ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোমারই হাত ধরে রবের পথে

২৬তম পর্ব

লেখক: Nahid Matabbor

তোমার ই হাত ধরে রবের পথে

লেখক: নাহিদ মাতাব্বর

পর্ব: ২৬

পরীক্ষার দিন যতই কাছে আসছিল, কলেজের ব্যস্ততাও তত বাড়ছিল। সবাই নিজের পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত। মুসআবও বন্ধুদের নিয়ে নিয়মিত পড়াশোনা করছিল।

মাহিরা আর আয়াতও লাইব্রেরিতে বসে পড়ছিল।

সেদিন মাহিরা একটা বই খুঁজতে গিয়ে দেখল, বইটা মুসআবের টেবিলের কাছে রাখা।

সে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে বইটা নিতে এগিয়ে গেল।

ঠিক তখনই মুসআবও বইটা নিতে হাত বাড়াল।

দুজনের হাত বইয়ের কাছে এসে থেমে গেল।

মুসআব সঙ্গে সঙ্গে হাত সরিয়ে নিয়ে বলল,

— “আপনি নিন।”

মাহিরা বলল,

— “না, আপনি নিন। আপনার আগে দরকার।”

মুসআব বলল,

— “আপনি আগে এসেছেন।”

মাহিরা বইটা নিয়ে বলল,

— “ধন্যবাদ।”

মুসআব মাথা নাড়ল।

— “জি।”

মাহিরা ফিরে এসে আয়াতের পাশে বসে গেল।

আয়াত বই থেকে চোখ তুলে বলল,

— “কী হলো?”

— “কিছু না।”

— “তাহলে এত হাসছিস কেন?”

মাহিরা নিজের মুখটা হাত দিয়ে ঢেকে ফেলল।

— “আমি হাসছি?”

আয়াত মৃদু হেসে বলল,

— “হ্যাঁ।”

মাহিরা আর কিছু বলল না।

---

কিছুদিন পর পরীক্ষা শুরু হলো।

প্রথম পরীক্ষার দিন সবাই খুব ব্যস্ত। মুসআব পরীক্ষা শেষে বন্ধুদের সঙ্গে বেরিয়ে যাচ্ছিল।

হামজা বলল,

— “কেমন হয়েছে?”

— “আলহামদুলিল্লাহ, ভালো।”

— “পরের পরীক্ষার প্রস্তুতি?”

— “আজ থেকেই শুরু।”

মুসআবের এই স্বভাবটাই তার বন্ধুদের কাছে পরিচিত—একটা কাজ শেষ হলেই পরের কাজের দিকে মন দেওয়া।

অন্যদিকে মাহিরা আর আয়াতও পরীক্ষা শেষে বের হলো।

মাহিরা বলল,

— “আজকে মোটামুটি ভালোই হয়েছে।”

আয়াত বলল,

— “হুম।”

মাহিরা হঠাৎ বলল,

— “জানিস, মুসআবের একটা ব্যাপার আমার খুব ভালো লাগে।”

আয়াত চুপ হয়ে গেল।

— “ও কখনো নিজের দায়িত্বকে হালকা ভাবে না।”

আয়াত ধীরে বলল,

— “হুম।”

মাহিরা এবার বলল,

— “আমি মনে হয় ওর প্রতি সম্মানটা একটু বেশি করে ফেলেছি।”

আয়াতের বুকটা কেঁপে উঠল।

সে কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,

— “সম্মান করা খারাপ কিছু না।”

মাহিরা বলল,

— “জানি।”

তারপর দুজন হাঁটতে লাগল।

---

সেদিন রাতে আয়াত নিজের ঘরে বসে অনেকক্ষণ ভাবল।

মাহিরা এখনো সরাসরি কিছু বলেনি।

কিন্তু আয়াত বুঝতে পারছে—তার বন্ধুর মনে মুসআবের জন্য অনুভূতি তৈরি হয়েছে।

তার নিজের ভালোবাসা তাহলে কোথায় দাঁড়ায়?

সে জানে, মুসআবকে সে পছন্দ করে।

কিন্তু মুসআবকে নিজের করে পাওয়ার কোনো দাবি তার নেই।

তবুও মন তো যুক্তি বোঝে না।

আয়াত চোখ বন্ধ করে বলল,

“আল্লাহ, যদি আমার জন্য কিছু না থাকে, তাহলে আমাকে ধৈর্য দিন।”

তারপর সে নিজের মনকে শক্ত করল।

---

অন্যদিকে মাহিরাও সেদিন একটা সিদ্ধান্ত নিল।

সে মুসআবকে নিজের অনুভূতির কথা এখনই জানাবে না।

বরং নিজের পড়াশোনা, পরিবার আর নিজের জীবন নিয়েই থাকবে।

যদি ভবিষ্যতে কোনোদিন বিষয়টা পরিবার পর্যন্ত যাওয়ার মতো হয়, তখন সে সঠিক পথেই যাবে।

মাহিরা জানত না, এই সিদ্ধান্তই একদিন তার জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষার কারণ হবে।

আর মুসআব?

সে এখনো কিছুই জানে না।

তার কাছে মাহিরা আর আয়াত—দুজনই কলেজের পরিচিত মানুষ, এর বেশি কিছু নয়।

সময় এগিয়ে যাচ্ছে।

পরীক্ষা শেষ হবে।

তারপর শুরু হবে এমন কিছু ঘটনা, যা ধীরে ধীরে আয়াতের নীরব ভালোবাসাকে আরও কঠিন পরীক্ষার সামনে দাঁড় করাবে।

চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন