#প্রণয়বেলায়_তোমার_আগমন (৪৬)
#জেরিন_আক্তার
আদ্র রুমের লাইট নিভিয়ে উঁবু হয়ে শুয়ে ফোন স্ক্রল করছে। দরজাটা খোলাই রেখেছে কেননা রুকাইয়া কিংবা অনিমা এসে আদ্রকে দেখে যায়। অসুস্থ কি না।
সোহা খুব সাবধানতার সাথে রুমে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিয়ে দিলো। আদ্র কারো উপস্থিতি বুঝতে পেরে বলল,
“কে রে?”
সোহার থেকে কোনো উত্তর পাওয়া গেলো না। আদ্র বলল,
“অধরা এমন ফাজলামোর মানে হয়না। যা তো তোর রুমে।”
আদ্র স্পষ্ট বুঝতে পারছে ওর রুমে যে, সে অধরা না সোহা। কারণ অধরা ওর রুমে এলে কখনই চুপচাপ থাকে না, ধুমধাম করে হেটে এসে মারে। নয়তো কথা বলতে বলতে ঢুকে। আর সোহা চুপচাপ থাকে। আদ্র সোহাকে বুঝতে না দিয়ে বিছানায় থেকে নামতে নামতে বলল,
“তোকে যেতে বললাম না। যাচ্ছিস না কেনো? যদি কাছে আসি চুল একটাও থাকবে না।”
সোহা আদ্রর এগিয়ে আসা দেখে পিছিয়ে গেলো। আদ্র সোজা এসে ওকে জড়িয়ে ধরে বলল,
“ধরে ফেলেছি। অনেক লুকোচুরি খেলেছিস।”
সোহা বলল,
“তুমি প্রতিবার বুঝতে পারো কেমনে যে আমি এসেছি।”
আদ্র গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলল,
“তোকে চিনতে পারবো না এটা কোনো কথা। এই বাড়িতে তু্ইই একমাত্র ব্যাক্তি যে কিনা চুপচাপ আসিস আমার ঘরে। এছাড়া অধরা যদি আসে তাহলে ধুমধাম পা ফেলে আসবে নয়তো কথা বলতে বলতে ঢুকবে।”
আদ্র সোহাকে ছেড়ে রুমের লাইট জ্বালিয়ে বিছানায় বসে বলল,
“কখন এলি?”
“একটু আগে।”
“তোর সাথে কে এসেছে?”
“কেউ আসেনি। রুদ্র ভাই নিয়ে এসেছে।”
“কিহ ভাইয়া তোকে আনতে গিয়েছে?”
“হুমম। অধরা আপুকে খুশি করতে আমাকে এনেছে।”
আদ্র ভ্রু উঠিয়ে বিড়বিড় করে বলল, “তাহলে অধরা রুদ্রকে চাপ দিয়েছে। তাইতো এনে দিলো। যাক বইন থ্যাংক ইউ।”
অধরা সেই যে রুম থেকে বেরিয়েছে সোহার সাথে তার আর রুমে ফেরার নাম নেই। রুদ্র রুম থেকে বেরোলো অধরাকে খুঁজতে। আজকে পেলে হয় অধরাকে, পা ভেঙে রুমে বসিয়ে রাখবে। ও খুঁজতে খুঁজতে ড্রইং রুমে এসে দেখলো ও কিচেনে রুকাইয়ার সাথে কি যেনো করছে। রুদ্র এগিয়ে এসে কোমরে হাত রেখে দাঁড়িয়ে রইলো। রুকাইয়া অধরাকে ইশারা করে সামনে তাকাতে বলল। অধরা সামনে তাকিয়ে রুদ্রকে দেখে হেসে বলল,
“মনে ছিলো না।”
রুদ্র ওর মুখপানে তাকিয়ে থেকে আর রেগে থাকতে পারলো না। এইভাবে হেসে কথা বললে রাগ করে থাকাও যায় না। রুদ্রও হেসে বলল,
“তোকে কি করবো বল! একঘন্টা আগে রুমে আসতে বলেছি যে দরকার আছে। আর এখন বলছিস মনে ছিলো না।”
রুকাইয়া অধরার দোষটা নিজের উপরে নিয়ে বললেন,
“ও যেতেই চেয়েছিলো আমিই যেতে দেইনি।”
রুদ্র ওর মাকে বলল,
“এখন তোমার ছোট ছেলের বউকে সাথে সাথে রাখবে আমার আমার বউকে আমি দিবো না।”
রুকাইয়া ফোঁস করে শ্বাস ছেড়ে বললেন,
“তোদের দুই ভাইয়ের বউকেই সাথে সাথে রাখবো। তোরা দুই ভাই বউ ছাড়া একসাথে থাকবি।”
রুদ্র গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলল,
“আমাদের পাবেই না। আমরা হানিমুনে চলে যাবো।”
রুকাইয়া বললেন,
“রুদ্র ভালো কথা বললি তো। তোরা হানিমুনে গেলি না তো।”
রুদ্র অধরাকে দেখিয়ে বলল,
“ওই আতঙ্ক যায় না, আমি কি বলিনি ওকে? বলে যে আদ্র বিয়ে করলে ওদের সাথে নিয়ে যাবে।”
অধরা চুপ করে তাকিয়ে রইলো। রুদ্র বলল,
“অধরা এখন কি তু্ই যাবি? একটা দরকার আছে।”
“ঠিক আছে চলুন।”
রুদ্র অধরাকে রুমে এনেই ওর হাতটা ধরে নিজের কাছে এনে বলল,
“আমার কথা মনে থাকে না নাকি?”
অধরা রুদ্রর কাঁধে হাত রেখে হেসে হেসে বলল,
“আপনার আমাকে মনে পড়েই তো। তাই আমার মনে পড়ে না।”
রুদ্র গভীর গলায় বলল,
“সত্যিই মনে পড়ে না?”
“উহু।”
“চোখ বন্ধ কর!”
অধরা চোখ বন্ধ করতেই রুদ্র ওর ঘাড়ে ঠোঁট ছোঁয়ালো। কয়েকটা ছোট ছোট চুমুও দিলো। অধরা মুচকি হাসলো। রুদ্র তৎক্ষণাৎ অধরার ঘাড়ে খুব জোরে কামড় বসালো। অধরা চোখ খুলে “উফ!” সুচক শব্দ করে উঠল। রুদ্র ওকে ছেড়ে দিয়ে বাকা হেসে বলল,
“এবার থেকে ঘাড় ঘোরানোর সময় যখনই ব্যাথা অনুভব করবি আর তখনই আমার কথা বেশি করে মনে পড়বে।”
অধরা রাগে রুদ্রকে সরিয়ে দিয়ে দরজা লাগিয়ে দিয়ে বিছানায় এসে শুয়ে পড়লো। আর বলল,
“কাছে এলে আমিও আপনার ঘাড়ে কামড়ে দিবো।”
রুদ্র হেসে লাইট নিভিয়ে ডিম লাইট জ্বালিয়ে শার্টটা খুলে বিছানায় এসে বলল,
“আমার অর্ধেক জীবন যাবে বোধহয় তোর রাগ ভাঙাতে। আরে রাগ করিস সব ভুলে আয় মিলেমিশে ঘুমাই।”
অধরা মুখটিপে হাসছে ওর কথায়।
রুদ্র পাশে শুয়ে মৃদু আওয়াজে গান বলতে লাগলো।
অধরা নিজেই রুদ্রর কাছে এসে ওরা বুকে মাথা রেখে শুলো। রুদ্র অধরার কানে কানে বলল,
“অন্যকিছুর ফিলিংস হচ্ছে। আজ তোকে আমার চাই।”
অধরা গভীর গলায় আওড়ালো,
“মানা করলে কি শুনবেন?”
“উহু, একদমই না।”
সকালবেলা—
অধরা রাতে ঠিকই বলেছিলো রুদ্রর ঘাড়ে কামড়ে দিবে। তাই দিয়েছে। রুদ্র আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ঘাড়ের পাশে লালচে কামড়ের দাগটা দেখছে। অধরা রুমে ফিরলো কফি নিয়ে। রুদ্রকে দেখে শুনিয়ে শুনিয়ে বলল,
“দেখুন এবার কেমন লাগে? ঐভাবেই যান খাবার টেবিলে, এমনকি অফিসেও।”
রুদ্র ফিচেল হেসে বলল,
“আমার কোনো প্রবলেম নেই। সবাই তো জানেই বিয়ে করেছি কয়েকদিন হলো। তাই সবাই দেখে আরও খুশিই হবে। বলবে, রুদ্র তোর বউ কিন্তু তোকে ভালোবাসে।”
অধরা হেসে বলল,
“সে যাই বলুক তবে আজকে দেখবো আপনার কি লজ্জা লাগে কিনা। আমাকে তো প্রতিবার লজ্জায় ফেলে দিয়ে নিজে বিন্দাস ঘুরে বেড়ান আজকে আপনার পালা।”
রুদ্র হেয়ালি করে বলল,
“কেউ বলবেই না দেখো।”
“ঠিক আছে দেখা যাবে।”
রুদ্র খাবার টেবিলে এলো। আদ্র, আরিফ নেওয়াজ সাথে ছিলেন। খাওয়া-দাওয়া করার সময় আদ্রর চোখে পড়লো রুদ্রর ঘাড়ের দাগটা। বড় ভাই লজ্জা পাবে বলে বলল না। তবে ইশারা করে বোঝালো রুদ্রকে। রুদ্র মুচকি হেসে অধরাকে ইশারা করলো। আদ্র চুপচাপ খাওয়া শুরু করলো। রুদ্রকে ইশারা করে বোঝাতে পেরেছে। অধরাকে খোঁচা মেরে বলতে গেলে ও কম মারবে না।
ভালোই ভালোই খাওয়া-দাওয়া শেষ হলো। রুদ্র হাফ ছেড়ে উঠে দাড়ালো। যাক বউকে তো জোর দেখিয়ে বলতে পারবে কেউ লজ্জায় ফেলে দিতে পারেনি।
ওর ভাবনার মাঝেই ঠিক তখনই সোহা নিচে এসে দাড়ালো ওর সামনে। রুদ্রর ঘাড়ের দিকে তাকিয়ে বলে দিলো,
“একি ভাইয়া তোমার..
সোহা কথা থামিয়ে দিয়ে চুপচাপ গিয়ে বসলো। রুদ্র হাফ ছাড়লো। আর অধরার দিকে এগিয়ে এসে ফিসফিস করে বলল,
“বেচে গিয়েছি।”
বেলা ১১ টার দিকে আরমান নেওয়াজ গ্রামের বাড়িতে থেকে ফিরলেন। রাতেই ফিরতেন কিন্তু রুদ্র বলেছে রাত করে গ্রামের রাস্তা দিয়ে আসার দরকার নেই সকালেই আসতে।
তিনি বাড়িতে এসে ফ্রেশ হয়ে অফিসে গেলেন। রুদ্র এলো তার কেবিনে কথা বলতে।
রুদ্র শুরুতেই আদ্রকে নিয়ে কথা বলল। তাকে বলে দিলো আদ্র আর সোহার প্রেম চলছে। আরমান নেওয়াজ এই নিয়ে কথা বলে শেষে বললেন,
“তোমাকে নাহয় অধরার সাথে জোর করেই বিয়ে দিয়েছিলাম আর তোমার ভাই নিজেই নিজের রাস্তা ক্লিয়ার করে রেখেছে। বাড়ির মেয়েদের বাড়িতেই রাখবে। ভালো।”
“বাবা ওদের বিয়ে নিয়ে কথা বলো চাচ্চুর সাথে।”
“ওরা ওদের মতো প্রেম করুক। বিয়ের কথা পরে বলবো।”
রুদ্র মাথা নাড়িয়ে বলল,
“উহু তোমাকে ওদের বিয়ে তাড়াতাড়ি দিতে হবে।”
“ঠিক আছে দেখছি।”
“দেখছি বললে হবে না। তাড়াতাড়ি দিতেই হবে।”
আরমান নেওয়াজ হাসলেন। রুদ্র তো আর বলতে পারছে না, তোমার ভাতিজির কারণে বিয়েটা তাড়াতাড়ি দিতে।
চলবে....