#প্রণয়বেলায়_তোমার_আগমন (৩০)
#জেরিন_আক্তার
“আমি কিন্তু রাগ করিনি। আপনি শুধু শুধু এই এতো রাতে ফুল আনতে গেলেন।”
অধরার কথায় রুদ্র হেসে উঠে দাড়ালো। এরপরে বলল,
“মেয়েরা রাগ করে কি না, সেটা শোনার অপেক্ষা না করে বুঝে নিতে হয়। আপাতত এই পর্যন্তই কথা থাক। এখন ঘুমা। এতক্ষন অপেক্ষা করানোর জন্য সরি রে।”
“ঠিক আছে সমস্যা নেই।”
রুদ্র কথা না বাড়িয়ে রুম থেকে চলে গেলো। অধরা মিটিমিটি হেসে হেসে দরজা লাগিয়ে দিয়ে বিছানায় এসে শুয়ে পড়লো। ফুলের গাজরাগুলো হাতে পড়ে ওভাবেই ঘুমিয়ে গেলো।
সকাল সকাল রুদ্রই নিচে এলো। আরিফ নেওয়াজ নিচে নামার সময় রুদ্রকে বসা দেখেই মুচকি হাসলেন। ছেলেটার উপরে ভালোই রাগ ছিলো। কিন্তু ওর ব্যবহার, মিশুক স্বভাবের দেখে তিনি আর রাগ করে নেই। আর ওর ঠোঁটকাটা কথায় রাগ করে থাকাও যায়না।
আরিফ নেওয়াজ এসে রুদ্রর পাশাপাশি বসলেন। রুদ্র ফোন থেকে নজর সরিয়ে আরিফ নেওয়াজকে বলল,
“গুড মর্নিং, শশুর আব্বু।”
“গুড মর্নিং।”
রুদ্র শয়তানি করে বলল,
“শাশুড়িআম্মুকে ফুল দিয়েছিলে? নাকি রেখে দিয়েছিলে?”
আরিফ নেওয়াজ হালকা শ্বাস ছেড়ে বললেন,
“হুমম দিয়েছিলাম।”
একে একে অনিমা, রুকাইয়া নামলেন। এরপরে আবার আরমান নেওয়াজ। তিনি ছোট ভাই আদনান নেওয়াজের সাথে কথা বলছেন। উনারা আজকে বিকেলে আসবে। ২-৪ দিন থাকবে। আদনান নেওয়াজও চেষ্টা করছেন আশেপাশে কোনো একটা কলেজে ট্রান্সফার হতে। কিন্তু হয়ে উঠছে না।
অধরা নিচে এসে সোজা কিচেনে ঢুকে গেলো। দুই কাপ কফি বানিয়ে আগে ওর বাবার জন্য নিয়ে গেলো। বাবাকে কফি দিয়ে আবার কিচেনে ফিরে এসে রুদ্রর জন্য নিয়ে গেলো। রুদ্র কফির মগটা ধরতে নিলে ওর কল আসে। ও কফিটা হাতে নিয়ে আবার টি-টেবিলে রেখে উঠে চলে গেলো বাহিরে। অধরা ভাবলো হয়তো কলটা গুরুত্বপূর্ণ।
রুদ্র সদর দরজা থেকে কিছুটা এগিয়ে এসে কলটা ধরলো। ওপাশে থেকে একজন মেয়ে বলল,
“রুদ্র কেমন আছো?”
“ভালো। নায়রা তুমি?”
“ভালো। কি করছো?”
“কিছুনা।”
“রুদ্র একমাস তো হয়েই এলো। কবে আসবে?”
রুদ্র সোজা গলায় বলল,
“আমি আর ফিরবো না।”
“হোয়াট? ফিরবে না কেনো?”
“এখানেই থাকবো।”
“কেনো?”
“আমি একটা মেয়েকে ভালোবাসি। ওর জন্যই ফিরবো না।”
“ইউ সিরিয়াসলি? রুদ্র তুমি কি আমার সাথে মজা করছো?”
“উহু। কেনো মজা করবো। যা সত্যি তাই বললাম।”
মেয়েটা কিছুক্ষন চুপ করে রইলো। তারপর চাপা কণ্ঠে বলল,
“তুমি জানতে না আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি। তোমার পেছনে পাগলের মতো পড়ে থাকি তাও তুমি বোঝোনি?”
“বুঝেছি, কিন্তু তোমাকেও বুঝতে হবে ভালোবাসা জোর করে হয়না তো। জোর আর যাই পাওয়া যায় কিন্তু ভালোবাসা বা কারো এটেনশন পাওয়া যায় না।”
নায়রা নামের মেয়েটা আকুতি কণ্ঠে শুধালো,
“রুদ্র, রুদ্র প্লিজ বলো না এসব মিথ্যে। তুমি ফিরবে বলো একবার।”
রুদ্র অবলীলায় বলে উঠল,
“উহু, এসব কিছুই মিথ্যে নয়। আমি ফিরবো না। আমি ফিরে গেলে একজনের সাথে বড্ড অন্যায় করা হবে। তাকে আমি অনেক কষ্ট দিয়েছি। এবার আর কষ্ট দেওয়ার জন্য ফিরে যাবো না।”
নায়রা রেগে গিয়ে বলল,
“আমি এসব কিছু জানি না। আমার তোমাকে চাই। তুমি ফিরবে রুদ্র।”
রুদ্র “চ” সূচক শব্দ করে বলে উঠল,
“তুমি এক কথা বুঝতে পারো না। নাকি আবারও বলতে হবে।”
“আমি বুঝতে পেরেছি। তবে মানতে পারছি না।”
“রাখো ফোনটা।”
নায়রা বলল,
“রুদ্র প্লিজ প্লিজ আমার কথা শোনো। ফিরে এসো। নাহলে আমিই চলে আসছি।”
রুদ্র রাগী কণ্ঠে বলল,
“তোমার যদি ইচ্ছে হয় এসো। আর তুমি এলেও আমার মুখের উক্তি পাল্টাবে না।”
“আচ্ছা। এতো ভালোবাসো মেয়েটাকে। তাই ফিরবে না। এতোটা বস করে ফেলেছে তোমাকে।”
রুদ্র তপ্ত শ্বাস ফেলে বলল,
“স্টপ অনেক বলেছো। ফারদার এসব কথা বলবে না।”
“আচ্ছা বলবো না। তুমি শুধু একবার বলো ওই মেয়ের মাঝে কি এমন আছে যা আমার মাঝে নেই।”
রুদ্র হিতাহিত আরও রেগে গিয়ে একটু জোরেই বলে উঠল,
“তু্ই যদি আবার কল দিস তাহলে ভুলে যাবো তু্ই কে। তোর প্রতি এখন কে সম্মান আছে তাও থাকবে না। আর নেক্সট কল দেওয়ার চেষ্টাও করবি না।”
“রুদ্র তুমি একদম পাল্টে গিয়েছো। নিশ্চই ওই মেয়ের কারণেই আমি তোমার কাছে আসছি।”
“তু্ই দেশে এলেও আমার কোনো পরিবর্তন হবে না।”
বলেই কল কাটলো রুদ্র। এরপরে কোমরে হাত দিয়ে পেছনে ফিরতেই দেখলো অধরা চলে গেলো। তবে কি এতক্ষন দাড়িয়ে ছিলো ওর পেছনে। হতেও পারে। রুদ্র ড্রইং রুমে এসে কফিটা নিয়ে উপরে চলে গেলো। ভালোই ছিলো সকালটা। এরপরে এই মেয়ের কলটা পেয়ে বড্ড বিরক্ত হয়ে গিয়েছে। তবে অধরা যদি শুনে থাকে তাহলে কি রাগ করেছে। নাকি কিছু মনে করেছে।
ভাবতে ভাবতে রুদ্র কিচেনে অধরার দিকে তাকালো। অধরা ওর দিকেই তাকিয়ে ছিলো। চোখে-চোখ পড়তেই চোখ নামিয়ে মুচকি হাসলো।
রুদ্র এবার বুঝলো অধরা সিরিয়াস নেয়নি কথাগুলো। ও তো ভুল কিছু বলেনি। অধরা ওকে আগে থেকেই ভালোবাসে এর প্রমানও পেয়েছে।
এদিকে সোহা এসে ঢুকলো আদ্রর রুমে। আদ্র ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে বের হলো মাত্র। সোহা বিছানা গুছিয়ে রেখেছে। আদ্র দরজাটা লাগিয়ে দিয়ে সোহাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে বলল,
“সংসারী হয়ে যাচ্ছিস।”
“হুমম। তোমার বউ হতে গেলে এইটুকু পারতেই হবে তো।”
“বাব্বাহ এতো উতলা বউ হওয়ার।”
সোহা পেছন ফিরে বলল,
“এসব কথা ছাড়ো। শোনো আব্বু-আম্মু আসবে আজকে। তুমি কিন্তু তাঁদের সামনে কিছু ইশারা করবে না। খাবার টেবিলেও না। বুঝলে।”
“আচ্ছা বুঝলাম।”
“মনে থাকে যেনো। তাহলে আমি গেলাম।”
আদ্র ওর হাত ধরে বলল,
“এই শোন না, চল আমরা নিজেরাই বিয়ে করে ফেলি। পরে নাহয় বাড়িতে জানিয়ে দিবো।”
“এতে সবাই খুব কষ্ট পাবে।”
আদ্র ফোঁস করে শ্বাস ছেড়ে বলল,
“সবার কষ্ট চোখ পড়ে আর আমার কষ্ট চোখে পড়ে না রে সোহা।”
______________
রুদ্র অফিসে যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছিলো। আর সবাই অফিসে চলে গিয়েছে। অধরা আর সোহা রুদ্রর সাথে যাবে কলেজে। তিনজনে খাবার টেবিলে এসে বসলো। অধরা একটু তাড়াতাড়িই খাবারটা শেষ করে রুদ্রকে বলল,
“ভাইয়া চলুন।”
অনিমা বললেন,
“ওর খাওয়া হয়েছে কি? তোর এতো তাড়া কিসের আজকে?”
“কই তাড়া?”
“ওখানে চুপচাপ গিয়ে বস। রুদ্র খাবে তারপর যাবে।”
“ঠিক আছে।”
রুদ্র চালাকি করে আরও আস্তে ধীরে খাবার খেতে শুরু করলো। সোহার খাওয়া শেষ ও গিয়ে অধরার পাশে বসলো। অনিমা রুমে চলে গেলেন। রুদ্র আরও আস্তে আস্তে খেতে শুরু করলো। অধরা মনে মনে বলল—যাও চেয়েছিলাম আজকে কলেজে গিয়ে রাকিবের সাথে কথা বলবো তা আর হবে না। লোকটা ইচ্ছে করে এমন করে খাচ্ছে। ইচ্ছে করছে নিজেই খাইয়ে দিয়ে আসি।
রুদ্র পাক্কা ১৫ মিনিট পরে উঠল। অধরা ওর আগেই গিয়ে গাড়িতে উঠল। রুদ্র গাড়িতে উঠে বসলো। আর বলল,
“এতো তাড়াহুড়ো করছিস কেনো? আমি না গেলে কি যেতে পারবি।”
অধরা হাসার চেষ্টা করে বলল,
“একটু তাড়াতাড়ি যান না। কলেজে একটু দরকার আছে।”
রুদ্র তবুও তাড়াতাড়ি করলো না। গাড়ির বাহিরে কিছুক্ষন দাড়িয়ে থেকে শুধু শুধুই ফোনটা স্ক্রল করে গাড়িতে উঠে বসলো। এরপরে গাড়ি স্টার্ট দিলো।
দুপুরে একটু তাড়াহুড়োর মধ্য দিয়েই রুদ্র ফিরে এলো। যেখানে বাড়ির সবাই সোহার বাবা-মা আসার ব্যাস্তে রান্না-বান্না করছে সেখানে রুদ্রকে কেউ খেয়ালই করলো না। ও সোজা উপরে এসে অধরার রুমে ঢুকলো। অধরা কলেজ ড্রেসটা খুলে ফোনটা নিয়ে দাড়িয়ে ছিলো। আজকে রাকিবের সাথে ভালোভাবে কথা বলে ওকে বুঝিয়েছে। মনে হয়না আর এই নিয়ে ও এগোবে।
রুদ্র হুড়মুড়িয়ে রুমে ঢুকে বলল,
“কখন ফিরেছিস?”
“মাত্রই।”
“কোথায় গিয়েছিলি? এতো দেরি হলো কেনো?”
“কোথাও যাইনি তো!”
রুদ্র তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,
“রাকিবের সাথে কথা বলেছিস?”
অধরা লুকালো না। বলে দিলো,
“হ্যা বলেছি। আসলে ও না জেনেই বারবার বিরক্ত করছিলো বলেই ভালোভাবে বুঝিয়ে বলেছি। এরপরে আর বলবে কথা বলবে না।”
রুদ্র তপ্ত শ্বাস ফেলে রুম থেকে বেরিয়ে নিজের রুমে ঢুকলো। জাস্ট সহ্য হয়না অধরার সাথে রাকিবের কথা বলা। এর মাঝে আবার মেসেজ এলো কয়েকটা। নায়রার মেসেজ। রুদ্র মেসেজ দেখে রাগে সব জায়গায় থেকে ওকে ব্লক করে দিলো। এরপরে ফোনটা বিছানায় ছুড়ে ঐভাবেই ঢুকলো ওয়াশরুমে। এদিকে অধরা রুদ্রর থেকে কোনো উত্তর না পেয়ে চলে এলো রুদ্রর রুমে। রুদ্র ওয়াশরুমে শাওয়ার নিচ্ছে। পানির ঝর্নার নিচে দাঁড়িয়ে মূলত একপ্রকার রাগে ফুসছে। বরাবরের মতো রাগ এভাবেই কন্ট্রোল করার চেষ্টা করে।
অধরা ফিরে এলো রুমে। ও নিজেও শাওয়ার নিয়ে খেতে এলো,এরপরে চুপচাপ খেয়ে রুদ্রকে ডাকতে গেলো। কিন্তু রুদ্র তখনও বের হয়নি। একে তো সকালে ওই মেয়ের কথাগুলো। আবার এখন অধরা আর রাকিবের কথা বলা।
অধরা রুমে ফিরে কিছুক্ষন বসে রইলো। আধঘন্টা পরে আবার রুদ্রর ঘরে এলো। তখনও ওয়াশরুম থেকে পানির শব্দ। পেলো ও। একটা মানুষ এতক্ষন পানির নিচে থাকে কেমনে। অধরা ভাবলো হয়তো বের হবে তাই চলে এলো নিজের রুমে। সোহাও বাড়িতে ফিরলো। অধরা সোহার সাথে আরও কিছুক্ষণ কথা বলে রুদ্রর রুমে এলো। তখনও রুদ্র বের হয়নি। অধরা দরজা ধাক্কালো। রুদ্র নিরেট কণ্ঠে বলল,
“কে?”
“আমি অধরা। দরজা খোলো। এতক্ষন কেউ শাওয়ার নেয়। ঠান্ডা-জ্বর হবে বের হও।”
রুদ্রর রাগ কি আর রাগ রইলো। কোথায় হাওয়া হয়ে গেলো ওরও অজানা। শুধু টাওয়ালটা পড়ে ভেজা অবস্থায়ই বের হলো। অধরা পিছিয়ে গিয়ে বলল,
“এতক্ষন লাগে? প্রায় ২ ঘন্টা তো হবেই। আগে এক জায়গায় ছিলেন সেখানে নাহয় অভ্যাস ছিলো। দেশে এসে এতোক্ষণ গোসল করলেন শরীর খারাপ করবে না।”
রুদ্র আরেকটা টাওয়াল নিয়ে মাথা মুছতে মুছতে বলল,
“ভালো লাগছিলো না। তাই ঠান্ডা পানির নিচে দাড়িয়ে ছিলাম।”
অধরা বিছানায় এসে বসে বলল,
“যখন জ্বর আসবে তখন ভালো লাগবে?”
“তু্ই পাশে থাকলে জ্বরও ভালোই লাগবে।”
“সবসময় বাজে কথা!”
“নাহ ভালো কথা।”
বিকেলে আর রুদ্র কিছু খেলো না। রুকাইয়া সন্ধ্যার পরপর রুদ্রর খাবার রুমেই দিয়ে গেলেন। রুদ্র খাবার খেয়ে বাহিরে গেলো। সাথে আদ্রকেও নিয়ে গেলো।
আরমান নেওয়াজ আদনান নেওয়াজের সাথে বসে কথা বলছেন। রুদ্র আর অধরার বিয়ের ব্যাপারেই কথা বলছেন। এতদিন আদনান নেওয়াজ বাড়িতে না থাকায় অনেক কিছুই জানেননা সেগুলোই বলছিলেন।
রাত ১০ টা।
অধরা সারারুমে পায়চারি করছে। রুদ্র বিকেল থেকে মেসেজ দেয়নি, কলও দেয়নি। সন্ধ্যায় কোথায় যেনো বের হয়ে গেলো আর ফিরেনি। আদ্রকে সাথে নিয়ে গিয়েছে। অধরা রুদ্রকে মেসেজ না দিয়ে আদ্রকে মেসেজ দিলো—ভাইয়া কোথায় তুমি?
—বাড়িতে ঢুকলাম মাত্র।
—কোনো দরকারি কাজে গিয়েছিলে নাকি?
—হুমম। রুদ্র নিয়ে গিয়েছিলো।
—সে কোথায় এখন?
—রুমে গেলো।
অধরা মিনিট বিশেক পরে রুদ্রর ঘরে এলো। হাতে কফির মগ। কিন্তু তাতে কফি নেই। শুধু পানি। ইচ্ছে করেই নিয়ে এসেছে। বিকেল থেকে এই পর্যন্ত মেসেজ না দেওয়ারই শাস্তি এটা। রুদ্র বিছানায় বসে আছে। চোখে দুটো লাল। শরীরটা একটু খারাপ লাগছে। অধরা কফির মগ এগিয়ে দিলো। রুদ্র কফিতে চুমুক দিতেই নাক-মুখ কুঁচকে নিয়ে বলল,
“কি এটা?”
“কফি।”
“তা এমন স্বাদ কেনো?”
“নতুন স্টাইলে বানিয়েছি।”
রুদ্র আরেক চুমুক দিয়ে বুঝতে পারলো এটা পানি। ও ঢকঢক করে পানিটুকু খেয়ে কফির মগ দিয়ে বলল,
“সেই মজা। একদম বিরিয়ানির টেস্ট।”
অধরা হতবাক হয়ে তাকিয়ে মনে মনে বলল-মাথা-টাথা কি খারাপ হলো নাকি উনার। পানি আবার বিরিয়ানির মতো টেস্ট হয় কি করে?
ভাবতে ভাবতে অধরা কফির মগটা নিয়ে চলে যেতেই আবার ফিরে এসে রুদ্রর কপালে হাত রেখে উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বলল,
“একি আপনার শরীরে তো খুব জ্বর। এই জন্যই তো চোখ লাল দেখাচ্ছে। এতক্ষন বাহিরে ছিলেন বুঝতে পারেননি শরীরে জ্বর এসেছে। আর আদ্র ভাই কি বুঝতে পারেনি। পাশেই তো ছিলো। নিশ্চই এতক্ষন শাওয়ার নেওয়ার কারণেই। আমি বড় আম্মুকে ডেকে আনছি।”
রুদ্র অধরা হাত ধরে বলল,
“সবসময় বড় আম্মু করিস কেনো? তু্ই থাক। তু্ই সেবা কর!”
“তবুও বড় আম্মুকে জানানো দরকার না।”
রুদ্র শুয়ে পড়ে বলল,
“জানাতে হবে না। তু্ই থাক পাশে। জ্বর ওমনেই চলে যাবে।”
“আমি থাকলে জ্বর ভালো হবে কি করে শুনি? ডেকে আনি বড় আম্মুকে?”
রুদ্র রেগে গিয়ে বলল,
“আরেকটা কথা বলবি তো তোর খবর আছে। দরজা লাগিয়ে দিয়ে আয় ঘুমাবো।”
অধরা চোখ পিটপিট করে তাকিয়ে বলল,
“ছি! জ্বরের ঘোরে কি দিয়ে কি বলছেন?”
রুদ্র বিছানায় থেকে নেমে বিড়বিড় করে আরও কি যেনো বলতে বলতে ওয়াশরুমে ঢুকলো। আসলেই জ্বরের ঘোরে মাথাটা গিয়েছে। তার উপরে আবার বাহিরে গিয়েছিলো। মাথাটাও ধরে আছে। অধরা এই ফাঁকে রুম থেকে বেরিয়ে চলে এলো নিচে। এরপরে সোজা ঢুকলো ওর বড় আম্মুর ঘরে। রুকাইয়াকে গিয়ে বলল,
“বড় আম্মু তোমার বড় ছেলের জ্বর এসেছে।”
“কিহ জ্বর এসেছে?”
“হুমম। দেখে এলাম।”
আরমান নেওয়াজ শোয়া থেকে উঠে বসলেন। রুকাইয়াকে বললেন,
“সাইড টেবিলে দেখো ওষুধ আছে। ওষুধ নিয়ে ওর কাছে যাও। জ্বর মাথায় উঠতে দেওয়া যাবে না।”
এই শুনে রুকাইয়া চলে গেলেন। পেছন পেছনে অধরাও গেলো। রুকাইয়া এসে ছেলের পাশে বসলেন। জিজ্ঞাসা করলেন ওষুধ খেয়েছে কি না। রুদ্র বলল, ওষুধ মাত্রই খেয়ে শুয়েছে। অধরা একপাশে দাঁড়িয়ে আছে। রুদ্র উঠে বসে বলল,
“আমার রুমে কি? যা বের হ!”
রুকাইয়া রুদ্রকে বললেন,
“মেয়েটাকে ওভাবে কেনো বলছিস?”
রুদ্র কর্কশ কণ্ঠে বলল,
“ওকে বলেছিলাম মাকে বলার দরকার নেই। তু্ই থাক! ও কি করেছে তোমাকে গিয়ে বলেছে। যেহেতু তুমি এসেছো তাহলে ও এখানে থাকবে কেনো? এই যা বের হ! আর আসবি না আমার রুমে।”
অধরার রাগ হলো। কিন্তু তার থেকেও শেষের কথাটায় খারাপ লাগলো বেশি। কোনো কথা না বলে চুপচাপ বেরিয়ে গেলো। রুকাইয়া রুদ্রকে বললেন,
“তু্ইও না। একটু ভালো করে বলতি। এভাবে কেনো বললি?”
রুদ্র তপ্ত শ্বাস ছেড়ে বলল,
“আমার মাথা ঠিক নেই মা। সকালে সরি বলবো ঠিক হয়ে যাবে।”
চলবে....