#প্রণয়বেলায়_তোমার_আগমন (১২)
#জেরিন_আক্তার
অধরা সত্যিই বুঝতে পারছে না রুদ্র ঠিক কোন শখের কথা বলছে। ও তো কাউকে ওর শখ নিয়ে কোনো কথা শেয়ারও করেনি তাহলে এই শখটা এলো কোথায় থেকে। অন্যদিকে রুদ্র যা বলছে মেসেজটার জন্যই বলছে।
রুদ্র তখনও অধরার হাতটা শক্ত করে ধরে রেখেছে। অধরা হাত ছাড়াতে ছাড়াতে বলল,
“আমার কোনো শখ নেই যা আপনার পূরণ করতে হবে। আর হাত ছাড়ুন ব্যাথা পাচ্ছি।”
রুদ্র ঘাড় কাত করে অধরার দিকে তাকিয়ে অবাক কণ্ঠে বলল,
“ওরে পোল্টিবাজ রে! তু্ই তো দেখি আসলেই পোল্টি নিস।”
অধরা রেগে গিয়ে বলল,
“কিসের পোল্টি নিয়েছি?”
“এখন কিচ্ছু বুঝতে পারছিস না? একটু আগে তো সত্য-মিথ্যা যাচাই করছিলি। আর এখন না বোঝার ভান করছিস?”
অধরা নিরেট হয়ে ভাবতে লাগলো ও কি বলেছে। কই আড্ডা দেওয়ার সময় তো তেমন কিছুই বলেনি। রুদ্র অধরার চুপচাপ সম্মতির লক্ষণ ভেবে হাত ছেড়ে দিয়ে বাকা হেসে বলল,
“আগে যদি তোকে দেখতাম তাহলে তোর শখ পূরণ করতে আগেই ফিরে আসতাম।”
অধরা তখনও রুদ্রর কথার আগা-গোড়া কিচ্ছু পেলো না। ভাবতে লাগলো এই শখটা কি?
রুদ্র হাসতে হাসতে আগের জায়গায় গিয়ে বসলো। অধরা ঠাই দাড়িয়ে রইলো। রুদ্র অধরাকে উদ্দেশ্য করে বলল,
“দরজা টা খুলে দিস।”
অধরা ধ্যান থেকে বেরিয়ে দরজা খুলে দিয়ে সেখানেই দাড়িয়ে রইলো। আড়চোখে রুদ্রর দিকে তাকালো। রুদ্র তখনও ওকে দেখে মিটিমিটি হাসছিলো। অধরা এগিয়ে গিয়ে কিছুটা দূরত্ব নিয়ে বসলো। এরপরে থমথমে গলায় বলল,
“আচ্ছা, কি হয়েছে বলুন তো? কই আমি তো কোনো শখের কথা বলিনি?”
রুদ্র গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলল,
“বলিসনি তো কি আমি বুঝতে পারবো না ভেবেছিস?”
“একটু বুঝিয়ে বলুন না।”
রুদ্র হেসে বলল,
“আপাতত অবুঝ থাক।”
“আপনি কি বাচ্চা মনে করছেন আমাকে?”
রুদ্র বাকা হেসে বলল,
“উহু, তু্ই বাচ্চা হবি কেনো? সময় মতো দেশে এলে তো আজকে….”
“কি আজকে? থামলেন কেনো বলুন?”
“সময় মতো দেশে চলে আসলে তু্ই যা বলেছিস তাই হতি।”
অধরা ফোঁস করে শ্বাস ছেড়ে মাথার চুল খামচে ধরলো। ও তো কিছুই বলেনি তাহলে এইরকম কথা বলার মানে কি? ইচ্ছে করছে রুদ্রকে মেরে কথাগুলো বের করতে।
___________
অধরা ছাদে থেকে রুমে ফিরেছে ঘন্টাখানিক হলো। একটু পড়াশোনা করে ফোনটা স্ক্রল করতে করতে শুয়ে পড়লো। সোহা আজকে আসেনি। অধরা ফোনটা রেখে রুদ্রর কথাই ভাবতে লাগলো। কিছুতেই সেই কথার আগা-গোড়া পাচ্ছে না তো পাচ্ছেই না। ফোনটা বেজে উঠল। অধরা ফোনটা হাতে নিয়ে দেখলো রুদ্রর নাম্বার। কলটা রিসিভ করলো-
“কি করছিস ঘুমাসনি?”
“ঘুমাবো।”
“সোহা আছে পাশে?”
“উহু, আজকে আসেনি?”
“ওহ।”
“আচ্ছা ভাইয়া তখন আপনি কিসের শখের কথা বললেন আমি সত্যিই বুঝতে পারিনি। একটু যদি বুঝিয়ে বলতেন!”
“তোর হোয়াটস্যাপে একটা ছবি পাঠিয়েছি দেখ।”
অধরা সাথে সাথে ছবিটা দেখলো। যা দেখে ওর চক্ষু চড়কগাছ। ওরই নাম্বার থেকে এই মেসেজটা পাঠানো হয়েছে। অধরা কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না। রুদ্র কলে হ্যালো হ্যালো করেই যাচ্ছিলো। অধরা উঠে বসে বলল,
“ভাইয়া এই মেসেজ তো আমার নাম্বার থেকে দেওয়া হয়েছে।”
“তোর নাম্বার থেকে না, তুইই দিয়েছিস।”
“না আমি দেইনি ভাইয়া।”
“দেখ মিথ্যে বলবি না। মিথ্যে আমার একদম সহ্য হয়না।”
“কিন্তু যেটা আমি দেইনি সেটা কেনো স্বীকার করবো?”
“তু্ই আমাকে পাগল পেয়েছিস! এটা তোর নাম্বার থেকে এসেছে, নাম্বার দেখ তু্ই।”
অধরা এই টপিক নিয়ে একপ্রকার ঝগড়াই করলো। রুদ্র বারবার বলছে এটা ওরই মেসেজ কিন্তু অধরা বলছে ও দেয়নি মেসেজ। শেষে রুদ্র নিজেই রাগ করে ফোন কেটে দিলো। এরপরে বিছানায় এসে ফোনটা সাইলেন্ট করে শুয়ে পড়লো। অধরা আবার কল ব্যাক করলো। কিন্তু সে কল আর রুদ্রর অব্দি পৌছালো না।
পরদিন….
দিনটা বৃহস্পতিবার।
রুদ্র সকাল সকাল রেডি হলো বন্ধু নাফিজের বিয়েতে যাবে বলে। বিয়েটা একটা রিসোর্টে হবে। এবং আজকে সেখানেই গায়ে হলুদ, কালকে বিয়ে। সেক্ষেত্রে রুদ্রকে কালকে বিকেলেই নাফিজ সাথে নিয়ে যেতে চেয়েছিলো কিন্তু রুদ্র যায়নি অধরার জন্যই। তবে আজ যেতেই হবে। নাফিজের বাবা-মা রুদ্রদের বাড়ির সবাইকেই আগে যেতে বলেছে। কিন্তু কেউই যাবে না, শুধু বিয়ের দিন আরমান নেওয়াজ আর আরিফ নেওয়াজ যাবেন।
রুদ্র দুদিনের জন্য পড়ার জামাকাপড় ও বিয়েতে, গায়ে হলুদে পড়ার জন্য জামাকাপড়গুলো লাগেজে ভরে রাখছিলো। রুকাইয়া এসে ওর সাথে গুছিয়ে দিলেন আর টুকিটাকি কথা বললেন।
অধরা ড্রইং রুমে এসে মুখ ভার করে বসে আছে। অনিমা জিজ্ঞাসা করলেন,
“খাবার দিবো?”
“না খাবো না।”
“কেনো খাবি না বেলা হয়নি?”
“ভালো লাগছে না। পরে খেয়ে নিবো।”
“তাহলে খেয়ে নিস আমি গেলাম।”
অনিমা চলে যেতে অধরা উঠে ডাইনিং টেবিলের কাছে এসে গ্লাসে পানি ভরে নিয়ে সেখানেই দাড়িয়ে অল্প অল্প করে পানি খাচ্ছিলো আর নিরেট হয়ে ভাবছিলো। ও তো শিওর মেসেজটা ওর লেখা না। ও আর যাই হোক, কাউকে বাংলায় মেসেজ দেয়না বলতে লিখতেই পারে না। কিন্তু সেটা আদ্র জানতো না।
এই সময় রুকাইয়া আর রুদ্র নামছিল। রুদ্র অধরাকে দেখে রুকাইয়ার দিকে তাকিয়ে জড়ানো বলল,
“মা, একটু পরে আসো না। ওর সাথে একটু কথা বলবো। তুমি থাকলে হয়তো চলেও যেতে পারে।”
রুকাইয়া ছেলের পিঠে হাত রেখে হেসে বললেন,
“হুম, কথা বল!”
রুকাইয়া পিছিয়ে চলে গেলেন। রুদ্র লাগেজ নিয়ে নিচে নামলো। অধরা রুদ্রকে দেখা মাত্রই পানির গ্লাসটা রেখে এগিয়ে এসে বলল,
“আপনার ফোনটা দেখি।”
রুদ্র কপাল কুঁচকে নিয়ে বলল,
“কেনো কি করবি?”
“শুনুন আপনার পার্সোনাল কিছু দেখবো না। ফোন না দিলেন। আপনার হাতেই থাকুক, শুধু মেসেজটা বের করুন তো!”
রুদ্র ফোন বের করে মেসেজ দেখালো। অধরা দৌড়ে গিয়ে সোফায় থেকে নিজের ফোন এনে ওর মেসেজলিস্টটা দেখালো আর বলল,
“দেখুন আমার ফোনে এই মেসেজ নেই। মেসেজটা আমি দেইনি। আর একটা কথা বললে কি বিশ্বাস করবেন?”
“কি বল!”
“আমি বাংলায় মেসেজ লিখতে পারি না।”
রুদ্র মুখ বেকিয়ে বলল,
“এখন শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে চাইছিস?”
অধরা আস্তে আস্তে ওর মেসেজগুলো দেখালো। ও এই পর্যন্ত যাদের যাদের সাথে চ্যাট করে এসেছে সবার চ্যাটলিস্টই দেখালো। রুদ্র এবার বিশ্বাস করলো মেসেজটা ও দেয়নি। অতঃপর অধরার গালে হালকা করে হাত ছুঁইয়ে হেসে বলল,
“তাহলে হয়তো মিসটেক হয়ে এসেছে। আমি বের করবো কি করে এমন হলো। চিন্তা করিস না।”
“আমি দেইনি বিশ্বাস করুন।”
“আরে ধুর পাগলী, এইটা নিয়ে এতো সিরিয়াস হতে হবে? আর মনে হয় রাতে ঘুমাসনি?”
অধরা কিছু বলবে ঠিক তখন। ওর খেয়াল যায় রুদ্রর হাতে লাগেজটা। হুট্ করেই বুকের ভিতরে ছ্যাৎ করে উঠল। তবে কি রুদ্র চলে যাবে? ও আকুল সুরে বলল,
“ভাইয়া চলে যাবেন?”
“যদি যাই!”
“আপনি তো বলেছিলেন একবারে এসে পড়েছেন।”
“আবার যেতেও তো পারি।”
অধরা গাল ফুলিয়ে মুখ ভার করে চলে এলো সোফায়। আর রুদ্রর দিকে ছুড়ে দিলো কিছু কথা…..
“অযথা মিথ্যে বলবেন না কাউকে। বলেছিলেন তো চলে যাবেন না। এখন তো চলে যাচ্ছেন। কি দরকার ছিলো তখন মিথ্যে বলার।”
রুদ্র কোমরে হাত রেখে দাড়িয়ে বলল,
“তু্ই। জানিস আমি কোথায় যাচ্ছি। না জেনে এতো বেশি কথা বলিস কেনো?”
“কি বেশি কথা বলেছি? কোথায় যাচ্ছেন ভালোভাবে বললেন না কেনো? আর এতো কবির মতো কথা বলতে বলেছে কে?”
রুদ্র একটু রাগ দেখিয়েই বলল,
“জাহান্নামে যাচ্ছি।”
অধরা অভিমানী কণ্ঠে বলল,
“তো যান! আটকে রেখেছে কে?”
রুদ্র লাগেজ টেনে হনহন করে বেরিয়ে গেলো। অধরা ওর যাওয়ার পানে তাকাতেই মুখটা শুকনো হয়ে গেলো। ভাবলো ও বলল আর এভাবে চলে গেলো। রুদ্র পেছন ফিরে একবার তাকালোও না। মিনিট দশেক পরে রুকাইয়া আর অনিমা নিচে নামলেন। রুদ্রকে দেখতে না পেয়ে দুজনেই দুজনার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো। রুকাইয়া অধরাকে বললেন,
“অধরা রুদ্র চলে গিয়েছে নাকি রে?”
অধরা গট গট করে সিঁড়ির দিকে গেলো আর বলে গেলো,
“তোমার ছেলের কথা আমাকে বলছো কেনো? আমি জানি?”
অনিমা মেয়ের এই রাগ দেখে নিজেও রেগে গেলেন। তিনি কিছু বলতে যাবেন ঠিক তখন রুকাইয়া থামিয়ে দিলেন। অনিমা বললেন,
“ভাবি তোমার আশকারা পেয়ে পেয়ে মেয়েটা এমন হয়েছে।”
“ছাড় তো বাচ্চা মানুষ। নিশ্চই দুজনের মাঝে ভালো করে কথা হয়নি।”
অধরার ছোট থেকেই জেদ আর রাগ। অনিমাও অধরাকে ছোট থেকেই শাসন করে যাচ্ছেন। কিন্তু কারো জন্য পারছেনই না। একে ওর বাবা এসে সাপোর্ট করবে, আবার তারপরে তো ওর বড় চাচা-চাচি আছেই।
এদিকে রুদ্র অধরার সাথে রাগ দেখিয়ে চলে এসেও যেনো শান্তিতে নেই। কেমন একটা আসফাঁস করতে করতে ড্রাইভ করছে। ইফতি বলল,
“কিছু খেয়েছিস নাকি রে?”
রুদ্র তপ্ত চোখে তাকিয়ে বলল,
“কি খাবো?”
“ওহ কিছু খাসনি যখন তাহলে এমন করছিস কেনো?”
“ভালো লাগছে না।”
ইফতি ওর দিকে ঘুরে বসে বলল,
“অধরার সাথে কিছু হয়েছে তাইনা?”
“তু্ই কি করে জানলি?”
ইফতি হেসে হেসে বলল,
“ভাই তোকে চেনা শেষ আমার। যেই তু্ই জেদ ধরে বসেছিলি আসবি না, আর সেই তু্ই এসে অধরার সামনে একদম বিড়ালের মতো পিছে পিছে ঘুরছিস ভাবা যায়। আর তোর মন খারাপ আর রাগ সবতো এখন অধরাকে ঘিরেই তাই শিওর হয়েই বলতে পারি অধরার সাথেই কিছু হয়েছে।”
“হুম। অধরার সাথে রাগ করে চলে এসেছি।”
“ওহ তাহলে ওকে কল দে! বল তোমার জন্য ভালো লাগছে না।”
রুদ্র ইফতির দিকে তাকিয়ে বলল,
“এখন কল দিলে ইগোতে লাগবে ভাই!”
“দিবি না কল?”
“উহু।”
“ঠিক আছে, আমিও দেখি রুদ্র নেওয়াজ কতক্ষন ইগো দেখিয়ে কল না দেয়।”
“তু্ই কি চ্যালেঞ্জ করছিস?”
“হুমম, চ্যালেঞ্জ করলাম।”
“ওকে চ্যালেঞ্জ একসেপ্টেড।”
“যদি অধরাকে কল দিয়ে হেরে যাস তখন?”
“কল দিবো না।”
“বাই চ্যান্স যদি কল দিয়ে ফেলিস তখন? হেরে গেলে কি করবি?”
রুদ্র ঠোঁট কামড়ে ভেবে বলল,
“যা যদি হেরে যাই তাহলে তোকে বিশাল একটা ট্রিট দিবো।”
“রেস্টুরেন্ট হলে যাবো না। অন্য ট্রিট চাই।”
“ওকে ডান।”
দুপুরবেলা….
আরমান নেওয়াজ আর আরিফ নেওয়াজ অফিসে একটা মিটিংয়ে ছিলেন। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার মাঝে আরিফ নেওয়াজের ফোনটা বেজে উঠে। সবার মনোযোগ তার ফোনের দিকেই গেলো। আরিফ নেওয়াজ ফোনটা সাইলেন্ট করে রাখলেন। এরপরে কল আসতেই থাকলো যার কারণে কাচের টেবিলটা কেঁপে উঠল। শেষে আরিফ নেওয়াজ বিরক্ত হয়ে ফোনটা নিয়ে উঠে দাঁড়ালেন। আরমান নেওয়াজ বললেন,
“আরিফ বাহিরে গিয়ে কথা বলে আয়। কোনো ইম্পরট্যান্ট কলও হতে পারে।”
আরিফ নেওয়াজ ফোনটা নিয়ে বেরিয়ে গেলেন। মিটিং রুমের সামনেই কলটা রিসিভ করে ওপাশে থাকা ব্যাক্তিকে বললেন,
“হ্যালো কে বলছেন?”
“স্যার, আপনার একটা পার্সেল ছিলো।”
আরিফ নেওয়াজ কপাল কুঁচকে বললেন,
“আমার পার্সেল? কই আমি তো কিছু অর্ডার করিনি? আমার নামেই কি পার্সেলটা?”
“স্যার, পার্সেলটায় অধরা নেওয়াজ নাম। আর নাম্বার এটা দেওয়া।”
আরিফ নেওয়াজ মেয়ের কথা শুনে দ্বিতীয়ত কথা না বাড়িয়ে বললেন,
“হ্যা হ্যা ঠিক জায়গায়ই কল এসেছে। কি অর্ডার করা হয়েছে?”
“শাড়ি অর্ডার করেছে। স্যার, আমি আপনার বাড়ির সামনে অনেকক্ষণ যাবৎ দাড়িয়ে আছি। আপনি কাইন্ডলি এসে পার্সেলটা রিসিভ করুন। আমার আরও পার্সেল ডেলিভারি দিতে হবে। আর এটা ক্যাশ অন ডেলিভারি বলা হয়েছে।”
“আমি তো অফিসে আছি।”
“তাহলে কেমন হলো স্যার।”
“আপনি একটা কাজ করুন, গেটের কাছে দারোয়ান আছে তাকে পার্সেলটা দিন। আর আপনাকে চার্জসহ শাড়ির দাম ফোনে পাঠিয়ে দিচ্ছি।”
“ওকে স্যার, আমি দারোয়ানকে পার্সেলটা দিচ্ছি।”
আরিফ নেওয়াজ টাকা বিকাশে পাঠিয়ে দিলেন। সাথে ডেলিভারি ম্যানকে কিছু টিপসও দিয়েছেন যেহেতু অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেছে। বিবেক বলেও তো একটা জিনিস আছে। আর সবতো মেয়ের জন্যই। মেয়ের পেছনে খরচ না করলে করবেন টা কি। তবে মেয়ের বুদ্ধি আছে বলা যায়। মা বকবে দেখে বাবার নাম্বার দিয়েছে। তবে আজকে বাড়িতে গিয়ে মেয়েকে একটু খেপাতে পারবেন। অতশত ভাবনা রেখে আরিফ নেওয়াজ চলে গেলেন মিটিং রুমের দিকে। অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছে। মিটিং রুমে এসে দেখলেন মিটিংটা লাঞ্চ টাইমের জন্য ব্রেক দেওয়া হয়েছে। অতঃপর আরিফ নেওয়াজ এসে আরমান নেওয়াজের পাশে বসলেন। আরমান নেওয়াজ বললেন,
“কোনো ইম্পরট্যান্ট কল ছিলো নাকি?”
“ইম্পরট্যান্টই ছিলো ভাইজান। অধরা শাড়ি অর্ডার করে আমার নাম্বার দিয়ে রেখেছে। সেই ডেলিভারি ম্যানই কল দিয়েছিলো।”
আরমান নেওয়াজ হেসে বললেন,
“ওহহহ অধরা ভালোই করেছে তাহলে।”
বিকেলের দিকে রুদ্ররা সব বব্ধু মিলে নাফিজের হলুদ সন্ধ্যার আয়োজন করছে। রেডিও হয়েছে সবাই। রুদ্র এই সময় বেশি মিস করছে অধরাকে। আশেপাশে তাকিয়ে ইফতিকে খুজলো রুদ্র। ও না থাকায় অধরাকে মেসেজ দিলো।
—অধরা রাগ করেছিস তখন?
মিনিট ১৫ পরে অধরা রিপ্লাই দিলো—
—রাগ করবো কেনো?
—ও তাহলে রাগ করিসনি ভালোই। কি করছিস?
—আপনার জন্য জাহান্নামে পানি নিয়ে যাচ্ছি।
রুদ্র দাঁত চেপে বিড়বিড় করলো, “কিরে রাগ মাইরি। বাড়িতে জাহান্নাম দেখাতাম। এইখানে ওর অভাবে মরছি আমি আর ও সেই রাগ নিয়েই আছে। বুঝবি কবে তু্ই আল্লাহ ভালো জানে।”
রুদ্র কিছু একটা ভেবে শয়তানি করে লিখলো—
—জানিস তো এখানে কত মেয়ে, কেমন করে যেনো তাকাচ্ছে। দুজন এসে আবার নাম্বারও নিয়ে গিয়েছে। কি করবো রে এখন?
অধরা এবার একটু জেলাস হলো। কিন্তু ও চাপা স্বভাবের হওয়ার কারণে প্রকাশ করলো না। সকালে রুদ্র ওকে রাগ দেখিয়ে চলে গিয়েছিলো এখন ওর পালা। রুদ্রকে কিভাবে রাগাবে এবং চিন্তায় রাখবে ওর ভালো করেই জানা আছে। ও ঠান্ডা মাথায় লিখলো,
“মেয়েরা আপনার পেছনে লাগছে তো কি করবেন? বিয়ে করে নিয়ে আসুন। আর দাড়ান আজকে আব্বু আসুন সত্যি বলে দিবো আপনি কু-প্রস্তাব দিন আমাকে। এমনকি রাতে যে হাত ধরেছিলেন সেটাও বলে দিবো। আবার এখন যে মেয়েদের নাম্বার নিয়েছেন সেটাও বলে দিবো।”
রুদ্রও কি কম। ও মেসেজটা পড়ে দমে না গিয়ে সাথে সাথে আরিফ নেওয়াজকে সরাসরি কল করলো। আরিফ নেওয়াজ অসময়ে রুদ্রর ফোন পেয়ে ভাবুক হয়েই রিসিভ করলেন।
চলবে....