এই কিরে! ঘুরতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিস? এই দেখ বাড়িতে চলে এসেছি।”
অধরা উঠল না। আদ্রও আর কিছু বলল না। সোহা ওর মতো বসে আছে। আদ্রর দিকে ঘুরেও তাকাচ্ছে না।
গাড়িটা বাড়িতে এসে থামলো। আদ্র অধরাকে ডেকে উঠালো। অধরা গাড়ি থেকে নেমে মিনিট দুই দাঁড়িয়ে রইলো। ঘুমের ভাব চলে যেতেই ও হাঁটা দিলো ভিতরে। ড্রইং রুমে বসে ছিলেন আরিফ নেওয়াজ। অধরা এগিয়ে এসে অবাক কণ্ঠে বলল,
“আব্বু ঘুমাওনি এখনও? কত রাত হয়েছে।”
আরিফ নেওয়াজ এতক্ষনে হাসলেন মেয়েকে দেখে। এতক্ষন খুবই চিন্তায় ছিলেন। তিনি উঠে দাড়িয়ে বললেন,
“হুমম ঘুমাবো এখন। তুমিও ফ্রেশ হয়ে শুয়ে পড়ো।”
“ঠিক আছে।”
আরিফ নেওয়াজ চলে গেলেন। অধরা সিঁড়ি বেয়ে উপরে চলে এলো নিজের রুমে। আদ্র আর সোহাও চলে গেলো যে যার যার মতো। ওদিকে রুদ্র গাড়িটা গ্যারেজে রেখে ভিতরে ঢুকলো। মেইন দরজা বন্ধ করে ড্রইং রুমের লাইটটা নিভিয়ে সেও চলে গেলো নিজের রুমে।
পরদিন সকালবেলা—
অধরার ঘুম ভাঙলো দেরিতে। তখন মোবাইল হাতে নিয়ে দেখলো এখন বাজে আটটা। ও ফোনটা রেখে আড়মোড়া ভেঙে উঠে বসল। অনেকরাতে ঘুমানোর ফলেই এখন ঘুম থেকে এতো দেরিতে উঠা। মনটাও বেশ ভালো আজ।
ও ফ্রেশ হয়ে নিচে এসে সোজা খাবার টেবিলে চলে গেলো। আদ্র আগেই বসা ছিলো। অধরার মনটা আজকে ভালো থাকায় ও আদ্রর চুল টেনে পাশের চেয়ারে বসল। আদ্র ঘাড় ঘুরিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে বলল,
“বাব্বাহ আজ সূর্য কোনদিকে উঠেছে রে? তু্ই আজ আমার মাথার চুল টান দিলি।”
“কই আমি দিয়েছি? তোমার চুলই তো আমার হাত টান দিলো।”
“আমার কথা আমাকেই ঘুরিয়ে দিচ্ছিস।”
এই সময় সোহা এলো কলেজ ড্রেস পড়ে রেডি হয়ে। ও এসে অধরার পাশে বসলো। অনিমা এসে খাবার বেড়ে দিলেন। অনিমা সোহাকে বললেন,
“সোহা আজ কিন্তু তোর একাই যেতে হবে। তোর বড় আব্বু, মেঝো আব্বু ড্রাইভারকে সাথে নিয়ে অফিসে চলে গিয়েছে?”
“কিহ এতো আগেই চলে গিয়েছে?”
“হুমম।”
“তাহলে কার সাথে যাবো?”
অনিমা বললেন,
“কেনো আদ্রও তো ভার্সিটি যাচ্ছে ওর সাথে যাবি।”
সোহা প্লেটের দিকে তাকিয়ে বলল,
“ঠিক আছে।”
আদ্র খাবার খেয়ে উঠে সোফায় এসে বসলো। আর সোহাকে বলল তাড়াতাড়ি খেতে। সোহা খেয়ে চুপচাপ ওর সাথে চলে গেলো। বাড়তি কোনো কথাও বলল না। আদ্রও বেশ বুঝে শুনেই চাল চেলেছে। আপাতত কিছু বলবে না। পরে ধরবে ওকে।
অধরা খাবার খেয়ে নিচে কিছুক্ষন বসে থেকে উপরে চলে গেলো। সামনে পড়লো রুদ্র। রুদ্র পকেটে হাত গুজে অধরাকে দেখতে দেখতে বলল,
“কেমন আছিস?”
অধরা কিছু বলবে ঠিক তখন ওর মাথায় এলো রাতের কথা। রুদ্র বলেছিলো ওকে চুপচাপ থাকতে। সেই হিসেবে ও কোনো কথা বলল না। চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলো। রুদ্র বলল,
“তোকে কিছু জিজ্ঞাসা করেছি!”
অধরা তখনও চুপ। শুধু তাকিয়ে রইলো। রুদ্র কপালদ্বয়ে ভাজ ফেলে বলল,
“মুখে কথা নেই কেনো? বোবা হলি নাকি?”
অধরা এবারও নিশ্চুপ। রুদ্রর রাগ হলো। গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
“কি হয়েছে তোর?”
অধরা এবারও নিশ্চুপ। তবে আর দাড়ালো না। চলে গেলো নিজের ঘরের দিকে। রুদ্র কপাল কুঁচকে তাকিয়ে রইলো ওর দিকে। ভাবলো ও কি রাগের কোনো কথা বলেছে? নাকি বকেছে? কিছুই তো করেনি। তাহলে কথা বলল না কেনো? মুড সুইং নাকি? কিজানি হতেও পারে।
কথাগুলো ভাবতে ভাবতে নিচে এলো। ওর মাথায় তখনও শুধু অধরার কথাই ঘুরপাক খাচ্ছিলো। অনিমা ওকে খাবার বেড়ে দিলো। ও খাবার খেয়ে চুপচাপ উপরে চলে এলো।
****
অধরা পরীক্ষা দিতে গেলো আজকে রুদ্রকে না বলেই। ড্রাইভারই নামিয়ে দিয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে রুদ্র গুরুত্বপূর্ণ কাজে বাহিরে গিয়েছে।
অধরা আর রুদ্র বাড়িতে না থাকায়, বিকেলের দিকে পরে রুকাইয়া, অনিমা, আর আদ্র মিটিং বসিয়েছে। কি করে রুদ্র আর অধরাকে এক করা যায়। অনিমা জানালো তার বড় বোনের ছেলে জীবনকে একদিনের জন্য আসতে বলবেন। আর বাদবাকি সব আদ্রই শিখিয়ে দিবে।
অধরার পরীক্ষা ভালোই ভালোই শেষ হলো। কালকে থেকে আর পরীক্ষা নেই। অধরা গেটের কাছে এসে দেখতে পেলো রুদ্র দাড়িয়ে আছে। অধরা চুপচাপ এসে গাড়িতে উঠল। রুদ্র আরও অবাক হলো। প্রতিদিন তো এসে বলে, যে ভাইয়া যাবেন না? আর কি এমন হলো যে সকাল থেকে কথাই বলছে না। আবার এখনও কোনো কথা বলল না। এই মেয়ের হলো টা কি?
রুদ্র গাড়িতে উঠে বসতে বসতে অধরাকে বলেই উঠল,
“কিরে কিছু বললি না কেনো আজকে?”
অধরা তাকিয়ে রইলো। রুদ্র মাথা নাড়িয়ে বলল,
“কিরে কথা বল!”
-“আচ্ছা তোর হয়েছে টা কি রে? কথা কেনো বলছিস না? তোকে কিছু বলেছি নাকি বকেছি। কথা কেনো বলছিস না। এবার একটু কথা তো বল।”
অধরা একটা প্রশ্ন আর কলম বের করলো। অতঃপর সেটা হাঁটুর উপরে রেখে লিখলো-
–আপনি কালকে বললেন যে আপনার সামনে চুপচাপ থাকতে তাই চুপচাপ আছি।
প্রশ্নটা রুদ্রর দিকে দিলো। রুদ্র সেটা পড়ে কষে ব্রেক করলো। অধরা মাথায় হালকা বারি খেলো। তবুও জেদ করে কোনো কথা বলল না। রুদ্র ওর দিকে তাকিয়ে বলল,
“তু্ই একটা ছোট্ট কথা নিয়ে কথা বলছিস না? আরে ভাই তোকে তখন এমনেই বলেছি। তাই বলে সারাদিন কথা বলবি না। তোর বড্ড জেদ রে। ঠিক বাপের মতো।”
অধরা চেতে উঠল।
“খবরদার আমার আব্বুকে নিয়ে কথা বলবেন না।”
রুদ্র মুখ বেকিয়ে বলল,
“এখন কথা বের হয়েছে। কত করে কথা বলায় বললাম তখন তো বললি না। আর এখন বাপের কথা বলেছি আর সুরসুর করে কথা বললি। পোল্টিবাজ মেয়ে কোথাকার।”
অধরা ধমক দিয়ে বলল,
“চুপ করুন। আপনি পোল্টিবাজ, আপনার বাবা পোল্টিবাজ।”
রুদ্র বাকা হেসে বলল,
“আচ্ছা এতো বড় কথা।”
“হুম। আমি বাড়িতে গিয়ে আব্বুকে বলে দিবো আপনি তাকে পোল্টিবাজ বলে বকেছেন।”
রুদ্র গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলল,
“যা গিয়ে বল। দেখবি সামনের সপ্তাহে তোকে বিয়ে দিয়ে দিবে।”
“মানে?”
রুদ্র তো বলতে পারছে না ও কত বড় ঝামেলায় আছে। আরিফ নেওয়াজ যদি জানে তাকে ও তার মেয়েকে রুদ্র বকেছে তাহলে রাগ করে মেয়েকেই অন্য জায়গায় বিয়ে দিয়ে দিবে। ও এখন বলতেও পারছে না যে অধরাকে ও বিয়ে করবে। যদি বলে তাহলে আরিফ নেওয়াজ মনে করবেন যে রুদ্র ওর বাবা-মায়ের চাপে বিয়ে করবে। রুদ্রকে বিষয়টা অন্যদিকে ঘুরিয়ে ফেলতে হবে। ওর আরিফ নেওয়াজকে দেখাতে হবে ও অধরাকে ভালোবাসেই বিয়ে করবে।
রাতের খাবার খাওয়ার সময়—
আরমান নেওয়াজ আর আরিফ নেওয়াজ আগেই খেয়ে চলে গিয়েছেন। এখন বসেছে বাড়ির ছেলেমেয়েরা। অনিমা তালে তালে রুকাইয়াকে বললেন,
“ভাবি, জীবনকে চিনেন না।”
রুকাইয়াও সেই তালে তাল মিলিয়ে বললেন,
“হুমম। অধরার বড় খালার ছেলে না। কেনো কি হয়েছে?”
অনিমা হেসে বললেন,
“আরে ও তো কালকে সকালে এই বাড়িতে আসছে। বলা যায় ও অধরার পাগল।”
রুকাইয়া বললেন,
“হ্যা, ছেলেটা এলে অধরাকে চোখে হারায়।”
অধরা খেতে গিয়ে বিষম খেয়ে উঠল। রুদ্র তাকালো অনিমার দিকে। অনিমা রুদ্রর দিকে একপলক তাকিয়ে অধরাকে পানি এগিয়ে দিলেন। আদ্র অধরার মাথায় চাপর মেরে বলল,
“আস্তে খা।”
অধরা পানি খেয়ে তার মাকে বলল,
“আম্মু জীবন ভাই কালকে আসবে?”
“হুমম। আসতে চাইছিলো না, একটু জোর করেই আনছি। আসলে তোর বড় খালার জন্য কিছু জিনিস কিনে রেখেছি ওগুলোই দেওয়ার জন্য ওকে আসতে বলেছি। কালকে সকালে আসবে, সারাদিন থাকবে পরেরদিন চলে যাবে।”
রুদ্র একটু রাগী কণ্ঠে বলল,
“জীবন আসতে চাইছিলো না ওকে জোর করার কি দরকার ছিলো মেঝো আম্মু। আর তোমার বড় বোনের জিনিসগুলো আমি দিয়ে আসবোনি?”
আদ্র মনে মনে বলল, কাজ হলো তবে। ভাইয়া জেলাস। এখন খেলা জমে যাবে।
অনিমা বললেন,
“আরে রুদ্র তোর কষ্ট করতে হবে না। ও তো আসছেই।”
রুদ্র তপ্ত শ্বাস ফেললো। অধরা আড়চোখে তাকালো রুদ্রর দিকে। রুদ্র ঝটপট খাওয়া শেষ করে উঠে দাড়িয়ে অধরাকে উদ্দেশ্য করে বলল,
“অধরা খাওয়া শেষ করে রুমে আসিস একটু।”
অধরা বলল,
“ঠিক আছে আসছি।”
পাশ থেকে সোহা অধরার বামহাত ধরে থমথমে কণ্ঠে বলল,
“আপু, তোমার সাথে না একটু কথা আছে। খাওয়া শেষ হলে বলবো। সিরিয়াস কথা।”
অধরা হেসে বলল,
“বাব্বাহ, আজকে নিজেকে লাকি মনে হচ্ছে। দুইজনই কথা বলতে ডাকছে। ঠিক আছে।”
চলবে....