#প্রণয়বেলায়_তোমার_আগমন (০৭)
#জেরিন_আক্তার
অধরা রুদ্রর বিড়বিড় করে বলা কথাগুলো শুনতে পেলো। রুদ্র চোখ খুলতেই অধরা বলে উঠল,
“কি বললেন আপনি?”
রুদ্র উঠে দাড়িয়ে বলল,
“সকালে পড়তে আসিস। গেলাম!”
অধরা রুদ্রর যাওয়ার পানে তাকিয়ে বিড় বিড় করে বলল-এহ এতক্ষন মাথা টিপে দিলাম তখন ভালো লাগলো আর এখন রেখে চলে যাচ্ছে। এরপরে শুধু বইলেন তখন মাথা না গলা টিপে দিবো।
রুদ্র সিঁড়ির মাঝখানে গিয়ে থেমে অধরার দিকে তাকিয়ে বলল,
“বকা বাদ দিয়ে ঘুমাতে যা। আবার কালকে। এখন থেকে এটা তোর চাকরি বুঝলি।”
অধরা মুখ ভেঙচি দিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে চলে এলো। রুমে এসে দরজা লাগিয়ে দিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকলো। ফ্রেশ হয়ে বের হয়ে বিছানায় এসে বসলো। আবার নেমে গেলো বিছানায় থেকে। রিডিং টেবিলে এসে সেই বেলী ফুলের মালাগুলো নিয়ে বিছানায় এলো। সবগুলো মালা হাতে পড়ে শুকে শুকে তার সুবাস নিচ্ছিলো। ঠিক তখন মনে পড়লো রুদ্রর কথা। তখন ফুলগুলো দিয়ে আবদার করে বলেছিলো, ফুলগুলো তোর কাছে রাখিস। অধরা ভাবতে ভাবতে অজান্তেই মুচকি হাসলো। মনে মনে বলল-আমি এমনেও ফুলগুলো দিতাম না। তবুও একটু নাটক করার দরকারই ছিলো। নাহলে আপনার দাম বেড়ে যেতো।
ও ফুলের মালাগুলো হাত থেকে খুলে বালিশের কাছে রেখে শুয়ে পড়লো। কত কত ভাবনা ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়লো।
সকালবেলা অধরা আর সোহা রুদ্রর কাছে পড়তে এসেছিলো। আজকেও অধরা রুদ্রর পাশে সোহাকেই বসিয়েছিল। রুদ্র অনেক ভেবে দেখলো কালকে থেকে ও আর সোহাকে বসতে দিবে না। ওকেই কিছু একটা করতে হবে। নাহলে প্রতিদিন এমনই হবে।
আরমান নেওয়াজ আর আরিফ নেওয়াজ চলে গেলেন অফিসে। সাথে সোহাও গেলো। ওকে কলেজে নামিয়ে দিয়ে উনারা অফিসে চলে যাবেন। আদ্র আজকে অফিসে যায়নি। ভার্সিটিতে যাবে বলে। ও রেডি-সেডি হয়ে নিচে এলো। রুদ্রও নামলো। অধরা খাবার টেবিলে বসে খাচ্ছিলো। রুদ্র গিয়ে বসলো খাবার টেবিলে। আর আদ্র এগিয়ে গিয়ে অধরার চুল টান দিয়ে পাশের চেয়ারে বসলো। অধরা ওর দিকে তাকিয়ে বলল,
“ভাইয়া, চুল টান দিলে কেনো?”
আদ্র কপাল কুঁচকে বলল,
“আমি দিয়েছি? তোর চুলই তো আমার হাত দেখে টান দিলো।”
পাশ থেকে রুকাইয়া আদ্রর কাঁধে হালকা চাপর মেরে বললেন,
“এই তু্ই শুধু শুধু ওকে জ্বালাস কেনো বলতো। খেতে দে মেয়েটাকে।”
অধরা বলল,
“ঠিক বলেছো বড় আম্মু। ভাইয়া সবসময় এমন করে।”
আদ্র গা ছাড়া ভাব নিয়ে রুদ্রকে শুনিয়ে অধরাকে বলল,
“আমি এমন না করলে কে করবে? আমিই তো তোর ভবিষ্যত। তু্ই শশুরবাড়ি যাবি তোকে দিয়ে আসবো, নিয়ে আসবো। তোর কিছুর দরকার হলে তু্ই কল দিবি। আমি অমনি চলে যাবো। আবার তোর বাড়িতে গেলে ভালো-মন্দ রেঁধে খাওয়াবি।”
কথাটা শেষ হওয়ার সাথে সাথে রুকাইয়া, অনিমা আর আদ্র তাকালো রুদ্রর দিকে। দেখতে যে রুদ্রর থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় কিনা। রুদ্র অধরার দিকে তাকিয়ে যখন দেখলো সবাই ওর দিকেই তাকিয়ে আছে তখন বিষম খেয়ে উঠল। রুকাইয়া আদ্রকে কিছু ইশারা করলেন। যারপরনাই আদ্র অধরাকে বলল,
“কিরে, তোর শশুরবাড়ি গেলে আদর-যত্ন করবি না?”
রুদ্র গলা খাকারি দিয়ে মাকে বলল,
“মা খেতে দাও!”
রুকাইয়া রুদ্রকে খাবার বেড়ে দিতে দিতে আদ্রকে বললেন,
“এখন এতো কথা বলা বাদ দিয়ে খা। এরপরে যত ঝগড়া করার করিস।”
তিনজনেই নিশ্চুপ হয়ে খেতে লাগলো। অধরা খেয়ে আগে চলে গেলো। এরপরে রুদ্র। আদ্র উঠে বেসিনে থেকে হাত ধুয়ে এসে দাড়ালো। রুকাইয়া ছেলের দিকে টিস্যু এগিয়ে দিয়ে বললেন,
“এখনকার মতো যেভাবে ওদেরকে খোঁচা মেরে কথা বললি না, এরপরে ওদেরকে এমন কথাই শোনাতে হবে।”
আদ্র বলল,
“হুমম তাই করতে হবে। ভাইয়ার সামনে বারবার অধরার বিয়ের কথা বলতে হবে। তাহলে তো একটু নরম হবে। যদি একমাসে কিছু নাহয় তাহলে দেখবে মেঝো আব্বু সত্যিই অধরাকে বিয়ে দিয়ে দিবে।”
অনিমা চেয়ারে বসে বললেন,
“আদ্র ঠিকই বলেছে ভাবি। অধরার বাবা নিজেকে হাসি-খুশি দেখাচ্ছে ঠিকই। কিন্তু উনার ভিতরেও একটু রাগ আছেই। প্রকাশ করেন না ঠিকই কিন্তু আসলেই তিনি রেগে আছেন।”
রুকাইয়া বললেন,
“তা তো রেগে আছে জানিই। আর রেগে থাকবেই না কেনো? এই ছেলেটা অধরার দোষ দিয়েই তো দেশে আসেনি। ভাইয়ের জায়গায় আমি থাকলেও আমারও রাগ হতো।”
আদ্র ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলল,
“মা আসি। দেরি হয়ে যাবে।”
“যা, সাবধানে থাকিস।”
“হুমম।”
বেলা ১২ টা। রুদ্র শাওয়ার নিয়ে বসে আছে। কোনো কাজ নেই তাই বোরিংও লাগছিলো। মাথায় এলো অধরার কথা। অধরা একটু পরে যাবে কলেজে। ওকে দিয়ে আসলে মন্দ হবে না। রুদ্র রুম থেকে বেরিয়ে অধরার রুমের দিকে গেলো। এই বলতে যে তোকে আজকে দিয়ে আসবো। এখন না বলে এলে অধরা আবার চলে যাবে।
রুদ্র অধরার রুমের সামনে এসে দেখলো দরজা খোলা। অধরাকেও দেখা যাচ্ছে না। রুদ্র ডাক না দিয়েই রুমে প্রবেশ করলো। এভাবে কারো ঘরে ঢোকা মোটেও উচিত না তবুও ও সাহস নিয়েই ঢুকলো। অধরার কথা শোনা যাচ্ছে ব্যালকনিতে। রুদ্র চুপিচুপি ব্যালকনির দরজার কাছে গিয়ে দাড়ালো। অধরা তখন কথা বলছিলো জুঁইয়ের সাথে। টপিকটা ছিলো রাকিবকে নিয়ে। জুঁই বলছিলো,
“অধরা দেখবি আজকেও ওই রাকিব এসে কথা বলবে।”
অধরা বলল,
“ওর আর কাজ কি? সবসময় এসে ন্যাকা ন্যাকা কথা বলবে। জুঁই শোন, কালকে যে তোরা চলে গেলি না তখন রুদ্র ভাই আমাকে নিতে গিয়েছিলো। রাকিব রুদ্রকে দেখে শুধু রাগে ফুসছিলো।”
রুদ্র এবার শিওর হলো ওইটাই রাকিব। ও কালকেও আন্দাজ করেছিলো এমন কিছুই আর শেষে তাই হলো। তবে আজকে থেকে ওই ছেলেকে দেখে নিবে। প্রতিদিন ডিসটার্ব করা বের করবে।
রুদ্র কয়েক কদম পিছিয়ে গলা খাকারি দিয়ে অধরাকে ডাকলো,
“অধরা, কই রে?”
অধরা রুদ্রর ডাক শুনে জুঁইকে বলল,
“জুঁই পরে কথা হবে। ঠিক টাইমে আসিস। রাখছি।”
“ঠিক আছে।”
অধরা রুমে ফিরে রুদ্রকে বলল,
“হ্যা ভাইয়া বলো।”
“কি করছিলি?”
“ওই বান্ধবীর সাথে একটু কথা বলছিলাম।”
“ওহ, কোন বান্ধবী?”
“ওই যে জুঁই।”
“ওহ।”
“কিছু বলবেন?”
“হুম। পরীক্ষা দিতে যাবি কখন?”
“একটু পরেই।”
“আমি দিতে যাবো।”
“আপনি যাবেন?”
রুদ্র ভ্রু উঠিয়ে বলল,
“কেনো কোনো সমস্যা?”
“নাহ। কোনো সমস্যা নেই।”
“ঠিক আছে। রেডি হয়ে ডাক দিস।”
“আচ্ছা।”
রুদ্র চলে গেলো। অধরা ফোনটা রেখে রিডিং টেবিলে এসে বসলো পড়া রিভাইস দিতে। পরীক্ষা আর দুটো আছে। আজকে আর কালকে, তাহলেই শেষ।
রুদ্র অধরাকে নিয়ে কলেজে এলো। অধরা গাড়ি থেকে নামার পরে রুদ্রও নামলো। জুঁই অধরাকে দেখে এগিয়ে এলো। একই সাথে জুঁই রুদ্রকেও দেখলো। আর বলল,
“ভাইয়া ভালো আছেন?”
“হ্যা। তুমি ভালো আছো?”
“হুমম।”
এরপরে অধরা জুঁইকে সাথে নিয়ে চলে গেলো। রুদ্র সানগ্লাস পড়তে পড়তে আশেপাশে তাকিয়ে রাকিবকে খুজলো। যদি ওকে পায় আর যদি রাকিব আল্লাহ আল্লাহ করে নিজে থেকে কোনো কথা বলে তাহলে রুদ্র ওকে একটা ধোলাই দিতে পারবে। ও আরও দশ মিনিট অপেক্ষা করলো কিন্তু রাকিবকে পেলো না। তাই চলে এলো।
রুকাইয়া দুপুরের খাবার খেয়ে একটু শুয়েছিলেন। রুদ্র অধরার কলেজে থেকে বাড়িতে ফিরে প্রথমেই ওর মাকে খুজলো। একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা বলবে। রুদ্র ওর মায়ের রুমের সামনে এসে ডাকলো,
“মা, ঘরে আছো কি?”
“হ্যা। ভিতরে আয়।”
রুদ্র ভিতরে ঢুকলো। রুকাইয়া উঠে বসলেন আর বললেন,
“একটু শুয়েছিলাম রে। এখানে আয় বস।”
রুদ্র গিয়ে ওর মায়ের পাশে বসলো। খানিকটা আবদার করে বলল,
“মা, আমার একটা কাজ করে দেবে?”
“কি কাজ বল!”
রুদ্র অবলীলায় বলে উঠল,
“মা আজকে না অধরাকে বলেছি ওকে নিয়ে ঘুরতে যাবো। ও পরীক্ষা দিয়ে এলেই যাবো। এতে মেঝো আব্বু কিছু হয়তো বলতেও পারে। এমনেতেই মনে হয় আমার উপরে তিনি রেগে আছেন, এতো বছর উনার মেয়ের দোষ দিয়ে বাড়ি আসিনি বলে। তুমি একটু ম্যানেজ করে দাওনা, যাতে ওকে নিয়ে বাহিরে যেতে পারি।”
রুকাইয়া ছেলের দিকে তাকিয়ে হাসলেন। রুদ্র বলল,
“তুমি হাসছো? বলো না কি করে নিয়ে যাবো।”
তিনি একটু মশকরা করেই বললেন,
“কি করে আবার? গাড়ি করে নিয়ে যাবি।”
“মা, সিরিয়াস কথা বলছি। তুমি মজা করছো। ওকে নিয়ে যেতে তো একটা কারণ দেখানো লাগবে কিন্তু কি কারণ দেখাবো?”
রুকাইয়া মিনিট দুই ভাবলেন। এরপরে বললেন,
“আমিও তো কোনো কারণ বের করতে পারছি না। আদ্রকে ডাক। ওই বের করে দেবে।”
রুদ্র বলল,
“ঠিক বলেছো, আদ্র থাকতে আমার আর এতো চিন্তা কিসের?”
রুদ্র রুমের দরজার কাছে গিয়ে আদ্রকে ডাকলো। আদ্র এসে বলল,
“কি হয়েছে ভাইয়া?”
“মা ডাকছে ভিতরে আয়!”
আদ্র ভিতরে ঢুকলো। রুদ্র ওকে বসিয়ে সব কথা বলল। আদ্রও কিছুক্ষন ভাবলো। এরপরে বলল,
“ভাইয়া, তুমি জাস্ট বলবে আমাদের সবাইকে নিয়ে ঘুরতে যাবে। এরপরে তোমরা তোমাদের মতো যাবে আর আমি সোহাকে নিয়ে অন্য জায়গায় যাবো। আর সোহাকে নিয়ে একটা রেস্টুরেন্টে গেলে ওর আর কোনো কথাই থাকবে না। পেটুকটায় খাওয়ার তালেই থাকবে।”
রুদ্র হেসে বলল,
“ভালো আইডিয়া তো। থ্যাংক ইউ ভাই।”
_______________
অধরা পরীক্ষা দিয়ে এসে দেখলো রুদ্র আগেই দাঁড়িয়ে আছে। তবে গেট থেকে একটু দূরে। অধরা রুদ্রর কাছে এসে দাড়ালো। আস্তে আস্তে প্রায় সব স্টুডেন্টই চলে গেলো। রুদ্র দাড়িয়ে আছে তো আছেই। নড়ছেই না। অধরা বলল,
“কি হলো যাবেন না?”
“যাবো। একটু দাড়া!”
অধরা প্রশ্ন করলো,
“কেনো?”
রুদ্র বাকা হেসে বলল,
“আরে কয়েকটা মেয়েকে দেখতে দে।”
অধরার রাগ হলো। বুকে হাত গুজে অন্যদিক ফিরে দাঁড়িয়ে রইলো। এই সময় এলো রাকিব। অনেকক্ষণ ধরে অধরা আর এই ছেলেকে একসাথে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে না এসে পারলো না। রাকিবের সাথে আবার দুইটা ছেলেও আছে। রুদ্র গা ছাড়া ভাব নিয়ে দাড়িয়ে রইলো। রাকিব এসে অধরাকে জিজ্ঞাসা করলো,
“অধরা বাড়ি যাবে না?”
“যাবো।”
“আর এই ছেলে কে অধরা?”
অধরা রুদ্রর দিকে তাকিয়ে রইলো। এমনেই একটু আগে রুদ্রর বলা কথায় রাগ উঠে আছে আর এখন রাকিবের কথা শুনে ওর গা পিত্তি জলে উঠছে। রুদ্র কড়া গলায় অধরাকে বলল,
“গাড়িতে উঠো, ফিরতে হবে।”
অধরা রুদ্রর মুখে তুমি সম্ভোধন শুনে আরও অবাক হলো। চুপচাপ গাড়িতে উঠে বসলো। এবার রুদ্র রাকিবের দিকে তাকিয়ে বলল,
“তো কি যেনো বলছিলে?”
“কি হন আপনি অধরার?”
রুদ্র এগিয়ে এসে বলল,
“জামাই হই জামাই।”
কথাটা অধরা শোনেনি। এই শুনে রাকিব বলল,
“কিহ! ওর তো বিয়ে হয়নি? মিথ্যে কেনো বলছেন?”
“তোমার সাথে মিথ্যে হলে কি লাভ আমার? আর অধরাকে নিয়ে কথা বলার রাইট পাও কই থেকে?”
“ভালোবাসি ওকে।”
রুদ্র খামচে ধরলো রাকিবের শার্টের কলার। অধরা গাড়িতে থেকে দেখেও কিছু বলল না। মনে মনে এই চেয়েছিল। রুদ্র মুখোমুখি হয়ে দাঁত চেপে হিসহিসিয়ে বলল,
“জিভ টেনে ছিঁড়ে ফেলবো অধরাকে নিয়ে কথা বললে। শুনেছি তু্ই ওকে ডিসটার্ব করিস আর কেনো করিস তাও জানি। কালকে দেখেছি আজকেও দেখলাম, তবে ফারদার যদি ওর আশেপাশে দেখি তাহলে তোর খবর আছে। আর যদি ভেবে থাকিস আমার দৌড় এতোটুকুই তবে সেটা ভুল। আমার ফ্যামিলি ভালো বলে যে আমিও ভালো সেজে তোকে ছেড়ে দেবো তা না। একদম কলিজা ছিঁড়ে ফেলবো। ফাস্ট এন্ড লাস্ট ওয়ার্নিং, তোকে যেনো অধরার আশেপাশে না দেখি।”
পাবলিক প্লেস বলে রুদ্র কথাগুলো বলে ছেড়ে দিলো। রাকিব রাগে হিরহির করে ক্যাম্পাসের ভিতরে ঢুকে গেলো। রুদ্র সানগ্লাসটা পড়ে গাড়িতে উঠে এলো। অধরাকে বলল,
“মিথ্যে বলেছিলি কেনো? সেদিন বলেছিলি তো ওই ছেলেকে নিয়ে খেপায়। ছেলেটা যে তোর সিনিয়র আর ডিসটার্ব করে তা তো দেখলামই। বাড়িতে বলিসনি কেনো?”
অধরা সিট্ বেল লাগিয়ে বলল,
“আব্বুর যা রাগ ওকে মেরেই ফেলতো।”
রুদ্র মুখ বেকিয়ে বলল,
“এহ মেরেই ফেলতো। মারলে মারতো, তোর দরদ লাগছিলো কেনো?”
এতে অধরা কিছু বলল না, গুমোট বেধে রইলো। এভাবেই কোনো কথা ছাড়াই দুজনে বাড়িতে চলে এলো।
সন্ধ্যার পরে অধরা, সোহা, আদ্র রেডি হয়ে ড্রইং রুমে বসেছিলো রুদ্রর অপেক্ষায়। রুদ্র এলে ওরা সবাই বেরিয়ে গেলো। রুদ্রর খেয়ালে এলো অধরা বোরখা, আর সুন্দর করে হিজাব বেঁধেছে। বাহ্, ভালোই লাগছে ওর কাছে।
চারজনই বেরিয়ে গেলো। গাড়ির কাছে এসে রুদ্র আর আদ্র সামনে বসলো। অধরা আর সোহা দুইবোন পেছনে। কিছুদূর যাওয়ার পরে রুদ্র গাড়ি থামালো। আদ্র নেমে গিয়ে সোহাকে বলল,
“এই সোহা নামতো।”
সোহা বলল,
“কেনো?”
“কাজ আছে। আয়!”
সোহা নামলো। অধরাও নামতে নিলে আদ্র বলল,
“তু্ই নামছিস কেনো? তু্ই থাক। আমি আর সোহা একটু আসছি।”
অধরা বলল,
“ঠিক আছে।”
তৎক্ষণাৎ রুদ্র গাড়ি নিয়ে চলে গেলো। অধরা এগিয়ে এসে বলল,
“ওরা কোথায় যাবে? আর আমরাই বা কোথায় যাচ্ছি?”
রুদ্র ঘাড় ঘুরিয়ে বলল,
“তোকে নিয়ে ঘুরতে যাবো বলেছিলাম না, তাই যাচ্ছি। ওরা সাথে যাবে কেনো?”
“তাহলে ওরা কোথায় থাকবে?”
রুদ্র নিরেট কণ্ঠে বলল,
“ওদেরকে নিয়ে চিন্তা বাদ দিয়ে একটু তো আমার জন্যও চিন্তা করতে পারিস।”
অধরা তাজ্জব বনে গেলো। ও কি জিজ্ঞাসা করলো আর রুদ্র কি উত্তর দিলো। ও শেষে চুপচাপ বসে রইলো।
রুদ্র লুকিং গ্লাসে অধরার দিকে তাকিয়ে বলল,
“চুপ হয়ে গেলি কেনো? কথা বল!”
“কি বলবো?”
“কোথায় যাবি?”
“যেখানে ইচ্ছা সেখানে নিয়ে চলুন।”
“ওহ। তাহলে চল!”
রুদ্র অধরাকে নিয়ে একটা উন্নতমানের রেস্টুরেন্টে এলো। ছাদেই প্লেসটা। অসম্ভব সুন্দর। অধরা নিশ্চুপ হয়ে রুদ্রর পেছন পেছন ঢুকলো। রুদ্র একটা টেবিল বুক করলো। মিনিট দশেক পরে সেখানে ইফতিও এলো। তবে ও অধরাকে দেখে কেমন একটা গুমোট বেধে এসে দাড়ালো। কালকেই অধরা ওকে মুখের উপরে ব্লক করে দিয়েছিলো ভাবতেই ওর যেনো কেমন লাগলো। রুদ্র অধরাকে বলল,
“অধরা তু্ই তো ইফতির কথা শুনেছিসই। ও হচ্ছে ইফতি, আমার বন্ধু।”
একই সাথে রুদ্র ইফতিকে বলল,
“ইফতি ও অধরা। আমার মেঝো চাচার মেয়ে।”
ইফতি শয়তানি হেসে বলল,
“আস্সালামুআলাইকুম ভাবি।”
অধরা নাক-মুখ কুঁচকে নিলো। রুদ্র তড়িৎ চোখে ইফতির দিকে তাকালো।
চলবে....