ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রণয়বেলায় তোমার আগমন

৪৭তম পর্ব

লেখক: জেরিন আক্তার

#প্রণয়বেলায়_তোমার_আগমন #অন্তিম_পর্ব

#জেরিন_আক্তার

বিকেলে অধরা রুদ্রর কাভার্ডটা গুছিয়ে রাখছিলো আর গুনগুন করে গান গাচ্ছিলো,

“তোকে পেয়েছি জীবনে আমার করে,

কি দারুন ভাগ্য আমার।

ছাড়বো না দুহাত কোনোদিন,

হোক না যা হওয়ার।

তোকে পেয়েছি জীবনে আমার করে,

কি দারুন ভাগ্য আমার।

ছাড়বো না দুহাত কোনোদিন,

হোক না যা হওয়ার।”

সোহা রুমে ঢুকে বলল,

“বাব্বাহ এখন দেখি কাজ করতে করতে মুচকি মুচকি হাসো। গুনগুন করে গান গাও ব্যাপার কি?”

অধরা সোহার একগাল ধরে টেনে বলল,

“আদ্রর সাথে তোর বিয়ে হলে তুইও আমার মতো হবি।”

“তোমার যা কথা। এখন কি করবে?”

“একটু কিচেনে যাবো। একটা কিছু রান্না করবো।”

“ওহহ। রুদ্র ভাইয়ার জন্য নাকি?”

“হুমম, ঠিক ধরেছিস।”

অধরা বিছানায় থেকে ফোনটা নিয়ে রুদ্রকে কল দিলো।

হ্যালো, কি করছেন?”

“কিছুনা। তু্ই কি করছিস?”

অধরা মিথ্যে বলল,

“শুয়ে আছি। ঘুমাবো।”

“এখন?”

“হুমম। ঘুম ঘুম পাচ্ছে। লাঞ্চ করেছিলেন?”

“হুমম করেছি। তু্ই খেয়েছিস?”

“হুমম খেয়েছি।”

“তাহলে ঘুমা।”

“শুনুন?”

“হুমম বল।”

“কখন ফিরবেন?”

“সন্ধ্যার পরে।”

“ঠিক আছে। বাড়িতে আসার ১০ মিনিট আগে কল দিবেন।”

“কিছু লাগবে?”

“না এমনি। রাখছি তাহলে কাজ করুন আমি ঘুমাবো।”

“ওকে।”

…..

আরমান নেওয়াজ, আরিফ নেওয়াজ আর রুদ্র সন্ধ্যার পরপরই বাড়িতে ফিরলো। অধরা সিঁড়ির উপরে রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে আছে। আরিফ নেওয়াজ উপরে এসে অধরার সাথে টুকটাক কথা বলে রুমে চলে গেলেন। রুদ্র অধরাকে দেখে হেসে উপরে এসে অধরার সামনে দাঁড়িয়ে বলল,

“উফ কি মারাত্মক লাগছে।”

অধরা মুচকি হেসে রুদ্রকে টেনে নিয়ে রুমে যেতে যেতে বলল,

“একটু তাড়াতাড়ি আসুন তো!”

“কি ব্যাপার আজকে সূর্য কোনদিকে উঠেছে রে?”

“সূর্য সূর্যের জায়গায় আছে। এখন রাত। আর আপনি ফ্রেশ হয়ে আসুন তাড়াতাড়ি।”

রুদ্র সুটটা খুলে বিছানায় রাখলো। শার্ট খুলতে নিলে অধরা নিজেই শার্টের বোতাম খুলে দিতে দিতে বলল,

“দিনতো আমিই তাড়াতাড়ি খুলে দিচ্ছি। আপনার দুইদিন লাগবে।”

রুদ্র ওর দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে বলল,

“কি হয়েছে বলতো।”

অধরা বলল,

“ফ্রেশ হয়ে আসুন তারপর বলবো।”

রুদ্র বাকা হেসে বলল,

“যেভাবে শার্ট খুলে দিলি সেভাবে প্যান্ট খুলে দিলেও কিন্তু রাগ করবো না।”

অধরা লজ্জা পেয়ে বলল,

“ছি, অসভ্য লোক।”

রুদ্র অধরার দুহাত টেনে নিজের কোমরে রেখে রসিকতা করে বলল,

“খুলে দিবি নাকি?”

দরজা খোলাই ছিলো। আদ্র আবার সোহার রুমেই যাচ্ছিলো। তো রুদ্র আর অধরাকে দেখে জিভে কামড় দিয়ে চলে গেলো সোহার রুমে। সোহাকে এসে বলল,

“কিরে কি করছিস?”

“কিছুনা এই একটু পড়ছিলাম।”

“ওহ। আচ্ছা তোর পড়তে ভালো লাগে?”

সোহা হাসার চেষ্টা করে বলল,

“ভালো লাগে না। তাও পড়তে হয়।”

আদ্র হেসে বলল,

“আমার আর তোর বিয়ের কথা তো চলছেই। এই বিয়ের পরে তোকে আর পড়তে হবে না। তু্ই শুধু আমার সেবা-যত্ন করবি।”

সোহা খুশি হয়ে বলল,

“ঠিক আছে, ভালো একটা কথা বললে।”

রুদ্র শাওয়ার নিয়ে ফিরে এসে দেখলো অধরা ওর জন্য স্কাই ব্লু রঙের শার্ট আর কালো রঙের ফুল প্যান্ট বের করে রেখেছে। রুদ্র শার্ট পড়তে পড়তে বলল,

“কোনো স্পেশাল ডেট কি আজকে?”

“না, তবে স্পেশাল কিছু আছে।”

“কি? বলা যাবে কি?”

“একটু ওয়েট করুন আমি নিয়ে আসছি।”

অধরা চলে গেলো। রুদ্র ভ্রু উঠিয়ে কয়েক সেকেন্ড দাড়িয়ে থেকে প্যান্ট পড়ে আয়নার সামনে এসে দাড়ালো। চুলটা সেট করে পারফিউম শরীরে নিয়ে বিছানায় থেকে ফোনটা নিয়ে চার্জে দিলো। অধরা এলো রুমে। হাতে পায়েসের বাটি। রুদ্র বিছানায় বসে বলল,

“স্পেশাল ডিস মনে হচ্ছে?”

অধরা হেসে বলল,

“আপনার জন্য পায়েস রান্না করেছি। আজকের পায়েসে কোনো লবণ দেইনি। মিষ্টি হয়েছে আজকে। খুব ভালো হয়েছে।”

রুদ্র কৌতূহল নিয়ে বলল,

“কই এখানে দে, খেয়ে দেখি।”

রুদ্র খেলো। ভালোই হয়েছে মন্দ নয়। অধরা আশাবাদী হয়ে তাকিয়ে আছে ওর দিকে। রুদ্র ওকে আরও খুশি করতে হেসে বলল,

“অনেক ভালো হয়েছে। সেদিনের মতো হয়নি। বরং খুব ভালো হয়েছে।”

“আমি আমি রান্না করেছি। কাউকে পাশে আসতে দেইনি।”

রুদ্র অধরাকে নিজের কাছে এনে বসিয়ে ওকে পায়েস একটু খাইয়ে দিলো। আর বলল,

“আস্তে আস্তে তো সংসারী হয়ে যাচ্ছেন।”

“হুম হতেই হয়। এখন আমার সাথে চলুন!”

“কোথায়?”

“নিচে খাবেন। এরপরে রুমে এসে একটু রেস্ট নিবেন তারপর আমাকে নিয়ে একটু বাহিরে যাবেন। অনেকদিন ধরে ঘুরতে নিয়ে যান না।”

রুদ্র উঠে দাঁড়িয়ে বলল,

“ঠিক আছে। চলুন তাহলে।”

রুদ্র রাতের খাবার খেয়ে রুমে এসে রেস্ট বলতে শুয়ে শুয়ে মোবাইল স্ক্রল করছিলো। অধরা কালো রঙের বোরখা আর স্কাই ব্লু রঙের হিজাব পড়ে রেডি হচ্ছিলো। বিয়ের পরে প্রথম কোথাও বের হচ্ছে। তাই ম্যাচিং ম্যাচিং ড্রেস পড়ে যাবে।

_______

রুদ্র আর অধরা ঘুরতে এসেছে সেই আগের জায়গায়। যেখানে এর আগেই অধরাকে নিয়ে এসেছে ফুচকা খাওয়াতে। প্লেসটা বরাবরের মতো কোলাহল মুক্ত। কয়েকটা কাপল একেক জায়গায় বসে কথা বলছে। ওরাও দুজনে গাড়ি থেকে নেমে একটা ব্রেঞ্চে এসে বসলো। রুদ্র ফুচকা কিনে নিয়ে এলো। অধরা নিজেও খেলো আর রুদ্রকেও জোর করে খাওয়ালো।

মিনিট দশেক পরে রুদ্র অধরাকে বসিয়ে রেখে কোথাও একটা চলে গেলো। আবার খুব দ্রুতই ফিরে এসে অধরার পাশে বসলো। ওর হাতটা নিয়ে দুটো বেলী ফুলের গাজরা পড়িয়ে দিলো। আর কয়েকটা লাল গোলাপ দিলো। অধরা এতেই খুশি। ওর আহামরি আর কিছুর দরকার নেই।

কিছু মানুষ আছে অল্প কিছু পেলেই খুশি হয়। তাদের খুশি করতে আহামরি কোনো কিছু লাগেনা।

দুজনে জানা-অজানা অনেক কথাই বলতে শুরু করলো। কথা বলা শেষে দুজনেই বাড়িতে ফিরে আসার কথা বলল।

রুদ্র উঠে দাড়ালো। অধরা নিজ থেকে রুদ্রকে জড়িয়ে ধরে বলল,

“আমি আপনাকে ভালোবাসি। অনেক, অনেক, অনেক ভালোবাসি।”

রুদ্রর মুখে হাসি ফুটে উঠল। খুশি হয়ে অধরাকে ছাড়িয়ে নিয়ে বলল,

“কত অপেক্ষা করেছি এইটুকু শোনার জন্য। আচ্ছা আবার বলতো!”

অধরা মুচকি হেসে বলল,

“আমি আপনাকে অনেক ভালোবাসি।”

রুদ্র বুকে হাত রেখে চোখ বন্ধ করে গভীর গলায় বলল,

“উফফ একদম খুন করে ফেললি। প্রণয়বেলায় তোর আগমন ছিলো বসন্তের মতো। আর তোর থেকে ভালোবাসি শোনার পরে মনে হচ্ছে আর কিচ্ছু চাইনা। সবশেষে তোকে বলতে চাই অনেক অনেক ভালোবাসি তোকে। ভীষণ ভালোবাসি। পাগলের মতো ভালোবাসি।”

~সমাপ্ত

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪৭তম পর্ব শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন