সকাল প্রায় আট টা। রুমানা বেগমের ফোন বেজে চলেছে। রুমানা বেগম ফোনের শব্দ পাওয়া মাত্রই তারাতাড়ি ফোন টা রিসিভ করলেন। ফোন ধারা মাত্রই ওই পাশ থেকে সালামের শব্দ শোনা গেলো। আসসালামু আলাইকুম কেমন আছো আপা তোমাকে এতো গুলো ফোন দিলাম এখন ধরার সময় হলো। ওয়ালাইকুম আসসালাম আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি তোমরা কেমন আছো আসলে আমি রান্না ঘরে ছিলাম আর ফোন টা ড্রয়িং রুমে ছিলো তাই শুনতে পাই নাই। বলো কি বলবা লীমা। আপু আজকে আদিল আসবে জাপান থেকে। তুমি তো জানোই আদিল ফুফু কে কতো ভালোবাসে ফুফু ছাড়া তার চলে না। তাই তোমাকে আসতে হবে আর আমি কী একা একা পারি বলো আর তুমিও আপু আসো না অনেক দিন থেকে। কথাটা বেশ আদুরে ভঙ্গিতে বললো। এই পাশ থেকে রুমানা বেগম মৃদু হেসে বললেন আচ্ছা ঠিক আছে আসবো। ও হ্যাঁ আপু তুমি রাহা কে আনতে ভুলবে না কতো দিন হলো মেয়েটাকে দেখলাম না। রুমানা বেগম বললেন আচ্ছা বাবা ঠিক আছে নিয়ে আসবো এখন ফোন টা রাখো তো। অনেক কাজ আছে এই দিক টা গুছিয়ে আসতে হবে তো। আচ্ছা ঠিক আছে আপু আল্লাহ হাফেজ। আল্লাহ হাফেজ। কথা শেষে রুমানা বেগম ফোন টা সামনে টেবিলের উপর রেখে দিলো। পরবর্তীতে সোফায় বসে চিন্তায় ডুবে গেলো। একটু আগে যে ফোন দিয়েছে সে হলো তার ভাইয়ের বউ। ভাইয়ের বউ বললে ভুল হবে তার আপন বোনের মতো। রুমানা বেগমের বাপের বাড়ির মানুষ ভালো সম্পদ শালী । তাদের বিভিন্ন জায়গায় ব্যবসা আছে। রুমানা বেগমরা দুই ভাই বোন সে এবং তার ভাই রুববান নওয়াজ। রুববান এর এক ছেলে এক মেয়ে। ছেলের নাম আদিল নওয়াজ আরশাদ। আর মেয়ের নাম মাহিরা নওয়াজ রুহি। আদিল পড়াশোনার জন্য জাপান চলে যায় পরবর্তীতে আদিল এর সাথে তার কথা মাঝে মাঝে হতো। হঠাৎ করে দরজায় কলিং বেল বাজার শব্দে ভাবনা থেকে বের হলো রুমানা বেগম আসছি বলে দরজার কাছে আসলো। এখন কে আসতে পারে সেটা তার জানা। দরজা খুলে দিল। সামনে দাঁড়ানো এক রমনী কুর্তি আর তার সাথে ঢোলা জিন্স পড়া। চুল গুলো খোলা এবং চোখে হালকা কাজল দেওয়া এবং তার সাথে সাদা সু জুতা। গোল গাল চেহারায় বেশ মানিয়েছে মেয়েটিকে। রুমানা বেগম এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন মেয়ের পানে। ও মা তুমি কী বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখবে। রুমানা বেগম দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়ে বললেন হ্যাঁ আয়, কথা শেষ করে রুমানা বেগম মেয়েকে ভিতরে আসতে জায়গা করে দিলেন। আরশিয়া আহমেদ রাহা রুমানা বেগমের এক মাত্র মেয়ে তার আদরের সন্তান। বাইরে সবাই তাকে আরশিয়া নামে সম্বোধন করে আর আপন মানুষেরা রাহা নামে সম্বোধন করে। রাহার বাবা রাহার যখন ৭ মাস তখন একটি এক্সিডেন্টে মারা যান। পরবর্তীতে রাহার কথা চিন্তা করে রুমানা বেগম দ্বিতীয় বিয়ে করেন নাই এবং তার দ্বিতীয় বিয়ে করার ইচ্ছা কখনো ছিল না। কারণ রাহার বাবা সোহাগ আহমেদ কে ভালোবেসে বিয়ে করেন তাদের খুব সুখের সংসার ও হয়েছিল কিন্তু ভাগ্য তাদের সাথে ছিলো না। রাহার বাবার বেশ সম্পদ শালী। তাদের বিশাল বাড়ি বর্তমানে যে বাড়িটাতে রাহা এবং রুমান বেগম বসবাস করছেন এই বাড়িটাকে সবাই আহমেদ ভিলা নামে চিনে।
চলবে......