ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোমারই হাত ধরে রবের পথে

২৫তম পর্ব

লেখক: Nahid Matabbor

তোমার ই হাত ধরে রবের পথে

লেখক: নাহিদ মাতাব্বর

পর্ব: ২৫

পরীক্ষা যতই কাছে আসছিল, কলেজের পরিবেশ ততই বদলে যাচ্ছিল। আড্ডা আর গল্পের চেয়ে এখন সবার মুখে পড়াশোনার কথাই বেশি।

মুসআবও নিজের পড়াশোনায় মন দিয়েছে। ক্লাসের পর বন্ধুদের সঙ্গে বসে পড়া, প্রয়োজনীয় নোট তৈরি করা—এই নিয়েই তার সময় কাটছিল।

মাহিরা দূর থেকে এসব দেখত।

তার ভালো লাগত যে মুসআব নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে এতটা সচেতন।

একদিন লাইব্রেরিতে মাহিরা আর আয়াত পাশাপাশি বসে পড়ছিল। হঠাৎ মাহিরার চোখ পড়ল পাশের টেবিলে বসে থাকা মুসআবের ওপর।

সে বই পড়ছিল।

মাহিরা কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে আবার নিজের বইয়ে চোখ দিল।

আয়াত সেটা লক্ষ্য করল।

কিন্তু কিছু বলল না।

কিছুক্ষণ পর মাহিরা ধীরে বলল,

— “আয়াত?”

— “হুম?”

— “আমি একটা কথা বুঝতে পারছি না।”

— “কী?”

— “কাউকে ভালো লাগতে শুরু করলে কি তাকে বলা দরকার?”

আয়াতের হাত থেমে গেল।

সে কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে বলল,

— “সব অনুভূতি প্রকাশ করতে হয় না।”

মাহিরা বলল,

— “তাহলে?”

— “যদি সত্যিই ভালো কিছু হয়, তাহলে সঠিক সময় আর সঠিক পথের জন্য অপেক্ষা করা যায়।”

মাহিরা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।

তারপর মাথা নাড়ল।

— “হুম। তুই ঠিক বলেছিস।”

আয়াত নিজের বইয়ের দিকে তাকিয়ে রইল।

তার মনে হলো, সে যেন নিজের মনের কথাই মাহিরাকে বলে ফেলেছে।

---

সেদিন বিকেলে মুসআব বাড়ি ফেরার পথে তার এক বন্ধুর সঙ্গে হাঁটছিল।

বন্ধু বলল,

— “মুসআব, একটা কথা জিজ্ঞেস করব?”

— “কর।”

— “তুই কখনো বিয়ে নিয়ে ভেবেছিস?”

মুসআব একটু হেসে বলল,

— “এখনো পড়াশোনা শেষ হয়নি।”

— “তা ঠিক। কিন্তু ভবিষ্যতে তো ভাববি।”

মুসআব কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,

— “যখন সময় হবে, পরিবারকে জানাব। দ্বীনদার আর ভালো চরিত্রের কাউকে হলে আলহামদুলিল্লাহ।”

বন্ধু বলল,

— “মানে নিজের পছন্দ নেই?”

মুসআব বলল,

— “পছন্দ থাকতেই পারে। কিন্তু পছন্দের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, সেটা সঠিক পথে হওয়া।”

বন্ধুটি আর কিছু বলল না।

মুসআবও কথাটা সেখানেই শেষ করে দিল।

---

এদিকে মাহিরা সেদিন রাতে অনেকক্ষণ ভাবল।

মুসআবের প্রতি তার যে অনুভূতি তৈরি হয়েছে, সেটা সে আর অস্বীকার করতে পারছে না।

কিন্তু সে এটাও জানে—মুসআবকে নিয়ে কোনো ভুল পথে যাওয়া তার উদ্দেশ্য নয়।

সে নিজের মনে বলল,

“যদি সত্যিই আমার জন্য ভালো হয়, তাহলে আল্লাহ সঠিক সময়ে সঠিক পথ খুলে দেবেন।”

তারপর সে বিষয়টা আর ভাবল না।

অন্যদিকে আয়াতও একই রাতে দোয়া করল।

কিন্তু তার দোয়ার ভাষা আলাদা।

“আল্লাহ, আমি যাকে ভালোবাসি, তাকে যদি আমার জন্য লিখে না থাকেন, তাহলে আমার মনকে আপনার সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার শক্তি দিন।”

দুজনের দোয়া আলাদা।

কিন্তু দুজনেরই ভরসা একজনের ওপর।

---

পরদিন কলেজে একটা ছোট ঘটনা ঘটল।

আয়াতের কিছু নোট খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সে অনেকক্ষণ খুঁজেও পেল না।

মুসআবের এক বন্ধু নোটগুলো পেয়ে আয়াতকে দিয়ে বলল,

— “এগুলো কি আপনার?”

আয়াত বলল,

— “জি, ধন্যবাদ।”

মুসআব একটু দূরে দাঁড়িয়ে ছিল। সে শুধু বন্ধুটাকে বলল,

— “পেয়ে গেলে দিয়ে দাও।”

এর বেশি কিছু নয়।

আয়াত নোটগুলো হাতে নিয়ে নিজের জায়গায় ফিরে গেল।

তার মনে হলো, মুসআবের সঙ্গে কয়েকটা সাধারণ কথাও তার কাছে কতটা মূল্যবান হয়ে যায়।

কিন্তু সে জানে—

মুসআব তাকে সেই দৃষ্টিতে দেখে না।

এই সত্যটা সে যতই বুঝতে পারছে, তার ভালোবাসাটা ততই নীরব হয়ে যাচ্ছে।

আর অন্যদিকে মাহিরার অনুভূতি ধীরে ধীরে আরও গভীর হচ্ছে।

কেউ এখনো কাউকে কিছু বলেনি।

কিন্তু সময় চুপচাপ তাদের তিনজনের ভাগ্যকে একই দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন