ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রণয়বেলায় তোমার আগমন

২৫তম পর্ব

লেখক: জেরিন আক্তার

#প্রণয়বেলায়_তোমার_আগমন (২৫)

#জেরিন_আক্তার

অধরা আসফাঁস শুরু করে দিলো। রুদ্রর কতটা কাছাকাছি রয়েছে, অসস্তি হচ্ছেই তো। আবার রুদ্র বলছে অসস্তি না লাগলে অভ্যস্থ হবি কি করে! রুদ্র বাকা হেসে বলল,

“তোকে এখন একটা চুমু খাই?”

অধরা প্রায় কাঁদো কাঁদো মুখ করে বলল,

“আর এরকম করবো না। ছেড়ে দিন।”

“কথা সেটা না। আমি চুমুর কথা বলেছি!”

“আ আসলে ওই যে আব্বু ডাকছে আমাকে।”

রুদ্র অধরার মুখপানে তাকিয়ে রইলো। কতটা মায়াবী লাগছে। আর জোর করে ভালোবাসা নেওয়ার থেকে একটু অপেক্ষা করা মন্দ নয়।

রুদ্র অধরাকে ছেড়ে দিলো। অধরা উঠে দাঁড়িয়ে ওড়নাটা গলায় পেঁচিয়ে রুমে পা দিবে ঠিক তখন রুদ্র উঠে দাঁড়িয়ে নিরেট কণ্ঠে বলল,

“এমন তো নয় যে ভালোবাসিস না। তাহলে ভালোবাসিস বলতে কিসের সমস্যা তোর? জানিস, অপেক্ষা করা আমার ভালো লাগছে না।”

অধরা দাঁড়িয়ে গেলো। হালকা পেছনে ফিরে গম্ভীর কণ্ঠে বলল,

“১ মাসই তো হয়নি এসেছেন। ভালোও নাহয় এসেই বেসেছেন। কতদিনই আর হয়েছে! আর আমি যে…”

“কি তু্ই? থামলি কেনো বল!”

“কিছুনা, আসছি!”

রুদ্র পুনরায় বসে মুচকি হেসে আওড়ালো, “আমার নামে তু্ই কবুল বলেছিস। এখনও আমারই বউ। তোকে আবারও কবুল বলাতে একটু বেহায়া নিজেকে হতেই হবে। তাহলে শুরু হোক।”

অধরা ঘুমিয়ে পড়ার আগে ফোনে একটা নাটক দেখছিলো। সোহাও পাশে শুয়ে দেখছে। আদ্র কল দিলো সোহার ফোনে। সোহা সেদিকে মনোযোগী হয়ে কলটা রিসিভ করে বলল,

“কতবার তোমাকে কল দিয়েছি? এখন ব্যাক করার সময় পেলে?”

“ঘুরতে এসেছি। তাই ফোনের প্রতি খেয়াল নেই।”

“এই রাতের বেলা ঘুরতে গিয়েছিলে। কোনো মেয়ে কি আশেপাশে ছিলো?”

আদ্র রেগে গিয়ে বলল,

“তোর মাথায় ভালো চিন্তা আসেনা না! এরপরে আর কল দিবি না।”

বলেই আদ্র কল কেটে দিলো। কই ভেবেছিলো সোহার সাথে ভালো করে কথা বলবে, কিন্তু এমন এমন কথা বলে মাথায় রাগ উঠে যায়।

সোহা এখন বুঝতে পারছে কথাটা বলা ঠিক হয়নি। কিন্তু ওই বা কি করবে? সারাদিন কথা বলেনি, দেখেনি, মনে সন্দেহ আসতেই পারে তাই বকবে।

সোহা অধরাকে বলল,

“আপু আদ্র ভাইকে একটু কল দাও না।”

“তোর ফোন দিয়ে দে!”

“ধরছে না। তোমার ফোন দিয়ে কল দিলে ধরবে নিশ্চই।”

অধরা কল দিলো। প্রথম দুই বারে ধরলো না। পরের বারে ধরলো। অধরা কথা বলল না, সোহাকে দিয়ে দিলো। ওদের মাঝে ওর কথা বলা ঠিকও হবে না। সোহাকে বলল ব্যালকনিতে গিয়ে কথা বলতে। ও উঠে ব্যালকনিতে গিয়ে আদ্রকে বলল,

“ভাইয়া আমি সরি। আর বলবো না এমন কথা প্রমিস। তুমি কথা বলো!”

“মনে রাখিস এরপরে বললে ওই ঝিলিককেই বিয়ে করে নিবো।”

“না আমি কোনোদিন বলবো না। তুমি প্লিজ ফিরে এসো! ভালো লাগছে না আমার। আমি আর তোমার কথার অবাধ্য হবো না। যা বলবে তাই করবো।”

“ঠিক আছে। রাখছি ঘুমিয়ে পড় এখন।”

“তার আগে বলো তুমি আর রাগ করে নেই।”

আদ্র হালকা হেসে বলল,

“তোর উপরে রাগ করে থাকতে পারি! রাগ করে নেই আমি, তু্ই ঘুমিয়ে পড়।”

“ঠিক আছে। তাড়াতাড়ি ফিরে এসো।”

সোহা রুমে ফিরে মিটিমিটি হাসতে হাসতে ফোনটা অধরার দিকে এগিয়ে দিলো। অধরা মুখ বাকিয়ে বলল,

“তোর ঢং দেখলে! ভাই কক্সবাজারে কি শুধু তোর প্রেমিকই ঘুরতে গিয়েছে? সেখানে কত হাজার হাজার মানুষ। মেয়ে তো থাকবেই। আর জানিস না এইরকম কথা পছন্দ করে না আদ্র ভাই। তোকে কতবার বুঝিয়েছে। আর এরপরে আমাকে যদি বলিস আদ্র ভাইকে বোঝাতে তাহলে তোর খবর আছে।”

সোহা অধরাকে জড়িয়ে ধরে বলল,

“সরি আপু ভুল হয়ে গিয়েছে। আর বলবো না। আমার লক্ষী আপু তুমি।”

অধরা ফোনটা নিয়ে ফেসবুকে ঢুকলো। রুদ্রর স্টোরি টা চোখের সামনে আসতেই হতবাক। ক্যাপশন টা দেখে কি প্রতিক্রিয়া দেখাবে ভেবে পেলো না। পরপর আর কয়েকবার স্টোরিটা দেখে লাভ রিয়েক্ট দিয়ে মুচকি হাসলো।

সকাল সকাল অধরার ঘুম ভাঙতেই আড়মোড়া ভেঙে উঠে বসলো। সোহাও উঠে বসলো। অধরা বিছানায় থেকে নেমে ওয়াশরুমে চলে গেলো। আর সোহা চলে যাওয়ার আগে বিছানা গুছিয়ে রেখে চলে গেলো। অধরা ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে বিছানা গোছানো দেখে হেসে বিড়বিড় করে বলল, পাগল একটা, বিছানা গোছাতে হবে কেনো? আমিই গুছিয়ে রাখতাম।

অধরার মনটা আজ বেশ ফুরফুরে। মেজাজটাও ভালো। সোজা চলে গেলো কিচেনে কফি বানাতে। প্রথম কাপ কফি বানিয়ে নিয়ে এলো আরিফ নেওয়াজের জন্য। এরপরে আবার আরেককাপ কফি নিয়ে গেলো রুদ্রর জন্য। দুদিন ধরে অধরা কফি নিয়ে আসে না বলে রুদ্র আজকে আর এলার্ম দিয়ে রাখেনি। গভীর ঘুম তলিয়ে আছে। এদিকে অধরা এসে আজকে জোরে জোরে দরজা ধাক্কাচ্ছে। রুদ্র ধরফড়িয়ে উঠে দরজা খুলে দিলো। অধরা রুমে ঢুকে রুদ্রকে দেখে প্রথমেই বলে উঠল,

“আপনার লজ্জা বলতেই নেই। রাতে কেউ খালি গায়ে ঘুমায়?”

“আমার অভ্যাস। এতে লজ্জার কি আছে। কি অবান্তর কথা বলিস?”

“তবুও। আর শীতের দিনেও কি এভাবে ঘুমান? শীত লাগে না?”

রুদ্রর প্রতি উত্তর করলো না। এই নিয়ে উত্তর দেওয়া বেকার। ও বললই যে অভ্যাস তাও বলে শীত লাগে না।

ও সোজা ওয়াশরুমে চলে গেলো। আবার কি যেনো মনে হলো, তাই দরজার সামনে এসে বলল,

“এই শীতটা কোনোভাবে পার করেছি, গরিব মানুষ বুঝিসই তো। তবে এরপরের শীতে তু্ই আমার সাথে থাকবি, তোকে জড়িয়ে ধরেই থাকবো। তাহলে আর শীত লাগবে না।”

অধরা এগিয়ে এসে বলল,

“আপনার কি আমাকে কু-প্রস্তাব দেওয়া ছাড়া আর কোনো কাজ নেই। দিনে-রাতে যখন সুযোগ পান তখনই বাজে বাজে কথা বলেন।”

রুদ্র সে কথা গায়েই মাখলো না। আরও উৎফুল্ল কণ্ঠে বলল,

“এখন তো বলি। এরপরে প্রাকটিক্যালি দেখিয়ে দিবো।”

“এই যান তো! কফি ঠান্ডা হলো।”

রুদ্র দরজা লাগিয়ে দিলো। অধরা বিছানা গুছিয়ে দিয়ে চলে গেলো। থাকলেই আবার কু-প্রস্তাব দিবে। থাকা যাবে না।

অধরা রুমে এসে ফোনটা নিয়ে নিচে নেমে যায়। সোফায় এসে বাবার পাশে বসে ফোন স্ক্রল করতে ব্যাস্ত হলো। আরিফ নেওয়াজ তিনিও বসে ফোন দেখছিলেন। অধরা কিছু শাড়ি দেখছিলো। আবার অন্যান্য ড্রেস দেখছিলো। একটা আনারকলি পছন্দ হলো। একই কালারের দুটো অর্ডার করলো। একটা সোহাকে দিবে। ওর বড় ভাই-বোন নেই। সেই হিসেবে অধরাই দিবে। আবার সোহাও যা কিনবে অধরার জন্যও রেখে দিবে। অধরা দুটো আনারকলি আরেকটা শাড়ি অর্ডার করলো। ওর আবার শাড়ির প্রতি খুব টান। এবারও অর্ডার করার সময় ওর বাবার নাম্বারই দিয়ে রাখলো। অর্ডার করা শেষ হলে থেকে থেকে ওর বাবার দিকে তাকাচ্ছিলো।

আরিফ নেওয়াজ অধরার দিকে তাকিয়ে বললেন,

“কিছু বলবে?”

অধরা টেডি স্মাইল দিয়ে বলল,

“কিছু খাবে এনে দেই?”

আরিফ নেওয়াজ ভাবুক হয়ে গেলেন। অধরা ওর মায়ের দিকে একবার তাকিয়ে আরিফ নেওয়াজকে বললেন,

“আব্বু তিনটা ড্রেস অর্ডার করেছি।”

আরিফ নেওয়াজ মাথা নাড়িয়ে বলল,

“ঠিক আছে। আমার নাম্বার দিয়ে রাখো।”

“দিয়েছি। আম্মুকে বলো না বকবে। বলবে দুদিন পরপর এতো ড্রেস লাগে।”

আরিফ নেওয়াজ গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলল,

“শুধু বকে দেখুক। তোমার আম্মুর খবর করে ফেলবো।”

অনিমা কিচেন থেকে শুনলেন কিছু বললেন না। সবসময় মেয়েকে আবার শাসন করা ভালো নয় বলেই চুপ রইলেন।

রুদ্র নিচে এলো। ইচ্ছে করে আরিফ নেওয়াজের পাশেই বসলো। অধরা তাকাতেই রুদ্র মুচকি হেসে চুমু ইশারা করলো। অধরা ঘাড় বাকিয়ে অন্যদিকে তাকালো। কিছু সেকেন্ড পরে আবারও তাকালো রুদ্রর দিকে। রুদ্র এবার চোখ মারলো, সাথে আবারও চুমু ইশারা করলো। অনিমা ওদের দুজনকেই দেখছেন। আরিফ নেওয়াজও আড়চোখে রুদ্রকে দেখছেন।

রুদ্র আবারও ইশারা করলো। অধরা আলগোছে উঠে গেলো। নাহলে বেজায় লজ্জায় পড়ে যাবে। ও ধীরে পায়ে চলে গেলো বাড়ির বাহিরে। রুদ্রও উঠে চলে গেলো ওর পিছু পিছু। এখন সবাইকে দেখিয়ে দেখিয়েই এমন করবে। অধরার জন্য যে বেহায়াও হতে পারে সবাইকে তা দেখিয়ে দিবে।

অধরা বাগানে এসে দাড়িয়ে আছে। রুদ্র পেছনে থেকে ওর দুই-কাঁধে হাত রাখলো। অধরা ছিটকে উঠে রুদ্রর থেকে দুই কদম দূরে দাড়ালো। আর বলল,

“ওভাবে ওখানে এমন ইশারা করলেন কেনো? সবাই দেখলে কি ভাবতো?”

রুদ্র নিজের দুহাত পেছনে নিয়ে শয়তানি হেসে বলল,

“আই লাভ ইউউউ। তোকে পেতে এখন থেকে কু-প্রস্তাবের পাশাপাশি যেনো-তেনো ইশারা না, কু-ইশারাও দিবো। তাও আবার সবাইকে দেখিয়ে দেখিয়ে। প্রমিস করলাম তু্ই নিজেই অতিষ্ট হয়ে বলবি রুদ্র ভাই আর ইউ ম্যারি মি। এন্ড আই লাভ ইউউউ।”

অধরা দাঁত চেপে রুদ্রর বুকে ধাক্কা মেরে বলল,

“কক্ষনো তা হবে না।”

রুদ্র গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলল,

“দেখাই যাক। আর আমি যখন প্রমিস দিয়ে ফেলেছি তখন তা পূরণও করে ফেলবো। ইনশাআল্লাহ।”

চলবে....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন