ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রণয়বেলায় তোমার আগমন

৪৩তম পর্ব

লেখক: জেরিন আক্তার

#প্রণয়বেলায়_তোমার_আগমন (৪৩)

#জেরিন_আক্তার

রাত ১০ টা —

আদনান নেওয়াজ সোহার রুমে এলেন কথা বলতে। সাথে রুদ্রও আছে।

সোহা, অধরা আর ঝিলিক বসে কথা বলছিলো। রুদ্র অধরার কাছে গিয়ে বলল,

“চলুন রুমে যাই ঘুমাবো।”

অধরা রুদ্রর মুখপানে তাকালো একবার আবার আদনান নেওয়াজের দিকে। এরপরে বলল,

“ঠিক আছে চলুন।”

রুদ্র অধরাকে নিয়ে রুমে থেকে বেরিয়ে নিজেদের রুমের গেলো। অধরা আবার ফিরে এসে সিঁড়ির কাছে এসে নিচে ড্রইং রুমে উঁকি দিলো। রুদ্র এসে ওর হাত ধরে আস্তে করে বলল,

“জানিস না নতুন বউদের রুমেই স্বামীর সাথে থাকতে হয়। এদিক-ওদিক ঘুরিস কেনো?”

“কই ঘুরেছি? আপনিই তো রুম থেকে বেরোতে দেননি। একটু আগেই তো বের হলাম।”

রুদ্র বলল,

“তবুও সবাই কি ভাববে আমি তোকে ভালোবাসি না?”

অধরা মুখের উপরে বলে দিলো,

“না একটুও বাসেন না।”

রুদ্র অধরার কোমরে চিমটি কেটে বাকা হেসে বলল,

“রুমে চল, অনেক ভালোবাসবো।”

অধরা “উফ” সুচক শব্দ করে রুদ্রর হাতে চাপর মেরে বলল,

“ব্যাথা পেলাম না।”

রুদ্র একটু জোরেই বলল,

“স্বামীর থেকে দূরে থাকলে ব্যাথা পাবিই।”

“এই চলুন তো, রুমে চলুন। কেউ এসব শুনলে কি ভাববে।”

এদিকে ঝিলিকও চলে গেলো। আদনান নেওয়াজ সোহাকে বললেন,

“সোহা, তোমার সাথে কথা আছে।”

“বলো আব্বু। বসো এখানে।”

আদনান নেওয়াজ হালকা শ্বাস ছেড়ে বললেন,

“সোহা কালকে চলে যাচ্ছি জানোই তো। তো ঠিক করলাম আমাদের সাথে নিয়ে যাবো তোমাকে।”

সোহা থমথমে মুখে বলল,

“সত্যি নিয়ে যাবে?”

“হুমম। যাবে না?”

সোহা থেমে থেমে বলল,

“কিন্তু আব্বু বাড়িতে সবাই যে আছে। ওদের ছেড়ে….”

আদনান নেওয়াজ হেসে বললেন,

“আরে চিন্তা করো না তো। চলো ভালো লাগবে।”

“আব্বু তোমরা যাও, আমি কয়টা দিন পরে আসি।”

“উহু, আমি সাথে নিয়ে যাবো। আবার নাহয় দিয়ে যাবো।”

“কিন্তু আব্বু… ”

“কোনো কিন্তু নয়, তুমি যাচ্ছো ফাইনাল।”

এই বলে আদনান নেওয়াজ মেয়ের দিকে তাকিয়ে শুধানো গলায় বললেন,

“কি হলো আমার কথা রাখবে না।”

সোহা মিনিট দুই চুপ থেকে মাথা নিচু করে বলল,

“ঠিক আছে যাবো। কিন্তু আমাকে তাড়াতাড়ি বাড়ি পাঠিয়ে দিতে হবে।”

“ঠিক আছে। এই নিয়ে তুমি চিন্তা করো না।”

সোহা মলিন হাসলো। আদনান নেওয়াজ চলে গেলেন। সোহা বিছানায় বসে কিছুক্ষন ভাবলো এরপরে চলে গেলো আদ্রর ঘরের দিকে। আদ্র ব্যালকনিতে চেয়ারে গা এলিয়ে দিয়ে বসে সিগারেট খাচ্ছিলো। সোহা রুমে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিয়ে ব্যালকনির দরজার সামনে এসে দাড়ালো। আদ্র পেছন না ফিরেই বলল,

“হঠাৎ কি মনে করে এলি?”

সোহা আরেক পা এগিয়ে এসে বলল,

“না দেখে বুঝলে কি করে আমি এসেছি?”

আদ্র হালকা হেসে বলল,

“তোর চালচলন আমার মুখস্ত।”

সোহা এগিয়ে এসে আদ্রর সামনে হাটু গেরে বসে আদ্রকে ধরলো। আদ্র সিগারেটে শেষ টান দিয়ে ব্যালকনি দিয়ে ফেলে দিয়ে বলল,

“কি হয়েছে?”

সোহা নরম গলায় বলল,

“আব্বু সাথে করে আমাকে নিয়ে যাবে।”

আদ্র স্বাভাবিকভাবে বলল,

“তো যা, সমস্যা কোথায়? ভালোই তো সাথে নিয়ে যাচ্ছে।”

সোহা ঘাড় একটু কাত করে বলল,

“তোমার খারাপ লাগবে না?”

“আমার কেনো খারাপ লাগবে?”

“লাগবে না?”

“উহু।”

সোহা উঠে দাঁড়িয়ে আদ্রর কোলে বসলো। ওর দুগালে হাত রেখে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলল,

“লাগবে না বললেই হলো! অবশ্যই লাগবে।”

আদ্র মাথা নাড়িয়ে বলল,

“মোটেও লাগবে না। আর কোলে থেকে নাম।”

“নামবো না আমি। আমার উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত আমি এখানেই থাকবো।”

“কি উত্তর চাস তু্ই?”

“ভালোবাসি বলো না। আমি জানি তুমি রাগ করে আছো। আই এম সরি। সরি, সরি, সরি, সরি, সরি, সরি, সরি। বিশ্বাস করো এরপরে তুমি যা বলবে আমি তাই করবো।”

সোহার কথায় আদ্র আর রাগ কি থাকতে পারলোই না। আদ্র আলতো হাতে নিজের বুকে সোহার মাথা চেপে ধরলো। সোহা আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে বলল,

“একবার ভালোবাসি বলো না। আমার আর ভালো লাগছে না। আমি আর ভয় পাবো না। সবার সামনে বলবো আমি তোমাকে ভালোবাসি।”

আদ্র হেসে বলল,

“যাক আমার রাগ করে অন্তত তোর একটু সাহস বেড়েছে। বাড়িতে বলার মতো সাহসও পাচ্ছিস দেখা যাচ্ছে।”

সোহা মাথা তুলে আবারও আদ্রর দুইগালে হাত রেখে বলল,

“আর রাগ করে থেকো না। অনেক ভালোবাসি তোমায়।”

আদ্র হেসে বলল,

“আচ্ছা ঠিক আছে। আমিও অনেক ভালোবাসি।”

“আবার বলো!”

“আমি ভালোবাসি তোকে।”

“শোনো না, আমি না আব্বুর সাথে যেতে চাইছি না কি করবো এখন বলে দাও না। তোমায় ছেড়ে আমি থাকতে পারবো না।”

“আরে পাগলী চাচ্চু যখন বড় মুখ করে বলেছে সাথে নিয়ে যাবে, যা। ২-৩ দিন থাকবি এরপরে আমি আর ভাইয়া গিয়ে নিয়ে আসবো। আর কথা তো হবেই।”

.

রুদ্র অধরাকে রুমে এনে বলল এখন নাকি কফি খাবে। অধরা কফি বানাতে নিচে এলো। সবাই যে যার রুমে শুধু আরিফ নেওয়াজ বসে ফোন স্ক্রল করছেন। তার ঘুমাতে আরও দেরি। অধরা ওর বাবার জন্য আগে কফি বানিয়ে দিয়ে গেলো। এরপরে রুদ্রর জন্য নিয়ে গেলো উপরে। রুদ্র ওয়াশরুম থেকে বেরোলো। অধরা কফিটা দিয়ে বিছানায় বসে ফোনটা হাতে নিলো।

রুদ্র কফি খেতে খেতে অধরাকে শুনিয়ে গান ধরলো….

“কারো প্রেমে পড়লাম না রে

মজা কি বুঝলাম না রে

শুনলাম না মোবাইল ফোনে

আই লাভ ইউ…”

অধরা ফোন রেখে রুদ্রর দিকে অবাক চোখে তাকালো। রুদ্র হাঁটতে হাঁটতে পরপর বলল,

“মন বড় উতলা, মনে প্রেমের জ্বালা

কই সে প্রেমিক ওয়ালা

বলে দে না কেউ…..

মন বড় উতলা, মনে প্রেমের জ্বালা

কই সে প্রেমিক ওয়ালা

বলে দে না কেউ…..

কারো প্রেমে,

কারো প্রেমে,

কারো প্রেমে পড়লাম না রে

মজা কি বুঝলাম না রে

শুনলাম না মোবাইল ফোনে

আই লাভ ইউ…”

অধরা আলগোছে উঠে গিয়ে রুমের ঝাড়ুটা হাতে নিয়ে রুদ্রকে বলল,

“এদিকে তাকান বলছি!”

রুদ্র ওর দিকে তাকিয়ে ফিচেল হেসে বলল,

“ঝাড়ু দিয়ে কি করবি?”

অধরা দাঁত চেপে বলল,

“ঝাড়ু দিয়ে স্পেশাল ভাবে আই লাভ ইউ শোনাবো।”

রুদ্র সুর ধরে বলল,

“আই লাভ ইউ টুউউউউ।”

রুদ্র দরজাটা বন্ধ করে দিয়ে অধরার থেকে ঝাড়ুটা ছো মেরে নিয়ে জায়গার জিনিস জায়গায় রাখলো। অধরা হুট্ করে রেগে গিয়ে বিছানায় বসল। রুদ্র কফি খাওয়া শেষ করে পাশেই বসলো। অধরা বিছানায় থেকে বালিশটা নিয়ে সোফার দিকে গেলো। সোফায় এসে শুয়ে বলল,

“শোবো না আপনার সাথে।”

রুদ্র ওর দিকে তাকিয়ে বলল,

“কেনো? কি করলাম আমি?”

অধরা নিজেও জানে না রুদ্র কি করেছে। কিছুই তো করেনি। তাহলে রাগ করে এলো কেনো? রুদ্র ওর থেকে উত্তর না পেয়ে খিলখিলিয়ে হেসে বলল,

“তু্ই কি নিয়ে, কোন কারণে রাগ দেখাচ্ছিস তা নিজেই জানিস না তাইনা। পারিসও বটে! তোকে হারে হারে চেনা শেষ।”

অধরা ওর হাসিতে তেলেবেগুনে জ্বলে উঠল। দাঁত চেপে বলল,

“আমি যাই নিয়ে রাগ করি না কেনো আপনি বলবেন কেনো? আপনি রাগ সহ্য করবেন শেষ।”

রুদ্র হাসতে হাসতে এগিয়ে এসে অধরার হাত ধরে টেনে বলল,

“যা সরি আর হবে না। আয়, শুয়ে পড়ি!”

অধরা একচুলও নড়লো না। বলল,

“যাবো না।”

“কেনো আবার কি হলো? সরি বলেছি তো।”

“সরি তে কাজ হবে না। কিছু এনে খাওয়ান তাহলে যাবো।”

রুদ্র রসিকতা করে বলল,

“ঘুষ চাইছিস নাকি? না না ঘুষখোর মানুষ আমার ঘরে জায়গা নেই।”

অধরা জানে এটা মজা করেই বলেছে। কিন্তু এতে রাগ দেখানোর একটা সুযোগ পেলো। ও উঠে দরজার দিকে যেতে যেতে বলল,

“থাকবো না তাহলে আপনার ঘরে।”

বলেই দরজা খুলতে নিলে রুদ্র সামনে এসে বলল,

“সত্যি সত্যি যাচ্ছিস নাকি? যাসনা। গেলে বড্ড লজ্জায় পড়ে যাবো।”

অধরা কপাল কুঁচকে নিলো। ও চলে যাওয়াতে রুদ্র লজ্জা পাবে কেনো? ও জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,

“লজ্জা পাবেন কেনো?”

রুদ্র দুষ্টু হাসি দিয়ে বলল,

“লোকে ভাববে আমার সমস্যা আছে। তাই চলে এসেছিস।”

অধরা নাক-মুখ কুঁচকে নিয়ে তাকিয়ে বলল,

“সবাই কি তাই ভাববে?”

রুদ্র দরজাটা বন্ধ করে অধরাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে কানে কানে বলল,

“নতুন নতুন বিয়ে হলে যদি বউ স্বামীর কাছে না থাকে তাহলে তাই ভাববে। কেনো আশেপাশে দেখিস না নাকি? তোর জন্য লোকে আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করবে। আর তু্ই কি তোর স্বামীকে এমন লজ্জায় ফেলে দিতে পারবি? এখন চুপচাপ শুয়ে পড়বি চল!”

অধরা কথা বাড়ালো না। সোফায় থেকে বালিশ এনে বিছানায় এসে শুয়ে পড়লো। রুদ্র মুখ টিপে হেসে বিছানায় এসে শুলো। ভালোই বোকা বানিয়েছে।

পরদিন সকালে আদনান নেওয়াজ, নাজমা দুজনে মিলে সোহাকে নিয়ে রওনা হলেন। আদনান নেওয়াজ রুদ্রর কথামতো সোহাকে বাসায় নিয়েই বলবে যে আর বাড়িতে যেতে দিবে না। এরপরেই দেখা যাবে দুজনের ভালোবাসার টান কতখানি।

বেলা ৯ টার দিকে রুদ্র কোথায় থেকে যেনো ফিরে এলো। সাথে ব্যালকনিতে লাগানোর জন্য কয়েক প্রকারের ফুলের গাছ, টবসহ এনেছে। রুদ্রর হাতে কতগুলো, আর দারোয়ানের হাতে কতগুলো গাছ। রুদ্র উপরে এলো, আর দারোয়ান আসছে। অধরা রুমেই ছিলো। ও রুদ্রকে রুমে ঢুকতে দেখে কিছু বলার আগেই রুদ্র হেসে বলল,

“কালকে বলেছিলাম না সারপ্রাইস দিবো। সারপ্রাইস হিসেবে তোর জন্য এই এতো ফুলের গাছ এনেছি।”

অধরা অবাক হলো। এগিয়ে এসে বলল,

“বাহ্, সুন্দর তো। কোথায় লাগাবেন এগুলো?”

রুদ্র মুখের কোণে চিরচেনা সেই হাসি ফুটিয়ে বলল,

“তোর মনে নেই তু্ই একদিন পড়তে এসে বললি যে ব্যালকনিটা ফাঁকা ফাঁকা, ফুলগাছ আনতে। আমি বলেছিলাম ফুলগাছ আনবো যত্ন নিবে কে? তু্ই উত্তরে বলেছিলি তু্ই করবি। এবার বউ হিসেবে এগুলো যত্ন কর। কি করবি না?”

অধরা খুশিতে এগিয়ে এসে রুদ্রকে ধরে বলল,

“হ্যা করবো, ব্যালকনিতে নিয়ে চলুন।”

চলবে....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন